somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাষ্ট্রের ধর্মবাসনা, দলের ভণ্ডামি, জামাত নেতৃত্বের গ্রেফতার ও অন্যান্য প্রশ্ন

৩০ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
আধুনিক রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, রাষ্ট্রের ধর্মাকাঙ্ক্ষা থাকবে, ফলত সুযোগ পেলেই এটি নিজেরে পোপ ঘোষণা করবে এবং ধর্মের অবস্থান নিয়ে নেবে। রাষ্ট্রের এই ধর্মবাসনা ক্ষমতা ও তার প্রয়োগে, এবং তার প্রকৃতি সেক্যুলার, কিন্তু ধর্মের যাবতীয় চারিত্র গ্রহণ করার চেষ্টা করে। রাষ্ট্রের এই ধর্মভাব দেখা যাবে ট্রুথ কমিশন গঠন করে নাগরিকের কনফেশন ও আনুগত্য আদায়ের কাঙ্ক্ষা এবং একটি টোটালিটারিয়ান পরিস্থিতি- যেখানে রাষ্ট্রই চুড়ান্ত বিধিদাতা, দমন-নিপীড়ণ এবং নো টলারেন্স নীতি এইরকম কিছু উদাহরণে। অন্যদিকে মানুষের ধর্মবোধ আছে, তাই মানুষ ধর্মাচরণ করে। মানুষের এই ধর্মাচরণের চরিত্র সেক্যুলার নয়। তাই সেক্যুলার রাষ্ট্রের এই ধর্মানুভূতি ও ধর্মাকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে নিরন্তর জেহাদ জারি রাখে ধর্মবোধসম্পন্ন মানুষেরা- তা যে রূপেই তার প্রকাশ ঘটুক। এই জেহাদের পোশাকে ধর্ম থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে।

২.
ধর্মনিরপেক্ষ বলে কথিত একটি দলের ধর্মানুভূতি যখন পোপ বা কাঠমোল্লার চেয়েও প্রখর বোধ হচ্ছে বাংলাদেশে- যথা ধর্মানুভূতিতে আঘাত- রাষ্ট্রের কথিত ধর্মাকাঙ্ক্ষার সাথে এর মিল-অমিলগুলির ভাব-বিশ্লেষণ করা দরকার। আধুনিক রাষ্ট্রের যে বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হল সেখানে লক্ষণীয়- ধর্মকে ব্যবহার করা হোক বা না হোক- রাষ্ট্র নিজেই ধর্মের জায়গা দখল করে ধর্মীয় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন রাষ্ট্র হয় নিপীড়ক। এবং রাষ্ট্র তখন হয় ধর্মের প্রতিদ্ধন্ধি- ধর্মের সহায়ক নয়। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ বলে কথিত দলটির ধর্মানুভূতির উগ্রতা এবং তার কঠোর প্রয়োগের প্রতি একটু তীক্ষ্ণদৃষ্টি দিলে বুঝা যায় এখানে রাষ্ট্রের ধর্মাকাঙ্ক্ষা এবং দলীয় ভণ্ডামি একই স্বার্থের সমান্তরালে এসে মিশেছে। ধর্মানুভূতির কথা বলে একবার ফেসবুক এর মত গণযোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করা এবং আর একবার গ্রেফতার করা জামাত রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বকে- উভয় এবং দমন নিপীড়ণ ও নো টলারেন্স নীতির গন্তব্য এক। একদিকে ধর্মানুভূতির ভণ্ডামি এবং অপরদিকে রাষ্ট্রের ধর্মাকাঙ্ক্ষা।

৩.
দুঃখজনক হলেও, আওয়ামি নেতা পাতি নেতা ও মন্ত্রীদের প্রচুর হম্বিতম্বিতে তপ্ত যুদ্ধাপরাধ প্রশ্নটি কেন জামাত নেতাদের গ্রেফতারে এমনকি ব্যবহার করারও সাহস পেল না সরকার- এর কারণটা খুব দুর্বোধ্য হবে না আপনার কাছে। যুদ্ধাপরাধ রাজনীতির গতি-প্রকৃতি নিয়ে আমরা বহু আগেই সন্দেহ ও প্রশ্ন করেছি, এইবার সন্দেহ হল এই রাজনীতির গন্তব্য ধর্মানুভূতির বহুচর্চিত ব্যবসা দিয়েই সমাধা হবে বোধ হয়। কারণ, এ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধ রাজনীতির প্রধান অনুষঙ্গকে আমি যদ্দুর বুঝেছি জামাত বা ইসলামী রাজনীতির মোকাবেলার প্রশ্ন হিশেবে সংস্লিষ্টরা দেখছে, আদতে যুদ্ধাপরাধের বিচার নয়। জামাত বা ইসলামী রাজনীতিকে মোকাবেলার প্রশ্ন ও অস্ত্র হিশেবেই যে ইস্যুর জন্ম- তার পরিণতি যুদ্ধাপরাধ প্রশ্নে না হলেও অন্য যে কোন ইস্যুতে হলেও চলে- এটাই সম্ভবত বর্তমান পরিণতি। এখানে ভাষার বিবিধ ভণ্ডামি ও রূপান্তর ঘটবে ও ফতওয়া চলবে। যথা যুদ্ধাপরাধ> মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ> ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ইত্যাদি। কিন্তু গন্তব্য ও পাত্র একই।

৪.
অতীতে, বিভিন্ন লেখালেখিতে, এবং আজও জামাত রাজনীতির বিচার প্রশ্ন ও অনুরূপ অন্যান্য বিষয়ে একটা প্রাসঙ্গিক ও জরুরী তর্কের কথা বলেছি আমরা। সেটি হল একটা রাজনীতির মোকাবেলা কি আমরা রাজনীতি দিয়ে করবো, নাকি কোর্ট কাছারির হাইকোর্ট ও দমন-নিপীড়ণ দিয়ে সারবো। এই বিতর্কটি খুবই জরুরী প্রপঞ্চ হিশেবে হাজির হয়েছে সবসময় আমাদের কাছে, রাজনীতিবিদ-বুদ্ধিজীবি-আইন ব্যবসায়ী সবার মূর্খতা এবং অথবা সুবিধাবাদিতা ও ফ্যাসিবাদি মনোবিকারের কারণে। এই মনোবিকার, আওয়ামী হিসিটিরিয়ার কল্যাণে, কিছুদিন আগে এমনকি ‘মাননীয়’ হাইকোর্ট পর্যন্ত স্পর্শ করেছে, আমরা দেখেছি। আমরা ইতিপূর্বে এও দেখেছি, আওয়ামী বুদ্ধিজীবীগণ ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে ইচ্ছুক- তাও হাইকোর্টের কাঁধে বন্দুক রেখে; নিজেরা সাহসিকতার সাথে তার দায় নিতে রাজনৈতিকভাবে তৈরী নয়।

৫.
ইসলাম- দুনিয়ার ইতিহাসে যার রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানবিক অবদান ঋণার্হ, জামাত তেমনতরো একটি বিষয়ের কথা বলে রাজনীতি করে। এই জন্য, এবং বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এই দলটির তৎপরতাহেতু, জামাত কেমনতরো একটি রাজনৈতিক দল- তার রাজনৈতিক অভিলাস এবং এর ভালমন্দর খুঁটিনাটি এখন আবশ্যকভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যারা জামাত রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিতে চান এবং বিপক্ষে লড়াই করতে চান উভয়ের জন্য।

একটা কিম্ভূত বিষয় জামাত বলত, সেটি হলো রাষ্ট্রে আল্লাহর আইন, মানে, জাতিরাষ্ট্রের কাঠামোতে 'ইসলাম' প্রতিষ্ঠার আন্দোলন তাদের উদ্দেশ্য।

আমরা নিশ্চয়ই জানি, জাতিরাষ্ট্রের ধারণা পশ্চিমের উপজাত এবং এটি পশ্চিমা সভ্যতার রাজনৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করে। দুনিয়াতে পশ্চিমের ভৌগোলিক উপনিবেশবাদ ব্যর্থতার পর্যবশিত হবার পর পশ্চিম তার নতুন আইডিওলজিক্যাল প্রকল্প হিসেবে গণতন্ত্রকে মহৎ করে দাঁড় করিয়েছিল। সেই নিরিখে গঠিত রাষ্ট্রকাঠামোগুলো যেমন আমেরিকা সম্ভবত এই কথিত ইসলামী রাষ্ট্রবাদিদের দৃষ্টিকে সহজেই ঝলসে দিয়েছে। ফলতঃ পশ্চিমের বিন্যাসের মধ্যেই এই ইসলামী রাষ্ট্রবাদিদের প্রতিক্রিয়া সীমাবদ্ধ দেখা যায়। তাই লক্ষণীয় হলো, মিশরের ইখওয়ানুল মুসলেমিন, পাক-ভারত উপমহাদেশের জামায়াত এবং এই ঘরাণার দলগুলো ইসলামের কথা বলে পশ্চিমের ধারণাগত প্রকল্পকেই অনুসরণ করে এগিয়ে চলেছে সব সময়।

দেখা যায় এই রাষ্ট্রবাদিদের 'ইসলামী' বিপ্লবচিন্তা ও নেতৃত্ব ক্ষমতার পরিবর্তন এবং পশ্চিমের কাউন্টার বিন্যাস নির্মাণের ‘জেহাদে’ সীমিত। স্বভাবতই এতে কোন মৌলিকত্ব থাকেনা বরং পশ্চিমের স্ট্রাকচারকেই চুড়ান্ত ও পূজ্য বলে ধরে নেওয়া হয়। এ ধরণের আন্দোলনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পে পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের বাহন ইংরেজী সাহিত্যকে সাহিত্যে সভ্যতাভিত্তিক সমালোচনা ব্যতিরেকেই খুবই গুরুত্বসহকারে পাঠ করানো হয়। পশ্চিমের সাম্রাজ্যলিপ্সার অস্ত্র ইংরেজী ভাষা এবং সাহিত্যের জমকালো পাঠদানে হারিয়ে যায় সভ্যতা বিষয়ক পাঠ, সভ্যতার সমালোচনা।

এতো গেল আল্লাহর আইন ও 'ইসলামী' রাষ্ট্রকথন। কিন্তু এইসব আলোচনাও ফালতু হয়ে যাবে যখন গত এক এগারর সরকার কর্তৃক গঠিত নির্বাচন কমিশনের আপত্তির মুখে তারা এই উদ্দেশ্যর কথা এখন আর উচ্চারণ করবে না বলে জানায় এবং এ কথাটি সংবিধান থেকে মুছে দেবে বলে অঙ্গীকার করে। এ প্রসঙ্গে জামাত নেতৃত্ব হিকমত বলে একটি জিনিশের কথা কর্মীদের বুঝায়- যেখানে কম্প্রোমাইজই মুখ্য। এই হিকমত এবং কুটনীতিরে তারা এতই শক্তিশালী মনে করে যে, রাজনীতি যে জনগণের সম্মতি উৎপাদনের জায়গা এবং ক্ষমতার মূল বৈধতা- সেটি ভুলে যায়। তাদের রাজনৈতিক পরিকল্পনার প্রথমেই দেখা যায় অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়া- যার ফলে সহজেই একটি রাষ্ট্রক্ষমতার কাছাকাছি থাকা যাবে- এবং একদিন ক্ষমতাকেন্দ্রেও পৌছা যাবে। কিন্তু দেখা যায় জামাতের লোকেদের এই অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য পরিকল্পনায়ও কথিত 'ইসলামি' আদর্শের বাস্তবায়ন বা নৈতিকতা নেই। তাদের ল্যাণ্ড ডেভেলপমেন্ট ব্যাবসায় সুষ্ঠু নগর পরিকল্পনা দূরে থাক এমনকি কোন পরিকল্পনার ছোঁয়াও পাওয়া যাবে না, স্রেফ টাকা উপার্জন ছাড়া। এমনকি কুখ্যাত ইহুদি মহাজনদের সুদি অর্থনৈতিক কারবারের আদলে তৈরী ব্যাংকিং সিস্টেমের ইসলামীকরণও সেইরূপ চরিত্র বহন করে। তথাকথিত সুদবিহীন, কিন্তু রিস্ক ফ্রি লাভ, যেখানে গরিবের প্রবেশাধিকার নেই। মানে ধর্ম আছে, লাভও আছে, কিন্তু মানুষ বা মানবিক মানুষ হনুজ দূর অস্ত।



বরাত:

সহব্লগার জাতেমাতালের একটি পোষ্টে মন্তব্য বহুত দেরী হয়ে গেছে। পোষ্টটি হল: জামায়াতের কাছে জনগন স্বার্বভৌম নয়ঃ ফলে তাদের অগনতান্ত্রিক গঠনতন্ত্র অনুমোদন না দিয়ে নির্বাচন কমিশন তা প্রত্যাখান করেছে ...

জামাত রাজনীতির রাজনৈতিক বিচার: পি মুন্সী


একটি প্রাথমিক আলোচনার খসড়া: জামাত, জামাত বিরোধী রাজনীতির বিষয় আশয় ও যুদ্ধাপরাধ রাজনীতি: রিফাত হাসান
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×