somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্বিধা, দহনশীলতা ও এলোমেলো দিন

০৯ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সামহোয়ারইনে সুযোগ পেলেই আসি, পড়ি পাতার পর পাতা, কোন নির্দিষ্ট লক্ষ নিয়ে নয়, অভ্যেসবশত। কখনো কখনো একটি হঠাৎ লেখায় থমকে দাঁড়াই, মুগ্ধতায়। কখনো একটি লেখার সামনে কথা বলবার দায় দাঁড়িয়ে যায়, আমি পড়ি আর ভাবি, কিছু বলবো, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছু বলা হয় না। এই আমার কুঁড়েমি। আমার অসহনীয়রকমের দীর্ঘতা সমৃদ্ধ কুঁড়েমি। কথা বলার থাকলেও বলা হয় না, অথবা কমেন্ট করলেও এত সংক্ষিপ্ত, লেখক বিরক্ত হন। অথবা অপেক্ষা করেন, সম্ভবত পরের কথাগুলোর জন্য। আর আমি চুপ মেরে যাই। কখনো বা বলি যে, কথা আছে, আর একদিন বলে যাবো। আর কোনদিন বলে যাই না। চুপি চুপি দেখে চলে আসি, আমার কথাগুলো না বলা থেকে যায়, আমার ভাবনাগুলোর সমাপ্তি ঘটে। এইভাবে আমার না বলা কথাগুলোর মৃত্যু ঘটে, আমার দিনগুলো এমন যে, আমি তার জন্য শোক পর্যন্ত প্রকাশ করি না।

আমি এই লেখাটা কেন লিখছি সে প্রশ্নও আমি আর করি না। কিন্তু কিছু এলোমেলো ভাবনা লিখছি, এই বুঝতে পারি। এই উদ্দেশ্যহীন লেখার ব্যাপারটা ভাল লাগতে শুরু করেছে তাই আরো কিছুক্ষণ লিখবো সম্ভবত। অনেকটা শ্যামুয়েল ব্যাকেটের নাটকের চরিত্রের মতো, জুতাটা খুললাম, আবার পরে নিলাম, আবার খুললাম, আবার পরলাম, ফিতাটা কেমন ঢিল হয়ে আছে, খুলে আবার মজবুদ করে লাগালাম, তারপরে, এসো আমরা কিছুক্ষণ কথা বলি, কোন কথা যদি না থাকে বলার, তাহলে ঝগড়া করি, তারও কোন বিষয় খুঁজে না পাও যদি- তাহলো ঝগড়ার বিষয়বস্তু বানাও; এ্য্যই যে ব্রাদার, তুমি অমন অদ্ভুত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছো কেন- দিব এক গাট্টা.. ....

এদিকে হয়েছে কি, বৃষ্টিতে আমরা কয়েকজন দেবদূত আজ অনেকক্ষণ ভিজেছি। শহরে হেঁটেছি। সেই শহর, যার গভীর স্মৃতিতে আমাদের নাম ছিল হাঁটুরিয়া। আমরা ভিজতাম, এবং হাঁটতাম, আর শ্রাবণের অসুখগুলো আমাদের হৃদয়ে জমা করতাম। জোনাক পোকার মতো ছোট ছোট অসুখ, অপরূপ, অপরূপ। বুকের ভিতর এই অপরূপ অসুখগুলোরে জড়ো করে নিয়ে আবার নগরীর গভীর গহনে একা হয়ে যেতাম। মোমের আলোর নিচে, অনেক গভীর হলে রাত্রি, জোছনায় অবরুদ্ধ বুক ছেঁকে ছেঁকে জোনাক ফুটাতাম। সেই জোনাকগুলো, আহা সেই জোনাকগুলো কি বেঁচে আছে আজ?

ভিজতে ভিজতে আচমকা একটি কবিতার লাইন মনে পড়ে গেল, যখন সচেতন হলাম, মনে করার চেষ্টা করলাম এই লাইনটা কার। প্রথমে মনে পড়লো না। আহা, পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ছিল বুঝি আমাদের কয়েকটি কবির হৃদয়। পরে বাসায় ফিরে অনেক পুরনো হয়ে যাওয়া লালচে কভারের কবিতার বইটি খুললাম।-

...আমি যার ক্রীতদাস মাঝে মাঝে সম্রাটের মতো/ উড়ে আসে অবিবেকী সেই জাদুকর।/ সোনার মলাটে লেখা পুঁথিপত্র নিয়ে/ শেখায় সে মায়াময় যে-সব অক্ষর/ সকালেই ভুলে গিয়ে সেই সব শ্লোকময় কথা/ হৃদয়ের দলগুলি ছিঁড়ে খুঁড়ে ফেলি।/ হয়তো বা ক্ষণকাল ইনিয়ে বিনিয়ে/ কেঁদে কেটে ক্লান্ত হয়ে পুরাতন গাথার ভিতরে/ নিজেকে ডুবিয়ে দিই।/ ছিন্নভিন্ন হৃদয়ের চামেলি ও বেলী/ এক হয়ে অন্য এক লোকোত্তর মানুষকে গড়ে।/ পানখ সাপের মতো অন্তরের বিষাক্ত কামনা/ মরে গেলে, আবার হারানো কথা আমার অধরে/ ফিরে এসে উচ্চারিত হতে থাকে ধীরে/ যেন মনে হয়,/ পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ছিল বুঝি/ আমাদের কয়েকটি কবির হৃদয়।...

আহা, পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ছিল বুঝি আমাদের কয়েকটি কবির হৃদয়!

এইসব উল্টাপাল্টা ভাবনাগুলিরে বিদায় করতে, কিছুক্ষণ কিছু বৈষয়িক প্রশ্নে আগ্রহ পাতলাম। ক্ষিদে নিবারণ, ক্ষুণ্ণিবৃত্তি, ভীষণ দরকারী ব্যাপার, জীবনের তাগিদেই। বাসার সামনেই মুদির দোকান, একটা ডিম, দুটো পেয়াজ, পাঁচ টাকার তেল, তারপরে কড়াইতে নামাতে গিয়ে যখন দেখি দেশলাই নাই, ক্ষিদে উবে যায়। আমার তখন অনন্ত আলস্য, সীমাহীন কুঁড়েমি, আর ডিম মামলেট করা হয় না। বরং আমার মনে পড়ছে আর একটি কবিতা:

তারপর দেশলাইয়ের একটি কাঠি জ্বললো/ আমার সর্বকনিষ্ঠ ছেলেটির হাতে/ একবিন্দু আগুন। পাশে কয়েকটি রক্তাভ মুখ/ আমি মোম খুঁজে না পেয়ে কর্তব্যবিমূঢ়ের মতো/ একটি শিশুর হাতের দিকে অসহায়ের মতো/ তাকিয়ে আছি। অথচ আমার সামনে/ রবীন্দ্রনাথের বই,/ গ্যেটের প্রেম পত্র,/ কনফুসিয়াসের দর্শন। যা অনায়াসে/ এই আগুনকে স্থায়ী রাখতে পারে/ আর দেয়ালজুড়ে পৃথিবীর মানচিত্র/ আইল বাঁধা জমির মতো বিচিত্র এবং দাহ্য।/ একটা শিশু আর কতক্ষণ এই/ দ্রুত দহনশীলতাকে হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।/ দ্বিধায় আমার হাত কাঁপতে লাগল।..
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২৩
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×