প্রধান বিচারপতি গুরুতর অসদাচরণ করেছেন
প্রধান বিচারপতি গুরুতর অসদাচরণ করেছেন। হাঁ, তাঁর শাস্তি হওয়াও প্রয়োজন। প্রধান বিচারপতিকে অপসারণে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের চিন্তা- শিরোনামের রিপোর্টটি পড়ে কিছুটা হতভম্ব হয়েছিলাম। পরে ভাবলাম, এই হতভম্বের বোধটার কোন মানে নেই। বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের ৯৬(৫) অনুচ্ছেদ মতে, শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্য অথবা গুরুতর অসদাচারণের জন্য এরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। বিচারপতি হিশেবে রাষ্ট্রপতির নিয়োগকৃতদের একজন খুনের প্রধান আসামী এবং অপরজন প্রকাশ্য জনসম্মুখে প্রধান বিচারপতির এজলাস ভাঙচুরকারী ও সন্ত্রাসী হিশেবে প্রমাণিত হলেও এই দুইজনকে বিচারপতি হিশেবে শপথ না পড়িয়ে তিনি গুরুতর অসদাচরণ করেছেন এবং তার মানসিক ও শারীরিক অসামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। এটি অসমর্থন করবে এই আওয়ামী যুগে এমন বুকের পাটা কার? মাননীয় প্রধান বিচারপতি, আপনি যদি নিজেকে সুস্থ্ ও মানসিক ভারসাম্যপূর্ণ প্রমাণ করতে চান, অনতিবিলম্বে এই দুইজন খুনি ও সন্ত্রাসীকে শপথ পাঠ করিয়ে নিজে দায়মুক্ত হোন এবং সর্বোচ্চ আদালতকে সম্মানিত করুন।
দুটি শব্দের গ্লানি, সামহোয়ারইনের বৈপ্লবিক অবস্থান!
যদিও অপমানজনকভাবে, তবুও, এইবার ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ দুটি শব্দের গ্লানি থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন, এবং নতুন অর্থ এবং শব্দের রাজনীতি শুরু করেছেন। এক. এখন থেকে যুদ্ধাপরাধী কাউকে বলা হবে না, শ্রেফ মানবতাবিরোধীদের বিচার হবে। পাকিস্তানী রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠকের পর সরকারের মন্ত্রীবরের এই ঘোষণায় রাষ্ট্রীয়, এমনকি ব্যক্তিমালিকানাধীন সব ধরণের মিডিয়ার ভাষা বদলে গেল: আগে যেখানে যুদ্ধাপরাধী ছিল, এখন সেখানে মানবতা-বিরোধী। নেতা পাতিনেতা বুদ্ধিজীবী যারা এতদিন যুদ্ধাপরাধীর কথা বলে রেওয়াজ করেছে এখন তারা অনভ্যাসবশত মা-ন-ব-তা-বি-রো-ধী উচ্চারণে খেই হারিয়ে তোথলাতে থাকেন, তাদের মুখ ফসকে প্রায়ই বেরিয়ে আসে পুরনো শব্দগুচ্ছ, সে কেবল ভুলেই। কিন্তু একটা মজার ব্যাপার হলো, সামহোয়ারইন কর্তৃপক্ষ, সম্ভবত, বেখেয়ালেই এখনো শব্দগুচ্ছটি পরিবর্তন না করেই দেয়ালে ঝুলিয়ে রেখেছেন- নাকি একটা বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত! তাহলে সাধুবাদ- যদিও আমি অতীতে একটি ইন্টারএকটিভ ব্লগের এই ব্যানার লেখালেখিরে প্রশ্ন করেছিলাম- এমনকি আওয়ামীলীগের এই যুদ্ধাপরাধ রাজনীতিরে শুরু থেকেই সন্দেহ করেছিলাম- তবুও, এই মুহূর্তে সরকারের তৎপরতার বিরুদ্ধে যে কোন ধরণের অবস্থানই বৈপ্লবিক বটে!
দুই. সর্বসাম্প্রতিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর রাজাকার শব্দটার একই পরিণতি হলো। আসুন ভেবে দেখি, এরপর আমরা কি নিয়ে বাঁচবো?
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



