সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোসহ সামগ্রিক ইন্টারনেট ব্যবস্থায় নজরদারি (ফিল্টারিং) করার জন্যে ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়েগুলোতে(আইআইজি) সরকার বিশেষ প্রযুক্তি বসানোর চিন্তাভাবনা করছে। প্রতিটি আইআইজিতে এ প্রযুক্তি বসানোর পর ইন্টারনেটের নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণের মূল ক্ষমতা তখন প্রতিষ্ঠিা পাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)'র হাতে।
রাষ্ট্রীয়, সমাজ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায় এমন ওয়েবসাইটগুলো থেকে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি সেটি সনাক্ত করা যাবে এবং বিটিআরসি তা বন্ধ করে দিতে পারবে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে বিটিআরসি গত ৮ এপ্রিল ২০১৩ সালে আন্তজার্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ‘ইন্টারনেট সেফটি সলিউশন’ চেয়ে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেয়। এই আগ্রহপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল ২০ মে ২০১৩। কয়েকটি আন্তজার্তিক ইন্টারনেট সলিউশনস প্রোভাইডা কোম্পানি এক্সপ্রেশান অব ইন্টারেস্ট বা ইওআই জমা দিয়েছে। বিটিআরসি তা যাচাই বাছাই করে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করবে। ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রাখার সুবিধা প্রদানকারী সলিউশনস প্রোভাইডারকে বাছাই শেষ হলেই এর সার্বক্ষণিক প্রত্রিয়া শুরু হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে ৩৬টি আইআইজি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ব্যন্ডউইডথ নিয়ন্ত্রণ ও পাইকারি ব্যান্ডউইডথ আইএসপিগুলোকে বিক্রি করে। আর আইএসপিগুলো গ্রাহক পর্যায়ে সেবা প্রদান করে থাকে। বিটিআরসি' নজরদারি প্রক্রিয়ায় ২৪ ঘণ্টা সলিউশনস প্রোভাইডার কি কোনো নতুন সদস্যা সৃষ্টি করবে? নজরদারি প্রক্রিয়া বসানোর পর আইআইজিগুলোতে ইন্টারেনেটের গতিতে কি কোনো প্রভাব পড়বে?
কারণ, আমরা বাংলাদেশে সার্ভিস প্রভাইডারদের বাস্তবতা সম্পর্কে খুবই নাকাল। বিটিআরসি এখন কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার পদ্ধতি ব্যবহার করে কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কোনো নতুন দানব সৃষ্টি করে কিনা সেই সন্দেহ রয়েই যাচ্ছে। আমাদের ঢাল নেই তলোয়ার নেই অথচ আমরা সবাই নিধিরাম সর্দার। তথ্য প্রযুক্তিতে বিটিআরসি'র নিজস্ব দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকবল যতোদিন গড়ে না উঠবে ততোদিন কৈয়ের তেলে কৈ ভেঁজে সমস্যা আরো বাড়ার সম্ভাবনাই দেখছি।
দেখা যাক কি হয়? আমাদের দেশে কতোজন ইমেইল চেক করতে জানে? কতোজন পাসওয়ার্ড বসাতে জানে আর কতোজন কি কি করে, সবই তো দেখে যাচ্ছি। হোক, নজরদারি হোক।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

