
অনুভূতি-১(পরীর আগমন)
অনুভূতি-২(শ্যামল চোখের ছায়ার পরে শূণ্যতা ভাসে.........)
অনুভূতি-৩(নির্জন দুপুরের সত্য স্বরুপ...........)
একটা টুং শব্দ হতেই ঘুম ভেঙ্গে গেলো . দুষ্টু পোষা বিড়াল পুসিটা লাফ দিয়ে টেবিলে উঠতেই শব্দটা হলো . মায়াবী চন্দ্রালোকিত মধ্যরাত এখন . সামনের খোলা জানালা দিয়ে অদূরবর্তী কৃষ্ণ চূড়ার শীর্ষে শুভ্র নিরদে পরিবেষ্টিত সুনীল গগনের একটি অত্যুজ্জ্বল তারকা,সহস্র কোটি যোজন দূর হতে আঁধার সন্ধ্যায় আমাকে কোমল পরশে ঘুম পাড়িয়েছিলো . এখন আর সেই অনিমেষ তারকাটি নেই .
বাতায়ন পথে কৃষ্ণপক্ষের ক্ষীন চন্দ্রকান্তি অনধিকার সংকুচিত ম্লানভাবে এক দৃষ্টিতে অবলোকন করছে . অন্তহীন সময়-পথের ক্লান্তিহীন যাত্রা তার চলার ছন্দে জানিয়ে দিলো এখন গভীর রাত .
যদিও বাইরে তেমন বাতাস ছিলো না তবুও রজনীগন্ধা ও মৌরীর তীব্র সুরভি পরিবেশটাকে মাদকতায় ভরাক্রান্ত করে তুলেছিলো . হঠাৎ গুমোট ভেঙ্গে দখিনা সমীর বৃক্ষপত্রে দোল দিয়ে যেতেই বৃক্ষরাজি মর্মর ধ্বনিতে যেন ঘোর থেকে জেগে উঠলো . আমি উদাস উন্মন হয়ে একটু আগে দেখতে থাকা স্বপ্নটির মাঝে হারিয়ে যাই .
আজ দেই দিব্য রুপিনীকে স্বপ্নে দেখায় মাঝ রাতে ঘুম পালিয়েছে . শুধু আজ কেন ? এমন কত শত রাত তার স্মৃতিতে সাঁতার কেটে ফেলে আসা জীবনের জীর্ণ ডায়রীর পৃষ্ঠা উল্টে উল্টে নির্ঘুম কেটেছে !
সেই চৈত্রের কাঠফাটা রৌদ্রজ্জল অম্লান দুপুর আজো ভোলা যায় না . কৃষ্ণচূড়ার পদমূলে বসে চোখে চোখ রাখা , বাকা ঠোঁটের স্নিগ্ধ হাসি , পেলব হাতের উষ্ণ স্পর্শ , বিস্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যায় নি এক বিন্দুও !
তবে আজ চৈত্রের কাঠফাটা রৌদ্রের দহনে হৃদয় পুড়ে খাক হয়েছে , তাই কোন বসন্তেই একটি ব্যথার নীলোৎপলও ফুটবে না .
এক সময় নিশীথ সঙ্গিনী চাঁদও নির্ঘুম রাতের শেষে ধুসর বর্ণ হয়ে বিদায় নিতে থাকে .
হয়তো আমার অলক্ষ্যে কপোল বয়ে চলা দুফোটা অশ্রুসিক্ত পিচ্ছিল পথে অন্যসব কিছুর মতো চাঁদটিও সামনে থেকে হারিয়ে যায় অস্তাচলে .

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

