আমার প্রিয় পোস্ট

গেরিলা কথাবার্তা

দুটি শব্দের গ্লানি, সামহোয়ারইনের বৈপ্লবিক অবস্থান ও প্রধান বিচারপতির অসদাচরণ সমাচার!

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:১০

শেয়ারঃ
0 2 0

প্রধান বিচারপতি গুরুতর অসদাচরণ করেছেন

প্রধান বিচারপতি গুরুতর অসদাচরণ করেছেন। হাঁ, তাঁর শাস্তি হওয়াও প্রয়োজন। প্রধান বিচারপতিকে অপসারণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের চিন্তা- শিরোনামের রিপোর্টটি পড়ে কিছুটা হতভম্ব হয়েছিলাম। পরে ভাবলাম, এই হতভম্বের বোধটার কোন মানে নেই। বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের ৯৬(৫) অনুচ্ছেদ মতে, শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্য অথবা গুরুতর অসদাচারণের জন্য এরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। বিচারপতি হিশেবে রাষ্ট্রপতির নিয়োগকৃতদের একজন খুনের প্রধান আসামী এবং অপরজন প্রকাশ্য জনসম্মুখে প্রধান বিচারপতির এজলাস ভাঙচুরকারী ও সন্ত্রাসী হিশেবে প্রমাণিত হলেও এই দুইজনকে বিচারপতি হিশেবে শপথ না পড়িয়ে তিনি গুরুতর অসদাচরণ করেছেন এবং তার মানসিক ও শারীরিক অসামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। এটি অসমর্থন করবে এই আওয়ামী যুগে এমন বুকের পাটা কার? মাননীয় প্রধান বিচারপতি, আপনি যদি নিজেকে সুস্থ্ ও মানসিক ভারসাম্যপূর্ণ প্রমাণ করতে চান, অনতিবিলম্বে এই দুইজন খুনি ও সন্ত্রাসীকে শপথ পাঠ করিয়ে নিজে দায়মুক্ত হোন এবং সর্বোচ্চ আদালতকে সম্মানিত করুন।

দুটি শব্দের গ্লানি, সামহোয়ারইনের বৈপ্লবিক অবস্থান!

যদিও অপমানজনকভাবে, তবুও, এইবার ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ দুটি শব্দের গ্লানি থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন, এবং নতুন অর্থ এবং শব্দের রাজনীতি শুরু করেছেন। এক. এখন থেকে যুদ্ধাপরাধী কাউকে বলা হবে না, শ্রেফ মানবতাবিরোধীদের বিচার হবে। পাকিস্তানী রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠকের পর সরকারের মন্ত্রীবরের এই ঘোষণায় রাষ্ট্রীয়, এমনকি ব্যক্তিমালিকানাধীন সব ধরণের মিডিয়ার ভাষা বদলে গেল: আগে যেখানে যুদ্ধাপরাধী ছিল, এখন সেখানে মানবতা-বিরোধী। নেতা পাতিনেতা বুদ্ধিজীবী যারা এতদিন যুদ্ধাপরাধীর কথা বলে রেওয়াজ করেছে এখন তারা অনভ্যাসবশত মা-ন-ব-তা-বি-রো-ধী উচ্চারণে খেই হারিয়ে তোথলাতে থাকেন, তাদের মুখ ফসকে প্রায়ই বেরিয়ে আসে পুরনো শব্দগুচ্ছ, সে কেবল ভুলেই। কিন্তু একটা মজার ব্যাপার হলো, সামহোয়ারইন কর্তৃপক্ষ, সম্ভবত, বেখেয়ালেই এখনো শব্দগুচ্ছটি পরিবর্তন না করেই দেয়ালে ঝুলিয়ে রেখেছেন- নাকি একটা বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত! তাহলে সাধুবাদ- যদিও আমি অতীতে একটি ইন্টারএকটিভ ব্লগের এই ব্যানার লেখালেখিরে প্রশ্ন করেছিলাম- এমনকি আওয়ামীলীগের এই যুদ্ধাপরাধ রাজনীতিরে শুরু থেকেই সন্দেহ করেছিলাম- তবুও, এই মুহূর্তে সরকারের তৎপরতার বিরুদ্ধে যে কোন ধরণের অবস্থানই বৈপ্লবিক বটে!

দুই. সর্বসাম্প্রতিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর রাজাকার শব্দটার একই পরিণতি হলো। আসুন ভেবে দেখি, এরপর আমরা কি নিয়ে বাঁচবো?

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): সামহোয়ারইন ব্লগযুদ্ধাপরাধীযুদ্ধাপরাধ রাজনীতিযুদ্ধাপরাধীদের বিচারমানবতার বিরুদ্ধে অপরাধপ্রধান বিচারপতির অসদাচরণবিচারপতিদের শপথ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: ডায়েরী  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১:১৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:২২
কৌশিক বলেছেন: প্রধানমন্ত্রী কি রাজাকার বিষয়ে ঐ কথা কি সত্যই বলেছেন? বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।

প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির নির্দেশ অমান্য করার ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবেই সংরক্ষণ করেন কিনা জানা নাই। এ বিষয়ে একটু আলাপ করলে ভালো হয়।

তবে শেখ হাসিনার কার্যকলাপ দেখে রীতিমত অভিভূত.....বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুস্থ্যভাবে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করা সম্ভবত যায় না...শেখ হাসিনা যা করছে এটাই স্টান্ডার্ড ধরে নিতে হবে আমাদের।
২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:৪৫

লেখক বলেছেন: ১. কোন প্রতিবাদ চোখে পড়ে নাই। অবিশ্বাসের কিছু দেখছি না। তাছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারে এইরকম স্পর্শকাতর বিষয়ে অসত্য প্রতিবেদন করতে কেউ সাহস পাবে না।

২. সাংবিধানিক ক্ষমতার বিষয়ে আরো জেনে জানাবো। কিন্তু, যদি নাও থাকে, তখন আপনার বিচার কেমন হবে?

৩. আমিও অভিভূত!

২. ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:২০
মগ্নতা বলেছেন: সামহোয়ারইনের বৈপ্লবিক অবস্থান! এইটা কি কইলেন? :)
২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৯

লেখক বলেছেন: কেন, আপনার সন্দেহ থাকলে খুলে বলুন।

৩. ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৪২
অলস ছেলে বলেছেন: প্রধান বিচারপতি নিশ্চিতভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন, সন্দেহের অবকাশ নেই। বর্তমান বাংলাদেশে এমন কাজ কিভাবে করলেন? একএগারোর পর এটা তো অকল্পনীয়।

আর সামুর বিপ্লব =p~ =p~ =p~
২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৩৯

লেখক বলেছেন: আপনারো সন্দেহ! :)

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৪৭

লেখক বলেছেন: আআর..

৫. ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:৫২
জাতিষ্মর বলেছেন: প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির নির্দেশ অমান্য করার ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবেই সংরক্ষণ যদি নাই করেন তাইলে আর কাউন্সিল করার দরকার কি? অমান্য করলেই প্রধানবিচারপতি বাদ।
২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৪৩

লেখক বলেছেন: ঠিক বলেছেন আপনি। প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির নির্দেশ অমান্য করার ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবেই সংরক্ষণ যদি নাই করেন তাইলে আর কাউন্সিল করার দরকার কি?

২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৪৫

লেখক বলেছেন: শুধু হাসলেই কিছু একটা বলা হয়ে যায়? সাথে একটু কাশলেও ভাল হতো। :)

৭. ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:০৬
কৌশিক বলেছেন: মানে প্রধানমন্ত্রী যে কথাগুলো বলেছে তার সাথে নিজামী মুজাহিদের কথাও একই ছিলো এতদিন। সেজন্য একটু ডাবল চেক করে নেয়া ভালো।

রাষ্ট্রপতির নির্দেশ প্রধান বিচারপতি পালন করার ক্ষেত্রে অবশ্যই একটা বিচারবিভাগীয় স্বাধীনতার যোগসূত্র রয়েছে। নিশ্চয়ই প্রধান বিচারপতির এমন ক্ষমতা রয়েছে যা তিনি করে দেখিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির নির্দেশ যদি মানা বাধ্যতামূলক হয় তবে রাষ্ট্রপতি যখন সংবিধানের ব্যতয় করেন সেটার বিরুদ্ধে রায় দিতে পারতেন না প্রধান বিচারপতি।
২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৫৩

লেখক বলেছেন: আমি অবশ্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরে নিজামী মুজাহিদের থেকে পৃথক মনে করি না। আর যেই নিউজের (সত্য হোক বা মিথ্যা হোক) এখনো পর্যন্ত একটা ডিপ্লোমেটিক প্রতিবাদ পর্যন্ত আসে নাই, আমি ধরে নিয়েছি প্রধানমন্ত্রী এই কথাগুলো স্রেফ মুখ ফসকে বলেন নাই, বরং এটাই বর্তমানে আওয়ামীলীগের অবস্থান।

অন্য বিষয়টি নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ সত্য। নিচে আরো বিস্তারিত বলতে ইচ্ছুক।

৮. ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:০৭
মগ্নতা বলেছেন: আররে রিফাত ভাই এই টাইমে সামুর ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করনেও বিপদ। তয় সন্দেহ না, শুধু কই: কত অজানারে!

আপনের লেখা থিকা একটা কোটেশন নিলাম: ব্লগ কোনমতেই ক্যাম্পেইনের জায়গা নয়। এটি সপ্রাণ আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ককে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জায়গা। এই তর্ক-বিতর্কের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া ব্লগের কাজ নয়, সমাজের জরুরী বিষয়গুলোতে একটা প্রাণবন্ত বৃদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক তৈরী করা এর কাজ।

এই ক্যাম্পেইনের বিষয়ে কথা কইতে গিয়ে আপনের পোস্ট ডিলিট এবং অন্য কিছু হেনস্থার কথা সকলেই জানে, এ বিষয়ে ব্লগে লেখালেখির পরিমাণও কম নয়। আসেন এইসব বিষয়রে আলাপে আনি, কি কন?

২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:৫৭

লেখক বলেছেন: আসেন এইসব বিষয়রে আলাপে আনি> তো আনেন না। ব্লগে ক্যাম্পেইন বিষয়ে আমার পূর্বাপর অবস্থান এখনো অটুট আছে। আছে বলেই সামহোয়ারের এই বিপ্লবমার্কা ব্যানাররে ঠাট্টা করা প্রয়োজন মনে করলাম।

৯. ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৩১
রিফাত হাসান বলেছেন: এই উত্তরটি কৌশিকের জন্য। আমার উপরের দেয়া লিঙ্কে বিশিষ্ট আইনজ্ঞ জনাব সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেছেন, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুই বিচারককে শপথ না পড়ালে প্রধান বিচারপতির শপথ ভঙ্গ হবে। আসুন দেখি সংবিধানের এই ১৪৮ নং অনুচ্ছেদে কী আছে: এই অনুচ্ছেদটি হলো: oaths and affirmations (শপথ ও ঘোষণা), এতে প্রধান বিচারপতির শপথ বাক্যে বলা হয়েছে:

I,……….., having been appointed Chief Justice of Bangladesh (or Judge of the Appellate/High Court Division of the Supreme Court) do solemnly swear (or affirm) that I will faithfully discharge the duties of my office according to law:

That I will bear true faith and allegation to Bangladesh:

That I will preserve, protect and defend the constitution and the laws of Bangladesh: And that I will do right to all manner of people according to law, without fear of favour, affection or ill-will.

(৩১ মে ২০০০ সালে জনাব আব্দুল মজিদ খসরু মন্ত্রী থাকাকালে প্রকাশিত সংবিধান এর কপি থেকে তুলে দেওয়া)
২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৩২

লেখক বলেছেন: মজিদ> মতিন

১০. ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:০২
কৌশিক বলেছেন: ১৪৮ এ যে ল' মানার কথা বলা হচ্ছে তাতে বোঝা যায় প্রধান বিচারপতির কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত একটা রেগুলেশন আছে। সেই রেগুলেশনে রাস্ট্রপতি ও সরকার প্রধানের সাথে সম্পর্কের নানাবিধ মাত্রার বিস্তারিত থাকার কথা। রাষ্ট্রপতি বিচারপতি নিযুক্ত করবেন এই সুপ্রিম সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচারণ কি কি ক্ষেত্রে করা যায় তারও একটা রেগুলেশন থাকার কথা - সাধারণত আইনগুলো এমন হয়ে থাকে, যেখানে হয়তো বলা থাকবে যে যদি মনে হয় রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত সংবিধান বহির্ভূত অথবা অন্য কয়েকটা কারণ, এবং এমন ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি যেহেতু সংবিধান সুরক্ষায়ও শপথবদ্ধ সুতরাং আসলে দেখতে হবে বিচারপতি নিয়োগের সাংবিধানিক আইনের কোনো ব্যতিক্রম করেছে কিনা রাষ্ট্রপতি।
২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০৪

লেখক বলেছেন: আপনার জবাবটা নিচে দিলাম।

১১. ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৭:৫১
আলাপ বলেছেন:
That I will preserve, protect and defend the constitution and the laws of Bangladesh:

And that I will do right to all manner of people according to law, without fear of favour, affection or ill-will.

রাষ্ট্রপতিকে তথাজ্ঞা করবার সূত্রতো তাঁর শপথে পেলামনা।
২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:১৪

লেখক বলেছেন: হাঁ, নিচে কিছু আলাপ করেছি এ বিষয়ে, দেখতে পারেন।

১২. ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৮:০১
ননাই বলেছেন: রাষ্ট্রপতির নিয়োগকৃতদের একজন খুনের প্রধান আসামী এবং অপরজন প্রকাশ্য জনসম্মুখে প্রধান বিচারপতির এজলাস ভাঙচুরকারী ও সন্ত্রাসী হিশেবে প্রমাণিত হলেও এই দুইজনকে বিচারপতি হিশেবে শপথ না পড়িয়ে তিনি গুরুতর অসদাচরণ করেছেন

হককথা
২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৩

লেখক বলেছেন: হককথা

১৩. ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০২
রিফাত হাসান বলেছেন: বেশ, তাহলে এইসব আইনি বিষয়গুলোও একটু ঘেঁটে নিই। উপরে যে কোটেশন দিলাম এইটা শুধু প্রধান বিচারপতি নয় সব বিচারপতিদের শপথ। বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে সংবিধানের ৯৫ নং ধারায় আছে:

(1) The Chief Justice and other Judges shall be appointed by the President.

(2) A person shall not be qualified for appointment as a Judge unless he is a citizen of Bangladesh and –

(a) has, for not less than ten years, been an advocate of the Supreme Court; or

(b) has, for not less than ten years, held judicial office in the territory of Bangladesh; or

(c) has such other qualifications as may be prescribed by law for appointment as a Judge of the Supreme Court.

সর্বশেষ বোল্ড করা অংশটা খেয়াল করে দেখুন, এই other qualifications এর ব্যাখ্যাটাই হল এর নির্ধারক। বিচারক নিয়োগের ভার হল রাষ্ট্রপতির উপর, এঁদের শপথ পড়াবেন প্রধান বিচারপতি, আবার প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি স্বয়ং। তো এর অন্যথা কিছু হলে বা এঁরা কেউ শপথ পড়াতে না চাইলে তার আইনী ফলাফল কী হবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা নেই যেটুকু দেখেছি। কিন্তু সংবিধানে যেই আদার কোয়ালিফিকেশনস এর কথা বলা হয়েছে সেটি হল অন্যান্য আইনে আরো যেসব শর্ত আরোপ করা হয়েছে- যেমন ফৌজদারী অপরাধের অভিযোগ থাকলে এমন লোকের সরকারী চাকুরিতে নিয়োগ বা বহাল থাকার বিষয়ে আইন কিন্তু রয়েছে। সরকারি কর্মচারী আইনে রয়েছে, কারো বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের হলে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় থাকবেন। ফৌজদারি অভিযোগ থেকে রেহাই পাওয়ার পরই কেবল তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।- ৮ তারিখের আমার দেশে এই নিয়োগের খবরটি চাওড় হবার পরপরই সরকার কর্তৃক মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে- এ ব্যাপারে এটর্নি জেনারেলের বক্তব্য শুনুন: যে খুনের মামলাটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে সেটি শিবিরের একজন খুন হয়েছিলেন। শিবির চক্র একটি মামলায় একজন আইনজীবীকে ফাঁসিয়ে মামলা করলেই কেউ অপরাধী হয়ে যাবেন না।- আইন মনে হয় অই ভদ্রলোকের বাপদাদার সম্পত্তি, শিবির মরলে এই আইন কাজ করবে না। আর একটি নোটেবল তথ্য: এই মামলায় অভিযুক্ত আইনজীবিকে প্রধান আসামী হিশেবে চার্জশিটভুক্ত করার জন্য হাইকোর্টেরই আলাদাভাবে নির্দেশনা ছিল। তো প্রধান বিচারপতি এই আইন জেনে এবং তাদের এই অপরাধের ব্যাপারে অবগত হয়ে যদি তাদের শপথ পড়াতেন তাহলেই বরং তার সংবিধান অবমাননা হত- কারণ তাঁর শপথে আছে:

I will preserve, protect and defend the constitution and the laws of Bangladesh

I will do right to all manner of people according to law, without fear of favour, affection or ill-will.
২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:১০

লেখক বলেছেন: সংবিধানের যে কোন সূত্রের জন্য http://bdlaws.gov.bd/pdf_part.php?id=367 লিংকটি দেখতে পারেন, বাংলাদেশের সরকারী ওয়েবপোর্টাল সম্ভবত।

আর গতকালকে এ বিষয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরীর বক্তব্য পড়ে দেখতে পারেন।

২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:১৩

লেখক বলেছেন: তাঁর বক্তব্যের চুম্বক অংশ:

ওয়ান-ইলেভেনের পর জরুরি অবস্থার সরকার দেশের রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিল্পপতিসহ নিরপরাধ মানুষকে হয়রানির জন্য আদালতকে ব্যবহার করেছে। ওই সময় বিচার ব্যবস্থা হীন অবস্থার দিকে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে নির্দ্বিধায় বলা যায়, বর্তমানে বিচার ব্যবস্থা একটি কাচের ঘরে পরিণত হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে এ ঘর ভেঙে পড়বে। এটা হলে মানুষের আর দাঁড়ানোর কোনো জায়গা থাকবে না। তিনি বলেন, সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত দু’জন বিচারপতির বিষয়ে বিতর্ক উঠায় প্রধান বিচারপতি তাদের শপথবাক্য পাঠ করাননি। এটি প্রধান বিচারপতির এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে। বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতার স্বার্থে তিনি এটা করতে পারেন। কিন্তু সরকারি দলের নেতা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা বাদপড়া দুই বিচারপতিকে শপথ পড়ানোর জন্য যেভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন, তা বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কেউ কেউ বলছেন, শপথ না দিলে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ উত্থাপন করা হবে। এ অবস্থায় যদি প্রধান বিচারপতি বাদপড়া দুই বিচারপতিকে শপথ দেন, তাহলে দেশের মানুষ মনে করবে, সরকারের হুমকি-ধমকিতে ভীত হয়ে প্রধান বিচারপতি শেষ পর্যন্ত তাদের শপথ দিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রধান বিচারপতি শেষ পর্যন্ত যদি তাদের শপথ না পড়ান আর শপথ না দেয়ার অভিযোগে যদি তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ উত্থাপন করাই হয়, তাহলে সেটার তদন্ত ও অনুসন্ধান হবে। এতে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। আর যদি শপথ না দেয়ার দোষে দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অপসারিত হবেন। প্রধান বিচারপতিকে এভাবে হুমকি দেয়ার পরিণাম শেষ পর্যন্ত হুমকিদাতাদের জন্য অকল্যাণই বয়ে আনবে।

১৪. ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:৩৬
প্রতিদিন রিটার্নস বলেছেন: ইন্টারেস্টিং আলোচনা চলছে।
২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৯

লেখক বলেছেন: আপনিও আসুন।

১৫. ২৬ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:১৮
মগ্নতা বলেছেন: ব্লগে ক্যাম্পেইন বিষয়ে আমার পূর্বাপর অবস্থান এখনো অটুট আছে। আছে বলেই সামহোয়ারের এই বিপ্লবমার্কা ব্যানাররে ঠাট্টা করা প্রয়োজন মনে করলাম।

ঠা-ট্টা-

:)
২৬ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:৪৩

লেখক বলেছেন: দরকার আছে।

১৬. ২৬ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:৪২
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: এক .
হয়- রাষ্ট্রপতি ওই দুইজনের নিয়োগ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেন নাই। (পরামর্শ করলে প্রধান বিচারপতি তাদের শপথ পড়াইলেন না কেন ?) । এই পরামর্শ না কইরা সরকার আবারো সংবিধানের লঙ্ঘন করছেন।

দুই.
সংবিধান ও আপীল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ি- ১০ বছর নুন্যতম সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস না করলে ওই বিভাগের বিচারপতি হওয়ার নুন্যতম যোগ্যতা অর্জিত হয় না। অথচ যে ১৫ জনকে প্রধান বিচারপতি শপথ পড়াইলেন তাদের মধ্যে কয়েকজনই আছেন যারা এই নুন্যতম যোগ্যতা ছাড়াই সরকারের কাছ থেকে নিয়োগ আদায় করতে পারছেন। তার মানে প্রধান বিচারপতিও সংবিধান লঙ্ঘন করছেন, নিজের আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন করছেন।

----------

যেমন সামহোয়াররে আমগো সহব্লগারদের অনেকে গত নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের প্রচারনা কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করছিলো। ব্যানার ঝুলাইছিলো। তো, কি আওয়ামী লীগ কি বিএনপি হেরা পারলে এখন বিচারপতির এজলাসে ব্যানার ঝুলায়া দ্যায়। জয় বাংলা !

এতো ফালতু প‌্যাচাল এই কারনেই পারলাম যে, এইসব বালছাল লঙ্ঘন কোনো গুরুতর অপরাধ বইলা বাংলাদেশের নির্বাহী বা বিচার বিভাগ কেউ-ই মনে করে না।
বিচারপতিরা আর বিচারকরা এখন আর দশটা ট্রেডের মতোই ট্রেড ইউনিয়নের মতন আচরন করে, যতটুকু পারে যেই সরকারের আমলে। আর সরকার তো পারলে এখন আওয়ামী লীগের অর্গানোগ্রাম নিয়া আদালতে বসায়া দেয়। দলের বাইরে আর আদল কি? এক দল এক দেশ! মানে নাই দেশ!

আর আপনেরাও এইসব নিয়া ভাব মাইরা পোস্ট দেন, আলোচনা করেন!
২৭ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:১০

লেখক বলেছেন: আচ্ছা, প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শটা কি কাষ্টম, নাকি সংবিধানে উল্লেখ আছে- আমার জানা নেই। একটু জানাবেন দয়া করে।

আর এই ১৫ বিচারপতির ন্যুনতম ১০ বছরও সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসে না থাকার ঘটনা তো মিডিয়ায় আসে নাই- আপনার তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হলাম কী করে।

আপনার অপরাপর কথাগুলো সত্য- সহমত না হওয়ার উপায় নেই- আর সত্য বলেই এইসব ভাবধরা পোষ্ট। আপাতত এখানে একটা রাষ্ট্র আছে- এই ভাব ধরেই কথা কওয়াকওয়ি করতে হবে- য়ুটোপিয়ান ভেক ধরা কম্যুনিষ্টের মত একটি যথার্থ রাষ্ট্রের জন্য বসে থাকারে কাজের মনে করি না।

১৭. ২৬ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:৪০
ফিনিক্সম্যান বলেছেন: এইমাত্র মোহাম্মদ আরজু কাশছেন। আমারো এইরম একটা ভাব আছিল।
২৭ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০৫

লেখক বলেছেন: ভাবটার এখন কী হল

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৮

লেখক বলেছেন: লিঙ্কটা দিয়ে ভাল করেছেন। ধন্যবাদ।

১৯. ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০৭
সিনসিয়ার বলেছেন: ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কড়া ভাষায় বলেছেন, দেশে রাজাকার বলে কোনো শব্দ নেই। দেশে কোনো রাজাকার নেই। তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের দাদাশ্বশুর ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রয়াত খন্দকার নূরুল হোসেন নূরু মিয়া ফরিদপুরে রাজাকারদের তালিকার ১৪ নম্বর রাজাকার হলেও তিনি যুদ্ধাপরাধী ছিলেন না বলে শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ফরিদপুরের নেতাদের কাছে প্রশ্ন করেছেন, তার ভাই শেখ সেলিম ফরিদপুরের রাজাকার মুসা বিন শমসের ওরফে নূইলা মুসার সঙ্গে ছেলে বিয়ে দিয়ে আত্মীয়তা করেছেন—এটা কেন তারা কখনও বলেন না; অথচ শেখ হাসিনার মেয়ের দাদাশ্বশুর নূরু মিয়ার নামে সবাই অভিযোগ করেন যে, তিনি রাজাকার ছিলেন। নূরু মিয়া পিস কমিটির সদস্য থাকলেও যুদ্ধের সময় তিনি কোনো অপরাধমূলক কাজকর্ম করেননি বলে শেখ হাসিনা গর্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের মনে করিয়ে দেন। - আমি বাকরুদ্ধ...এটা কি করে বললেন শেখ হাসি না? আমি এর আগে সন্দেহ করেছিলাম, আওয়ামীলীগ কি যুদ্ধাপরাধিদের বিচার করবে? শিরোনামে। তো দেশে যেহেতু এখন আর রাজাকার নাই...রাজাকারের বিচার করার প্রশ্নও থাকলো না (আমি খুব কষ্ট নিয়ে কথাটা লিখছি, আওয়ামীলীগের রেস্টার্ড ভোটার হওয়ার পরেও)

এইবার বিচারপতি প্রসঙ্গে আসি। বর্তমান সিস্টেমে সরাসরি রাজনীতির সাথে জরিত-জারিত না হয়ে কি প্রধান বিচারপতির মতোন পদ পাওয়া সম্ভব বলে আপনে মনে করেন? অথবা প্রধান বিচারপতি সহ অন্যান্য সাংবিধানিক পদে যারা আছেন, তাদের নুন্যতম আত্ম-সন্মান জ্ঞান আছে বলে কি আপনার মনে হয়? (বুঝতে পারছি বড়ো বেশি সরলিকরণ করে ফেলছি, কিন্তু কিচ্ছু করার নেই...ক্ষমা করবেন)...তো এই যখন অবস্থা তখন এই জাতীয় কূট-তর্ক অর্থহীন মনে হচ্ছে...

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৩

লেখক বলেছেন: হাঁ, উপরে আরজুর মন্তব্যেও আপনার কথারই মত একটা ধ্বনি আছে। কিন্তু এই অর্থহীন কথা-বার্তাও অন্তত যদি না চালিয়ে যাই- তাহলে কী আর করতে পারি!

২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৬

লেখক বলেছেন: :(

২১. ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০২
সিনসিয়ার বলেছেন: খোদার কসম, এই রোদ্দুরে রেডিক্যাল হতে চাওয়া কাজের কথা নয়। বরং আমরা সুবিধামতো একটিভিস্টই থাকি।
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৪

লেখক বলেছেন: আপনি বেশ রসিক বটেন। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

২২. ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৫৬
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: স্বল্পকথায়, ইহার নাম পলিটিক্স....
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:০৪

লেখক বলেছেন: আপনি বেশ স্বল্প কথার লোক, বুঝলাম।

২৩. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১০:১০
মগ্নতা বলেছেন: ২০০৪ ও ২০০৬ সালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অবস্থান ছিল বিপরীত

শামছুদ্দীন আহমেদ: আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গত ২১ এপ্রিল প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি বিচারকদের নিয়োগ দেয়ার পর সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদেরকে শপথ পাঠ করাতে প্রধান বিচারপতি বাধ্য। সে অনুযায়ী তিনি যদি এখন অপর দুই বিচারককে শপথ পাঠ না করান তাহলে প্রধান বিচারপতির নিজেরই শপথ ভঙ্গ হবে। এর ফলে সংবিধান, গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসন বিপর্যয়ে পড়বে।

তবে ২০০৪ ও ২০০৬ সালের ঘটনার দিকে তাকালে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সেসময়কার বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলে, ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১৯ জনকে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেন। প্রধান বিচারপতির পরামর্শ নেয়ার রেওয়াজ ভঙ্গ, দলীয়করণ ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনসহ বিতর্কিতদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে বিরোধিতা করে তখনকার আওয়ামী লীগ সমর্থিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ। এই নিয়োগ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এজলাস বর্জন করার কর্মসূচিও দেয়া হয়। পরে প্রধান বিচারপতির আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যহার করে নেয়া হয়েছিল।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও তখন এই নিয়োগের সমালোচনা করে বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি বিচারবিভাগকে কলঙ্কিত করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘদিনের রীতিনীতি ও রেওয়াজকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও তখন জোরালো মত দেন তিনি।

এরপর অস্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ১৯ বিচারপতির ১৭ জনকে ২০০৬ সালের ২২ আগস্ট স্থায়ী করা হয়। ১৭ জনের মধ্যে দুই বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী ও মোহাম্মদ এমদাদুল হক আজাদকে শপথ পাঠ না করাতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জেআর মোদাচ্ছিরের প্রতি আহ্বান জানান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, আব্দুল মতিন খসরু, অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদারসহ আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা। তাদের আপত্তির মুখেই পরদিন ১৭ জনকে শপথ পড়ান প্রধান বিচারপতি। শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করেছিল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। শপথের প্রতিবাদে সেদিন আয়ামী লীগ সমর্থিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে মিছিল-সমাবেশ করে। এ নিয়ে তখন আদালত পাড়া উত্তপ্ত হয়েছিল।

সেদিন এই অবস্থান দেখালেও গত ২১ এপ্রিল সুরঞ্জিত সেন বললেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৫ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের একক ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির। নিয়োগ এবং গেজেট হয়ে যাওয়ার পর কোনো বিচারককে শপথ না পড়ানোর জন্য প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতিও পরামর্শ দিতে পারেন না।

সুরঞ্জিত আরো বলেছেন, বিচারকের যোগ্যতা সম্পর্কে সংবিধানেই বলা আছে। দশ বছর বার বা বেঞ্চে কাজ করার অভিজ্ঞতাই যোগ্যতা। নিয়োগ পাওয়ার পর কারো সম্পর্কে কোনো অভিযোগ-আপত্তি উঠলে সেটির বিচার করা প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নয়। তখন তার একমাত্র দায়িত্ব তাদেরকে শপথ পাঠ করানো।

২১ এপ্রিলের সংবাদ ব্রিফিংয়ে সুরঞ্জিত বলেছিলেন, বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির পরামর্শ নেয়ার কথা সংবিধানে বলা নেই। এটি একটি প্রথা বা রেওয়াজ মাত্র। এখন এটিকে ‘রেওয়াজ মাত্র’ বললেও ২০০৪ ও ২০০৬ সালে এই রেওয়াজকে মুখ্য হিসেবে দেখে তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনিসহ আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা।
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:১৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, আপনার এই কপিপেষ্টসমূহ এই পোষ্টের জন্য মূল্যবান।

২৪. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:৩৩
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: সুরন্জিতের কথা আর কি বলবো, ভাগ্য ভাল তিনি আওয়ামী রাজনিতীক হয়েছেন নয়তো তিনি হতেন টানবাজারের সফল ভাড়ুয়া........!!!
০৫ ই মে, ২০১০ দুপুর ২:৩৪

লেখক বলেছেন: :(

২৫. ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৪৭
জাতি জানতে চায় বলেছেন: প্রধান বিচারপতি একধরনের দিধান্বিত অবস্থান নিছেন, যার পেছনে প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব থাকতে পারে! তিনি যেমন আওয়ামী আবদার শুনেন নি, তেমনি গেজেট বাতিলের জন্য কোন পদক্ষেপও নেন নি! তিনি আরেকটু শক্ত অবস্থান নিয়ে এ বিষয়ে সুয়োমটো রুল জারি করতে পারতেন!

তবে সুপ্রীম কোর্ট এখনও কিছুটা ভাগ্যবান যে, প্রাক্তন বিচারপতি বদরুল হকের (যিনি কিছুদিন আগেই টিএসসিতে একটি ছায়া যুদ্ধাপরাধী বিচারের বিচারক ছিলেন) মত কেউ এখনও প্রধান বিচারপতি পদ অলঙ্করণ করেন নি (জানামতে)! সতের জন বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে একটি টকশোতে তিনি অভিযুক্ত দুই বিচারককে পরোক্ষভাবে বাচানোর চেষ্টা করেছেন!!! উক্ত টকশোতে তিনি ঘাড়-মোটা ব্যক্তির মত খুবই ধীরগতিতে (কচ্ছপের চেয়েও) বক্তব্য উপস্থাপন করেন, যার সারাংশ উনি বিষয়টি শুনলেও বিস্তারিত জানেন না! এনারা কি খুনের মামলার প্রধান আসামী কিনা, বা এজলাস ভাংচুর করেছেন কিনা, সে ব্যপারে একেবারেই অজ্ঞ! তিনি বিষয়টিকে গভীরভাবে খতিয়ে দেখার কথা বলেন! ঘুরে ফিরেই তিনি বিগত জোট সরকারকে দলীয় বিচারপতি নিয়োগের জন্য অভিযুক্ত করেন, এমনকি সঞ্চালক বর্তমান বিষয়টিকে ভিন্ন ধরনের বলার পরও বর্তমান বিষয়ের ব্যপারে তিনি সরাসরি কোন মতামত ব্যক্ত করতে চান নি! কথা হলো, টপিক যেখানে বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে, সেখানে তিনি কিনা বিষয়গুলো ভালভাবে না জানার কথা বলছেন!!! তাহলে তিনি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনই বা করলেন কেন??!! একজন প্রাক্তন বিচারপতি (১২ বছর) কিভাবে আদালত সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর এসব বিষয়ে উদাসীন থাকেন, যখন কিনা বর্তমান বিরোধীদল ক্ষমতায় থাকা কালীন কি করেছে সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেন???!!! উল্লেখ্য তিনি আওয়ামী নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী ও সেনা কুশীলব কর্তৃক ডিম থেরাপীর শিকার মহিউদ্দীন খান আলমগীরের সাথে ছাত্ররাজনীতি করেছিলেন!

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৪৪৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমরা কী দারুণ গল্পসভা কথা সাম্রাজ্যে ছিলাম
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ