আমার প্রিয় পোস্ট
- বর্ষসেরা লেখা সমাচার: মানস চৌধুরীর পোষ্ট ''দেখে'' আমার প্রতিক্রিয়া - রিফাত হাসান
- খালেদা জিয়া: দগ্ধ থেকে বিদগ্ধতা - রিফাত হাসান
- শার্লক হোমস রাজনীতিবিদগণ ও কয়েকটি বিলম্বিত নোট - রিফাত হাসান
- ল্যামপোস্টের আলোয়: আরো কিছু জরুরী কথা-বার্তা - রিফাত হাসান
- ‘জিহাদি বই’ সিন্ড্রোম, ‘শিবির’ সন্দেহে গ্রেফতার এবং অন্যান্য আলাপ - রিফাত হাসান
- রবীন্দ্রবন্দনা: রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে - রিফাত হাসান
- সামহোয়ারইনের মডারেশন নীতিমালা: একটি ভিন্ন পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
- ইতিহাস তর্কের কাইজ্যা, আদালত অবমাননা ও কুটনৈতিক শিষ্টাচার - রিফাত হাসান
- বিস্তর পরের নোট: ব্লগে আমার দুই বছর পূর্তিতে আড়মোড়া ও কিছু পুরনো আলাপ - রিফাত হাসান
- এক-এগার দ্বিতীয় পর্ব, প্রাণ প্রকৃতি ও ভূখণ্ডের উপর আমাদের নায্য হকের লড়াই এবং একটি পুলিশি রাষ্ট্রের ছায়া - রিফাত হাসান
- সরকারের প্রেসনোট, জননিরাপত্তার প্রেতাত্মা ও হিজবুত তাহরীর - রিফাত হাসান
- রাষ্ট্রের ধর্মবাসনা, দলের ভণ্ডামি, জামাত নেতৃত্বের গ্রেফতার ও অন্যান্য প্রশ্ন - রিফাত হাসান
- বাংলাদেশের 'উত্তর-ঔপনিবেশিক' বিচারকবৃন্দ: ব্লাক স্কিন, হোয়াইট মাস্কস - রিফাত হাসান
- সংবিধান মুদ্রণ ও পুনর্মুদ্রণ ব্যবসায়ীরা - রিফাত হাসান
- কনষ্টিটিউশন পর্যালোচনাঃ সুরঞ্জিতের বক্তব্য অনুযায়ী বাকশাল চতুর্থ সংশোধনীও অবৈধ (পর্ব-৩) - পি মুন্সী
- আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব - রিফাত হাসান
- খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা - রিফাত হাসান
- নোটন নোটন পায়রাগুলি ও কয়েক চিরকুট নোট - রিফাত হাসান
- ভাস্কর্য বিতর্ক: কয়েকটি প্রশ্ন ও কিছু ফুটনোট - রিফাত হাসান
- বিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত হবার আমন্ত্রণ: আমি কেন গ্রহণ করতে পারছি না প্রিয় সামহোয়ারইন - রিফাত হাসান
- আ টরচার্ড ইমেজ: রেহনুমা আহমেদের ফ্যাসিবাদীতা, ভণ্ডামী ও একটি মিশ্র অনুভূতির থিওরি, তারেক রহমান ও তার মায়ের অপরাধ ও শাস্তি এবং আমাদের নারী ভাবনা - রিফাত হাসান
- একটি প্রাথমিক আলোচনার খসড়া: জামাত, জামাত বিরোধী রাজনীতির বিষয় আশয় ও যুদ্ধাপরাধ রাজনীতি - রিফাত হাসান
- ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ - রিফাত হাসান
এক-এগার দ্বিতীয় পর্ব, প্রাণ প্রকৃতি ও ভূখণ্ডের উপর আমাদের নায্য হকের লড়াই এবং একটি পুলিশি রাষ্ট্রের ছায়া
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ভোর ৫:৪৭
এক-এগার দ্বিতীয় পর্ব
দুই হাজার নয় সাল; সময়ের এই পর্বে এসে বাংলাদেশে প্রাণ-প্রকৃতি ও ভূখণ্ডের উপর এদেশের মানুষের নায্য হকের লড়াই-ই আমাদের জাতীয় রাজনীতির তাৎপর্যপূর্ণ গতিপথ চিহ্ণিত করছে। এই লড়াইয়ের প্রতিপক্ষ হিশেবে বহুল আলোচিত এক-এগার'র রেজিম এর বিতর্কিত ভূমিকা আর তার ফলোয়ার বর্তমান সরকারের অবস্থান বিচার এই মুহূর্তের অত্যন্ত জরুরী কাজগুলির একটি বলেই আমরা মনে করি। আমরা ইতিপূর্বেই উনত্রিশ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে একদলীয় সংখ্যাগরিষ্টতার সরকার কায়েমের পরের সময়টাকে এক এগার দ্বিতীয় পর্ব হিশেবে অভিহিত করেছিলাম বিভিন্ন লেখায়। আরো বলেছিলাম, এগার একের প্রথম পর্বের তুলনায় এই দ্বিতীয় পর্বের ডাইনামিকসটা অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথম পর্বের রেজিমের গণভিত্তি ও সাংবিধানিক বৈধতা ছাড়া অপরাপর সব সম্ভব পরা-ভিত্তিই প্রবলভাবে ছিল। বিপরীতে দ্বিতীয়ার্ধের এই পর্বের কলা কুশলীদের অপরাপর সব পরা-ভিত্তির সাথে সাথে নির্বাচনী গণতন্ত্র অর্থে গণতন্ত্রের লেবাস এবং সেই হিশেবে গণভিত্তির লেবাসও আছে। এতেই বিপদগুলো নতুনতরো মাত্রা এবং পোশাক নিয়ে হাজির হয়। এগার একের রেজিম যেই কাজ অবৈধ উপায়ে পরাশক্তির আশ্রয়ে করতে গিয়েছিল, এই নির্বাচনী গণতন্ত্রের একদলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার জনগণের সম্মতির কথা বলেই, তাদের ভোটের হাতিয়ার দিয়েই, সেই কুকাজ সম্পন্ন করার সামর্থ এমনকি হিম্মত রাখে। সেই মনোভাব এবং হিম্মত ইতিমধ্যেই তারা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ইচ্ছেয় অনিচ্ছেয় প্রকাশ করেছে।
দিনবদলের ডায়েরী
আসুন আমরা বিগত দিনগুলোতে এই সরকারের উল্লেখযোগ্য কাজকর্মগুলোকে একবার পাঠ করি। এক এগার প্রথম পর্বে আমরা দেখতে পেয়েছিলাম, পৃথিবীর তেল গ্যাস এবং খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ ভূখণ্ডগুলোতে সন্ত্রাস এবং লুটপাটকারী "সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধে"র সেনাপতি আমেরিকার অনন্ত যুদ্ধের যজ্ঞে কোনরকম দরকষাকষি ছাড়াই মিত্র হিশেবে যোগদান করার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশের তৎকালীন এগার একের রেজিম এবং এর পেছনের মীর জাফররা। এরপর এক এগারর এই দ্বিতীয় পর্বে এসে প্রথম ছাব্বিশ দিনেই নতুন দিনবদলের আওয়ামীলীগ সরকার 'সাউথ এশিয়ান ব্লক' বা 'ইন্দো-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্সের' নামে সেই এলাইয়ের স্বার্থ রক্ষার জেহাদে শামিল হয়ে এইসব বিষয়ে পরাশক্তিগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সহযোগিতা চেয়ে নিয়েছে। তার কিছুদিন পরেই এই একই সরকার বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাকে উপজীব্য করে পার্শ্ববর্তী দেশের সীমান্তরক্ষীবাহিনীকে দিয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের অতন্দ্র প্রহরী বিডিআর ঢেলে সাজানোর মত ওদ্দত্যপূর্ণ এবং অধীনতামূলক মনোবৃত্তির প্রকাশ দেখিয়েছে এবং বিডিআরের বীরত্বমূলক ইতিহাস মুছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সেই ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই টিপাইমুখে বাংলাদেশের জন্য ফারাক্কার মত আরেক মরণফাঁদের নির্মাণকাজে ভারতের সহযোগী এবং বৈধতা দানকারী হিশেবে আবির্ভূত হয়েছে এই সরকার। তারপর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলাকে পঙ্গু বানিয়ে রেখে, বিগত এক এগার রেজিম কর্তৃক বিদেশী বেনিয়াদের কাছে দাসখত দেওয়া তেল গ্যাস ও কয়লা সম্পদ পাচারের অসমাপ্ত ও 'মহিরুহ' কাজ নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে এই সরকার। এবং বহু বিতর্কিত ও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সাথে জড়িত ট্রানজিট ইস্যূতে কোন প্রকার জাতীয় সংলাপ ছাড়াই ভারতের কাছে এ ব্যাপারে তাদের ইতিবাচক মনোভাব এবং 'ইচ্ছা'র কথা জানিয়েছে।
প্রাণ-প্রকৃতি ও ভূখণ্ড রক্ষার লড়াই ও পুলিশি রাষ্ট্রের ছায়া
জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে যখন আওয়ামি সংখ্যাগরিষ্টের সরকার বারবার এইরূপ নতজানু এবং গোলামি অবস্থান গ্রহণ করে অগ্রসর হচ্ছে, আমরা কিছুটা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করলাম, বিএনপিসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো যাদের এক্ষেত্রে দায় নিয়ে এগিয়ে আসার কর্তব্য পড়ে বলে জনগণ তাদের কাছ থেকে আকাঙ্ক্ষা করে, তারা কার্যকর প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ তৈরী করতে রীতিমত ব্যর্থ এবং কিছু সংবাদ সম্মেলন ও মিডিয়ায় কথা চালাচালি ছাড়া পুরোমাত্রায় উদাসীন থেকেছে। এদিকে সরকারের মন্ত্রীগণের কথায় কথায় "নো টলারেন্স" শব্দটা এমন মারমুখো যে, মানুষের বিভ্রম হওয়া সম্ভব আমরা একটি স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বাস করছি কিনা। তারপরে আছে অতি সাধারণ প্রতিবাদি মিছিল এবং সভায় পেটুয়া পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে ফ্যাসিস্ট উপায়ে ভীন্নমতাবলম্বির কণ্ঠরোধের চেষ্টা এবং বিভিন্ন সময়ে মিডিয়ার বেনিয়াদের ছড়ি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মতামতকে শাসন করার চেষ্টা। আমরা দেখতে পাই, সাধারণ পাঠচক্রের ছাত্রদের উপর টিপাইমুখ ইত্যাদি জাতীয় স্বার্থ নিয়ে মিছিল করায় নির্মমভাবে আক্রমণ এবং রক্তাক্ত করেছে এ সরকারের পুলিশ; তার উপর এই ইস্যুটিকে চাপা দেওয়ার জন্য প্রথম আলো নামক তাবেদার পত্রিকাকে দিয়ে প্রতিবাদি ছাত্রদের উপর চরমপন্থি ট্যাগিং দেওয়ার চেষ্টা। সর্বশেষ তেল গ্যাস এবং কয়লা লুটেরাদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদ করার কারণে প্রফেসর আনু মুহাম্মদের মত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে পেটুয়া পুলিশ দিয়ে লাঠিপেটা করেছে এ সরকার।
প্রাণ-প্রকৃতি ও ভূখণ্ড রক্ষার লড়াইয়ে ছাত্রসমাজ, শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের উপর যে হারে লাঠিপেটা করছে সরকার, তাতে একটি পুলিশি রাষ্ট্রের ছায়াই আসে। উপরে আমরা বলেছিলাম, দ্বিতীয়ার্ধের এই পর্বের কলা কুশলীদের অপরাপর সব পরা-ভিত্তির সাথে সাথে নির্বাচনী গণতন্ত্র অর্থে গণতন্ত্রের লেবাস এবং সেই হিশেবে গণভিত্তির লেবাস থাকায়, বিপদগুলো নতুনতরো মাত্রা এবং পোশাক নিয়ে হাজির হয়েছে। গণতন্ত্র নিয়ে, আমাদের ইতিহাসভিজ্ঞতা এই কথাও বলে যে, এই 'গণতন্ত্র' ফ্যাসিবাদকেও নিমন্ত্রণ করে আনে কখনো কখনো। এই নির্বাচনী গণতন্ত্র যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের একনায়কতন্ত্রই জারি থাকে বৈধভাবে, সেটি এমনকি গঠনগত দশাতেই ফ্যাসিবাদের পথ উন্মুক্ত রাখে। জার্মানী, স্পেন এবং ইতালীর ফ্যাসিস্ট পার্টিগুলোর রেজিমের ইতিহাস অধ্যয়ন করলে, এই নির্বাচনী গণতন্ত্র কীভাবে গণভিত্তির দোহাই দিয়েই ফ্যাসিবাদকে অধিষ্ঠিত করে এবং ভীন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠরোধ করে, তৎপরতাকে নিয়ন্ত্রণ করে, গুপ্তহত্যা করে, তার প্রকৃতি বোঝা যাবে। ফলতঃ গণতন্ত্রের লেবাসের উপর প্রশ্নাতীত ঈমান না রেখে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার কতটা লঙ্ঘিত হচ্ছে-না হচ্ছে, রাষ্ট্রের পরিসর ও চরিত্রের বিবর্তন ইত্যকার বিষয়গুলো, তারও নিরন্তর বিচার জরুরী।
সর্বশেষ
এক্ষেত্রে গণতণ্ত্র, রাস্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে জরুরী তর্ক বিতর্ক এবং কর্মসূচিগত প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর সাধারণ ঐকমত্যের জায়গা তৈরী হওয়াটা অবশ্যাম্ভাবি। ফলত, জাতীয় স্বার্থের পক্ষে যে কোন আন্দোলনের পাশে বিএনপি থাকবে; পুলিশের লাঠিচার্জে আহত প্রফেসর আনু মুহাম্মদকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার এই মন্তব্য আগ্রহ নিয়ে পাঠ করি। আগ্রহ এ কারণে যে, খালেদা জিয়া যদি এই মন্তব্যকে তার পূর্ববর্তী ভূমিকাসমূহের একটা রিভিউ হিশেবে নেন, তাহলে তাঁর এই আকাঙ্ক্ষা সাধুবাদযোগ্য। যদিও নিঃসন্দেহ নই, খালেদা জিয়া তার এই অবস্থানে শেষ পর্যন্ত কতটুক অটুট থাকবেন?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
রিফাত হাসান বলেছেন:
আপাতত লগআউট করলাম। ঘুমুতে হবে, বেশ ভোর হয়ে যাচ্ছে।
মদনঠাকুর বলেছেন:
পোস্টে লালসেলাম কমড়েড ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
স্বপ্নরাজ বলেছেন:
এক এগারোর মাধ্যমে মইন গং আমাদের যা দিয়েছে তা হচ্ছে... সাম্রাজ্যবাদীদের হা করা মুখের মধ্যে দেশের মাথাটা ঢুকিয়ে দেয়া।
লেখক বলেছেন: সেটাই। ঠিক কথাটিই বলেছেন।
মগ্নতা বলেছেন:
খালেদা জিয়া যদি এই মন্তব্যকে তার পূর্ববর্তী ভূমিকাসমূহের একটা রিভিউ হিশেবে নেন, তাহলে তাঁর এই আকাঙ্ক্ষা সাধুবাদযোগ্য। যদিও নিঃসন্দেহ নই, খালেদা জিয়া তার এই অবস্থানে শেষ পর্যন্ত কতটুক অটুট থাকবেন?সেটাই।
লেখক বলেছেন: সেটাই।
লেখক বলেছেন: আপনারেও।
সেটাই।
লেখক বলেছেন: সেটাই।
জাতেমাতাল বলেছেন:
তেল গ্যাস চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মতামত এবং আলোচনা তো হতেই পারে, সেখানে শান্তিপুর্ন উপায়ে বিক্ষোভ দেখানোটাও একটা বৈধ ও স্বীকৃত মাধ্যম। বর্তমান সরকারের এই ফাসিস্ত আচরন তীব্র ভাবে নিন্দনীয়...,
লেখক বলেছেন: হাঁ, এই ফাসিস্ত আচরন তীব্র ভাবে নিন্দনীয়
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন:
মুশকিলটা এই জায়গায়। গণতন্ত্রের মোয়া ভোটাভুটির মধ্যে নিঃশেষ কইরা ফালাইলে শিরদাড়া সোজা কইরা কোথায় খাড়াইতে হয় তাও বেমালুম হইয়া যায়। রাজা-প্রজার সম্পর্কটা তো প্রজাতন্ত্রে অন্যথা হবার নয়।আপনি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ইশার দিয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির এখনকার ও আগামীদিনের ভারকেন্দ্র নিশ্চয় প্রাণ-প্রকৃতি ও খনিজ সম্পদের উপর গণমানুষের সার্বভৌম কর্তৃত্ব কায়েমের লড়াই। সেখানে ক্রমে জাতীয় অবস্থান আকারে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নটাকে কেন্দ্র করে সমাজের নানাভাগের মধ্যে ঐক্য ও সংহতির বন্ধন তৈরি হতে থাকবে। দাঁনা বাধতে থাকবে বহুজাতিক কোম্পানি এবং সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসী থাবার বিরুদ্ধে গণমানুষের ক্ষমতায় পরিগঠিত সার্বভৌম জাতীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।
সেখানে বাকি দুনিয়ার সাথে বাংলাদেশের সংগ্রামের আন্তসংযোগের পাটাতন যেমন স্পষ্ট হওয়া দরকার। তেমনি জ্বালানী বা খনিজ সম্পদের মতো বিষয়, যা আজকের যুদ্ধের সামনের সারির ইস্যু-- সেখানে জাতীয় অবস্থানের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাজির হওয়ার জন্য যে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা সামনে চলে আসে তা সুচারুভাবে পালন করার সাথে সফলভাবে নেতৃত্ব দানের প্রশ্নটিও জড়িত।
অন্যদিকে এই ধরণের উদ্যোগ ও তৎপরতার প্রতি নৈতিক সমর্থন, সহযোগিতার মনোভাবই কেবল পারে ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাবর্হিভূত শাসকশ্রেণীর জাতীয়স্বার্থের সাথে ন্যূনতম সংগতিপরায়ন অবস্থানের অনুকুল প্রদক্ষেপের সূচনা করতে। সেই দিক থেকে খালেদার বক্তব্য একটি ইতিবাচক সূচনা, যদি বুঝতে পারনে সামাজিক শক্তি ও সংঘবদ্ধতা পরাশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সেই জায়গাটি তৈরি করে যা তাদের পক্ষে ক্ষমতার ইদুর দৌড়ে থেকে তৈরি করা সম্ভব নয়।
সেখানে বুদ্ধিমানের কাজ হলো এধরণের তৎপর সামাজিক শক্তির হাতকে শক্তিশালী করা। এটাই তাদের বাচবার শেষ রক্ষাকবচ, অবশ্য যদি বাচতে চায়। সাথে সাথে নিজেদের অতীত কুকর্ম ও গণবিরোধী ভূমিকারও মূল্যায়ন দরকার। একেবারে নিজেদের রাজনৈতিক প্রয়োজনেই এটা করতে পারেন। কারণ নিশ্চয় এক/এগারর অভিজ্ঞতায় দেখেছেন, দাসত্ব আর দাসখত দিলে সাম্রাজ্যবাদও চাকর নফর এর মতোই ব্যবহার করে, প্রয়োজনের সামান্য পরিবর্তনেই কেমন লাথি-গুতো মেরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।
অতএব এর অন্যথা করলে তিনি বা তারাও উড়ে চলে যাবেন, বেশিদূর অপেক্ষা করতে হবে না।
অন্যদিকে এটা সম্পদ রক্ষা কমিটির সামনেও একটা সুযোগ যাতে এই আকালের দিনে তারা নিজেদেরকে যথার্থ জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী ফোরাম আকারে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। একটি প্রথাগত দল বর্হিভূত সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে সর্বস্তরে নিজেদের হেজেমনি তৈরি করার প্রায়োগিক রূপরেখা খাড়া করতে পারেন। এবং একই সাথে এই দৃষ্টান্তও যে দলমত নির্বিশেষে নীতিগত অবস্থানের প্রতি নিরাপোষ থেকে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আর সবাইকে তারা নের্তৃত্ব ও নির্দেশনা দিতে সক্ষম। আলীগ বা বিএনপির মতো দলগুলোকে গণবিরোধী কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখা ও নিজস্ব ভূমিকার মূল্যায়নে বাধ্য করা। সেক্ষেত্রে মুক্তমনে ইতিবাচক মনোভাবকে স্বাগত জানানো ও জনগণের আকাঙক্ষার বিরুদ্ধাতায় না নামতে সতর্ক করে যাওয়া। প্রয়োজনে প্রতিরোধের হুশিয়ারি তো অবশ্যই।
লেখক বলেছেন: ভাই ঘোর কলিযুগ, আপনার এই কষ্টসাধ্য লম্বা মন্তরব্যর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার সাথে অবশ্যই সহমত যে, এই ধরণের উদ্যোগ ও তৎপরতার প্রতি নৈতিক সমর্থন, সহযোগিতার মনোভাবই কেবল পারে ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাবর্হিভূত শাসকশ্রেণীর জাতীয়স্বার্থের সাথে ন্যূনতম সংগতিপরায়ন অবস্থানের অনুকুল প্রদক্ষেপের সূচনা করতে।
লেখক বলেছেন: দেখছি। ইন্টারেস্টিং।
লেখক বলেছেন: ডানের বামে, বামের ডানে, মজার তো।
আবদুল ওয়াহিদ বলেছেন:
ধন্যবাদ রিফাত হাসান। চমৎকার লেখাটির জন্য। আপনি এই পাঠটির সাথে অপরাপর ঘটনা প্রবাহকে সাজিয়েছেন। এটা সম্ভব, কেন না মানুষের কোন চরিত্রই একদিনে দাড়ায় না, বরং এগুলোর পিছনে এমন কিছু ঘটনা থাকে যা কোন কিছুকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। সুতারাং, ভাবনাটা ভবিষ্যতকেও নির্ধারণ করে দেয়।
এবার আন্দাজ করার চেষ্টা করেন এই ফ্যাসীবাদীরা কোথায় গিয়ে বুঝতে পারে তাদের পায়ের তলায় মাটি নাই।
লেখক বলেছেন: হাঁ, দেখা যাক এই ফ্যাসীবাদীরা কোথায় গিয়ে বুঝতে পারে তাদের পায়ের তলায় মাটি নাই।
লেখক বলেছেন: ঠিক আছে, ধন্যবাদ।
কার্ল মার্কস বলেছেন:
যারা আদতে মাল সমৃদ্ধ আবুল তারাই মনে করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে। বরং রাজতন্ত্রী সৌদীআরব বা ব্রুনাই দারুসসালামে বহুত বেশী গণতন্ত্র বিরাজমান। বাংলাদেশের গণতন্ত্র কাজীর গোয়াল ঘরের মতো।"যদিও নিঃসন্দেহ নই, খালেদা জিয়া তার এই অবস্থানে শেষ পর্যন্ত কতটুক অটুট থাকবেন?"
লেখক বলেছেন: হাঁ, বাংলাদেশের গণতন্ত্র কাজীর গোয়াল ঘরের মতো।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















