বায়োগ্যাসকে জ্বালানিরূপে ব্যবহার করে জেট প্লেন উড়াতে সক্ষম হয়েছে আমেরিকার একটি এয়ারলাইন প্রতিষ্ঠান। ৯০ মিনিটের এই পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন আশাতীতভাবে কোন রকম বিঘ্ন ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। এই জেট প্লেনের একটি ইঞ্জিনে ৫০ ভাগ বায়োগ্যাস ও বাকি ৫০ ভাগ সাধারণ এয়ারক্রাফট জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে। ‘প্লেনটি নিখুঁতভাবে কাজ করেছে’ বলেছেন এই জেটের টেস্ট পাইলট রিচ জান কৌস্কি। জেটটিতে ব্যবহূত বায়োগ্যাস মূলত দুটি বিকল্প তেল অ্যালগে ও জাট্রোপার মিশ্রণে তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখন পুরোপুরি বায়োগ্যাসে উড়তে সক্ষম এমন প্লেন তৈরিতে পাঁচ বছর সময় যথেষ্ট বলেই ভাবছেন।
মশা নিধনে কাজু বাদামের খোসা!
মশার বংশ ধ্বংস করতে ছেটানো কীটনাশক ডিডিটি অনায়াসে হজম করে ফেলেছিল মশককুল। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়া প্রতিরোধে বিকল্প রাসায়নিকের সন্ধানে ছিল কলকাতার স্বাস'্য দফতর। শেষ পর্যন- কাজুবাদামের খোসার তেল আশার আলো জ্বালিয়েছে। কাজু বাদামের খোসার তেলে মশার লার্ভারা যথেষ্ট দ্রুত মরে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের এন্টেমোলজি বিভাগের গবেষকরা। সব থেকে বড় কথা, লার্ভা মরলেও এতে গাপ্পি মাছ মরছে না, ফসল বা পানি দূষিত হচ্ছে না। মশা মারার অন্যান্য তেলের তুলনায় এই তেল দামেও সস-া। গবেষকদের তাই সুপারিশ, মশার লাভা মারতে ফেনথিয়ন বা ম্যালাথিয়ন জাতীয় মশা মারার তেলের জায়গায় স্বাস'্য দফতর ও পৌরসভা পরীক্ষামূলকভাবে কাজুবাদামের খোসার তেল ব্যবহার করুক। ওই গবেষকদের দাবি, এই তেলের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বিষক্রিয়াও নেই। তবে এই তেল পর্যাপ্ত পরিমাণে কীভাবে তৈরি করা যায়, ট্রপিক্যালের গবেষকরা এখন সেই পথ খুঁজছেন।
একটি বেসরকারি সংস্থা ২০০৬ সালে এই তেলের ফর্মুলাটি তৈরি করে স্বাস্থ্য দফতরের কাছে পেটেন্টের জন্য আবেদন করেছিল। কাজুবাদামের খোসার তেলে কিছুটা ভেজিটেবল সোপ ও অ্যালকোহল মিশিয়ে এটি তৈরি হয়েছে। চলতি কীটনাশক ফেনথিয়নের প্রতি লিটারের দাম যেখানে ১৫০০ টাকা, সেখানে কাজুর খোসা থেকে তৈরি তেল প্রতি লিটারের দাম পড়ছে মাত্র ৪০০ টাকা। স্বাস'্য দফতর ওই কীটনাশকটি পরীক্ষা করে দেখার ভার দেয় ট্রপিক্যালের এন্টেমোলজি বিভাগকে।
ট্রপিক্যালের গবেষকরা জানিয়েছেন, তাদের নিজস্ব পরীক্ষাগারের পাশাপাশি হাওড়ার দাসনগর, বালি, এবং বেলঘরিয়ায় একাধিক অঞ্চলের ড্রেনে মশার লার্ভা ও পিউপা মারতে এই তেল ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফল সন্তোষজনক। এন্টেমোলজির বিভাগীয় প্রধান হিরন্ময় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এক লিটার পানিতে ১০০ মিলিগ্রামে কাজু খোসার তেল মিশিয়ে গবেষণাগারের লার্ভাদের ওপর প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে, ৩ ঘণ্টায় ১০০ শতাংশ লার্ভা মরে যাচ্ছে। একই পরিমাণ পানিতে ৪০ মিলিগ্রাম তেল মেশালে সময় লাগছে ২৪ ঘণ্টা। ওই জলে ১০ মিলিগ্রাম তেল দিলে সব লার্ভা মরে যাচ্ছে ৪৮ ঘণ্টায়। এমনকি সবচেয়ে কম, মাত্র ০.৪ মিলিগ্রাম তেল স্প্রে করেও ২৪ ঘণ্টায় ৫০ শতাংশ ও ৪৮ ঘণ্টায় সব লার্ভা মরে যাচ্ছে।
ট্রপিক্যালের গবেষকরা জানিযেছেন, দাসনগর, বেলঘরিয়া ও বালিতে এক লিটার জলে ৪৫ মিলিগ্রাম তেল মিশিয়ে নর্দমায় স্প্রে করে দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় সব লার্ভা ও পিউপা মরে গেছে। ৭ দিন বাদে ওই জায়গায় মাত্র ৩টি লার্ভা ও ১টি পিউপা জন্মেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, মশা মারতে কামান দাগার বদলে কাজুর খোসার তেল দিয়ে দেখাই যাক না।
মোবাইল ফোন অপারেটিং সিস্টেমে সফটওয়্যারগত উন্নয়ন
বর্তমানের সেলুলার ফোন, পিডিএ এবং মোবাইল ই-মেইল ডিভাইসগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। এখন এই যন্ত্রাংশগুলো এত ভাল সেবা দিচ্ছে যা কিছুদিন আগেও অচিন-নীয় ছিল। এর জন্য হার্ডওয়্যারের উন্নয়নকেও বাহবা দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারগত উন্নয়ন ছাড়া এটা কখনোই সম্ভব হত না। এক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের অবদান অপরিসীম।
আর এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নাই যে মোবাইল ওএস মার্কেটে মাইক্রোসফট একটি শক্তিশালী অবস'ানে রয়েছে। তারা তাদের মুন্সিয়ানা দেখাচ্ছে স্মার্টফোন এবং পিডিএ-এর অপারেটিং সিস্টেম তৈরিতে। তারা ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উইন্ডোজ মোবাইল ৫.০ বাজারে ছাড়ে যা দারুণ সাফল্য দেখায়। এতে স্মার্টফোনের বাজারে মাইক্রোসফটের একটি বড় অবস্থান গড়ে ওঠে। এমনকি মোবাইল ফোনের পুরনো অপারেটিং সিস্টেম নির্মাতা প্লাম ইনকর্পোরেশনও উইন্ডোজ ভিত্তিক স্মার্টফোন তৈরি করে। এমনই একটি সেট হল প্লাম ট্রিও ৭০০ ডব্লিউ যা ২০০৬ সালের শুরুর দিকে বাজারে আসে। যদিও প্রথমদিকে এটি নিয়ে তাদের বেশকিছু সমালোচনা সহ্য করতে হয়। কিন্তু এই ট্রিওই এন্টারপ্রাইজ মোবিলিটি সেক্টরে শক্ত অবস'ান গড়ে নেয়। মাইক্রোসফট নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করে যখন বিখ্যাত সিডিএমএ চিপ নির্মাতা কোয়ালকম উইন্ডোজ মোবাইল ফ্রাঞ্চাইজ কেনে এবং নিজেদের যন্ত্রাংশে ইন্সটল করার সিদ্ধান- নেয়। আর থ্রিজি প্রযুক্তি মাইক্রোসফটকে আরো স্বাধীনতা দিয়েছে স্মার্টফোনের জন্য সহজ ও হালকা উপাদান তৈরি করার।
তবে এটাও মনে রাখতে হবে উইন্ডোজ মোবাইল ফোনের জন্য একমাত্র অপারেটিং সিস্টেম নয়। সিমবিয়ান অপারেটিং সিস্টেম সাফল্যের সাথে স্মার্টফোনগুলোতে জায়গা করে নেয় এবং বাজারে বেশ জোরে নাড়া দেয়। তারা খুবই উচ্চমানের পণ্য তৈরি করে প্রতিযোগিতামূলক দামে। সেই সাথে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার প্লাটফর্ম লিনাক্সও কিছু ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমে সাফল্য দেখিয়েছে। বিভিন্ন অয়্যারলেস প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ উদ্যোগে লিনাক্স একটি মানদণ্ড হিসেবে বিভিন্ন যন্ত্রাংশে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে সেলুলার হ্যান্ডসেটগুলো অনেক উন্নত হয়েছে এবং দিন দিন এই যন্ত্রগুলো উচ্চমানের মাল্টি ফাংশন ডিভাইসে রূপান-রিত হবে। যা এখন অনেক কম্পিউটিং ক্ষমতার অধিকারী। আশা করা হচ্ছে সামনের দিনগুলোতে একটি মোবাইল ফোন হবে সকল ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগ এবং আনন্দ লাভের মাধ্যম আর সেক্ষেত্রে অপারেটিং সিস্টেম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর ধীরে ধীরে মাইক্রোসফট এগিয়ে যাচ্ছে মোবাইল ফোন অপারেটিং সিস্টেমের উন্নয়নে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



