গত দু'দশকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণ হারিয়েছে ২০ জনেরও বেশি ছাত্র। কেউ ছাত্রলীগের, কেউ ছাত্রফ্রন্টের, আবার কেউ শিবিরের। কেন এ প্রাণহানি। এর নেপথ্যে রয়েছে নানা কথা। আজ শিবিরের দু'মেধাবী ছাত্রকে হত্যা করা হলো। যে কোন প্রাণহানিই দুঃখজনক। যে মায়ের বুক খালি হয়, যে পরিবার সন্তান হারায় শুধু তারাই জানে সন্তান হারানোর বেদনা কতো। এ ঘটনার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করলেও ছাত্র শিবিরের বাড়াবাড়িকেও মেনে নেয়া যায় না। গত প্রায় ২১ বছর ধরে ছাত্র শিবির যে স্টাইলে এখানে তাদের সংগঠন চালাচ্ছে তা কোন সুস্থ মানুষ মেনে নিতে পারে না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাদদেশে আমার বাড়ি। আমি গত ২১ বছর ধরে দেখেছি শিবির নিজেদের আধিপত্য বিস্তার রাখতে সব ধরনের কর্মকান্ড এখানে সম্পন্ন করেছে। এখান থেকে তারা সারা দেশে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করে চলেছে।
১৯৯০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে চবি'র শুধু এফ রহমান হল ছাড়া আর কোন হলে বা মুল কমিটিতে শিবির একটি পদও পায় নি। ছাত্রঐক্য সবকটিতে পুরো প্যানেলে জয়লাভ করে। তখন চবিতে মুক্তবুদ্ধি, মুক্ত রাজনীতি আর প্রগতিশীল রাজনীতির পদচারনা ছিল। চাকসু নির্বাচনের পর পরই ৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোর মধ্যে প্রথম খড়ক আসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর। বিএনপি'র উপচার্য হওয়ার পর থেকে জামাত-শিবির তাদের দখল তৎপরতা শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা সমর্থ হয়। ৯১ বিএনপি জোট সরকারের এক বছর যেতে না যেতে প্রগতিশীল রাজনীতি বন্ধ হয়ে যায়। জামাত-শিবির এ পবিত্র শিক্ষাঙ্গনকে নিজেদের রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। একে একে সবগুলো হল তারা দখল করে নেয়। বিএনপি-জামাত শাসনামলে ৩০৫ শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হয়, যাদের মধ্যে
১৫০ জনই জামাতি। আর এ শিক্ষকদের মধ্যে শিবিরের আমর্স ক্যাডার বলে মোজাম্মেল, নেছারও রয়েছে।
শিবির চবিকে তাদের হাতে রাখার জন্য প্রগতিশীল রাজনীতি নিষিদ্ধ করে। ফলে এখানে কোন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড নেই। নেই কোন মুক্তবুদ্ধির চর্চা। শিবির যা বলে তাই হয়। পালন করা হয় না কোন জাতীয় দিবস। যে ১৬ হাজার ছাত্র-ছাত্রী এখানে লেখাপড়া করে তাদের কোন নিরাপত্তা নেই। এখান থেকে যারা পাশ করে বের হয়, তারা জীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনন্দটুকু লাভ করে না। তাই সবাই এ বিশ্ববিদ্যালয়কে বলে মাদ্রাসা। বর্তমান এ আধুনিক যুগে এমনটি কেউ কামনা করে না। শিবিরের রাজনৈতিক আধিপত্যের কারনে এখানে অন্য কোন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সুবিধা করতে পারছে না। তাই সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

