ক্ক্সবাজার সিবিজ পৃথিবীর দীর্ঘতম সিবিজ। এই সিবিজকে ঘুরে চলছে নানা ধরনের কারবারী। এই কারবারীর সঙ্গে জড়িত এদেশের সংখ্যালঘিষ্ঠ কতিপয় ব্যবসায়ী। এরা কারা? এরা ধনিক শ্রেণী। এরা কারা? এরা বণিক শ্রেণী। এরা কারা? এরা সরকারের দালাল। এরা কারা? এরা সরকারের পোষ্য বাহিনী। এরা কারা? এরা সরকারের লেলিয়ে দেওয়া লুটেরা। এরা কারা? এরা সরকারের প্রতক্ষ্য নজরদারীতে কারবারী করতে থাকা বিশিষ্ট শ্রমশাসক বাহিনী। এরা খোদ সরবারের চেয়েও কখনো কখনো শক্তিশালী। কারণ, এদের রয়েছ এমপি। এদের রয়েছে মিনিস্টার। এদের রয়েছে আমলা। এদের রয়েছে বিচারপতি। এদের রয়েছে থানা পুলিশ। এদের রয়েছে আজগুবি টেলিফোন। এদের রয়েছে গডফাদার। এদের রয়েছে কথিত গ্যাং। তাই এরা বড়োই শক্তিশালী।
বাপ্পী নামের ছেলেটির বয়স মাত্র ৬ বছর। কক্সবাজার সিবিজে বাপ্পী দৈনিক ১৪ ঘণ্টা কাজ করে। সকাল ৬টায় বাপ্পী কাজ শুরু করে। রাত ১০টায় বাপ্পী কাজ শেষ করে। বাপ্পী রোজ কয়টাকা ইনকাম করে? আমরা কেউ বলতে পারিনা। বাপ্পী তার একমাত্র মাকে রোজ কয়টাকা দিতে পারে আমরা কেউ জানিনা। আমরা শুধু জানি বাপ্পী রোজ ১৪ ঘণ্টা সিবিজে কাজ করে। সিবিজে বাপ্পীকে সব্বাই চেনে। সিবিজে যারা বাপ্পীকে দিয়ে কাজ করায় এবার শোনা যাক তাদের বক্তব্য:
বাপ্পী রোজ ১০০ টাকা আয় করে। যদি ১০০ টাকার কম হয়, তাহলে সে ১০০ টাকা পুরতে যতোটাকা দরকার, পরিচিত তাদের থেকে বাপ্পী ততোটাকা ধার নেয়। তারপর পাহাড়ের ঢিবির উপর মায়ের কাছে চলে যায়।
বাপ্পীর মা ওই ১০০টাকা কী রোজ পায়? আমরা জানিনা। বাপ্পী ইস্কুলে যায় না। কারণ, ইস্কুলে তো রোজ তাকে কেউ ১০০টাকা দেবে না। তাই বাপ্পীর মা তাকে সিবিজে পাঠায়।
গত ২৬শে এপ্রিল থেকে ২৯শে এপ্রিল ২০১১ আমি বাপ্পীর উপর খোঁজখবর রেখেছি। বাপ্পীর কখনো একঘণ্টায় ১০০টাকা ইনকাম হয়। কিন্তু বাপ্পীর কাছে সেই টাকা থাকে না। অজ্ঞাত কেউ বাপ্পীর কাছ থেকে সেই টাকা সংগ্রহ করে। সারাদিনে বাপ্পী একবারের জন্যও বাড়িতে যায় না। বাপ্পীর মা কখনো তার অসুস্থ শরীর নিয়ে সিবিজে কাপ্পীকে খুঁজতে আসেনা। কিন্তু সিবিজে বাপ্পী যে টাকা ইনকাম করছে তা তাহলে কে নিয়ে যাচ্ছে? আমরা জানিনা। বাপ্পী বাড়িতে যায় কীনা তা নিয়েই যথন আমার সন্দেহ হল তখন এক আজব জিনিস আবিস্কার হল। আমার সহধর্মিনী মায়া আমাকে দেখাল, দেখো বাপ্পী ঘুমিয়ে গেছে। ও কখন বাড়িতে যাবে? প্রধম দিন আমরা সন্দেহ করেছিলাম। পরদিন বাপ্পীর বয়সি অন্যদের দিকেও নজর দিলাম। খেয়াল করলাম একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর বাপ্পী এবং বাপ্পীর বয়সি যারা সিবিজে কাজ করে, তারা সবাই থেমে থেমে ঘুমায়। এই ঘুমের রহস্য উদ্ধার করতে লেগে গেল আরো একদিন। বাপ্পীরা সবাই প্রায় ঘণ্টা খানেক ঘুমায়। আবার জেগে ওঠে। আবার কাজে নেমে পড়ে। ওই ঘুমের সময়টায় তাদের ইনকাম করা টাকাটা চুরি হয়। চুরি কারা করে? বাপ্পীদের যারা ক্ক্সবাজার সিবিজে পালন করছে অজ্ঞাত এই শ্রেণীর একটা বাহিনী আছে। তারা খুউব কৌশলে বাপ্পীরা যখন ঘুমায় তখন তাদের টাকা পয়সা সব কেড়ে নেয়। ঘুম থেকে জাগার পর বাপ্পীদের কিছুই মনে থাকেনা। কারণ, বাপ্পীরা সব্বাই থাকে নেশাগ্রস্থ। খাবারের সঙ্গে তাদের নেশা জাতীয় জিনিস খুউব কৌশলে খাইয়ে দেয় ওরা। ঘুম থেকে জাগার পর বাপ্পীদের আর পিছনের কিছুই মনে থাকেনা।
বাপ্পীরা আমাদের দেশের কোমলমতি শিশু। তাদের দিয়ে ব্যবসা করছে এক শ্রেণীর পিচাস। এই পিচাসদের কোনো মানবতাবোধ নেই। কোমলমতি এইসব শিশুদের তারা ইনকাম করার সহজ উপায় হিসাবে ব্যবহার করছে। বাপ্পীরা কেউ তা টের পাচ্ছেনা। বাপ্পীদের মা-বাবারাও তা টের পাচ্ছেনা।
বাপ্পীরা জানেনা তারা রোজ কতো টাকা ইনকাম করছে। বাপ্পীদের মা-বাবারাও জানেনা তাদের সন্তানরা রোজ কতো টাকা ইনকাম করছে। তারা কেউ জানেনা তাদের সন্তানদের নেশাজাতীয় জিনিস খাওয়ানো হচ্ছে। তারা কোনোদিন এর প্রতিকারও পাবেনা। এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। কারণ, এই প্রতিকার করার যারা রাঘববোয়াল, আমাদের সরকার, আমাদের পুলিশ বাহিনী, আমাদের আমলা, আমাদের বিচারপতি, তারা সব্বাই বাপ্পীদের এই ইনকাম থেকে মাসোহারা পায়। আর বাপ্পীরা ধুকে ধুকে মৃত্যুর দিকে চলে যায়। আমরা আমজনতা কিচ্ছু টের পাইনা।
বাপ্পীদের নিয়ে যারা ব্যবসা করছে তাদের নিয়ে আমাদের মিডিয়া কেনোদিন কিছু লেখেনা। বাপ্পীদের নিয়ে আমাদের হাজার হাজার টেলিভিশন চ্যানেলের কেউ কোনোদিন রিপোর্ট করেনা। বাপ্পীরা নিরবে মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকে। কারণ, বাপ্পীরা গরিব মা-বাবার সন্তান। বাপ্পীদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই।
.......................সময় সুযোগ হলে বাপ্পীদের নিয়ে একটা ধারাবাহিক লেখার ইচ্ছে রইল।
০১ মে ২০১১, বনানী, ঢাকা
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১১ সকাল ১১:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


