মাত্র অনার্স পরীক্ষা শেষ করেছে সুমন। এখন চাকরির বাজারে পদার্পনের পালা, তৈরী করতে হবে সিভি বা কারিকুলাম ভিটা, চটজলদি কম্পিউটারের সামনে বসে যায় সে। কিন' বুঝতে পারল সিভি লেখা যতটা সহজ মনে করেছিল বাস্তবে ততটা সহজ নয়। সুমনের মত অনেকেই সিভি তৈরী, তার কাঠামো নির্ধারণ, শব্দ চয়ন ও নির্ভুলতা নিয়ে চিন্তিত, তাই চলুন কথা না বাড়িয়ে কিভাবে একটি সুন্দর ও স্পার্ট সিভি তৈরী করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করি।
‘আগে দর্শন ধারী তারপর গুণবিচারী’ কথাটি সিভির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সিভি ইংরেজিতে তৈরী করা ভাল তবে প্রতিষ্ঠানের নীতি অনুসারে তা বাংলায়ও হতে পারে। ইংরেজিতে সিভি তৈরী করলে লেখার ধরণ টাইমস্ নিউ রোমান-এ রাখবেন, ফন্ট সাইজ হবে ১২ এবং লাইন স্পেস দেবেন ১.৫. সিভির প্রধান শাখাগুলো অবশ্যই চোখে পড়ার মত বোল্ড করে দিবেন।
শুরুটা হবে যেভাবে সিভির প্রথমেই থাকবে সাম্প্রতিক তোলা ছবি এবং পত্র যোগাযোগের ঠিকানা, সিভির ভাষা হবে সহজবোধ্য ও সংক্ষিপ্ত, সিভি দুই পৃষ্টার বেশি না বাড়ানো উচিত। অনেকেই ২ পৃষ্টার বেশি সিভি পড়তে আগ্রহ বোধ করেন না। তবে অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা ভেদে তার ব্যতিক্রম ঘটতে পারে।
ক্যারিয়ার প্রোফাইল: প্রথমেই পূর্বের চাকরিগুলো সম্পর্কে অল্প কিছু তথ্য তুলে ধরা প্রয়োজন। চাকুরির মেয়াদ কাল সহ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুরস্কার পেয়ে থাকলে তাও উল্লেখ করবেন, ক্যারিয়ার প্রোফাইল তৈরী করতে হবে ধাপে ধাপে প্রত্যেকটি চাকরিই হবে একেকটি ধাপ। শেষ চাকুরির কথা দেবেন সর্ব প্রথমে এবং সর্বশেষে দিবেন প্রথম চাকুরির কথা, যেমন আপনি ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ ডিসেম্বর সুইডিস ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রির ডেপুটি প্রোডাকশন ম্যানেজার ছিলেন, ২০০৭ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর সুজন স্টিল মিলস্ এর প্রোডাকশন সাইটের জেনারেল এসিসট্যান্ট ছিলেন- এভাবে ধাপে ধাপে আপনার ক্যারিয়ার প্রোফাইল তৈরি করতে হবে, তবে চাকরি জীবনে কোন গ্যাপ থাকলে সেটা বর্জন করাই ভাল, যে বিষয়ে কড়া নজর রাখতে হবে তা হল পুণরাবৃত্তি; যাতে কোন কথা বারবার বলা না হয়। সিভির ভাষা হতে হবে সহজ কিন' নির্ভুল ভুলে ভরা সিভি প্রথমেই বাদ পড়ে যেতে পারে তাই নির্ভুল সিভি তৈরী করুণ।
কোন ভাষা শিক্ষা,কম্পিউটার কোর্স ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করলে তাও তুলে ধরা প্রয়োজন কারণ তা অভিজ্ঞতা ও বহুবিধ জ্ঞানের প্রতিনিধিত্ব করে। ধরুন,আপনি বিজেএমইএ কর্তৃক আয়োজিত ‘স্পেশাল ট্রেনিং অন ইন্ডাস্ট্রি ম্যানেজম্যান্ট’ এর প্রশিক্ষণ প্রকল্পে অংশগ্রহণ করে থাকেন তা লিখতে পারেন, সেই টেনিং-এ আপনার ফলাফলও তুলে ধরতে পারেন।
ব্যক্তিগত প্রোফাইল নাম, পিতা মাতার নাম, বয়স, বৈবাহিক অবস'া, বিবাহিত হলে সন্তানদের বয়স, জাতীয়তা, স্বাস'্যাবস'া, উচ্চতা, ওজন ইত্যাদি সুস্পষ্ট করে লিখতে হবে। আপনার কোন বিষয়ে আগ্রহ থাকলে তা লিখতে হবে। যেমন বই পড়া, ভ্রমণ কড়া, টেনিস খেলা ইত্যাদি। প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিজের ভবিষ্যত আগ্রহের কথা তুলে ধরুন।
সিভিতে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার পরে শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে লিখুন। সুন্দর করে কলাম করে পাশের সন, প্রাপ্ত গ্রেড, বোর্ড, বিভাগের নাম লিখতে কার্পণ্য করবেন না। শিক্ষাগত যোগ্যতার ধাপ উল্টো থেকে লেখা ভাল। যেমন আপনি যদি মাস্টার্স পাস হয়ে থাকেন তাহলে প্রথমে মাস্টার্সের রেজাল্ট, তারপর অনার্স, এইচএসসি, এসএসসি পর্যায়ক্রমে দিলে মন্দ হয় না। কোন বৃত্তি বা পুরস্কারে ভূষিত হলে তা লিখতে, ভুলে গেলে চলবে না। কারণ তা আপনার ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা বাড়াবে। শিক্ষাজীবনে কোন ব্যতিক্রম ধর্মী কাজের সাথে যুক্ত থাকলে তা লিখতে পারেন। যেমন আপনি যদি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ব্লাড ডোনার বা রোটারেক্ট ক্লাব গুলোর কোন একটির পদাধিকারী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই তা উল্লেখ করার মত, কারণ তার মাধ্যমে আপনার টিম ওয়ার্ক করার প্রবণতা ও সমাজসেবার ইচ্ছার প্রতিফলন হবে।
রেফারেন্স সিভিতে রেফারেন্স দিতে হয়। এমন দু’জন ব্যক্তির রেফারেন্স দিবেন যারা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও আপনার সুপরিচিত। তাদের পূর্ণ ঠিকানা দিবেন এবং আপনি যে সিভিতে ঐ দুজন ব্যক্তির রেফারেন্স দিয়েছেন তা ব্যক্তিদ্বয়কে জানিয়ে দিন যাতে অবাঞ্ছিত সমস্যা এড়ানো যায়।
প্রত্যয়ন সিভি লেখার শেষে প্রত্যায়িত করতে ভুলবেন না। এই প্রত্যায়িত হবে স্ব-প্রত্যায়িত অর্থাৎ উপরোক্ত সব তথ্য সঠিক ঘোষণা করে প্রত্যয়ন করবেন এতে আপনার সত্যবাদি চেতনা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের আগ্রহের প্রকাশ পাবে।
কভার লেটার: অনেক প্রতিষ্ঠানেই এখন কভারলেটার পাঠানোর রেওয়াজ নেই। প্রতিষ্ঠান যদি চায় তবে কভার লেটার পাঠানো ভাল। সিভি ও কভার লেটারের সাথে কি কি সংযুক্ত করেছেন তা অবশ্যই কভার লেটারের সংযুক্তি কলামে থাকতে হবে। যাতে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এক নজরে দেখে নিতে পারে আপনার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল। সিভির একেবারে শেষ পর্যায়ে স্বাক্ষর ও তারিখ দেওয়া প্রয়োজন।
সিভি ফরম্যাট: সব আবেদনের বেলায় একই সিভি পাঠানোর বদ অভ্যাস পরিহার করুন। সময় ও প্রতিষ্ঠান ভেদে সিভির কাঠামো ও বাক্য পরিবর্তন করে নিন। সিভি লেখার আগে কিছু উন্নতমানের সিভি ফরম্যাট সংগ্রহ করবার চেষ্টা করুন। ইন্টারনেট-এ বেশ কিছু সিভি ফরম্যাট পাওয়া যায় যা উন্নত ও গ্রহণযোগ্য স্মার্ট সিভি তৈরীতে আপনাকে সাহায্য করবে।
সর্বোপরি দেখতে হবে যেন সিভি আপনার কথা বলে। কারণ সিভি হল আপনার অগ্রদূত। নিয়োগকর্তা সিভি দেখেই আপনাকে আমন্ত্রণ জানাবেন। তাই সিভিও তেমনটি হওয়া প্রয়োজন। ব্যক্তিক্রম ধর্মী কাঠামো, শুদ্ধ বানান, শব্দ চয়ন সব কিছুতেই যেন আপনার প্রতিভা, মেধা, ব্যক্তিত্ব, রুচি ও মননের প্রতিনিধিত্ব করে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



