বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের শরীরে নানা রকম সমস্যা তৈরী হয়। শরীর দুর্বল হয়ে আসে। দেখা দেয় নানা রোগ। পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে ৭০ এর পর। ডাক্তার অষুধ কোন কিছুতেই খুব বেশি সুবধা করা যায় না। সমস্যাটা আরো বেশি হয় তাদের যাদের চিকিৎসা করার সামর্থ নেই।
এমন একজন গাজীপুরের আবদুল করীম। বয়স ৭৫ বছর। উনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য লড়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করে কিংবা যুদ্ধকালীন সময়ে ভারতের পালিয়ে থেকে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতা বনে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা নামে নানা সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন এমন মানুষের পরিমাণ কম না। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা আবদুল করীম সম্ভবত আওয়ামী লীগ করেন না। তার এই নির্বুদ্ধিতার শাস্তিও তাকে পেতে হয়েছে। তিনি এখন রিকশাচালক। নিজের শরীরের শক্তিতে মানুষ টেনে জীবিকা অর্জন করেন।
কিন্তু তার এই কষ্টে আওয়ামী লীগ নির্বিকার থাকলে কি হবে। তার অঙ্গ সংগঠন যুবলীগ তো নির্বিকার থাকতে পারে না। মুক্তিযোদ্ধা আবদুল করীমকে যেন তার বয়সের ভারে ন্যূজ এই জীবনটাকে আর বেশিদিন বহন করার কষ্ট না করতে হয় সেই ব্যবস্থা করেছে যুবলীগ। পিটিয়ে মেরে ফেলেছে লোকটাকে। সোজা পরপারে পাঠিয়ে দিয়েছে। যাহ্, ল্যাঠা চুকে যাক। আর কোন কষ্ট নেই মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করীমের। এখন খোদার কাছে গিয়ে শান্তিতে থাক। একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতি এই মহানুভবতা দেখানোর জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট যুবলীগ নেতাকে সম্ভবত পুরষ্কৃতও করা হবে। আমরা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় থাকলাম।
শ্রদ্ধেয় পাঠকদের প্রাসঙ্গিক আরো কিছু তথ্য জানিয়ে রাখি।
মুক্তিযোদ্ধা রিকশাচালক আব্দুল করিম ছয় সাত বছর আগে গাজীপুরের সারদাগঞ্জে জমি কিনে ঘর তুলে সপরিবারে বসবাস করছিলেন। পাশ্ববর্তী এলাকায় শিল্পকারখানা হওয়ায় জমির দাম বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এলাকার প্রভাবশালী মালেক কাজী দরিদ্র আব্দুল করিমের জমির দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। মালেক কাজী স্থানীয় যুবলীগ নেতার পিতা। অতএব তিনি এখন যা চাইবেন তা না হওয়ার কোন কারন নাই। পিতার খায়েশ পুরুণের জন্য যোগ্য ছেলে হিসাবে যুবলীগ নেতা আতাউর রহমান ১২-১৪ জনকে সাথে নিয়ে গরীব মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম ও তার বাড়ির লোকজনের উপর হামলা করে। ঘর ও খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে ওই যুবলীগ নেতা ঘটনাস্থলেই পিটিয়ে মেরে ফেলে রিকশাচালক মুক্তিযোদ্ধা ৭৫ বছর বয়সি আব্দুল করিমকে। আহত করে তার পরিবারের আরো সাত জনকে। এই জাতীয় ঘটানা ঘটার আশংকায় বিষয়টি পুলিশকে আগেই অবহিত করেছিল আব্দুল করিম। কিন্তু বিরোধী দলকে দমনে ব্যস্ত পুলিশের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিমকে রক্ষা করার সময় কোথায়?????????
তথ্যসূত্র: দৈনিক কালের কণ্ঠ, ১২ এপ্রিল, ২০১০, প্রথম পৃষ্ঠা
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


