কোনো এক অশুভ লগ্নে নেহাৎ মুখ ফস্কে ঘনিষ্ঠ এক বাল্য-বান্ধবকে বলেছিলাম ব্লগাই। ছদ্ম নামটাও তারে বলেছিলাম কথার তালে বেতালে। স্মৃতি যে তার অতি তুখোর এ কথা মনেও ছিল না। গতকাল তার ফোন পেলাম। ধরতেই অতলান্তসাগরের ওপার থেকে চেচিয়ে উঠল, -গর্দভ, খালি কবিতা আর ছড়া মারস ক্যান, গদ্য কই?
আমি প্রথমেই বুঝি নি তার বাক্যবাণ। বিস্ময় চিত্তে প্রশ্ন বের হয়ে গেল কন্ঠ হতে, -মানে?
-তোমার কচু। ব্লগে তোমার তড়পানোর কথা কহিতেছি আমি, তুই সে লোক পাকা 'শ্যালক' বুদ্ধিমান গাধা সেজে আমাকে ভোদাই বানাতে চাস রক্তহীন ঘেয়ো জন্তু! যতই কই - নারে বুঝি নাই তোর কথা প্রথমে বুঝিই নাই। ততই তার মুখ হতে অবিরাম, ব্লগের কতিপয় সুশীল সন্তানের মত অবিরাম, গালাগালির ঝড় বের হতে থাকে। তবে শালীন শব্দাবলীকে গালিতে রূপান্তরের বিদ্যায় পারঙ্গম দোস্ত আমার, কখনও কথিত ভদ্র সমাজে অচল শব্দের আশ্রয় নেয় না। আমাদের ব্লগীয় অতি কড়া সুশীল পাব্লিকদের সাথে ফারাক এ খানে। তার গালাগালির নমুনা হিসেবে বলা যায়, ‘হারারাম হাদা, বোয়াল মাছের হা, তিতপুটির পুচ্ছ, শেয়ালের গু, সভ্য বাপ-মায়ের অসভ্য সন্তান।’ এ রকম শত শত নিজ আবিষ্কৃত ও স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত গালাগালির ধন-সস্পদে তার জিভের ভান্ডার সদাই উপচে পড়ছে।
আমি বললাম -থাম। থাম। বাবারে থামা তোর মহা ‘শালীন’ গালাগালির অবিরাম ক্ষেপণাস্ত্র প্রেরণ, কিংবা উভচর ট্যাংক বহর, এ হেন ট্যাংক সামলানোর মত কোনো আরপিজি আমার গুদামে নাই। তবে জীবনটা বড্ডই গদ্যায়িত হয় আছে। কি করি বল, তাই ছন্দে বা ছন্দহীন কবিতায় সে গদ্য সামলাবার চেষ্টায় দিগ্ববিদিকজ্ঞান শুন্য। এতেও থামে না তার অবিরাম চিৎকার ধ্বনি। এদিকে গিন্নি বারবার ১২বার জানান দিচ্ছেন, নৈশ আহার্য প্রস্তুত। বস এসে টেবিলে। বড় সন্তান জানান দিয়ে গেল, তার ফোন চাই, হোমটাস্ক বিষয়ক জটিলতা দূর করার জন্য কথা বলতে হবে বিদ্যালয়-বান্ধবের সাথে। ছোটটা বলছে, বাবা, তার মানে ক্লাস ফোরের কাল ক্লাস টেস্ট হবে, আমার বান্ধবীকে ফোন করতে হবে, কারণ আমি সবগুলো প্রশ্ন লিখতে পারি নি। বন্ধু ওপাশ থেকে প্রশ্ন করল, - কিরে তোর ছানা পোনারা কে এবার কোন ক্লাসে।
বললাম।
-লেট নয় লেটেস্ট বিবাহের ফল, তোর ছানারা তো এখনো বেশ ছোট।
-কি আর করা। তবে ছানারা সবাই আমার থেকে ছোট।
‘বলদ’কন্ঠে বাক্যলাপে অতিশয় অভ্যস্থ হওয়ার কারণে তা কেবল ফোনের তার বা বেতারের ঢেউয়ে ঢেউয়ে অতলান্তসাগরের ওপারে পৌঁছে গেল না বরং বরং বায়ু তরঙ্গে ভেসে ভেসে গৃহবাসী সকল আদম সন্তানের কর্ণ-কুহুরে প্রবেশ করল।
তার পরিণাম ফল এই হল যে, বন্ধুটি হাসতে শুরু করল। তার রাগের ধক এবং ধুকপুক আর থাকল না। হাসতে শুরু করল আমার ছানা-পোনা এবং তাদের রাগ-ধর্মী মাতা।
-যা বলেছো বাবা, ছানারা সব আমার থেকে ছোট। বড়টা বলে ছোটটা হাসে। ছোটটা আওড়ায় বড়টা হাসে। মাতা-সন্তান সবাই মিলে আওড়ায় আর হাসে। বন্ধুটাও কথা বাড়াতে পারল না। হাসির রসে তার রাগের সলিল সমাধি ঘটল।
আর আমি আজকের মত বেঁচে গেলাম!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



