ঘটনা ১ঃ
সৌরভ আমার অদেখা বন্ধু। অফিসের প্রয়োজনে ফোনালাপ থেকে ভাল (?) বন্ধুত্ব। ওর প্রতি আমার অন্যরকম সম্মান কারণ ও কখনো আমার সাথে দেখা করার জন্যে উতলা হয়নি। বন্ধুত্ব গড়াল প্রায় ৮ বছর। এর মধ্যে ও বিয়ে করলো, আমাকে জানালোনা। আমার বিয়ের খবর শুনে তারপর ওর প্রথম সন্তানের ছবিসহ আমাকে পাঠালো। মন খারাপ হয়েছিল। অবাক হয়েছিলাম কেন যখন বিয়ে করেছে তখন জানায়নি ভেবে। এরপর যখন আমার বেবী হলো তখন হসপিটালে আমাকে দেখতে আসলো। সেই আমাদের প্রথম দেখা। যোগাযোগ ছিল ফোনে, মেসেজ আদান-প্রদানে। এরমধ্যে ওর ডিভোর্স হলো। আমি ব্যস্ত আমার চাকরী, সংসার নিয়ে। মাঝে মাঝে ও মেসেজ দিলে আমি রিপ্লাই দিতে পারতাম না সময়ের অভাবে। তবে মেসেজে যদি জরুরী কিছু থাকতো অবশ্যই সময় করে ফোন ব্যাক করতাম। কিন্তু কেন আমি মেসেজ দিইনা, কেন আমি ওকে ওরকম ফিল করিনা যেরকমটা ও আমাকে করে এসব বলে বলে আমাকে অস্থির করে তুললো। কখনো বুঝাতাম, ছোট বাচ্চাদের যেভাবে বুঝায় সেভাবে। মাঝে মাঝে রেগে যেতাম, এতদিনের বন্ধু হয়েও আমাকে একদমই বোঝেনা বলে। হঠাৎ একদিন বলে বসল আমাকে সে ভালবাসে সেদিন থেকে যেদিন প্রথম আমার কন্ঠস্বর শুনেছে। আমি ওকে খুব ভালভাবে যখন বুঝালাম এভাবে বললে যে সম্পর্কটা আছে সেটা আর থাকবেনা। তখন ও বললো কথাটা বলেছে বন্ধু হিসেবেই। আমিও মেনে নিলাম। সম্পর্কের ভাঙ্গন আমার সয়না। দিন যায়, আবার শুরু হয় কেন আমি ফিল করিনা এসবের অভিযোগ। একসময় ভীষন রেগে গেলাম আমি। বললাম কেন সে বাচ্চাদের মত আচরণ করছে? এরকম হলে আমাকে যেন আর ফোন না দেয়, মেসেজ না দেয়। সত্যিই সে সব বন্ধ করলো। আমি হারালাম আমার অনেক ভাবনার এক সাথী-কে।
ঘটনা ২ঃ
রানা, এইচ.এস.সি পাশ করার পর ঢুকেছিলাম ঢাকা থিয়েটার স্কুল এ; সেখানে বন্ধু হলো । রানা’র সাথে দারুন জমতো। হুমায়ুন আহমেদ এর গ্রামের বাড়িতেই ওদের বাড়ি। আমি তখন হুমায়ুন বলতে পাগল। ও বলতো ”একসময় আমি হুমায়ুন এর সাথে কাজ করবো এবং তোমাকেও নিয়ে যাব”। তখন মাঝে মাঝে রানা-র কলেজে চলে যেতাম। দুজন আড্ডা দিতাম। রিক্্রায় করে ঘুরতাম। একটা সময় থিয়েটার স্কুল ছাড়লাম। রানা-র সাথেও যোগাযোগ বন্ধ হলো। প্রায় ১২ বছর পর আবার ওকে পেলাম ফেসবুক এর কল্যানে। আজ সে হুমায়ুন আহমেদ এর প্রধান সহকারী পরিচালক। ভীষন ভাল লাগলো এই দেখে যে ও ওর লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছে। যোগাযোগ হলো। এত বছর পর আমাকে পেয়ে আনন্দে আতœহারা হলো। দুদিনের মাথায় চলে আসলো অফিস এর সামনে। দেখা হলো। কথা হলো। বারবার নির্বাক তাকাচ্ছিলো আমার দিকে। সেই তাকানোর কোন অর্থ খোঁজার চেষ্টা করিনি আমি। এরপর ফেসবুক এ মেসেজ দিলো আমি নাকি বদলে গেছি। কিভাবে বদলেছি সেই ব্যাখ্যা তে যদিও যায়নি সে। এরপরও একদিন দেখা হলো। সেদিন যখন দেখা হলো তখন সে সেই ১২ বছর আগের বন্ধুত্বের অন্য কোন অর্থ করতে চাইলো। প্রতিবাদ করলাম। তবু সে মানবেনা। আমি নাকি তাকে তখন ভালবাসা শিখিয়েছি। যতটুকু মনে পড়ে ওইসময় ভালবাসার প্রতি কোন মোহ-ই আমার ছিলনা। বারবার ১২ বছর পেছনের সময়টাকে বিব্রতকর অবস্থায় সামনে আনা। একটু বিরক্ত হলাম। একটু কড়া সুরেই বললাম, ”আমি এখন ১২ বছরকে পেছনে ফেলে অনেক সামনে। তুমি যদি সেই সময়টাকেই আঁকড়ে ধরে রাখতে চাও তাহলেতো মুশকিল।” আমি চাইনি এতদিন পরে খুঁজে পাওয়া বন্ধুটিকে আবার হারাতে। কিন্তু হারাতে হলো।
কেন এরকম হয়? ছেলেরা কেন এরকম করে ভাবে? মেয়েরা কি কখনোই ”মেয়ে” শব্দটি থেকে মুক্ত হতে পারবেনা? কেন একটি ছেলে আর একটি মেয়ের মধ্যে অপূর্ব একটি বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারেনা? কেন একটি মেয়ে শুধু মেয়ে-ই থেকে যায়... শেষ পর্যন্ত???
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


