আমার প্রিয় পোস্ট

গেরিলা কথাবার্তা

নোটন নোটন পায়রাগুলি ও কয়েক চিরকুট নোট

২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:৪৫

শেয়ারঃ
0 5 0

এগার একের দ্বিতীয় পর্ব

দীর্ঘ প্রায় সতের দিন পর যে লেখাটি আজ লিখতে বসলাম, এটি লেখার কথা ছিল আরো বেশ আগে, যখন উনত্রিশ তারিখের বিষ্ময়কর নির্বাচনের মাধ্যমে একটি একদলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকার কায়েম হলো বাংলাদেশে। নির্বাচন কেমন হলো- না হলো- বা কতটুকু ফেয়ার হলো সে বিতর্ক থেকে দূরে থেকেও, আমি এবং আমার বন্ধুদের আগ্রহ ছিল, এগার একের এই দ্বিতীয় পর্বের রূপটা কেমন হয় সেটি বুঝা। ইতোপূর্বেই আমাদের কারো তো অজানা নেই যে, ইলেভেন বেশ একটা সিম্বল হয়ে উঠেছে বিশ্ব ইতিহাসে। দুইহাজার এক-এ-ও এই সংখ্যাটি নিছক একটি ক্যালেণ্ডারের পাতা ছিল, সেপ্টেম্বরের নয় তারিখে এসে সেটি তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাস তৈরী করল। বলা ভাল, ইতিহাসের ঘন্টা দুলিয়ে দিল। সর্বগ্রাসি জাতিরাষ্ট্র, সার্বভৌমত্ব, এবং তার অধীনে বেড়ে ওঠা ব্যক্তি স্বাতন্ত্রবাদের ধারণারে টুনকো করে দিলো। তার ভিত্তিতেই এক সুপার স্টেটের ধারণাবাহি আমেরিকা শুরু করল ইনফিনিট ওয়ার এগেইনস্ট টেরোরিজম। মানে, কেবল সেই ধরণের টেররিজম, যা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখে, জাতিরাষ্ট্র। তাই, দুই হাজার নয়েও এই ইলেভেন তার দৌড়াত্ম্য বজায় রেখে চলেছে, ওয়ার এগেইনস্ট টেরোরিজমের কল্যানে। এই ইলেভেনের সাথে নিজেরে মেলানোর জন্য, আমাদেরকেও এখানে এগার একের ক্যুকে ওয়ান ইলেভেন নাম দিয়ে ডাকতে হল। কৌতুহলের বিষয় হলো, ইণ্ডিয়ারও এখন একটি নিজস্ব নাইন ইলেভেন হলো, তাদের মিডিয়াগুলো তাইতো উদযাপন করেছে, গত মুম্বাইয়ে বোমা হামলার পর থেকে। বলেছে, ইণ্ডিয়ার নাইন ইলেভেন। এবং এটার পরই আমেরিকা ওয়ার এগেইনসট টেরোরিজমের আর এক শক্তিশালী মিত্র এবং সহযোগী পেলো ভারতকে।

এই এগারর একাধিপত্যের ইতিহাসের প্রেক্ষিতে, দুইহাজার ছয় সালের জানুয়ারী থেকে নয়ের অন্য জানুয়ারী, সময়ের এই অক্ষপথটির রাজনৈতিক পাঠ আমরা না যদি করতে পারি, তাহলে এই এগার এক- দ্বিতীয় পর্বের যে রহস্য এবং মাজেযা, তা বুঝা একটু কঠিন হবে। প্রথম পর্বে আমরা দেখতে পাই, সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের সেনাপতি আমেরিকা তার অনন্ত যুদ্ধের যজ্ঞে কোনরকম দরকষাকষি ছাড়াই মিত্র হিশেবে পেয়েছে বাংলাদেশের তৎকালীন এগার একের রেজিম এবং এর পেছনের মীর জাফরদের। সেই অন্যায় মৈত্রীর ফলে ক্ষুদ্ধ বাংলাদেশের মানুষ যখন উনত্রিশ তারিখের নির্বাচনে একটু নিঃশ্বাস নেবার ফুরসত পেলো, তখন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করল এগার একের রেজিমের বিরুদ্ধে, সেই তাবেদার শক্তিকে হটিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রত্যাশায়। এক এগারর রেজিম কর্তৃক সুবিধাভোগী, একই সাথে সাংগঠনিকভাবে অভিজ্ঞ ও দক্ষ সুচতুর দল হিশেবে আওয়ামীলীগ এই অনন্য মুহূর্তের বেনিফিশিয়ারী হতে পেরেছে। এখন দেখার বিষয়, এই বেনিফিশিয়ারী আওয়ামীলীগ সরকার 'সাউথ এশিয়ান ব্লক' বা 'ইন্দো-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্সের' নামে সেই এলাইয়ের স্বার্থ রক্ষার জেহাদে শামিল হয়ে তাদের প্রতি দেওয়া জনগণের অযাচিত এবং অভূতপূর্ব আমানত বিসর্জন দেয় কিনা। লক্ষণীয় বিষয়, ইতিমধ্যেই ছাব্বিশ দিনের আওয়ামীলীগ সরকার এইসব বিষয়ে পরাশক্তিগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সহযোগিতা চেয়েছে। বহু বিতর্কিত এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সাথে জড়িত ট্রানজিট ইস্যূতে কোন প্রকার জাতীয় সংলাপ ছাড়াই ভারতের কাছে এ ব্যাপারে তাদের ইতিবাচক মনোভাব এবং 'ইচ্ছা'র কথা জানিয়েছে। সর্বোপরি বহুত আগ থেকেই এগার একের রেজিমের যাবতীয় অবৈধ কাজকে বৈধতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামীলীগ, সে কথাতো কারোর অজানা নয়।

তবে, এগার একের প্রথম পর্বের তুলনায় দ্বিতীয় পর্বের ডাইনামিকস হলো, প্রথম পর্বের রেজিমের গণভিত্তি ও সাংবিধানিক বৈধতা ছাড়া অপরাপর সব সম্ভব পরা-ভিত্তিই প্রবলভাবে ছিল। বিপরীতে দ্বিতীয়ার্ধের এই পর্বের কলা কুশলীদের অপরাপর সব পরা-ভিত্তির সাথে সাথে নির্বাচনী গণতন্ত্র অর্থে গণতন্ত্রের লেবাস এবং সেই হিশেবে গণভিত্তির লেবাসও আছে। এতেই বিপদগুলো নতুনতরো মাত্রা এবং পোশাক নিয়ে হাজির হয়। এগার একের রেজিম যেটি অবৈধ উপায়ে পরাশক্তির আশ্রয়ে করতে গিয়েছিল, এই নির্বাচনী গণতন্ত্রের একদলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার জনগণের সম্মতির কথা বলেই, তাদের ভোটের হাতিয়ার দিয়েই, সেই কুকাজ সম্পন্ন করার সামর্থ এমনকি হিম্মত রাখে। সেই মনোভাব এবং হিম্মত ইতিমধ্যেই তারা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ইচ্ছেয় অনিচ্ছেয় প্রকাশ করেছে।

এই বিপদের গোঁড়া হলো, গণতন্ত্র বিষয়ে আমাদের যাবতীয় চিন্তা-ভাবনা ও তৎপরতা নির্বাচনের ধারণাকে কেন্দ্র করেই লুটোপুটি খায়, গণতন্ত্রে উত্তরণ ও গণমুক্তির মত ব্যাপারগুলির সুরাহা তাই আমরা নির্বাচনের মহৌষধ দিয়েই সমাধা করতে যাই সব সময়। ফলত, সাম্প্রতিক সময়ে পরাশক্তির তাবেদার রেজিমের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ আন্দোলনের যাবতীয় পরিপ্রেক্ষিতে মাঠ ঊর্বর হয়ে থাকলেও, বিএনপির মত রাজনৈতিক দল অদূরদর্শী জামাতের ফাঁদে পা দিয়ে উনত্রিশ তারিখের নির্বাচনে বুঁদ হয়ে থাকে।

এলা বলি, কেন আমি এই লেখা এতদিন দিতে পারি নাই

উপরে কথা হচ্ছিল গণতন্ত্র নিয়ে, আমাদের ইতিহাসভিজ্ঞতা এই কথাও বলে যে, এই 'গণতন্ত্র' ফ্যাসিবাদকেও নিমন্ত্রণ করে আনে কখনো কখনো। এই নির্বাচনী গণতন্ত্র যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের একনায়কতন্ত্রই জারি থাকে বৈধভাবে, সেটি এমনকি গঠনগত দশাতেই ফ্যাসিবাদের পথ উন্মুক্ত রাখে। জার্মানী, স্পেন এবং ইতালীর ফ্যাসিস্ট পার্টিগুলোর রেজিমের ইতিহাস অধ্যয়ন করলে, এই নির্বাচনী গণতন্ত্র কীভাবে গণভিত্তির দোহাই দিয়েই ফ্যাসিবাদকে অধিষ্ঠিত করে এবং ভীন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করে, তৎপরতাকে নিয়ন্ত্রণ করে, গুপ্তহত্যা করে, তার প্রকৃতি বোঝা যাবে। আমরা দেখি, এগার একের দ্বিতীয় পর্বে নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে যে সরকারটি গঠিত হলো, তা হল একদলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার। এমন কি এই সরকারের অতীত কীর্তিকলাপেও বাকশাল গঠনের মত হঠকারী উদাহরণ রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, এই অভিনব একদলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনই ডেকেছে পচিশে ডিসেম্বর, বাকশাল গঠনের ঐতিহাসিক দিনে। বিজয়ের অব্যবহিত পরেই, উপজেলা নির্বাচনে যে বল প্রয়োগের উদাহরণ তারা রেখেছেন, এখানেও, এই একদলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের ফ্যাসিষ্ট উপকরণগুলো স্পষ্ট হয়ে আসে ক্রমশ।

কিন্তু এর সাথে সামহোয়ারে আমার পোষ্ট দেওয়ার সম্পর্ক কোথায়? অনেকদিন আগে, রাষ্ট্রের পোপগিরি: রাষ্ট্রের পোপ কে হইবেন? শিরোনামে একটি ছোট নোট লিখেছিলাম ব্লগে। তারো কিছুদিন পর, যখন সামহোয়ার কিছু নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করল, তার প্রতিক্রিয়ায় আমি আরো একটি লেখা লিখেছিলাম। এইসব পোষ্টে আমার বক্তব্য ছিল, যখন রাষ্ট্র ট্রুথ কমিশন গঠন করে আমাকে বিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত হতে বলে, এবং আমাকে কনফেশন করতে বলে, তখন রাষ্ট্রের পোপ হওনের আকাঙ্ক্ষা তথা ধর্মাকাঙ্ক্ষা, কনফেশন এবং রাষ্ট্রকে নাগরিকের কনফেশন করানোর দায়িত্বার্পন- এর পেছনে রাষ্ট্রের যে বাসনা ও চরিত্র দাঁড়ায় তার পর্যালোচনা জরুরী হয়ে পড়ে।

এই সময়েই, আধুনিক রাষ্ট্রের এই ধর্মাকাঙ্ক্ষার গোড়ায় আরো যে বহুবিধ ক্ষমতা সম্পর্ক আছে, তাকে পরিশুদ্ধ এবং পবিত্রায়ন করে, আরো নিরাপদ করার নিমিত্তে বাংলাদেশে যে ঘটনাটি ঘটল, তা হল নাগরিকদের ফোনে আড়িপাতার নির্দেশ, এবং ছয় মাস ধরে আমি, আমার সমগ্র অনুভূতির পাতা, প্রেম, ক্ষোভ এবং অনুযোগ, আমার গোপন কোড, বিবিধ নকশাগুলো, যা আমার মায়ের কাছে প্রতিদিন জমা রেখে আসি, বিশ্বাসী হতে চাই বলে; রাস্ট্র, এক মহা ক্ষমতাশালী পোপের রেকর্ডারে বন্দী থাকবে, যতক্ষণ না, আমি বিশ্বাসী, অর্থাৎ রাস্ট্রের জন্য নিরাপদ বলে বিবেচিত হবো।

এই অভিন্ন প্রেক্ষিতেই তখন সামহোয়ারইন ব্লগ এর মডারেটরগণ ব্লগারদেরকে বিশ্বাসী হতে বলছিলেন এবং তার জন্য আমার ফোন নাম্বারটি চেয়েছিল। বিশ্বাসী না হতে পারলে, আমার পোস্ট সংকলিত পোস্টে সরাসরি স্থান পাবে না, আর ডিফল্ট অনুসারে, সংকলিত পোস্টই আসল পেইজ হিশেবে ভিজিটরদের কাছে উপস্থিত হবে, মানুষ অবিশ্বাসীদের লেখা দেখবে না। অবিশ্বাসীদেরকে, পোস্ট দিয়ে বিনীতভাবে অপেক্ষা করতে হবে, এবং মডারেটরদের যথাযথ সময় হবে যখন, তারপর যথার্থ মডারেশনের পর, যদি দেখেন, আমি, মানে সেই অবিশ্বাসী লোকটা ঈমানদারের মতন কাজ করেছি, রাষ্ট্র, এবং অথরিটির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না, তাহলে অবিশ্বাসীর পোস্ট জেল থেকে ছাড়া পাওয়া যেতে পারে।

একজন ব্লগার হিশেবে আমার লেখালেখি এবং ব্যক্তিগোপনীয়তার গভীর খবর, আমার অবস্থান এবং পরিচয়, নকশা এবং গোপন কোডগুলো পোপ হতে চাওয়া রাস্ট্রের দরকার হয় কখনো কখনো, নিজের পবিত্র এবং সাম্রাজ্যবাদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধে জয়ী হতে, আমার অবস্থান চিহ্ণিত করে, আমাকে খুন করে যাতে একই সাথে রাষ্ট্র, ওয়ার্লড ট্রেড সেন্টার এর নিরাপত্তা, এবং ইনফিনিট জাস্টিস এনশিউর করা যায়।

আমি প্রশ্ন রেখেছিলাম, সামহোয়ারেরও কখন আমার ফোন নম্বর দরকার হয়? রাষ্ট্রের যখন ধর্মাকাংক্ষা জাগে, রাষ্ট্রের ভিতরে প্রতিষ্ঠান আর রাষ্ট্রের সম্পর্ক তখন এক জায়গায় এসে সেই ধর্মাকাংক্ষাকে বাঁচানোর জন্য কাজ করে। কিন্তু, আমি তখন পরিষ্কার করে আমার অবস্থান জানিয়ে দিয়েছিলাম, বলেছিলাম, আমার মা আমাকে এই ধর্মাভিলাসি রাষ্ট্রের ইনফিনিট জাস্টিসের বিরুদ্ধে লড়তে বলেছেন এবং গেরিলা হামলা করতে বলেছেন। আমি গেরিলা সেজে লিখছি, নিজের সব পরিচয় লুকিয়ে, ক্যামাফ্লোজ পরে, এই শাদা পোশাকের অরণ্যের ভিতর। আমি আমার মায়ের কাছে বিশ্বাসী, কিন্তু রাষ্ট্র এবং তার সবরকমের সহযোগী বন্ধুদের কাছে অবিশ্বাসী। এবং তাই থাকতে চাই। তাই আমার ফোন নাম্বারটি দিতে পারবো না বলে, সামইনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম।

গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারিখে যে বিপদজনক নীতিমালার বিরোধিতা করে আমি উপরোক্ত বক্তব্য দিয়েছিলাম, সেই নীতিমালার অপপ্রয়োগ এবং গুপ্ত হত্যার শিকার হয়েছিলাম আমি এবং আমার একটি পোষ্ট, গত ১১ জানুয়ারী ২০০৯ তারিখে, সামহয়ার অথরিটি কর্তৃক। সেই কারণেই দীর্ঘ সতের দিন ধরে সম্পূর্ণ 'নিরাপদ' হওয়া পর্যন্ত আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে, এই পোষ্টটি লিখতে।

পুনশ্চ: সামহয়ারইন হেজিমনি

সামহয়ারইন তার নীতিমালায় যে মতকে ধারণ করে, তা হলো ধ্রুপদি গ্রেকো-রোমান এবং সেই সাথে রেনেসাঁস ও এনলাইটেনম্যান্ট আনিত আধুনিকতার মূল মটো ফ্রি উইল। যার ভৌত প্রকাশ মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন। ওয়েস্টার্ন এনলাইটেনমেন্টর অন্যতম প্রপাগেটর ভলতেয়ারের ভাষ্যে এটি হচ্ছে এরকম: তোমার মতামতের সাথে আমি একমত না হতে পারি, কিন্তু তোমার মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আমি প্রাণ দেব। স্বভাবতই ব্লগ ব্যবহারের শর্তাবলীর পাতায় সামইন প্রথম যে কথাটি লিখেছে, তা হল: চিন্তাধারা যতই চরম-পন্থী(radical) কিংবা রক্ষণশীল (conservative) হোক না কেন, তার স্বাধীন মত প্রকাশকে আমরা সমর্থন করি, যতক্ষণ না তা রাষ্টীয় আইন বা অন্যের ব্যাক্তি স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে। রেডিক্যাল এর অনুবাদ 'চরমপন্থী' হতে পারে কিনা আমার গুরুতর সন্দেহ আছে, তবে এই বাক্যে তাদের এই অনুবাদ চরমপন্থাকেও অনুমোদন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেয়। মজার ব্যাপার হলো, সামহয়ার আদৌ এমন নীতিমালাকে কেয়ার পর্যন্ত করে না কখনো কখনো, যখন কোন ভীন্ন মত তাদের গোষ্ঠি সার্থে আঘাত করে সমালোচনা হাজির করে।

এক্ষেত্রে ইতালীয় মার্কসিস্ট আন্তোনিও গ্রামসির পর্যবেক্ষণ হলো, বলপ্রয়োগই মূলত হেজিমনিক ডোমিনেন্সির মৌল চরিত্র, সংকট মুহূর্তে তার ছদ্ধবেশ খসে পড়ে, এবং সম্মতির মুখোশ থেকে বেরিয়ে নাঙ্গা দমন নীতিই একমাত্র নির্ণায়ক হয়ে উঠে।

পুনশ্চ: আরো কিছু হদিস

সামহোয়ার কি "একমত একমত" মার্কা ব্লগ হতে চাইছে?

মিডিয়া, ব্লগ ও সামহয়ারইন

ঘোড়ার ডিম আর আদিপাপের ফ্যালাসি: রিফাত হাসানের পোস্ট গুম হওয়া প্রসঙ্গে সামহোয়ারইন ব্লগের একটি পর্যালোচনা।

গাজায় গণহত্যা, আমাদের নির্বাচনী আবেগ ও যুদ্ধাপরাধ 'বিরোধী' চেতনার রাজনীতি এবঙ কন্ঠস্বর মুছে দেয়ার সন্ত্রাস

সামহোয়ারইন নি:সন্দেহে 'ব্লগ'। মুশকিল হইলো 'মডারেটর'গো নিয়া। তারা প্রায়ই ভুইলা যান যে এইটা ব্লগ । তাই তারা অকারনে পোস্ট ডিলিট করেন । সাধারন বানান ব্লগারদের।

ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ

বিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত হবার আমন্ত্রণ: আমি কেন গ্রহণ করতে পারছি না প্রিয় সামহোয়ারইন

ব্লগাব্লগিতে বিস্কুট-দৌড় সংস্কৃতি

বর্ষসেরা লেখা সমাচার: মানস চৌধুরীর পোষ্ট ''দেখে'' আমার প্রতিক্রিয়া

 

প্রকাশ করা হয়েছে: ছোটগল্প  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:০১
তরিকুল হুদা বলেছেন: স্বাগতম ব্যাক।'এক এগারো দ্বিতীয় পর্ব'............ভালোই বলছেন। আসলেই।কোথায় পাইলেন এই কথা?

যাই হোক, এই ধারাবাহিকতায় আরো অনেক কিছু আসিতেছে......... টিফা, সন্ত্রাস বিরোধী টাস্কফোর্স ইত্যাদি............ইত্যাদি।
২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৯

লেখক বলেছেন: ইত্যাদি... ইত্যাদি.. ভাইজান আর একটু কষ্ট কইরা যদি বিস্তারিত লিখতেন। যাই হোক, এই পোষ্টে কমেন্ট এর সংখ্যা দেখে ব্লগারদের সন্ত্রস্ত ভাব বুঝতে পারি। কিন্তু আপনি ডর ভয় ছেড়ে কমেন্ট কইরা ফেললেন। সেইজন্য ধন্যবাদ।

২. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৯
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: হ।
শোকেসে রাখলাম।
আগে পইড়্যা দেখি। তার পর কমু।
২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৮

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে, আপনার কওয়ার অপেক্ষায় থাকবো।

৩. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৭
ফিউশন ফাইভ বলেছেন: ওইদিন তো আলোচনা আর আগাল না। যা হোক, ব্যানমুক্তিতে অভিনন্দন।
২৮ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:০৩

লেখক বলেছেন: থ্যাংকস।

৪. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪৭
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: আমার মাথার উপর দিয়ে অনেক সময় চলে যায় আপনার লেখা। তবে আমি গনতন্ত্রের পক্ষে। নির্বাচন মাত্রই গনতন্ত্র নয়, সেটা ঠিক। গনতন্ত্র তার সমস্ত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সবচেয়ে বেশী মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। আজ গনতন্ত্রের সামান্য রূপরেখা আমাদের দেশে আছে বলেই আওয়ামী লীগ যে কোন ক্রিটিক্যাল সিদ্ধান্ত নিতে গেলে দুই মিনিট ভাববে।

২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:০৩

লেখক বলেছেন: আপনি সঠিক ব্যপারটিই ধরেছেন, গণতন্ত্র মানেই নির্বাচন নয়। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৫. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৩৩
মার্ক জুবাবের বলেছেন: আপনি ঈমানে কন দেখি-- সন্ত্রাস আপনার জন্য একটা সমস্যা কিনা? আমাদের দেশে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে আপনার কোনই বক্তব্য নাই?

আমি কিন্ত মনে করি আমার জন্য, আমার পরবর্তী বংশধরদের জন্য জঙ্গীবাদ তথা সন্ত্রাস একটা সমস্যা। কারন জঙ্গীবাদ তথা সন্ত্রাস কোন শত্রুমিত্র মানে না, ধর্ম মানে না। একটা সন্ত্রাসী হামলায় লাদেন এর ছেলের বন্ধুও মারা যেতে পারে, একজন খাঁটি মুসলমানও মারা যেতে পারে। যেদিন টুইন টাওয়ারে হামলা হয়েছিল সেখানে আপনি নিজেও থাকতে পারতেন।

একই ভাবে জঙ্গীবাদ তথা সন্ত্রাস আমেরিকার জন্যও সমস্যা। ফলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমেরিকা লড়াই তো করতেই পারে, তাই না? ফলে আমার এই লড়াই কোন এক জায়গায় আমেরিকার সাথে মিলতেই পারে, তাতে সমস্যা কোথায়?

আপনার এবং আপনার ঘরানার কিছু ব্লগারের 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্তযুদ্ধের' সম্পর্কে সমালোচনা শুনতে শুনতে আমরা ত্যাক্ত হয়ে গেলাম।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪৩

লেখক বলেছেন: ওহ। আপাতত মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৬. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:৪০
প্রতিদিন বলেছেন: প্রিয়তে নিলাম। শুভ ব্লগিং রিফাত ভাই, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধে আরেকবার ক্রসফায়ারে পড়নের আগে। কারণ আজকের ডেইলী স্টার দেখুন: 'হাসিনা ডিকলারস ওয়ার অন টেরর।' Click This Link
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০২

লেখক বলেছেন: হুমম..

৭. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৫
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: কয়েকবার পড়ে তারপরে লেখাটির মর্ম কিছুটা হলেও ধরতে পারলাম।
আমি আওয়ামী বিরোধী, তাতে সন্দেহ নাই। কিন্তু তারপরেও আওয়ামী লীগকে খুব বেশী অবিশ্বাস করতে পারি না। তারা এর আগেও ক্ষমতাসীন হয়েছে। আমরা দেখেছি, কতদূর ছাড় তারা অন্য দেশকে দিতে পারে।

সন্ত্রাস বিরোধী টাস্কফোর্স সাদা চোখে খুব বেশী বিতর্কিত নয়। তবে "বিতর্কিত" কিছু এটার ভেতরে থাকলে অবশ্যই বিতর্কিত। কিন্তু আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি, ৯৫-০১ এ থাকা একটি শক্তি, তাদের চরিত্র অস্বচ্ছ নয়।

বি এন পি ষড়যন্ত্রের শিকার তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। আওয়ামী লীগ বেনেফিসিয়ারী, সেটাও ঠিক। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আওয়ামী লীগ অবিশ্বাসের পাত্র।

আপনাকে ধন্যবাদ। লেখাটি বরাবরের মতই ভাল।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

৮. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:২৪
সীমান্ত আহমেদ বলেছেন: রিফাত ভাই, এই পোস্টে অনেকবার ঘুরে গেছি। মন্তব্য করার মত যোগ্য মনে হয় হয়ে উঠেনি। ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার আগেই অনেক ব্যাপর ডিজিটালাইজড হয়ে গেছে এটা বুঝতেসি। আপনার সাথে বেশিরভাগ বিসয়ে একমত হলেও কিছু কিছু ব্যাপারে দ্বিমত থাকলো। আপাতত সেগুলো আলোচনার চেয়ে আপনাকে আনব্যানের শুভেচ্ছা বরং জানাই।
শুভ ব্লগিং।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৪

লেখক বলেছেন: সীমান্ত, মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনার দ্বিমতগুলো জানতে পারলে আরো খুশি হতাম।

৯. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৫৮
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: একমত@ ১.''সর্বগ্রাসি জাতিরাষ্ট্র, সার্বভৌমত্ব, এবং তার অধীনে বেড়ে ওঠা ব্যক্তি স্বাতন্ত্রবাদের ধারণারে টুনকো করে দিলো। তার ভিত্তিতেই এক সুপার স্টেটের ধারণাবাহি আমেরিকা শুরু করল ইনফিনিট ওয়ার এগেইনস্ট টেরোরিজম।''
আসলো ইলেভেন। নাইন ইলেভেন। ওয়ান ইলেভেন। ইন্ডিয়ান নাইন ইলেভেন।
২.''সাম্প্রতিক সময়ে পরাশক্তির তাবেদার রেজিমের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ আন্দোলনের যাবতীয় পরিপ্রেক্ষিতে মাঠ ঊর্বর হয়ে থাকলেও, বিএনপির মত রাজনৈতিক দল অদূরদর্শী জামাতের ফাঁদে পা দিয়ে উনত্রিশ তারিখের নির্বাচনে বুঁদ হয়ে থাকে।'' এবং অবশেষে দ্বিমত এইখানে- এক এগারর রেজিম কর্তৃক সুবিধাভোগী, একই সাথে সাংগঠনিকভাবে অভিজ্ঞ ও দক্ষ সুচতুর দল হিশেবে আওয়ামীলীগ এই অনন্য মুহূর্তের বেনিফিশিয়ারী হতে পেরেছে।'' দ্বিমত এইটা যে লীগ বেনেফিশিয়ারি নিজেদের চেষ্টায় হয়নাই। ওয়ান ইলেভেনের যে লক্ষ্য তা কেবল এই দেশে লীগের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। সুতরাং লীগরে এই দায়িত্ব দেয়া হইছে। কিন্তু আপনি যখন বলেন-''নির্বাচনী গণতন্ত্র অর্থে গণতন্ত্রের লেবাস এবং সেই হিশেবে গণভিত্তির লেবাসও আছে। এতেই বিপদগুলো নতুনতরো মাত্রা এবং পোশাক নিয়ে হাজির হয়''। এতে কোনো সন্দেহ নাই। সরকারের চরিত্রে গত অসাংবিধানিক এবং সামরিক বাহীনির একাংশের গায়ের জোরের সরকারের সাথে কোনো তফাত নাই। সাথে বাড়তি মুশকিল হইলো গনতন্ত্রের লেবাস।


আপাতত নোট রাইখা গেলাম। আরো বিস্তারিত কথা হইতে পারে।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২১

লেখক বলেছেন: সত্য বলেছেন আরজু।

১০. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:০১
মুসতাইন জহির বলেছেন: জে মইন যে গল্ফ লেখছে হেডা পরছে নিহি...
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৭

লেখক বলেছেন: গল্ফ :)

১১. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:৪৫
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: প্রথম আলোর সৌজন্যে 'এক এগারো' অংশটুকু পড়লাম। বড়ই কৌতুককর জিনিস। লেখার ইচ্ছা আছে।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৩০

লেখক বলেছেন: আপনার এ বিষয়ে লেখা পড়ার ইচ্ছা আছে।

১২. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৯
জাতেমাতাল বলেছেন: রিফাত ভাই, আপনার পোষ্ট সম্পর্কে আমার মন্তব্য এখানে পড়ুনhttp://www.somewhereinblog.net/blog/jatematal/28904860
১৩. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:৪০
জাতেমাতাল বলেছেন: রিফাত ভাই, আমার মন্তব্য পড়ুনঃ

Click This Link
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৩৯

লেখক বলেছেন: হাঁ আপনার মন্তব্য পড়লাম, বুঝার চেষ্টা করছি। আর এখন গভীর অলস ওমের ভিতর থেকে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করা ছাড়া আর কিছু ভাল্লাগছে না। আপনার এত লম্বা মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ দেওয়া অবশ্যই আমার কর্তব্য।

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১২

লেখক বলেছেন: প্রিয় জাতে মাতাল, আপনার দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ এবং মতামতের জন্য ধন্যবাদ দেয়াটা আমার কর্তব্য। যদিও আমি নিশ্চিত নই, আপনার এই লেখাটির গন্তব্য মূলত কোথায়। আপনি ভীন্নমত প্রকাশ করার চেয়েও রিফাতের উপর কিছু খটাখট ট্যাগ লাগিয়ে দিতে তৎপর এই লেখায়। যেমন আপনার ইশতেহার বিভ্রম। বলেছেন: 'রিফাতের এই পোষ্ট কোন রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার তুলনায় কোন রাজনৈতিক দলের ইস্তেহার লিখার প্রয়োজনে বেশি সহায়ক হবে বলে আমার মনে হয়েছে'। এইসব ছাড়াও আরো এক ধরণের ট্যাগ আছে, যেমন: 'রিফাতের বড় পরিচয় সে একজন কবি'। 'রিফাত হাসানের অনেক পোষ্টই আমার প্রিয় পোষ্টের তালিকায় পড়ে'। এই ধরণের বিষয় সামনে আনার কারণে আপনার এই বিষয়গুলোর যোগ্য আলোচনায় যারা অংশ গ্রহণ করতে ইচ্ছুক তাদের পক্ষে ব্যাঘাত ঘটাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এখানে কমেন্টকারী অন্যান্য কিছু ব্লগারের আচরণেও আপনার এই ট্যাগাক্রমণ সংক্রমিত হয়েছে দেখলাম।

তাহলে প্রথমত আসুন, আপনার ট্যাগাক্রমণ এর একটা সম্ভব ধাধা দিয়ে শুরু করি। আপনি বলেছেন: 'রিফাতের এই পোষ্ট কোন রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার তুলনায় কোন রাজনৈতিক দলের ইস্তেহার লিখার প্রয়োজনে বেশি সহায়ক হবে বলে আমার মনে হয়েছে'। দেখা যাক, রিফাত এর কোন বাক্যটির ব্যাপারে আপনার এই মত: 'গণতন্ত্র বিষয়ে আমাদের যাবতীয় চিন্তা-ভাবনা ও তৎপরতা নির্বাচনের ধারণাকে কেন্দ্র করেই লুটোপুটি খায়, গণতন্ত্রে উত্তরণ ও গণমুক্তির মত ব্যাপারগুলির সুরাহা তাই আমরা নির্বাচনের মহৌষধ দিয়েই সমাধা করতে যাই সব সময়। ফলত, সাম্প্রতিক সময়ে পরাশক্তির তাবেদার রেজিমের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ আন্দোলনের যাবতীয় পরিপ্রেক্ষিতে মাঠ ঊর্বর হয়ে থাকলেও, বিএনপির মত রাজনৈতিক দল অদূরদর্শী জামাতের ফাঁদে পা দিয়ে উনত্রিশ তারিখের নির্বাচনে বুঁদ হয়ে থাকে।'

বলাবাহুল্য, আমার পুরো পোস্টে বিএনপির বিষয়ে, তাও বিএনপির ভুল অবস্থানের সমালোচনা করে, জামাতের অদূরদর্শীতায় সমর্পিত হয়ে গণআন্দোলনের পটভূমিকে ব্যবহার করতে না-পারার সমালোচনা করেই একটি মাত্র বাক্য উচ্চারিত হয়েছে। এতেই আপনার মনে হল এটি একটি রাজনৈতিক দলের ইশতেহার। এই মনে হওয়াটার গভীরে আপনার কোন অবস্থান আপনি প্রকাশ করতে চাইলেন সেটি আমরা জানার আগ্রহ রাখি। আবার ধন্দে পড়ে যাই, এর পরপরই আপনি যখন বলেন, 'এক জন দলীয় প্রধানের দৃষ্টিকোন থেকে থেকে যদি আমরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করি, তবে হয়তো আমরা বুঝবো--দলীয় প্রধান হিসাবে খালেদা জিয়া কি পরিমান বিপদের মধ্যে ছিলেন এবং নির্বাচনে না যাওয়াটা তার নিজের এবং দলের জন্য কি পরিমান অদুরদর্শী সিদ্ধান্ত হতো'। ধন্দে পড়ার কারণ হলো, দলীয় প্রধানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবে দলের ইশতেহার রচনাকারী, রিফাত তো দেখতে চেয়েছেন গণআন্দোলনের পটভূমি রচনার মুহূর্ত। এখানে দলীয় প্রধান বা ইশতেহার চিন্তা, যেটি বিএনপির হয়ে আপনি করেছেন, সেটির অবকাশই নেই।

তারপরে আসি আপনি যখন রিফাতের বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে 'এগার একের রেজিম' নামে ট্যাগ লাগানোর অভিযোগ করেন, আপনার খেয়াল থাকে না যে, আপনি অবচেতনেই হয়তোবা বিগত দুই বছরের সরকারকে 'রেজিম'-ছাড়া অন্য কোনরূপ বিশেষণই দিতে সক্ষম হন নাই, এমনকি বিএনপির বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ ঘৃণাহেতু সেই রেজিমের সুখস্মৃতি স্বত্ত্বেও। (যেমন: 'বিগত দুই বছরের রেজিম', 'বিগত কেয়ারটেকার রেজিম' ইত্যাদি, এবং সুখস্মৃতি দ্রষ্টব্য: 'বিগত দুই বছরের রেজিমের বিরুদ্ধে এক দ্রব্যমুল্যের বৃদ্ধি ছাড়া আর কি কি বিষয়ে জনগন ক্ষুদ্ধ ছিল আমার জানা নাই।')

আবার দেখি, এগার একের দ্বিতীয় পর্বে নির্বাচনের মাধ্যমে একদলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার গঠিত হওয়ার বিপদের দিকটা নির্দেশ করতে গিয়ে বিজয়ের অব্যবহিত পরেই শিক্ষাঙ্গণগুলোতে ও অন্যান্য জায়গায় এবং উপজেলা নির্বাচনে যে বল প্রয়োগের উদাহরণ তারা রেখেছেন, তার উল্লেখপূর্বক একদলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের ফ্যাসিষ্ট হয়ে উঠার সম্ভাবনা এবং উপকরণগুলোর কথা যখন বললাম, আপনার বক্তব্য হলো: সে বিষয়ে মন্তব্য করার এখনই সময় আসে নি। আহা, এই জায়গাতে এসে, আপনার এই পোষ্টটি ভীন্ন মাত্রা পায় নি:সন্দেহে। পরাশক্তির স্থানীয় দূতাবাসগুলোর সহায়তায় সুশীল সমাজ, সেনাবাহিনী, ভাড়াটে উদেষ্টামণ্ডলী ও তাদের মিডিয়া এজেণ্ট গুলোর যাবতীয় কুকর্ম ও তাদের সুবিধাভোগী আওয়ামীলীগ এর বিষয়ে আপনার যাবতীয় সন্তোষ, সুখস্মৃতি এবং আপাতত কথা না বলতে চাওয়ার বিষয়টি কৌতুহলজনকই বটে। ভাল থাকবেন।

১৪. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:১১
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: ২৯শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি যে ভুল করেছে তাতে সন্দেহ নাই। কারন ৮৬ তে এরকম অবস্থা ছিল। তখনও বিএনপি অংশ না নিয়ে প্রথমে কিছুটা কোনঠাসা ছিল। পরে প্রমান হয়েছে সেই নির্বাচনে অংশ না নেয়াটা দূরদর্শী একটি সিদ্ধান্ত।

এই নির্বাচন কোন অবস্থাতেই সুষ্ঠু নির্বাচনের মর্যাদা পেতে পারে না। ১২ তারিখে জরূরী অবস্থা উঠে যায়। তার কয়েক দিন পরে নির্বাচন। সে নির্বাচন কি করে গ্রহনযোগ্য হতে পারে। এখন সব দল অংশ নেয়ায় প্রহসনের এই নির্বাচন সব জায়গায় গ্রহনযোগ্য বলে দাবী করা হচ্ছে।

মানুষজন "না" ভোটকে গ্রহন করেনি, প্রার্থী না দেখে প্রতীক দেখে ভোট দিয়েছে। দুর্নীতিবাজদের নির্বাচিত করেছে। এই সবই প্রমান করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অজনপ্রিয়তা। বিএনপি সেটাকে কাজে লাগাতে পারে নি, এই সরকারের প্রতি আওয়ামীদের প্রচ্ছন্ন সমর্থনকে মানুষজনের সামনে তুলে ধরতে পারে নি - এটা তাদের ব্যর্থতা। এর মানে এটা নয়, কেয়ারটেকার সরকার খুব জনপ্রিয়।

বিএনপির পরাজয়ের মূল কারন তার সাংগঠনিক দুর্বলতা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছরে দলটিকে পুরো আক্রোশে নির্মূল করতে চেয়েছে। আওয়ামীদের উপর এতটা যায় নি, কারন আওয়ামীদের প্রতি তারা প্রথম থেকেই কিছুটা নমনীয়। এই দুর্বল সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে দলটির নির্বাচনে যাওয়া হয়েছে বড় ভুল। কারন নির্বাচনের ফল যা হয়েছে তা কর্মীদের মেরুদন্ড ভেংগে দি্যেছে।

দুর্নীতির পরিমান বি এন পি আমলে অন্যবারের চেয়ে কম হওয়া সত্ত্বেও মানুষজনকে বিশ্বাস করানো গেছে এই দলটিই সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ। এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ব্যর্থতাই বিএনপির অন্যতম ব্যর্থতা। এই সব তাদের বিবেচনায় এনে এই নির্বাচনে অংশ না নেয়াই তাদের জন্য সমীচীন হত।

তবে একটা লাভ হয়েছে নির্বাচনে অংশ নিয়ে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব মোটামুটি ভাবে এখন প্রতিষ্ঠিত। সুদৃঢ় নেতৃত্ব থাকলে পরবর্তীতে আর সমস্যা হবার কথা নয়। একটি দলকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত করে তার সাংগঠনিক দুর্বলতা। সেটা বুঝতে পেরে মইনের সরকার সেই জায়গাতেই হাত দিয়েছিল। ভাংগনে ইন্ধন জোগানো। সদ্য ক্ষমতা থেকে নামা দলে স্বাভাবিকভাবেই সুবিধাবাদী টাইপের লোকজন বেশী থাকে। যাদের দিয়ে অনৈক্য সৃষ্টি করা ছিল খুবই সহজ, বিশেষত যখন জরুরী অবস্থায় সবাই ইয়া নফসি ইয়া নফসি করতেই ব্যস্ত। আর সাথে সাথে দুর্নীতির ব্যপক প্রচারনাতো ছিলই।

যাক, এখন যেহেতু নেতৃত্ব সুদৃঢ় হয়েছে, সামনের সময়গুলো বিএনপির জন্য ভালই হবে।

কথাগুলো জাতে মাতালের পোস্টের প্রেক্ষিতে।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে, সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য।

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৫০

লেখক বলেছেন: আপনার কমেন্টটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

১৬. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:৩৬
রোবোট বলেছেন: উম্মু আবদুল্লাহ
৭০ ও ৭৯এ সামরিক আইনের অধীনে নিরবাচন হ্য়, আপনি জরুরী অবস্থার দোহাই দেন। এটা কি কৌতুক ছিলো নাকি? এইসব কৌতুক ক্যাতা পোস্টে দিয়েন
১৭. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৮:০০
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: ৭০ এর সময়ে পৃথিবী কেমন ছিল সে নিয়ে আমার ধারনা নেই, তবে আজকের পৃথিবীতে জরুরী আইনের নির্বাচনকে কি চোখে দেখা হয়, তা আর কেউ না জানলেও বিদেশী মোড়লরা ভাল করেই জানে। @ রোবট।
১৮. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৫
পাপারাৎজ্জি বলেছেন: কাচা খুলে লিখে যান ..আপনার সাথে আছি থাকব...well come back.

একপশে সামহয়ারইনে আপনার আরও বেশী করে লিখা উচিত....

_______________________________________

খালি এই বাক্যটার অল্টারনেটিভ টা একটু ব্যাখ্যা দিয়েন.....

বিএনপির মত রাজনৈতিক দল অদূরদর্শী জামাতের ফাঁদে পা দিয়ে উনত্রিশ তারিখের নির্বাচনে বুঁদ হয়ে থাকে...
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:৫৯

লেখক বলেছেন: য়ু আর ওয়েলকাম টু। কাচা মানে কী ভাই?

১৯. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৪
সীমান্ত আহমেদ বলেছেন: রিফাত ভাই দ্বিমতের ব্যাপারটা বলি, ওয়ান ইলেভেনের বেনিফিশিয়ারী আওয়ামী লীগ কথাটা মেনে নিতে আপত্তি। আমার মনে হয় ওয়ান ইলেভেন আওয়ামী লীগের দূর ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতির কারণ। ওয়ান ইলেভেন না হলে আওয়ামী লীগ জক=ষমতায় আসত তবে এত বিপুল ব্যবধানে না। এখন খুব বড় আশঙ্কা করছি আবারো ২০০১-২০০৬ এর পুনর্মঞ্চায়ন কিংবা ভয়াবহ ৃএকদলীয় শাসন। আমার আশঙ্কা মিথ্যা হোক মনে প্রাণে চাই। কিন্তু আপনার এই সাম্রাজ্যবাদীদের তৎপরতার ব্যাপারটা বিশ্বাস করি বলি বেশি আশাবাদী হতে পারিনি।
আর আপনার লেখাটার মাঝে জোট শাসনের দায় জামায়াতকে চাপিয়ে বিএনপিকে ভালো দেকানোর সুর শুনতে পেলাম যেন। আমার ভুলও হতে পারে।
পরিশেষে এমন একটি সময়োপযোগী সাহসী পোস্টের জন্য সাধুবাদ রইল।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:১৮

লেখক বলেছেন: সীমান্ত, বাংলাদেশে নির্বাচনের এ পর্যন্তকার ইতিহাস অনুযায়ী কোন সরকারই পরপর দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয় না, মানুষ সেক্ষেত্রে সর্বসাম্প্রতিক সরকারের মূল্যায়ন করে। তাই আপনার অনুমানটি অমূলক নয় যে, এক-এগার রেজিমের বেনিফিশিয়ারী নাহলেও আওয়ামীলীগের বিজয়ের সম্ভাবনা কম ছিল না। কিন্তু সেই বিজয় আর এই বিজয়ের তফাত হল, তখন আওয়ামীলীগকে বোঝাপড়া করতে হত জনগণের সাথে, কিন্তু এই নির্বাচনে তাদেরকে বোঝাপড়া করতে হয়েছে এগার একের রেজিম এবং পরাশক্তির স্থানীয় দূতাবাসগুলোর সাথে। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে রাখতে হয়েছে আমেরিকার নেতৃত্বে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধে শামিল হবার কর্মসূচি। এবং আমরা দেখেছি আওয়ামীলীগ এগার একের রেজিমের বৈধতা দানের ঘোষণা দিয়ে তাদের কর্তৃক বেনিফিশিয়ারী হবার ব্যাপারটা লুকোছাপা করার প্রয়োজনও বোধ করে নাই কখনো। পক্ষান্তরে নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সব সরকারী শাসনযন্ত্র এবং তাদের সহযোগী মিডিয়াপার্টনারগুলোর দ্বারা নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত সার্বক্ষণিক শত্রুতার পরিবেশে ছিল বিএনপি। এমনকি নির্বাচনের কয়েকদিন আগে আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং জুডিশিয়াল ডিপার্টমেন্টএর নামে কিছু লোক এসে কোকোর দুর্নীতির তদন্তের নামে বাংলাদেশের নির্বাচনে একটা হেজিমনিক পরিস্থিতি তৈরী করেছে। কোকোর দুর্নীতির সাফাই গাওয়া এই কথাটির উদ্দেশ্য নয়, কিন্তু একটা বিষয় খেয়ালে রাখতে বলি, দুর্নীতির সব বরপুত্র খালাস পেয়ে গেছে, এমন কি মহামহিম এরশাদ পর্যন্ত, কিন্তু মুমূর্ষ কোকোকে এখনো পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করার চেষ্টায় আছে। দুর্নীতির বিচার চাওয়ার সাথে সাথে আমাদেরকে রাজনীতির সেই চতুর মুহূর্তটি ভুলে গেলে চলবে কেন? সেই প্রতিকুল পরিস্থিতিতেও বিএনপি প্রধান যখন নির্বাচনের স্পর্শকাতর মুহূর্তেই বললেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে এই পৃথিবীকে আরো অনিরাপদ করে তোলা হয়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে, এই বিষয়ে আমরা খুবই সচেতন। তবে সেইজন্য দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কোন টাষ্টফোর্স গঠন করার প্রয়োজনীয়তা নেই। কেননা এ ধরণের কোন জোট গড়ার সঙ্গে দুর্বল রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের স্পর্শকাতর প্রসঙ্গটি অনিবার্যভাবে জড়িয়ে থাকে।.''. তখনই এই নির্বাচনে বিএনপি এবং আওয়ামী রাজনীতির দুই অভিমুখ আমাদের কাছে অষ্পষ্ট থাকে না। আওয়ামীলীগ এই নির্বাচনে জনগণকে কেবল স্থানীয় ইস্যু এবং জীর্ণ অতীতচারিতায় সংগঠিত করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু বিএনপি প্রধান ঠিকই বুঝতে পেরেছেন জাতি হিশেবে আমাদের ভবিষ্যত বৈশ্বিক পরিসরে আমাদের সঠিক অবস্থান ও ভূমিকা নির্ধারণেই নিহিত।

আপনি বলেছেন, ''আপনার লেখাটার মাঝে জোট শাসনের দায় জামায়াতকে চাপিয়ে বিএনপিকে ভালো দেকানোর সুর শুনতে পেলাম যেন''। নাহ, আপনার ধারণা সত্য নয়। জোট শাসনের দায়ভার নয়, নির্বাচনে যাওয়ার দায়ভার।

পরিশেষে, বিস্তারিত মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

২০. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৮:৪৮
রোবোট বলেছেন: উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: ৭০ এর সময়ে পৃথিবী কেমন ছিল সে নিয়ে আমার ধারনা নেই, তবে আজকের পৃথিবীতে জরুরী আইনের নির্বাচনকে কি চোখে দেখা হয়, তা আর কেউ না জানলেও বিদেশী মোড়লরা ভাল করেই জানে। @ রোবট।

উম্মু আবদুল্লাহ

বিদেশী মোড়লদের কোন আপত্তি ছিল না এ নির্বাচনে। দেশী মোড়লদেরও (পাবলিক ও আরমী) কোন আপত্তি ছিল না ।বিএনপি জামাত এবং আপনার মত দু একজন (আপনি বোধ হয় জামাত কর্মী) ছাড়া কেউ আপত্তি করেছে বলে শুনিনি। সামরিক আইনের অধীনে নির্বাচন করেও আওয়ামী লীগ ৭০ এ জিতেছিলো।
জরুরী অবস্থার দোহাই দেবেন না। অবশ্য নিজের দল হারলেই সেই নির্বাচন আপনার "নিরপেক্ষ" দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য।

বাই দ্য ওয়ে, ৭৯ এর নির্বাচন নিয়ে কিছু বললেন না?
২১. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ভোর ৫:৩৮
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: বিদেশী মোড়লদের আপত্তি না থাকাটা বেশ সন্দেহ জনক। যা আমি আমার এক পোস্টে দাবী করেছিলাম।
Click This Link

এই নির্বাচনকে অনেক আগে থেকেই আমি অগ্রহনযোগ্য বলে দাবী করেছিলাম। দেখুন Click This Link

আমি আওয়ামী লীগার না যে নির্বাচনে হারার পরে কারচুপির অভিযোগ আনব। আমি অনেক আগে থেকেই এই নির্বাচনকে মূল্যায়ন করেছি।
উপরের পোস্ট দেখুন।

ঠিক, আওয়ামী মানসিকতার সবাই এই নির্বাচন চেয়েছে। বিএনপি জামাত চায় নি। মজার ব্যপার হল, তারাও এই নির্বাচনে ৩২ ভাগ ভোট পেয়েছে। সেটা খুব কম অংশ নয়।

যাক, দেশের বাকী ৬৮ ভাগ মানুষ তো এখন ভাল আছে। সেটাই বা কম কি।

৭৯ এর নির্বাচন আমি দেখিনি। এ নিয়ে বেশী কথা শুনিও নি। পত্রিকায় পড়েছি সে নির্বাচনও ৭৩ এর মতই রিগড। জানি না আসল সত্য কি।

আর আমি কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী বা সমর্থক নই। রাজনীতি সচেতন হওয়াটা কর্মী হবার চেয়ে আলাদা।
২২. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৯:৫৬
পাপারাৎজ্জি বলেছেন: কাছা ।শব্দটি কাচা নয় কাছা হবে।আপনারই পোষ্ট আ টরচার্ড ইমেজ থেকে জেনেছিলাম।
_____________________________________________

"বিএনপির মত রাজনৈতিক দল অদূরদর্শী জামাতের ফাঁদে পা দিয়ে উনত্রিশ তারিখের নির্বাচনে বুঁদ হয়ে থাকে..."এই জিনিস টা একটু ব্যখ্যা কইরা দিয়েন।আপনে বলতে চাইসেন যে ২৯ তারিখ বিএনপি অংশ না নিলে ভাল হত তাইলে অল্টারনেটিভ টা কি ছিল বলে মনে করেন?
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৯

লেখক বলেছেন: ও। আপনার কাছা সম্পর্কিত জ্ঞান এবং আগ্রহ জেনে প্রীত হলাম। যাই হোক, বলেছি, পরাশক্তির তাবেদার রেজিমের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ আন্দোলনের যাবতীয় পরিপ্রেক্ষিত তৈরী ছিল। পরিপ্রেক্ষিতই পরবর্তী ঘটনা তৈরী করত, এটি কোন ভবিষ্যতবাণীর বিষয় নয়। পরিপ্রেক্ষিতকে গণআন্দোলনের জন্য তৈরী করা, এবং এগিয়ে নেওয়ার বিষয়।

২৩. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৫২
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: এ নিয়ে শাহীনের একটি লেখা অসম্ভব তথ্যভিত্তিক।
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:০২

লেখক বলেছেন: লিঙ্ক পেলে পড়তে সুবিধা হোত।

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১:২৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২৫. ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৫:১০
খোমেনী ইহসান বলেছেন: রিফাত, আপনার বয়ান ভালো লেগেছে।

তয় আমি একটা মজার মধ্যে আছি। ১/১১ নিয়া অনেক মানুষরে দেখতাছি তত্ত্ব-তথ্যের ঢল নামিয়ে দিচ্ছে। কার ভুল আর কার শুদ্ধ, এই সব। কিন্তু সবই শেষ পর্যন্ত তত্ত্ব।
কারণ মাঠের অভিজ্ঞতা লেখিয়ে-বলিয়েদের ক্ষেত্রে গত দুইটা বছর ঘটেনি। ঠিক '৭১ এর মতো। ১/১১ আর ৭১ নিয়া কথা বললে দেখা যায় সব কিছু ভাসা ভাসা। মানুষে মানুষে সম্পর্ক, লড়াইয়ে নামার সাহস, আপোষ না করার শক্ত ঈমান, শত্রুদের পরাজিত করতে যোদ্ধাদের প্রেম ভালোবাসা এই সবে তাই টের পাওয়া যায় না। কারণ এইটাতো মাঠে না গেলে হয় না। আমাদের দালালীর ও বিপ্লবের যে মানস কাঠামো তার দাদার তো শেষ পর্যন্ত পশ্চিমই। সেখানে ক্ষোভ, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহ হলে কী হতে পারে এমন একটা কল্পনাই আমাদের মধ্যে আছে। কিন্তু পথ-ঘাটের ধুলা-বালিতে যে কথামালা জড়িয়ে আছে তা আর জানা যায় না। ১/১১ নিয়ে তাই যে যাই বলুক না কেন আসল মর্ম কোথাও টের পাওয়া যাবে না। আমি এই কথা কেন বললাম তার নিশ্চিত একটা কারণ আছে উহ্য রাখলাম।
-----------
বাংলাদেশের ১/১১ নিয়ে এই যে পক্ষে-বিপক্ষে এতো স্লোগান হচ্ছে, পোস্ট, মন্তব্য ও স্তুতি হচ্ছে তা দেখে আমি খুব লজ্জা পাই। খোদার কসম করে বলতে পারি বাংলাদেশে উপরি কাঠামোর এই সব মানুষ যাদের লেখা-লেখি, তর্ক-বিতর্ক ও হাটা-চলায় সময়কে আমরা উপস্থাপন করি তাদের কাউকে গত দুইটা বছর তৎপরতার জায়গায় দেখা যায়নি। অথচ তারা যাদের দোহাই পেরে মুটে-মজুরের উদ্ধৃত্ত মূল্য চুরি করে সঙ্গম-সহবাস ও পন্ডিতি করে সেই সব ইউরোপিয় বুজর্গরা তাদের মাতৃভূমির ঘোর সঙ্কটে এমন তরো চুপ ছিলেন না।
গত দুইটা বছরে যারা এই যে তৎপরতা প্রদর্শন করলেন তার মধ্যে মোসাহেবী, ১/১১ এর ভারবাহী ও বিরোধিতার নামে ভন্ডামিই চোখে পড়েছে। তো একটা দেশের তাবৎ বীর পুঙ্গব বুদ্ধিজীবীকূল যদি এমন সংবেদনহীনতা দেখিয়ে সময় পার করতে পারে তাহলে জনগণতো চুপেচাপে থাকার অধিকার রাখেই।
----------
সামনে যান।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:২৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

২৬. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৪:৩০
কার্ল মার্কস বলেছেন: ভাই, যুতসই কথা কইেছন। আপনারে একখান পিলাস।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ জনাব কার্ল মার্কস, কব্বর থেকে উইঠা এত কষ্ট করে আমাকে ''পিলাস'' দিয়ে গেলেন। :)

২৭. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ১২:০২
অ রণ্য বলেছেন: সন্দেহাতীত ভাবে আপনার এই পরিসরটি আমার জন্য খুব প্রিয় পরিসর (পরিসর হবেনা হয়ত হবে বিশাল অবকাশ) হয়ে উঠেছে। শুভ কামনা রইল অনেক।
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:০৫

লেখক বলেছেন: শুভ কামনা আপনার জন্যও।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৪৯০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমরা কী দারুণ গল্পসভা কথা সাম্রাজ্যে ছিলাম
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ