somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেক্যুলারিজম, রবীন্দ্রনাথ ও রাখাল ছেলের দল

২৬ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে একথা প্রায়ই বলার চেষ্টা করা হয় যে, রবীন্দ্রনাথ হচ্ছেন আমাদের জাতীয় চেতানার উৎস। বাংলাদেশের অনেক পন্ডিত ও সংস্কৃতি সেবীরা মনে করেন তিনি হচ্ছেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রাণশক্তি। আমাদের জাতীয় চেতনার অন্যতম উৎস হলো বাংলা ভাষা। আর রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বাংলা ভাষার মহান কবি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো তার বিশালায়তন সাহিত্য সৃষ্টিতে এমন কিছু নেই যা বিশেষভাবে বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে একটি পৃথক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করতে পারে। রবীন্দ্রনাথ কখনও বাঙালিদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র চাননি। তিনি যা চেয়েছিলেন তা হচ্ছে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের আওতায় বাংলা ভাষাভাষি মানুষের মুক্তি। এই কারনে তিনি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষপাতিও ছিলেন না। রবীন্দ্রনাথ বুহ জায়গায় খোলামেলা বলেছেন, হিন্দি হওয়া উচিত নিখিল ভারতের রাষ্ট্রভাষা। শান্তি নিকেতনের এক অনুষ্ঠানে হিন্দির পক্ষে রবীন্দ্রনাথের এরকম মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছিলেন ড. শহীদুল্লাহ।

আবুল ফজল, মোতাহার হোসেন চৌধুরীর মতো প্রগতিশীল ভাবুকরা বহুবার রবীন্দ্রনাথের সাথে নানা সূত্রে যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছেন, মুসলমান সমাজ নিয়ে তার উদাসীনতার কথা। এর সদুত্তর তারাও পেয়েছিলেন বলে মনে হয় না। এ কারণেই আওয়ামীলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং পাকিস্তান আন্দোলনের সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যাতা আবুল মনসুর আহমদ লিখেছিলেন,
'বিশ্বকবির বিশ্ব ভারতীয় বিশ্বে কতবার শারদীয় পূজায় আনন্দময়ী মা এসেছে গিয়েছে, কিন্তু একদিনের তরেও সে বিশ্বের আকাশে ঈদ-মোহররমের চাঁদ ওঠেনি।'
আবুল মনসুর সাহেবের তাই সুস্পষ্ট মতামত ছিল, মেজরিটি বাঙালির সঙ্গে নাড়ীর যোগ না থাকলে কেউ জাতীয় কবি হতে পারে না- হতে পারে না জাতীয় চেতনার উৎস। এ কারণেই তিনি মেজরিটি বাঙালির জন্য জাতীয় সাহিত্য নির্মাণের ডাক দিয়েছিলেন।

বৃটিশরা এ দেশ থেকে বিতাড়িত হোক তা রবীন্দ্রনাথ চাননি। যেসব তরুন বল প্রয়োগ করে বৃটিশদের তাড়াতে চান তাদের সমালোচনা করে তিনি চার অধ্যায় উপন্যাস লেখেন। বৃটিশ সরকার এ উপন্যাসের হাজার হাজার কপি বিলি করে স্বাধীনতা আন্দোলনের দায়ে আটক তরুনদের মধ্যে। শরৎচন্দ্র ছিলেন বিপ্লবীদের পক্ষে। তিনি লিখেছিলেন পথের দাবি উপন্যাস। ফলে বৃটিশ সরকার পথের দাবি বাজেয়াপ্ত করে। অনেকে চেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ এর প্রতিবাদ করুক। তিনি তা না করে উল্টো শরৎচন্দ্রকে র্ভৎসনা করেছিলেন। মোটের উপর রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন বৃটিশ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে। অনেক সময়ই তিনি ভারতে বৃটিশ শাসনকে ঈশ্বরের শাসনের সঙ্গেও তুলনা করতেন।

বঙ্গভঙ্গ রদের পর বৃটিশ সরকার ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। এতে বাঙালি হিন্দুরা ক্ষেপে যায়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে। এমনকি ঢাকার হিন্দুরাও চায়নি ঢাকায় একটা বিশ্ববিদ্যায় হোক। তারা মনে করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে একটা মুসলমান বিশ্ববিদ্যালয় আর মুসলমানের ছেলেরা লেখাপড়া শিখে তাদের পাতে ভাগ বসাবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে রবীন্দ্রানাথের মতো বিশ্বকবিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। আজ যেসব রাখাল ছেলেদের রবীন্দ্র বিলাস পেয়ে বসেছে তারা জানে না তাদের দেবতাতুল্য মানুষটি রাখাল ছেলেরা লেখাপড়া শিখে সমাজের উপর তলায় উঠে আসুক এটা কখনোই চাননি।



(ফাহমিদ-উর রহমানের লেখা থেকে)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:২৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×