somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... একটি ব্লগে রিফাত হাসান এর দুটি নিক: সম্ভব?
রিফাত হাসান: লিঙ্ক: ১
রিফাত হাসান: লিঙ্ক: ২

পুনশ্চ: এই ব্লগে আমার কোন একাউন্ট নেই। প্রথম একটি নিক দেখার পর ব্যাপারটি জানিয়ে উল্লেখিত ব্লগ কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছিলাম। কোন ফিরতি মেইল পাই নাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29535288 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29535288 2012-02-05 10:42:35
নির্বাচন কমিশনের ব্যবসা-বাসনা ও সাইবার স্পেসে বিটিআরসির নজরদারী: আপাত নোট ১.
সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন মহাধুমধামের সাথে তাদের কাছে সংরক্ষিত বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে আট কোটি ভোটারের তথ্য চড়া মূল্যের বিনিময়ে বিক্রয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য বেচাবিক্রির এই খোলামেলা বাণিজ্য খুবই ভয়ঙ্কর। এটা এখনই বন্ধ করা দরকার। আমরা ভয় পেয়েছিলাম, এই তথ্যভাণ্ডার গোপনে বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে পাচার হবে। আমাদের ভাবনা ভুল। গোপনে নয়, এখন নির্বাচন কমিশন প্রকাশ্য, ব্যবসায়িক ঘোষণা দিয়ে, আমাদের বিরাট টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এই তথ্য ভাণ্ডারের সম্ভাব্য ক্রেতাদের আহ্বান করছে। এর প্রতিবাদে এখনই আমাদের সোচ্চার হওয়া দরকার।

২.
দ্বিতীয় খবর হলো, বিটিআরসি এবার সাইবার স্পেসে নজরদারী ও হুকুমত বাড়াবে। রাষ্ট্রীয়, সমাজ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায়- এমন ওয়েবসাইট সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াই হবে মূল কাজ, বিডিনিউজ জানাচ্ছে। “দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত দায়িত্বহীন অপপ্রচারমূলক খবরের প্রতিবাদ” : সামহোয়ারইন ব্লগ কর্তৃপক্ষের এই শিরোনামের পোস্টটিও এই খবরটির সাথে পাঠ্য হতে পারে। সাইবার আইনের এডভোকেটগণ এইবার সফল হবেন আশা করা যায়। তবে, সামইনের কি স্বপ্নভঙ্গ হলো? যাই হোক, মুক্তমতের টুটি টিপে ধরার যে কোন প্রয়াসের বিরুদ্ধেই আমাদের দাঁড়ানো দরকার। মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরে দেখেছি, এই এডভোকেটদের সাথে একদা গলা মিলিয়েছিল সামহোয়ারইনও। আমরা তখন এই এডভোকেসিতে ব্লগ কর্তৃপক্ষগুলোর অতিরিক্ত আগ্রহর ধরণটাকে, গরু নিজের মুখেই মুখবন্ধনী লাগানোর জন্য মালকিনকে প্ররোচিত করার সাথে তুলনা করেছিলাম। এখন যদি সামহোয়ারইন তাদের ভুল বুঝতে পারে, আমরা তাদের স্বাগত জানাই। একই সাথে যদি কোন গোষ্ঠি আপাত মুক্তমতের এই প্লাটফর্ম সামহোয়ারইনব্লগ বা যে কোন প্লাটফর্ম বন্ধের চক্রান্ত করে, আমরা মনে করি, আমরা সবাই এর পাশে দাঁড়াবো। দাঁড়ানো দরকার।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29529951 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29529951 2012-01-26 23:03:26
বাংলাদেশ রাষ্ট্রে সর্বভারতীয় কনফেডারেশনের নিরাপত্তা ভাবনা ও অন্যান্য মাইক্রোব্লগিং ফ্রম ফেসবুক টাইমলাইন

১.
বাংলাদেশ রাষ্ট্রে সর্বভারতীয় কনফেডারেশনের নিরাপত্তা ভাবনার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উদযাপন এবং বিডিআর নামে একটি বাহিনীকে নিকেশ করে দেওয়া- এইসবের সাথে সম্পর্কিত না করে আমরা কীভাবে ভারতের সীমান্ত গুণ্ডামি ও হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রতিবাদ করতে পারি? এটিরে আলোচনার বাইরে রেখে স্রেফ বর্জন, বনধ যাই হোক, এমন গান্ধিবাদী অবস্থানের কোন ফলাফল নেই।

২.
এখন কথা হলো, বিএসএফ এর নির্যাতন, খুনোখুনি এইসবের বিপরীতে প্রতিরোধের সাহসে দাঁড়াতে পারে, এমন কোন বাহিনী কি বিজিবি? বিডিআর বহুবার দেখিয়েছে। শেখ হাসিনা বিডিআর প্রধানকে অপসারণ করেছিলেন এই সাহস দেখানোর কারণে। বিজিবি পারবে তো? একই সাথে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের মোগলাই পিরিত আর ভারতের সীমান্ত খুনোখুনির বিপরীতে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ করতে?

৩.
বিডিনিউজে প্রথম শিরোনাম ছিল, ’সরকার উৎখাতে অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ’। তার পরে রঙ বদলে গেল> হাসিনা উৎখাতে ‘ধর্মান্ধ’ সৈন্যদের চেষ্টা ব্যর্থ। আমরা বুঝতে পারলাম, ভাল, ধর্মনিরপেক্ষ সৈন্যরা এই গুনাহের কাজে যুক্ত নন, শুধু ধর্মান্ধরা ছাড়া। ধর্মান্ধ এর বিপরীতে কি ধর্মনিরপেক্ষ হবে? নাকি অন্য কিছু? সেনাবাহিনীতে এই ফারাকের বীজ কে বুনছে? মিডিয়া কেন ধর্মান্ধতার কথাই কইছে?

৪.
রাষ্ট্রের কাছে সেনাবাহিনীতে ’বাম’ আর ’জঙ্গী’ ধারার তফাত কোথায়? রাষ্ট্র কি বাম ধারাকে জায়গা দিত? বা, বাম ধারা কি অ-জঙ্গী? জঙ্গী শব্দের হাক্বীকত কী?

৫.
জিয়ার জন্মদিনে সেনা কর্পোরেটের সংবাদ সম্মেলনে এক নতুন ’মৌলবাদী’ জিয়া: আনন্দবাজার বলছে, এর লক্ষ্য নয়াদিল্লী। আনন্দবাজারের লক্ষ্য কী?

৬.
এক এগার। বেশ রহস্যময় সংখ্যা। 111 like ব্লগারস রাউণ্ড.কম ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29527091 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29527091 2012-01-22 14:58:34
মৃত্যুকামনার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে? মৃত্যুদণ্ড হলে খারাপ হয় না। কী বলেন?
বিডিনিউজের এই মুহূর্তের খবর: হাসিনার ‘মৃত্যু কামনা’ : রুহুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার নির্দেশ।

ফ্রম ফেসবুক টাইমলাইন / ব্লগারস রাউণ্ড
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29518764 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29518764 2012-01-08 19:46:51
ব্লগারস রাউণ্ড :: আলাপ :: পুনঃপ্রচারণা নোট ফেসবুক পেজের লিঙ্ক




অনলাইনে ব্লগারদের জন্য একটি নতুন ধরণের লেখালেখির প্লাটফর্ম তৈরীর চেষ্টা। যেখানে মত প্রকাশের জন্য কোন 'শর্ত প্রযোজ্য' থাকবে না। বাংলাদেশ এবং বহির্বিশ্বের ব্লগাররা একই সাথে বাংলা এবং ইংরেজি ভাষায় ব্লগিং করতে পারবেন। ফলত বাংলা ভাষাভাষি এবং বহির্বিশ্বের অন্যান্যদের সাথে লেখালেখি এবং পরিচয়ের সংযোগ ঘটাবে। আপনি আমন্ত্রিত। আসুন আলাপ হোক।

নাম হবে ব্লগারস রাউন্ড ডটকম। এ সম্পর্কিত আগের পোস্ট: ব্লগারস রাউণ্ড :: আলাপ :: প্রচারণা নোট

খোঁচাখুঁচি করার জন্য ব্লগ সম্পর্কিত কয়েকটি পুরনো কাইজ্যার লিঙ্ক:

বাংলা ব্লগের মুখবন্ধনি এবং অন্যান্য স্ট্যাটাস: ফেসবুক টাইমলাইন, কাঠগড়ায় ফেসবুক, ব্লগ: ব্লগাররা কী ভাবছেন?, লিবিয়া, এক এগার এবং বাংলাদেশে অনলাইন ভার্চুয়াল তরুণদের লড়াই , মিডিয়া বা ব্লগ এর 'অনির্যাতন' ও হিরণের ‘নির্যাতন': একটি বাখোওয়াজ, সামহোয়ারইনের মডারেশন নীতিমালা: একটি ভিন্ন পর্যবেক্ষণ, খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা, ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ, বিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত হবার আমন্ত্রণ: আমি কেন গ্রহণ করতে পারছি না প্রিয় সামহোয়ারইন, নোটন নোটন পায়রাগুলি ও কয়েক চিরকুট নোট, বিস্তর পরের নোট: ব্লগে আমার দুই বছর পূর্তিতে আড়মোড়া ও কিছু পুরনো আলাপ, বর্ষসেরা লেখা সমাচার: মানস চৌধুরীর পোষ্ট ''দেখে'' আমার প্রতিক্রিয়া, ইতিহাস তর্কের কাইজ্যা, আদালত অবমাননা ও কুটনৈতিক শিষ্টাচার, পোষ্ট মুছে ফেলার একটি নিরীহ ও প্রতীকী প্রতিবাদ। যা কাউরে আহত করবে না। আবার জননিরাপত্তার জন্য হুমকিও হবে না।, দুটি শব্দের গ্লানি, সামহোয়ারইনের বৈপ্লবিক অবস্থান ও প্রধান বিচারপতির অসদাচরণ সমাচার!, মুক্ত গণ-মাধ্যম-ভাবনার নতুন প্লাটফর্ম: স্রেফ শুভেচ্ছা, ফেসবুক বন্ধের প্রতিবাদ জানাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29516689 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29516689 2012-01-05 13:18:20
ব্লগারস রাউণ্ড :: আলাপ :: প্রচারণা নোট

অনলাইনে ব্লগারদের জন্য একটি নতুন ধরণের লেখালেখির প্লাটফর্ম এর কথা ভাবছিলাম। অনেক দিন ধরেই। যেখানে মত প্রকাশের জন্য কোন 'শর্ত প্রযোজ্য' থাকবে না। বাংলাদেশ এবং বহির্বিশ্বের ব্লগাররা একই সাথে বাংলা এবং ইংরেজি ভাষায় ব্লগিং করতে পারবেন। ফলত বাংলা ভাষাভাষি এবং বহির্বিশ্বের অন্যান্যদের সাথে লেখালেখি এবং পরিচয়ের সংযোগ ঘটাবে।

নাম হবে ব্লগারস রাউন্ড ডটকম। এ বিষয়ে এখানে আলাপ চলতে পারে।

খোঁচাখুঁচি করার জন্য ব্লগ সম্পর্কিত কয়েকটি পুরনো কাইজ্যার লিঙ্ক:

বাংলা ব্লগের মুখবন্ধনি এবং অন্যান্য স্ট্যাটাস: ফেসবুক টাইমলাইন, কাঠগড়ায় ফেসবুক, ব্লগ: ব্লগাররা কী ভাবছেন?, লিবিয়া, এক এগার এবং বাংলাদেশে অনলাইন ভার্চুয়াল তরুণদের লড়াই , মিডিয়া বা ব্লগ এর 'অনির্যাতন' ও হিরণের ‘নির্যাতন': একটি বাখোওয়াজ, সামহোয়ারইনের মডারেশন নীতিমালা: একটি ভিন্ন পর্যবেক্ষণ, খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা, ফাহমিদুল হকের বহুলপঠিত একটি পোস্ট এবং ব্লগের লিখিয়েরা: একটি পর্যবেক্ষণ, বিশ্বাসীদের অন্তর্ভূক্ত হবার আমন্ত্রণ: আমি কেন গ্রহণ করতে পারছি না প্রিয় সামহোয়ারইন, নোটন নোটন পায়রাগুলি ও কয়েক চিরকুট নোট, বিস্তর পরের নোট: ব্লগে আমার দুই বছর পূর্তিতে আড়মোড়া ও কিছু পুরনো আলাপ, বর্ষসেরা লেখা সমাচার: মানস চৌধুরীর পোষ্ট ''দেখে'' আমার প্রতিক্রিয়া, ইতিহাস তর্কের কাইজ্যা, আদালত অবমাননা ও কুটনৈতিক শিষ্টাচার, পোষ্ট মুছে ফেলার একটি নিরীহ ও প্রতীকী প্রতিবাদ। যা কাউরে আহত করবে না। আবার জননিরাপত্তার জন্য হুমকিও হবে না।, দুটি শব্দের গ্লানি, সামহোয়ারইনের বৈপ্লবিক অবস্থান ও প্রধান বিচারপতির অসদাচরণ সমাচার!, মুক্ত গণ-মাধ্যম-ভাবনার নতুন প্লাটফর্ম: স্রেফ শুভেচ্ছা, ফেসবুক বন্ধের প্রতিবাদ জানাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29516281 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29516281 2012-01-04 20:54:27
তারা এবার কোনদিকে সিজদা দেবেন? ২৮ ডিসেম্বর ২০১১

যারা এতোদিন বুশের জবানিতে নিজের লেজ বেঁধে আমেরিকাকে ক্বেবলা করে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কল্লা নাচাইছিলেন, তারা এবার কোনদিকে সিজদা দেবেন? সাম্প্রতিক খবর: মার্কিন ‘সন্ত্রাসী তালিকা’ থেকে তালেবান নেতা মোল্লা ওমর বাদ।

২৬ ডিসেম্বর ২০১১

একুশে টিভি। তিতাশ এবং ট্রানজিট নিয়ে দুটি রিপোর্ট, একুশের রাতের আদালত অবমাননার জন্য কাটগড়ায় দাঁড়ানো অঞ্জন রায় (অঞ্জন রায় তো?), তারপর দাঁড়ি-টুপি ও পাঞ্জাবীকে ৭১ এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেয়া গেম শো। কোনটা মনে রাখবো?

ফ্রম ফেসবুক টাইমলাইন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29511690 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29511690 2011-12-28 19:36:35
শীতে জমে যাচ্ছি! পুরো দেশের কুয়াশার কী খবর? কখন কমবে বন্ধু? শীতে যে জমে যাচ্ছি!

২.
রাষ্ট্রের ধর্মাকাঙ্ক্ষা। যেমন আক্রমণাত্মক সবকিছুর মালকিন হবে রাষ্ট্রেশ্বর, অন্য যার কাছেই থাকুক সে শেরকের অপরাধে অপরাধী। :: ইন্টারনেট থেকে আক্রমণাত্মক উপাদান সরাও / ভারতীয় আদালত

ফ্রম ফেসবুক টাইমলাইন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29509416 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29509416 2011-12-24 21:43:02
বাংলা ব্লগের মুখবন্ধনি এবং অন্যান্য স্ট্যাটাস: ফেসবুক টাইমলাইন ২০. ১২.২০১১

সাইবার আইনের জন্য এডভোকেসি হচ্ছে প্রচুর। দুর্ভাগ্যজন হলো সরকারের চেয়েও, এই এডভোকেসিতে কয়েকটি ব্লগ কর্তৃপক্ষ’র অতিরিক্ত আগ্রহ। ধরণটা হলো, গরু নিজের মুখেই মুখবন্ধনী লাগানোর জন্য মালকিনকে প্ররোচিত করছে। এইটা অদ্ভূত ইচ্ছা, যার স্রেফ ফ্রয়েডীয় ব্যাখ্যা হওয়া সম্ভব।

১৯.১২.২০১১

ডিজিএফআই’র এক কর্মকর্তার সাথে হঠাৎ পরিচয় হলো। কথা প্রসঙ্গে জানালেন, হত্যা-গুম এইসব নিয়ে অন্য দেশবাসীর মত তিনিও উদ্বিগ্ন। তিনি চট্টগ্রাম ক্লাবের পাশের জঙ্গলে এক ছাত্রের মাথা কাটা লাশ পাওয়া যাওয়ার কথা বললেন। এইটা কিছুক্ষণ আগের খবর। আমি তাকে শাদা পোষাকে গ্রেফতার নিষিদ্ধ করার জন্য হাইকোর্টে রীট করার আগ্রহের কথা জানালাম। আমার আগ্রহের কথা শুনে তিনি আমার বিস্তারিত পরিচয়, ফোন নম্বর এবং বাসার ঠিকানা নিলেন। কেন, কী জানি!

১৭.১২.২০১১

শাদা পোষাক প্রতিহত করুন। শাদা পোষাকের পরিচয়দানকারীদের জনতা ও পোষাকধারীদের হাতে তুলে দিন। শাদা পোষাকের কোন বাহিনী চাই না। শাদা পোষাক নিপাত যাক।

১৬.১২.২০১১

ভেরি ইন্টারেস্টিং। জামাত নেতা গোলাম আযম কথা বলা শুরু করেছেন। চল্লিশ বছর এই দলটি এবং এর পাণ্ডারা আমাদেরকে অন্ধকারে রেখেছে। আওয়ামী লীগের মতন। জামাত নিরব থেকে, পাশ কাটিয়ে, বিপরীতে আওয়ামীলীগ সরব থেকে, বাখোয়াজ করে ইতিহাসকে নিজের পক্ষের হাতিয়ার হিশেবে ব্যবহার করেছে। এদের উভয়ই ধুরন্ধর। মনে রাখতে হবে, দালালী ও নিপীড়ক ভূমিকা কখনোই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিশেবে পার পেতে পারে না। আবার, স্রেফ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে হওয়ার কারণেই কারো নিপীড়ণ বৈধতা পেতে পারে না। জনগণ উভয়েরই বিচার করবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29507047 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29507047 2011-12-21 11:43:38
মিডিয়া বা ব্লগ এর 'অনির্যাতন' ও হিরণের ‘নির্যাতন': একটি বাখোওয়াজ মিডিয়া বা ব্লগ যখন ফারজানার ছবি এবং ভিডিও অপলোড দিয়ে শিরোনাম করে, তখন সেই ক্ষমতা-সম্পর্কের 'অ-নির্যাতন' বা হিরণের 'নির্যাতনমূলক' মন্তব্যকে আমরা কী দিয়ে মোকাবেলা করব?




ফুটলিঙ্ক:

বিডিব্লগ: ফারজানার সেই আলোচিত বিয়ের ভিডিও: http://bit.ly/v7kRPY

বিডিব্লগ: যেখানে ফারজানার ছবিসহ হিরণের ওয়াল পোস্ট-এর স্ক্রিণশট দেয়া হয়েছে: http://bit.ly/vNQ4E6

বিডিনিউজ: সাইবারে সামাজিক নির্যাতন কিংবা অপরাধ ও প্রতিরোধ মডেল: http://bit.ly/uD65Fl]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29486624 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29486624 2011-11-19 23:52:45
ইউনিকোড থেকে বিজয়ে কনভার্ট এবং আর একটি বিষয়ে পরামর্শ প্রয়োজন
এক. একটি শখের ক্যামেরা কিনবো। প্রথম পছন্দ canon sx220 মডেলটি। প্রশ্ন হলো ঢাকায় ক্যাননের ডিলার ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে কেনা নিরাপদ কি, যারা নিজেরাই ইমপোর্ট করে বিক্রি করে? প্রসঙ্গত এই মুহূর্তে সব জায়গায় এই মডেলটি পাচ্ছি না।

দুই. ইউনিকোড থেকে বিজয়ে কনভার্ট করার সবচেয়ে ভাল টুল কোনটি, যা উইনডোজ সেভেন ৬৪ বিট সাপোর্ট করে? প্রসঙ্গত: এইটা আমি ব্যবহার করতাম, কিন্তু কিছু অক্ষর এলোমেলো হয়ে যায়। প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যবহারের জন্য আমার সামহোয়ারের লেখাগুলো বিজয়ে কনভার্ট করা জরুরী। আর, আমি বিজয় বায়ান্ন ২০১১ ব্যবহার করি।

অগ্রিম ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29483659 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29483659 2011-11-15 12:16:59
লিবিয়া, এক এগার এবং বাংলাদেশে অনলাইন ভার্চুয়াল তরুণদের লড়াই

২.

লিবিয়ার বরাত দিয়ে শুরু করেছিলাম। কিন্তু আমাদের আগ্রহ সেই বরাতে বাংলাদেশকে দেখা। দুই হাজার সাত সালের এগার জানুয়ারী বাংলাদেশে সুশীলদের দ্বারা রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে এক কিম্ভূত বিপ্লব হয়েছিল। এও জাতীয় পুনরুদ্ধারের কথা বলে। লিবিয়াতে এই পুনরুদ্ধার প্রকল্পে সশস্ত্র ন্যাটো ছিল নেতৃত্বে। মূলত ইংরেজী শিক্ষিত ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে ‘অভিবাসি লিবিয়’দের একটি অংশ এই ‘গণ-বিদ্রোহে’ ন্যাটোর স্থানীয় এজেন্টের ভূমিকা পালন করেছে, বিশ্লেষকদের এমনই মত। একইভাবে বাংলাদেশে এক এগারর পিছনে বিশ্বের প্রভাবশালী কুটনৈতিক মিশনগুলো ছিল নেপথ্যে। আর স্থানীয় কুশিলব হলো সুবিধাবাদি ও বর্ণচোরা সুশীল সমাজ। লিবিয়ার মতই, বাংলাদেশে তরুণদের সুবিধাবাদি অংশ এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছিল। এই সুবিধাবাদি অংশের বৈশিষ্ট্য হলো সমাজের যাবতীয় অনিয়ম-দুর্নীতি ও রাজনীতির বিরুদ্ধে তিক্ত-বিরক্ত। আবার কোনরকম ঝামেলাপূর্ণ পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় নিজেদের জড়াতে অনিচ্ছুক। তাই সুশীলদের দ্বারা একটি নির্ঝঞ্জাট বিপ্লব পেয়ে এই অংশটি তার ফলাফলকে হাড়-মজ্জাসহ নিজের মনে করল। লিবিয়ায় যেমন ন্যাটো কর্তৃক মুখে পুরে দেওয়া বিজয়কে ওরা নিজেদের মনে করল। এইভাবে, পুরো দুই বছর জরুরী শাসনের অধীনে আবদ্ধ থাকার পর দুই হাজার নয় সালের উনত্রিশ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে একদলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার আওয়ামীলীগ সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো বাংলাদেশে। এই পর্বকে আমরা এক-এগার দ্বিতীয় পর্ব হিশেবে অভিহিত করতে পারি। এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে। আগের পর্বে আমরা দেখেছি, রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুবিধাভোগি ও স্বার্থপর অংশ যাদেরকে আমরা সুশীল সমাজ হিশেবে চিনি, তাদের মাধ্যমে সমাজের বিরাজনীতিকরণ প্রচেষ্টা চলেছে। মোটাদাগে। আবার, দ্বিতীয় পর্বে বর্তমানে এই ঘটনা চলছে আরো সুক্ষ্ম ও চতুরভাবে। ক্ষমতাসীন একটি দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ও ব্যানার ব্যবহার করেই সেই একই বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া সমাধা করার চেষ্টা চলছে। এই সুচতুর তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণভাবে পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে। প্রথম পর্বের তৎপরতার দৃশ্যমান অংশ ছিল খোলামেলা। কোনরকম ‘গণতন্ত্রে’র ভাব না ধরেই রাজনীতিবিদ এবং রাজনৈতিক দল সহ যে কোন রাজনৈতিক তৎপরতার বিরুদ্ধে চরমভাবে দমন ও নিপীড়ণ চালানো হয়েছে। আর দ্বিতীয় পর্বে এই প্রচেষ্টার দুইটি ভীন্ন রূপ আছে। এক. নির্বাচনী গণতন্ত্রের মোড়কে উগ্র ফ্যাসিবাদের উসকানির মাধ্যমে রাজনৈতিক ভীন্ন মতাবলম্বীদের দমন-নিপীড়ণ-নিষিদ্ধকরণের ধমকি। এই ক্ষেত্রে পুলিশ, আইন-আদালত- সবকিছুই সুবিধামতো ব্যবহার হয়েছে। পূর্বাপর সুশীল সমাজ তো আছেই। আবার, যেহেতু এই পর্বের কলা কুশলীদের অপরাপর সব পরা-ভিত্তির সাথে সাথে নির্বাচনী গণতন্ত্র অর্থে গণতন্ত্রের লেবাস এবং সেই হিশেবে গণভিত্তির লেবাসও আছে, এক এগারর রেজিম যে কাজ ‘অসাংবিধানিক’ উপায়ে পরাশক্তির আশ্রয়ে করতে গিয়েছিল, এই নির্বাচনী গণতন্ত্রের একদলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার জনগণের সম্মতির কথা বলেই, তাদের ভোটের হাতিয়ার দিয়েই, সেই কাজ সম্পন্ন করার সামর্থ এমনকি হিম্মত রাখে। ভারতের সাথে ট্রানজিট-ট্রানশিপমেন্ট-তিস্তার পানির হিস্যা ইত্যাদি বিষয়ে সরকারের দর কষাকষিহীন নৈতিক ও আত্মমর্যাদাহীন অবস্থান দ্রষ্টব্য। দুই. সমাজের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময়ী ও স্পর্শকাতর তরুণ সমাজকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’র মত একটি দারুণ অনর্থ ফাঁপা শ্লোগানে মাতিয়ে তাদেরকে পুঁজি ও টেকনোলজির প্রশ্নহীন দাস বানিয়ে দেওয়া ও রাজনৈতিকতাবোধহীনভাবে তৈরী করা। দুই হাজার ছয় সালে সুশীল সমাজের পরিবর্তনকে তরুণদের যে সুবিধাবাদি অংশ স্বাগত জানিয়েছিল, বর্তমানে তাদের তৎপরতা ও গন্তব্য চিহ্ণিত করতে এক-এগার দ্বিতীয় পর্বের এই উভয় বৈশিষ্ট্য মনে রাখা জরুরী। তাদের তৎপরতা ও গন্তব্যে কিছুটা মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। সম্ভবত ভবিষ্যতে আরো আসবে।


৩.

কীভাবে এর শুরু, একটু বিস্তার করি। লিবিয়ার কাহিনী থেকে শুরু করেছিলাম। প্রকৃত লিবিয়া থেকে হাজার মাইল দূরে থাকা সুশীলদের এই ‘জাতীয় পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ ও গাদ্দাফীর খুনের ঘটনাকে মূলত তিউনিসিয়া বা মিশর বা আরববিশ্বের সবখানে যে হঠাৎ ‘গণ-জাগরণ’ এর ঢেউ, তার উচ্ছিষ্টাংশ বলা যেতে পারে। ফেসবুক, ব্লগ এবং অপরাপর বিকল্প ও মুক্ত গণ-মাধ্যমগুলোই শুরুতে আরব বিশ্বে এই ‘গণজাগরণ’গুলোর প্লাটফর্ম তৈরী করেছে- এমন তথ্য আমাদের সামনে হাজির আছে। সর্বসম্প্রতি ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ এর যে ¯্রােত দুনিয়াব্যাপি সাড়া ফেলেছে, ওখানেও এই মাধ্যমগুলোর ব্যাপক ব্যাবহার হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমান সরকার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ঘোষণার অনেক আগে থেকেই, তরুণদের একটি বৃহৎ অংশ ফেসবুক, ব্লগ এবং নানানরকম বিকল্প গণমাধ্যমের সাথে লেখালেখি ও নানান উপায়ে তৎপর রয়েছে। এই নতুন সরকার আসার আগেই বাংলাদেশে জরুরী সরকার ও সেনা-আধিপত্যের বিরুদ্ধে দুই হাজার সাত সালে আগষ্টের ছাত্র-আন্দোলন ঘটে গিয়েছে। এর আগে এই তরুণদের সাধারণ চরিত্র ছিল ঘরকুনো। জরুরী অবস্থার কঠিন শাসনের ভিতরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা বাংলাদেশের ছাত্ররা যে সাহসের আস্পর্ধা দেখিয়েছিল, তা এই তরুণদের মধ্যেও ছোঁয়া দিয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনা তাদের তৎপরতা ও গন্তব্যে যে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে, তার তাৎপর্য বিশাল। তাদের মধ্যে এতদিন যারা এই প্লাটফরমগুলোকে স্রেফ ফুল পাখি লতা-পাতার কাব্য বা আস্তিক-নাস্তিকতার বাদানুবাদে ভরে রাখতো, এই ঘটনার পর থেকে তারা এটিকে কাজের জায়গাতেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে শুরু করেছে। তাদের ফুল পাখি লতা-পাতার ফাঁকে স্থান পাচ্ছে, রাষ্ট্র, নাগরিক অধিকার, গণতন্ত্র, এর পরিসর ও চরিত্রের বিবর্তন ইত্যকার বিষয়গুলো। তার উপর মিশরের তাহরির স্কয়ারে সফল গণ-অভ্যুত্থান এর ঢেউ, তিউনিসিয়ার ‘গণ-জাগরণ’ এইসব তো অনুপ্রেরণা হিশেবে আছেই। দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের এইসব ঘরকুনো ফেসবুকিয়ান এবং ব্লগাররা ইদানিং হঠাৎ হঠাৎ রাস্তায় ব্যানার নিয়ে আস্পর্ধায় দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে ভারত সীমান্তে বিএসএফ এর খুনোখুনির প্রতিবাদ, টিপাইমুখ বাঁধের মাধ্যমে ভারতের পানি সন্ত্রাস, সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-আন্দোলন, তেল গ্যাস ও প্রাণ প্রতিবেশ রক্ষার আন্দোলনে ফেসবুক এবং ব্লগ কম্যুনিটির উৎসাহ, বিভিন্ন উপায়ে ‘সংহতি জ্ঞাপন’ লক্ষনীয়। এইসব ইস্যুতে ব্লগারদের গ্রেফতারের মত ঘটনাও ঘটেছে কয়েকবার। যেহেতু ফেসবুক, ব্লগ এইসব অনলাইন প্লাটফরম এখনতক সরকারের আইনি নজরদারির পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, আবার বেশিরভাগ সময়ে সম্পাদকীয় নীতিমালার খড়গহীন এবং মুক্ত, তরুণরা দ্রুততম সময়ে কথা ও বক্তব্য ছড়িয়ে দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তরুণদের এই আগ্রহের মধ্যে একটা রোমান্টিক ভাবও আছে। দেখা গেছে, অবিকল পশ্চিমাদের অনুকরণে এদের একটি দল ইতিমধ্যে ‘ওয়ালস্ট্রিট দখল’ প্রোগ্রামও করে ফেলেছে, ঢাকায়। আবার দেখা গেছে, সম্প্রতি সৌদিআরবে আট বাংলাদেশীর আইনি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সৌদি রাজতন্ত্রের জুলুম ও বাংলাদেশের কুটনৈতিক ব্যর্থতা চিহ্ণিত করার পরিবর্তে জল্লাদ হিশেবে ইসলামকে হাজির করতে তৎপর এদের অনেকেই। এই ধরণের ব্যাপার তো আছেই। যাই হোক, মিডিয়াগুলো এখন ব্লগারদের তৎপরতাকে আমলে রাখছে, সংবাদ শিরোনাম করছে। ফেসবুক আর ব্লগে প্রচুর ‘ঝড়’ হচ্ছে। মিডিয়া এমন ঝড়গুলোকে উদ্ধৃত করছে। মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী পুলিশ, ছাত্রলীগ, গোয়েন্দা সংস্থা, হাইকোর্ট সবাই এখন এই ঝড়গুলোর নজর রাখছে। এই ঝড়গুলোকে নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়ন করার কথা ভাবছে সরকার। ফেসবুক স্ট্যাটাসের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট রুলনিশি জারি করছে। এইসব ঘটনাপঞ্জিতে একদিকে সরকারের অসহিষ্ণু ভাব প্রকাশ পেলেও, অপরদিকে বুঝতে পারা যায়, ওদের কর্মকাণ্ডের ফলাফল মোটামোটি ফেলে দেবার নয়। বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ‘তরুণ’দের উদ্দেশ্য করে মিডিয়াতে লেখা লিখেছেন। তাই, বাংলাদেশের এই ‘অনলাইন’ ‘ভার্চুয়াল’ তরুণরা একঘোরের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছে এই সময়ে। কারণ তারা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।


৪.

এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ।

হাঁ, বাংলাদেশের অনলাইন ভার্চুয়াল তরুণদের এই সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশান্বিত হই, এই তরুণরা যখন প্রাণ-প্রকৃতি ও ভূখ- রক্ষার লড়াইয়ে ছাত্রসমাজ, শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সাথে সংহতি জ্ঞাপন করে। আবার যখন হুবহু পশ্চিমা অনুকরণে ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ করে, সৌদি জুলুমের প্রতিবাদ করতে গিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের অনুকরণে খোদ ইসলামকে আসামী হিশেবে হাজির করে, তখন তরুণদের এই অংশের অপরিণত ভাব সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হয়। যা বিষয়কে স্থানিক রাজনীতির প্রপঞ্চে জারিত না করে স্রেফ অনুকরণ, রোমান্টিক ও হিরোপ্রকল্প হিশেবে সামনে নিয়ে আসে। ভাবতে হয়, এই তরুণরা তো বাংলাদেশের তরুণদের সমগ্র নয়। ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। যারা সমগ্রের সাথে মিলার লড়াই শুরু করেছে মাত্র।

এই লড়াই অনেক বন্ধুর। তরুণদের এই বিবর্তনে ডিজিটাল বাংলাদেশের হর্তা কর্তারা মোটামোটি হতাশ, আবার তারাও মোটামোটি আশাবাদি পরিস্থিতি তৈরীর জন্য তৎপর। তরুণদের তৎপরতাগুলিকে ফাঁপা অনর্থ রোমান্টিতা, ক্ষেত্র বিশেষে হটকারিতায় পর্যবষিত করার জন্য মরিয়া ওরা। এদিকে সুশীল সমাজ-ও অস্থির। ঘরের কোণে বসে আলসেমি, প্রেম ও কাব্য করা এই তরুণ সমাজের হঠাৎ এ কি মতিভ্রম ঘটল। তারা এই পরিবর্তনকে রুখে ও বদলে দিতে নানান ‘অরাজনৈতিক’ ওয়াজ-নসিহত নিয়ে তৎপর। কারণ এক-এগারর সেই ‘মেধাবী’ ও ঘরকুনো, স্বার্থপর তরুণেরাই তাদের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল ছিল, যারা মূলত ‘অরাজনৈতিক’। কিন্তু ওরা বিফল হবেন, এটাই আমাদের আশা। কারণ, তাদের প্রকল্পিত অর্থহীন ‘অরাজনৈতিক’ ডিজিটে পর্যবসিত হতে এই তরুণরা আর প্রস্তুত নয়। তাই, সমাজের চরম বিরাজনীতিকরণ প্রচেষ্টার বিপরীতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এবং আমাদের প্রাণ, প্রতিবেশ-ভূখ- রক্ষার লড়াইয়ে এই তরুণরা এদেশের ছাত্র-কৃষক-শ্রমিক-পেশাজীবী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সাথে একাত্ম ও সংহতি প্রকাশ এর মাধ্যমে সমগ্রের সাথে মেশার লড়াই করছে এই সময়ে।

অনলাইন ভার্চুয়াল তরুণদের এই সমগ্রে মেশার লড়াই সফল হোক। এক-এগারর সময়ের সুবিধাবাদি তারুণ্যের মৌলিক রূপান্তর ঘটুক। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29477589 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29477589 2011-11-03 18:31:30
স্পা কোট-টাই পরা পুরুষেরা অফিসে
আর মেয়েরা পারসোনায় যায় স্পা করতে
পারসোনার গোপন ক্যামেরায়
তাদের দুপুরটি গ্রেফতার হয়ে যাওয়ার আগে
তারা ভুলে যায় তাদেরও দুপুর ছিল

এদিকে দুপুরগুলো মরে যাচ্ছে ক্যামেরায়

ছেলেটি হাসছে, পারসোনার ক্যামেরা ঘুরে যাচ্ছে তার দিকে
মেয়েটি উড়ছে, পারসোনার ক্যামেরা উড়ে যাচ্ছে তার দিকে
ছেলেটি কোট-টাই, পারসোনার ক্যামেরা নজর রাখছে অফিসেও,
মেয়েটি প্রেমিকা, পার্সোনার ক্যামেরায় বন্দী হয়ে যাচ্ছে প্রেমও

এবং ছেলেটি মেয়েটি স্পা হয়ে যাচ্ছে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29460177 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29460177 2011-10-04 22:42:54
বুদ্ধিজীবীদের গল্প
ঈদ এলো এবং চলেও গেলো। আমাদের নাগরিক বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ ঈদে ‘সত্যাগ্রহ’ আন্দোলন করেছেন, শহীদ মিনারে। ঈদ ‘উদযাপন’ বা ‘বর্জনে’র মাধ্যমে। ব্যাপারটিতে আমার ‘সামান্য’ কৌতুহল ছিলো, অন্য অনেকের মতো। কিন্তু আমি, পরিবারের সবার সাথে প্রতি বছরের মত গ্রামের বাড়িতে চলে গেলাম। ঈদ করতে। ‘শহীদ মিনার’ আমাকে ভাল মতন টানে নাই। এদিকে গ্রামে গিয়ে এক বেহাল অবস্থার মুখোমুখি হলাম। ঈদের আগের রাত থেকে পরপর দুইদিন বিদ্যুৎহীন আমাদের পাড়া। আশেপাশের কয়েকটি পাড়ারও একই অবস্থা। জানলাম, বিদ্যুত অফিসে যোগাযোগ হয়েছে, ওরা আসবে। কিন্তু ঈদের দিন বা তার পরের দিনও কোন খবর নাই। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তো ষড়যন্ত্রের আভাস দিতে চোখ সরু করবেন: ঈদের দিনে এইসব কারা করে? প্রধানমন্ত্রীর এমন বিভ্রান্তিতে আমরাও হয়ত বিভ্রান্ত হবো। কিন্তু যেটি হলো, টেলিভিশনতো দূরের কথা, অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমগুলো থেকেও দূরে থাকার ফলে দুনিয়ার তাৎক্ষনিক সংবাদপ্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলাম এ দুদিন। পত্রিকাতো বন্ধই। অথচ আমি শহুরে নাগরিক, গ্রামে বেড়াতে এসেছি মাত্র দুদিনের জন্য। লেখালেখির কারণে গোপনে বুদ্ধিজীবীদের সাথে শ্রেণীগত আকর্ষণও বোধ করি, সম্ভবত। তাই, ‘কৌতুহল’। ফলত শহরের বন্ধুদেরকে একটি ঈদ-শুভেচ্ছা-বার্তা দিয়েছিলাম মোবাইলের মাধ্যমে। বার্তাটি ছিলো, আমাদের বুদ্ধিজীবী সমাজ প্রথমবারের মত বাঙালী মুসলমানদের সাথে ঈদ ‘উদযাপন’ করছেন। এটুক।

আমার বন্ধুদের সবাই ‘বুদ্ধিজীবী’ নন। বা ‘লেখালেখি’র সাথেও জড়িত নন তেমন। বড়জোড় হিশেবপত্র লেখেন, ‘লেখালেখি’র সাথে অনেকের এধরণের সম্পর্কও আছে। ফলত ‘বড়’ ‘বড়’ বুদ্ধিজীবীদের তৎপরতা সম্পর্কে তেমন খবর রাখেন না অনেকেই। তাই আমার বার্তাটি পাওয়ার পর অনেকেই ফোন করে বা ফিরতি এসএমএস দিয়ে জানিয়েছেন, ব্যাপারটি তারা বুঝেননাই। আবার একজন, যিনি লেখালেখি করেন, এবং অতিরিক্ত সচেতন, কবি ও বুদ্ধিজীবী, তিনি পাঠালেন: ‘বুদ্ধিজীবী সমাজ নিপাত যাক’। এদিকে গ্রামে বসে বুদ্ধিজীবী সমাজের ঈদ নিয়ে আমার ‘সামান্য কৌতুহল’ মরে না। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বয়োজ্যষ্ঠ শিক্ষক- যিনি আমাকেও ছোটবেলায় পড়িয়েছেন- তাঁকে কথা প্রসঙ্গে বুদ্ধিজীবী সমাজের ঈদ-আগ্রহের ঘটনাটি বুঝিয়ে বললাম। তিনি আগ্রহভরে আমার কথা শুনলেন। তারপর অবাক হয়ে বললেন, শহীদ মিনারে আবার ঈদ হয়! আমি আমার স্কুল জীবনের ওস্তাদের উপর ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক’ এর মত মন্তব্য করলাম, কেন হবে না, ঈদ কি শুধুই ধর্মীয় ব্যাপার, এখানে কোন সেক্যুলার প্রপঞ্চ নেই? তিনি হয়তো ভাবলেন, তার পুরাতন ছাত্রটি নাদান হয়ে উঠেছেন, ‘প্রপঞ্চ’ শিখেছেন। তাই এই ‘প্রপঞ্চটি’রে পাত্তা দিলেন না। জানতে চাইলেন, বুদ্ধিজীবীরাই কি নামাজে ইমামতি করেছেন? আমি শহরে ফোন করে বন্ধুদের কাছে জানতে চাইলাম, ইমাম কে ছিলেন নামাজে। ফোন করাও সহজ ছিল না। গ্রাম, তার উপর ঈদের সময়গুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্কে কী যেন হয়। কোন মতেই পৌঁছানো যায় না। বন্ধু জানালো, ইমাম হলেন বর্ষিয়ান বুদ্ধিজীবী জনাব সৈয়দ আবুল মকসুদ। তবে নামাজ হয় নাই, অবস্থান এবং বক্তৃতা হয়েছে। মকসুদ সাহেবের ইমামতিতে। দুপুর থেকে বিকেল অবধি। শুনে আমার স্কুলবেলার শিক্ষক মহোদয় জানালেন, শুধু খোতবাতে ঈদ হয় না, নামাজও পড়তে হয়। নামাজ না পড়লে তাদের ঈদ হবে না, কচু হবে।

বন্ধুটি ফোনে জানালো, নামাজ না পড়েও এই ঈদে অংশগ্রহণকারীদের লোকজন বেশ খুশি। কেউ কেউ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় জানিয়েছেন যে, তাদের এই ঈদ-উদযাপন জীবনের খুব স্মরণীয় ঘটনা। আমি ভাবতে বসলাম। এর আগে তারা কখনো ‘ঈদ’ করেছেন- এমন সংবাদ পাই নাই। অন্তত মিডিয়ায় তাদের ঈদ-পালনের ঘটনা এর আগে কখনো আসে নাই। পহেলা বৈশাখ বা অন্যান্য অনুষ্ঠান পালনের ঘটনা আছে। পুজোতেও তারা গিয়েছেন বিভিন্ন সময়, সম্ভবত। কিন্তু অনেক ঘেঁটেও ঈদের খবর পাই নাই। এইবার বাধ্য হয়ে তারা ঈদ-‘উদযাপনে’ নেমেছেন। স্মরণীয় ঘটনা তো বটেই। কারণ এটি তাদের জীবনে প্রথম ‘ঈদ’। বাঙালী মুসলমানের ঈদ-উদযাপনে এর কোন প্রভাব থাক বা না থাক।


২.

এরপরে তত্ত্ববিলাস। ‘বড়’ ‘বড়’ বুদ্ধিজীবীগণ যেভাবে ভাবেন, বা আলোড়িত হন, দেশের মানুষ, এমনকি শহুরে নাগরিকরাও তার আশেপাশের ভাবনা ভাবেন না এত সহজে। বা সেই মাত্রায় ও সেই পদ্ধতিতে আলোড়িত হন না। সুশীল মিডিয়াগুলো তার সম্মতি আদায়ের জন্য যত প্রচারণা চালাক না কেন। এটুক বুঝলাম। তারপর? গ্রামে বসে, বন্ধুদের কাছে শুভেচ্ছাবার্তাটি পাঠানোর সময় আমার মনে হয়েছিল, ব্যাপারটি ঈদ-‘উদযাপনে’র প্রশ্ন নয়, বরং ‘বর্জন’ এর। তারা বরং ‘উদযাপনে’র নামে মিডিয়াতেই ঘোষণা দিয়ে সমবেতভাবে ঈদ ‘বর্জন’ এর কর্মসূচি পালন করেছেন এবার। একই সাথে ঈদের দিনে শহীদ মিনারে ‘সমাবেশ’ এর মাধ্যমে এতদিন ধরে বেহাত ধর্ম-ব্যবসায়ের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান তৈরী করার চেষ্টাও নিলেন, হয়তো। এজন্যই ‘বর্জনে’র নাম হয়েছে ‘উদযাপন’এর ধুলো। মুসলমানের ঈদ তারা আগেও বর্জন করতেন, ‘ঈদ’ নামের ঘটনায় সর্বতোভাবে অদৃশ্য থেকে। তাই আমার বার্তাতে একটু ঠাট্টা ছিল। ঠাট্টার কারণ, এই গোষ্ঠী নিজেদের ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। যা বাঙালী জাতীয়তাবাদের আলখেল্লায় মুসলমানি পরিচয়-চিহ্ন ও আচারগুলোকে হীনমন্যভাবে লুকায়।


৩.

সে বর্জন বা উদযাপন যাই হোক, আমরা আবার বুদ্ধিজীবী সমাজের গল্পে ফিরে যাই। লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ঈদের কয়েকদিন আগে প্রথম আলো পত্রিকার মাধ্যমে আমাদের জানাচ্ছেন, তিনি এবং তার সতীর্থ বুদ্ধিজীবী সমাজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দুটি সংক্ষিপ্ত উপহার চান। দুটি অপসারণ। এক. যোগাযোগ মন্ত্রী জনাব সৈয়দ আবুল হোসেন। এবং দুই. নৌ পরিবহন মন্ত্রী জনাব শাজাহান খান। এই দুজনের অপসারণ চাওয়ার কারণ হলো, তারা দুই নাগরিক বুদ্ধিজীবী তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনির এর নিহত হওয়ার ঘটনায় ‘দায়ী’। যেহেতু সড়ক-দুর্ঘটনা, সরল অঙক হলো দায়িত্ব সড়ক মন্ত্রীর। আবার নৌপরিবহন মন্ত্রী একই সাথে সড়ক পরিবহন শ্রমিক নেতা হেতু ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত। তাই দায়ী তিনিও। সড়কমন্ত্রী সড়ক ঠিক করেন নাই, আর নৌ মন্ত্রী অশিক্ষিত ‘আন্ডার মেট্রিক’ লোকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার জন্য প্রভাবিত করেছেন। তাই এই দুই মন্ত্রীর ‘পদত্যাগ’ নয়, ‘অপসারণে’র দাবীতে ঈদ-বর্জন। অবশ্য এই দাবী শেষ পর্যন্ত প্রায় ‘এক দফা’তে এসে থেমেছে এখন, শুধু যোগাযোগ মন্ত্রীর পদত্যাগে। খবরে দেখলাম, অবশেষে, যোগাযোগ মন্ত্রীর এই অপসারণ আন্দোলনে মহান জুলিয়ান এ্যাসাঞ্জ এর উইকিলিকসের মাধ্যমে মার্কিন সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়াটিও যুক্ত হলেন: যোগাযোগমন্ত্রীর সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অবশ্যই যুক্ত ‘হলেন’ বললে ভুল হবে, সে অনেক আগের ঘটনা, বলতে হবে যুক্ত ‘ছিলেন’। সৈয়দ আবুল মকসুদগণ আরো পরে সেই জামাতে শরীক হলেন মাত্র। তারবার্তাটি দশ ফেব্র“য়ারী দুই হাজার দশ এর, উইকিলিকস প্রকাশ করেছে গত ত্রিশ আগষ্ট। যদিও বাংলাদেশের মিডিয়ায় খবরটি প্রথম বিডিনিউজের মাধ্যমেই এসেছে, গতকাল। বিরোধী দল বিএনপিও এই ব্যাপারে উৎসাহী। সরকারের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর আন্দোলন তৈরী করতে না পারার ব্যর্থতায় আশার আলো দেখছে বিরোধী দল। বুদ্ধিজীবীদের ঈদ-আগ্রহ এবং উইকিলিকস তাদের জন্য আপাত আশীর্বাদ। উৎসাহী আওয়ামীলীগের সংসদীয় কমিটির ব্যাঘ্রগণও, যারা মন্ত্রী হতে পারেন নাই এইবার। উৎসাহী আমরাও। কারণ, আমাদের সুশীল বুদ্ধিজীবী সমাজ ও তাদের কিছু মিডিয়ার কর্মসূচির সাথে আমেরিকান পররাষ্ট্রনীতির ‘সখ্য’ প্রকাশ্য করেছে বিডিনিউজ। যদিও সরকার হিশেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ পুরোপুরি ব্যর্থ ও দুর্নীতিপরায়ন, অন্যান্য সরকারগুলোর মতই বা তার চেয়েও বেশি, এ বিষয়ে আমার কোন দ্বিধা নেই। কিন্তু আমরা মহান জুলিয়ান এ্যাসাঞ্জ সাহেবের মাধ্যমে মহান জেমস এফ মরিয়াটির ‘আন্দোলন’ পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিই আপাতত। এবং অপেক্ষা করি।


৪.

কিন্তু বুদ্ধিজীবীদের গল্পেই কি সব শেষ হয়ে যায়? গল্পের অপরাপর চরিত্র, যারা উচ্চারিত হলো না, তাদের খোঁজ কি আমরা একটু হলেও নেব না? অন্তত বুদ্ধিজীবী সমাজের গল্পের সাথে সম্পর্কিত করে হলেও, সেটি করার চেষ্টা করি এবার। তারেক-মিশুকের দুর্ঘটনায় একই সাথে আরো তিন জনের মৃত্যু ঘটেছে। তারা মিডিয়ায় এবং অপরাপর সব আলোচনায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। আমরা প্রচুর খোঁজ খবরের মাধ্যমে অনেক কষ্টসাধ্যে এ তিনজনের নাম জানতে পারি। তারেকের মাইক্রোবাস চালক মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, প্রোডাকশন ম্যানেজার মোতালেব হোসেন এবং প্রোডাকশন কর্মী মোহাম্মদ জামাল। কেন? সম্ভবত এ তিনজন তখনো নাগরিক বুদ্ধিজীবী হয়ে ওঠেন নাই বলে। আবার, এই শ্রেণীর ছায়ায় থাকার কারণে মিডিয়ায় অন্তত তাদের নামটুক এলো, হয়তো বা। এদিকে বুদ্ধিজীবী সমাজের এই ঈদ-বর্জন শোরগোলের মধ্যেই, ঈদের ঠিক আগে পুলিশী নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে যাওয়া আইনজীবী এম ইউ আহমদ এর মৃত্যুর খবর পাই আমরা মিডিয়ায়, ছোটখাট পরিসরে। ইনি ‘বিএনপির আইনজীবী’, বিডিনিউজের মত একটি পপুলার মিডিয়ার সংবাদ-শিরোনাম ছিল এমনই। বিএনপি নামে কোন কোর্ট আদতে কি আছে, ফেসবুকে এই জনপ্রিয় মিডিয়াটির পেইজে একজন পাঠকের বিষ্ময় ছিল এটি। প্রসঙ্গত মরহুম এমইউ আহমদ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিলেন। কিন্তু বিএনপি সমর্থক, ঘটনা হল এই। সংবাদের দলীয় চেহারা মাঝে মধ্যে এমন আজগুবি রূপ ধারণ করে যে, এমইউ আহমদ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী থেকে ‘বিএনপির আইনজীবী’তে পরিণত হন।

এম ইউ আহমেদ ছাড়াও এই মাসে আরো অনেকেই মরেছেন, বা খুন হয়েছেন। পঁচিশ আগষ্ট ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জোয়ানরা বাবুল আহমদ নামে এক বাংলাদেশী যুবককে পাথর ছুড়ে খুন করে। যদিও সীমান্তে বিএসএফ এর খুনোখুনির ঘটনার এখন কোন সংবাদমূল্যই নেই মিডিয়ায় কাছে, এটি তারা ছোট করে ছাপে, অথবা ছাপে না। বরং এখন ‘বন্ধুত্বে’র সংবাদগুলো গুরুত্বপূর্ণ। ‘মধুর মনমোহন সিং’, ‘মমতাময়ী মমতার অভিমান’, মহান সোনিয়া গান্ধির ‘অটিস্টিক সফর’- ‘সম্পর্কে’র বৈপ্লবিক রূপান্তরের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ-ভারত’, ‘বহুল সম্ভাবনার ট্রানজিট হলো না’- এইসব লাল শিরোনাম। লাল- এইটার একটা কারণ এমনও হতে পারে যে, সংবাদগুলোতে বাবুল বা ফেলানীর রক্ত লেগে আছে। সীমান্ত-হত্যা, এটি পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী ভারতের বিপরীতে দেওলিয়া বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ‘বন্ধুত্ব’ ও বেড়ে ওঠার দৈন ইতিহাসের অংশ। ‘অধিকারে’র দেয়া তথ্যমতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর হাতে গত দশ বছরে প্রায় সাড়ে নয়শ’ বাংলাদেশী খুন হয়। এই হিশেবের ভিতরে বাবুল আহমেদ এবং নতুন বছরে খুন হয়ে যাওয়া সংখ্যারা সম্ভবত নেই। গেল সীমান্তপর্ব। আবার, তারেক-মিশুকদের দুর্ঘটনার আগের দিন রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা-বাহিনীর হাতে ক্রসফায়ারে মারা গেছেন পাঁচজন। ক্রসফায়ার- এটিও এখন আর কোন সংবাদ-ই নয় মিডিয়ার জন্য, প্রতিদিনই ঘটে। এটিও বাদ আপাতত। জুলাই মাসেই শবে বরাতের রাতে রাজধানীতে ছয় তরুণকে প্রকাশ্য গণপিটুনির মাধ্যমে ও কুপিয়ে মারা হয়েছে। ‘অধিকার’ জানাচ্ছে, এ বছরেরই জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এমন গণপিটুনিতে মরেছে পঁচাত্তর জন। আর দুই হাজার দশ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মরেছে একশ ছাব্বিশ জন। গণপিটুনি গেল। মীরসরাইয়ের আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের হত্যাকাণ্ড বা দুর্ঘটনা কি মনে আছে আপনাদের? গত এগার জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাইতে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধ-শত ছাত্র-ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছিল, সড়ক দুর্ঘটনায়। শেষোক্ত ঘটনাটি মিডিয়াতে কিছুটা গুরুত্বের সাথে এসেছিলো। মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছুটে গেছেন মীরসরাই- ‘শোক’ ও ‘সমবেদনা’ জানাতে। এই সব খুব কাছের ঘটনা, তাও সব ঘটনাগুলোর বরাত অনা সম্ভব হলো না।

আবু তোরাবের ঘটনা দিয়েই শুরু করি। আমাদের বুদ্ধিজীবীগণ সেসময় কোথায় ছিলেন? সম্ভবত ঘুমোচ্ছিলেন। প্রতিবাদ দূরের কথা, হয়তো তাদের ’শোক’-ধারণাও অত পোক্ত হয়ে ওঠে নাই তখন পর্যন্ত। হয়তো ছোটলোকের ছেলেদের জন্য ‘শোক’ প্রকাশ শ্রেণী-আভিজাত্যের সাথে যায় না, তাই। মরে যাওয়া শিশুগুলো কোথাকার কোন পাড়াগাঁর, শহরের হলেও কথা ছিল। অজপাড়াগাঁর মীরসরাইয়ের প্রায় অর্ধশত ছাত্রের থেকে মরহুম বুদ্ধিজীবী তারেক মাসুদ বা মিশুক মুনির খুবই গুরুত্বপূর্ণ নিশ্চয়। হবেও বা। অথবা মহান জেমস এফ মরিয়ার্টির তারবার্তা তখনো তাদের কাছে এসে পৌঁছায় নাই। অথবা উইকিলিকস-এ প্রকাশিত হওয়ার আগেই ওরা হয়তো পেয়েছিলেন, কিন্তু মধ্যবিত্ত্বের আরো গভীর ‘শোক’ নির্মাণের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, যেমন তারেক মাসুদ বা মিশুক মুনির। তাই অধীর হয়ে ছুটে যান নাই- বা যোগাযোগ মন্ত্রী বা শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ-ও চান নাই। দৃশ্যত অজপাড়াগাঁয়ের একটি বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশত ছাত্রকে ট্রাকে করে ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে’ যেতে বাধ্য করার বা তাদের হত্যার কৃতিত্ব শিক্ষামন্ত্রীর। অথবা খোদ প্রধানমন্ত্রীরই কিনা- এ বিষয়টি ভাবার ফুরসত বা সাহস তাদের হয়েছিল কিনা আমাদের জানা নেই। তবে শিক্ষা মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করে মিডিয়ায় তাদের এমন কোন ভাবনা বা তৎপরতা প্রকাশ্য হয় নাই।

তবে লক্ষণীয়, তারেক-মিশুক এর মৃত্যুর আগে বা পরের খুন ও দুর্ঘটনাগুলো নিয়ে আমাদের ‘সত্যাগ্রহী’ বুদ্ধিজীবীগণ মাসব্যাপি গান্ধিবাদি নিরবতা দেখিয়েছেন। জনাব আহমেদ ‘বিএনপির আইনজীবী’ বলে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো মৃদু প্রতিবাদ ও শোক প্রকাশ করেছেন। বুদ্ধিজীবীগণ নীরব। গণপিটুনিতে ছয় তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান জনগণকে আইন বিষয়ে ‘শিক্ষিত’ হওয়ার উপদেশ দিয়েছেন। বুদ্ধিজীবীগণের গলা ফুলে উঠে নাই প্রতিবাদে। বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এখন আর নতুন কিছু বলেন না। র‌্যাবের মতই মুখস্ত প্রেসনোট পাঠিয়ে দেন। বুদ্ধিজীবীগণের প্রগাড় নীরবতা ঘন হয়। সবশেষে বাবুল আহমদরা বিএসএফ এর গুলিতে মারা গেলে, মরার একটা প্রেসনোটও হয় না। না কোন প্রতিবাদ, না কোন ‘শোক’। না-প্রধানমন্ত্রী, না- বিরোধী দলীয় নেত্রী, না মহান বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় যারা প্রতিবাদে সত্যাগ্রহ করেছেন শহীদ মিনারে। প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের, বন্ধুত্বের এমন প্রগাড় মুহূর্তে এই মরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছোট পরিসরে হলেও মিডিয়াতে আসায় সবাই সম্ভবত বিরক্ত হয়েছেন।


৫.

শহরে ফিরে সংবাদ-প্রবাহের সাথে সংযুক্ত হওয়ার পর, বিষয়গুলোকে নিয়ে এভাবেই ভাবলাম অনেকক্ষণ। ভেবে ভেবে মনে হলো, এই ‘বিরক্তি’র বিষয়গুলো ভুলে গিয়ে আমরা বরং আপাতত ‘শোক’ প্রকাশ করি। নাহ, বাবুলের জন্য নয়, স্রেফ বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর জন্য। এটা বেশ সুবিধাজনক। সবকিছু ছাপিয়ে, মিডিয়াতে শোক প্রকাশ করে লেখালেখি করি, গলা ফুলিয়ে কথা বলি। আমাদের বিভিন্ন মৃত্যুতে ‘শোক’ হোক, শহীদ মিনারে ‘ঈদ’ হোক। নিখাদ হত্যাকাণ্ডগুলো আমরা ভুলে যেতে চাই। কারণ আমরা বুদ্ধিজীবী হই, বা হবো।

..............
একই সাথে ফেসবুক, চতুর্মাত্রিক, প্রথম আলো ব্লগ-এ প্রকাশিত]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29444329 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29444329 2011-09-07 19:39:01
মাটির ময়না ও তারেক মাসুদের লড়াই
তারেক মাসুদ

তারেক মাসুদের লড়াই ‘দেশপ্রেম’ গোছের কিছু ছিল না। তারেককে বোঝার এই প্রারম্ভমুহূর্ত আমাকে আলোড়িত করে, কারণ এই ‘দেশপ্রেম’ ব্যাপারটি সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী চিন্তা থেকে উদ্ভূত। ফলত সাম্প্রদায়িকতা ও বর্ণবাদের সাথে এর বিভেদ সামান্য, বরং সখ্য আছে। বাংলাদেশ বিপ্লবোত্তর জনপ্রিয় ও আর্ট উভয়ধারার বাংলা চলচ্চিত্রের স্রোত থেকে শুধু নয়, শিল্পের অন্যান্য ধারা থেকেও আলাদা করে তারেকের কাজের গুরুত্ব চিহ্নিত হয় আমার কাছে এই জায়গায় এসে। এটি বোঝার জন্য নোক্তা হল, তারেকের সিনেমা স্রেফ ‘দেশপ্রেমিক’দের প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধব্যবসাতে নিমজ্জিত থাকে নাই। বরং তাঁর লড়াই ছিল আধিপত্যবাদি ইতিহাস দ্বারা নির্ণিত ‘অদেশপ্রেমিক’ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ‘অপর’ হয়ে থাকা জনগোষ্ঠিকে বাঙালী জাতীয়তাবাদের আলখেল্লাধারী ‘দেশপ্রেমিক’ এবং সাংস্কৃতিক বর্ণবাদীদের কামনা-বাসনা থেকে আলাদা করে বোঝা।

এই ‘অদেশপ্রেমিক’ অপর জনগোষ্ঠী কারা–তার জন্য একটি ঘটনার বরাত নেবো, সংক্ষিপ্তভাবে। দুই হাজার আট সালে জরুরী অবস্থার কোনো একদিন লালন ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে মাদ্রাসা ছাত্রদের বিরুদ্ধে ‘প্রগতিশীল’ সংস্কৃতিকর্মীরা চারুকলা ইনস্টিটিউটের বকুলতলায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ শ্লোগান দেয়: ”আমাদের লড়াই এমন এক শক্তির সঙ্গে, যারা বোঝে না ফুল কী, সংস্কৃতি কী, গান কী, কবিতা কী–”। এই শ্লোগানটি, এর ভিতরে যে বিদ্বেষী বর্ণবাদ লুক্কায়িত, তা আমি বোঝার চেষ্টা করেছি তখন। এর শেকড় কোথায়?


মাটির ময়নার কাজী সাহেব, স্ত্রী পুত্র কন্যা সহ।

এই ঘটনার বহু আগেই তারেক মাসুদ মাটির ময়না নির্মাণ করেছেন। আবার এসবের বহু আগেই দুই হাজার এক সালের এগার সেপ্টেম্বর দুনিয়াতে ‘নাইন-ইলেভেন’ ঘটে গিয়েছে। ফলত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুলিয়া দুনিয়াবাসীর ঘাড়ের উপর লটকে পড়েছে। তারো বহু আগে ১৯৭১ সালে ‘বাংলাদেশ’ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয় এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠির রাজনৈতিক অভিজ্ঞান হিসেবে। তারো আগে আক্ষরিক অর্থে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে এই উপমহাদেশের স্বাধীনতা ঘটে ১৯৪৭ সালে। এসবই ইতিহাস। নজর দিলে দেখা যায়, এইসব ইতিহাসেরই গভীর গোপনে একটি আধিপত্যবাদি ও বর্ণবাদী কুশীলব হাজির ছিল। যা উপরের এই শ্লোগানে হঠাৎ উৎকটভাবে জানান দিয়ে ওঠে আমাদের কাছে, মাটির ময়না নির্মিত হবার বহুদিন পরেও। উপনিবেশের আদলে ও সুবিধাভোগী হিন্দু ‘ভদ্রলোক’ শ্রেণীর স্রেফ অনুকরণে এই ভূখণ্ডে হঠাৎ যে ইংরেজি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উন্মেষ, ইতিহাসের এই বর্ণবাদী কুশীলবের বীজ সেখান থেকেই। যারা দৃশ্যত এলিট এবং পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত, রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রামে সবসময় সুবিধাবাদি ও আপোষকামি। ফলে বাংলাদেশ-বিপ্লবের অন্তর্নিহিত মর্মার্থ–হাজার বছরের লড়াই, সংগ্রাম ইত্যাদির ভিতরকার নানা বাঁক, টানাপোড়েন ও শক্তির জায়গাগুলোকে অস্বীকার ও ঘৃণা করে পুরোপুরি এলিয়েন হয়ে। তাই, সকল লুকোছাপার পরও, এই শ্রেণীর সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিরা মনের গভীর গোপন কথাটি উচ্চারণ করে ফেলেছে সেদিন সেই শ্লোগানে। যে, তাদের নিয়ত লড়াই হল তাদের শ্রেণীর নিজস্ব ফুল পাখি লতা-পাতা-গান সম্পর্কে ‘মূর্খ’ অপর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এই শ্লোগানটি ভয়ঙ্কর হলেও, অভিনব ব্যাপার নয়। অন্তত যাদের অভিজ্ঞতায় উপনিবেশের ইতিহাস আছে, যাদের আফ্রিকান কালো মানুষের দাসত্ব এবং আমেরিকায় রেড ইন্ডিয়ানদের পদানত করার ইতিহাস পড়া আছে। এবং সাথে সাথে যারা এটির রাজনৈতিক পাঠ করতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের কাছে। সেই সময়েও এমন কথাটিই শোনা গিয়েছিল সাম্রাজ্যবাদিদের মুখে। ওরা বোঝে না ফুল কী, সংস্কৃতি কী, গান কী, কবিতা কী। ওরা অসভ্য, তাই ওদের নির্মূল কর, পদানত কর, দাস কর এবং হত্যা কর।..

বিডি আর্টস থেকে ভূমিকাংশ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29437368 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29437368 2011-08-23 20:00:49
কাঠগড়ায় ফেসবুক, ব্লগ: ব্লগাররা কী ভাবছেন?

কিছুদিন আগে, 'সাপ্তাহিক' একটি রিপোর্ট ছাপে ব্লগে 'স্বাধীনতা' ও 'সরকারবিরোধী' তৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান সম্বলিত উসকানি দিয়ে, আর বর্তমান খবরটি সবার নজরে প্রথম এনেছে সম্ভবত দৈনিক আমাদের সময়, গতকালকে- বাংলানিউজের বরাত দিয়ে। এরই প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের সু-মটো রুল: ফেইসবুক স্ট্যাটাস এর জন্য 'ব্যবস্থা'

ব্লগাররা কী ভাবছেন?

প্রাসঙ্গিক, আইন-আদালত ও রাষ্ট্রের সর্বময় কর্তৃত্ববাজি নিয়ে ধর্মাবর্তারের শাসন লেখাটি পড়ার আমন্ত্রণ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29434668 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29434668 2011-08-19 00:55:05
ধর্মাবর্তারের শাসন
১.

গ্রীক পণ্ডিত প্লেটো তাঁর আদর্শরাজ্যের রাজা হিশেবে দার্শনিকদেরকে বেছে নিয়েছিলেন, কেননা, তাঁর মতে, দার্শনিকগণ জ্ঞান এবং সত্যের প্রতি ভালবাসা লালন করেন এবং তার মাধ্যমে প্রজ্ঞাতে উপনীত হন। তাই, দার্শনিকরাই ভাল এবং মন্দের বিচার প্রজ্ঞার সাথে করতে সক্ষম। বলা বাহুল্য, এই দার্শনিক রাজার শাসন ‘আইনের শাসন’ নয়, ন্যায়ের শাসন। তাই আইন নয়, বিচারকের প্রজ্ঞাই এখানে মূল বিচারক। এই ন্যায়ের শাসন ও ন্যায়ত বিচার নিয়ে প্লেটো থেকে শুরু করে বর্তমান দুনিয়ার আইন-দর্শনে বিস্তর বাহাস জারি আছে, আমরা সেদিকে যাবো না। কারণ আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং সাংবিধানিক দায়বদ্ধতায় আইনের শাসনে বসবাস করি১, ন্যায়ের শাসনে নয়। এই ‘আইনের শাসন’ গুরুতর জিনিশ, যার মানে হল আইন ও আইনি কর্তৃত্বের স্বৈরতন্ত্র। আবার, আমাদের আইনবিশারদরা আইনি বিচারের কোর্টরুমকে চিহ্ণিত করতে ‘আদালত’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন, আরবী ‘আদল’ থেকে যে শব্দটির উৎপত্তি, যার অর্থ ন্যায়ত-বিচার। কিন্তু আদতেই ন্যায়ত বিচার হয় না এখানে, আইনত বিচার হয়। মূলত, এই আইনের শাসন নাগরিকের সামনে উপরি যে ‘ভাব’ ধরে তার সারমর্ম হলো, কেউ আইনের উর্ধ্বে নন। রাষ্ট্রের সমস্ত নাগরিক ধর্ম-বর্ণ-বিত্ত নির্বিশেষে আইনের কর্তৃত্বের অধীনে থাকবেন, সরকার এবং তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গসমূহও যে কর্তৃত্বের বাইরে নয়। প্রত্যেকের অধিকার থাকবে তারা কীভাবে, কোন সুনির্দিষ্ট আইন অনুযায়ী বিবেচিত ও বিচার্য হবেন তা জানার। বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় আইন দিয়েই কোন সুনির্দিষ্ট ঘটনা-ঘটনের বিচার হতে হবে, কোন রকম রাজনৈতিক বিশ্বাস, আবেগ, ব্যক্তি-আক্রোশ ও আইনবহির্ভূত বরাত ছাড়া। আমরা শুরুতে যে প্রশ্ন উত্থাপন করেছি, তার ফায়সালায় আমরা এই আইনের শাসনের বরাত নিতে পারতাম। কিন্তু এসবই হলো ‘আইনের শাসন’ এর তত্ত্বীয় আবহ। ঐতিহাসিকভাবে রাষ্ট্রের নিপীড়ক অবস্থানকে সহনীয় ও আড়াল করার জন্য এই তত্ত্বীয় আবহের উৎপত্তি।

‘আইনের শাসন’ এর এই তত্ত্বীয় আবহ কিছুক্ষণের জন্য রাষ্ট্রের নাগরিকদের আইন ও আইনি কর্তৃত্ব সম্পর্কে একটি ভক্তির ঘোর তৈরী করে দেয়। এটি এমন ঘোর, যখন জন-ইচ্ছে- মত প্রকাশ ও নাগরিকের স্বাধীন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা- বলপ্রয়োগ- আদালতের হুলিয়া, পুলিশ-র‌্যাবের ক্রসফায়ার, রিমাণ্ড ও খুন এইসব ঘটে, তখনও এই ভক্তি টইটম্বুর থাকে, কারো কারো। অথচ আইনের বরাত ও আইনি কর্তৃত্বমূলে রাষ্ট্র ও তার সশস্ত্র আইনি বরকন্দাজদের এইসব তৎপরতা ভক্তির জিনিস নয়, বল প্রয়োগের ক্ষমতার কাছে নতি স্বীকার করে মেনে নেয়া ও আনুগত্যের ব্যাপার। মূলত আইন, রাষ্ট্র, সংবিধান এইসব জিনিশ তার পাত্রপাত্রিদের কাছ থেকে আনুগত্য আশা করে- ভক্তি নয়। নাগরিক অবস্থান থেকে আমাদের এই ভক্তির ঘোর কাটিয়ে ভাববার ফুরসত ও সাহস দরকার। দরকার পর্যালোচনা- নাগরিক হিশেবে আইন, রাষ্ট্র, সংবিধান এর ভিতরে নিজেদের অবস্থান চিহ্নিত করা ও তার সাথে আমাদের স্বাধীনতার যেটুক অংশ শেয়ার করতে রাজি আছি সেইসব স্বার্থের বিষয়-আশয় নিয়ে দর কষাকষি- আলোচনা- সমালোচনা ও যদ্দুর সম্ভব নায্য হিস্যা বুঝে নেওয়ার লক্ষ্যে তৎপরতা চালানোর সাহস ও প্রস্তুতি।

ভক্তিকে বাদ দিয়ে- শাদা কথায় 'আইন' ও আইনের শাসনের হদিস খুঁজতে গেলে ইংরেজ আইনতাত্ত্বিক অষ্টিনের দেওয়া আইনের শাদামাটা ও জংলি সংজ্ঞাটাই পাঠযোগ্য হয়। অষ্টিনের মোদ্দাকথা হলো, বলপ্রয়োগের ক্ষমতাই আইন তৈরী করে, এহেন ক্ষমতা সম্পন্ন সভারেন যা বলে তাই আইন। শুধু তাই নয়, আইন কেবল তার হয়ে কথা বলে এবং আইন এর বাস্তবায়নও হয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে। এমনকি, এই বলপ্রয়োগের ক্ষমতাই হল আইনের বৈধতার নির্ণায়ক। সোজা কথায়, জোর যার, মুলুক তার। এখন, এমন একটি আইন বা বিচারব্যবস্থায় যেখানে 'আইন' বলপ্রয়োগের শক্তির স্বপক্ষে কথা বলে, আদালতও তেমনি বলবে তাই স্বাভাবিক। তাই আইনের শাসনের জায়গা থেকে আদালতকে প্রশ্ন করে এমন আলোচনার কোন মানে নেই। বরং আইন ও আদালত বিষয়ক সমস্ত ভক্তির ঘোর কাটিয়ে এই কৌতুহলকর ব্যাপারটিকে বোঝার খাতিরে বেশ কিছুদিন আগে করা একজন রাজনীতিবিদ এর মন্তব্যকে কোট করতে পারি, যখন তিনি বলেন, ‘আমরাও একদিন ক্ষমতায় আসবো, তখন- আমাদেরও পক্ষে কথা বলবে আদালত’২। মোদ্দাকথা, আইন ও আইনী কর্তৃত্বের শাসন মূলত ‘ক্ষমতা’র খবরদারি ও দাপট ছাড়া আর কিছুই নয়। সত্ত্বেও আমরা নাচার হয়ে আইন ও আদালতের শরণ নেই, রাষ্ট্রও কিছু অধিকার রক্ষার প্রতিশ্র“তি দেয় সংবিধানে, তা ভঙ্গ করার ক্ষমতা সহই, নিজের টিকে থাকার প্রয়োজনে।

২.

আইনের শাসন তার তত্ত্বীয় আবহে রাষ্ট্রের নাগরিকদের আইন ও আইনি কর্তৃত্ব সম্পর্কে একটি ভক্তির ঘোর তৈরী করে দেয়, এটি আমরা জেনেছি। আর আদালত হল এই আইনের ‘অবতার’, সাক্ষাত বিধান দাতা, এটি মনে রাখতে হবে। তাই আদালতের উপর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরিসরে কিছু অতিরিক্ত ‘পবিত্রতা’, ফলত ভক্তির আইনী বাধ্যবাধকতা আরোপ করে রাষ্ট্র। যেমন ‘আদালত অবমাননা আইন’- যেটি বাংলাদেশে বর্তমানে ‘আইন’ আকারেও চুড়ান্ত হয় নাই, অথচ ক্ষমতা ও আইনী কর্তৃত্বের জোড়ে এই অভিযোগে নাগরিকদেরকে নজিরবিহীন শাস্তি প্রদান হয়ে গেছে, বেশ কয়েক মাস আগে একটি সাড়া জাগানো মামলায়৩। ভক্তির ঘোর কাটিয়ে আইন ও আইনি কর্তৃত্বর ন্যাংটা মুহূর্ত বোঝার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। মানে আইন থাকুক না থাকুক, ক্ষমতা ও কর্তৃত্বই আইন। আবার আইনের ‘পবিত্র’ অবতার, সাক্ষাত বিধান দাতা- এই ভাবমূর্তি আদালত মনে রাখে এবং এ সম্পর্কে সশস্ত্রভাবে সচেতন থাকে। এই পবিত্রতা ও সশস্ত্রতার জোড়ে আদালতের আচরণে যে ভাবমূর্তিগত স্বেচ্ছাচার ঘটে, ছদ্ম-ন্যায় ও ধর্মভাবের আবির্ভাব ঘটে, বর্তমান দুনিয়ার একাডেমিক আলোচনায় এমন পরিস্থিতিকে জুরিস্টোক্রেসি বা আদালতের অভিজাততন্ত্র নামে আলোচনা করা হচ্ছে। যেমন, আদালতের এই অভিজাততন্ত্রের বিষয়টি নিয়ে একাডেমিশিয়ানদের পাঠগুলোতে এমন প্রশ্নও হাজির হয়েছে যে, বিচারকগণ কি আমাদের স্বাধীনতা হাইজ্যাক করে নিচ্ছেন? যেমন ধরুন এ সংক্রান্ত একটি স্টাডির শিরোনাম হলো, ফ্রম ডেমোক্রেসি টু জুরিস্টোক্রেসি- মানে, গণতন্ত্র থেকে বিচারবিভাগীয় অভিজাততন্ত্র। যদিও এইসবই নাকাল প্রশ্ন। মূলত আইনের শাসন ও এই কথিত আদালতের অভিজাততন্ত্রর সম্পর্ক পরস্পর সম্পূরক, এমনকি একটি না হলে আর একটির অস্তিত্বই থাকে না। এই কথাটি ভুলে গিয়ে ‘আইন’ ও ‘ক্ষমতা’র বিচারকে প্রাসঙ্গিক না করে স্রেফ আদালতের অভিজাততন্ত্রর বিচার সম্পূর্ণ হয় না।

৩.

কিন্তু আমরা ঠিক আদালতের অভিজাততন্ত্র নিয়ে আলাপ এই সংক্ষিপ্ত নোটে করবো না, তাত্ত্বিক আবহে শুধু যেটুকু ইশারা এসেছে তা ছাড়া। এর কারণ হলো, আমরাও আদালত ‘অবমাননা’ বোধ করুন এমন কোন বিষয় আদালতের সামনে সাক্ষী হিশেবে বিব্রতকরভাবে উপস্থাপন করতে চাই না। যদিও, সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের কিছু নির্দিষ্ট তৎপরতা ও মন্তব্য আমাদেরকে এই ইশারাটিকে সামনে আনতে প্ররোচিত করেছে, যার প্রেক্ষিতে প্রথম প্যারাতে একটি নাকাল প্রশ্ন তাত্ত্বিক আবহে হাজির করেছি। কারণ আমরা শঙ্কায় আছি। তাই এই বিষয়গুলোর আলাপে আমরা স্রেফ সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক অধিকার-সমূহ ও তার সংরক্ষণের ব্যাপারটি সামনে আনতে চাই। মূলত আইনের শাসন, ছদ্ম ন্যায়ের শাসন এই অনুসঙ্গগুলো মিলিয়ে বাংলাদেশের আইন, আদালত, সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে বর্তমানে যে ধর্মীয় আবহ ও তার ফলে নাগরিক-বিভ্রম ও নিপীড়ণ তৈরী হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট হদিস নেয়ার জন্য।

এটি এমন এক সময়, বাংলাদেশে আইন, বিচার, সংবিধান ও রাষ্ট্রের নিপীড়ক চরিত্র নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে বিস্তর বিভ্রম, তর্ক ও অসন্তোষ জারি আছে। একদিকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক ক্রসফায়ারের নামে বিনাবিচারে হত্যা, রিমাণ্ডের নামে নিত্য নতুন উপায়ে টর্চার ও জুলুম এর অভিযোগ, অন্যদিকে এমন বিভ্রমের মুহূর্তে নাগরিকদের মধ্যে চুড়ান্ত নৈরাজ্য, যার ফলশ্রতিতে নৃশংসতা ও গণপিটুনিতে হত্যা ও গুম এর মত ঘটনা ঘটছে। এই জগদ্দল নাগরিক বিভ্রমের মুহূর্তে উচ্চ আদালতের দৃশ্যমান তৎপরতা হঠাৎ বাংলাদেশের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্যভাবে চোখে পড়ার মতো। এই তৎপরতা, নাগরিক হিশেবে আমাদের আশা ও ভরসার জায়গা তৈরী করতে পারতো, যদি এর গন্তব্য সংবিধান প্রদত্ত জন-অধিকার সংরক্ষণ ও তার সর্বোচ্চ প্রয়োগ হতো, উপরে উল্লেখিত আইন, আইনী কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার যাবতীয় বিভ্রমসহই। কারণ উচ্চ আদালত মূলত রাষ্ট্রের বিপরীতে জন-অধিকার সংরক্ষণের আদালত, বাংলাদেশের সংবিধানের ঘোষণা অনুযায়ী। উচ্চ আদালতকে আমাদের সংবিধান রাষ্ট্রের বিপরীতে জনগণের সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার রক্ষার দায়িত্ব অর্পণ করেছে, যার কারণে হাইকোর্টে রীট অধিকার নিয়ে নাগরিকগণ ফরিয়াদি বনে যায়। যখন রাষ্ট্রের অন্য সব জায়গায় অভিযোগের দ্বার রুদ্ধ, অথচ কেউ নাগরিক অধিকারের টুটি চেপে ধরে, তখন উচ্চ আদালতের কাজ হল সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা এবং নিশ্চিত করা। তা ক্ষুণœ করা তো নয়ই। উচ্চ আদালতের যে কোন আচরণের মাধ্যমে তা ক্ষুণœ হওয়ার মানে হল সংবিধানের জোরে উচ্চ আদালত যে নৈতিক কর্তৃত্ব পায় আদেশ দেবার, সেটি নষ্ট হওয়া, সাংবিধানিকভাবেই। জুডিশিয়াল রিভিউর মাধ্যমে সংসদের যে কোন আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণার যে ক্ষমতা, তর মূলেও ‘তাত্ত্বিকভাবে’ জন-অধিকার সংরক্ষণ, জন-ইচ্ছের দলিল সংবিধানকে রক্ষা করার মাধ্যমে যার প্রকাশ ঘটে। সংবিধান অনুযায়ী, জন-অধিকার সংরক্ষণ এর বাইরে উচ্চ আদালতের আর কোন কাজই নেই।

অথচ মুশকিল হলো উচ্চ আদালতের এই সাম্প্রতিক তৎপরতাসমূহ নাগরিকদের আতঙ্কিত করছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে। কারণ, এই তৎপরতাসমূহের বাদি হলো উচ্চ আদালত নিজেই এবং তার ‘ভাবমূর্তি’, বিপরীতে আসামী হল সংবিধিবদ্ধ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনগণ। এই তৎপরতাসমূহের আইনি নাম ‘আদালত অবমাননা’- যেটি পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে, বাংলাদেশে এখনতক যার জন্য এমন কি কোন চুড়ান্ত আইন পর্যন্ত তৈরী ও গ্রহণ করা হয়নি। আবার, সাম্প্রতিক এই ধরণের মামলাগুলোতে ব্যক্তি-আক্রমণ, অপমান ও প্রতিশোধ-স্পৃহা প্রকাশক মন্তব্য, বিবাদীকে এজলাসে বিনা বিচারে দাঁড় করিয়ে রাখার মত ঘটনাও ঘটেছে আদালত কর্তৃক, যা বিভিন্ন সময়ের পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে৪। শুরুতে যে বিষয়টি প্রশ্ন আকারে হজির করেছি আমরা। একেতো এইসব মামলায় জনগণই আসামী, উচ্চ আদালতের ‘সম্মান’ ও ‘ভাবমূর্তি’র বিপরীতে, তার উপর সেই আসামীর বিচার করতে গিয়ে উচ্চ আদালতের ব্যক্তি-আক্রমণ ও আক্রোশমূলক মন্তব্য, যা নাগরিকের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার রক্ষা তো দূরে থাক, হরণ করে। মনে রাখতে হবে, আইনের বরাতে শাস্তি প্রদান করা এক জিনিশ, কিন্তু সেই শাস্তি দিতে গিয়ে ব্যক্তি-আক্রমণ, অপমান ও প্রতিশোধ-স্পৃহা প্রকাশক মন্তব্য, বিবাদীকে এজলাসে বিনা বিচারে দাঁড় করিয়ে রাখার মত ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিশ। একে আদালত অবমাননার খড়গ, তার উপর সাংবিধানিক নাগরিকের লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা- আমাদের জন্য আইন, বিচার, সংবিধান ও রাষ্ট্রের নিপীড়ক চরিত্র নিয়ে নতুন ভাবনার মুহূর্ত তৈরী করে বৈকি। কারণ, হাইকোর্টসহ যে কোন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘ঘোষিতভাবে’ জনগণের ইচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার এর রক্ষাকবচ- এবং যতক্ষণ তা নিশ্চিত না করছে- হাইকোর্ট জনগণ থেকেও এই রক্ষাকবচ পাওয়ার অধিকারী না, জনগণের রাজনীতির দিক থেকে। এই রাজনীতির জায়গা থেকে, গণতন্ত্রের মূলনীতির বিরোধী বিচারব্যবস্থা বা আইন- যে কোন কিছুর প্রশ্নহীন একনায়কতন্ত্রও জনগণ মানতে বাধ্য না। বিদ্যমান ব্যবস্থার সমালোচনার পাশাপাশি বিদ্যমান সংবিধান ও আইনি ব্যবস্থায় যেইসব নাগরিক অধিকার এর প্রতিশ্র“তি নিশ্চিত করা হয়েছে- তার ব্যাপারে খোঁজ খবর রাখা এবং সচেতন থাকা আমাদের নাগরিক কর্তব্য। ন্যায়বিচার বহুত দূর- কিন্তু বিদ্যমান আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ ও সংবিধানপ্রদত্ত নাগরিক অধিকারই যদি খোদ বিচারদাতা এজ এন ইনস্টিটিউশন লঙ্ঘন করে- সেই ইনস্টিটিউশনের প্রতি আমাদের জগদ্দল ভয় থাকবে।

তথ্যসূত্র:

১. ‘It shall be fundamental aim of the state to realise through the democratic process a socialist society, free from exploitation - a society in which the rule of law, fundamental human rights and freedom, equality and justice, political economic and social, will be secured for all citizens.’ : Preamble to the constitution of Bangladesh.

২. ‘আমাদের বিচারপতিবা সংবিধান রক্ষার শপথ নেন। কিন্তু কঠিন সময়ে তারা শক্তির পক্ষে অবস্থান নেন।’, ‘বিএনপি আশ্বস্ত হতে পারে এই ভেবে যে ভবিষ্যতে শক্তি নিয়ে সরকারে এলে তারাও বিচার বিভাগের সহযোগিতা পাবে।’: বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। বিডিনিউজ, ২৯ আগস্ট, ২০১০: http://bit.ly/n1HpXY,, প্রথম আলো, ২৯ আগস্ট, ২০১০: http://bit.ly/oPJviN

৩. দৈনিক আমার দেশ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা মামলার রায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়, বাংলাদেশে এ সংক্রান্ত কোন আইন না থাকা সত্ত্বেও: দৈনিক আমার দেশ: ২০ আগষ্ট ২০১০: http://bit.ly/pkQny7 এক্ষেত্রে ‘আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬’ শিরোনামের পুরনো আইনকেও যদি আদালত আমলে আনতেন, তাহলে ‘সেই আইন অনুসারে অনুসারে আদালত অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং/অথবা দুই হাজার টাকা জরিমানা। আইনে এও বলা আছে যে অন্য কোনো আইনে যা কিছুই লেখা থাক না কেন, হাইকোর্ট এর চেয়ে বেশি কোনো শাস্তি দিতে পারবে না।’ এই বক্তব্য লেখক আসিফ নজরুল এর, ‘আদালতের মর্যাদা কীভাবে রক্ষিত হবে’ শিরোনামের লেখায়: প্রথম আলো: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১০।

৪. ৩ মার্চ বৃহস্পতিবার ২০১১ তারিখে বয়োজেষ্ঠ্য লেখক কলামিস্ট জনাব সৈয়দ আবুল মকসুদকে বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো: জাকির হোসেন সমন্বয় গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ ‘অশিক্ষিত’, ‘বর্বর’, ‘নির্বোধ’, ‘হরিদাস পাল’, ‘আহম্মক’, ‘সে’, ‘দুই দিনের বৈরাগী’ ইত্যাদি সম্বোধনে ডাকেন এবং আড়াই ঘণ্টা ধরে এজলাসে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এসময় মাননীয় আদালত ‘একে আমরা ছাড়ব না তাকে জানতে হবে, আমরা কী করতে পারি’- এমন উক্তিও করেন। সূত্র: দৈনিক কালের কণ্ঠ, প্রথম আলো, আমার দেশ ও অন্যান্য জাতীয় পত্রিকা: ৪ মার্চ, ২০১১। ১৮ আগষ্ট ২০১০ বৃহস্পতিবার তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পরবর্তীকালের প্রধান বিচারপতি জনাব এবিএম খায়রুল হক দৈনিক আমার দেশ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ‘চান্স এডিটর’ বলে বিদ্রুপ করেন। সূত্র: দৈনিক আমার দেশ ও অন্যান্য জাতীয় পত্রিকা, ১৯ আগস্ট, ২০১০। বর্তমান শাসকদলের ১৯৯৬-২০০১ সময়ে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘wrong-headed’ বলেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। আবার, বর্তমান সময়েই, বিএনপি নেতা ‘ব্যরিষ্টার’ নাজমুল হুদা ও জামাত নেতা কামারুজ্জামান এর বিরুদ্ধে ‘আদালত অবমাননা’র মামলায় ‘মাননীয়’ আদালত এই মামলা গ্রহণ না করে তা না নেওয়ার কারণ হিশেবে বলেছেন, যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তাঁরা বিকৃত মস্তিষ্ক এবং অপদার্থ (রং হেডেড পারসন' ও 'ওয়ার্থলেস')। তাঁরা বহির্বিশ্বের একটি মামলার রায়ের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, বিকৃত মস্তিষ্ক এবং অপদার্থর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা চলে না, যার আদালত অবমাননা বিষয়েই কোন ধারণা নেই। ২ জুলাই, ২০০৯: দৈনিক সমকাল ও অন্যান্য জাতীয় পত্রিকা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29433656 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29433656 2011-08-17 13:10:51
সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও রাজনীতি

১.

‘রাজনীতি’ সম্পর্কিত বাহাসগুলোকে এক জায়গায় এনে আলোচনার বিষয় বানানো এ নোটের উদ্দেশ্য নয়। এটি কাহাকে বলে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলে দেয়ার চেয়ে যে ভাব বহন করে, যে সুনির্দিষ্ট কাজের জায়গা সেই ভাবের গন্তব্য, তার আলোচনায় আমরা গভীরভাবে আগ্রহী। ছাঁচাছিলা কথা যেটি, রাজনীতি হলো সম্পর্কের জ্ঞান ও মুআমিলাত। বন্ধুত্ব, রাজনৈতিকতা এইসব ধারণা মূলত সম্পর্কের মুআমিলাত থেকে উদ্ভূত। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক। এর প্রাথমিক অবস্থা হল মানুষ যখন নিজের অস্তিত্ব, জীবসত্তা ও অপর সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে, তার কাছে নিজেকে ব্যক্ত করতে প্রস্তুত হয়, তখন। এ পর্যায়ে সে ব্যক্তি, ইনডিভিজুয়াল বা পারসন। অন্য অনেকের মধ্যে আলাদা একজন। এই স্তরটি হল মূলত ইন্দ্রিয়সর্বস্ব ও আত্মমগ্ন জীবসত্তা, সেলফ। ইসলামের গ্রন্থ কুরআন শরীফ নফসের এমন স্তরের কথা জানাচ্ছে আমাদের: যার নাম নফস-ই আম্মারা, যে স্তরে নফস-ই আদেশদাতা, নিয়ন্ত্রক। এই পর্যায়ে তার নৈতিকতা, নন্দন ও রাজনৈতিকতা দাঁড়ায় না, কারণ এই জীবসত্তায় ‘বিবেক’ থাকে না। মানে কোন ধর্মভাব থাকে না। যখন ব্যক্তি নিজের এই জীবসত্তা এবং তার সামনে হাজির ‘অপর’- উভয়ের সম্পর্ককে বিচার-ও-বিবেকবুদ্ধি দিয়ে ঝালাই করতে সচেতন হয়, অপরের মধ্যে নিজেকে দেখতে ও একাত্ম হতে শেখে, তখন ব্যক্তির রাজনৈতিকতার শুরু। একই সাথে ধর্মভাবেরও শুরু। এটি আত্মমগ্ন জীবসত্তার সেলফ ও আত্মতা থেকে উত্তরণ-মুহূর্ত। কুরআন শরীফ নফসের এমন স্তরকে বলছে নাফস-ই লাওয়ামাহ, বিবেক এর জাগরণ-মুহূর্ত। এই বিবেক হলো ফিতরত, মানুষের প্রকৃত স্বভাব, যা একই সাথে সার্বভৌম ও দায়বদ্ধ। মূলত এই দায়বদ্ধতা ছাড়া মানুষের কোন ধরণের সার্বভৌমত্ব হয় না। কুরআন শরীফে এই সার্বভৈৗমর নাম দেয়া হয়েছে খেলাফত, মানে সেই যোগ্যতা ও ক্ষমতা, যা দিয়ে ‘স্বাধীনভাবে’ ভাল-মন্দের ফারাক বিচার করতে সক্ষম মানুষ। মূলত বিবেক এর এই জাগরণমুহূর্ত ও দায়বদ্ধতা হল ইন্দ্রিয়সর্বস্ব ও আত্মমগ্ন জীবসত্তা থেকে মানুষের প্রস্থানমুহূর্ত। এই মুহূর্তে এসে আত্মর দাসত্ব থেকে মুক্তি ঘটে মানুষের। ফলত বিবেক দিয়ে বিচার করতে স্বাধীন ও সার্বভৌম হয় মানুষ। এই বিশেষ সার্বভৌম সম্পর্কে সচেতন হয়ে সম্পর্কে সক্রিয় থাকাটাই মুআমিলাত। এই অবস্থায় ধর্মভাবসম্পন্ন ব্যক্তি হয়ে ওঠে ‘রাজনৈতিক’ ব্যক্তি। তখন তার নৈতিকতা, নন্দন ও রাজনৈতিকতার যে ধরণটি দাঁড়ায়, তাই হলো বন্ধুত্ব। মূলত বন্ধুত্বের এই ধর্মভাবটির উপরেই দাঁড়ায় শিল্প ও নন্দন। যে শিল্পে বন্ধের, সেলফের, আত্মতার অবমুক্তি ঘটে। মানে বন্ধুত্ব ঘটে।

‘বন্ধুত্ব’ একটি জরুরী ভাব। অন্তত ধর্মভাবসম্পন্ন মানুষের জন্য। ইন্দ্রিয়সর্বস্ব জীবসত্তার বিরুদ্ধে জেহাদ ও যুথবদ্ধতার মাধ্যমে, আত্মতাকে বিসর্জন দিতে দিতে বন্ধুত্বের উদ্ভোধন ঘটে। এই বিসর্জনের নাম কুরবানী, মানে ‘আত্ম’ত্যাগ। বন্ধুত্বে ও যুথবদ্ধতায় সহমর্মিতা, কো-সাফারিংস। এইভাবে আত্মতার বিসর্জন, সহমর্মিতা, সার্বভৌমের বিনিময় ও বিস্তার দিয়ে বন্ধুত্ব শুরু হয়। আবার, এই বন্ধুত্বেই সার্বভৌম পরিপূর্ণতা পায়। কারণ এই অবস্থায় রাজনৈতিক ব্যক্তি সার্বভৌম ও আত্মতাকে সমগ্রে ও বন্ধুতায় সমর্পন করে। এইভাবে রাজনৈতিক ব্যক্তির তৎপরতা চলে বন্ধুত্বে ও যুথবদ্ধতায়, নিয়ত এই ভাব এর বোঝাপড়া, চর্চা ও পরিচর্যায়। এই যুথবদ্ধতায় একত্রিত হওয়ার নাম সংগঠন, যা রাজনৈতিক ব্যক্তির বন্ধুত্ব চর্চার পীঠ। বস্তুত, এই আত্মতার বিসর্জন সে দিতে শুরু করে প্রথমত পরিবারে, পারিবারিক সম্পর্কে। তারপরে অন্যান্য বন্ধুত্বে, যেমন সমাজ। সংগঠনের শুরুর পরিসর যদি পরিবার ধরি, আর ব্যপ্ত পরিসর যদি সমাজ বা উম্মাহ ধরি, উভয় মহিরুহেই উপরে আলোচিত এই ধর্মভাবটি সক্রিয়।


২.

উপরে আমরা যে ধর্মভাবের কথা বলেছি, এই ধর্মভাবের প্রশ্নটি স্রেফ ব্যক্তিমানুষ বা পরিবার ও সমাজের প্রশ্ন না। যে কেউ ‘ব্যক্তি’ হয়ে উঠলে, এবং সেটি যদি পরিবার বা সমাজও হয়, অথবা কোন ‘ইনডিভিজুয়াল’- সেখানে ইন্দ্রিয়সর্বস্ব আত্মতা অর্থাৎ অটোক্রেটিক সেলফ কতখানি সার্বভৌমের নিয়ন্ত্রক ভূমিকা পালন করছে সেটাই এই ধর্মভাবের বিচার। লক্ষ্যণীয়, এই ধর্মভাব ঐতিহাসিকভাবে পরিবারে এবং সমাজে বিরাজ করলেও, রাষ্ট্রে তেমনভাবে বিরাজ করে না। কারণ রাষ্ট্র (state) এবং নৈরাজ্যবাদ (anarchism) দুটোই আমাদের কাছে সার্বভৌমর একটা পাতানো ভাব দাঁড় করায়। নৈরাজ্যবাদ আত্মতার চরম উদযাপন, যা আমরা উপরে আলোচিত ব্যক্তিত্ব বিকাশের প্রথম জৈবিক স্তরে পাই এবং রাষ্ট্র হল এই আত্মতার অন্য চেহারা, বলা যায় সাংগঠনিক মুখোশ। যদিও দুটোই পরস্পরের প্রতিক্রিয়া হিশেবেই হাজির থাকে সবসময়, ইতিহাসে। যেমন, বিদ্যমান রাষ্ট্র ও ব্যবস্থাকে না মানার কারণে নতুন কোন রাষ্ট্রের জন্ম দ্রষ্টব্য। আবার, রাষ্ট্র- ইত্যকার ‘প্রতিষ্ঠানে’র কর্তৃত্বের অধীন থেকে বেরিয়ে আত্মর অমিমাংস প্রতিষ্ঠা-কল্পনা করে নৈরাজ্যবাদ। উভয়ই অটোক্রেটিক নফস। আত্মমগ্ন। আত্মর দাস। দাস, সার্বভৌম নয়। তাই রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অবন্ধুত্বপূর্ণ, নিপীড়ক হয় রাষ্ট্র। একই কারণে, এই রাষ্ট্র ধর্ম হয়ে ওঠার কাক্সক্ষাও ধারণ করে ইতিহাসে। ধর্মভাব নয়, খোদ ধর্ম হয়ে ওঠা। খোদ ধর্ম হয়ে ওঠার মানে হল তখন রাষ্ট্র নিজের আদেশকেই বিবেক বা প্রকৃত সার্বভৌমের বিপরীতে চুড়ান্ত সার্বভৌম ঘোষণা করে। ধর্মভাব ব্যক্তির রাজনৈতিকতার জন্য জরুরী অনুসঙ্গ, আবার একই সাথে কোন ‘ব্যক্তি’ বা সংগঠন ধর্ম হয়ে ওঠার চেষ্টা করলে তাকে প্রতিরোধ করাও ধর্মভাবসম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির কাজ। কেননা আত্মতা কর্তৃক সার্বভৌমর জায়গা দখল, মানে ব্যক্তির সার্বভৌম বা খেলাফতকে পায়ে দলিয়ে তাকে ইন্দ্রিয়সর্বস্ব আত্মতার দাস বানিয়ে তোলার চেষ্টা ঘটেছে। এটা শিরক। দাস শুধু আল্লাহরই হওয়া যায়, রাজনৈতিক মানুষের কাজ হলো ব্যক্তির দাসত্বকে বিনাস করে আল্লাহর দাসত্ব, মানে বিবেকের বন্ধুত্ব ও বিনয় প্রতিষ্ঠা। যেমন মিশরের ফারাওরা ইতিহাসে এমন ধর্ম হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছিল, হজরত মুসা আ. এর নেতৃত্বে ধর্মভাবসম্পন্ন রাজনৈতিক মানুষেরা তার প্রতিরোধে এগিয়ে এসেছিলেন। কোরেশ বংশের ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ স. এর লড়াইও ছিল এটাই। জগতের যে সমস্ত জায়গায় ‘ব্যক্তি’ ধর্ম হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে, সেই ধর্মাভিলাসি আত্ম’র বিরুদ্ধে লড়াই। কারণ ‘এটি হল সেই আত্ম, যার প্রদর্শনীতে কুরআন ও গোলাপ থাকে: যেমন রাষ্ট্রধর্ম, মানবাধিকার, আর আস্তিনের নীচে হন্তারক ছুরি: যেমন জন-নিপীড়ণ, অবিচার, অন্যায় ইত্যাদি’।১

একই সাথে আবার মনে করিয়ে দেয়া দরকার, আমরা রাষ্ট্রে আছি। এই জমানায় আমাদের পরিবার, সমাজে থাকাটাও রাষ্ট্রর সাথে সম্পর্কিত, রাষ্ট্র দ্বারা প্রভাবিত, নিয়ন্ত্রিত। বিবেকের সার্বভৌমর বিপরীতে এটাই সর্বগ্রাসি রাষ্ট্রীয় আত্মর সাম্রাজ্য, যার মূলে আছে নিয়ন্ত্রক ভূমিকা, সীমাহীন আত্মতা, অহঙ্কার। তাই, এই জায়গাটি প্রথমেই অবন্ধুত্বপূর্ণ। ধর্মভাবসম্পন্ন রাজনৈতিক মানুষেরা, যারা বন্ধুত্ব ও সার্বভৌমত্ব চর্চার জন্য তৎপরতা চালাবে, এইটাতো তেমন বন্ধুত্বের জায়গা নয়। তাহলে এই রাষ্ট্র নামের জায়গাটিতে আমরা কী করবো? এই প্রশ্নের ভিতরেই আমরা একটা উত্তর পেয়ে যাই, সেটা হলো, যদি বন্ধুত্ব ও সার্বভৌম প্রতিষ্ঠাই ধর্মভাবসম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির লড়াই হয়, এই অবস্থায়ও এখানে ধর্মভাবসম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির লড়াই হবে রাষ্ট্রকে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সার্বভৌম করে তোলার লড়াই। এই লড়াইয়ের অভিমুখ রাষ্ট্রকে রাষ্ট্র হিশেবে টিকিয়ে রাখার চেয়েও, তাকে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সার্বভৌম করে তোলার তাগিদে প্রয়োজনে বিলয় ঘটানো। রাজনৈতিক ব্যক্তির সংগঠন বা রাষ্ট্রে উত্তরণের ভাব ও ফলাফল হলো এটাই। মূলত এই ভাব ও তৎপরতাই হল রাজনীতি। সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের জ্ঞান। এই জ্ঞান-উদ্ভূত লড়াই।


১. the nafs has a rosary and a Koran in its right hand, and a scimitar and dagger in the sleeve: Jalaluddin Rumi at Mathnawi, From Nicholson, Reynold (1990). Warminster: Gibb Memorial Trust. ISBN 0906094275.


৩.

তাহলে আমরা রাষ্ট্রতত্ত্বে উপনীত হলাম। উপরে আমরা রাজনৈতিক ব্যক্তির সংগঠন বা রাষ্ট্রে উত্তরণের ভাব বোঝার চেষ্টা করেছি, সংগঠন ও রাষ্ট্রের গলিঘুপচিতে হাঁটাচলা করার সুবিধার্তে। আসুন এইবার গলি-ঘুপচিতে চলাফেরা শুরু করি। ব্যক্তির আত্ম থেকে সার্বভৌমে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় যে বোঝাপড়া চলে, উভয়ের কোন অবস্থাকেই হাত দিয়ে ধরে, অনুভব করে বুঝে নেয়া যায় না। আত্ম ও সার্বভৌম উভয়ই অধর, ব্যক্তির মুআমেলাতে তার প্রকাশ ঘটে মাত্র। এই উভয় অধরের মুখোমুখি হওয়া, একে প্রশ্ন ও এর জিকির করতে করতে ধর্মভাবসম্পন্ন ব্যক্তি রাজনৈতিক হয়ে ওঠে, এই বিষয়টি আমরা আগেই জেনেছি। আধুনিক রাষ্ট্র বলে যে ব্যাপারটি আমাদের সামনে হাজির, সেই রাষ্ট্রেরও একটি অধর বৈশিষ্ট্য আছে। সেটি হল আত্মতা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান যেখানে সার্বভৌমর একটা পাতানো ভাব দাঁড় করায়, আমরা আগেই জেনেছি। মানে ছদ্মসার্বভৌম। ছদ্ম বলেই, মূলত রাষ্ট্রের সার্বভৌম গঠনমূলেই ব্যক্তির সার্বভৌমের মতো বিবেকের সার্বভৌম বা বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। ব্যক্তির যে সার্বভৌমর কথা আমরা উপরে বলেছি: খেলাফত, রাষ্ট্রের সার্বভৌম তাকে হরণ করে নেয়ার সুযোগ খোঁজে সবসময়। ব্যক্তির মধ্যেও এমন একটি ঘটনা আছে, সেটি হল, আত্মপরায়ন জীবসত্তা, মানে সেলফ সার্বভৌমকে অধিকার নিতে জাগরুক থাকে সবসময়, যার বিরুদ্ধে ধর্মভাবসম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়ত লড়াই করতে হয়। কিন্তু ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের পার্থক্য হলো, গঠনদশাতেই রাষ্ট্র সার্বভৌমের উপর সওয়ার হয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণ করার আস্পর্ধা ঘোষণা করে, তবেই রাষ্ট্রের শুরু। তাই, যে কোন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ঘোষণার মানে হলো, এর বাইরে অন্যান্য সার্বভৌম অস্তিত্ব থেকে নিজেদের আলাদা, পৃথক ও প্রতিরক্ষায় সক্ষম হিশেবে চিহ্ণিতকরণ। নিজের সার্বভৌমত্বের সীমানায় অন্যান্য সব সার্বভৌমত্বের অস্বীকার, প্রয়োজনে প্রতিরোধের ঘোষণা ও মহড়া। রাষ্ট্রের তাই আলাদা মিলিটারি ফোর্স থাকে। সীমান্ত-প্রহরী থাকে। গোয়েন্দা সংস্থা থাকে। মূলত রাষ্ট্রকে রাষ্ট্র হিশেবে টিকে থাকতে হলে এই অধর সার্বভৌমত্বের সীমানা ও চৌহদ্দি, এর অবিভাজ্য প্রপঞ্চসমূহ ও টুকিটাকি বারবার জিকির করতে ও পাহারা দিতে হয়। সীমান্তপ্রহরী, সেনাবাহিনী যেমন বারবার মহড়া দেয়, তেমনি। নোট দিয়ে রাখি, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের সীমানায় ব্যক্তিও বসবাস করে। তাই, মনে করিয়ে দেয়া দরকার, উপরোল্লেখিত ‘অন্যান্য সব সার্বভৌমত্বে’র মধ্যে ব্যক্তি-সার্বভৌমত্বও থাকে কিন্তু, যাকে অস্বীকার এবং প্রতিরোধ করে রাষ্ট্র। এইটা রাষ্ট্রের বন্ধুত্বের ফাঁকি। এই ফাঁকির সুযোগ নিয়েই রাষ্ট্র জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে (State of exception), যা নাগরিকের সব অধিকারকে নিয়ন্ত্রণ, সীমিতকরণ ও মূলতবির ক্ষমতা। এই অবস্থায়, আমরা আগেই বলেছি, রাজনৈতিক মানুষের কাজ হলো রাষ্ট্রকে অধিকতর সার্বভৌম ও বন্ধুত্বপূর্ণ করার লড়াই। এবং এই লড়াইয়ের অভিমুখ রাষ্ট্রকে রাষ্ট্র হিশেবে টিকিয়ে রাখার চেয়েও, তাকে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সার্বভৌম করে তোলার তাগিদে প্রয়োজনে এর বিলয় ঘটনো। এখানেই দ্বন্দ্ব। স্বয়ং রাষ্ট্রের জন্য রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখাটাও সার্বভৌমত্বের একটা জরুরী অনুসঙ্গ, আমরা আগেই জেনেছি। তাই, রাষ্ট্রের বিলয় এত সহজ প্রশ্ন নয়, না রাষ্ট্র না ব্যক্তি, কারো জন্য। রাষ্ট্রের জন্য এটি ব্যক্তি এবং অন্যান্য ঘোষিত সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রেক্ষিতে টিকে থাকার প্রশ্ন, আবার ব্যক্তির জন্যও রাষ্ট্র এবং অন্যান্য ঘোষিত সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিপরীতে নিজের সার্বভৌমত্বের লড়াই। জগতের সব রাষ্ট্রের বিলয় না হওয়া পর্যন্ত স্রেফ একটি রাষ্ট্রের বিলয় মানে অন্য কোন রাষ্ট্রে মিশে যাওয়া, অথবা নতুন রাষ্ট্রের জন্ম। এইভাবে রাষ্ট্রের বিলয় হয় না। ব্যক্তির সার্বভৌমেরও প্রতিষ্ঠা হয় না।


৪.

রাষ্ট্রে বন্ধুত্ব ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু আবার বন্ধুত্বই রাষ্ট্রে উত্তরণের ভাব, এই ব্যাপারটা আমাদের বোঝা দরকার। এই বন্ধুত্ব হল বিদ্যমান রাষ্ট্র বা ব্যবস্থার বিপরীতে সমস্বার্থের যুথবদ্ধতায় যে বন্ধুত্ব তৈরী হয়। বিদ্যমান ব্যবস্থা বা রাষ্ট্র মানে হলো যে নতুন রাষ্ট্র তার প্রেক্ষিতে অন্য রাষ্ট্র্র। রাষ্ট্রের ভিতরে এবং বাহিরে এই দ্বৈততার সম্পর্ক নির্ণয় ও সঠিক পাঠ রাজনৈতিক মানুষের কর্তব্য নির্ধারণ করতে পারে। যেমন বাংলাদেশ, উনিশ শ একাত্তর সালে পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠির অবিচারের বিরুদ্ধে যে বন্ধুত্বের জন্ম। সব ধরণের কন্সপিরেসি থিওরি বাদ দিয়ে, মোটামোটি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য যেসব রাষ্ট্র আছে তার সাথে বন্ধুত্ব নেই বলেই তারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রে হাজির নেই। অন্যতর রাষ্ট্রে তৎপর। যেমন ভারত। পাকিস্তান। পাকিস্তান থেকে আলাদা, আবার ভারতে বিলীন হতে ইচ্ছুক নয় বলেই বাংলাদেশ আলাদা রাষ্ট্র। এটাই তো। তাহলে ভারত, পাকিস্তান এরা আমাদের শত্র“? বটেইতো। যদিও ডিপ্লোমেটিক ভাষায় আমরা এমন শব্দ উচ্চারণ করি না, বলি বন্ধুরাষ্ট্র বা প্রতিবেশী রাষ্ট্র। মূলত যতই বন্ধু ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র হোক না কেন, রাষ্ট্রের বাইরে অন্য সব রাষ্ট্র সম্ভাব্য শত্র“ অথবা নেহাত শত্র“। তাই বাংলাদেশের সীমান্ত-প্রহরী বিজিবি জওয়ানরা বাংলাদেশ-ভারত-সীমান্তে যে কোন সম্ভাব্য আক্রমণের আশঙ্কায় দিনরাত টহল দিচ্ছে। প্রতিরোধ করবে বলে। অনুরূপভাবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীও, আমাদের লাগোওয়া সীমান্তে। বন্ধুরাষ্ট্র বলে বসে নেই। এই বন্ধুত্ব ডিপ্লোমেটিক, সুযোগ পেলেই অপর বন্ধুত্বের ভূমি দখল করতে পিছপা হয় না। অপর নাগরিকদের খুন করে, কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখে। ফেলানির কথা মনে আছে তো? ডিপ্লোমেটিক বন্ধুত্বে এইসবের ফয়সালা ছাড়া এগুনো যায় না। আবার, মনে রাখতে হবে, ইজরায়েলের সাথে আমাদের কোন ডিপ্লোমেটিক সম্পর্কও নেই। মানে, বহিঃরাষ্ট্রের সাথেও, সম্পর্ক থাকা-না থাকা বা না-রাখার ব্যাপার আছে। এখানেও সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের জ্ঞান। যদিও এর প্রকৃতি ভিন্ন।

তাহলে ডিপ্লোমেটিক বন্ধুত্বের ফয়সালা, এখানে এসেই, অন্যান্য রাষ্ট্রের বিপরীতে রাষ্ট্র প্রথম রাষ্ট্র হিশেবে অপরের সামনে নিজেকে দাঁড় করায়। অনেকটা ব্যক্তির মতই। এই বন্ধুত্বে এসেই উপরে আলোচিত রাষ্ট্রীয় সার্বভৈৗমর পূর্ণ প্রকাশ ঘটে, যদিও ছদ্ম, পূর্ণভাবে স্বয়ম্ভূ ও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। যদি রাষ্ট্র তেমনতরো বিকশিত হয়ে উঠতে পারে। কারণ এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র তার সার্বভৌম জনগণের একটি ‘বানানো’ সম্মতি নিয়ে, তাদের হয়ে অন্য রাষ্ট্রের সাথে ফয়সালা করতে যায়। এই ফয়সালা করতে ব্যর্থতা ও দুর্বলতার পরিচয় দিলে রাষ্ট্রও ব্যর্থ হয়। আবার, এই বৈপরীত্যে রাষ্ট্র যখন ব্যক্তি-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে, জনগণের প্রতিপক্ষ অবস্থানটি সম্পর্কে রাখ-ঢাক না করে, প্রকাশ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠে, রাষ্ট্রর ভিতও তখন নড়বড়ে হয়ে ওঠে। কারণ জনগণের প্রতিপক্ষে রাষ্ট্র পূর্ণ সার্বভৌম ইচ্ছা ধারণ করতে অক্ষম, সর্ব অর্থে, সব দ্বৈততাসহ। কেননা জনগণ এবং তাদের ইচ্ছা ও সম্মতি উৎপাদন করেই রাষ্ট্র সার্বভৌমত্বের দাবীতে টিকে থাকতে সক্ষম হয়। এই জন-ইচ্ছে ও সম্মতি যদি পুরোপুরি রাষ্ট্রের বিপরীতে চলে যায়, রাষ্ট্র তার সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার ‘ক্ষমতা’ হারায়। বরং জন-ইচ্ছার কাছে রাষ্ট্রের নতী স্বীকার করাই তখন নিয়তি হয়, জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছের কাছে রাষ্ট্রের সার্বভৌমের আত্মসমর্পন বা পতন। রাষ্ট্রের বিলয় বা নতুন রাষ্ট্রের শুরু।


৫.

এবার বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে সুনির্দিষ্টভাবে আলাপে আনা যাক। উপরে আমরা রাষ্ট্রের সার্বভৌম ঘোষণায় জরুরী অবস্থার উল্লেখ করেছি। লক্ষণীয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রে এখন এমন একটি ‘জরুরী অবস্থা’ (State of exception) বিরাজ করছে, যা এখন আর স্রেফ জরুরী (exception) নয়, বৈশ্বিক রাজনীতির সাথে তাল দিয়ে ‘সর্বসময়ের বাস্তব অবস্থা’ হয়ে উঠেছে। পুঁজি এই অবস্থাকে বোঝার জন্য জরুরী অনুসঙ্গ, এইটা নোক্তা, পরে অন্য কোথাও সুযোগমতো আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলাপের সুযোগ নেব। পুঁজির বৈশ্বিক নিরাপত্তার খাতিরে ঘোট পাকানো রাষ্ট্রের এ অবস্থাকে পণ্ডিতগণ সিক্যুরিটি স্টেট (Security State) নাম দিয়েছেন। যে অবস্থায় ভিতর এবং বাহিরে রাষ্ট্রের একমাত্র কাজ হলো বিশ্ব-পুঁজির নিরাপত্তা প্রদান, এবং এর জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ। এ অবস্থায় বিশ্ব-পুঁজির বিপনন ও নিরাপত্তা-ব্যবস্থার নাম রাষ্ট্র। মানে এ অবস্থায় রাষ্ট্র হল পুঁজির দাস। আমরা উপরে দেখেছি, রাষ্ট্র ব্যক্তির সার্বভৌম খেলাফতকে দাস বানিয়ে রাখার চেষ্টা করে, আবার এই সময়ের জরুরী রাষ্ট্রগুলো পুঁজির দাসত্ব করে। এও সেই আত্ম, যা সার্বভৌমের উপরে সওয়ার হয় এবং দাস বানায়। এখন রাষ্ট্র হল এই উভয় শয়তানের ঘোট-পাকানি। বাংলাদেশে এই অবস্থাকে বোঝার জন্য দ্রষ্টব্য হলো: জন-বিতর্ক ও বিরুদ্ধ মতের উপর স্পর্শকাতরতা, গোপনীয়তা, রাষ্ট্রের ভিতরে জন-ইচ্ছের উপরে ব্যারিকেড নির্মাণ, লাঠিচার্জ, গ্রেফতার-হুলিয়া ও ক্রসফায়ার, সেফ হোম নামের টর্চার সেল, কল্পিত জাতীয় শত্র“ ‘স্বাধীনতা-বিরোধী’ নির্ণয় ইত্যাদি। আবার, এই অবস্থায় শয়তানে শয়তানে যে সমস্ত ঘোট পাকে, তার কয়েকটি: সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘আন্তর্জাতিক’ যুদ্ধে মিত্রতা, কনকোফিলিপ্সের সাথে চুক্তিতে জ্বালানী সম্পদ সমর্পন, জাতিসংঘের শান্তি-ব্যবসায়ে ভাড়া খাটা সেনা অংশের স্বার্থ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ও নির্ণায়ক হয়ে ওঠা, ট্রানজিট ও এক্ষেত্রে শুল্ক আরোপে সভ্য-অসভ্যের মশকরা, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় গোয়েন্দাদের হেনস্থা, ভারত-বাংলাদেশ যৌথ রবীন্দ্র সম্মীলন (যে রবীন্দ্র সর্বভারতীয় কনফেডারেশনের প্রতীক হিশেবে নির্মিত, আমরা পূর্বে এ সম্পর্কিত পাঠ নিয়েছি), ‘বাঙালী’ জাতীয়তাবাদ (যে ‘বাঙালী’ জাতীয়তাবাদ ও ‘বাঙালী’ সংস্কৃতির সাথে ‘সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদী ও সম্প্রসারণবাদে’র সখ্যতার রাজনৈতিক পাঠ সম্পন্ন করেছি আমরা বহু আগেই, অন্যত্র)- ইত্যাদি। আবার দ্রষ্টব্য হতে পারে, সংবিধিবদ্ধ কেতাবের সাহায্যে এই অবস্থাকে আইনি পরিসরে মর্তবা প্রদান ও জায়েজ করার জন্য তৎপরতা। যেখানে জাতি হিশেবে রাষ্ট্রের ভিতরের কিছু জনগোষ্ঠি গুম হয়ে যাবে, যেমন: অবাঙালী পাহাড়ীরা, ‘বাঙালী’ জাতীয়তাবাদ ঘোষণায়। আবার, একই সাথে ব্যক্তি হিশেবে নাগরিকের হাত শিকল দিয়ে বাঁধা থাকবে, মুখ থাকবে বন্ধ, যাতে তার সার্বভৌম ইচ্ছার প্রকাশ ঘটাতে না পারে।

মূলত ব্যক্তির সার্বভৌমের প্রতি রাষ্ট্রের এই যুদ্ধ ঘোষণা, আবার, জনগণের সার্বভৌমকে রুখে দিতে শয়তানদের ঘোট পাকানোর এই অবস্থাটাই হল রাষ্ট্রের ধর্ম হয়ে ওঠা। এই অবস্থায় ধর্মভাবসম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির লড়াই আরো সুস্পষ্ট হয়, রাষ্ট্রকে বন্ধুত্বপূর্ণ করে তোলা বা এর বিলয়ের লড়াই। এই তৎপরতা হল রাজনীতি। সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের জ্ঞান এবং এই জ্ঞান-উদ্ভূত লড়াই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29422748 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29422748 2011-07-30 17:13:30
সেপ্টেম্বর এগার পরবর্তী জনবিতর্ক ও বিশ্ব সেপ্টেম্বর ইতিহাসের ঘণ্টা দুলিয়ে দেয়া মাস। কিন্তু এটি সেপ্টেম্বর নয়। অন্য কোন দিন। তারপরও যেন সেপ্টেম্বরেই আছি। যখন বারাক হোসেন ওবামা নামের এক মুসলিম পিতার পরিবারে জন্ম নেয়া কালো বংশোদ্ভূত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওসামা নামের আর এক মানুষকে নিরস্ত্র অবস্থায়, বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনীর মাধ্যমে, গোপনে, অন্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে ঢুকে, খুন করার কথা ঘোষণা করলেন উদ্ধতভাবে: ‘ওসামাকে আর কখনোই পৃথিবীর বুকে হেঁটে যেতে দেখা যাবে না’, তখন। আমেরিকার গর্বিত ‘গণতন্ত্র’, ‘স্বাধীনতা’, বিশ্বব্যাপি সর্দারি ও অপ্রস্তুত জনগোষ্ঠির উপর অনায্য হামলা ও হত্যালীলায় ‘সুখী’ সেইসব ‘নিস্পাপ’ নাগরিকরাও (Good Americans) উল্লাস করেছেন। বাবা ও পুত্র বুশ, ওবামা, হিলারী, ক্লিণ্টন, বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের অপরাপর শক্তিকেন্দ্রসমূহ, সেবাদাস রাষ্ট্রগুলোর সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো (বাংলাদেশের সরকারী ও বিরোধীদলসহ) স্বস্থি প্রকাশ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সাথে ওসামা হত্যাকাণ্ডের মধ্যে নাইন ইলেভেন-এর পর ‘সন্ত্রাসে’র বিরুদ্ধে যুদ্ধের অগ্রগতিকেও ‘ন্যায়বিচার’ চিহ্নিত হিসেবে করেছেন ওরা। যদিও, ওসামা বিন লাদেনের বিরুদ্ধে নাইন ইলেভেনের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ এখনো প্রমাণের অপেক্ষাতেই আছে, যা আর কখনো প্রমাণ হবার নয়। তার আগেই তার বিরুদ্ধে ‘ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল, ওবামার ভাষ্যমতে। যদিও ইরাক, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তানের লক্ষ লক্ষ মৃত ও খুন হয়ে যাওয়া শিশু ও নাগরিকের পরিসংখ্যান, জাপানের হিরোসিমা ও নাগাসাকিতে আমেরিকার আণবিক বোমায় পুড়ে যাওয়া মানুষগুলোর ইতিবৃত্ত, আফ্রিকার কালো মানুষদের হারিয়ে যাওয়া জীবন ও দাসত্বের ইতিহাস- যারা কোন না কোনভাবে কালো বারাক হোসেন ওবামারই পূর্ব পুরুষ ছিল, আদিবাসী রেড ইণ্ডিয়ানদের উপরে গণহত্যা, স্বভূমি থেকে বিতাড়ণ ও নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার চেষ্টার যে অপরাধ- খোদ আমেরিকান পণ্ডিত ওয়ার্ড চার্চিল এর মতে, তার তুলনায় নাইন ইলেভেন-এর এই পাল্টা ধাওয়া ছিল প্রকৃত ন্যায়বিচার ও প্রতিরোধের শুরু মাত্র।..

পুরো লেখাটা বিডিনিউজের মতামত-বিশ্লেষণ থেকে পড়তে হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29382654 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29382654 2011-05-17 13:27:50
গণতান্ত্রিক সংবিধান ও চা-চক্রের অরাজনৈতিক শক্তি বিডিনিউজে প্রকাশিত আমার এই লেখাটিতে ব্লগাররা তাদের সংবিধান-ভাবনা নিয়ে আলাপ করতে পারেন। এখানে অথবা লেখার মূল লিঙ্কে। এখানে চুম্বকাংশ শেয়ার করা হল। পুরো লেখাটা বিডিনিউজের মতামত-বিশ্লেষণ থেকে পড়তে হবে।

..সংবিধান বানানোসংশোধনের ব্যাপারটাকে চায়ের টেবিলে নিয়ে সমাধান করার চেষ্টা পুরোপুরি একটি অরাজনৈতিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াটাকে প্রশ্নের মুখোমুখি করা খুবই জরুরী। বাংলাদেশে বর্তমানে চায়ের টেবিলে বসে সংবিধান বানানো ও সংশোধনের নামে রাষ্ট্রের উপর দলীয় খায়েশ ও দলের স্বার্থ সংশ্লষ্ট ইচ্ছে-অনিচ্ছে চাপিয়ে দেয়ার যে উন্মাদনা চলছে, তার বিষয়ে আমাদের নাগরিকতার জায়গা থেকে একটি পর্যালোচনা খাড়া করানো এই লেখার অভিমুখ। আমরা একই সাথে মনে রাখছি, এটি বাংলাদেশে পূর্বাপর দলীয় দুর্বৃত্তপনার ইতিহাসের ধারাবাহিকতার সাথে মিলিয়ে পাঠ করার বিষয়। রক্তাক্ত প্রতিরোধ সংগ্রামের মাধ্যমে ইংরেজি ১৯৭১ সালে ‘স্বাধীনতা’ লাভের পর থেকে এই পর্যন্ত ঐতিহাসিকভাবে শাসকগোষ্ঠি ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংবিধান নিয়ে ধারাবাহিক অপকর্ম করেছে, ফলশ্রুতিতে এই সংবিধান আর এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠির জন-ইচ্ছের দলিল হিশেবে হাজির নেই। কাজেই গণতান্ত্রিক এবং প্রায়োগিক বিচারে সংবিধান নামের এই বস্তুটি বর্তমান বাংলাদেশে নষ্ট অর্থহীন কাগজের দলাতে পরিণত হয়েছে। বিশেষত সংবিধান পুনর্মুদ্রণের সাম্প্রতিক জগাখিচুড়ি ঘটনাবলিতে- কতকটা ‘মহামান্য’ বিচার বিভাগের আদেশে, কিছুটা ‘সার্বভৌম’ সংসদীয় কমিটির ইচ্ছেয়, এটি এর আইনগতবাস্তবিক অস্তিত্বের (de jure and de facto) ব্যাপারেও নাগরিকদের মধ্যে যথেষ্ট বিভ্রম ছড়িয়েছে।..

---------------------------------------

..উপমহাদেশের ইতিহাসে চায়ের আড্ডায় আলোচনা সেরে বৃটিশ উপনিবেশ থেকে ‘স্বাধীনতা’র মোয়া ভিক্ষা ও ব্রিটিশ শাসক শ্রেণী কাম ভারতীয় নেতৃবৃন্দের যৌথ ইচ্ছে-অনিচ্ছেতে দেশ বিভাগ ও ভূখণ্ড ভাগ-বাটোয়ারার ঘটনা আছে। এই ধরণের ঘটনায় ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতার অন্তর্নিহিত মর্মার্থ- এদেশের মানুষের হাজার বছরের লড়াই, সংগ্রাম ইত্যাদির ভিতরকার নানা বাঁক, টানাপোড়ন ও শক্তির জায়গাগুলো উপেক্ষিত হয়েছে বলে আমরা দৃঢ়তার সাথে বলি। সেই চা-চক্রের খেসারত হিশেবে বিশ বছরের অধিক কাল বাংলার ভূখণ্ড ‘পূর্ব পাকিস্তান’ হিশেবে থাকলেও তার পরে এদেশের জনগণের গণইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে ইংরেজি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠির বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামে। ইতিহাস থেকে শিক্ষার কারণে, এদেশের জনগণ কাউকে দেশবিভাগের মত হঠকারী উপায়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মীমাংসা চায়ের টেবিলে সারার সুযোগ দেয় নাই। যদিও সেসময়কার দলীয় নেতৃত্ব সবসময় চায়ের টেবিলেক্ষমতার ভাগাভাগিতেই গণ-ইচ্ছের টুঁটি চেপে ধরার প্রয়াস খুঁজছিলেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। জনগণ স্বেচ্ছায় গণপ্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে নেতৃত্বের এমন ইচ্ছেকে সফল হতে দেয় নাই। প্রতিরোধ সংগ্রামে এদেশের জনগণ জয়ী হবার পর, আবারো তাদের উপর সেই চা-চক্রের অগণতান্ত্রিক শক্তি এবং তাদের প্রণীত সংবিধান চেপে বসে, যাকে আমরা ভক্তিভরে ৭২ এর সংবিধান নামে ডাকি। হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং বক্তব্য অনুযায়ী ইংরেজী ২০১১ সালের বর্তমান বাংলাদেশ এখন ৭২ এর সংবিধানেই বিরাজ করছে। পাকিস্তানের সংবিধান সভার জন্য নির্বাচিত আওয়ামীলীগের সদস্যগণ কর্তৃক গৃহীত এই সংবিধানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্নগুলি, অথবা একটি স্বাধীন দেশের হৃদয়ের ভিতর থেকে কেন নতুন সংবিধান সভা আহ্বান করা হলো না, সেই বিতর্ক এ ক্ষেত্রে খুবই জরুরী প্রশ্ন হলেও, সেই সময়ে প্রণীত সংবিধানের অগণতান্ত্রিক চরিত্রের কথাটির আলোচনা আরো বেশি জরুরী। এটি এমনই এক অগণতান্ত্রিকঅথর্ব সংবিধান ছিলো, এর প্রণেতা বালাদেশের তৎকালীন নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দেশের ক্ষমতাকেন্দ্রে নিজের চিরস্থায়ী আসন প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কলমের এক খোঁচায় চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এর ফাঁসি কার্যকর করেন। যার কোন প্রতিরোধ বা প্রতিকার এই সংবিধান নিজের ক্ষমতা-পরিধিতে করতে পারে নাই।

---------------------------------------

..ইতিহাসের ঘণ্টাধ্বণি আবার নাড়িয়ে দিতে সবাই প্রস্তুত। কিন্তু দেখা গেল, সেই সম্ভাবনার মুহূর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামের এক অগণতান্ত্রিক এলিট ভূত এসে চেপে বসল বাংলাদেশের জনগণের ঘাড়ের উপর। সাংবিধানিক বিতর্কের আসরে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ধারণার গণতান্ত্রিকতাকে প্রশ্ন করে- এমন আলোচনাগুলোকে প্রাসঙ্গিক করতে ব্যর্থ হয়েছেন আমাদের বুদ্ধিজীবী মহল এবং সাথে সাথে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো বরং তার সুযোগ নিয়েছে। নিজ নিজ দলীয় ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার ধান্ধায় তারা এই সরকারব্যবস্থাকে বাতিল অথবা জারি করার মতলবে থাকছে সবসময়- গণতন্ত্রের মৌলিক শর্ত, মৌলিক মানবাধিকার হরণ ও এ সংক্রান্ত বিতর্কগুলোর চোখে ধুলো দিয়ে । লক্ষ করার বিষয়, বর্তমানে আদালতের মর্যাদা রক্ষার নামে ‘আদালত অবমাননা’ আখ্যা দিয়ে এক ধরণের জুরিস্টোক্রেসি বা বিচার বিভাগীয় অভিজাততন্ত্র সক্রিয়ভাবে বহাল আছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রব্যবস্থায়। এটি বহুলাংশে আমাদের সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক অধিকারের বিপরীতে হুমকি হিশেবে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাতেই বাংলাদেশে এই বিচারবিভাগীয় অভিজাততন্ত্রের বীজ। এই ব্যবস্থাতে সব রাজনীতিবিদ বা নাগরিকের বিপরীতে বিচারপতিদেরকে ঐশ্বরিক পবিত্রতা দেয়া হয়েছিল। জেনে রাখা ভাল, এই পবিত্র ঈশ্বরগণকে আমাদের সংবিধান রাষ্ট্রের বিপরীতে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার দায়িত্ব অর্পণ করেছে, যার কারণে হাইকোর্টে রীট অধিকার নিয়ে নাগরিকগণ ফরিয়াদি বনে যায়। দেখা যাচ্ছে, এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা-বলে তাঁরাই এখন সেই রীটের অধিকারসম্পন্ন নাগরিকগণকে ‘আদালত অবমাননা’র অযুহাতে বিনা বিচারে কাটগড়ায় দাঁড় করিয়ে রেখে, অথবা যেমন ইচ্ছে সাজা দিয়ে, এমনকি অ-আদালতীয় ভাষায় অপমানও করছেন কোন কোন ক্ষেত্রে। এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নাগরিক অধিকার হননের বিরুদ্ধে আইনি বা সাংবিধানিক প্রতিকার কোন কর্তৃপক্ষ দেবেন, আমাদের অগণতান্ত্রিক সংবিধানে সেই কথাটিও স্পষ্ট নেই। আবার এই একটি ব্যবস্থাবলেই, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত এখন দলীয় রাজনীতির আখড়া ও ক্ষমতাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।..

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29353923 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29353923 2011-03-30 20:03:20
রোড-ঘাটে দেখা হয় আমাদের

রোড-ঘাটে দেখা হয় আমাদের।

আগেও হত।

এইসব দেখাদেখি
একটি ধুলোট নগরীতে ঘটে যেত আগে।
মহেঞ্জোদারোর মত।
ধুলোদীর্ণ দিন।

কথা বলা হত বেশ।
দেখাও হত।

তবুও তোমার সাথে হত না দেখা।

কথাও হত না।

দূর ও কাছ
গোচর ও অগোচর
প্রকাশ্য ও গোপন থেকে
দূরে ও অদূরে
কোথাও
অন্য কোথাও

রয়ে যেতে যেতে

দেখা হতো না।
কথাও হত না।

আবার দেখাদেখি হয়। ইদানিং।
রোড-ঘাটে আমাদের।

আবার এখন
অন্যরকম
কথা বলো তুমি।
তুমি আসো বেশ।
কথা আর হাসো।
কথা আর দেখা-

তবুও তোমার সাথে

বন্ধুত্ব ও রাজনীতি
রাজনীতি ও সংসার
সংসার ও কবিতা
কবিতা ও রাষ্ট্র
রাষ্ট্র ও নৈরাষ্ট্রের থেকে

দূরে ও অদূরে
কোথাও
অন্য কোথাও

রয়ে যেতে যেতে

দেখা হয় না।
কথাও না হয়।

আবার দেখাদেখি হবে! একদিন!
রোড-ঘাটে আমাদের?

আবার তখন
অন্যরকম
কথা কইবে তুমি?
কথা আর হাসি!

কথা হবে বেশ!
কথা আর দেখা?

তখনও তোমার সাথে-

প্রেম ও বিভঙ্গ
বিভঙ্গ ও মানুষ
মানুষ ও ইতিকথা
ইতিকথা ও অনেতিহাস থেকে
দূরে ও অদূরে
কোথাও
অন্য কোথাও

রয়ে যেতে যেতে

দেখা হবে-না কি!
কথাও না হবে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29350187 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29350187 2011-03-24 09:15:01
বাংলাদেশ: রাষ্ট্র ও সংবিধান নিয়ে শূন্য মুহূর্তের তর্ক ::পুরো লেখাটা বিডিনিউজে::

...রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও প্রকৃতি নির্ধারণের প্রশ্নে সংবিধান হল সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ প্রপঞ্চ। যে চরিত্রেরই হোক না কেন, সংবিধান একটি রাষ্ট্রের আরম্ভ-বিন্দুকে বৈধভাবে চিহ্ণিত করার দলিল। এবং একটি কার্যকর সংবিধান মোটাদাগে একটি কার্যকর রাষ্ট্রকে চিহ্ণিত করে, সে সংবিধান গণতান্ত্রিক বা অগণতান্ত্রিক যাই হোক না কেন। উপনিবেশিক-অউপনিবেশিক কায়েমি শাসক ও শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে ন্যায় বিচার, স্বাধীনতা, সমতা ইত্যকার বিবিধ রাজনৈতিক প্রশ্নে এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের যে সাধ্য-সাধনা-আন্দোলন, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রগঠনের ঘটনায় তার পরিণত প্রকাশ ঘটে। একই বছরের ১০ এপ্রিল তারিখে অস্থায়ী মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকে সংবিধান গ্রহণের আগ পর্যন্ত রাষ্ট্র গঠনে গণ-সম্মতির প্রাথমিক দলিল রূপে গ্রহণ করা হয়। একইসাথে, এই ঘোষণাটিতে ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে রেট্রোসপেকটিভ ইফেক্ট দেয়া হয়, যাতে ঘোষিত রাষ্ট্রের কোন শূন্য মুহূর্ত চিহ্ণিত না হয়। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর ইতিপূর্বে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সংবিধান রচনার জন্য আওয়ামীলীগের নির্বাচিত গণ-পরিষদ সদস্যদেরকে নিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য প্রথম সংবিধান গৃহীত হয়। বাংলাদেশের সংবিধান রচনায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্য নির্বাচিত গণ-পরিষদ সদস্যদের অংশগ্রহণ, এর বৈধতা, এর গণতান্ত্রিক বা গণবিরোধী চরিত্র ইত্যকার সকল বিতর্ককে পাশে রেখে মোটামুটি এই ঘটনাপঞ্জি দেয়ার একটা মূল সূত্র আছে। সেটি হল, রাষ্ট্রের সংবিধান-বিহীন কোন শূন্য মুহূর্ত চিহ্ণিত যাতে না হয় সেই চেষ্টাতে নোক্তা। কারণ রাষ্ট্র কখনো সংবিধানবিহীন থাকতে পারে না। থাকলে রাষ্ট্র থাকে না।

.......................................................

রাষ্ট্র সংবিধানবিহীন থাকতে পারে না। কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে ‘রাষ্ট্রে কোন নির্দিষ্ট সংবিধানটি কার্যকর আছে’ এমন প্রশ্ন যদি দেখা দেয় তখন? সর্বসম্প্রতি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ঘটনাপঞ্জিতে আদালতকে ব্যবহার করে কিছু অভূতপূর্ব ঘটনা ও বিতর্ক ঘটে গেছে- যার প্রেক্ষিতে ঠিক এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কোন নির্দিষ্ট সংবিধানটি কার্যকর আছে সেই কথাটি ঠিক করে বলা মুশকিল। আরো সুনির্দিষ্টভাবে বললে, এই মুহূর্তে রাষ্ট্র ঠিক কোন সংবিধানের অধীনে চলছে বা নাগরিকরা ঠিক কোন সংবিধানের অধীনে আদালতে প্রতিকার চাইতে পারে সে বিতর্ক উঠেছে।

.......................................................

মোস্তাক-সায়েম-জিয়াউর রহমান, এদের ক্ষমতারোহনের মূল ভিত্তি ছিল তাদের মুখের কথা, সামরিক আইন বা ফরমান যার কোন সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। ফলত সংবিধানিক বিচারে তাদের ক্ষমতারোহন অবৈধ হতে বাধ্য। এ নিয়ে কারো কোন প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। বরং যে প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ, তা হল সাংবিধানিকভাবে ‘অবৈধ’ একটি ক্ষমতা থেকে উদ্ভূত যে ‘এখতিয়ার’, হাইকোর্টের সেই জুডিশিয়াল রিভিউর এখতিয়ারের ‘সাংবিধানিক বৈধতা’ কীভাবে তৈরি হবে। আবার, যে ক্ষমতাটি সাংবিধানিকভাবে অবৈধ, তার কিয়দ্বংশকে ঠিক কোন এখতিয়ার বলে আদালত গ্রহণ বা ক্ষমা করার ক্ষমতা রাখেন- এটিও জরুরী প্রশ্ন। কারণ, আদালতের এই কাজটির অর্থ হল আদালত সংবিধানে নতুন বিধান সংযোজন করতে ব্রতি হয়েছেন- যার কোন এখতিয়ার আদালতের নেই- বিদ্যমান সংবিধান অনুসারেই। ব্যাপারটিকে এইভাবে বলা যায়, সংবিধানে জিয়ার সামরিক ফরমানের জায়গায় আদালতের জুটিশিয়াল ফরমান স্থলাভিষিক্ত করার কথা বলা হয়েছে। যা মূলত জিয়ার সামরিক ফরমানের মতই পুরোপুরি অসাংবিধানিক। এবং অসাংবিধানিক হলে অবৈধ হতে বাধ্য।

.......................................................

একদিকে সাংবিধানিক বৈধতার হট্টগোল, অন্য দিকে ঠিক এমন মুহূর্তেই পরষ্পর বিরোধী বক্তব্যের ভিতর ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট সংবিধানটি বর্তমানে বাংলাদেশের বৈধ সংবিধান, এই বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্ক জন্ম নিয়েছে। আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী পুনর্মুদ্রিত সংবিধানটি, নাকি এই রায়ের আগে বহাল থাকা পূর্বেকার সংবিধান- যেখানে পঞ্চম সংশোধনী, সপ্তম সংশোধনী এইসব বহাল আছে? অনেকেই এটিকে চিহ্ণিত করছেন বাংলাদেশের ‘সংবিধান-বিহীন কাল’ হিশেবে। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞান অনুযায়ী সংবিধান-বিহীন শূন্য রাষ্ট্র অসম্ভব। সাংবিধানিক শূন্যতা মানে রাষ্ট্র রাষ্ট্র হিশেবে সেই পরিস্থিতিতে নিজেকে নির্দিষ্ট করতে পারে নাই। তাই এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নাগরিক অবস্থান থেকে এই বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে প্রশ্ন করা দরকার, যে, আমরা ঠিক কোন নির্দিষ্ট সংবিধানের অধীনে আমাদের ‘অধিকার’, ‘আইন’, ‘সুবিচার’ এবং ‘প্রতিকার’গুলো চিহ্ণিত করতে সমর্থ হবো। এ বিতর্কের সাথে, দলবাজির সীমাহীন দৌরাত্ম্যে বুদ হয়ে থাকা অবস্থা থেকে রাষ্ট্র ও তার সংবিধানকে বের করার তাগিদ এবং সংবিধান সম্পর্কিত রাষ্ট্রের গঠন দশা থেকে একটি গণতান্ত্রিক ও কার্যকর সংবিধানের জন্য যে মৌলিক বিতর্কসমূহের জরুরত ছিলো তার নতুনতর সূচনাও দরকার বলে আমরা মনে করি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29332969 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29332969 2011-02-24 09:02:56
মুক্ত গণ-মাধ্যম-ভাবনার নতুন প্লাটফর্ম: স্রেফ শুভেচ্ছা
আমি চাটগাঁ থাকি, ব্যক্তিগত জীবন যাপনে অনেকটা অসামাজিক গোছের একজন। যদিও মানুষের ‘রাজনৈতিকতা’ নামে যে ব্যাপারটিকে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করি আমি, তার জন্য এই সামাজিক মেলা মেশা এবং আদান প্রদানের ঘন-ঘটা খুব জরুরী। তবু, এইসব অনুষ্ঠানে মূলত অনুপস্থিত থাকাটাই আমার স্বভাব। তাই ব্লগে বহুদিন ধরে লেখালেখি করেও এই জগতের প্রভূত লোকজনদের সাথে আমার মুখোমুখি দেখা হয় নাই কখনো। এমন কি আমি যে অঞ্চলে থাকি পারতপক্ষে সেখানকার কবি-সাহিত্যিক-লেখক সম্প্রদায়ের সাথেও তেমনতরো মেশা হয় না, কিছু জিগরি বন্ধু বান্ধব ছাড়া। এই জিগরি বন্ধু-বান্ধবদের অনেকেও জানে না যে ব্লগ নামক একটা জায়গায় আমি মাঝে মধ্যে কিছু জঞ্জাল লিখি। কখনো যদি শোনে তখন বলে, ব্ল-গ-, অইটা আবার কী জিনিশ? কিছুদিন আগে এক পরিচিত শ্রদ্ধেয় বন্ধুজন- যিনি বেশ ভাল রাজনীতি-সচেতন, অসম্ভব ভালো কবিতা লেখেন, চায়ের আড্ডায় পত্র-পত্রিকার কলাম এবং টিভি টকশোগুলোর তুখোর সমালোচক- চায়ের বুদবুদের ভিতরেই রাজনৈতিক পরিবর্তনে রীতিমত জেহাদ চালিয়ে যান- আমার মতই রবীন্দ্র-সঙ্গীত এবং শিল্পের অন্যান্য অনুসঙ্গের প্রতি বাঙালী জাতীয়তাবাদের পৌত্তলিক আগ্রহকে প্রশ্ন করতে ভালবাসেন- তাকে একদিন সসঙ্কোচে বিডিনিউজের মতামত-বিশ্লেষণ কলামে আমার প্রকাশিত একটি লেখার কথা বলি- প্রাসঙ্গিক আলোচনার খাতিরে। তাঁর সাথে আমার প্রাথমিক কথাবার্তা নিম্নরূপ:

লেখাটা কোথায় প্রকাশিত হয়েছে?

বিডিনিউজ-এ।

হাঁ, নাম শুনেছি। অইটা কি কোন পত্রিকা?

নাহ। তবে পত্রিকার মতই। নেটে বসে পড়া যায়।

ওহ। আচ্ছা। প্রথম আলোতে লেখা প্রকাশিত হলে ওইটা বেশি গুরুত্ব বহন করে, নাকি বিডি নিউজে?

কেন এমন কথা বলছেন?

নাহ। নেট একটা লেখার জায়গা হলো? ওইটা কজন পড়ে? তার চেয়ে তোমার এই লেখা যদি প্রথম আলো-সমকাল-যুগান্তর- এমনকি নয়া-দিগন্তের মতো কোন পত্রিকায়ও ছাপা হতো তাহলে বুঝা যেত গুরুত্বপূর্ণ কিছু হচ্ছে।

অগত্যা বুঝলাম আমার সংকোচটাই ভাল ছিল। আমার অসামাজিক সংকোচের জয় হোক। তাঁর সাথে মূল বিষয়েও আর কোন আলোচনা এগোল না। মানুষের পৌত্তলিকতার শেষ নেই। প্রিণ্ট মিডিয়ার প্রতি এই অ-পৌত্তলিক মানুষের যে পৌত্তলিক আগ্রহ এবং আনুগত্য তাকে টলানো আপাতত আমার কর্তব্যের মধ্যে পড়ে না। অপ্রিয় তথ্য হলো, বাংলাদেশের এইসব প্রতাপশালী প্রিন্ট মিডিয়াগুলোতে আমার এই শ্রদ্ধেয় বন্ধুর পাঠানো অসম্ভব ভালো কবিতাগুলোর স্তূপ পড়ে আছে- তার কোন লেখা এইসব মিডিয়ায় প্রকাশিত হয় নাই। কতক সম্পাদকীয় নীতি- কতক দলবাজিতা- কতক আরো বিবিধ অনুসঙ্গ কাজ করে এইসব না-ছাপানোতে।

আমি প্রিণ্ট মিডিয়ায় লেখার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু, মুক্ত গণ-মাধ্যম-এর যে স্বাধীনতা তা আর কোথাও সম্ভব নয়। ব্লগ হলো মুক্ত গণ-মাধ্যম। এর মূল স্পিরিট হলো কোনরকম সম্পাদকীয় নীতির খড়গ ছাড়াই লেখালেখি করতে পারা। আমি এই ব্যাপারটি ভালবাসি। তাই এই মাধ্যমটির প্রতি আত্মীয়তা কখনো কমবে না আমার।

বিডিনিউজ ব্লগের প্রতিও তাই আমার শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। পাশাপাশি ব্লগের মডারেশন নীতিমালা সংক্রান্ত সামহোয়ারইনে প্রকাশিত আমার পুরনো একটা লেখার লিঙ্ক এখানে জুড়ে দিলাম।

সামহোয়ারইনের মডারেশন নীতিমালা: একটি ভিন্ন পর্যবেক্ষণ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29324281 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29324281 2011-02-11 10:16:18
"মেহেরজান" দেখার আগ্রহ বোধ করতেছি
"মেহেরজান" নিয়া আমার আগ্রহের কারণ এই ছবিতে আমাদের পপুলার মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসার বিপরীতে বাঙালীদের যুদ্ধ ও প্রেমের সবক দেয়ার আস্পর্ধা আছে। এতদিন মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়ে প্রেম আমদানী করে নাই, ঘৃণা এবং আবেগরে ব্যবহার করেছে। কিন্তু নতুন এই ব্যবসা-প্রকরণে প্রেম এসেছে- যেমন তেমন প্রেম নহে- সরাসরি পাক আর্মি অফিসারের সাথে বাঙালী মেয়ের প্রেম। দেখা যাচ্ছে, এই ছবি নিয়া দুটি পক্ষই ব্যবসায়ে নেমে পড়েছে। এক পক্ষ হলো আগের সেই ক্লাসিক্যাল মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায়ীরা- যাদের পপুলার ভাব হলো- পাকি অফিসারের সাথে প্রেম করে বাঙালীর জাত, অভিমান, স্বাধীনতা সব গেল। এই "গেল" রবে ছবিটির বিকিকিনি বাড়ছে- সিনেমা হলে দর্শকদের উপচে পড়া দর্শক আর হায় হোসেন হায় হোসেন রব। খারাপ না। তারা ছবিটা নিষিদ্ধেরও দাবী জানাচ্ছে। স্মর্তব্য, মূলত তারা এই ব্যবসার অন্যান্য সব প্রতিদ্ধন্ধীদের উপর পুরোপুরি একটা নিষিদ্ধ পরিস্থিতি ছাড়া নিজেদের ব্যবসা চালাতে সাবলীল হন না।

আর এক পক্ষ হলো সেই তারা- যারা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করে হীনমন্য- বাংলাদেশের রাজনীতিতে নব্য দেশপ্রেমিক হিশেবে জাতে উঠতে চায়। তারা এই ছবির পরিচালকের পারিবারিক পরিচয় দিয়ে আওয়ামীলীগের গোপন পাকিস্তান-প্রেম উদঘাটন এবং তার প্রচারে তৎপর।

দেখা যাচ্ছে, উভয় ব্যবসায়ীদেরই বিজ্ঞাপনের একটা বিশেষ ধরণ হলো 'বর্জনে'র আহ্বান। এমন কি, মজার ব্যাপার হেলা এই ছবিটা নিষিদ্ধের দাবী উভয় ব্যবসায়ীরাই জানাচ্ছে।

এরকম একটা ছবি দেখা অবশ্যকর্তব্য। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29315191 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29315191 2011-01-27 01:20:31
বাঙালী জাতীয়তাবাদ ও ইণ্ডিয়ান ইউনিয়নের নিরাপত্তা ভাবনা: একটি ভূমিকা
আরো কিছু প্রাসঙ্গিক পোষ্ট:

''রবীন্দ্রনাথ'' ও বিএসএফ এর খুনাখুনি

রবীন্দ্রবন্দনা: রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে

আমরা নতুন কোনভাবে বিডিআরের ইতিহাস পড়ব ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29309741 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29309741 2011-01-18 14:36:41
সুপ্রিম কোর্টের প্রেমপত্র চালাচালি ১.
টিআইবির আর সুপ্রিম কোর্টের প্রেমপত্র চালাচালি ফাজলামোর পর্যায়ে চলে এসেছে। দেখলাম, টিআইবিকে চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রেমিকদের প্রথম দেখাদেখি হবে এই চা-চক্রে। হাফিজউদ্দীন, মুজাফফর আহমদ এবং ইফতেখার এখানে আমন্ত্রিত প্রেমিকা-সমগ্র, তবে প্রেমিকদের মধ্যে বিশেষ কে থাকবেন জানা যায় নি। প্রেমিকাগণ কী মহার্ঘ সাজে এমন মধুমহূর্ত যাপন করতে আসেন দেখবার ইচ্ছে। আর প্রেমিক-বর কে হতে পারেন- তাও দেখার অপেক্ষায়। সুপ্রিম কোর্ট এর প্রধান তো মাননীয় প্রধান বিচারপতি, তাই না?

২.
মাহমুদুর রহমানের সৌভাগ্য, তিনি সুপ্রিম কোর্টের চায়ের দাওয়াত পান নাই। ৬ মাস কারাদণ্ড দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট তখন জিঘাংসা নির্মাণে ব্যস্ত ছিল। তবে, সুপ্রিম কোর্টের সৌভাগ্য, টিআইবিরে চায়ের দাওয়াত দিতে পেরেছেন। তাহাদের দুর্নীতি-ব্যবসায় সঠিক ভাগ-বাটোয়ারাসমেত সুপ্রিম কোর্টের অংশগ্রহণ দরকারী। 'সুশাসন' ও 'দুর্নীতি' ব্যবসা সহোদর ভাই-বেরাদর। ন্যায়বিচারের চেয়েও এখন সুপ্রিম কোর্টের কাজ হল, উল্লেখিত 'ব্যবসা' জারি রাখা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29306461 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29306461 2011-01-12 20:52:34
৭২ এর আদি এবং আসল সংবিধান মুবারক সংগ্রহ করতে চাই http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29304645 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29304645 2011-01-09 22:02:31 'হুমকি'র তদন্ত মিডিয়ার কাছে প্রকাশ করেছেন। দেখা যাচ্ছে, সামহোয়ারইনব্লগের একজন ব্লগার খবর প্রকাশের দিনই এই ফোনের মালিকের খবর সংগ্রহ করেছেন বিটিসিএল এর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে । অভিযোগকৃত ৯৫৬২২০৩ নম্বরটির স্বত্তাধিকারীর ঠিকানা যেভাবে দেয়া আছে বিটিসিএল এর ওয়েবসাইটে, তা হল: phone no. 9562203, exchange: 2210, category: government, Name & Address: The Registrar, Suprime Court, Dhaka-1000, মানে, সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় রেজিস্ট্রার এই ফোনের সত্ত্বাধিকারী। এটা গুরুতর ব্যাপার দুটি কারণে। এক. যদি রেজিষ্ট্রার সাহেব নিজেই এই হুমকিতে জড়িত থাকেন, তাইলে খুবই ভয়ঙ্কর ব্যাপার। দুই. যদি এটর্নি জেনারেল নিজ উদ্যোগেই এমন একটি ফোন এর ব্যাবহার করে পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চান- তাহলে অপরাপর সব হুমকিগুলোও প্রশ্নের সম্মুখীন হয়।

আজকের খবরে প্রকাশ: সর্বসম্প্রতি চিঠি দ্বারা 'হুমকির' তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ভাল কথা। এটা বেশ তদন্তসাপেক্ষ ব্যাপার। আদালত ভবন ও কারাগার বেশ স্পর্শকাতরও। কিন্তু এটর্নি জেনারেল এর জীবন তো এর চেয়ে কম স্পর্শকাতর নয়। এটির তদন্ত কি হবে না?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29303040 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29303040 2011-01-06 22:57:36
প্রসঙ্গ উইকিলিকস: মিডিয়া কী সম্মতি আদায় করছে? :: বিডিনিউজে প্রকাশিত ::

..উইকিলিকসকে ষড়যন্ত্রের অংশ হিশেবে চিহ্নিত করা এই আলোচনার উদ্দেশ্য নয়। এই লেখার গন্তব্য হল উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া তথ্যভাণ্ডারের ‘প্রচারের’ ফলাফল এবং এটি যে রাজনীতি তৈরী করছে তা নিয়ে একটি অজনপ্রিয় আলাপ বা তর্ক-বিতর্কের সূচনা করা। আরো নোট করা দরকার, এই আলোচনার বিষয় হিশেবে স্রেফ উইকিলিকসকে সামনে নিয়ে আসার চেয়ে সাথে সাথে উইকিলিকসে ফাঁসকৃত তথ্যভাণ্ডার ‘প্রচারে’ বিশ্বমিডিয়া যে বিশেষ সংবাদগুলোকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে তাকে, তার রাজনীতিসহ সমালোচনায় হাজির করা।..

--------------------------------------------------------------------------

..বিশ্বব্যাপী হৈচৈ ফেলে দেওয়া উইকিলিকস-এর ঘটনাবলিকে একটু ভিন্নতর পাঠ-এর চেষ্টা এই লেখা। এখনতক আমাদের কাছে এই ঘটনাবলির একটি জনপ্রিয় পাঠ হাজির আছে। এই জনপ্রিয় পাঠ-এর উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো, এখানে সংবাদকে প্রশ্নহীনভাবে কোন সমালোচনা ছাড়াই দলিল আকারে গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ যে কোন সংবাদ ‘প্রচার’ এর রাজনৈতিক দিকটা হল, এটি সম্মতি আদায়ের অস্ত্র, নম চমস্কি যেটাকে মেনুফ্যাকচারিং কনসেন্ট বলেছেন। ‘সংবাদ’ ও ‘সংবাদ প্রচারে’র এই রাজনৈতিক দিকটাকে এড়িয়ে কোন সংবাদ বিশ্লেষণ সম্ভব নয়। আমাদের দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো এবং বিশ্লেষকরা এই ভুলটি করে যাচ্ছেন উইকিলিকস-এর বেলায়। ..

--------------------------------------------------------------------------

বাংলাদেশের তরুণ এবং অ-তরুণ শ্রেণী, যারা আমেরিকান ফরেন পলিসির বিষয়ে রোমান্টিক ভাবে ক্ষুব্ধ, তাদের কাছে এদেশের জনপ্রিয় মিডিয়া ও বিশ্লেষকরা উইকিলিকস এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জকে ‘বীর’ হিশেবে উপস্থাপন করতে চান। এবং উইকিলিকসকে আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একটি যুগান্তকারী ‘জেহাদ’ হিসাবে দেখাতে চায়। ‘বীর’ অবশ্যই একটি জনপ্রিয় ধারণা। ‘জেহাদ’-ও এই শ্রেণীর কাছে একটি রোমান্টিক প্রপঞ্চ। এই বীরত্ব বিভিন্ন রূপকে ভূষিত তাদের দ্বারা, যেমন বলিভিয়ান বিপ্...লবী চে-র বর্তমান কর্পোরেট আইকনের সাথে মিলিয়ে কেউ তাকে বলছেন ‘জুলিয়ান চে’, আবার কেউ তাকে অভিহিত করছেন কিংবদন্তীর ‘রবিনহুড’- ইত্যাদি। কেউ কেউ আবার বিপরীতভাবে তুলনা করছেন ‘আল কায়েদা’ নেটওয়ার্কের প্রধান ওসামা বিন লাদেনের সাথে। তাদের মতে, আমেরিকান এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে ‘সশস্ত্র যুদ্ধ’ ঘোষণাকারী লাদেন এর উত্থান ‘সিআইএর চর’ হিশেবে ঘটেছিল এবং বিপরীতে জুলিয়ান আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘খাঁটি বিপ্লবে’র কর্মটি করছেন। বটে। জুলিয়ান তো ইউরোপিয়ান, কাজেই তাঁর এইসব ‘কাগজ-কলমের বিপ্লব’ একজন ‘আরব বর্বর’ এর পাহাড়ে-গুহায় থেকে জীবন-বিপন্নকারী যুদ্ধ থেকে আলাদা এবং সভ্য হবেই–এটা বেশ স্বাভাবিক। এবং জুলিয়ান গ্রেফতার হওয়ার পরে বলা হচ্ছে ‘শহীদ জুলিয়ান’। যদিও তিনি এখন জামিনে মুক্ত, আপাতত।..

বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন।

--------------------------------------------------------------------------

পুরো লেখাটা এখানে দিতে পারলে ভাল হতো। কিন্তু কর্পোরেটের ইচ্ছে, পাঠকরা লেখা ওদের সাইটে গিয়েই পাঠ করুন এবং ওখানেই আলোচনা জমুক। তাই লেখকদের কাছেও অনুরোধ করা আছে, যে, অন্যত্র শেয়ার করা যাবে, কিন্তু পুরোটা না হলেই ভাল। অগত্যা, রিফাত হাসান তাই করতে গেল। বিডিনিউজে লেখালেখি করার সুবাদে কর্পোরেটের এটুকু স্বার্থ রিফাত রক্ষা করল। মানে, রিফাত সামইনে এই পোষ্টটি করে কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষা করছে। তাইতো হয়?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29293816 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29293816 2010-12-21 21:43:06
শুভ বিজয়। শুভেচ্ছা। http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29290684 http://www.somewhereinblog.net/blog/rifathasanblog/29290684 2010-12-16 12:16:05