আমার প্রিয় পোস্ট
- বর্ষসেরা লেখা সমাচার: মানস চৌধুরীর পোষ্ট ''দেখে'' আমার প্রতিক্রিয়া - রিফাত হাসান
- খালেদা জিয়া: দগ্ধ থেকে বিদগ্ধতা - রিফাত হাসান
- শার্লক হোমস রাজনীতিবিদগণ ও কয়েকটি বিলম্বিত নোট - রিফাত হাসান
- ল্যামপোস্টের আলোয়: আরো কিছু জরুরী কথা-বার্তা - রিফাত হাসান
- ‘জিহাদি বই’ সিন্ড্রোম, ‘শিবির’ সন্দেহে গ্রেফতার এবং অন্যান্য আলাপ - রিফাত হাসান
- রবীন্দ্রবন্দনা: রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে - রিফাত হাসান
- সামহোয়ারইনের মডারেশন নীতিমালা: একটি ভিন্ন পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
- ইতিহাস তর্কের কাইজ্যা, আদালত অবমাননা ও কুটনৈতিক শিষ্টাচার - রিফাত হাসান
- বিস্তর পরের নোট: ব্লগে আমার দুই বছর পূর্তিতে আড়মোড়া ও কিছু পুরনো আলাপ - রিফাত হাসান
- এক-এগার দ্বিতীয় পর্ব, প্রাণ প্রকৃতি ও ভূখণ্ডের উপর আমাদের নায্য হকের লড়াই এবং একটি পুলিশি রাষ্ট্রের ছায়া - রিফাত হাসান
- সরকারের প্রেসনোট, জননিরাপত্তার প্রেতাত্মা ও হিজবুত তাহরীর - রিফাত হাসান
- রাষ্ট্রের ধর্মবাসনা, দলের ভণ্ডামি, জামাত নেতৃত্বের গ্রেফতার ও অন্যান্য প্রশ্ন - রিফাত হাসান
- বাংলাদেশের 'উত্তর-ঔপনিবেশিক' বিচারকবৃন্দ: ব্লাক স্কিন, হোয়াইট মাস্কস - রিফাত হাসান
- সংবিধান মুদ্রণ ও পুনর্মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা - রিফাত হাসান
- কনষ্টিটিউশন পর্যালোচনাঃ সুরঞ্জিতের বক্তব্য অনুযায়ী বাকশাল চতুর্থ সংশোধনীও অবৈধ (পর্ব-৩) - পি মুন্সী
- আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব - রিফাত হাসান
- খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা - রিফাত হাসান
- নোটন নোটন পায়রাগুলি ও কয়েক চিরকুট নোট - রিফাত হাসান
- ভাস্কর্য বিতর্ক: কয়েকটি প্রশ্ন ও কিছু ফুটনোট - রিফাত হাসান
- বিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত হবার আমন্ত্রণ: আমি কেন গ্রহণ করতে পারছি না প্রিয় সামহোয়ারইন - রিফাত হাসান
- আ টরচার্ড ইমেজ: রেহনুমা আহমেদের ফ্যাসিবাদীতা, ভণ্ডামী ও একটি মিশ্র অনুভূতির থিওরি, তারেক রহমান ও তার মায়ের অপরাধ ও শাস্তি এবং আমাদের নারী ভাবনা - রিফাত হাসান
- একটি প্রাথমিক আলোচনার খসড়া: জামাত, জামাত বিরোধী রাজনীতির বিষয় আশয় ও যুদ্ধাপরাধ রাজনীতি - রিফাত হাসান
- ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
ল্যামপোস্টের আলোয়: আরো কিছু জরুরী কথা-বার্তা
১১ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১:৫২
টিপাইমুখ বাঁধ, প্রথম আলো, ল্যামপোস্ট এইসব বিষয়ে দারুণ বিতর্ক হয়ে গেলো ব্লগে। এইজন্য বন্ধু ফারুক ওয়াসিফ আর মঞ্জুরুল হককে ধন্যবাদ দেওয়া প্রয়োজন প্রথমে। তাদের লেখাগুলোর সূত্র ধরেই এই বিতর্ক ব্লগে প্রাণবন্ততা পেয়েছে। আমি আরো কিছু কথা যোগ করছি:
১. বেশীরভাগ ব্লগারই প্রথম আলোর সেদিনের সংবাদ-সূত্র বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মানে হোল, ল্যামপোষ্টের কর্মীরা চরমপন্থি দলরে সমর্থন করে, এই বিষয়টি প্রমাণ হলেই না তারপর প্রথম আলো/শাসকগোষ্ঠির হামলা ও ক্রসফায়ার জায়েজ হবে, এর আগে নয়। তাই নাকি? এই প্রশ্ন থেকেই একজন পত্রিকার লোক ব্লগারদেরকে পরামর্শ দিয়ে গেলেন যে, প্রথম আলোর এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে যদি কারো তথ্য থাকে, তাহলে সে যেন তা উল্লেখ করে পত্রিকায় প্রতিবাদ পাঠায়, যদি কারো সেই সাহস থাকে। কারণ, মহান জাফর ইকবালকে তো প্রথম আলো সম্পাদক চরমপন্থি ও জঙ্গী আখ্যা দেন নাই, অথচ তিনিওতো টিপাইমুখ বাঁধকে পছন্দ করেন না। এই চরম ফাজলামোপূর্ণ মতামতটা তৈরী হলো এজন্য যে, এ বিষয়ক ব্লগারদের আম প্রতিক্রিয়ার গন্তব্য রিপোর্টের সত্যাসত্য নির্ণয়ের তর্কে পরিণতি লাভ করলো, এর রাজনীতিটারে উল্লেখিত পত্রিকার লোক এবং যারা এ বিষয়ে মশগুল- তারা দেখতেই জানল না। টিপাইমুখের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর প্রতিবাদ সংবাদ থেকে হারিয়ে গেল, এমনকি সেটি সংবাদই হলো না, রহস্য-উপন্যাসের ঘটনাতে পর্যবসিত করল প্রথম আলোর ধূর্ত শার্লক-হোমসগিরি এবং নিপীড়ক শাসক গোষ্ঠির দালালী।
২. একজন ব্লগার দেখলাম ব্লগে টিপাইমুখ বিষয়ক বিতর্কে তার ভাষায়, 'এক প্রাক্তন ছাত্রদল নেতা, বর্তমানে মার্কসিস্ট' এবং 'একজন প্রাক্তন শিবিরকর্মী' বা 'জেএমবি' জড়িত হওয়ার কারণে এর নৈতিকতার দিক হারিয়েছে- এই বলে ফতোয়া দিয়ে গেলেন বিভিন্ন পোস্টে। ভালো কথা, টিপাইমুখএর বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ তার মনোপলি কাদের আছে বলে তিনি মনে করেন? মানলাম, বিএনপি, জামাত এবং মার্কসিস্টরা সেই অধিকার রাখেন না। তাহলে কারা? আওয়ামীলীগ? প্রসঙ্গত: আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই ইস্যুতে যারাই সংগঠিত হবে এবং এর জন্য কাজ করবে, জামাত-জেএমবি, চরমপন্থি- নির্দিষ্ট ইস্যুতে তাদেরকে সমর্থন করতে আমার কোন নৈতিক বাঁধা নেই। কারো কারে ব্যাপারে 'আইনি' বাঁধা থাকতে পারে, কিন্তু যারা আইন বদলানোর লড়াইয়ে লিপ্ত, তাদের কাছে এই বাঁধা তুচ্ছ। তার চেয়েও বড়ো কথা, বর্তমান শাসকগোষ্ঠির ফ্যাসিবাদিতা যে কোন প্রতিবাদকে আইনি বাঁধারও বহু আগের স্তরে টুটি টিপে ধরে। আইনের জন্য অপেক্ষা করে না।
৩. টিপাইমুখ বাঁধ, ফারাক্কা, তালপট্টিদখল বা বিএসএফ এর খুনোখুনি এইসবের প্রতিবাদ বা বিরোধিতা করতে গিয়ে আমরা যাতে 'ভারত' বা কোন একটি 'জাতিগোষ্ঠি'র প্রতি ঘৃণা এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির গহ্বরে সচেতন বা অচেতনে পতিত না হই- সে খেয়াল রেখেই আমাদের এ প্রতিবাদ করে যেতে হবে।
৪. আচ্ছা, বলুনতো এই বিতর্ক কি প্রথম আলোতেই থিতু হয়ে যাওয়ার বিষয়, নাকি এর আরো বড়ো প্রেক্ষিত থাকা প্রয়োজন? টিপাইমুখে বাঁধের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ একই সাথে মার্কিন-ভারতীয় আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠি এবং তাদের সহযোগী বেয়াদপ মিডিয়ার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও লড়াই নয় কি? এবং একই সাথে এটি কি প্রাণ-প্রকৃতি ও জীবন বাঁচানোর লড়াই নয় কি?
৫. টিপাইমুখ বাঁধবিরোধী আন্দোলনের আরো অন্তর্গত দর্শন বিষয়ে দার্শনিক ফরহাদ মজহার চমৎকার কথা বলেছেন: সম্ভবত টিপাইমুখ ও পানির ওপর জনগণ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, জলজ প্রাণীর অধিকার আদায়ের লড়াই উপমহাদেশে নতুন বিপ্লবী রাজনীতির সূচনা করবে। যার খানিক ইশারা আমরা মওলানা ভাসানীর ফারাক্কার বিরুদ্ধে লংমার্চে দেখেছিলাম। মওলানার পরিবেশ আন্দোলনকে নিছকই ‘আধুনিক’ পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করলে চলবে না। তিনি জানতেন ‘আধুনিকতা’ ও ‘সাম্রাজ্যবাদ’ সমার্থক। তিনি তাঁর আন্দোলনকে বরং আরো গভীর আন্তরিক তাগিদ ও সৃষ্টির প্রতি গভীর মমতা ও ভালবাসার ওপর প্রতিষ্ঠিত করবার শিক্ষা আমাদের দিয়েছেন। তাঁর ভাষায় এর নাম ‘রবুবিয়াত’ বা বিশ্বপালনকর্তার স্বভাব আয়ত্ত করে প্রাণ, প্রাণের শর্ত ও পরিবেশ রক্ষা করা। পানির ওপর শুধু মানুষের ‘হক’ নাই প্রতিটি প্রাণীর প্রতিটি তুচ্ছাতিতুচ্ছ প্রাণীটিরও ‘হক’ আছে। সেই হক আদায় করার মধ্যদিয়েই মানুষ দীন বা ধর্মের পথে কামিয়াব হয়। টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে যাঁরা আহত ও নির্যাতিত হয়েছে, তাঁদের প্রতি আমার সংহতি ও সমবেদনা। নিন্দা করি জালিমদের এবং একই সঙ্গে তাদের করুণাও করি বটে কারণ বধির তারা। তাদের ধ্বংসের ঘন্টা বেজে উঠেছে যার আওয়াজ তাদের কানে এখনো প্রবেশ করে নি।
ফারুক ওয়াসিফের লেখার লিঙ্ক: অডিসিয়াস ল্যাম্পপোস্ট ও বিসর্জিত দীপুমণি : আত্মবলিদানের প্রথম ধাপে যারা
মঞ্জুরুল হকের লেখার লিঙ্ক: "ল্যাম্পপোস্ট"কে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে কারা? কোন দূরভিসন্ধিতে?
ব্লগের বাইরে, ফরহাদ মজহারের লেখার লিঙ্ক, যেটি আমি এখানে শেয়ার করেছি: টিপাইমুখ বাঁধবিরোধী সংগ্রাম সফল হোক: একটি আহবান
প্রথম আলো বিষয়ে আমার আগের একটি আলাপ পোস্ট: প্রথম আলোর সাম্প্রতিক সংখ্যাগুলো কি কেউ খেয়াল করে পড়েছেন?
বিডিআর বিদ্রোহ বিষয়ে একটি পুরনো লেখা: আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। "প্রাণ, প্রাণের শর্ত ও পরিবেশ রক্ষা করা"- এক্ষণে আমাদের খুব জরুরী কাজ বলে মনে করি আমিও।
সরকার সেলিম বলেছেন:
এই ইস্যুতে যারাই সংগঠিত হবে এবং এর জন্য কাজ করবে, জামাত-জেএমবি, চরমপন্থি- নির্দিষ্ট ইস্যুতে তাদেরকে সমর্থন করতে আমার কোন নৈতিক বাঁধা নেই।
লেখক বলেছেন: সেটাই।
লেখক বলেছেন: ফারহান দাউদ, আমার উপরোক্ত লেখার পরিপ্রেক্ষিতে আপনার এই মন্তব্যটি বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে। এখন কি আপনার এই মন্তব্যটির সত্যাসত্য নির্ণয়ের জন্য হলদে ডানার বিরুদ্ধে প্রথম আলোর মতো 'অনুসন্ধানি রিপোর্টিং' পছন্দ করবেন, নাকি পোস্টে উত্থাপিত বিষয়গুলি নিয়ে আপনার অবস্থান জানিয়ে আমাদেরকে কৃতার্থ করবেন। বিশেষতঃ মঞ্জুরুল হকের পোস্টে আমাদের কারুরই অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। এবং এই ধরণের অবস্থান নিয়ে আলোচনাটারে আমি ফালতু আবেগ নির্ভর মনে করি, যেটি আলোচনার ক্ষেত্রে অনর্থ ও হেজিমনি তৈরী করে। ভাল থাকবেন।
একজন সুখীমানুষ বলেছেন:
ফারহান দাউদ বলেছেন: যদিও টিপাইমুখ ইস্যুতে প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে, তবে হলদে ডানা টাইপ স্বঘোষিত রাজাকারদের সম্পৃক্তিই প্রথম আলোর মত দালালদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়সহমত
লেখক বলেছেন: ফারহানকে দেওয়া আমার উত্তরটি অনুগ্রহভরে দেখুন।
মেঘ দূত বলেছেন:
দারুন হলো
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
সেতূ বলেছেন:
@একজন সুখীমানুষ বলেছেন:@ ফারহান দাউদ বলেছেন: যদিও টিপাইমুখ ইস্যুতে প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে, তবে হলদে ডানা টাইপ স্বঘোষিত রাজাকারদের সম্পৃক্তিই প্রথম আলোর মত দালালদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়
সহমত
লেখক বলেছেন: ফারহানকে দেওয়া আমার উত্তরটি অনুগ্রহভরে দেখুন।
হলদে ডানা বলেছেন:
প্রাণ ও পরিবেশ রক্ষায় টিপাইমুখ বাধ রুখতে হবে। এ আন্দোলনকে যারাই প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করব, তাদেরকেই বর্জন করতে হবে। ফারাক্কার করুণ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি অস্তিত্বের স্বার্থেই রুখতে হবে।
লেখক বলেছেন: ফারাক্কার করুণ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি অস্তিত্বের স্বার্থেই রুখতে হবে। সেটাই।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
ফারহান দাউদের মন্তব্যে ঝাজা। আরেকটা কথা বলি সরকার সেলিম যেটা লেখকের ২ নং অনুচ্ছেদের কিছু অংশ কোট কইরা বলছেন। এই ব্যাপারে আমার ভিন্ন পাঠ। একটা নৈতিক ইস্যুতে জামাত-জেএমবি-চরমপন্থীদের জড়িত হওয়ার মূল উদ্দেশ্যটা আসলে কি সেইটা নিয়া ভাবতে দোষ কি বলেন তো! আমি যদি জানিই এই দলগুলা যারা আমাদের স্বাধীনতাই স্বীকার করে না, এর মূল ভিত্তিগুলারে অস্বীকার করে প্রতিনিয়ত, তাদের মূল লক্ষ্য যা তা অবশ্যই ভিন্ন ধরণের, তাহলে কেনো আমি তারে নৈতিক সমর্থন দিবো? লেখক বলেছেন: জামাত-জেএমবি-চরমপন্থী কারুরে নৈতিক সমর্থন দেওয়া না দেওয়া আপনার এখতিয়ার। আমি সেটির দালালি করতেও এখানে আসি নাই। কিন্তু কাউরে জামাত-জেএমবি-চরমপন্থী ট্যাগিং করে, অথবা জামাত-জেএমবি-চরমপন্থী করেছে বলেই একটি নায্য আন্দোলনকে ধূর্ততার সাথে নস্যাত করতে চাওয়া- এটিরে আপনি সমর্থন করবেন কেন? আমাকে যদি প্রশ্ন করেন, আমি বলব, না- একজন দেশপ্রেমিক এবং সচেতন নাগরিক হিশেবে আপনার জন্য সেটি করাটা বেশ অপ্রজ্ঞার পরিচায়ক হবে।
লেখক বলেছেন: আর একটি কথা: জামাত জেএমবি চরমপন্থি সবার রাস্ট্র এবং স্বাধীনতা-র ধারণারে এক সারিতে রেখে বিবেচনা সম্ভব নয়। জামাত গণতন্ত্রের পরিমণ্ডলে কাজ করাটারে পছন্দ করেছে, ৭১ এ বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঘটনাচক্রে যদি তারা অংশগ্রহণ করতও, তখন জামাতের 'ইসলামী রাষ্ট্র' ধারণারে মোকাবেলা আপনি কী দিয়ে করতেন- যদি অতীতই সবিকিছুর নির্ণায়ক হয়, এখনকার আপনার ভাবনার মত। নাকি আইন-আদালত দিয়ে জামাত নিষিদ্ধ করার কথা ভাবতেন, এখনকার কিছু মোটামাথা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে বদমতলবি বুদ্ধিজীবীর মতো।
অন্যদিকে, জেএমবি এবং অন্যান্য চরমপন্থা যারা ধারণ করেছেন তারা প্রচলিত গণতন্ত্ররে চুড়ান্ত কিছু বইলা মানেন না।
আর একটা প্রশ্ন হলো: 'স্বাধীনতা', 'স্বাধীনতার মূল ভিত্তি' আসলে কী ছিল বলে মনে করেন- যে স্বাধীনতার জন্য আমি আপনি এবং আমাদের ভাই বোনেরা লড়াই করেছে?
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
ভাল পর্যবেক্ষণ আপনার। সহমত জানাচ্ছি।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ মুক্তি মণ্ডল। খুব খুশি হলাম আপনার সহমত জেনে।
মগ্নতা বলেছেন:
চমৎকার। ভাল পর্যবেক্ষণ। পরে কথা কমুনে।
লেখক বলেছেন: ঠিকাছে।
মগ্নতা বলেছেন:
''যদিও টিপাইমুখ ইস্যুতে প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে, তবে হলদে ডানা টাইপ স্বঘোষিত রাজাকারদের সম্পৃক্তিই প্রথম আলোর মত দালালদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়।...''ফারহান দাউদ এই মন্তব্যের দ্বারা আলোচনার পরিবেশটিরে প্রথমেই নোংরা কইরা দিলেন। ধ্যুউউত। ঐ রাতে মঞ্জুরুল হকের পোস্টে ফারহান আর ফিউশনের ঝগড়ার পরিণতি শেষমেষ আপনের এই সিদ্ধান্ত! ভাল। আরো চলুক।
লেখক বলেছেন: না, আমার আশা হলো, এইভাবে আর না চলুক।
সরকার সেলিম বলেছেন:
@জনাব অমি রহমান পিয়াল- আপনার বক্তব্য টা রাজনৈতিক বৈ আর কিছু না। আর রাজনৈতিকবিদরাই এই ধরনের ভাবনা ভাবেন আমার না। তারা জিনিস গুলো জটিল করে তোলেন। আমি একটা পোষ্টে মন্তব্য করেছিলাম এইরকম ... আমি ডান বুঝিনা, বাম বুঝিনা, চরম পন্হি ও বুঝিনা বুঝি জনমাণুষের স্বার্থ। আর সেই কথারই প্রতিধ্বনি ছিল রিফাত হাসানের করা আমার সেই কোটে। টিপাই মুখ আন্দোলন গন মানুষের আন্দোলন আর সেই ইসুতে ল্যামপোস্ট, জামাত বা জে এম বি যে কেউ শরিক হতে পারে। আর সেই সামষ্টিক সমর্থনকে নৈতিক বিসর্জনের কি হল বুঝলাম না।
লেখক বলেছেন: এরকম ছুঁতিবায়ু বেশ কৌতুককর এবং অকাম্য।
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
সরকার সেলিম@ আপনে পারেন ভাই, আমি পারি না। তাই তারা আপনার ঘাড়ে সওয়ার হইয়া পুনর্বাসনের সুযোগ নিতে পারে, আমার কাছে পায় না। আমার মাথা কাঠাল ভাইঙ্গা খাওয়ার মতো অত শক্ত নারে ভাই, মুর্খ মানুষ তো, খুবই নাজুক। আপনাগো জ্ঞান বেশী, উপলব্ধি বেশী, সুবাদেই আপনারা আমাগো মতো এতো সংকীর্ণ চিন্তা ধারা করতে অক্ষম। জ্বি আমার বক্তব্যটা রাজনৈতিক। জামাত শিবির আর জেএমবির লগে আমি একই আন্দোলনে নাই। আপনে থাইকেন কমরেড।
লেখক বলেছেন: আপনার বক্তব্যরে 'রাজনৈতিক' ভাবতে পারলাম না, রাজনৈতিক সচেতনায় বক্তব্য হলে তখন এটি বেশ তাৎপর্যবহ হতো বরং। দলীয় সংকীর্ণতারে রাজনৈতিক বলা যায় না, এটি বরং রাজনৈতিকতা বোধের অভাব বলা যায়।
লেখক বলেছেন: মূল ঘটনা বাদ দিয়া সেই পুরানো ক্যাচাল। হাঁ।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
এই টাইপের ফাউল চুলকানি নিয়া দিনমজুরের বোধ হয় একটা লেখা ছিলো। তাও টিপাই বিষয়ে।যে ধরেন, দেশে বিদ্যুত সংকট চরমাকার ধারন করলো। জামায়াত এইটা নিয়া আন্দোলন শুরু করলো। তখন বাদবাকী নাগরিকরা বললো- নাহ! এইটা নিয়া আন্দোলন করলে তো জামায়াতেরই লাভ। সুতরাং হাত গুটিয়ে বসে থাকো!
লেখক বলেছেন: সেটাই আরজু।
হাসান বায়েজীদ বলেছেন:
টিপাইমুখ নিয়া আন্দোলন-সংগ্রামে সবসময় আছি। তয় কথা হৈলো গিয়া যে যুদ্ধ নাহৈলে দেশটাই স্বাধীন হৈতোনা, সেইটার সাথে বেঈমানী করছে যারা, তাগো সাথী হিসাবে নেয়ার কুনুই সদিচ্ছা নাই, বরং ঘৃণা ভরে তাদের প্রত্যাখ্যান করি। তাদের ব্যাঙের সর্দি নতুন-না। এভাবেই কালে কালে ডালপালা আকড়ায়া টিইক্যা আছে তারা। এইটা হৈলো স্পষ্ট ঘোষণা। দুষ্টগরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।
লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। অমি রহমান পিয়ালের উত্তরে এ বিষয়ে কিছু কথা বলেছি। অনুগ্রহপূর্বক দেখবেন।
সিদ্ধার্থ আনন্দ বলেছেন:
এটা বড়ই মুসিবদ হইল। ঘর সামলাইতে পারি না, পর কেমনে সামলাইবো। খুচরা নীতি নৈতিকতার জ্বালায় দেশ রসাতলে যাক। কুনু সমস্যা নাই।
এখন এমন কোন অধ্যাদেশ জারি করা হোক, যার বলে জামাত-শিবিরের মুখে তালা দেওন যায়। না হলে বাংলার দামাল ছেলেরা ঘরে বাসিয়া দিবস রজনী পার করিবে।
লেখক বলেছেন: হাহাহ, সিদ্ধার্থ আনন্দ সাহেব, আপনার চিন্তাটি বেশ ভালতো। সত্যিই, এখন এমন কোন অধ্যাদেশ জারি করা হোক, যার বলে জামাত-শিবিরের মুখে তালা দেওন যায়। না হলে বাংলার দামাল ছেলেরা ঘরে বাসিয়া দিবস রজনী পার করিবে।
লেখক বলেছেন: সেটাই। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
মনজুরুল হক বলেছেন:
খুব ব্যস্ত আছি। ফ্যাসাদের গুঢ়ার্থ খুঁজে বের করার সময় এবং ইচ্ছা কোনটাই নাই। পোস্ট পড়ার আমন্ত্রণ পেয়ে যা দেখলাম তাতে আবারো মনটা বিষিয়ে গেল। আমি কারো নাম নিয়ে বলছি না। যার বোঝার তিনি বুঝে নেবেন। এটা একান্তই আমার ব্যক্তিমত।
ধর্মাধর্মী আমার কাছ কোনই গুরুত্ব বহন করে না। আমি কোন কিছু বিশ্লেষণের নিরিখে ধর্মকে কোন পাল্লায়ই রাখিনা। তাই বলে আমাকে ট্রাকের তলা থেকে কোন দাড়ি-টুপি অলা লোক টেনে বের করলে নিশ্চই তাকে ধর্মান্ধ বা জামাত-শিবির বলে কৃতজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত করব না।
রাষ্ট্রের সংকটময় মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোরই ঝাঁপিয়ে পড়ার কথা। তাদের কায়েমি স্বার্থের কারণে তারা ব্যর্থ হলে দায়টা পড়ে জনগণের উপর। এখন সেই জনগণের তো কোন মার্কেবল আইডেন্টিটি নাই! তাদের সাথে যদি গণতান্ত্রিক দলগুলোর দাঁড়াবার কথা থাকলেও তারা তা না করে, এবং সেই ফাঁকে যদি নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন দল বা মৌলবাদী দল সেই ভ্যাক্যুম পূর্ণ করে তাহলে কি আমরা মাঝপথে সেই আন্দোলন থামিয়ে দেব? সমাজ-রাজনীতিতে কখনোই ভ্যাক্যুম থাকে না। আমি-আপনি সময় মত হাজির না থাকলে আর কেউ এসে যাবে। এটাই ইতিহাসের নিয়ম। তখন আর সেই "আর কেউ" এর শ্রেণী বিশ্লেষণের অধিকার আমার থাকে না।
লেখক বলেছেন: সত্যিই মঞ্জুর ভাই, আপনার এই মন্তব্যে চরম সত্য বলে দিয়েছেন। রাষ্ট্রের সংকটময় মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা, লোভ এবং চরম নির্লজ্জ দালালীর ফলে জনগণই সেই মুহূর্তের নিয়ন্তা হয়ে ওঠে। এখন সেই জনগণের তো কোন মার্কেবল আইডেন্টিটি নাই! তাদের সাথে যদি গণতান্ত্রিক দলগুলোর দাঁড়াবার কথা থাকলেও তারা তা না করে, এবং সেই ফাঁকে যদি নিষিদ্ধ ঘোষিত কোন দল বা মৌলবাদী দল সেই ভ্যাক্যুম পূর্ণ করে তাহলে কি আমরা মাঝপথে সেই আন্দোলন থামিয়ে দেব? সমাজ-রাজনীতিতে কখনোই ভ্যাক্যুম থাকে না। আমি-আপনি সময় মত হাজির না থাকলে আর কেউ এসে যাবে। এটাই ইতিহাসের নিয়ম। তখন আর সেই "আর কেউ" এর শ্রেণী বিশ্লেষণের অধিকার আমার থাকে না। অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
সিদ্ধার্থ আনন্দ বলেছেন:
সমাজ-রাজনীতিতে কখনোই ভ্যাক্যুম থাকে না। আমি-আপনি সময় মত হাজির না থাকলে আর কেউ এসে যাবে। এটাই ইতিহাসের নিয়ম। তখন আর সেই "আর কেউ" এর শ্রেণী বিশ্লেষণের অধিকার আমার থাকে না।
অসাধারন কথা বলেছেন মনজুরুল ভাই। স্যালুট।
লেখক বলেছেন: হাঁ, সিদ্ধার্থ, আপনার সাথে সহমত।
রণদীপম বসু বলেছেন:
হতে পারে জামাত গং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুটিতে বড় বেকায়দা অবস্থানে থেকে যখন মুচড়ামুচড়ি করার কোন ইস্যু পাচ্ছিলো না, ঠিক সেই সময়টিতে টিপাইমুখ ইস্যুটিকে আশ্রয় করে সামনে আসতে চাচ্ছে। এটা তাদের যতটা না ক্রেডিট, তার চেয়ে আমাদের ডিসক্রেডিটটাই বেশি। এরকম জনগুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ে আমরা যদি একাট্টা হতে নাই পারলাম, তাহলে জামাত কেন এলো জামাত কেনো এলো বলে অস্থির না হয়ে আমাদের উচিৎ টিপাইমুখ নিয়ে আন্দোলনটাকে বেগবান করে গণজোয়ার সৃষ্টি করা। মনজুরুল হক যথার্থই বলেছেন যে, সমাজ-রাজনীতিতে কখনোই ভ্যাক্যুম থাকে না। আমি-আপনি সময় মত হাজির না থাকলে আর কেউ এসে যাবে। এটাই ইতিহাসের নিয়ম।
অতএব এ মুহূর্তে টু দা পযেন্টে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করাই যথাযথ হবে বলে মনে করি।
ধন্যবাদ রিফাত হাসানকে এবং আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে।
লেখক বলেছেন: রণদীপম বসু, আপনারেও অসংখ্য ধন্যবাদ সহমত পোষণ করার জন্য।
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
আপনার কাছে আমার শুধু দুটি প্রশ্ন-১. ল্যাম্পপোস্টের দুজন আটক হওয়ার পর, পুলিশী তদন্তের পর প্রথম আলো প্রতিবেদক তার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রিপোর্ট করেছেন। এইখানে প্রথম আলোর অপরাধ কোথায়? যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়াই এই বিষোদগার কেন করছেন?
২. আপনি বলছেন, 'এই ইস্যুতে যারাই সংগঠিত হবে এবং এর জন্য কাজ করবে, জামাত-জেএমবি, চরমপন্থি- নির্দিষ্ট ইস্যুতে তাদেরকে সমর্থন করতে আমার কোন নৈতিক বাঁধা নেই।'
কী ভয়াবহ কথা! এরকম হলে তো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখা যাবে। আপনি/আপনারা কি সেটাই চাইছেন?
লেখক বলেছেন: "বিষোদগার" শব্দে আপত্তি জানালাম। ল্যামপোস্টের লোকজন চরমপন্থি কিনা- এই তথ্যের সত্যাসত্য নিয়ে আমার কোন আগ্রহ নেই। আমি সেই বিষয়ে কোন কথাই বলি নাই, আপনি খেয়াল করে পড়ে দেখুন।
সত্যিই, আমি এই ভয়াবহ মতকেই লালন করি। এইটার সাথে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে সংশ্লিষ্ট করে কিছু লোক সুবিধা নিতে চাইবে, যেমন আপনি; আমার অবস্থানে তা প্রভাব ফেলবে না।
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন:
রিফাত ভাই,
এটা দেশের প্রতিটি মানুষের অধিকারের সংগ্রাম। এখানে যারা দলবাজি করছে তারা আন্দোলনের ক্ষতি ছাড়া কিছু করছে না। কেউ হয় দলবাজি করে, কেউ সংশ্লিষ্ট ছোটোখাটো বিষয়গুলিকে সামনে নিয়ে এসে মূল বিষয়টাকে ধামা-চাপা দেয়ার চেষ্টা করে, কেউ স্ট্যান্টবাজি করে ইত্যাদি। টু দ্য পয়েন্টে খুব কম জনই কথা বলছে।
এই বিষয়ে যদি একটা পোস্ট দেন। তবে বিষয়টা পরিস্কার হয়।
শুভ কামনা।
লেখক বলেছেন: এখানে যারা দলবাজি করছে তারা আন্দোলনের ক্ষতি ছাড়া কিছু করছে না। সহমত। এই বিষয়ে নির্ঝরের লেখাটি বেশ ভালো হয়েছিল।
জাতেমাতাল বলেছেন:
@ফিউশন ফাইভঃ ল্যাম্পপোস্টের দুজন আটক হওয়ার পর, পুলিশী তদন্তের পর প্রথম আলো প্রতিবেদক তার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রিপোর্ট করেছেন। এইখানে প্রথম আলোর অপরাধ কোথায়? প্রথম আলোর রিপোর্টারের উপর আপনার বহুত ঈমানের কারন আছে অনুমান করি, কিন্ত সবাই কে একই টুপি পড়ানো কি এত সহজ কাজ?
......কী ভয়াবহ কথা! এরকম হলে তো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখা যাবে।
আপনার কথা তো আরও বেশী ভয়াবহ, কবে হাসিনা আপা তার সুযোগ সুবিধা মত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন ততদিন পর্যন্ত আমরা টিপাইমুখ আন্দোলন ঠেকিয়ে রাখবো?
ফিফা ঝাইড়া কাশেন... মতলবটা কি?
লেখক বলেছেন: কবে হাসিনা আপা তার সুযোগ সুবিধা মত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন ততদিন পর্যন্ত আমরা টিপাইমুখ আন্দোলন ঠেকিয়ে রাখবো? কিন্ত সবাই কে একই টুপি পড়ানো কি এত সহজ কাজ?
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
জাতেমাতাল @
রিফাত হাসান বলতেছেন, "জামাত-জেএমবি, চরমপন্থি- নির্দিষ্ট ইস্যুতে তাদেরকে সমর্থন করতে আমার কোন নৈতিক বাঁধা নেই।"
আমি বলতেছি, এই রুল অনুসরণ করলে এমনকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও অনায়াসে ঠেকিয়ে রাখা যাবে। জামাতিরা তো ইতিমধ্যে গাল প্রসারিত করে বলতেছে যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে নাকি জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের ষড়যন্ত্র চলতেছে। পরিকল্পিতভাবে নাকি অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে!!!
তো আমার আশঙ্কা হৈল এই, সুযোগসন্ধানীরা এখনকার মতো তখনো জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হওয়ার ধোঁয়া উঠাবে। এবং এটাই স্বাভাবিক। টিপাইমুখ ইস্যুতে এই বেলা যদি ক্ষেত্রটা প্রস্তুত করে রাখা যায়, হে হে হে, সামনে আর অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। টিপাইমুখ ইস্যুকে সামনে রেখে মৌলবাদী ও চরমপন্থী মহল সূক্ষ্ম চাল চালতেছে। আর বুঝে হোক কিংবা না-বুঝে, আপনারা তাতে হাওয়া দিতেছেন।
আমিন।
লেখক বলেছেন: বুঝলাম, আপনার বিশ্বাসের বিবিধ বেলুন সর্বদা নড়েচড়ে। তাই নিজের আন্দোলনটির উপরও বিশ্বাস রাখতে পারেন না। অন্যের অংশগ্রহণ দিয়ে অইটারে জায়েজ কইরা নিতে হয়।
মগ্নতা বলেছেন:
@সিদ্ধার্থ আনন্দ, সত্যিই, এখন এমন কোন অধ্যাদেশ জারি করা হোক, যার বলে জামাত-শিবিরের মুখে তালা দেওন যায়। না হলে বাংলার দামাল ছেলেরা ঘরে বাসিয়া দিবস রজনী পার করিবে।আর মনজুরুল হকের মন্তব্যে প্লাস। অসাধারণ।
@ফিউশন ফাইভ, আপনের মন্তব্যগুলি কয়েকদিন থিকা পড়তেসি। পইড়া হাসমু না কাঁদমু ঠিক কইরা উঠতি পারতেসি না। প্রত্থম আলো কারো বিরুদ্ধে বিশোদগার করে নাই, শালার ব্লগাররা বিশোদগার করতেসেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন:
খামাখা তর্ক করতাসেন ক্যান? ফিফা কিম্বা অমি পিয়ালরে এখনো পর্যন্ত দেখছেন সোজা কইরা আমাদের প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছে যে ব্যারাজ+ড্যাম সেটার ব্যাপারে সোজাসুজি বলিষ্ট কোনো অবস্থান নিছে?এদের ধান্দাটা হইলো খোদ আন্দোলনটারেই বিরোধিতা করা। কিন্তু ঘুরাইয়া পেঁচায়া। ওই লোক আসলো ক্যান তমুকে কথা কইলো ক্যান। ওই বেটারে তো মতি-আব্বা খারাপ লোক কইছে ইতি আদি আর কি।
কোনো বিশেষ আদর্শ বা মতপার্থক্যের কারণে খোদ সেই ব্যক্তি বা রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট সদস্য মাত্রেই এসেনশিয়ালি খারাপ এই মতবাদটা ঘোরতরভাবে বর্ণবাদী এবং ফ্যাসিস্ট। হিটলার ইহুদি মাত্রই নির্মূল করতে হবে এই সিদ্ধান্তে আসছেন এই রকম একটা জায়গা থেকে।
বাংলাদেশের কোনো স্বার্থরক্ষা, জাতীয় ও সামাজিক সংকটের সুনির্দিষ্ট বাস্তবতায় কে কি ভূমিকা নিল তার দ্ধারা এরা শত্রু ও বন্ধু নির্বাচন করতে চান না। তাদের ভাবখানা এমন যে সবকিছু ফয়সালা হইয়া গেছে। আওয়ামী লীগ এখনো মুক্তিযুদ্ধ কইরা যাইতেছে আর মতি মিঞা বেবাক সুশীলতায় দেশের নদীনালা ভইরা ফেলতেছে। এগুলা ব্যবহারে ব্যবহারে শুয়রের মাংশ হয়ে যাওয়া শ্লোগান।
লেখক বলেছেন: "কোনো বিশেষ আদর্শ বা মতপার্থক্যের কারণে খোদ সেই ব্যক্তি বা রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট সদস্য মাত্রেই এসেনশিয়ালি খারাপ এই মতবাদটা ঘোরতরভাবে বর্ণবাদী এবং ফ্যাসিস্ট। হিটলার ইহুদি মাত্রই নির্মূল করতে হবে এই সিদ্ধান্তে আসছেন এই রকম একটা জায়গা থেকে।..
বাংলাদেশের কোনো স্বার্থরক্ষা, জাতীয় ও সামাজিক সংকটের সুনির্দিষ্ট বাস্তবতায় কে কি ভূমিকা নিল তার দ্ধারা এরা শত্রু ও বন্ধু নির্বাচন করতে চান না। তাদের ভাবখানা এমন যে সবকিছু ফয়সালা হইয়া গেছে। আওয়ামী লীগ এখনো মুক্তিযুদ্ধ কইরা যাইতেছে আর মতি মিঞা বেবাক সুশীলতায় দেশের নদীনালা ভইরা ফেলতেছে। এগুলা ব্যবহারে ব্যবহারে শুয়রের মাংশ হয়ে যাওয়া শ্লোগান।"..
লেখক বলেছেন: বুঝলাম না।
হলদে ডানা বলেছেন:
একদিকে আগুনে পুড়ছে ঘর, ধেয়ে আসছে অন্ধকার, অন্যদিকে ঝগড়া চলছে কে পানি দিতে পারবে, কে পারবেনা! বদনসিব।
লেখক বলেছেন: shetai
কার্ল মার্কস বলেছেন:
বহুত শিবের গীত হুনলাম। আজাইরা তর্ক, টিপাই মুখ বাধ কি সমস্যা করব বা কেমনে এইটারে ঠেকান যায় এসব না কইয়া হুদা কচকচানি।যারা এই সব কচকচাইলেন হেরা মনে লয় ডেম,ব্যারেজ, স্লুইজগেইট - এই প্রথমিক বিষয়ই বুঝে না। বাকী কতা কইবার সুযোগ কই।
টিপাই মুখ বাধ চাই না।
ধন্যবাদ রিফাত হাসান ও মনজুরুল হককে।
লেখক বলেছেন: টিপাই মুখ বাধ চাই না।
রিফাত হাসান বলেছেন:
দু:খিত, মাসুদ জাকারিয়ার একটি মন্তব্য ভুলবশত ক্লিক পড়ার কারণে মুছে গেছে। সহমত প্রকাশ করার জন্য ধন্যবাদ মাসুদ জাকারিয়াকে।
ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন:
প্রথমত রিফাত হাসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা যে, মূল প্রসঙ্গ থেকে দৃষ্টি সরাবার প্রয়াসকে উনি মোকাবেলা করার চেষ্টা করেছেন। বিশদে যাব না, স্বাধীনতা, ১৯৭১, আত্মত্যাগ,সহ একাত্তরের অনুরণন আছে এমন সব কিছুকেই আজ কর্পোরেট বেনিয়া থেকে শুরু করে একদল গণশত্রু দখল করে নিয়েছে রাজনৈতিক ও মুনাফাখোরি ব্যবসার স্বার্থে। জামাত থেকে আওয়ামী লীগ সবাই একাজে মোটামুটি হাফেজ সাব হয়া বসে আছেন। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা নিয়ে নাকি-কান্নাওয়ালাদের প্রমাণ করতে হবে, গত ৩৮ বছরে জনগণ, প্রাণ ও প্রকৃতি এবং মাটি ও ইতিহাস রক্ষার জন্য তারা তাদের কোন কোন চুল বিসর্জন দিয়েছে বা সংগ্রামের উত্তাপে পাকিয়েছে।
এই কাঁদুনি আজ প্রতিক্রিয়াশীলদের মুখোশ হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই লাগবে। এ নিয়ে দয়া করে কোনো মহাত্মন আমার ব্যক্তিগত অবস্থানকে যাচাই করতে আসবেন না। এ নিয়ে বহু বছর লিখছি, কাজ করছি, শিবির ইত্যাদির সঙ্গে সংঘাতও হয়েছে, জানবাজি রেখেই করেছি। বলাবাহুল্য লীগ-দলের সঙ্গেও একইভাবে লড়তে হয়েছে ধর্ষণ-সন্ত্রাস ইত্যাদির বিরোধিতা করতে গিয়ে। সুতরাং আজকের কমিউনিস্ট কালকের মোল্লা এইসব পাতলা ডাল জাতীয় বিশেষণ এখানে পাত্তা পাবে না।
বাংলাদেশে ভারতের দালাল আছে, পাকিস্তানের দালাল আছে, মার্কিন দালালও আছে। গত কয়েকশ বছরের দালালির বংশলতিকা আজ রক্ত চুষে চুষে বটবৃক্ষ হয়েছে। এদের কৌশল হলো দেশকে লিঙ্গের আগায় ঝুলিয়ে দেশপ্রেমের পাঁচালি গাওয়া। এদের প্রগতিশীলতা একমাত্র রাজাকার নিধনে আর ফ্যাসিবাদী বিশেষণে। বাকি সব ক্ষেত্রে এদের প্রমাণ করতে হবে কী কারণে তারা প্রগতিশীল।
ল্যাম্পপোস্ট কর্মীদের ধরেছে পুলিশ, ক্যাম্পাসে তাদের পিটিয়েছে ছাত্রলীগ। ভারত প্রশ্নে তাহলে কে রাজাকার? বিএনপি-জামাত এ আন্দোলনকে প্রাণ-প্রকৃতি ও মানুষের মুক্তির আন্দোলনের দিকে এক কদমও এগিয়ে নেবে না। কিন্তু সময়ের এই শূণ্যতা পূরণের বিরোধিতা না করে যারা আরো ভালভাবে পারবে তাদের এগিয়ে আসা উচিত।
জামাত-শিবিরের লগে তাদের আন্দোলন করতে কে বলেছে? জামাত-শিবির বাদ দিতে গিয়ে খোদ আন্দোলনটাকেই তো তারা বাদ দেওয়ার তরিকা নিয়েছে। মইন মর্দন, পিনাকরঞ্জন ভঞ্জন, মরিয়ার্টিকে মালিশ করতে করতে এদের হুশ নাই যে, ভবিষ্যতের মানুষ এদের একাত্তরের পাকিস্তানী রাজাকারের সঙ্গে একতালে ভারত-মার্কিনের রাজাকার বলবে।
মঞ্জু ভাইয়ের মন্তব্যে সহমত।
লেখক বলেছেন: বিশদ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ফারুক ওয়াসিফ। সত্যি কথাই বলেছেন: জামাত-শিবিরের লগে আন্দোলন তাদের অনাগ্রহের বিষয় নয়, উপরন্তু তাদের আগ্রহের বিষয়গুলি নিয়ে এমনকি ইয়াহিয়া খানের সাথেও বৈঠক করতে বিন্দুমাত্র পিছপা হওয়ার ইতিহাস নেই। "জামাত-শিবির বাদ দিতে গিয়ে খোদ আন্দোলনটাকেই তারা বাদ দেওয়ার তরিকা নিয়েছে। মইন মর্দন, পিনাকরঞ্জন ভঞ্জন, মরিয়ার্টিকে মালিশ করতে করতে এদের হুশ নাই যে, ভবিষ্যতের মানুষ এদের একাত্তরের পাকিস্তানী রাজাকারের সঙ্গে একতালে ভারত-মার্কিনের রাজাকার বলবে।"
আচ্ছা, টিপাইমুখ বাঁধ পরিদর্শনে যাওয়া পিকনিক পার্টির প্রধান রাজ্জাক সাহেবের "টিপাইমুখ বাঁধ কোন ক্ষতির কারণ হবে না" মর্মে সার্টিফিকেট এর পর এ বিষয়ক সরকারের কর্মকাণ্ডের ভবিষ্যত কেমন হবে মনে করেন?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















ফরহাদ মজহারের রবুবিয়াতের ব্যাখ্যা- "বিশ্বপালনকর্তার স্বভাব আয়ত্ত করে প্রাণ, প্রাণের শর্ত ও পরিবেশ রক্ষা করা" পড়ে আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। অত্যন্ত উচু মানের সংক্ষিপ্ত অথচ নিগুড় সত্যটি তিনি লিখেছেন, আমাদের দেশের বহু আলেম হাজারো লেখা পড়ে রবুবিয়াতের ব্যাখ্যায় এরকম একটি বাক্য লিখতে পারবেন কিনা সন্দেহ।