পশ্চিমা পপ সঙ্গীতের বাদশাহ মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পর পেরিয়ে গেছে একটি বছর। কিন্তু তার স্মৃতিকে ভুলতে পারছেন না তার অগণিত অনুরাগী। বিশেষ করে মাইকেল জ্যাকসনের ভাই জারমেইন জ্যাকসনের হৃদয়ে তার স্মৃতি অটুট ভাস্বর শুধু নয়, অমর হয়ে রয়েছে। মাইকেলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জারমেইন তুলে ধরেছেন অকস্মাৎ এই অপূরণীয় ক্ষতিতে পরিবারের হৃদয় নিংড়ানো বেদনার কথা, আফসোস করে বলেছেন, ‘ইসলাম হয়তো জ্যাকসনকে বাঁচাতে পারত...’।
জারমেইন জ্যাকসনের সাক্ষাৎকারের অংশ বিশেষ .....
: মাইকেলের চলে যাওয়ার পর কিভাবে দিন কাটছে?
: এ হচ্ছে কঠিন এক সময়। এই অনুভূতি বর্ণনা করার ভাষা নেই। আমরা কোনো দিনই শোক ও বেদনার এই অনুভূতি কাটিয়ে উঠতে পারব না।
: আপনি কি তার অভাববোধ করেন?
: খুব, খুব অভাববোধ করি। কারণ সারা জীবন ধরে আমরা একে অপরের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। কিছুটা সান্তবনা পাই তার গান গেয়ে, তার হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করে, তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও তার স্মৃতিচারণ করে। আমাদের অনুভূতি ব্যাখ্যা করে বোঝানো সম্ভব নয়।
: মাইকেলের ঐতিহ্য ও অবদানকে রক্ষা করার জন্য ভূমিকা পালনকে কি জরুরি মনে করেন?
: এটি শুধু আমার দায়িত্ব নয়। এই দায়িত্ব আমার, এই দায়িত্ব পুরো পরিবারের। জ্যাকি, রেবি, টিটো, ম্যারলন, র্যান্ডি, জেনেট, লা টোয়া সবার। আমাদের সঙ্গীত, খ্যাতি ও সাফল্যের আগে হচ্ছে আমরা এক পরিবার। এর গুরুত্ব প্রথমে।
: আপনি বলেছেন, ইসলাম হয়তো মাইকেলকে বাঁচাতে পারত...।
: আমি মনে করি, মাইকেল যদি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করত, তাহলে আজ হয়তো সে আমাদের মধ্যে থাকত। আমি এ কথা বলছি, একটি নয়, বেশ কিছু কারণে। কারণ আপনি যদি নিজের মন-মস্তিষ্কে ১০০ শতাংশ স্পষ্ট থাকেন যে আপনি কে, আপনি কী, আপনি ও আপনার চার পাশে যারা আছে তারা কেমন তাহলে পরিবেশ এমনভাবে পরিবর্তিত হয় যা আপনার জন্য বেহতর বা বেশি ভালো। এতে আপনি অনেক বেশি শক্তি, ভরসা ও শান্তি পাবেন। আল্লাহ সব কিছুর ওপরে, তিনি সর্বশক্তিমান। মাইকেল খুব বই পড়ত। আমি তাকে সৌদি আরব ও বাহরাইন থেকে বেশ কিছু বইপত্র এনে দিয়েছিলাম। আমিই তাকে বাহরাইনে যাওয়ার ব্যবস্খা করে দিয়েছিলাম, কারণ আমি চাইছিলাম সে আমেরিকা থেকে বেরিয়ে আসুক। আমেরিকা আমার ভাইকে শুধু শস্য তোলার ক্ষেত্র বলে গণ্য করত।
: কিন্তু মাইকেল জ্যাকসন তো ইসলাম গ্রহণ করতে ইচ্ছুক ছিলেন না, তাই না?
: এটি সত্য নয় যে সে ইসলাম কবুল করতে রাজি ছিল না। তার সিকিউরিটিদের (নিরাপত্তা ব্যবস্খাপক ও দেহরক্ষী) প্রত্যেকেই ছিল মুসলিম। কারণ সে ইসলামের ওপর আস্খাশীল ছিল। কারণ এই ব্যক্তিরা তার জন্য জীবন বিসর্জন দিতেও প্রস্তুত ছিল। এরা চেষ্টা করছিল কিভাবে শ্রেষ্ঠতর মানুষ হওয়া যায়। মানে যতটা সম্ভব। এই প্রচেষ্টা মাইকেলের জন্য নয়, আল্লাহর জন্য। যদি এ ধরনের মানুষদের পাশে থাকা যায়, তাহলে আপনি অনুভব করতে পারেন, আপনি সুরক্ষিত, কারণ এ হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত সুরক্ষা।
পুরা সাক্ষাৎকারটা শুনুন - http://www.bbc.co.uk/programmes/p0086vyq
রিপন
পেনসেলভেনিয়া

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



