মুসলমানরা স্পেন শাসণ করে ছিলেন প্রায় সাতশ বছর। এরপর নেমে আসে তাদের ইতিহাসের কালো অধ্যায়। পঞ্চদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, মুসলমানদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে খ্রিস্টানরা অগ্নিকুন্ডে পরিনত হয়। আর তার উত্তাপে পুরে যেতে থাকে মুসলমানদের রাজ্য- প্রতিপত্তি। প্রচন্ড গতিতে হারাতে থাকে তাদের শাসন ক্ষমতা। এই গতিকে আরো তীব্রতর করে রাজা পঞ্চম ফার্ডিন্যান্ড আর পর্তুগিজ রাণী ইসাবেলার বিয়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠা ঐক্য শক্তি। তখনও গ্রানাডায় মুসলিম শাসনের দ্বীপশিখা মিটমিট করে জ্বলছিল। কিন্তু এই সামান্য সংখ্যক মুসলমানদের ধর্মচ্যুত ও অপদস্থ করার নোংরা অপেচষ্টায় আত্মহারা হয়ে ওঠে ফার্ডিন্যানড আর ইসাবেলা বাহিনী। খ্রিষ্টানদের স্কুলে ভর্তী হতে বাধ্য করা, আরবীয় পোশাকের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা, খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করলে নানা রকম সুবিধা দেয়ার মত অত্যাচার আর কুটকৌশলে তারা লিপ্ত ছিল। পথে-ঘাটে যেখানেই মুসলমারদের পেত সেখানেই তাদের অপদস্থ করত।
এরপর ১৪৯২ সালের ১ এপ্রিলে ঘটে সেই হৃদয় বিদারক ঘটনা। গ্রানাডার শাষক ছিলেন তখন আবু হাসান। কিন্তু তারই পুত্র আব্দুল্লাহর বিশ্বাস ঘাতকতায় তিনি ক্ষমতাচ্যুত হলে আব্দুল্লাহ মসনদে আসীন হন। ও নিজের জীবণ বাচাতে খ্রিষ্টানদের সাথে আঁতাত করে। কিন্তু সেনাপতি মুসা তা মানতে পারলেন না। তিনি সন্ধি করার চেয়ে সম্মুখ যুদ্ধে শাহাদাৎ রবন করাকে বেশী শ্রেয় মনে করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন।
ফার্ডিন্যান্ড বাহিনী গ্রানাডা অবরোধ করল। মসলমানরা বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। হঠাৎ একদিন ঘোষণা শুনা গেল যে, যে সব মুসলমান নিরস্ত্র হয়ে মসজিদে আশ্রয় নিবে তারা নিরা পদ, আর যারা খ্রিষ্টানদের জাহাজে আশ্রয় নিবে তাদের অন্য কোন মুসলিম দেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।" এই ঘোষণা শুনে সরলমনা মুসিলমরা কেউ মসজিদে আবার কেউবা খ্রিষ্টানদের জাহাজে আশ্রয়নেন। কিন্তু কুটকৌশলী চালবাজ খ্রিষ্টানেরা সব মসজিদের তালা বন্ধ করে নিরস্ত্র মুমলমানদের আগুনে পুরিয়ে আর জাহাজে আশ্রয় নেয়া মুসলমানদের পানিতে ডুবিযে হত্যা করে। আর এই দিনটিই ছিল পহেলা এপ্রিল। এই দিনটিকে স্বরণীয় করে রাখতেই খ্রিষ্টানরা "এপ্রিল ফুল ডে" পালন করে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

