১৯৪৮ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জোহরলাল নেহেরু দুঃস্থদের সাহায্য করার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর রিলিফ ফান্ড চালু করেন। ওই ভান্ডারের টাকায় কেবল দুঃস্থদের সাহায্য করা হয় ভারতে। একই উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশেএ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার নামে একটা রিলিফ ফান্ড আছে। দেশের দুঃস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী যেসব দান খয়রাত প্রদাণ করেন, তা ওই ভান্ডার থেকে খরচ হয়। প্রসঙ্গত এখন প্রশ্ন আসে বাংলাদেশে দুঃস্থদের দলে কারা পরবে? সাধারণভাবে যারা আর্থিকভাবে দুঃস্থ তাদের এই দলে পরার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে এই দলে মানসিক ভাবে দুঃস্থদেরকেও এই দলে রাখার নিয়ম।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারের অর্থের উৎস কী?যাকাত, দান, খয়রাত। সারা দেশের মানুষ, প্রবাসী বাংলাদেশীরা এমন কি স্কুলের ছেলেমেয়েরা তাদের টিফিনের পয়সা থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারে দান করেন। সাধারণত দুর্যোগের সময় দুর্যোগ মোকাবেলার সহায়তার জন্যে প্রধানমন্ত্রী ওই ভান্ডার থেকে দান করেন। এছাড়া দুঃস্থদের জন্যেও ওই ভান্ডার থেকে প্রধানমন্ত্রী দান করেন। মানে কেবল দুঃস্থ বা গরিব লোকদের জন্যে প্রধানমন্ত্রী ওই ভান্ডার থেকে দান করেন। এমনটি রেওয়াজ।
কিন্তু বাংলাদেশে ধনিরা সেই রেওয়াজ মেনে নেয় কী করে? প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারের টাকাও তাদের লাগবে। আর তাদের সেই কাজে সহযোগিতা করেন আরেক দল ধনি দালাল। দালালে দালালে মাসতুত ভাই। ধনি ধনি বিজয় কেতন। দুঃস্থদের সেই কথা বোঝার উপায় নেই। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডার থেকে কোন কোন দুঃস্থ লোক টাকা পেল তারা তা নিয়ে মাথা ঘামায় না। তারা মনে করে যারা টাকা পেয়েছে তারা সত্যি সত্যি ভাগ্যবান। যারা পায় না তারা কিন্তু ওই টাকার জন্যে কাজকর্ম বন্ধ করে দেয় না। বাঁচার জন্যে নিজেরাই কাজে নেমে পরে। কিন্তু ধনিরা সেই নিয়ম মানে না। তাদের ভালো করে জানা আছে দেশের কোথায় কোথায় টাকা আছে? কোন টাকা কীভাবে ছাড় করানো যায় সেই মন্ত্রও তারা ভালো জানেন। কাকে ধরলে টাকা পাওয়া সহজ হবে তাও তারা জানেন। কাকে কতো ভাগ দিলে টাকা ছাড়াতে কতো কম সময় লাগবে তাও কারা ভালো করেই বোঝেন। কারণ, তারা এই কাম করেই ধনি হয়েছেন।
দুঃস্থদের জন্যে গঠিত ত্রাণ তহবিল বাংলাদেশে ধনিদের জন্যে ব্যবহৃত হবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ, এই দেশে সব কিছুই সম্ভব। এখানে বিচারপতিরা চিকিৎসার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডার থেকে টাকা নেন! মন্ত্রীরা- আমলারা টাকা নেন। পুলিশ- সাংবাদিকরা টাকা নেন। দলের নেতাকর্মীরা টাকা নেন। তাদের পোষ্যরা টাকা নেন। আর মাঝে মধ্যে দুঃস্থদেরকেও কিছু টাকা দেওয়া হয় বটে।
ধনিরা শুধু জানে কী করে টাকা মুঠি করতে হয়। সেটা কীসের টাকা তা বড় কথা নয়। টাকা টাকাই। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারের টাকাও টাকা। একজন ভিখারির থলের টাকাও টাকা। বড় বড় লুটের টাকাও টাকা। চোরাকারবারীর টাকাও টাকা। অসৎ ব্যবসা থেকে আসা টাকাও টাকা। কিডনি ব্যবসা থেকে আসা টাকাও টাকা। নারী ও শিশু পাচার থেকে আসা টাকাও টাকা। রিলিফ চুরির টাকাও টাকা। ধনিদের কাছে টাকা সব সময় টাকা। টাকাই কিবলম। তাদের কাছে টাকাই সব।
দুঃস্থ বা গরিব না হয়েও যারা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডার থেকে যারা টাকা নিয়েছেন তারা আসলে মানসিকভাবে গরিব। মানসিক দৈন্যতাই তাদের ওই টাকার প্রতি লোভ জাগিয়েছে। যারা সেই কাজে সহায়তা দিয়েছেন তারাও সমানভাবে মানসিক দৈন্যতার শিকার। আমাদের দেশে মানসিক দুঃস্থদের জন্যে আলাদা একটা মন্ত্রণালয় থাকলে ভারী ভালো হতো। অর্থমন্ত্রী প্রতি বছর বাজেটে ওই মন্ত্রণালয়ের জন্যে কিছু বরাদ্দ রাখতেন। তখন তারা আরো বেশি আনন্দে সুখে শান্তিতে বাস করতে পারতো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


