আমার প্রিয় পোস্ট
- বর্ষসেরা লেখা সমাচার: মানস চৌধুরীর পোষ্ট ''দেখে'' আমার প্রতিক্রিয়া - রিফাত হাসান
- খালেদা জিয়া: দগ্ধ থেকে বিদগ্ধতা - রিফাত হাসান
- শার্লক হোমস রাজনীতিবিদগণ ও কয়েকটি বিলম্বিত নোট - রিফাত হাসান
- ল্যামপোস্টের আলোয়: আরো কিছু জরুরী কথা-বার্তা - রিফাত হাসান
- ‘জিহাদি বই’ সিন্ড্রোম, ‘শিবির’ সন্দেহে গ্রেফতার এবং অন্যান্য আলাপ - রিফাত হাসান
- রবীন্দ্রবন্দনা: রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে - রিফাত হাসান
- সামহোয়ারইনের মডারেশন নীতিমালা: একটি ভিন্ন পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
- ইতিহাস তর্কের কাইজ্যা, আদালত অবমাননা ও কুটনৈতিক শিষ্টাচার - রিফাত হাসান
- বিস্তর পরের নোট: ব্লগে আমার দুই বছর পূর্তিতে আড়মোড়া ও কিছু পুরনো আলাপ - রিফাত হাসান
- এক-এগার দ্বিতীয় পর্ব, প্রাণ প্রকৃতি ও ভূখণ্ডের উপর আমাদের নায্য হকের লড়াই এবং একটি পুলিশি রাষ্ট্রের ছায়া - রিফাত হাসান
- সরকারের প্রেসনোট, জননিরাপত্তার প্রেতাত্মা ও হিজবুত তাহরীর - রিফাত হাসান
- রাষ্ট্রের ধর্মবাসনা, দলের ভণ্ডামি, জামাত নেতৃত্বের গ্রেফতার ও অন্যান্য প্রশ্ন - রিফাত হাসান
- বাংলাদেশের 'উত্তর-ঔপনিবেশিক' বিচারকবৃন্দ: ব্লাক স্কিন, হোয়াইট মাস্কস - রিফাত হাসান
- সংবিধান মুদ্রণ ও পুনর্মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা - রিফাত হাসান
- কনষ্টিটিউশন পর্যালোচনাঃ সুরঞ্জিতের বক্তব্য অনুযায়ী বাকশাল চতুর্থ সংশোধনীও অবৈধ (পর্ব-৩) - পি মুন্সী
- আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব - রিফাত হাসান
- খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা - রিফাত হাসান
- নোটন নোটন পায়রাগুলি ও কয়েক চিরকুট নোট - রিফাত হাসান
- ভাস্কর্য বিতর্ক: কয়েকটি প্রশ্ন ও কিছু ফুটনোট - রিফাত হাসান
- বিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত হবার আমন্ত্রণ: আমি কেন গ্রহণ করতে পারছি না প্রিয় সামহোয়ারইন - রিফাত হাসান
- আ টরচার্ড ইমেজ: রেহনুমা আহমেদের ফ্যাসিবাদীতা, ভণ্ডামী ও একটি মিশ্র অনুভূতির থিওরি, তারেক রহমান ও তার মায়ের অপরাধ ও শাস্তি এবং আমাদের নারী ভাবনা - রিফাত হাসান
- একটি প্রাথমিক আলোচনার খসড়া: জামাত, জামাত বিরোধী রাজনীতির বিষয় আশয় ও যুদ্ধাপরাধ রাজনীতি - রিফাত হাসান
- ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
ইতিহাস তর্কের কাইজ্যা, আদালত অবমাননা ও কুটনৈতিক শিষ্টাচার
০৪ ঠা জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৪
কোর্ট কাছারির বিষয়-আশয় ও ইতিহাস তর্কের কাইজ্যা
এটি বেশ পুরনো বিতর্ক, সচেতন বুদ্ধিজীবি মহল, যারা রাষ্ট্র এবং আইন তৈরী হবার পর ঐটার উপরেই সব বিচারের ভরসা দিয়ে বসে থাকাটারে সুবিধাবাদিতা এবং মুর্খতা মনে করেন, তারা বিভিন্ন সময়ে এই বিষয়টিরে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ইতিহাস বিতর্কের মিমাংসা এবং কোর্ট কাছারির মিমাংসার বিষয় আশয়ের মধ্যে স্পষ্ট একটি পার্থক্য বোঝার খাতিরে। বিষয়টি শুরু করার আগে, আমার ১০ জুন ২০০৯ তারিখে লেখা একটি পোষ্টের বরাত নিতে চাই, সেই লেখাটিতে ক্ষুদ্র ব্লগীয় পরিপ্রেক্ষিতেই, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ইতিহাস-সত্য নির্ধারণ করবার সুযোগ বা এখতিয়ার একটি ব্লগ কর্তৃপক্ষ আদৌ রাখে কিনা, সেই প্রশ্ন তুলেছিলাম। সামইন কর্তৃপক্ষের একটি মন্তব্য প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আমার কথাগুলো ছিল এরকম: সামাজিক, রাজনৈতিক ও ইতিহাস-সত্য নির্ধারণ করবার সুযোগ বা এখতিয়ার একটি ব্লগ কর্তৃপক্ষ বা কোন নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক অথরিটি রাখতে পারে না। এমন কি, 'ইতিহাস বিকৃতি' বলতে যা বুঝাতে চায় সামহোয়ারইন, মোটা দলীয় অর্থে, আওয়ামীলীগ আর বিএনপির কৌতুককর ইতিহাস-বিতর্কের সাথে তা মিলে যায়। প্রসঙ্গত: দুই দলের প্রতিষ্ঠাতাকেই তারা নিজেরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক মনে করে। এই মোটা দলীয় মাপের ইতিহাস চর্চা এবং তা ব্লগারদের উপর চাপিয়ে দেওয়াটা ব্লগ কর্তৃপক্ষের জন্য উচিত কাজ হতে পারে না। এবং যদি তারা এরকম কাজ করেও, তা প্রকৃত অর্থে অসার হাস্যকর কর্মকাণ্ডে পরিগণিত হবে, এবং এর কোনকিছুই ইতিহাস-সত্য এবং সামাজিক রাজনৈতিক বিতর্কের মিমাংসার জন্য নূন্যতম কাজে লাগবে না। বরং ভবিষ্যত ইতিহাস চর্চায় হেজিমনি তৈরী করবে।
তারও আগে, বিভিন্ন লেখালেখিতে জামাত রাজনীতির বিচার প্রশ্নে, আইন ও কোর্ট কাচারির শরন নেওয়ার বিষয়েও আমরা এ বিতর্কটাকে উসকে দিতে চেয়েছি, যে, এটি আইন-কোর্ট কাছারির মাধ্যমে সমাধা হবার বিষয়, নাকি রাজনৈতিকভাবে সমাধার বিষয়। একটা রাজনীতির মোকাবেলা কি আমরা রাজনীতি দিয়ে করবো, নাকি কোর্ট কাছারির হাইকোর্ট দেখিয়ে। অর্থাৎ এই চলমান বিতর্কটি খুবই জরুরী প্রপঞ্চ হিশেবে হাজির হয়েছে সবসময় আমাদের কাছে, রাজনীতিবিদ-বুদ্ধিজীবি-আইন ব্যবসায়ী সবার মূর্খতা এবং অথবা সুবিধাবাদিতা ও ফ্যাসিবাদি মনোবিকারের কারণে। এই মনোবিকারের শিকার কখনো কখনো ‘মাননীয়’ হাইকোর্ট পর্যন্ত স্পর্শ করেছে।
এবার, গত ২১ জুন ২০০৯ তারিখে ক্ষুদ্র ব্লগীয় পরিসরে নয়, নতুন করে পুরো বাংলাদেশের সামনেই এই বিতর্কের নতুন প্রেক্ষিত তৈরী হলো, হাইকার্টের একটি বিতর্কিত রায়ের পটভূমিতে। এই তারিখে, হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ আমাদের কথিত সেইরূপ সামাজিক ও ইতিহাস বিতর্কের মিমাংসার দায়িত্ব নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে রায় দেন। আদালতের রায় ছিল এরকম: '১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দেন।' উল্লেখ্য, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ, সর্বোপরি বাংলাদেশের ইতিহাস এবং ভূখণ্ডের উপর জমিদারি করার ইচ্ছে আওয়ামীলীগের বেশ পুরনো। বঙ্গবন্ধু এবং একই সাথে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সবচেয়ে বড় ঠাট্টা সারল আওয়ামীলীগ, তাঁকে স্বাধীনতার ঘোষক বানানোর জন্য জনগণকে ‘হাইকোর্ট’ দেখিয়ে। অনেকেই এটিরে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে আওয়ামীলীগ-বিএনপির ফালতু ক্যাঁচালিতে হাইকোর্টের যোগদান হিশেবে অভিহিত করবে, এবং হাইকোর্টের মানও ক্ষুন্ন হবে নিঃসন্দেহে, যেই মান সম্মান সম্পর্কে ইদানীং আওয়ামীলীগের লোকজন এবং স্বয়ং হাইকোর্টের অনুভূতিও টনটনে। কথায় কথায় আদালত অবমাননার মামলা করেন এবং সমন জারি করেন।
যাই হোক, শেখ মুজিবুর রহমান আদৌ সেই সময় কোন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন কিনা, অথবা জিয়াউর রহমান নামের একজন সৈনিক এর অবদান ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে কতটুকু- এইসব মোটা দাগের তর্ক ইতিহাসবিদরা করুন, এই তর্কের মিমাংসা এই নোটের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু,আইন এবং কোর্ট কাচারির বিষয়-আশয় আর সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ইতিহাস বিতর্কের বিষয় আশয়ের মধ্যে যে পার্থক্য, তা একটু টুকে নেওয়াটাই এই নোটের উদ্দেশ্য। অমাদের মাননীয় হাই কোর্ট এর বিচারকগণ যদি এই বিষয়টিই খেয়ালে না রাখেন, অর্থাৎ আদালতের এখতিয়ারের চৌহদ্দিটুক সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না থাকেন, কোনটা রাজনৈতিকভাবে অথবা একাডেমিশিয়ানদের বিতর্কের মাধ্যমে সমাধা হবার বিষয়, আর কোনটা কোর্ট কাছারির মাধ্যমে সমাধা হবার বিষয়, তাহলে তারা এই মোটা দলীয় মাপের ইতিহাস রচনার কাজেই ব্যবহৃত হবেন, স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছেকৃতভাবে। স্বেচ্ছায় হবার সম্ভাবনাও যথেষ্ট আছে, মাননীয় হাইকোর্টের যাবতীয় ভাবমূর্তির প্রতি নাগরিক হিশেবে ’উচিত শ্রদ্ধা’ অক্ষুন্ন রেখেই এই সন্দেহ। কারণ, দলীয় বিবেচনায় বিচারক নিয়োগের ঘটনা বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে কলুষিত করেছে বেশ আগেই, এমনকি কয়েকদিন আগে হাইকোর্টে যে নিয়োগ ঘটেছে, তাও মূলত আওয়ামী-ছাত্রলীগের হাইকোর্ট এক্সপানশন মনে হয়েছে সচেতন মহলের।
অথঃ আদালত অবমাননা সমাচার: ‘বিকৃত মস্তিস্ক’ আর ‘অপদার্থ’র ধারণা ও ‘মাননীয়’ হাইকোর্ট
‘আদালত অবমাননা’ নামে একটা বিষয় বেশ আলোচিত হচ্ছে হাই কোর্টের এই বিতর্কিত রায়ের পর থেকেই। উপরেই বলেছি, আওয়ামীলীগের লোকজন এবং স্বয়ং হাইকোর্টের অনুভূতিও এখন এই বিষয়ে বেশ টনটনে। বিষয়টি শুরু হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি কমেন্টারির পর থেকে। প্রথম আলোতে প্রকাশিত তাঁর লেখার শিরোনাম ছিল: ’বিচারপতিদের কাজ কি বিচারপতিসুলভ হয়েছে?’। আদালত অবমাননার দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে সমন জারি হল। এমাজউদ্দীন সাহেবের এই লেখাটি পড়ে আমার এই অমায়িক বর্ষিয়ান ভাল-ভদ্রলোকের বুড়ো বয়সের সুবিধাবাদিতা এবং আদালতের প্রতি তাঁর অভিমানের কারণে করুণা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু যখন তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দায়ে সমন জারি হল, বড়ো চমকে ওঠার পালা। পত্রিকার খবরে প্রকাশ, এই মামলার বাদী আদালতের কাছে এই বলে নালিশ করেছেন যে, ‘বিড়ালের গলায় প্রথম রাত্রেই ঘণ্টা বাঁধতে হবে’। ভাল রসিক বটেন ভদ্রলোক। এবং আদালতও, তৎক্ষনাৎ এই উঁচুমাত্রার রসিকতা অথবা ফ্যাসিবাদি মনের সমঝদার এবং সহযোগী হয়ে সমন জারি করলেন যাতে এই ‘বেচারা সাবেক উপাচার্যরূপি বেড়ালের গলা’য় ঘণ্টা প্রথম রাতেই বাঁধা যায়। আজব নয় বৈকি! কারণ এতে আজব হলে ‘মাননীয়’ আদালতের এর পরের আচরণে আজব হবার ক্ষমতা আপনি হারাবেন। পরবর্তীতে বিএনপি নেতা ’ব্যরিষ্টার’ নাজমুল হুদা ও জামাত নেতা কামারুজ্জামান এর বিরুদ্ধে একই ধরণের ‘আদালত অবমাননা’র মামলা হলো। পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ‘মাননীয়’ আদালত এই মামলা গ্রহণ না করে যা বলেছেন, রাষ্ট্রের নাগরিক সম্পর্কে সেই 'ঠাট্টা’র ভাষা একটি দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে শুনতে পারা একটি জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনকই বটে। হাইকোর্টের দায়িত্ব হল সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা এবং নিশ্চিত করা, তা ক্ষুণœ করা মানে হল সংবিধানের জোরে হাইকোর্ট যে নৈতিক কর্তৃত্ব পায় আদেশ দেবার, সেটি নষ্ট হওয়া। পত্রিকায় প্রকাশ, আদালত এই মামলাটি না নেওয়ার কারণ হিশেবে বলেছেন, যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তাঁরা বিকৃত মস্তিষ্ক এবং অপদার্থ। তাঁরা বহির্বিশ্বের একটি মামলার রায়ের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, বিকৃত মস্তিষ্ক এবং অপদার্থ-র বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা চলে না, যার আদালত অবমাননা বিষয়েই কোন ধারণা নেই। আল্লাহ তাদের হেদায়াত করুন। আমার একটু সন্দেহ ছিল, এমন ভালগার মন্তব্যের হুবহু পুরোটা কি সত্যিই ‘মাননীয়’ আদালত করেছেন, নাকি কোর্টের স্পোকসম্যান হিশেবে যেই ভদ্রলোক সেদিন মিডিয়ার সামনে কথা বলেছেন, সেই বাদির আইনজীবির অতিকথন । যাই হোক, কোর্ট তাদের জন্য আল্লাহর কাছে হেদায়াত চেয়েছেন। আমরাও দোয়া করতে পারি, আল্লাহ, জগতের সকল অজ্ঞানকে হেদায়াত করুন আর হাইকোর্টকে মুক্তি দিন তাদের বিচারিক কাজকর্ম থেকে, তাঁরা তো আপনারই কাছে হেদায়াত চেয়েছেন, বিচারের মত জটিল কাজ তাঁদের ঘাড়ে চাপিয়ে তুমি বড় অন্যায় করেছো। আমেন। (নাজমুল হুদা একজন সিনিয়র আইনজীবী এবং কামারুজ্জামান দীর্ঘদিন রাজনীতি করা ঘাঘু লোক- ‘মাননীয়’ আদালত তাদেরকে ‘নাদান’ এবং ‘মুর্খ’ বলে মামলা বাতিল যদি করে দেন, তাহলে আমরা সাধারণ জনগণ যারা ‘আইন’ সম্পর্কে অকাটমুর্খ, তাদের বিরুদ্ধে সকল মামলাও, মাননীয় হাইকোর্ট, স্রেফ আল্লাহর দরবারে হেদায়াত চেয়ে, অবিলম্বে বাতিল করে দিন। আমেন। সংবিধানের প্রশ্ন তুলবো না। এটিতো আরো জটিল জিনিশ। এটিও আল্লাই রক্ষা করবেন।)
সর্বশেষ: কুটনৈতিক শিষ্টাচার
আমাদের মন্ত্রীবর্গ কুটনৈতিক শিষ্ঠাচার একদমই জানেন না। বিশেষ করে, ডা. দীপুমণি। তিনি কোন আক্কেলে বললেন: পিনাবাবু ‘হ-য়-তো’ সেদিন কুটনৈতিক শিষ্ঠাচার ভঙ্গ করেছেন। সৈয়দ আশরাফুল হকের এই জ্ঞান মারাত্মক। তিনি এ বিষয়টিরেই নাকচ রে দিয়ে বলেছেন যে, বিদেশের কুটনীতিকরা সবসময়ই আমাদের ব্যাপারে ’খোলামেলা’ আলোচনা করে থাকেন আন্তরিকতাভরে। আল্লাহ দীপুমণিকেও হেদায়েত করুন। আমেন। আল্লাহ আমাদের সর্বময় দায়িত্ব নিয়ে নিন।
এ সম্পর্কিত আর একটি জরুরী লেখার লিঙ্ক
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৫১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: পাছে যদি আদালত অবমাননার দায়ে পড়তে হয়!!
ত্রিভুজ বলেছেন:
আদালত অবমাননার দায় থেকে বাঁচতে কিছু আর বললাম না....
লেখক বলেছেন: হুম। চুপ। থাকা। নিরাপদ।
আল্লাহ তাদের হেদায়াত করুন।
আমরাও দোয়া করতে পারি, আল্লাহ, জগতের সকল অজ্ঞানকে হেদায়াত করুন আর হাইকোর্টকে মুক্তি দিন তাদের বিচারিক কাজকর্ম থেকে, তাঁরা তো আপনারই কাছে হেদায়াত চেয়েছেন, বিচারের মত জটিল কাজ তাঁদের ঘাড়ে চাপিয়ে তুমি বড় অন্যায় করেছো। আমেন।
(নাজমুল হুদা একজন সিনিয়র আইনজীবী এবং কামারুজ্জামান দীর্ঘদিন রাজনীতি করা ঘাঘু লোক- ‘মাননীয়’ আদালত তাদেরকে ‘নাদান’ এবং ‘মুর্খ’ বলে মামলা বাতিল যদি করে দেন, তাহলে আমরা সাধারণ জনগণ যারা ‘আইন’ সম্পর্কে অকাটমুর্খ, তাদের বিরুদ্ধে সকল মামলাও, মাননীয় হাইকোর্ট, স্রেফ আল্লাহর দরবারে হেদায়াত চেয়ে, অবিলম্বে বাতিল করে দিন। আমেন। সংবিধানের প্রশ্ন তুলবো না। এটিতো আরো জটিল জিনিশ। এটিও আল্লাই রক্ষা করবেন।)
আল্লাহ
‘হ-য়-তো’ দীপুমণিকেও
হেদায়েত করুন। আমেন। আল্লাহ আমাদের সর্বময় দায়িত্ব নিয়ে নিন।
লেখক বলেছেন: আল্লাহ আমাদের সর্বময় দায়িত্ব নিয়ে নিন।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
মুরগিদের সফল মারামারির শেষে দেখা যায় কারো গায়ে কোনো পালক আর অবশিষ্ঠ নাই। বাংলাদেশের বুর্জোয়া স্ট্যাবলিশমেন্টের প্রতিটি খুঁটিই এখন পরস্পরকে অকেজো করায় মোটামুটি সফল। এদের মুক্তিযুদ্ধ, এদের সংবিধান এদের আইন আর এদের গণতন্ত্র সব সমেত রাষ্ট্রটা অনিবার্য ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে, এরকম রাষ্ট্র রাষ্ট্র না। ভাল লিখেছেন রিফাত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফারুক ওয়াসিফ।
মগ্নতা বলেছেন:
আল্লা সব্বাইরে হেদায়েত করুন।
লেখক বলেছেন: হুম।
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
অসম্ভব সুন্দর লিখেছেন| পোষ্টে প্লাস|আদালতের "মানহানি" ব্যারাম হয়েছে|
এক মামলায় তিনজনকে তলব| কয়েক কোটি লোক বলছে, এই রায় হল সরকারী দলকে বিচারপতিদের উপঢৌকিন!
বিচারপতি'রা কতজনকে আদালাতে ডাকবে...??
আমাদের বিচারপতিরা একাধারে বিচারক, ইতিহাসবেত্তা এব: সাইকিয়াট্রিষ্টও বটে.......। হে রাম.........
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনারে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
আবদুল ওয়াহিদ বলেছেন:
ভাই পরে মন্তব্য করব। বন্ধুর বিয়ে থেকে আসলাম। তাদের জন্য দোয়া করবেন। কারো মা-বাপ রাজি নাই। আইন মেনে বিয়ে।
+
লেখক বলেছেন: হাহাহ। দোয়া। আমিও মিস করলাম।
অলস ছেলে বলেছেন:
এত সুন্দর লেখা, পড়তে পড়তে দু:খের সাথে হাসলাম অনেক।
লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য পড়তে পড়তে দু:খের সাথে হাসলাম অনেক।
মার্ক জুবাবের বলেছেন:
যাবতীয় ঝুকি নিয়েই বলতে চাইঃ আদালতের উচিত তার এখতিয়ার এবং সীমানা নিয়ে সম্যক ধারনা রাখা। ইতিহাসবিদ গবেষক এবং বিশেষজ্ঞদের তাদের কাজ করতে দেওয়া উচিত।পোষ্ট ভাল লেগেছে। রিফাত হাসানকে ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: মার্ক জুবাবেরকেও অশেষ ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: নিয়ে নিন।
ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন:
মাইনাস দিয়েছি।কেননা, পাবলিক লিটিগেশনের অধীনে আদালত দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি রক্ষার নির্দেশ অবশ্যই দিতে পারেন।
তবে, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমরা কিছু চরম নোংরা রাজনীতিবিদ পেয়েছি, যারা নিজেদের রাজনীতির স্বার্থে নিজের বাবাকেও অস্বীকার করতে পারে।
লেখক বলেছেন: জনাব, আপনারে বহুত জ্ঞানী মানুষ বইলা মনে হল, কারণ অন্তত পাবলিক লিটিগেশন টার্মটা জানেন বা শুনেছেন। এখন কথা হলো, পাবলিক লিটিগেশনের অধীনে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি রক্ষা- এই ব্যাপারটার কী মানে বুঝেন আপনি? দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি রক্ষা- এই বাক্যটার সাথে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এইসব নির্ধারণ করে দেওয়ার যে মৌলিক তফাত আছে- তা অবশ্যই আমি আপনার থেকে নাদান হয়েও মোটামোটি বুঝেছি। আমাদের হাইকোর্ট এর মাননীয় বিচারকগণ আপনার মত টেক্সট মুখস্ত কইরা মৌলভী হইছেনতো, তাই টেক্সট এর যথা-শব্দ অর্থ বুইঝা নেন, টেক্সটের মর্ম উদঘাটন করতে পারেন না। অবশ্যই ওইটা বুঝার জন্য দুইটা জিনিশ লাগে। এক. ঠিকমতো পড়ালেখা, দুই. নন পার্টিজান হওয়া। আমাদের হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টে যারা বিচার কার্য করে থাকেন, তাদের বেশীর ভাগই এই দুই ব্যাপারেই বকলম। 'মাননীয়' হাইকোর্টের যাবতীয় ভাবমূর্তির প্রতি নাগরিক হিশেবে ’উচিত শ্রদ্ধা’ অক্ষুন্ন রেখেই বলছি।
লেখক বলেছেন: আর, আপনার দ্বিতীয় বাক্যটি যদি জাতির বাবা সংক্রান্ত হয়, তাহলে বলব, এটি বাবা সংক্রান্ত আলোচনা নয়। আর এ বিষয়ে আমার কোন আগ্রহ নেই, যতক্ষণ না হাইকোর্ট বা অন্য কেউ ঐটারে আমার উপরে চাপিয়ে দিতে না আসে।
আমআঁটিরভেঁপু বলেছেন:
আজ প্রথম কোথাও মন্তব্য করার সুযোগ হল। আপনার লেখাগুলো আমার বেশ ভাল লাগে। শিখতে পারি অনেক কিছু।
লেখা বিষয়ে পরে মন্তব্যিয়ে যাব।
লেখক বলেছেন: অবশ্যই মন্তব্যিয়ে যাবেন। খুশি হবো।
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
পড়লাম। বোঝার চেষ্টা করছি বিষয়টা...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনার মন্তব্য পেলে খুশি হবো।
ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন:
ভাইজান, আমি অবশ্য আপনার মত এত বেশি বুঝনেওয়ালা লোক না। আপনার মত এত বেশি বোঝার ইচ্ছেও আমার নেই।তারপরও বলছি, হাইকোর্ট ডিভিশন শুধু যেটুকু সত্য, অর্থাৎ যে ইতিহাসটুকু সত্যিকারার্থেই ঘটেছে, সেটুকু রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে করে কোন কুলাঙ্গার ইতিহাস বিকৃতির মত নোংরা খেলায় মত্ত হবার আগে ভেবে দেখে। আর জনস্বার্থে আদালত আদালত যথাযথভাবে ইতিহাস রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। যে জাতি তাঁর ইতিহাস থেকে বিচ্যু হয় কিংবা ভুলভাবে ইতিহাস পাঠ করে, তার সামনে যে অন্ধকার থাকে, তা নিশ্চয়ই আপনার মত অধিক বুঝনেওয়ালা মানুষকে বুঝিয়ে দিতে হবে না।
আর আমি জাতির বাবা সংক্রান্ত কোন কথা বলিনি। আমি বোঝাতে চেয়েছে যে, রাজনীতির স্বার্থে মানুষ সব ধরনের নোংরামিই করতে পারে।
লেখক বলেছেন: দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ''রক্ষা''- এই বাক্যটার সাথে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এইসব ''নির্ধারণ করে দেওয়া''র যে মৌলিক তফাত আছে- সেই বিষয়টি পরিস্কার হলো না।
মুসতাইন জহির বলেছেন:
ও আইচ্ছা এইটা তাইলে পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশনে আইসা ঠেকছে। ভালা ভালা..বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে বা সংবিধানে মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য যে বিহিত প্রার্থনা (পড়তে হবে কিনে নেওয়া, কেননা রিট করতে কমসে কম পয়লা ধাক্কায় লাখ দুয়েক টাকা লাগে। হাইকোর্টের খরচা বাবদ। হেইটা দিয়া রিট কইরা নিজের নাগরিক অধিকার (পড়তে হবে অস্তিত্ব) রক্ষা করার সুযোগ বাংলাদেশে লাখ দুয়েক লোকের অধিক হবে না। এদর নিয়েই বাংলার উচ্চ আদালত। বাকিরা ফাও। তারা আইনের নীচে বাস করে। আর রিট করতে সক্ষম কাবিলরা আইনের উপর বইসা থাকে, মানে কেতাবি ভাষায় আইনের আশ্রয়ে থাকে। তাই তাদের হাজতে বাস করতে হয়না, তারা সুশীল সমাজে সাতার কাটে।) করার ব্যবস্থা তথা রিট তা ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তিনি সংক্ষুব্ধ বলিয়া প্রতিয়মান হইলে তা 'উচ্চ আদালতে'র গোচরে আনেন।
কিন্ত, দুনিয়াব্যাপি আজকাল পরিবেশ, বিশেষত প্রাণ ও প্রকৃতির লড়াইয়ের প্রশ্নটি সামনে চলে আসায় পুরানো হেবিয়াস কর্পাসের আওতা আর যথেষ্ট বলে পরিগণিত হচ্ছে না। সেখানে কালেকটিভ ডেমেজে এর প্রশ্ন থাকলে সেটা জনস্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার কথা উঠেছে। অনেক দেশে আইনও হয়েছে। বাংলাদেশের প্রয়াত পরিবেশ আন্দোলন কর্মী মহিউদ্দিনের একটি মামলায় এই প্রশ্নটি উঠে ছিল। সেটাও এখনো পরিষ্কার কোনো সুরাহা হয়নি। কেস ল'ও নাই।
তারপর আসে এর আওতা বিষয়ক আলোচনা। পাবলিক ইনটারেস্ট বা জনস্বার্থের সাধারন ক্রাইটেরিয়াতেই ইতিহাসের কোনো সত্য-মিথ্যা বা রাজনৈতিক-আদর্শিক তর্ক মিমাংসার সুযোগ নাই। এইখানে জনগনেল ক্ষতি বা স্বার্থের জন্য হুমকি হিসেবে একে নির্ধারণের জন্য মানদন্ড ঠিক হবে কিভাবে? আইনের ভাষায় কি দ্বঅরা কনসটিটিউট হবে এই ডেমেজ। এর জন্য প্রায়র কোনো সোশাল স্টাড়ি রেজাল্ট কিভাবে তুলে ধরা সম্ভব? যেমনটা পরিবেশ বা এজাতীয় বিষয়ের বেলায় সাইন্টিফিক বেসিসের উপর খাড়া থাকে।
লেখক বলেছেন: হেবিয়াস কর্পাসের আওতা নিয়ে গণ্ডগোলটা এখনো অমিমাংসিত। আর পাবলিক ইনটারেস্ট বা জনস্বার্থের সাধারন ক্রাইটেরিয়াতেই ইতিহাসের কোনো সত্য-মিথ্যা বা রাজনৈতিক-আদর্শিক তর্ক মিমাংসার সুযোগ নাই।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















"বিচারপতিদের কাজ কি বিচারপতিসুলভ হয়েছে?"---হাহাহা...এমাজ উদ্দিন স্যারের কথা বাদ দিলাম, একবার সিনিয়র আইনজীবি ব্যারিস্টার রফিকুল হক বলেছিলেন, আমাদের দেশের বিচারপতিরা নিজেদের এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যে আল্লাহ, রাসুল এর পরেই তৃতীয় অবস্থানে নিজেদের বিবেচনা করেন।
আমি আর নিজেথেকে কিছু বললাম না, পাছে যদি আদালত অবমাননার দায়ে পড়তে হয়?