শুক্রবার মধ্যরাতে মোবাইল ফোনে কল। সাইলেন্ট দেয়াতে ধরা হলো না। ভোরে দরজায় ধাক্কা। আমার বন্ধু, সহযোদ্ধা আশফাক। ফুটফুটে একটি মেয়ে তার। ক্লাস থ্রীতে উঠলো। বন্ধুটি এসে বললো তার স্ত্রীর একটি পা অবশ হয়ে গেছে। অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে বিছানায়। দৌড়ে গেল আমার স্ত্রী। দেখলো অজ্ঞান হয়ে থাকা ৩৪ বছরের পুতুলের কান নড়াচড়া নেই। অথচ আগের দিনও রীতিমতো হাসিখুশি ভালো মানুষ। মাথায় একটু যন্ত্রনা ছাড়া কিছুই নেই। তাড়াতাড়ি এম্বুলেন্স ডাকলাম। চট্টগ্রাম থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বন্ধুটি তার অবুঝ কন্যা আর স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাড়ি। সারাপথ কষ্টের যাত্রা। পিজি হাসপাতাল রাজি হলো না। শেষপর্যন্ত বাংলাদেশ মেডিক্যাল। বন্ধু ফোন করে জানালো ব্রেন হেমারেজ। এত অল্প বয়সে একটি মানুষ চলে যাচ্ছে। ভর্তির পর এখন লাইফ সার্পোট। আজ রাতের কোন এক সময় খুলে নেয়া হবে।
চট্টগ্রামের কত স্মৃতি। এত ভালো মনের মহিলা আমি আর দেখি নি। আল্লার ইবাদত ছিল তার প্রিয়। কোন রোজা-নামাজ ছাড়া চলতেন না। কেন এমন হলো...
আমি চট্টগ্রামে অফিসে বসে এখন সময় গুনছি। কখন ফোন আসে। মনের মধ্যে খারাপ খবরটি কেন যে সব সময় উকিঝুকি দেয় বুঝিনা। অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। একটি ভালো খবর দিয়ে বুঝি আমার ১০০ তম পোস্টটি হবে..কিন্ত কি হলো। বন্ধুর ভাগ্য বিড়ম্বনার কথা আর নাই লিখলাম। অফিস রাজনীতির শিকার এ বন্ধুটি শিক্ষিত হয়ে ঢাকার রেল স্টেশনে কুলিগীরী করেছে। আজ থেকে ৫ বছর আগে একদিন অসহায় এ মানুষটি আমার অফিসে এসে হাজির। ঢাকায় এক সময় একই অফিসে আমার চেয়েও ভালো বেতনে চাকরী করতেন। অথচ নিয়তির পরিহাস এক বন্ধুর কাছ থেকে টাকা ধার করে বিদেশ যাওয়ার জন্য। প্রায় ১৫ লাখ মেরে দিয়ে তার বিশ্বস্ত বন্ধুটি পালায়। যার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছে সে বসায় সুদের মাত্রা। পাগল প্রায় বন্ধুটি যখন আমার কাছে আসলো তখন দেখি চট্টগ্রামের রেল স্টেশনের পাশে ২৫ টাকার এক বোর্ডিং এ থাকে। কষ্ঠ লাগলো। আমার নিজের বাসা বড় হওয়ায় তাকে একটি রুম ছেড়ে দিলাম। নিজের কষ্ঠ হলেও প্রতি মাসে ১০ হাজার করে দিতে লাগলাম। আমার বাড়া ঘর গুলো, নিজের শ্রম দিয়ে আমার দো-তলা বাড়ি তুলে দেয়। যখন আর কাজ থাকে না তখন বন্ধুটি বললো..এভাবে কতদিন বিনা শ্রমে টাকা নেবো। তার চেয়ে একটি চাকরী খুজি। পেল ১৫ হাজার বেতনের চাকরী। ঢাকা থেকে ২ বছর আগে নিয়ে আসা কন্যা আর স্ত্রীকে। আমার বাসায় ভাড়া ছাড়াই থাকে। আর ভাড়া ঘরগুলো দেখাশুনা আর চাকরী করে নিজের অসহায়ত্ব কিছুটা কেটে উঠতে শুরু করে। এমন একটি সময়ে আবার দুঃসময়। জানি না খোদার বিচার এ রকম কেন...ডাক্তাররা এরই মধ্যে জবাব দিয়ে দিয়েছে। সৃষ্টিকর্তা মনে হয় তাকে নিয়েই যাবে। আমার মনে সৃষ্টিকর্তা তার প্রিয় মানুষগুলো তাড়াতাড়িই তুলে...সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। এমন কষ্ট যেন কারও জীবনে না আসে....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


