বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ বলেছেন, রোজা রাখা রোগীদের চিকিত্সা নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ও সংশয় ছিল। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে রমজান মাসে চিকিত্সা নিয়ে একটি পর্যালোচনামূলক নিবন্ধ ছাপা হওয়ার ফলে সেই সংশয়-দ্বন্দ্ব দূর হয়েছে।
প্রথম আলো
British Medical Journal -
Clinical Review: Drug intake during Ramadan
British Medical Journal -
Clinical Review: Drug intake during Ramadan - PDF link
অধ্যাপক আবদুল্লাহ জানান, ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে একটি তালিকা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, চোখ, কান ও নাকের অসুখে ড্রপ বা হূদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি জিহ্বার নিচে নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হবে না। হাঁপানির রোগী রোজা রেখে নাকে স্প্রে বা ইনহেলার ব্যবহার করতে পারবেন। তাতে আরও বলা আছে, রোজা অবস্থায় অন্যকে রক্ত দেওয়া বা অন্যের রক্ত নেওয়া যাবে।
নিবন্ধে বলা হয়, রোজা রাখা অবস্থায় চামড়া, মাংসে, শিরায় ও জয়েন্টে ইনজেকশন নেওয়া যাবে (তবে স্যালাইন বা গ্লুকোজ নেওয়া যাবে না)। চামড়ায় ক্রিম, মলম বা ওয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করা যাবে, প্রয়োজনে প্লাস্টারও করা যাবে। ‘ড্রাগ ইনটেক ডিউরিং রামাদান’ শিরোনামের লেখাটি ২০০৪ সালের ২ অক্টোবর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলেন, ‘অনেকে বলেন রোজা রেখে রক্ত দেওয়া বিধিসম্মত নয়। আমরা চিকিত্সার সময় অনেক অসুবিধায় পড়ি। কোনটা উচিত, কোনটা অনুচিত বুঝে উঠতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে এটি প্রকাশিত হওয়ায় চিকিত্সকদের জন্য রোজা রাখা রোগীদের চিকিত্সা করার বাধা অনেকটাই দূর হয়েছে।
রোজায় রোগীদের চিকিত্সা নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য দূর করা এবং একটি মান নির্ধারণের জন্য ১৯৯৭ সালের জুনে মরক্কোয় ‘অ্যান ইসলামিক ভিউ অব সার্টেইন কনটেম্পোরারি মেডিকেল ইস্যুজ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। কোন কোন ওষুধ-সরঞ্জাম ও কর্মকাণ্ড রোজা নষ্ট করে, তা ছিল ওই সেমিনারের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট ইসলামি আইনবিদ ও ধর্মীয় পণ্ডিত, চিকিত্সক, ওষুধবিদ এবং অন্যান্য মানবিকবিশেষজ্ঞ রোজা রাখা রোগীদের চিকিত্সার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
পাইলস বা ফিস্টুলার ক্ষেত্রে মলদ্বারে মলম, যন্ত্র বা আঙুল ব্যবহার করা যাবে। এতে রোজা নষ্ট হবে না। দাঁতের চিকিত্সায় দাঁত ড্রিলিং করা যাবে, এন্টিসেপটিক ব্যবহার করা যাবে, গড়গড়া করা যাবে। শুধু খেয়াল রাখতে হবে, কোনো কিছু যেন পাকস্থলীতে না যায়। জরুরি রোগীকে অক্সিজেন দিলে বা অজ্ঞান করার ওষুধ দিলে বা হূদরোগীকে এনজিওগ্রাম করলে বা যন্ত্রের সাহায্যে কিডনি ডায়ালাইসিস করলে রোজা নষ্ট হবে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

