বৈমানিকের পেশাটা কতটা সম্মানজনক ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন পেশা নতুন করে ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। আকাশের দিকে তাকালে অনেক সময় দেখা যায় উড়ে যাচ্ছি বিমান শৈশবে এই বিমান দেখে স্বপ্ন দেখতেন বড় হয়ে পাইলট হবেন। শৈশবের সেই স্বপ্নকে এখন বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছেন এমন মানুষের সংখ্যা বেশি নয়। অথচ বর্তমান বিশ্বে এবং আমাদের দেশেও বিমান পরিবহন সংস্থায় দক্ষ জনবলের খুবই প্রয়োজন। বর্তমানে সরকারি বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের পাশাপাশি বেসরকারী অনেক বিমান সংস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি দিন দিন বিমানের সংখ্যাও বাড়ছে। সেই সাথে দেশে দক্ষ জনবলের প্রকট অভাব দেখা দিচ্ছে। যে কারণে বিমান সংস'াগুলো বাধ্য হয়ে নিয়োগ দিচ্ছে বেশি পারিশ্রমিকে বিদেশি বৈমানিক বিমানবালা ও প্রকৌশলীদের অথচ কিছু শারীরিক যোগ্যতা আর বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হলে আপনি বৈমানিক হওয়ার ইচ্ছাটা পূরণ করতে পারবেন।
কোথায় প্রশিক্ষণ নেবেন : ঢাকাতে রয়েছে বৈমানিক হওয়ার বা প্রশিক্ষণের সুযোগ। বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি অ্যান্ড জেনারেল এভিয়েশন লিমিটেড এই প্রশিক্ষণ দেয়। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্তির পর ১৯৪৮ সালে ঢাকায় এই একাডেমি স'াপিত হয়। এছাড়াও ‘এয়ার পারাবত’ নামের একটি বেসরকারী সংস্থাও বৈমানিক হওয়ার প্রশিক্ষণ দেয়। বৈমানিক প্রশিক্ষণ কোর্সকে মোট তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে।
(১) প্রাইভেট পাইলট কোর্স।
(২) কমার্শিয়াল পাইলট কোর্স।
(৩) ইন্সট্রুমেন্ট পাইলট কোর্স।
যোগ্যতা : বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ হতে হবে। পদার্থ ও গণিতে কমপক্ষে ৪৫ নম্বর বা উ গ্রেড থাকতে হবে। এটি প্রার্থীর ন্যূনতম যোগ্যতা। এছাড়া অনার্স, ডিগ্রী (পাস) বা মাস্টার্সে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরাও এই কোর্সে অংশ নিতে পারবে।
ভর্তি পদ্ধতি : কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য আগ্রহীদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। ভর্তি পরীক্ষা হয় দুটি ভাগে মৌলিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা। মৌখিক পরীক্ষা তুলনামূলক সহজ। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ২৭ বছর। কোর্সের মেয়াদ ২ বছর কোর্সে ভর্তি হওয়ার নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। যে কোন সময়ে বৈমানিকের কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়।
কর্মক্ষেত্র : কোর্স সমাপ্তকারীদের মধ্যে শতকরা ৯৫ জনেরই চাকরির সম্ভাবনা থাকে। এরা আবার অধিকাংশ নিয়োগ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে। এছাড়া বাংলাদেশ বিমানের পাশাপাশি বেসরকারী বিমান সংস'াগুলোতেও যথেষ্ট নিয়োগের সুযোগ থাকে। দক্ষতা আর অভিজ্ঞতা অর্জন করে বিদেশি এয়ারলাইন্সেও চাকরির সুযোগ পেতে পারেন যে কোন বৈমানিক। মনে রাখবেন, সরকারি বা বেসরকারী বিমান সংস'ার শুধু বৈমানিক, বিমান বালা বা বিমান প্রকৌশলী হলেই একটি সংস'ার পূর্ণতা পায় না। এর সঙ্গে প্রয়োজন মার্কেটিং, কাস্টমার কেয়ার, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রভৃতি বিভাগে দক্ষ লোকবল, বিমান সংস'ায় অনেক খাতেই কাজের ক্ষেত্র আছে। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের এ বৈমানিক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে। চ্যালেঞ্জিং এ ক্যারিয়ার গড়ে যে কোন মেয়ে হতে পারে ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। এজন্য থাকতে হবে উদ্যোমী আর থাকতে হবে সাহস ও সদিচ্ছা।
ভর্তির যোগাযোগ : বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি এন্ড জেনারেল এভিয়েশন লিমিটেড জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ঢাকা, ফোন-৮৯১৩৭০৯ (২) এয়ার পারাবত, পুরনো বিমান বন্দর, রোকেয়া সরনী, ঢাকা। ফোন : ৯১২৬৪২৭।
শেষ কথা : আগেই বলেছি সৎ, সাহসী এবং চ্যালেঞ্জিং পেশা হলো বৈমানিক হওয়া, তাই আর দেরি না করে অনুমোদিত কোনো ফ্লাইং ক্লাবে ভর্তি হয়ে নির্দিষ্ট কোর্স সম্পন্ন করে আকাশে উড়ে বেড়াতে পারলেই আপনি হয়ে উঠবেন একজন আন্তর্জাতিক মানসম্মত বৈমানিক।
আপনি বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) অথবা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মাধ্যমে বৈমানিক হতে পারেন। বাণিজ্যিক বৈমানিক একটি আকর্ষণীয় ও সম্মানজনক পেশা। সিএএবি কর্তৃক স্বীকৃত ফ্লাইং একাডেমি রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। সিভিল বাণিজ্যিক বৈমানিক হওয়ার জন্য একাধিক ধাপ রয়েছে।
যেমন: ১. স্টুডেন্ট পাইলট লাইসেন্স ২. প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স এবং ৩. কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স।
এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৮ বছর বয়স হতে হবে। ৩৫০ ঘণ্টার গ্রাউন্ড ক্লাস সমাপ্ত করতে হবে। সিএএবি কর্তৃক লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ২০০ ফ্লাইট আওয়ার সমাপ্ত করতে হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
বিভিন্ন ধাপের খরচভেদে ফ্লাইং একাডেমি বা অন্য যেকোনো বেসরকারি বিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আনুমানিক পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে।
একজন বাণিজ্যিক বৈমানিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সেবা প্রদানের সুযোগ পায়। বর্তমানে দেশে ও বিদেশে এ পেশার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার মতে (দি ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন) আগামী দুই দশকে প্রায় দুই লাখ বৈমানিকের বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থা কর্তৃক নিয়োগের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অথবা ‘ও’ লেভেল সমাপ্ত করে তবেই স্টুডেন্ট পাইলট হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। এ জন্য অবশ্যই উচ্চমাধ্যমিক ও ‘ও’ লেভেল পরীক্ষায় গণিত এবং পদার্থবিদ্যা বিষয় থাকতে হবে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য বয়সসীমা ১৬ বছর ৬ মাস থেকে ২১ বছরের মধ্যে হতে হবে। ন্যূনতম উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং বুকের মাপ ন্যূনতম ৮১.২৮ সেমি (সম্প্রসারিত ৫.৮ সেমি) হতে হবে। চোখ ৬x৬ এবং অবিবাহিত হতে হবে। দুবার আইএসএসবি ফেরত, আদালত কর্তৃক শাস্তিপ্রাপ্ত আসামি ও মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে আবেদন করা যাবে না।
বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি অ্যান্ড জেনারেল এভিয়েশন লিমিটেড, হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কুর্মিটোলা, ঢাকা-১২২৯।
ফোন: ৮৯১৩৭০৯
পরামর্শ দিয়েছেন—মো. আব্দুল গাফফার, অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



