* প্রথমেই যায়যায়দিনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি নতুন জীবনে পদার্পণের জন্য। বিয়ের অনুভূতিটা কি রকম ছিল আপনার?
ধন্যবাদ, যায়যায়দিন পরিবারের সবাইকে। আসলে মানুষের জীবনে বিয়েটা অন্যরকম একটা ব্যাপার। আর যেহেতু আমি নাটকে অনেকবার বিয়ের সাজে সেজেছি তাই বুঝতেই পারিনি সত্যিকারের বিয়ে করলাম, না নাটকের বিয়ে করলাম। তারপরও সব কিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে ফেলেছি। এখন শুধু আমি আমার দেশবাসী সবার কাছে দোয়া চাই।
* বিয়ে করার সিদ্ধান্তটা কবে নিয়েছিলেন?
আসলে আমাদের দেশের যে অবস্থা সে ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়া লাগে না। আশপাশের লোকজন সব সময় বলে বিয়ে করার জন্য। বুয়েটে পড়ার সময়ই বিয়ের অনেক প্রস্তাব আসতে থাকে। কিন্তু তখন আমি বলেছি, মাস্টার্স করার আগে বিয়ে করবো না। কিন্তু যখন গ্র্যাজুয়েশন করলাম, তারপর দেশের বাইরে মাস্টার্স করতে যাবো, মা বললেন, বিয়ের আগে তুমি দেশের বাইরে যেতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত মায়ের কথায় রাজি হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়েছি যে, ডিসেম্বরের মধ্যেই আমি বিয়ে করবো।
* আপনাদের মধ্যে কোনো প্রেম ছিল কি?
না, বিয়ের আগে আমাদের মধ্যে কোনো প্রেম ছিল না। এখনো আমি ওকে আপনি বলি ও আমাকে আপনি বলে। প্রকৃতপক্ষে তার সঙ্গে আমার কথা শুরু হয় এ বছরের আগস্ট মাস থেকে। কথাও হতো খুব কম। নিজেদের মধ্যে আন্ডারস্ট্যান্ডিং নিয়ে কথা হতো। যখন দেখলাম আমাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিং লেভেলটা একই তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, কিছু একটা হতে যাচ্ছে আমাদের মধ্যে। আর আমাদের মধ্যে প্রেম শুরু হচ্ছে এখন। বিয়ের পর থেকে আমরা প্রেম শুরু করেছি।
* আপনি কি প্রথম থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, পারিবারিকভাবে স্যাটেলড ম্যারেজ করবেন?
প্রথমদিকে ভাবতাম, কোন প্রফেশনের মানুষকে বিয়ে করা যায়। হয়তো বয়সের কারণেই এমন মনে হয়েছে। কিন্তু আরো পরে যখন আমার বোনদের বিভিন্ন প্রফেশনের মানুষের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে এবং তারা তাদের স্বামীর যেখানে কর্মস্থল সেখানে চলে যাচ্ছে তখন আমার মনে হয়েছে, আমার মতো একই প্রফেশনের কাউকে বিয়ে করতে হবে। তারপর যখন আরেকটু বড় হলাম, তখন মনে হলো, একটি এস্টাব্লিস্ট ছেলেকে বিয়ে করবো। এস্টাব্লিস্ট ও উচ্চ শিক্ষিত এমন একজন ছেলেকে চাচ্ছিলাম যে আমার কাজকে সম্মান করবে। আমার পড়াশোনা, অভিনয়, নাচ কিংবা গান যা-ই হোক আমার কাজকে সম্মান করবে। সবকিছু মিলিয়ে আশিরের সঙ্গে মিলে গেছে বলে আমাদের বিয়েটা সম্পন্ন হয়েছে।
* আপনাদের মধ্যে কতো দিনের পরিচয়?
তিনি আমাকে চিনতেন বা জানতেন কি না আমি জানি না। ২০০৩ সালে হঠাৎ একদিন তিনি আমাদের বাসায় আসেন। নরমাল একজন গেস্টকে যেভাবে ট্রিট করা হয় সেভাবেই আমরা তাকে ট্রিট করি। কারণ আমি আগেই বাসায় বলে দিয়েছিলাম যে, আমি পড়াশোনা শেষ করার আগে বিয়ে করবো না। ওই বছরই আমরা একবার কি দু’বার বাইরে কোথাও খেতে গিয়েছিলাম এই আর কি। তিনি ছিলেন আমার খালার পরিচিত। আমার খালা আগে জাপানে থাকতেন কিন্তু বর্তমানে আমেরিকায় থাকেন। তারপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। এ বছর যখন আমি আমেরিকায় গিয়েছিলাম তখন খালা আমাকে তার কথা বলেন। ওই হচ্ছে তার সঙ্গে আমার পরিচয়। তারপর থেকেই চূড়ান্ত কথাবার্তা হতে থাকে।
* সব মেয়েদেরই মনে একজন স্বপ্ন পুরুষের কল্পনা থাকে। আপনার ক্ষেত্রে কল্পনার সঙ্গে বাস্তবের কতোটুকু মিল হয়েছে?
সত্যিকার অর্থে যদি বলি, চেহারা-সুরত আমার কাছে কখনোই বড় বিষয় নয়। আমার চামড়া যদি কুচকে যায় তাহলে কি মানুষ আমাকে ভালোবাসবে না? এটা হতে পারে না। সুফিয়া কামাল কিংবা মাদার টেরেসাকে কি আমরা মনে রাখি না? বিশ্ব সুন্দরীরা তো তাদের আদর্শ হিসেবে মাদার টেরেসাকে মনে করেন, তারা তো সোফিয়া লরেনের কথা বলেন না। ইয়ুথের একটা আলাদা বিউটি আছে। সেটাই মূল কথা। আর আমি চেয়েছি যাকে বিয়ে করবো তাকে অবশ্যই উচ্চ-শিক্ষিত হতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমার কল্পনার সঙ্গে বাস্তবের মিল হয়েছে বলা যায়।
* আশিরের কোন দিকটি আপনাকে আকর্ষণ করেছে?
তার যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে সেটি হলো সে খুব সিম্পল। সবাই যেমন আমাকেও খুব সিম্পল বলে। আমাদের দুজনের মধ্যে এ বিষয়টির মিল আমাকে খুব আকর্ষণ করেছে। আমি সহজ-সরলভাবে চলাফেরা খুব পছন্দ করি।
* পরিপূর্ণ সংসার জীবনে প্রবেশ করছেন কবে?
ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারির মাসের প্রথম সপ্তাহেই আমাদের বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি। অনুষ্ঠানের পর আমি যেদিন আশিরদের বাসায় যাবো সেদিন থেকেই পরিপূর্ণ সংসার জীবনের যাত্রা শুরু হবে।
* ড. আশির আহমেদের পরিবার সম্পর্কে কিছু বলুন।
আশিরের পৈতৃক নিবাস চাদপুরের মতলব উপজেলায়। বাবা জমিরউদ্দিন আহমেদ একজন শিক্ষক আর মা গৃহিণী।
* বিয়ের দিনের গল্প বলুন।
গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিয়ের প্রাথমিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়। তারপর আমাদের শ্যামলীর বাড়িতে বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের সাক্ষী ছিলেন আমার মামা সাংবাদিক নূরে আলম ও খালু শফিকুল ইসলাম। আর উকিল বাবা হয়েছেন আমার ছোট মামা আহমেদ জিন্নাহ আলম। এরপর আকদ অনুষ্ঠান হয় বনানীর বোখারা রেস্টুরেন্টে।
* এতো তড়িঘড়ি করে বিয়েটা করলেন কেন?
আসলে খুব তড়িঘড়ি করে বিয়েটা হয়ে গেল। দুই পরিবারের সম্মতি ছিল। তাই দেরি না করে বিয়েটা হয়ে গেল। হাতে সময় কম থাকার কারণে তেমন কাউকেই জানাতে পারিনি। শুধু ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ছাড়া আর কেউ ছিল না বিয়ের অনুষ্ঠানে। অবশ্য ডিসেম্বরের শেষের দিকে বড় একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
* জানা গেছে আপনার বর জাপান প্রবাসী। বিয়ের পর কি সেখানে চলে যাবেন?
আমার বর ড. আশির আহমেদ বাবু জাপানের কিয়ুউসু ইউনিভার্সিটির কমপিউটার সায়েন্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর। বর্তমানে গ্রামীণ কানেকশনের ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেয়ার গ্লোবাল কমিউনিকেশন সেন্টার প্রজেক্টের পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করছেন। প্রতি দেড় মাস পরপর তাকে বাংলাদেশে আসতে হচ্ছে। বিয়ের পর সব মেয়েই স্বামীর সংসারে চলে যায়। যেহেতু ড. আসির জাপানে থাকে, তাই আমিও সেখানে থাকবো।
* আপনি যদি জাপানে চলে যান তাহলে কি আর অভিনয়টা করবেন না?
অভিনয় করবো না, তা বলছি না। স্বামীর কর্মস্থল যেহেতু জাপান তাই আমাকেও সেখানে থাকতে হবে। অবশ্য অভিনয় ছেড়ে দিতে হবে এ রকম কোনো কথা ড. আসির আমাকে বলেনি। মাঝে মধ্যে যখন দেশে আসবো তখন কিছু কাজ করবো। অবশ্য তখন কাজের পরিমাণটা একেবারে কমে যাবে। তারপরও অভিনয়টা চালিয়ে যেতে চাই।
* জাপান চলে গেলে হাতে যে কাজগুলো আছে তার কি হবে?
অবশ্যই হাতের কাজগুলো শেষ করে তবেই জাপান যাবো। আর নতুন কাজ ভেবেচিন্তে নিচ্ছি সময়ের মধ্যে যাতে শেষ করতে পারি। আর আমি তো একেবারেই চলে যাচ্ছি না। যেহেতু যাওয়া-আসার মধ্যে থাকছি, তাই কাজ টুকটাক চালিয়ে যাবো।
[ যায়যায়দিনের পক্ষ থেকে দু'দফায় অপি করিমের এই ইন্টারভিউ নিয়েছেন নুরুজ্জামান লাবু ও সাইফুল ইসলাম শান্ত।]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

