ধরেন ঢাকা শহরে মাঝরাতে রাস্তায় বসে আছেন।ঘুমে চোখ ঢুলু ঢুলু।অথচ আপনার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।কারণ আজ দুপুরেই আপনি নিজের ঘরে আগুন লাগিয়েছেন।ঢাকায় আত্মীয়-স্বজন কিম্বা বান্ধবও নাই।পকেটে থাকলেও আপনি কোন হোটেলে যাবেন না।কারণ আপনি মানুষ হিসেবে ওই রকম দেমাগী না।
।কিন্তু একটা ঘুম খুব জরুরি, জরুরিই বটে।
এই সময় ফার্মগেট মোড়ে দাড়ানো কোন বেশ্যা যদি প্রস্তাব দেয়-।আহেন।আমার লগে আহেন। শুইতে দিমু।তখন আপনি কি করবেন? আপনার মতো নির্বান্ধব ও ভাসমান মানুষ তার লগে অবশ্যই যাইবেন, তাই না।
প্রশ্ন হল কেন যাইবেন? জবাব সহজ।এ ছাড়া আপনি আর কোন উপায় দেখতে চান না।
বাংলাদেশেও এ ধরণের একটা পরিস্থিতি বিরাজ করছে।এই পরিস্থিতি শেখ হাসিনার সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে করছে।তিনি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এমনটি করবেন এটাই স্বাভাবিক।কারণ তাদের অবস্থা মাঝরাতে ঢাকায় ঘুমে ঢুলু লাফাঙ্গার মতো।এইটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য বিধায় এনিয়ে কেরদানি করার কোন মানে নাই।
তবে আমরা সাধারণ মানুষ কেন পরিস্থিতি মেনে নিচ্ছি।আমরা তো নিজেদের স্বার্থ ও ভবিষ্যত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারি।কিন্তু নেই না। কারণ এই দেশে বিবেক-ব্যবসায়ী গণমাধ্যম মেনে নেওয়ার পরিস্থিতিকে বিশ্বাস করতে প্রতিনিয়ত প্রোপাগান্ডা করছে।যা আমাদেরকে স্পষ্ট দুইটা ভাগে বিভক্ত করে।আমরা একদল পরিস্থিতির পক্ষে ও আরেক দল পরিস্থিতির বিপক্ষে অবস্থান নিই।যা আমাদের প্রতিক্রিয়াশীল খাসলতের প্রতিনিধিত্ব করে।
ধরেন বিদ্যুত নিয়া।যেখানে আমাদের উচিত হচ্ছে সরকারী ভাবে বিদ্যুতের মতো সেবাখাতেরস্বক্ষমতা অর্জন করা, সেখানে দেখা যাচ্ছে লোড শেডিংয়ের মুন্ডু দেখিয়ে এই খাতকে বেসরকারিকরণ আর বৈদেশিকিকরণের এক মচ্ছব শুরু হয়ে গেছে।
মাননীয় হাসিনা ভারত গিয়ে চুক্তি করলেন তিনি ওই দেশটাকে সড়ক ও রেলপথের করিডর দিবেন।তিনি আরো দিতে রাজি হইলেন বিদ্যুত করিডর দিতে ও দেশের দুইটা সমুদ্র বন্দর ভাড়া খাটাতে।
তার এই সব চুক্তি সাংবিধানিক নিয়মানুসারে সংসদে উত্থাপন করার কথা। কিন্তু কিছুই করা হচ্ছে না।রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রনৈতিক জায়গা থেকেই আমরা ভারতের লগে খাতির পাতানোর ব্যাপারে এক স্পর্শকাতর রাজনৈতিক জাতিগোষ্ঠি।তাই এই সব করিডর-ফরিডর বিনা চ্যালেঞ্জে ছাড়তে চাই না।
কিন্তু গত কয়েক বছরের তেলেসমাতিতে আমাদের দেশে এমন একটা হেজিমনি তৈরি একটা নিয়ত চেষ্টা চলে যে ভারতকে যেভাবেই হোক ভারতের লগে শোয়াশুয়ির ব্যাপারটা ঘটাতেই হবে।
যাই হোক এই ব্যাপারে যে হাসিনার আওয়ামী লীগের বাইরে সুশীল তরফে একটা কারিগরি ব্যাপার আছে সেই ব্যাপারে কিছু কথা এই পোস্টে কইতে চাই।
আমরা খেয়াল করলে দেখবো এই বর্ষকালে যেখানে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের খাড়া যেখানে কমতে ছিল। সেখানে এই খাত নিয়ে আলাপ আলোচনায় কিছুটা নিরবতাও বিরাজ করছিলো।কিন্তু হঠাৎ করেই দেখা গেলো মাঝরাতে কিছুটা লোডশেডিং শুরু হয়ে গেছে।লোডশেডিংয়ের দেশে এইটা একটা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু খেয়াল করে দেখবেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পেপারটা এইটারে প্রধান শিরোনাম করে বসলো। তারা জনগণের তরফে এমন একটা ভাব দেখাইলো যে আক্ষেপ প্রকাশিত হয়ে গেলো-লোডশেডিং এখন আর রাত-বিরাত, সকাল-সন্ধ্যা কিংবা ছুটির দিন মানছে না। মানছে না শহর-নগর কিংবা গ্রাম। এখন আর বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বলেও কিছু নেই। সব সময়, সর্বত্র, নির্দিষ্ট বিরতি দিয়ে চলছে লোডশেডিং। ‘তাই বলে রাত ১২টার পরও? রাত দুইটা, তিনটা, চারটার সময়ও লোডশেডিং হবে? তখন তো কোনো অফিস থাকে না। শিল্পকারখানা চলে না। ব্যবসায়িক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, এমনকি ছোটখাটো দোকানপাটও বন্ধ থাকে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের একমাত্র ক্ষেত্র তখন গৃহস্থালি চাহিদা। সর্বোপরি শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সারা দিন এবং গভীর রাতেও লোডশেডিং হবে?’ এসব প্রশ্ন অসংখ্য গ্রাহকের। ধানমন্ডির শংকর থেকে গ্রাহক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘তাহলে কি দেশে ততটুকুও বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে না, যেটুকু শুধু মানুষের ঘরবাড়িতে ব্যবহারের জন্য দরকার হয়?’ মিরপুর ৬ নম্বর সেকশন থেকে হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘অন্য সময়ের লোডশেডিং তো আমরা মেনেই নিয়েছি। এখন তো সেচের জন্য রাতের বেলায় গ্রামে বাড়তি বিদ্যুৎ দেওয়ারও ব্যাপার নেই। তার পরও এই গরমে গভীর রাতে ঘুমানোর সময়ও কি একটু ফ্যান চালিয়ে ঘুমানো যাবে না?’ ক্রিসেন্ট রোড থেকে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ফ্যান না চালিয়ে যদি ঘুমানো যেত, তাহলে আমরা তাও বন্ধ রাখতাম। কিন্তু ঢাকা শহরে তো তা সম্ভব নয়। বিদ্যুৎ চলে গেলেই প্রথমে কেঁদে ওঠে বাচ্চারা।’ উত্তরা থেকে ইমারত হোসেন বলেন, ‘গভীর রাতে লোডশেডিংয়ের পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না, সরকারকে ফাঁসানোর জন্য এ রকম করা হচ্ছে কি না, আপনারা সাংবাদিকেরা তা একটু খোঁজ করে দেখুন।’
আহারে জন সাংবাদিকতা!
যেই দিন এই ঘটনা ঘটলো সেই দিনেই কিন্তু রহস্যজনক এক খান ঘটনা ঘটলো। বাংলাদেশের সরকারি একটা বিদ্যুত কেন্দ্রের একটা ইউনিট পুড়ে গেল। বিদ্যুত উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল।।সেই পত্রিকার তরফেই আমরা জানলাম-৯৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের ৬ নম্বর ইউনিট দিয়ে পুরো মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ওই ইউনিটের টারবাইনে আগুনের শিখা দেখা যায়। দ্রুত আগুনের শিখা বড় হতে থাকে। প্রকৌশলীরা এসে ত্রুটি দূর করার চেষ্টা করেন। কিছু সময়ের মধ্যে ইউনিটের উৎপাদনপ্রক্রিয়া বিকল হয়ে উৎপাদন বিপর্যয় দেখা দেয়। ঘটনার পর পর কেন্দ্রের নিজস্ব দমকল বাহিনীর সদস্যরা আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। পরে এসে যোগ দেন পলাশ উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের দল। বিকেল পাঁচটার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ওই সময়ের মধ্যে ৬ নম্বর ইউনিটের টারবাইন জেনারেটর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
অনেকেই মনে করবেন আমি বুঝি ষড়যন্ত্র তত্বের সহায়তা নিয়া একখান গল্প ফাদতে বসেছি।
না এইটাকে প্রতিক্রিয়াশীল ষড়যন্ত্র তত্ব বলার আর কোন সুযোগই থাকলো না।
কারণ ভারত গত কয়েক দিন ধরেই বাংলাদেশকে দিল্লীতে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাস্তবায়নের তাগাদা দিয়ে আসতেছে।হাসিনা বাপের রক্তের ধারা থেকে গত ৩৫ বছরেও বের হইতে না পারায় চুক্তি করলেও চুক্তি মানতে গাইগুই করতেছিলেন।।তিনি নাকি প্রথমেই অজুহাত দিয়েছিলেন দেশে ব্যাপক মাত্রায় ভারত বিরোধী মনোভাব বিরাজ করতেছে।এই মনোভাব তিনি উপেক্ষা করতে পারবেন না।
ভারত তখন হাসিনাকে নাকি যারা আমাদের ব্যাপারে খারাপ মনোভাব দেখাচ্ছে আমরা তাদের যথা শিগগির জব্দ করে দিতেছি।গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেইটাই চলতেছিল।
তিনিও সেই মতেই রাজি থাকার কথা জানাইতেছিলেন।
কিন্তু ষড়ঋতুর দেশ হিসেবে বাংলাদেশে আবহাওয়া তো চোখের পলকেই পাল্টে যায়। হাসিনা ভেতরে ভেতরে ঠিকই উল্টে গেলেন।
তিনি নাকি চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যাপারে আবারো গড়ি মসি শুরু করেছেন।
এই ব্যাপারটা কিভাবে প্রকাশিত হলো তা জানবেন ওই দৈনিকটির লোডশেডিং সাংবাদিকতা ফলানোর দিনেই।।ওই দিনই প্রথম আলোতে আরেকটা খবর ছাপানো হয়েছে।
খবরটা হচ্ছে-ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার নেতা রঞ্জন চৌধুরী ওরফে মেজর রঞ্জন (৪৬) ও তাঁর সহযোগী প্রদীপ মারাককে (৫৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোররাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার লক্ষ্মীপুর থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব জানায়, রঞ্জন চৌধুরী ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি রিভলবার, রিভলবারের চারটি গুলি, চারটি বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এগুলো নিয়ে তাঁরা ভারতীয় সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন।
লোডশেডিংয়ের খবর ও উলফার খবর, এই দুইটাই কিন্তু আসলে কূটনৈতিক লড়াইয়ের খবর।বিদ্যুত করিডরের লড়াইয়ের জন্য যেমন লোডশেডিংয়ের খবর ছাপানো হয়েছে।তেমনি ভারতের লগে ঝোলাঝুলিতে হাসিনার অনীহার জানান দিতেও উলফার ঘটনাও ঘটানো হয়েছে।
বাংলাদেশে কেড়ে নেওয়া ও রেখে দেওয়ার যে কূটনৈতিক লড়াই তাতে অনেকেই হয়তো ভেবেছেন আমি আবার কি সব ফালতু বয়ান দিতেছি।
তাদের উদ্দেশ্যেই বলতে চাই এর আগে বাংলাদেশ উলফা নেতাদের ধরে ধরে বাংলাদেশের আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করে উলফার প্রধান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদকদের গ্রেফতার করে ভারতের হাতে তুলে দিলেও ঠিকই মেজর রঞ্জনের বেলায় নিজেদের আইন-কানুনের জায়গাটা ব্যবহার করতেছে।
তাতে দেখা যাইতেছে মেজর রঞ্জন ও প্রদীপ মারাককে গ্রেফতারের যে কাহিনী তা মোটেই ঠিক নয়। ঘটনাটা বানানো হইছে।সেইটার ব্যাপারে বাংলাদেশে এংরাজী জবানের সবেচেয়ে বড় পেপারটা জানাইতেছে- Mystery shrouds the arrest of Pradip Marak, an alleged Bangladeshi aide to detained Ulfa leader Ranjan Chowdhury, as Pradip's family members yesterday claimed that unidentified law enforcers picked him up in April from city's Ashkona. On April 21, an anonymous caller asked Pradip to go to a spot at 10:00am and he went missing after reaching the spot, said Pradip's daughter Prima Chicham. Following the incident they filed a case with Airport Police Station, she added. Sub-Inspector Morshed Zaman, also the investigation officer of the case, told The Daily Star yesterday that Atishon Chicham, brother-in-law of Pradip, earlier filed a case in this connection.
আসুন মন্তব্যের ঘরে এই আলোচনর সিদ্ধান্তগুলো পোস্ট করি-
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০১০ রাত ৯:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


