somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... এগার, ইলেভেন: মুম্বাই ঘটনার প্রেক্ষিতে কিছু প্রশ্ন
এক তলার জানালা দিয়ে বাইরে লাট খেয়ে পড়ল দেহটা। কালো পোশাক। মাথা নীচে। পা উপরে।

একে রাত জাগা চোখ। তার উপর অন্তত পাঁচশো মিটারের দূরত্ব। ঠিকঠাক বোঝাও যাচ্ছিল না।

কে পড়ল? জঙ্গী? কমাণ্ডো? টিভি চ্যানেলের ভিউ ফাইণ্ডারে বারবার রিওয়াইণ্ড করে দেখা গেল, প্রথমে জানালা দিয়ে বেরিয়ে এল একটা রাইফেলের নল। তার কয়েক সেকেণ্ডের ব্যবধানেই ভিতর থেকে কেই একজন ঠেলে ফেলে দিল দেহটা। সেই ধাক্কা মারার মধ্যে বোধ হয় একটা তীব্র বিতৃষ্ণাও ছিল।

''বোধহয় ছিল'' লিখলাম! কেন যে লিখছি! নিশ্চয়ই ছিল।..


এই সাহিত্য এবং গল্পের আবহের ভিতরেই আমরা খুব অবাক হয়ে দেখি, ইণ্ডিয়ান মিডিয়াগুলো এই জিম্মি নাটকের একটা বহিরাঙ্গই কাভার করেছে, যা কমাণ্ডোরা প্লে করেছে। তারা ঘটনাটির তাৎপর্যমূলক দিকগুলি কাভার করতে পুরাপুরি ব্যর্থ হয়েছে, শ্রেফ কমাণ্ডো অভিযানের প্রেক্ষিতটাই তাদের মূল বিবরণ। কিন্তু হামলাকারীরা স্রেফ আত্মঘাতি হতে তো এখানে আসে নাই, তাইলে একটা বোমা ফুটিয়ে নিজের জীবনটারে দিয়ে চলে যেতে পারত। কিছু একটা দাবী আদায়ের লক্ষে জিম্মি সংকট তৈরী করতে চেয়েছিল তারা, তাদের সেই দাবী গুলো নিশ্চয় সরকার জেনেছে। সেইসব কী? যেইসব বোমা হামলায় মানুষজন নিহত হল, সেই বোমাগুলো কি জিম্মিদের, নাকি কমাণ্ডোদের? কারণ আমরা জেনেছি, কমাণ্ডোরা তাজ হোটেলের প্রতি ফ্লোরের জানালা দিয়ে গ্রেনেড ছুঁড়েছে। এই প্রশ্নগুলি আসবেই। তারও আগে আসবে ইলেভেন সংখ্যাটি ইতিহাসে যে সিম্বল তৈরী করেছে তার তাৎপর্যটুক ধরতে পারা, দুদিক থেকেই। একদিকে ওয়ার এগেইনস্ট টেরোরিজম এবং অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে সংগ্রামরত মানুষের বৈপ্লবিক আগ্রহ এবং ইনভলভমেন্ট।

এরই প্রেক্ষিতে কয়েকটি বিষয় সচেতন চোখকে ফাঁকি দিতে পারবে না বলেই আমার বিশ্বাস, যা এই ঘটনাটিরে আরো তাৎপর্যবহ করে তোলে। তা হলো-

এক. সর্বসাম্প্রতিক ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তি ও রণ-কৌশলগত সম্পর্কের উন্নতির পরে এবং সেই সাথে নতুন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ক্ষমতা গ্রহণের প্রাক্কালে এই নতুন ইণ্ডিয়ান ইলেভেন।

দুই. এই ঘটনার পরপর দুই আমেরিকান প্রেসিডেন্টের উতলা আগ্রহ (এটি একটি ইউনিক সময়ই বটে, বর্তমান আমেরিকায় দুজন প্রেসিডেন্টই আছে, বুশ এবং ওবামা, আরো আগ্রহের ব্যাপার হলো আর এক প্রেসিডেন্ট ম্যাককেইন এই ঘটনার পরপরই বাংলাদেশে এসে হাজির হচ্ছেন) নিয়ে যুগপত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ঘোষণা।

তিন. ইহুদীদের নরিম্যান হাউস আক্রান্ত হবার ঘটনা এবং তার প্রেক্ষিতে জায়নবাদী ইসরাঈল কর্তৃক ভারতে কমাণ্ডো পাঠানোর প্রস্তাবনা, যেটি ভারত পরবর্তীতে প্রত্যাখ্যান করেছে। কৌতুহলের ব্যাপারই বটে, এই প্রথম পৃথিবীতে এই ধরণের নাশকতার ঘটনায় দুইটি মহামূল্যবান ইহুদী প্রাণ বিনষ্ট হলো, সেই ইহুদি, যাদেরকে নাইন ইলেভেনের মত ঘটিত সব ঘটনাগুলির আগেই কোন এক অলৌকিক শক্তি সরিয়ে ফেলেছিল।

মনে রাখা দরকার যে, ভারতের একটা পরাশক্তি হওনের খায়েশ আগে থেকেই জারি আছে, তার জন্য আমেরিকার সাথে পরমাণু চুক্তি ও রণ-কৌশলগত সম্পর্ক আগেই তৈরী হয়েছে ভারতের। বাংলাদেশ সীমান্তে তার এই খায়েশের ঘনঘটা আমরা মাঝে মধ্যেই দেখতে পাই, অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলির উপরও তার প্রভুত্ব ও শোষন আমরা দেখেছি। আমরা এটিও জানি যে, অন্তত আট থেকে দশটি জাতিগোষ্ঠি ভারতের অভ্যন্তরেই নিপীড়নের বিরুদ্ধে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের জন্য লড়াই জারি রেখেছে। কিন্তু সরাসরি ওয়ার এগেইনস্ট টেরোরিজম-এ ভারতকে সম্পৃক্ত করা যায় নি এর আগে। পাকিস্তানকে যে লড়াই লড়তে হচ্ছে আমেরিকার হয়ে, নিজের ভূখণ্ডে।

তাহলে আমরা কি ধরে নিতে পারি, এই বিশেষ মুহূর্তে ক্ষমতাগ্রহণের পরপরই আমেরিকার নতুন বর বারাক ওবামাকে এবং রণ-কৌশলগত সঙ্গী ভারতকে সরাসরি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইমোশনালি ইনভলব্ড করে নেওয়ার একটা উদ্দেশ্য এর মাধ্যমে হাসিল হতে পারে? আমরা ইসরাঈলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের বিবিধ কুখ্যাত কর্মের কথা জানি, সেই সাথে সিআইএর সাথে তাদের মৈত্রী কোন লুকোছাপা ব্যাপার নয়।

নাইন ইলেভেন, ইলেভেন ওয়ান এবং এই নতুন আটাশে ইলেভেন কোনটাই এই যোগসূত্রটির থেকে পৃথক নয়, তার চরিত্র এবং ফলাফলের দিক থেকে। তাই এই বিষয়গুলি আলোচনা করার সময় আমরা কোনভাবেই ব্যাপারটি ভুলতে পারি না।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28876259 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28876259 2008-11-30 13:27:00
নির্বাচন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সমরনীতি: ফরহাদ মজহারের একটি লেখার লিঙ্ক বাংলাদেশে নির্বাচন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সমরনীতি বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সজিব ওয়াজেদ জয়কে উদ্ধৃত করে ফরহাদ মজহারের এই লেখাটি আমার কৌতুহল জাগিয়েছে। ব্লগের অন্যান্য পাঠকদের জন্য এর ভূমিকাংশটি এবং লিংকটি তুলে দিলাম।

সম্প্রতি Harvard International Review নামক একটি পত্রিকায় সজীব ওয়াজেদ জয় ও কার্ল জে সিওভাক্কো (Carl J. Ciovacco) মিলে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। ছাপা হয়েছে ১৯ নভেম্বর ২০০৮ তারিখে। (দেখুন, http:/ http://www.harvardir.org / articles/1784/)।
যে সময়ে লেখাটি ছাপা হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচনের সময়, বিচার করলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে এখন যে নির্বাচনী রাজনীতি চলছে তাকে কিভাবে সাজানো হয়েছে বা হচ্ছে সেটা বোঝার জন্য এই লেখাটি পড়া ও বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া আমি সজীব ওয়াজেদ জয়কেও বুঝতে চাই। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি যখন দেশে ফিরছিলেন তখন তাঁর বিরুদ্ধে নানান প্রচারণা চলেছিল। আমি তা নিন্দা করেছি। বিশেষত শেখ হাসিনা নিজের ‘ডাইনেস্টি’ প্রতিষ্ঠা করতে চান এই অপবাদ দিয়ে রাজনীতিতে জয়ের সম্ভাব্য ভূমিকাকে নষ্ট করবার একটা তৎপরতা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেই তৎপর ছিল। ‘মানবজমিন’ পত্রিকায় ছাপা আমার বক্তব্য ছিল সোজা। জয় যদি বাংলাদেশের নাগরিক হিশাবে কোন অবদান রাখতে চান, এটা তাঁর অধিকার। (আশা করি তিনি এখনও বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন, মার্কিন নাগরিক হননি)। তিনি শেখ হাসিনার পুত্র কিংবা শেখ মুজিবুর রহমানের নাতিন্ধ এটা তার দোষ বা অপরাধ নয়। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে তাঁর একটা গ্রহণযোগ্যতা আগেই তৈরি হয়ে থাকা স্বাভাবিক। সেটাও তাঁর দোষ নয়। তা ছাড়া আওয়ামী লীগ বৃদ্ধ ও প্রৌঢ়দের ভারে স্থবির। সেখানে তরুণরা সচলতা আনতে পারেন। একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হয়ে জয় বিদেশে দীর্ঘদিন থেকে কী শিখলেন, কী জানলেন সেটা জানার আগ্রহ অনেকেরই আছে। আমিও ব্যতিক্রম নই। লেখাটি পড়ে আমি বুঝেছি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যে নীতি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করছে, আওয়ামী লীগকে দিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় সেই নীতিই বাস্তবায়ন করার কথা বলছেন। তাঁর রাজনীতি সম্পর্কে আমার ধারণা আরো স্পষ্ট হয়েছে। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক কর্তব্য বা তাঁর ভাষায় 'A Secular Plan' হচ্ছে ইসলামি রাজনীতির বা তাঁর ভাষায় ‘ইসলামিজম’ ঠেকাতে বাংলাদেশে পরিপূর্ণ যুদ্ধে নেমে পড়া। কারণ যাকে নিয়ে বা যেখানে তিনি লেখাটি ছেপেছেন তাতে পরিষ্কার মার্কিন সন্ত্রাস ও যুদ্ধের অধীনে শুধু নয়, এমনকি সন্ত্রাসবিরোধী সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় তিনি তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করবার কথা ভাবছেন। (কিংবা তাঁকে দিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এই কাজটিই করিয়ে নিতে চাইছে)। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী ম্যানিফেস্টো হিশাবে আমরা এই লেখাটি পাঠ করতে পারি। জয়কে ধন্যবাদ দিতে হয় কারণ আগামী দিনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি কী হতে যাচ্ছে তার আগাম নমুনা তিনি আমাদের জানিয়েছেন।

জয়ের এই লেখাটি নিয়ে লিখবার কোন প্রয়োজন বোধ করতাম না। বেশ কয়েকট কারণে লেখাটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে হচ্ছে। লেখাটিতে তাঁকে শেখ হাসিনার ‘উপদেষ্টা’ হিশাবে পরিচয় দেয়া হয়েছে, যিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট। অতএব আমার এই লেখাও আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট শেখ হাসিনার একজন উপদেষ্টার নীতিনির্ধারণী লেখার ওপর আলোচনা। একে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। (তবে আশ্চর্য হয়েছি, তিনি যে শেখ হাসিনা ওয়াজেদের পুত্র, সেই তথ্য এই লেখায় তাঁর পরিচিতিতে নাই)।


শেখ হাসিনার উপদেষ্টা জয়ের সাথে বিশেষ অন্তরঙ্গ মুহূর্তে শেখ হাসিনা

দ্বিতীয় কারণ হচ্ছেন্ধ জয় একলা নন, সঙ্গে আরেকজন লেখক আছেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হিশাবে লিখলে লেখাটি তার একার হওয়াই বাঞ্ছনীয় ছিল। ব্যক্তি হিশাবে তিনি অবশ্য যে কারো সঙ্গেই যৌথ লেখা লিখতে পারেন। তবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হিশাবে অন্য কোন উপদেষ্টা বা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কারো সঙ্গে লিখলে সেটা ভালো দেখাত। কিন্তু জয়ের লেখার সঙ্গী কার্ল সিওভাক্কোর পরিচয়ে বলা হচ্ছে, তিনি একজন গবেষক এবং তার সাম্প্রতিক গবেষণা থিসিস হচ্ছে আলকায়েদার ‘গণমাধ্যম সংক্রান্ত স্ট্র্যাটেজি’। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের আলোকে আলকায়েদার বিরুদ্ধে তথ্য ও গবেষণার কাজ এটা। তিনি এই থিসিসটি লিখেছেন সরাসরি মার্কিন সেনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট পয়েন্টের (West Point) একটি বিশেষ গবেষণা কেন্দ্রের জন্য। কেন্দ্রটির নাম Combating Terrorism Center at West Point। মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সামরিক ভাবে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার জন্য যাদের শিক্ষা দেয় এবং সেখানে যারা গবেষণা করে তাদেরই একজন এই লেখাটির সঙ্গে জড়িত। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার জন্য মার্কিন সামরিক নীতি ও কৌশলের সঙ্গে লেখাটির সঙ্গতি বোঝাবার জন্যই দুইজনের লেখা হিশাবে লেখাটি হয়তো ছাপা হয়েছে। যাতে বোঝানো যায় শেখ হাসিনার রাজনীতি মার্কিন সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার সামরিক রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবেই জড়িত। সেই ভাবে লেখাটি পড়বার সুযোগ রয়েছে অবশ্যই। আমরা সেই ভাবেই লেখাটিকে পাঠকদের পড়তে বলব। লেখাটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া ছাড়া গত্যন্তর নাই। এটাও পাঠকদের জানা গুরুত্বপূর্ণ যে কার্ল সিওভাক্কো একজন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা। তিনি ইরাক ও সৌদি আরবে মার্কিন সেনাদায়িত্বে কর্মরত ছিলেন।...

বিস্তারিত লেখাটি পড়ার জন্য নিম্নের লিঙ্কে:
নির্বাচন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সমরনীতি

সজিব ওয়াজেদ জয়ের ব্লগস্পটের লিঙ্কটিও আগ্রহীদের জন্য শেয়ার করলাম: http://www.sajeeb.blogspot.com/
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28872550 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28872550 2008-11-22 13:48:38
''রবীন্দ্রনাথ'' ও বিএসএফ এর খুনাখুনি সামহোয়ারইন ব্ল গা ব লীতে প্রকাশিত হয়েছিল বেশ আগে, যখন ৪ বিডিআর জোওয়ান নিহত হলো ভারতের সীমান্তরক্ষী বিএসএফের হাতে। সেইসময়, এই পোস্ট লেখার কারণ হিশেবে বলেছিলাম, হান্নান সরকার-কৃষ্ণপদ দাস-রেজাউল-জয়নাল.. এই তালিকা দীর্ঘতর হচ্ছে। আর এই বিষয়ে কথা বলতে গেলেই একটি গোষ্ঠি বলছে, ভারতীয় জুজুর ভয় দেখিয়ে রাজনীতি ঘোলাটে করার পাঁয়তারা। তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা তাদের যা করতে বলে তারা তাই করছেন, আমার রাজনৈতিক সচেতনতা আমাকে এই জরুরী কাজটি করতে বলেছে। আজ আবার এই লেখাটি রিপোষ্ট করার কথা বললো আমার বন্ধুরা, কারণ এই মিছিল সত্যিই থামছে না। গতকালকে আবার জীবন দিল মাজেদা বেগম, ছোট্ট শিশূ মামুন আর মোস্তফা। এই মিছিলটি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। সেইসব শহীদদেরকে সালাম, আর সালাম সীমান্তের সেইসব প্রতিরোধী মানুষদের, যারা আগ্রাসী বিএসএফ সেনাকে পাকড়াও করে বিডিআরের হাতে তুলে দিয়েছে। গণপ্রতিরক্ষার জরুরত আমাদের মনে করিয়ে দিয়ে।

''রবীন্দ্রনাথ'' ও বিএসএফ এর খুনাখুনি: সেই পোষ্ট

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বি এস এফ'র গুলিতে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বি ডি আর এর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। এ দুজন হচ্ছেন: বগুড়ার গাবতলী উপজেলার কীর্তনীয়া গ্রামের হাবিলদার মো. আব্দুল হান্নান সরকার (বয়স: ৫৩) এবং মাগুড়ার শালিখা উপজেলার খোলাবাড়ী গ্রামের কৃষ্ণপদ দাশ (বয়স: ৩৯)। চাপাইনবাব গঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর সীমান্তের পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। আমরা বি ডি আরের এই দুই বীর সেনানীর আত্মার শান্তি কামনা করি। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের জমিনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই দুই যোদ্ধার আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলে যাবে না।

পত্রিকায় পড়েছি, বিডিআরের এই দুই সদস্যর গ্রামে এখন কান্নার রোল। যদিও এর মধ্যে শহীদ মো. আব্দুল হান্নান সরকারের পুত্র আর. জি. কিবরিয়া তাঁর পিতার আত্মত্যাগের রাজনৈতিক দার্শনিক তাৎপর্য ভুলে যান নি। তিনি বলেছেন, আমি গর্বিত, কারণ আমার বাবা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন।

আর শহীদ মো. আব্দুল হান্নান সরকারের বড় আশা ছিল- চাকুরী থেকে অবসর নেয়ার পর পবিত্র মক্কা জেয়ারতে যাবেন।

শহীদপুত্র আর. জি. কিবরিয়ার মত আমরাও বি ডি আর এর এই দুই সদস্যের আত্মত্যাগের রাজনৈতিক-দার্শনিক তাৎপর্য বুঝতে চাই। এই বোঝাপড়া আরো নির্মোহ হয় যদি আমরা একে সাম্প্রতিক আন্ত / র্জাতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের পরিসরে স্থাপন করি।

সেনাবাহিনী প্রধান মঈন উ আহমদের ভারত সফর নিয়ে বলি। প্রতিবেশী দেশে আমাদের সেনাপ্রধান শুভেচ্ছা সফরে যাবেন- এতে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু সফরের স্থান বাছাইয়ের মধ্যে তাঁর মনোভাবের সাংস্কৃতিক অভিমুখটি বুঝা যায়। আমাদের সেনাপ্রধান রবি ঠাকুরের শান্তি নিকেতন পরিদর্শনে গেছিলেন, কাঁধে ঐ বিশেষ বিদ্যা নিকেতনের ওর্না ঝোলানো ছবিটাও আমরা পত্রিকায় দেখেছি।



তাঁর রবীন্দ্রনাথ পরিদর্শনে আমাদের কোন আপত্তি নেই: বিশেষ করে যে মানবিক রবীন্দ্রনাথের সাথে আমাদের আশৈশব আত্মীয়তা। কিন্তু, মঈন উ আহমদ কি আসলেই সেই রবীন্দ্রনাথে পৌঁছতে পেরেছিলেন।




ভারত তার পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজন পূরণার্থে এক নতুন রবীন্দ্রনাথকে নির্মাণ করেছে। এই রবীন্দ্রনাথ গোঁড়া হিন্দু, ব্রাহ্মণ এবং প্রবলভাবে জাতীয়তাবাদী ''ইণ্ডিয়ান''। ভারতীয় পররাস্ট্র দপ্তরের এই ''রবীন্দ্রনাথ'' বৈচিত্রে বিশ্বাস করে না, আধিপত্যে সহায়ক। ভারতের পররাষ্ট্র দফতর তাদের সাম্রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি হিশেবে রবীন্দ্রনাথকে উপস্থাপন করে। বিদেশী প্রতিনিধি দলের সফরসূচীতে শান্তি নিকেতন পরিদর্শন অন্তর্ভূক্ত করে। কিন্তু, পররাষ্ট্র দপ্তরের ডিসকোর্সে কোন রবীন্দ্রনাথ উপস্থাপিত হয়? সর্বভারতীয় কনফেডারেশন সহায়ক রবীন্দ্রনাথ, যে কনফেডারেশন তাঁর প্রতিবেশী ক্ষুদ্র জাতি-রাষ্ট্রগুলোকে গ্রাস করতে চায়।

এই রবীন্দ্রনাথ পরিদর্শনে গেলে আপনার কাঁধে গোলামীর ওর্না ঝুলবেই।

আমাদের সেনাপ্রধান বোধ হয় শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রনাথকে আদি রবীন্দ্রনাথ ঠাউরেছেন। ভেবেছেন, তার সফরের পর ভারত গঙ্গায় পানি বইয়ে দেবে, বিএসএফ গুলি করে আর পাখির মত মানুষ মারবে না, বাণিজ্যে সমতা আসবে।

সেনাপ্রধানের ভাবনা যে ভুল এখন আমরা তা বুঝতে পেরেছি। আমরা বুঝি, সমঝোতা ও সম আত্মীয়তার নামে গোলামীর ওর্না পরলেই দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সমাধান হবে না। জাতি হিশেবে আত্মমর্যাদার সাথে টিকে থাকাটাই হচ্ছে আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এবং আমরা যাতে ভুলে না যাই, শহীদ মো. আব্দুল হান্নান সরকার মক্কা জেয়ারতে যেতে চেয়েছিলেন, শান্তি নিকেতন নয়।




লেখাটি একই সাথে প্রথম আলো ব্লগেও প্রকাশিত হলো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28870427 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28870427 2008-11-17 22:37:35
আমরা দীপঘরটিরে ক্রমশই পিছনে ফেলে যাই

আমরা বন্ধুরা সবাই তৃষ্ণার জলচৌকিতে বসেছিলাম।
অবসাদ দিয়ে মোড়া বেতের কারুকার্যগুলি আমাদের
মুহূর্ত হরণ করছিল। কারুই জানা ছিল না আমরা
কীসের প্রতীক্ষায় অকারণ দিনক্ষয় করছি। কোথায়
আমরা এখন; কী হবে এরপর? জানি না কিছুই। শুধু
কখনো কখনো দ্বিধার চোখগুলো বাইরে ছুড়ে দিই।
ভয় আসে। বাইরে দেখি চৈত্রের দারুণ দুপুর ঝিমোয়।

আমাদের তাড়াহুড়ো ছিল না। লোকে যারে গন্তব্য বলে
সেইরূপ গন্তব্যরে একটি বিধুর পাখির নাম ভেবেছি, তাই
গন্তব্যকে একটি পাখির মতন আমাদের খাঁচায় নিয়ে
আমরা পা ফেলে হাঁটি। আমার বন্ধুরা সবাই সময়ের দীর্ঘতায়
অস্থির। আহ, যদি হত এটি অনায়াস রিমোট কন্ট্রোল,
কেটে কিছু বাদ দেয়া যেত। তখন কেমন হত?

আমরা জানি না অপেক্ষা কাকে বলে। পিপাসার গূঢ় অর্থ কী।
লোকে যারে এন্তেজার বলে, তার মতো একটি ছোট্ট দীপঘর
আমাদের মনপাড়ে আছে, আমরা বুঝতে পারি। ওপাশে সভ্যতা, রিজন।
বিরূপ হাওয়ার তষ্কর ঘরটিতে লুটোপুটি খেলে, আমাদের গন্তব্যহীন
করে। আর, অবসাদ দিয়ে মোড়া বেতের কারুকার্যগুলি আমাদের
মুহূর্ত হরণ করে। আমরা দীপঘরটিরে ক্রমশই পিছনে ফেলে যাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28869625 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28869625 2008-11-16 02:39:30
কিছু সাম্প্রতিক খবর ও একটি লীলা মাজেযা কী আমরা বুঝি?

বঙ্গোপসাগরের অমিমাংসিত জলসীমায় মায়ানমারের সামরিক মহড়া চলছে।

প্রথম আলো নামে একটি পত্রিকার বদলে যাওয়া এবং বদলে দেওয়ার শ্লোগান। বিশেষত লক্ষনীয়, সরকার এই শ্লোগান দিয়ে ''এগার-একে''র পর এক থাপ্পড়ে আমাদের চেহারাসমেত বহুবিধ পরিবর্তনে সচেষ্ট হয়েছিল। আরো দ্রষ্টব্য: সারা পৃথিবীর মোড়ল আমেরিকাও বর্তমানে বদলে যাওয়া, এবং দেওয়ার শ্লোগানে মুখর।

আওয়ামীলীগ নেত্রী আমেরিকা থেকে ফেরার পর, এখন সেই ভাড়াটে উপদেষ্টাদের কাছ হতে পুরা জাতিকে এই বদলাবার দায়িত্ব বুঝে নিতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

এমতাবস্থায়, বোধ হয় জনগণ নিজের ভরসা নিজেই খুঁজিয়া লইল। তাহা হইল, বাঁশের কঞ্চি এবং তার রস। সাধু সাধু, হয়তো এইবার ইহাই তাহাদিগকে প্রকৃত মুক্তি এনে দেবে।

হে কঞ্চিবাবা, সবাই বদলে যাওয়ার তালে আছে, তাহাদের পিএইচডি সম্বলিত দোআঁশলা পীঠের বিপরীতে, তুমি ইহাদের বরং একটু বিশ্বাস দিলে। বীর্য দিলে। তাহাই বা কম কী?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28866562 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28866562 2008-11-09 01:49:40
পাথরটাকে ভেঙে-চুরে
প্রত্ন-পাথরখানি
হাতের তালুতে নিয়ে
আমরা খেলছি

পাথর মানে কি নৈঃশব্দ: তোমাকে কে বলেছে?

দেখো আমাদের হাতে
রাত্রির প্রবল ঝিঁঝির মত
পাথর কথা বলবে

পাথরের নৈঃশব্দরা কোথায় লুকোনো আছে, আমরা জানি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28865480 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28865480 2008-11-06 13:33:44
ভাস্কর্য বিতর্ক: আরো কিছু নোট ফাজলামোর একটা সীমা থাকা দরকার, এবং ভাস্কর্য বিতর্ক: কয়েকটি প্রশ্ন ও কিছু ফুটনোট, এই দুইটি লেখার পর এ বিষয়ে আর পোস্ট দেবো না ঠিক করেছিলাম। কিন্তু এ সংক্রান্ত কয়েকটি প্রতিক্রিয়ার পোস্ট এলো আবার, এবং সেইসাথে ভাস্কর্য রাজনীতির আরো জরুরী কিছু দিক নজরে আনা দরকার বলে মনে হয়েছে, যা আমাকে আবার নোট আকারে এই লেখার প্রয়োজনকে উস্কে দিয়েছে। সর্বশেষ ফারুক ওয়াসিফ নামের একজন ব্লগারের পোস্ট

ফারুক ওয়াসিফ যে পোস্ট দিয়েছেন, তার মূখ্য জায়গা হলো, কওমি মৌলভিদের ধর্মীয় বা অন্যান্য সম্ভব অবস্থানের সাথে রিফাত হাসানের পোস্টের অবস্থানকে এক করে দেখা। তিনি সম্ভবত আমার এই অবস্থানটিতে কথা বলতে সংকোচ বা বিহবল বোধ করেন, যে, মৌলভীদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াগুলো যে ভাষা এবং প্রক্রিয়ায় হয়েছে, তার ব্যাপারে প্রশ্ন করা। এটার কারণ হতে পারে, কওমি মৌলভিদের বিরুদ্ধে তার নিজের বর্ণবাদী অবস্থান। যেমন: বাংলাদেশের ইসলামী স্ট্যাবলিশমেন্ট টিকেই আছে রাষ্ট্রের সহযোগিতায় আর পুঁজির কারুণ্যে। দরিদ্র মাদ্রাসা ছাত্রদের কথা বাদ দিলে, এদের নেতারা সবাই সম্পত্তিবান শ্রেণীভুক্ত।

হায়, ফারুক ওয়াসিফ তাদের নেতাদের ভাষা বুঝেন, ভাস্কর্য যারা বানাতে চান তাদের ভাষাও বুঝতে চান, তাদের পক্ষ বিপক্ষ হয়ে কথা বলতে ব্লগ লিখেন, কিন্তু মূর্খ দরিদ্র মাদ্রাসার ছাত্রদের ভাষা বোঝার প্রয়োজন অনুভব করেন না। তাই, সবসময় দরিদ্র মাদ্রাসার ছাত্রদের বাদ দিয়েই কথা বলতে আগ্রহী। এই বর্ণবাদী মন দিয়ে তিনি কোন অবস্থান গ্রহণ করতে চান?

এই প্রশ্নটির উত্তর কিছুটা পরিস্কার হয়, তিনি যখন বলেন: ভাস্কর্য ভাঙ্গাই যদি প্রগতিশীলতা হয় তাহলে সাদ্দামের মূর্তি ভেঙ্গে বুশও একজন দশাশই প্রগতিশীল। ব্যাস, তাহলে সমস্যাটারে কি ফারুক প্রগতিশীলতা সংক্রান্ত সমস্যা বলেই চিহ্ণিত করছেন শেষমেষ। কারণ, আমি নিশ্চিত সেরকম কোন সমস্যায় তাড়িত হয়ে বা তার উল্লেখ করে আমার পোস্টের অবতারণা করিনি। এখানে, এই জায়গায় এসে তাই, আমাকে থমকে দাঁড়াতে হয়। কারণ, আমি যদ্দুর বুঝি, আমাদের প্রগতিশীলতার কোন সমস্যা নেই, এই মহার্ঘ জিনিশটার কোন দরকার আছে বলেও আমি মনে করি না আমাদের জন্য। এই জিনিশটা নিয়ে ফালতু সময় ব্যয় করা একটা আর্ট হতে পারে, এই ভাস্কর্য যেমন আর্ট, ভাঁড় নাট গোষ্ঠির জন্য, তেমন।

এবার দেখি এর রাজনীতিগুলি বুঝতে গিয়ে তিনি কী দেখেন। তিনি এখানে খুব আশ্চর্য হয়ে দেখেন, জামাত নেতা মুজাহিদকে আড়াল করার জন্যই এ্কটি ভাস্কর্য ভাঙ্গার নাটকের মহড়া হলো সরকারের পক্ষ থেকে। তার এই দেখাটি দেখে তার রাজনৈতিকতাবোধ এবং ডগমেটিক অবস্থান নিয়ে আমার খটকাগুলো পোক্ত হয়। বলা বাহুল্য, এই প্রপঞ্চটিই ভাস্কর্য সংক্রান্ত পপুলার আলোচনাগুলির উপজিব্য যা একটু সিরিয়াস হওয়ার ভাণ করেছে, এবং আলোচনার গভীরে প্রবেশ করতে গিয়েও থেমে গিয়েছে। ফারুক ওয়াসিফের এই পোস্টের বিবিধ জরুরী পর্যবেক্ষণ থাকা স্বত্ত্বেও, এই ডগমেটিক অবস্থানটি তার লেখাটিরে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমরাতো এটা বিশ্বাস করি না যে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে সরকারের অজান্তে মুজাহিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোওয়ানা দিয়েছে, আর সরকারকে এই বিষয়টিকে আড়াল করার জন্য ভাস্কর্য ভাঙ্গার নাটক করতে হচ্ছে। কারণ, আমরা জানি, কী সাধু এবং স্বাধীন এই সরকারের বিচার বিভাগ! এমন আবালরকম স্বাধীন যে, আদালতের রায়ের আগের দিন সাংবাদিকদের সামনে উপদেষ্টা সেই রায়ের অনুলিপি পড়ে শুনান।

কিন্তু আমি ভাস্কর্য বিরোধীতাকে সমর্থন করি। কেন করি, সেটির একটি আলোচনা আমি করেছি, আমার এ সংক্রান্ত দ্বিতীয় পোস্টটিতে। আমি একটি স্পষ্ট বাক্য বলেছি, যে, একটি পাবলিক স্পেসে এই ভাস্কর্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় রাস্ট্র নাগরিকদের সাথে যেহেতু এ সংক্রান্ত রাজনৈতিক বোঝাপড়া শেষ করে নাই, তাহলে এটি রাষ্ট্রের সাথে নাগরিকের অনুমিত এগরিমেন্ট এর ভায়োলেশন কিনা। এবং এও বলেছি যে, এটি কোন ধর্মীয় বিষয় নয়, এটি হল আইকনকে ব্যবহার করে রাস্ট্রের ধর্ম হওনের কাঙ্ক্ষা, যেইটারে প্রতিরোধ করা সব নাগরিকের দায়িত্ব। কিন্তু তিনি এই পয়েন্টে 'আত্মহারা হয়ে' যান, এবং লুঙ্গি পড়া মাদ্রাসা ছাত্রদের বিপরীতে তার কল্পিত আরেক লুঙ্গি পরা কৃষক বাউলের ভাস্কর্যরে দাঁড় করান। তার অবস্থান কি এটাই নয়, যারা বলে, ওরা বোঝে না ফুল কী, সংস্কৃতি কী, গান কী, কবিতা কী। আমি যে ধরণের অবস্থান সম্পর্কে দ্বিতীয় পোস্টটিতে বলেছি যে, নতুন পরিস্থিতির ডাইনামিজম হলো, ওরা ফকির লালনকে বাউল পরিচয় দিয়ে এমনই এক পেটিবুর্জোয়া, বর্ণবাদী, ফ্যাসিস্ট লড়াইয়ের জন্য আইকন বানালো।

এবং কয়েকটি ফুটনোট

ক. অনুমিত এগ্রিমেন্ট বা সোশাল কন্ট্রাক্ট কে ইউরোপীয় ধারণার ভিতরকার টার্ম হিশেবে ধরা ভুল হবে। এডওয়ার্ড সাঈদ-উত্তর প্রাচ্যবিদ্যার গভীরতর গবেষণাগুলো য়্যুরোপীয় অভিজ্ঞতার সোশাল কনট্রাক্ট এর ধারণার বাহিরে এটির ঐতিহাসিক ও মৌলিক ধারণার উৎপত্তি ও বিকাশ সনাক্ত করেছে।

খ. মৌলভীদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াগুলো যে ভাষা এবং প্রক্রিয়ায় হয়েছে, তার ব্যাপারে প্রশ্ন করার মানে এই নয় যে, মৌলভিদের কর্মকাণ্ডকে নির্বিচারে সমর্থন করা।

৩. একই কারণে, বাংলাদেশের বর্তমান সংকটকালে, মিনার বানানো বা ভাস্কর্য পুননির্মিত করার দাবী তৈরী করে মৌলভি এবং মৌলভি বিরোধীদের মুখোমুখি অবস্থানটি দীর্ঘস্থায়ী রূপ দিয়ে কাদের লাভ হচ্ছে সেটি ভেবে দেখা দরকার।

৪. কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভর্তিতে বাধা প্রদানের মাধ্যমে মৌলভি এবং মাদ্রাসা ছাত্রদের বিরুদ্ধে এই বর্ণবাদী অবস্থানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিলো?

৫. নির্বাচন কবে হবে?


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28861837 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28861837 2008-10-30 01:29:19
ভাস্কর্য বিতর্ক: কয়েকটি প্রশ্ন ও কিছু ফুটনোট ফাজলামোর সমস্যা

ফাজলামোর একটা সীমা থাকা দরকার, এই শিরোনাম দিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম গত পরশু বা তার আগের দিন। এই বাক্যটি দিয়ে আলোচনা শুরু করার পর, অনেকেই বললেন, ফাজলামো শব্দটার কারণে আলোচনাটার ফোকাস এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই আবার না বোঝার কথা বলে কমেন্টের পর কমেন্ট করে গেলেন, কী কন বুঝাইয়া দেন। কেউ আবার প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে পোস্ট দিলেন, তিনি ফাজলামোটাই করতে চান। এবং তার এই ফাজলামোর স্পৃহা নিয়ে তিনি পোস্টদাতার সাথে বাতচিত করার আগ্রহ রাখেন তার পোস্টে।

এই সব প্রতিক্রিয়ার পর, আমি নিশ্চিত হতে পারলাম, যে পর্যবেক্ষণ নিয়ে আমি আমার পোস্টখানি দিয়েছিলাম, তার সত্য জায়গাটি সত্যই আছে। সেটি হল এই: শুয়োরের বাচ্চা কওমী, ফেনেটিক মোল্লা, বাচ্চা তালিবান এইসব শব্দ দিয়ে যেখানে আলোচনা শুরু এবং সারা হয়, সেই আলোচনার গন্তব্য বা পরিণতি কোনটাই শুভ তো নয়ই, আলোচনাটা বিপথগামী এবং ভয়ঙ্কর। ফাজলামোও বটে। তবে এক্ষেত্রে আমাদের ফাজলামোগুলোকে কেউ ফাজলামো বলে অভিধা দিলে তার ব্যাপারে আমরা জঙ্গী হয়ে ওঠার আওয়াজ তুলি, আর আমাদের ফাজলামোগুলির ব্যাপারে শুয়োরের বাচ্চাগুলো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে ওদেরকে জঙ্গী বলে গালি দেই।


একটি আগ্রহউদ্দীপক লাইন

একটি আগ্রহউদ্দীপক লাইন, আজকের প্রথম আলোতে পেলাম। আমাদের লড়াই এমন এক শক্তির সঙ্গে, যারা বোঝে না ফুল কী, সংস্কৃতি কী, গান কী, কবিতা কী-

চারুকলা ইনস্টিটিউটের বকুলতলায় সচেতন শিল্পীসমাজের ব্যানারে কন্ঠশিল্পীদের প্রতিবাদী সংগীতানুষ্ঠানের প্রাক্কালে তারা এরকম উচ্চারণটি করেন।

এই ভাস্কর্য আন্দোলনের সিগনিফিকেন্ট অনুভূতিটারে আমরা নিদ্বিধভাবে স্পর্শ করতে পারলাম, এইবার বোধ হয়। সকল লুকোছাপার পরও, ওরা এই কথাটি উচ্চারণ করে ফেলেছে, যে, এটি একটি লড়াই, তাদের ভাষায়, যারা বোঝে না ফুল কী, সংস্কৃতি কী, গান কী, কবিতা কী- তাদের সঙ্গে। এই বিবৃতিটি ভয়ঙ্কর হলেও, অভিনব ব্যাপার নয়। যাদের আফ্রিকান কালো মানুষের দাসত্বের ইতিহাস এবং আমেরিকায় রেড ইণ্ডিয়ানদের পদানত করার ইতিহাস পড়া আছে এবং এটির রাজনৈতিক পাঠ করেছেন, তাদের কাছে। সেই সময়েও এমন কথাটিই শোনা গিয়েছিল সাম্রাজ্যবাদিদের মুখে। ওরা বোঝে না ফুল কী, সংস্কৃতি কী, গান কী, কবিতা কী। ওরা অসভ্য, তাই ওদের নির্মূল কর, পদানত কর, দাস কর এবং হত্যা কর। কিন্তু বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই বাক্যটি শিহরণ জাগানো, এই কারণে যে, এই প্রথম বর্ণচোরা সাম্রাজ্যবাদের গোলাম বর্ণবাদী গোষ্ঠি সরাসরি কোন রাখঢাক না করেই নিজেদের বিবৃতিতে এই আকাঙ্ক্ষার তথ্য প্রকাশ করল। এবং নতুন পরিস্থিতির ডাইনামিজম হলো, ওরা ফকির লালনকে বাউল পরিচয় দিয়ে এমনই এক পেটিবুর্জোয়া, বর্ণবাদী, ফ্যাসিস্ট লড়াইয়ের জন্য আইকন বানালো।

কয়েকটি প্রশ্ন

ভাস্কর্য আন্দোলনের কাহন জানলাম।

এখন ভাস্কর্য এবং সেই সংক্রান্ত জটিলতাটারে বোঝার চেষ্টা করি। ভাস্কর্য বনাম মূর্তি বনাম রাস্ট্র। এ যাবত ব্লগে ভাস্কর্য সংক্রান্ত বেশীরভাগ আলোচনায় উঠে এসেছে মূলত ভাস্কর্য বনাম মূর্তি এবং শুয়োরের বাচ্চা মৌলভি তত্ত্ব ও তৎসম্পর্কিত আমাদের ঘোর ও বিবমিষা। কিন্তু এর সাথে রাষ্ট্রের একটা সম্পর্কের জায়গা আছে যেইটা আমরা বেমালুম ভুলে গেছি। মূলত রাষ্ট্র কোন চরম বা চুড়ান্ত কনসেপ্ট না। নাগরিকের কনসেন্ট, নাগরিকের সাথে একটি অলিখিত চুক্তি, যেইটারে আমরা সোশাল কন্ট্রাক্ট বলতে পারি, সেইটাই রাষ্ট্র গঠনে আপাতত বৈধতা তৈরী করে। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে, কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতে ইচ্ছুক আমি সাধারণ্যের কাছে। তারপরেই কথা শেষ করবো।

কিছুদিন আগেই দেশে উৎসবের পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে হিন্দুদের দূর্গাপুজা পালিত হলো, আবার অন্যদিকে ঢাকায় বিমানবন্দরের সামনে লালনমূর্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এলো মাদ্রাসার ছাত্রদের পক্ষ থেকে। আমাদের মৌলভিগণ কোথাও কোন দুর্গাপুজার বিগ্রহ মূর্তি ভেঙেছে, এরকম কোন সংবাদ আমরা পাইনি, কিন্তু বিমানবন্দরে লালনের ভাস্কর্য তোলার বিরুদ্ধে তারা আন্দোলন করলো। যদি মূর্তিই এই প্রতিবাদের কারণ হয়ে থাকে, তাহলেতো বিগ্রহই ভাঙার কথা, ভাস্কর্য্য কেন?

এই প্রেক্ষিতে প্রথম প্রশ্নটি দাঁড়ায়: বিমান বন্দর বা হাজ্বীক্যাম্প যাই হোক না কেন, পাবলিক স্পেসের সামনে একটি ভাস্কর্য স্থাপনের প্রশ্ন রাজনৈতিক নাকি শিল্প-সংস্কৃতির ব্যাপার?

যদি রাজনৈতিক ব্যাপার হয়ে থাকে, এবং তাই হওয়া সম্ভব, একটি পাবলিক স্পেসে এই ভাস্কর্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় রাস্ট্র কি নাগরিকদের সাথে এই সংক্রান্ত রাজনৈতিক বোঝাপড়া শেষ করেছে?

যদি না করে থাকে, তাহলে কি রাস্ট্র এই জায়গায় দাঁড়িয়ে, নাগরিকদের সাথে তার সোশাল কনট্রাক্ট ভঙ্গ করেছে?

ফুটনোট

ক. শিল্প সংস্কৃতি এইসবের কোনটাই ধোয়া তুলসিপাতা নয়, এসবের রাজনৈতিক পাঠ জরুরী।

খ. ষাট সত্তর দশকে ভারতের প্রভাবশালী নকশাল আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীরা প্রচুর ভাস্কর্য ভেঙেছে। মূর্তি নয় ভাস্কর্য, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ এলিট আইকনদের, এবং এলিট সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বৈপ্লবিক অবস্থান নিয়েছে।

গ. আফগানিস্তানে যখন জাতিসঙঘের নিষেধাজ্ঞার কারণে অনাহারে প্রচুর শিশু মারা যাচ্ছিল, জাতিসঙঘ তখন বুদ্ধমূর্তি সঙস্কারের জন্য প্রচুর টাকা নিয়ে হাজির হলো- তালেবানরা তখন বলেছিল, আমাদের মূর্তির দরকার নেই, আমাদের শিশুদেরকে আহার দিন।

কিন্তু তারা মূর্তিকেই অগ্রাধিকার দিলো এবং তালিবানরা মূর্তিটি ভাঙলো। আমরা হৈ হৈ করে উঠলাম একটা মূর্তির জন্য, তাদের শিশুগুলোর জন্য আমাদের কোন অনুভূতিই তৈরী হলো না।

তারা মরলো। বোমায় এবং ক্ষুধায়।

ঘ. এটি কোন ধর্মীয় বিষয় নয়, এটি হল আইকনকে ব্যবহার করে রাস্ট্রের ধর্ম হওনের কাঙ্ক্ষা, যেইটারে প্রতিরোধ করা সব নাগরিকের দায়িত্ব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28857446 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28857446 2008-10-20 19:44:03
ফাজলামোর একটা সীমা থাকা দরকার
শিক্ষিত মধ্যবিত্ত্ব, যারা বেশীরভাগ সময়ই জরুরী মুহূর্তে কোন রেডিক্যাল অবস্থান নিতে পারে না হরেক সুবিধাবাদিতার কারণে, তাদের একটা আক্রোশ অবশ্যই আছে অশিক্ষিত মৌলভিদের প্রতি, যারা জরুরী অবস্থায় কথা বলে, প্রতিবাদ করে, ভাঙ্গে, পৌত্তলিক সমাজের দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য আইকনগুলো। যারা কোন সুবিধাভোগি নয়, যারা এইসবকে প্রত্যাখ্যান করেছে, উদ্ধত, জঙলি এবং অসভ্য উপায়ে, সভ্য মানুষের ভাষায়

এখানে একটি ব্যাপার স্মর্তব্য, ফ্যাশন কোম্পানি যখন চে'কে নিয়ে ব্যবসা করে, আর রোমান্টিক একটিভিস্টরা অই পোশাক পরে ঘুমের মধ্যে বিপ্লব সাধন করে, তখন অই দৃশ্য দেখে আমার বোধোদয় ঘটে যে, চে কেন ছবি তোলাটাকে এত অপছন্দ করেছেন সব সময়। একই ব্যাপার, লালনের মূর্তি নিয়ে আমাদের কান্নাকাটি দেখেও। এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতো রীতিমতো হাজ্বীদেরকে আত্মশুদ্ধির জন্য মনের মূর্তি সরানোর পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু ঘটনা হলো তিনি এই ব্যাপারটির প্রতি নিজের পৌত্তলিক বিরাগটারে সরায়ে ফেলতে পারেন নাই। যদি পারতেন, তাহলে, এর সংস্লিষ্ট আরো কিছু বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা পেতাম, যেগুলি দরকারি।

মৌলভিদের মূর্তিবিরোধিতার মোকাবেলায় অইটার ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে ফ্যানাটিসিজম দিয়ে আলাপ সারা আর ফাজলামো করা একই কথা। কারণ এই আলোচনাটির সাথে দার্শনিক, ধর্মতাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিক আলোচনাটি জড়িত। আনকন্ডিশন, নিরাকারকে আকার প্রদান, ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিজত্বের ধারণা, পৃথিবীতে ধর্মের বিবর্তনের যে ইতিহাস, এইসব ব্যাপারগুলিতে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ এবং স্ট্যাণ্ডপয়েন্ট আলোচনায় আনতে হবে।

মৌলভিদের প্রতিবাদের উত্তরে প্রতিক্রিয়াশীল মধ্যবিত্তিয় অবস্থান ও অবস্থান-সঞ্জাত ভাষাকে মোকাবেলা করার ও এই সকল অবস্থান উৎপত্তির মনন কাঠামো বোঝার একটি চমৎকার ও কার্যকর বুদ্ধিবৃত্তিয় অবস্থান তৈরী হয়েছে আজকের উপরোক্ত ঘটনার আলোকে, যা কিনা একই সাথে আমাদের রাষ্ট্রের বর্তমান সংকটের মূল বিন্দুসমূহের একটি গুচ্ছকেও নির্দেশ করে বলে আমার মনে হয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28855751 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28855751 2008-10-17 00:35:58
তুমি, সম্ভবত একটি পাতা তুমি শেষ পর্যন্ত একটি পাতাই
যখন তুমি নৈঃশব্দ হও

একটি পাতার মতন নৈঃশব্দের মেদুর বিছানায় শুয়ে থাক।

রাতভর গল্পের শিশির
তুমি ভিজে যাচ্ছো
তুমি নিঃশব্দ হচ্ছো
নিঃশব্দ হচ্ছো
ক্রমশই একটি নৈঃশব্দমণ্ডিত সকালের পাতা তুমি।

যার শিশিরগুলি মুছে দিয়ে এক্ষুণি রোদ ওঠার সম্ভাবনা নেই।

তুমি এখন একটি সকাল: যার ছোট্ট মিষ্টি নাম মৌনতা।
না, তুমি এই নামটিকে ছাড়িয়ে গেছ। তুমি মৌনতা নও।

তুমি, সম্ভবত একটি পাতা। শেষ পর্যন্ত তুমি একটি পাতাই।

যার মেদুর ভঙ্গিমার বিপরীতে
সমস্ত পৃথিবী এখন কোলাহল ছড়াতে ব্যাগ গুছাচ্ছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28855135 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28855135 2008-10-15 20:05:10
খোদার কসম, এই রোদ্দুরে রেডিক্যাল হতে চাওয়া কাজের কথা নয়। বরং আমরা সুবিধামতো একটিভিস্টই থাকি। রোদ একটু কমুক, ততক্ষণ ভদ্রস্থ থাকার জন্য
জনারণ্যে একটিভিস্ট হয়ে থাকি।

রেডিক্যাল হতে হলে অনুকুল সময় প্রয়োজন।

তার চেয়ে বরং পুঁজির ব্যালকনিতে বসে এক কাপ চা চলুক। ঘন লাল রক্তের মতো চায়ে সামান্য একটিভিজমের নুন, একটু প্রগতির দ্রবণ, একটি নারীবাদী পাতা ছেড়ে দিলে কী চমৎকার আড্ডা হয়ে যায়!

আমরা কেন শুধু শুধু রেডিক্যাল হতে যাব?

লাক্সের সুগন্ধি ফেনায় স্নান সেরে বরং আমরা এই চমৎকার ব্যালকনিতে বসে একটু নন্দনতত্ত্বের আলাপ পাড়ি। আহা, গ্রামীণের বিজ্ঞাপনগুলো আমাদেরকে কী সুন্দর নন্দন আর একটিভিজমের অনভূতি দেয়। এই ঘোর কর্পোরেট মুহূর্তে রেডিক্যাল হওয়াটা কি কোন কাজের কথা, বলুন? বাংলালিঙ্ক স্পনসর না হলে আমাদের ভাষাকে কে বাঁচাত?

এনজিওগিরির মাধ্যমে আমরা নারীমুক্তির কনসালটেন্সি যদি না করতাম, তাহলে নারীমুক্তি না হোক, নিদেনপক্ষে মহান একটিভিস্টদের পবিত্র জীবনটা হুমকির মুখে পড়তো না?

এখন ভীষণ রোদ্দুর। খোদার কসম, এই রোদ্দুরে রেডিক্যাল হতে চাওয়া কাজের কথা নয়। বরং আমরা সুবিধামতো একটিভিস্টই থাকি।

(একজন একটিভিস্টের সাম্প্রতিক একটি পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে, মন্তব্যের পরিবর্তে এই লেখাটি।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28852302 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28852302 2008-10-08 14:00:03
জোনাকগুলি
কিছু কুয়াশার ক্লোরোফরম চোখে পরে আছো
সেইসব মুছে ফেলো
দৃষ্টির সেইসব শিরস্ত্রাণ
যা এখনো অন্ধকার হয়ে
চোখে ঝুলে আছে

আলোর মুদ্রার মতো আস্তে আস্তে বদলে নাও সব
ক্লোরোফরম ভরা
অজানা আঁধার
চোখের কুয়াশা

আস্তে আস্তে বদলে নাও চোখ, পুরনো সে চোখ
চোখের আয়নাটা

দেখবে,
জোনাকগুলি সত্যিকারের ভ্রুণ হয়ে উঠছে আবার
জ্বলছে
নিভছে
বড় হচ্ছে

জোনাকগুলিকে বাঁচাও।

০৯.০৬.২০০০]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28847536 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28847536 2008-09-24 23:23:26
বিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত হবার আমন্ত্রণ: আমি কেন গ্রহণ করতে পারছি না প্রিয় সামহোয়ারইন গতকাল শেষরাতে পোস্ট করা হয়েছিল এই লেখাটি, পুরনো পোস্টটা মুছে দিয়ে আবার ফ্রন্ট পেইজে দিলাম, সব পাঠকের পড়ার সুবিধার জন্য।

এই লেখাটি আমি লিখছি একটি তৎক্ষনাৎ অনুভূতি থেকে, যখন সামহোয়ারইনের কিছু নতুন ফিচারের সম্পর্কে অবগত হলাম, দীর্ঘ সময় ধরে ব্লগে উন্নয়নজনিত অচলাবস্থার পর।

আমি মোটামোটি বিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত হতে চাই। আমার মা আমাকে বিশ্বাসী হতে বলেন, তার কথা, তার অস্তিত্ব, তার ভালবাসা এই মুহূর্তে আমার জন্য সবচেয়ে বড় বিশ্বাস। আমি আমার মায়ের কাছে বিশ্বাসী হয়ে থাকি, থাকার চেষ্টা করি, তাই আমার গোপন কোডগুলোর মুহূর্ত এবং রাজনীতি, চিঠি এবং ভালবাসা, ক্ষোভ এবং বিপ্লব, অবক্ষয় এবং দীনতাগুলো তার কাছে জমা রেখে আসি প্রতিদিন।

কিন্তু যখন রাষ্ট্র ট্রুথ কমিশন গঠন করল, আমাকে বিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত হতে বলল, এবং আমাকে কনফেশন করতে বলল, আমি দ্বিধায় পড়লাম। তখন রাষ্ট্রের পোপগিরি: রাষ্ট্রের পোপ কে হইবেন? শিরোনামে একটি ছোট নোট লিখেছিলাম ব্লগে। রাষ্ট্রের পোপ হওনের আকাঙ্ক্ষা তথা ধর্মাকাঙ্ক্ষা, কনফেশন এবং রাষ্ট্রকে নাগরিকের কনফেশন করানোর দায়িত্বার্পন- এর পেছনে রাষ্ট্রের যে বাসনা ও চরিত্র দাঁড়ায় তার কোন নতুন সংজ্ঞায়ন সম্ভব বা দরকার কিনা- এইসব বিষয়গলো নোট আকারে তুলেছিলাম।

আধুনিক রাষ্ট্রের এই ধর্মাকাঙ্ক্ষার গোড়ায় আরো যে বহুবিধ ক্ষমতা সম্পর্ক আছে, তাকে পরিশুদ্ধ এবং পবিত্রায়ন করে, আরো নিরাপদ করার নিমিত্তে পরবর্তীতে বাংলাদেশে যে ঘটনাটি ঘটল, তা হল আমার ফোনে আড়িপাতার নির্দেশ, এবং ছয় মাস ধরে আমি, আমার সমগ্র অনুভূতির পাতা, প্রেম, ক্ষোভ এবং অনুযোগ, আমার গোপন কোড, বিবিধ নকশাগুলো, যা আমার মায়ের কাছে প্রতিদিন জমা রেখে আসি, বিশ্বাসী হতে চাই বলে; রাস্ট্র, এক মহা ক্ষমতাশালী পোপের রেকর্ডারে বন্দী থাকবে, যতক্ষণ না, আমি বিশ্বাসী, অর্থাৎ রাস্ট্রের জন্য নিরাপদ বলে বিবেচিত হবো।

আজকের প্রশ্নটি এবং প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন, কিন্তু প্রকৃতি এক-ই। সামহোয়ারইন ব্লগ এর মডারেটরগণ আমাকে বিশ্বাসী হতে বলছেন এবং তার জন্য আমার ফোন নাম্বারটি চেয়েছেন। বিশ্বাসী না হতে পারলে, আমার পোস্ট সংকলিত পোস্টে সরাসরি স্থান পাবে না, আর ডিফল্ট অনুসারে, সংকলিত পোস্টই আসল পেইজ হিশেবে ভিজিটরদের কাছে উপস্থিত হবে, মানুষ অবিশ্বাসীদের লেখা দেখবে না। অবিশ্বাসীদেরকে, পোস্ট দিয়ে বিনীতভাবে অপেক্ষা করতে হবে, এবং মডারেটরদের যথাযথ সময় হবে যখন, তারপর যথার্থ মডারেশনের পর, যদি দেখেন, আমি, মানে সেই অবিশ্বাসী লোকটা ঈমানদারের মতন কাজ করেছি, রাষ্ট্র, এবং অথরিটির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না, তাহলে অবিশ্বাসীর পোস্ট জেল থেকে ছাড়া পাওয়া যেতে পারে।

আমার লেখালেখি এবং ব্যক্তিগোপনীয়তার গভীর খবর, আমার অবস্থান এবং পরিচয়, নকশা এবং গোপন কোডগুলো পোপ হতে চাওয়া রাস্ট্রের দরকার হয় কখনো কখনো, নিজের পবিত্র এবং সাম্রাজ্যবাদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধে জয়ী হতে, আমার অবস্থান চিহ্ণিত করে, আমাকে খুন করে যাতে একই সাথে রাষ্ট্র, ওয়ার্লড ট্রেড সেন্টার এর নিরাপত্তা, এবং ইনফিনিট জাস্টিস এনশিউর করা যায়।

সামহোয়ারেরও কখন আমার ফোন নম্বর দরকার হয়? রাষ্ট্রের যখন ধর্মাকাংক্ষা জাগে, রাষ্ট্রের ভিতরে প্রতিষ্ঠান আর রাষ্ট্রের সম্পর্ক তখন এক জায়গায় এসে সেই ধর্মাকাংক্ষাকে বাঁচানোর জন্য কাজ করে।

আমার মা আমাকে এই ধর্মাভিলাসি রাষ্ট্রের ইনফিনিট জাস্টিসের বিরুদ্ধে লড়তে বলেছেন এবং গেরিলা হামলা করতে বলেছেন। আমি গেরিলা সেজে লিখছি, নিজের সব পরিচয় লুকিয়ে, ক্যামাফ্লোজ পরে, এই শাদা পোশাকের অরণ্যের ভিতর। আমি আমার মায়ের কাছে বিশ্বাসী, কিন্তু রাষ্ট্র এবং তার সবরকমের সহযোগী বন্ধুদের কাছে অবিশ্বাসী। এবং তাই থাকতে চাই। তাই আমার ফোন নাম্বারটি দিতে পারবো না। দুঃখিত, প্রিয় সামহোয়ার ইন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28846381 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28846381 2008-09-22 10:35:12
যদি তুমি থাকো গাছেরা শষ্য দেবে ঠিক মওসুমে, বসন্তে ফুটবে
ফুল। আকাশ বৃষ্টি দেবে, মেঘ দেবে, দেবে স্বস্থির ঘুম।
যখন ইচ্ছে হবে মশক ভরে নেওয়া যাবে জল।

সূর্য রোদ ছিটোবে যখন উষ্ণতা চাই। বিকেলের
কমলা রঙ আকাশে ফুটবে; মানুষেরা অমর হতে
তখনো কাঁদবে। অমল গোধুলি ডাকে নিজেকে
হারানো শেষে আমার মনের পাখি তখনো উড়বে।

তারপর ওড়াউড়ি শেষে সুখ কুড়ানির মত
কোঁচলে শস্য ভরে আমরা ফিরবো যখন
ফেরার অর্থ নিয়ে আর কোন প্রশ্ন থাকবে না। নীড়-পাখিদের
ঘর ফেরা মাতামাতি আর, এ বিপুল পৃথিবীতে-

তুমিই থাকবে শুধু। আর কোন অসুখ থাকবে না।
অনন্তে বসন্ত ছাড়া আর কোন ঋতু থাকবে না।

যদি না ফোটে ফুল? শুনো মেয়ে, তাহলেও ভয় নেই।

যদিবা গাছেরা শষ্যহীন থাকে সারা মওসুম
দুর্ভিক্ষ হবে না এখানে। কেননা আমরা হয়েই
আছি সে খরাতে অন্তহীন শষ্যের গাছ, নির্ঘুম।

আমাদের সন্তানেরা হবে শষ্যহীন পৃথিবীর
আশা। অমাবশ্যার জোনাকিগুচ্ছ। যদি তুমি থাকো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28843670 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28843670 2008-09-15 22:45:09
কম্পোজিশন
তুমি তার কাছে পৌঁছুনো পর্যন্ত
তার অনেক সত্য মুহূর্ত আছে

তুমি যখন তার সামনে এসে দাঁড়াও

অতপর তোমার ক্যামেরাগিরিতে
একটি কম্পোজিশন হওয়ার আগ পর্যন্ত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28843029 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28843029 2008-09-14 14:03:56
ভাষা: নাইন ইলেভেনের পর তোমার সাথে আমার যে বিতর্ক

তুমি আমি ও সে

তুমি আমি ও সে কতগুলো পাখি ওড়াই
কাগজের পাখিগুলোর নাম কি ভাষা
তোমার আমার ভিতরে কতটুকু যেতে পারে ভাষা
ভাষাগুলো পাখি হয়ে উড়ে যায় দূরে

মনের গভীর ঘরে তোমাকে আমার
কত কি ‘না বলা’ হয়ে যায়!

কাগজের পাখিদের সে আকাশ চেনা নেই
এখানে উড়তে গেলে
ডানা ভেঙে পড়ে যাবে
ঘরদোর না-চেনা পাখি

আমরা অনেতিহাসে যাবো

ভাষা হল কতগুলো কাগজের ফুল বা পাখি
ইনফিনিট জাস্টিস বা মানবাধিকার এরকম কিছু ভাষাদুষণ
আমাদের শিশুটির হাতে যে পাথর তা মোটেই ভাষা নয়
তার চোখের ঘৃণাকে ভাষা বললে ভুল হবে
সে যখন ছোট হাতে আঙুল তুলে ভাষার সাম্রাজ্য-প্রকল্প চুর্ণ করে
তুমি তার নাম দিতে পারো অধিভাষা বা অধিসত্য

ভাষা হল ইতিহাস
আর মানুষতো অনেতিহাসের যাত্রী

ভাষার গণিতকে ভুল করে দিয়ে
আরো নিভৃতে চলে বাবার হুইল চেয়ার
তার ধাতব শব্দ আমাদের ছোট্ট ঘরে কত সহজ ভালবাসা আনে
মায়ের খসখসে হাতের আদর, তোমার ঝিনুক চোখ
তারা কেউ ভাষা বা ইতিহাসের সৃষ্টি করে না
অধিভাষা দিয়ে যায়

অথচ ভাষা সাম্রাজ্যের বিমান আমাদের মাথার উপর ঘুরছে
বোমা ফেলছে
তবু ঘরটার হদিসই পায় না
কাগজের পাখিদের সেখানে যেতে নেই বলে

ভাষা হল সাম্রাজ্যের কুকুর
আর আমাদের তো কোন ভাষা নেই
আমরা নিজেরাই অধিভাষা হয়ে উঠি

আমরা অনেতিহাসে যাবো]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28841597 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28841597 2008-09-11 14:14:18
দুর্নীতির প্রচারণার আড়ালে পরাশক্তির এজেণ্ডা: একটি জরুরী পাঠ Click This Link]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28838271 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28838271 2008-09-03 16:04:42 নোটবুক: ২: সেপ্টেম্বর ২, ২০০৮
একজন সারস ও একটি প্রজাপতি

আমার মেঘেলা শার্টটি খুলতে চেষ্টা করি। পারি না।
শার্টটাকে খুলতে যেয়ে ছিঁড়ে ফেলি সূর্যের বোতাম।
একটি মমির মানুষ আস্তে আস্তে আরো মমি হয়।
একটি মেঘের মেয়ে আমার নিকটে বসে প্রাণপন হাসে।

রাতের জানালাটা খুললেই, জিপসি পাখির মতো চাঁদ উড়ে যায়। যেতে যেতে বলে, যাবি! আমি তখন তখনই উড়ে যাবার পাখি। ছোট্ট জিনসের ব্যাগটা গুছিয়ে, কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়ো। এত্ত ছোট জীবন, একটি জিনসের ব্যাগে ঢুকিয়ে নেওয়া যায়। নিয়ে, তারপর, কমলা রোদ্দুরে হাঁটতে থাকো। রোদ্দুর কইরে! বেশ ভরা জোসনার শ্রাবণ। পেঁজা তুলোর মত চাঁদ উড়ে, সেই শ্রাবণে। আমার ঘুম, ঘুমমমম চলে আসে। কী সসসসসসুখ। তোমার হাত ধরে, জোসনার ভিতরে পা ডুবিয়ে, বেরিয়ে পড়ো। ভরা জোসনায় তোমার চোখ আর চুলে কী প্রগাঢ় ঘুমালো আবেশ। তুমি কে গো মেয়ে!- বড়ো গভীর চেনা মনে হয়, যেন বহুকাল ধরে তোমার সান্নিধ্যে ছিলাম, তবু কোনদিন দেখা হয় নাই।

কে যেন ডাকছে, মিতুউউউউ-উ-উ-উ-! সুখ পাখির মতো মিষ্টি ডাক। অজান্তেই চোখ মুদে যায়, সুখে।

একদিন ভরদুপুরে ক্লাস ছুটি হয়ে গিয়েছিল। বাইরে ঠাঠা রোদ্দুর, চোখে ঝিম ধরিয়ে দেয়। ক্লাস থেকে বেরিয়ে আমরা তিন বন্ধু বাড়ির পথ ধরলাম। কিছুই করার নেই। অথচ এত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যেতেও ভাল লাগছে না। রোদের ভিতরে অনেক্ষণ এলোপাথারি হাঁটলাম, তারপরে একটা মাঠ পেয়ে গোল হয়ে দৌড়ুলাম। আমি অল্পক্ষনেই ক্লান্ত হয়ে যাই, দৌড়ুতে আর পারি না। দীপু হাসতে হাসতে লুটায়। নিপুও। কী সারসের ঠ্যাংরে তোর বাপু। হাঁটতে ওস্তাদ; দৌড়ুতে পারিস না?

পায়ে আমার ঝিম ধরে যায়, আমি সত্যিই দৌড়ুতে পারি না। দীপু নীপু হাসতে হাসতেই, দৌড়ুতে দৌড়ুতেই, আমাকে ফেলে অনেকদূর চলে যায়। আমি তাদের পেছন পেছন দৌড়ুতে থাকি, সারস কি দৌড়ায়? আমার সারসের পা, ওরা বলে।

অবশেষে দীপু নীপুর কাছে চলে এসে ওদের হাত ধরলাম আবার, তারপর অনেকক্ষণ রোদের ভিতরে পা ডুবিয়ে হাঁটলাম তিনজনে, এলেবেলে।

আকাশে ভয়ঙ্কর নীল আর রোদ্দুর, তার নীচে বিশাল আখক্ষেত, আর এটির পরেই শুরু হয়েছে ছোট এক জঙ্গুলে বাগান। আমার দাদার আমলের, এখন বাগানটির মালিক বাবা। আরো আধ মাইলখানেক হাঁটলেই আমাদের বাড়ি। দীপু নীপুর বাড়ি আরেকটু পরে।

হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ দীপু আখক্ষেতটার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল। সবাই দাঁড়ালাম। দীপু নীপু চোখাচোখি করল, চোখের ভিতরে কী যেন বলাবলি হল, চোখ টিপল পরস্পরকে।

দিপু বলল, চল ভিতরে যাই-

তারপরে কিছূ বোঝার আগেই দে দৌড়, আখক্ষেতের ভিতর। দিপু আর নিপু দুজনেই। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম রাস্তায়। রোদ ঝিঝি ধরিয়ে দিচ্ছে চোখে, রোদটাকে ঠাহর করতে করতেই ওরা হারিয়ে গেল, আমার জন্য অপেক্ষা করল না।

দুপুর জুড়ে রোদের শ্রাবণ।

আমার চোখ, চোখের নির্বোধ পাতা আর শরীরের কচি চামড়া মোমের মতো পুড়ে যাচ্ছে।

রোদ ভালবাসতাম। আর দুপুর। নির্জন দুপুরগুলিতে কী যে হত, মন আনচান করত। বেরুলে মনে হত- দিগন্ত রোদের ঝিকিমিকি মাদকতায় মিশে যাই। আশা ভালবাসা স্বপ্ন উষ্ণতা ভয় শৈত্যপ্রবাহ ঘুম অভিমান- সব কেমন মিলে মিশে জিপসি হয়ে যেত। ছোট্ট স্কুল বালকের জিপসি মন হাঁটত, দুপুরের পাড় ধরে, একা একা।

আখক্ষেতটা অনেক বড়, তারপরে জঙ্গুলে বাগান। থ্রীতে পড়ার সময় বাবার সাথে এসে একবার হারিয়ে গিয়েছিলাম এই বাগানে। সেকি খোঁজাখুঁজি। পাড়ার সব লোক ভেঙে পড়েছিল। মনে পড়লে এখনো ভয় ধরে যায়। এখন, আখক্ষেতটা পেরিয়ে যতটুকু চোখ যায়, আমার ছোট্ট চোখ, সেখানে দিগন্তের সাথে নারকেল আর সুপারি গাছের পাহাড়। এরপরে নীল আর নীল। পেঁজা তুলোর মত ছোট ছোট শাদা মেঘ। ক'একটি চিল, সোনালী ডানা মেলে ধরে মাতাল ঘুড়ির মত উড়ছে। রোদে পুড়ছে। দূরে, অনেক দূরে। দেখতে দেখতে চোখ ছোট হয়ে যায়। সামনে জুড়ে থাকা বিশাল আখক্ষেত আর বুনো বাগানটাতে দুপুর অদ্ভুত নিরবতায় লুকিয়ে গেছে। রহস্যপুরী। রোদ ঝিমঝিম দুপুরটা অচেনা লাগছে। ভয় লাগছে। জোসনা রাতে হারিয়ে যাবার মতো ভয়ঙ্কর এক মোলায়েম ভয়। হঠাৎ।

দিপু নিপুকে হারিয়ে, ওদেরকে খুঁজতে যেয়ে, আমি আবার হারিয়ে গেলাম। সেই জঙ্গুলে আখক্ষেত, সেই পুরনো ভয়। বাহিরে রোদের শ্রাবণ, ভিতরে বিপুল জোসনার ভয়। আমার চোখ ভিজে এল।

একটি উঁচু ডিবির উপর, চোখ বন্ধ করে, দুপুরের সমস্ত ভয় এবং বিষাদ, নির্জনতা এবং জোসনা, রোদ্দুর এবং রুক্ষতা, ভালবাসা এবং অভিমান বুকের ভিতরে নিয়ে বসে রইলাম।

একটি রঙীন খুব সুন্দর প্রজাপতি আমার কানের কাছে ফরফর করে উড়ে গেল। আমি প্রথমে ভয়ে পিছলাতে গিয়ে ডিবিটার উপর পড়ে গেলাম, একটি আখগাছের সাথে ধাক্কা লাগল। কর্কশ আখপাতার ধারে লেগে আমার হাত মুখ জ্বালা করে উঠল। করুণ হয়ে মুখের জ্বলা যায়গায় হাত বুলাতে বুলাতে যখন বুঝতে পারলাম, এটি একটি প্রজাপতি, পুরো দুপুরটাকে ভুলে হঠাৎ তারপরে হেসে উঠলাম শব্দ করে। প্রজাপতি আমাকে ভয় থেকে স্বপ্নে নিয়ে এল। ভয় এবং বিহবলতার জটিল কাচগুলো ভেঙে দিতে দিতে, প্রজাপতি আমাকে গান শোনাল। স্বপ্নের ভিতর সুখ পাখির মতো মিষ্টি ডাক, মিতুউউউউ-উ-উ-উ-!

অনেক্ষণ পর, প্রজাপতির সঙ্গে আমার আলাপ যখন জমে গেল, হঠাৎ দিপু নিপুরা পরির রাজ্যের পোশাক পরে হৈ হৈ করতে করতে আমার চারপাশে এসে দাঁড়াল।

আমার বিকেল হয়ে যায় বাড়ি ফিরতে ফিরতে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28837792 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28837792 2008-09-02 14:02:30
মধ্যবর্তী বেঞ্চটাতে বসে আছে যে লোকটা
একজন প্রহসনে নিজেকে হত্যা করতে চাইলে
আর একজন হাসতে হাসতে চ্যাপলিনের টুপি পরে কোলাহলে মিশে যান।

মধ্যবর্তী বেঞ্চটাতে বসে আছে যে লোকটা, বহুকাল আগে আমি তার চোখ কুড়িয়ে পেয়েছিলাম, তার চোখে বিস্ময়ের ঝিঝি-

তার সাথে আমি একটু মুখোমুখি বসতে চাই, কিন্তু

তারে ডেকে ডেকে আমি তার বিস্ময়ের ধ্যান ভাঙাতে পারিনি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28837376 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28837376 2008-09-01 12:48:57
নোটবুক: ২৮ আগষ্ট ২০০৮

কাগজের নৌকা

বটবৃদ্ধটি বলে হাসে; জেবনডা বড়ো শীতকাল
তার কেশর ছুতে গেলে সে একটি পাখির শরীর
ভয় লাগে, তাই হাঁটছি, ভয়টাকে জড়িয়ে ধরতে
ওর শরীরটা কী রূপ? আমি তার গন্ধ নিতে চাই


বোকা, করুণ, মন খারাপ করা সন্ধ্যার মতো দিন। ভোরে, তুমুল বৃষ্টির শব্দে ঘুম ভাঙল। ঘুমের ভিতর থেকে উঠে, জানালাটার পর্দাটা সরিয়ে, সময় দেখি। কতো ভোর হবে এখন। বৃষ্টির মধ্যে, বৃষ্টির ভেতরে সময় খুঁজতে খুঁজতে, ধাধা লাগে। দেখতে দেখতে, আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতেই, বেলা বাড়ে। কী ঘনঘোর শেষ বেলার অন্ধকারের মতো আলো। আর বৃষ্টি।

সেই মন খারাপ করা দিনের প্রায়ান্ধকারের ভিতর, একটি শান বাধানো পুকুর ঘাট। তার উপরে একটি দশ বারো বছরের ছেলে, কার সাথে অভিমান করে, পানিতে পা ডুবিয়ে, বসে আছে একা। বৃষ্টিতে ভিজছে। তার মুখ দেখা যায় না, এমন অন্ধকার হয়ে আছে দিন। একটি প্রাচীন হিজল গাছ, ডালপালা ছড়িয়ে তার চারপাশে ভূতের মত দাঁড়িয়ে আছে।

ছেলেটি একটি নীল কাগজের নৌকা ভাসাল বৃষ্টির পুকুরে। ভাসিয়ে নামতা পড়ছে, এক একে এক, দুই একে দুই, তিন একে- । বৃষ্টিতে নাচছে নৌকা। নাচতে নাচতে, নাচতে নাচতে, একসময়, নৌকাটি ভিজে জবজবে হয়ে যায়। নৌকাটি ডুবে যাচ্ছে। হায়, ডুবে যাচ্ছে নৌকা - ছেলেটি নামতা ভুলে গিয়ে পানিতে নেমে গেল- বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টি তারপরও পড়তেই আছে।

বুকে থম ধরিয়ে দেয়া এই দৃশ্যটি, আমার মনে পড়ে। তারপর কোথায় যে হারিয়ে যায়! আমার মনেই পড়ে না।



শুভ্র আসে না আর

বিকেলপাড়া, তার মানে এখন বাড়ি যাবার প্রস্তুতি।
তুমি এখনো কাপ আর পিরিচ নিয়ে চড়ুইভাতি খেলছ
ভাবছ; কোন ঘরে কোন রঙ দেবো। সাজঘরটা কোনদিকে?
এদিকে বিকেলতো হয়ে এলো।
মেহেদীর বাটি নিয়ে এসো,
তোমাকে সাজাই,
তুমি যাবে না?


শুভ্র'র বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়েছি। বাড়ির লোকেরা বলেছে, ওকে অনেকদিন এই তল্লাটে দেখা যায়নি। বাড়ির লোক বলতে দুজন। ওর স্ত্রী আর মা। কী এক অদ্ভূদ কারণে ওরা দুজনেই এখন শাদা বসন পরতে শুরু করেছে। আগে ওর মা পরত শাদা থান কাপড়ের শাড়ী। কী যে শুভ্র লাগত ওঁকে। এখন শুভ্রর বউটাকেও ওর মায়ের মত লাগে, সকালের মত অদ্ভূত শুভ্র! বউটা ছিল খুব ছটফটে, এরকম শান্ত স্বভাব কখনো ছিল না তার।

শুভ্র'র কথা জিজ্ঞেশ করতেই ওর বউটার চোখে একটু দীপ্তি দেখা গেল। বেশ শান্ত। বলল, আপনাদের আড্ডাটা এখন আর জমে?

আহ, সে-ই আড্ডা।

আমরা পাঁচজন ছিলাম সেই দলে। আমি, মহিমা, আসিফ, অরু আর রুশো। শুভ্র মাঝে মধ্যে আসত। সে বেশ কদাচিত। সে আসলেই একটা অদ্ভূত কাণ্ড হয়ে যেত আমাদের মধ্যে। কী যেন হত, ঠিক বর্ণনা করা যায় না। আমাদের আড্ডার চায়ে লাল নীল সবুজ অনেক রঙ খেলত, কিন্তু সে আসলেই সমস্তটা শুভ্রতায় পরিপূর্ণ হয়ে যেত। শাদা পাঞ্জাবী আর পাজামা পরনে থাকত ওর- ধবধবে শাদার মধ্যে নীল দিয়ে ধোয়া। ঠিক কবির মতো, ওর কাঁধে একটি ছোট্ট ঝোলা ঝুলত সব সময়। ঝোলার ভিতর অনেক জিনিশ। ওর ভবগুরে জীবনের সম্পত্তিগুলি। একটি শাদা ডায়েরী, যার পৃষ্ঠাগুলি খুলে মাঝে মধ্যেই সে আমাদেরকে নিজের ছোট ছোট অনুভূতির কথা পড়ে শোনাত। মহিমাটা বিরক্ত হতো বেশ। আসিফ আর রুশোও খুব বেশী মনোযোগী হতো না। আড্ডাটার রঙ পাল্টে গেলো- সেই শোকে ওরা আস্তে আস্তে ঝিমিয়ে পড়ত। আমিও যে খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতাম তা না। কিন্তু, শুভ্রকে আমার অসম্ভব ভাল লাগত। অরুও খুব পছন্দ করত শুভ্রকে। কিন্তু অরু কখনোই এই কথাটি শুভ্রকে উচ্চারণ করে বলেনি।

মহিমার একটা চমৎকার টি-পট ছিল, যার মধ্যে চা রাখলে অনেকক্ষণ গরম থেকে যায় চা। সে সবাই-র মধ্যে চা বিতরণ করত। অরুকে বলত, অরু, তোর কাপটা দে। আড্ডায় আসার সময় আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের উপকরণগুলি নিয়ে আসতাম। অরু হেসে দু'টি কাপ বাহির করে দিত ঝোলা থেকে। দ্বিতীয়টি শুভ্র'র জন্য। মহিমা ভ্রুকুটি করত, শুভ্র, তোরটা বার কর তাড়াতাড়ি। শুভ্র মৃদু হাসত। বার করে দিত। ওর কাপ মানে একটি সৌখিন বাঁশের ঘটি। অরু মহিমার দিকে চোখ বড় করে বড় অভিমান ভরে তাকিয়ে থাকত। শুভ্র কিম্বা মহিমা কেউই অরুর এই চোখের দিকে তাকাত না কখনো। মহিমা বরং অরুর দুটি কাপই চায়ে পূর্ণ করে দিত। বলত, অরু, তোর জন্য দু কাপই বরাদ্দ আজ। খেয়ে ফেল। অরু নিঃশব্দে তার জন্য বরাদ্দ একটি কাপ হাতে নিত। শুভ্র পূর্ণ তৃপ্তিতে ওর ঘটিটাতে চুমুক দিতে থাকত। অরুর অতিরিক্ত কাপটি নিয়ে হুটোপুটি পড়ে যেত আমি, আসিফ আর রুশোর মধ্যে।

অনেকদিন হয়ে গেল, অরু আর শুভ্র দুজনেই আড্ডায় আসে না। অরুর কোথায় যেন বিয়ে হয়ে গেছে।

এদিকে শুভ্রর বউটি কেমন শুভ্র হয়ে শুভ্র'র জন্য অপেক্ষা করে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28836241 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28836241 2008-08-29 04:02:28
আমাদের ঘরটাতে একজন দুঃখের সারস ঈশ্বরের ছায়াপথ থেকে এসে প্রতিদিন
নিস্পাপ যিশুর মত
বসে থাকে
দ্বিধান্বিত

আমরা শঙকিত শামুক সকলেই
একটু আলো হবার ভয়ে
দুঃখের ভয়ে নীল
নিজেকে গুটিয়ে নিই

সারসটি একা খুব

তার বসে থাকা
আমাদের ঘরটাকে
আলো করে প্রতিদিন]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28835681 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28835681 2008-08-27 19:35:43
নৈঃশব্দের দোকানঘর আমরা ক'জন যুবক ঝাপ খুলে বসে আছি দ্বিধাগ্রস্থ-

এখানে কেউ কি আসবে আমাদের দুঃখগুলি কিনতে

সৌখিন কাঠের নয়, হিরের দ্যুতিময় অঙ্গুরি আমাদের হাতে নেই
কপিলাবস্তুর একজন বৃদ্ধ এসে তিনটি ঝিনুকের কড়ি দিয়ে গেছে
অল্প কিছুক্ষণ আগে
বলেছে: এই ভগ্ন কুঠিরে তোমরা কীভাবে চালাচ্ছ বাবারা
যদি আমি দেশের সম্রাট হতাম, তাহলে তোমাদের জন্য
একটি বড়ো কুঠিবাড়ী বানিয়ে দিতাম হে।

আমরা তিনজন যুবক মোলায়েম হেসেছি মাত্র, মোগলবংশীয়
পিতলের লোটাটা তাকে উপহার দিয়েছিলাম।
আমাদের হাতে যে আর কিছু নেই, বৃদ্ধটাকে দেবার মত।

মাঝে মাঝে শীতল-পাটির উপর বসে আমরা তিন বন্ধু পরস্পরের কাঁধে
হাত দিয়ে বসে থাকি। চোখের নিরব মুদ্রায় আলাপ করি: নৈঃশব্দ কাকে বলে?

একজন গিলগামিশ একদিন তশতরীতে কিছু প্রার্থনার শব্দ নিয়ে আসে
তখন আমরা আমাদের সঙ্গীনীদের নিয়ে সেই শব্দগুলির কাছে চোখ মুদে রাখি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28831708 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/28831708 2008-08-17 03:12:28
আ টরচার্ড ইমেজ: রেহনুমা আহমেদের ফ্যাসিবাদীতা, ভণ্ডামী ও একটি মিশ্র অনুভূতির থিওরি, তারেক রহমান ও তার মায়ের অপরাধ ও শাস্তি... আ টরচার্ড ইমেজ: রেহনুমা আহমেদ, New Age on 26th June 2008

রেহনুমা আহমেদের ফ্যাসিবাদীতা, ভণ্ডামী ও একটি মিশ্র অনুভূতির থিওরি

রেহনুমা আহমেদের লেখা আমি খুব আগ্রহভরে পড়ি, নৃবিজ্ঞানে আমার আগ্রহ, একই সাথে নারীবাদের গলি ঘুপচিগুলোতে তাঁর স্বর এবং সক্রিয়তাগুলো দৃষ্টি আকর্ষণীয় বলে। গতকাল আমার কাছে একটা মেইল আসে, ওয়ার্ডপ্রেসে শহীদুল ব্লগে প্রকাশিত রেহনুমার একটি লেখার লিঙ্কে ইনভাইট করে, যেটি ২৬ জুন ২০০৮ তারিখে নিউএজ পত্রিকায় উপসম্পাদকীয় বিভাগে ছাপা হয়। আমি তৎক্ষণাৎ লেখাটি পড়ি, পড়ে, কিছুক্ষণ নির্বোধের মত দাঁড়িয়ে থাকি। তারপর বসে পড়ার সময় যখন হয়, বিবমিষা জাগে।

রেহনুমা লেখাটি শুরু করেছেন একটি প্রিন্সিপলড স্ট্যাণ্ড ঘোষণা এবং সাথে সাথে সেই প্রিন্সিপলড স্ট্যাণ্ডকে দলিত করেছেন কিছু প্রিজুডিস এবং ফ্যাসিবাদী গোঁড়ামী দিয়ে। লেখাটির সারকথা হলো, টরচার ব্যাপারটা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়, কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকে রিমাণ্ডে নিয়ে সব হাড়-গোড় গুঁড়ো করে দিলেও এতে তাঁর অনুভূতিতে লাগে না। ''I am against torture. I have always been against torture, and yet I have no sympathy for Tarique R