উচ্ছল সুন্দর ফুটফুটে এক বালিকা। কতই বা আর বয়স, ১০ কি ১১। মাত্র ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে উঠেছে। প্রাণোচ্ছলতায় ভরপুর এই শিশুটি দুষ্টুমি দিয়ে সারা দিন মাতিয়ে রাখত তার বাবা-মা আর আত্মীয়-স্বজনদের, স্বতস্ফুর্ততা আর মেধা দিয়ে জয় করে নিয়ে ছিল তার শিক্ষক-শিক্ষীকাদের, হাসি আনন্দে মাতিয়ে রাখত তার খেলার সাথিদের, আর সন্ধে বেলায় বইয়ের পাতায় স্বপ্ন বুনত রঙ্গীণ ভবিষ্যতের। স্বপ্ন দেখতো বড় হওয়ার, মেধার আলো দিয়ে অবাঞ্চিত, কুশ্রী সব অন্ধকার দুর করার। কিন্তু সেই আলোটি জ্বলে ওঠার আগেই নিভে গেল এক ভয়ানক বর্বরতার কৃষ্ণগহ্বরে। নরক থেকে উঠে আসা কিছু নিকৃষ্ট কীটের দংশণে হারিয়ে গেল আমাদের মাঝ থেকে নারায়ণগঞ্জের ছোট্ট মাছুমা। আজ ১৮ এপ্রিল ২০০৮ নয়া দিগন্তে মাছুমার মৃত্যুর সংবাদটি পড়ে আমি সত্যই মর্মাহত। তার একটি আর্তী যেন আমার কানে সারাক্ষণ বাজছে, "আমি কি দোষ করেছে, এত বড় পৃথিবীতে আমার জন্য একটু জায়গাও কি হল না।"
হিংস্র নুরে আলম আর সোহেলের ক্ষণিকের নোংরা বাসনা পূরণের জন্য বিসর্জন দিতে হল নিরবে নিভৃতে বড় হওয়া বাবা-মায়ের কলিকার টুকরা এক বালিকাকে। নুরে আলম ধরা পরেছে, সোহেলো একদিন ধরা পরবে। হয়তো আদালত তাদের মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন শাস্তী দিবে। কিন্তু সমাজে বসবাস করা আরো অনেক নুরে আলম, সোহেল আছে তাদের কি আদালত শাস্তি দিতে পারবে? আমরা আর কত মাছুমার মৃত মুখ দেখব?? আর কত মা-বাবার কোল খালি হবে??? সমাজের নুরে আলম সোহেলদের বলছি, আপনারা একটি বারের জন্য হলেও মাছুমার স্থলে আপনার ছোট বোন বা মেয়ের কথা কল্পনা করুন। কেউ যদি আপনার ফুট ফুটে ছোট বোন বা মেয়ে ধর্ষণ করে বা ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে তবে তা কি আপনার জন্য সুখকর হবে? এটা যদি আপনার কাছে সুখকর না হয় তবে আপনি যাকে ধর্ষণের পায়তারা করছে সেওতো কারো বোন কারো বা মেয়ে।
সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে আমার আবেদন, আসুন আমরা দৃঢ় হাতে নুরে আলম, সোহেলদের প্রতিহত করে মাছুমাদের জীবন নিশ্চিত করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

