"I may disagree of what you say, but I will defend to the death - your right to say it." – Voltaire
মঙ্গলধ্বনি একটি অনলাইন মিডিয়া। তার ব্যানারে লেখা প্রাণ-প্রকৃতি-প্রতিবেশের পক্ষে! সেই মিডিয়াটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্ধ করে দিয়েছে রাষ্ট্র। ‘অপরাধ’ বলা হয়নি, কোনো কিছু জানানো হয়নি, স্রেফ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নিরঙ্কুশ রাষ্ট্র বন্ধ করে দিয়েছে মঙ্গলের বার্তা। আমাদের সামনে আরেকবার দৃশ্যমান করেছে এই বাস্তব যে, অমঙ্গল করাটাই রাষ্ট্রের প্রধানতম কাজ।
আমরা খেয়াল করে দেখেছি কিনা, এই আওয়ামী নেতৃত্বাধীন সরকার আসবার পরে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি সংসদীয় গণতন্ত্রের মোড়কে এক চরম কেন্দ্রিভূত অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা জারি করেছে। ২০০৭এর জরুরি ক্ষমতার সেনা-কর্পোরেট কর্তৃত্বের কালে নিও লিবারাল গণতন্ত্রের গাড়ি চলতে শুরু করেছিলো জোরেশোরেই। গাড়ি যেন ১০০ কিলোমিটার বেগে ছুটছে এখন! আর ওই অগণতান্ত্রিক সরকারের ভূত এই সরকারকেও পেয়েছে। রাষ্ট্রে এক ব্যান কালচার নেমে এসেছে। টিভি চ্যালেন কিংবা সংবাদপত্র নয় শুধু, রাষ্ট্রের অদৃশ্য তীক্ষè নখের আঁচড় পড়েছ এমনকী সাইবার স্পেসেও। আমরা মনে রেখেছি, ফেসবুকের মতো একটা জনপ্রিয় স্যোশাল নেটওয়ার্কিং মিডিয়াকেও কয়েক দিন যাবৎ বন্ধ রাখবার সাহস করেছিলো এই সরকার। তারমানে কিন্তু রাষ্ট্র আরও বেশি করে আধিপত্যবাদী হয়েছে। নিও লিবারাল ধাঁচের আইনের শাসনের/পার্লামেন্টারি ডেমোক্র্যাসির নামে হত্যা-খুন-দমন-পীড়ন-দখল-শোষণ-প্রভু রাষ্ট্র তোষণ সব চলছে তো চলছেই দেধারসে, ওদিকে আবার কথা বলবার সর্বশেষ পরিসর টুক্ওু যেন কেড়ে নিতে চাইছে এই সরকার, এই রাষ্ট্র। আমি ভীষণ ভীত হয়ে উঠছি। ভীত হয়ে উঠছি কখন না এই রাষ্ট্র একেবারে আমার ঘরের মধ্যে ঢুকে আমার কথা বলা নিয়ন্ত্রণ করে, আমাকে ব্যান করে দেয়।
মঙ্গলধ্বনির সর্বশেষ কনটেন্টে ফুলবাড়ি কয়লাখনি নিয়ে একটি লেখা, সিরাজ সিকদারকে গ্লোরিফাই করে একটি লেখা আর ২৫মার্চ শেখ মুজিবের ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ ভূমিকা নিয়ে একটি লেখা আপলোড করেছিলো মঙ্গলধ্বনির কর্মীরা। মঙ্গলধ্বনি তার জন্মলগ্নেই যেকোনো মত, ভিন্ন মত প্রকাশ করবার ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এই লেখাগুলোই হয়তো সরকারের গাত্রদাহের কারণ, আমার প্রাথমিক এবং একমাত্র অনুমান! এছাড়া বন্ধ করে দেবার আর কোনো কারণ আমি দেখি না।
সিরাজ সিকদারের রাজনীতির অনুগামী আমি নই, আমি কোনোভাবেই তাঁকে ওন করি না। আমি একমাত্র সমগ্র মানুষের প্রত্যক্ষ সম্মতি ছাড়া কোনো যে কোনো ধরনের সহিংসতার (এমনকী তা যদি মহৎ উদ্দেশ্যের নামেও হয়) তীব্র বিরোধী। এই জায়গা থেকে সহিংসতার বিরুদ্ধে আমার প্রত্যক্ষ অবস্থান। আমি শেখ মুজিবের অনন্য ঐতিহাসিক অবদানকে অস্বীকার করতে পারি না, আমার পূর্বপুরুষ-পূর্বনারীর জনযুদ্ধের ইতিহাস থেকে কোনোভাবেই তাঁকে ফেলে দিতে চাই না। ওই যে লেখাটি আপলোড করা হয়েছিলো, সেটা খুব জরুরি কোনো ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ মনে হয়নি আমার কাছে! তো কি হয়েছে? আমার বলার থাকলে আমি বলবো! ওদের কথার বিপরীতে।
কিন্তু রাষ্ট্র এমন করে বোঝে না। যারা বলেছে তাদের বলার অধিকার কেড়ে নেয়। যদিও মত প্রকাশের সবআধীনতা গণতন্ত্রের পূর্ব শর্ত, তাদের কাথা মতোনই। আবার আরেক দিক দিয়ে দেখি। রাষ্ট্রই যে ঠিক সেটা কোন যুক্তিতে নির্ধারিত? রাষ্ট্র যদি নিজেকে গণতান্ত্রিক বলে দাবি করে, তাহলে তাকে অবশ্যই গণগণের অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হতে হবে। এই রাষ্ট্র মঙ্গলধ্বনি বন্ধ করবার সিদ্ধান্তটি কি গণতান্ত্রিকভাবে নিয়েছিলো? তারা কি জনগণকে জিজ্ঞেস করেছিলো, এটা বন্ধ করা উচিত কিনা? করেনি। এই রাষ্ট্র তাই কোনো অর্থেই গণতান্ত্রিক নয়। এই রাষ্ট্র কর্র্তৃত্বতান্ত্রিক। যা চলছে তার নাম গণতন্ত্র নয়, পার্লামেন্টারি কর্তৃত্বতন্ত্র।
রাষ্ট্র যখন ছোট্ট একটি ভিন্নমতের ওয়েব মিডিয়া বন্ধ করে দেয়, তখন বোঝা যায়, রা্েষ্ট্রৃর কর্তৃত্বের ভয়ঙ্কর চোখ কতোদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে যে এমন ছোট একটি বিরোধীতার পরিসরকেও তারা সহ্য করতে পারছে না। এই সরকার ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে! এই পার্লামেন্টারি ডেমোক্র্যাটিক সরকার। পার্লামেন্টে গণতন্ত্র থাকে না, গণতন্ত্র থাকে জনগণের সক্রিয় সিদ্ধান্তের মধ্যে। পার্লামেন্ট মঙ্গলধ্বনির ছোট্ট বিরোধীতাকে রক্ষা করতে পারে না। পার্লামেন্টারি ডেমোক্র্যাসি আসলে এক ফ্যালাসি। কিন্তু পুথিবীর একটা ভিন্নমতও যতোদিন চাপা পড়ে আছে ততোদিন পৃথিবীতে যথার্থ গণতন্ত্র আসতে পারে না। গণতন্ত্র মানে জনগণের ডিরেক্ট সিদ্ধান্ত। ডিরেক্ট ডেমোক্র্যাসি।
মঙ্গলধ্বনির শুরুতে আমারও কিছু অংশীদারত্ব ছিলো ওটায়, আমিও লিখতাম ওখানে মাঝে মাঝে, আমার বলার অধিকার কেড়ে নিলো এই রাষ্ট্র। আমি ভীষণ ভীত হয়ে উঠেছি। আমার নিরবতা-স্থিরতা সরকারকে আরও নিরঙ্কুশ হতে দেবে আমার বিরুদ্ধে, আমি তাই বিরোধীতার জমিন প্রসারিত করতে শুরু করলাম। আমি আমার বলার অধিকারের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে থাকা রাষ্ট্রকে মানি না। রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দেবার হুমকি দিলেও মানি না। মুক্ত মিডিয়ার স্বপ্ন দেখি সেই কবে থেকে। কর্পোরেট পুঁজির বিশাল বিশাল মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি নয়, মন্যুষপ্রজাতির অগ্রগতির অনন্য স্মারক সাইবার স্পেসে আমরা একটি জায়গা বরাদ্দ নিয়েছিলাম। খুবই কম টাকায় বলেই পেরেছিলাম! সেই জায়গাটুকুতে মঙ্গলধ্বনিকে মুক্ত মিডিয়া বানিয়ে তুলবার সচেতন ইচ্চা ছিলো আমার দিক থেকেও। রাষ্ট্র তা হতে দিলো না। একেবারে অন্যায়ভাবে, ফ্যাসিস্ট কায়দায়। ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধের অভাবে ক্রমশ আরও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পার।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


