কেবল বন্ধুর খোজই নয়, ব্যবসায়িক ও সামাজিক বন্ধন অটুট রাখতেও ফেসবুক সাইটটি ইতিমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সারা বিশ্বে পাচ কোটিরও বেশি মেম্বার রয়েছে ফেসবুকের। এতো বড় একটা কমিউনিটিকে ক্যারি করে এমন সাইট আর দ্বিতীয়টি অনলাইনে নেই।
লগইন করুন ফেসবুকে
ফেসবুকে লগইন করতে হলে ওয়েব অ্যাড্রেস বারে গিয়ে টাইপ করুন http://www.facebook.com । ফেসবুকের ইন্টারফেসে কোনো ইমেজ না থাকায় গুগলের মতোই এটিও অল্প সময়ে ওপেন হয়। ফেসবুক ওপেন হলে যদি প্রথমেই লগইন করতে না চান বা এটি সম্পর্কে আরো জানতে চান তবে টুরিস্ট হিসেবে সাইট টুর করতে পারেন। এতে সাইটটি সম্পর্কে প্রাথমিক একটি ধারণা পাবেন। আর লগইন করতে হলে সরাসরি সাইন আপে কিক করুন। তিনটি ধাপে আপনার রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শেষ হবে। প্রথম ধাপে আপনার বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপে আপনার ফটো সংযুক্ত করতে পারবেন এবং শেষ ধাপে আপনার পরিচিতদের ফেসবুকের মেম্বার হওয়ার জন্য ইনভাইট করতে পারবেন। তবে পরে এ তথ্যগুলো আপডেট করার সুযোগ থাকায় অনেকেই প্রথমে যে তথ্যগুলো অবশ্যই দিতে হয়, তাই-ই কেবল পূরণ করে বাকি কাজ স্কৃপ করেন। পরে আস্তে-ধীরে এগুলো পূরণ করার সুফল হলো অপরিচিত একজন আপনার দেয়া নিজের সম্পর্কে এলোমেলো তথ্য দেখলে আপনার সম্পর্কে নেগেটিভ ধারণা যাতে না করেন। বরং গোছানো ও বিস্তারিত তথ্য পড়ে হয়তো দেখা যাবে অপরিচিত একজনও আপনার বন্ধু হতে চাইবেন।
যাত্রা হলো শুরু
রেজিস্ট্রেশন কমপ্লিট হলে বিস্তৃত করুন আপনার নেটওয়ার্ক। পরিচিতদের ই-মেইলে ইনভিটেশন পাঠাতে পারেন ফেসবুকের মেম্বার হতে। আর ইতিমধ্যে ফেসবুকের মেম্বার আপনার পরিচিতজনকে অ্যাড করে নিন আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে। এ জন্য সার্চ বা ফাইন্ড ফ্রেন্ডে গিয়ে আপনার কাক্সিক্ষত নামটি নিয়ে সার্চ করুন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি জানা থাকে আপনার বন্ধুটি কি নামে ফেসবুকে নিজের আইডি খুলেছেন।
এতে সময় ও ঝামেলা দুই-ই বাচবে। যেমন ধরুন, আমাকে আপনি ফেসবুকে অ্যাড করবেন বলে ঠিক করলেন। কিন্তু আমার আইডি আপনার জানা নেই। তাই শুধু আমার নিক নেম দিলে আপনি শতাধিকের বেশি আইডি পাবেন। কিন্তু আপনার যদি জানা থাকে যে, আমার পুরো নাম দিয়েই আমি আইডি খুলেছি তা হলে কিন্তু সহজেই খুজে পাবেন আমাকে।
আবার এমনও হতে পারে, আপনার বন্ধুটির পুরো নাম আপনার জানা নেই, শুধু নিক নেমটি জানা আছে। এ ক্ষেত্রে কষ্ট করতেই হবে যদি আপনার বন্ধুটিকে খুজে পেতে চান। সার্চ দিয়ে অসংখ্য নামের ভিড়ে খুজুন আপনার বন্ধুকে। আমি কিন্তু সাত বছর আগের হারিয়ে যাওয়া অনেক বন্ধুকে খুজে পেয়েছি এভাবেই। চেষ্টা করেই দেখুন না, হয়তো পেয়েও যেতে পারেন অনেক দিন ধরে অদেখা সেই বন্ধুটিকে।
আর আপনার ফ্রেন্ডরা কে, কি করছেন তার নিয়মিত নিউজ জানতে পারবেন আপনি। কে কোন গ্রুপে জয়েন করছে বা ত্যাগ করছে, কে ফটো সেট করেছে বা গেমসে হাত পাকাচ্ছে তার সবই জানতে পারবেন হোম থেকে। নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানতে পারবেন কে আপনার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করেছে বা আপনাকে ইনভিটেশনও পাঠিয়েছে।
গ্রুপে যোগ দিন, গ্রুপ তৈরি করুন
হয়তো দেখা গেল সার্চ দিয়ে ঘেটেও আপনার বন্ধুকে খুজে পাচ্ছেন না। কিন্তু আপনি ড্যাম শিওর সে ফেসবুকেই আছে। এ ক্ষেত্রে আশ্রয় নিতে পারেন বিভিন্ন গ্রুপের। ধরুন আপনি যে স্কুল, কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করেছেন তার নাম লিখে গ্রুপে গিয়ে সার্চ দিন। যদি সেই নামে কোনো গ্রুপ খোলা থাকে তবে ঢু মারুন তাতে। দেখবেন আপনার অনেক বন্ধুই দিব্যি এসব গ্রুপের মেম্বার হয়ে রয়েছেন।
দেরি না করে আপনিও জয়েন করুন গ্রুপে, আর গ্রুপ থেকে যাদের আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে অ্যাড করতে চান অ্যাড টু ফ্রেন্ডে কিক করে তাদের অ্যাড করে নিন। এছাড়া আঞ্চলিক, কর্মক্ষেত্র বা কম্পানির নামেও প্রচুর গ্রুপ খোলা রয়েছে ফেসবুকে।
হয়তো ইচ্ছা করলে আপনি নিজেও একটি গ্রুপ খুলবেন, তো নো টেনশন। ঠিক করুন কিসের ওপর গ্রুপ খুলবেন। তারপর গ্রুপে গিয়ে ক্রিয়েট এ নিউ গ্রুপে কিক করে গ্রুপের নাম, ধরন, ডেসক্রিপশন, ই-মেইল, ফোন নাম্বার, ফটো ইত্যাদি দিয়ে গ্রুপ তৈরি করে পরিচিতদের মধ্যে ইনভাইটেশন পাঠিয়ে দিন গ্রুপের মেম্বার হতে।
গ্রুপের অপারেটর হিসেবে অন্য কাউকে যুক্ত করতে পারবেন আপনি। এতে আপনার অবর্তমানেও গ্রুপের যে কোনো যোজন-বিয়োজন অন্যজন করতে পারবেন। গ্রুপের মাধ্যমে একটি ইউনিটি তৈরি করা যেমন সহজ, তেমনি পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করাটাও বেশ সহজ। আর তাই যতো খুশি অন্য গ্রুপে জয়েন করুন বা গ্রুপ তৈরি করে বিস্তৃত করুন আপনার নেটওয়ার্ক, কোনো প্রবলেমই হবে না।
ফটো অ্যালবাম সেট করুন
প্রোফাইলে নিজের ফটো ছাড়াও আলাদা করে অ্যালবাম ক্রিয়েট করতে পারবেন। ফটোগুলোতে প্রত্যেকের নামও ট্যাগ করার সুযোগ রয়েছে। এতে বন্ধুরা বুঝতে পারবেন, চিনতে পারবেন আপনার ফটোর পার্সনগুলোকে।
ইভেন্ট ইভেন্ট ইভেন্ট
ধরা যাক, ঢাকা ইউনিভার্সিটির (২০০০-০১) সেশনের কয়েকজন মিলে ঠিক করলো তারা নির্দিষ্ট একটি দিনে গেট টুগেদার করবে। কিন্তু কতোজন এতে আসবে তা নিয়ে সবাই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছে। ফেসবুকের ইভেন্টে গিয়ে নতুন এ গেট টুগেদার নিয়ে একটি ইভেন্ট ক্রিয়েট করে পরিচিতদের মধ্যে ইনভিটেশন পাঠিয়ে দিলে তারা ইনভিটেশনের তিনটি অপশনের এ্যাটেন্ড, মে বি, নট এটেন্ডে মধ্যে একটিতে কিক করলে সহজেই বোঝা যাবে কতোজন গেট টুগেদারে আসবে। আর ফোন বা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে গেট টুগেদারের ঝামেলা থেকেও এর ফলে রেহাই পাওয়া যাবে।
আর অন্যরা কে, কি ইভেন্ট করছে তারও অ্যাডভান্সড নিউজ পাওয়া যাবে। ফলে যে ইভেন্টে আপনি যেতে চান তা সম্পর্কে জানতে পারছেন। আর ইভেন্টে গেলেই যে পাবেন না হারিয়ে যাওয়া কোনো ফ্রেন্ডকে এমন তো আর নয়।
সাজিয়ে নিন নিজের হোমপেজটি
বিস্তারিত ইনফরমেশনের মধ্য দিয়ে যে কেউ সহজেই আইডেনটিফাই করতে পারবে আপনাকে। এছাড়া ওয়েলকাম বক্স, ফ্রি মেসেজ বক্স, ওয়াল, নেম অ্যানালাইজার, গেমস, ভিডিও, মিউজিক বক্সসহ অনেক আইটেম রয়েছে ফেসবুকে, যেগুলো দিয়ে আকর্ষণীয় করে সাজাতে পারেন আপনার হোমপেজটি। আবার পছন্দ হওয়া আইটেম বক্সের ইনভিটেশনও পাঠাতে পারেন ফ্রেন্ডদের। ফ্রি ভার্চুয়াল গিফট পাঠাতে পারেন বন্ধুকে।
হয়তো ফ্রেন্ড লিস্টের কোনো বন্ধুর বেশ কয়েক দিন ধরে কোনো সাড়া-শব্দ পাচ্ছেন না। পোক্ করে তাকে জানিয়ে দিন আপনার কথা। স্টুডেন্ট লাইফে হয়তো কলম দিয়ে কতো খোচা দিয়েছেন, এখন দূরে থাকায় তা সম্ভব হয়তো হবে না, কিন্তু ফেসবুক থাকতে সেই সুযোগ মিস করবেন কেন? ভার্চুয়াল খোচাই মারুন না হয় এবার।
মনের ওই গোপন কথাটি
ফেসবুক পপুলার হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, এর মাধ্যমে যা খুশি তাই-ই নিয়ে পাঠানো যাবে অন্যজনকে। এ ক্ষেত্রে অন্যরা তা জানতেও পারবেন না। সেন্ড এ মেসেজে কিক করে শুরু করুন লেখা। জরুরি আলাপও সারতে পারেন ফেসবুকে। অনেকে মোবাইলের এসএমএসের বিকল্প হিসেবে ফেসবুকের মেসেজ অপশনকে ব্যবহার করে থাকেন। পরিচিত বন্ধু বা বান্ধবীকে যে কথা এতোদিন হয়নি বলা, তা ফেসবুকেই বলে দিন না। বলা তো যায় না, সে-ও হয়তো আপনার এ লেখাটুকু পাওয়ার আশাতেই ছিল এতোদিন।
প্রাইভেসি নিয়ে ভাবনা
ফেসবুকের প্রাইভেসির বেরিয়ার আপনারই হাতে। কারণ আপনিই নির্ধারণ করবেন কারা কারা আপনার হোমপেজটি দেখতে পারবেন আর কারা পারবেন না। কিংবা সবার জন্যও উন্মুক্ত রাখতে পারেন। মেয়েরা অবশ্য পরিচিত ফ্রেন্ড ছাড়া অন্যদের তার হোমপেজে ঢোকার ব্যাপারটি প্রাইভেসি বেরিয়ার দিয়ে মেইনটেইন করতে পারেন। এতে অন্য যারা ডিস্টার্ব করতে চান তারা আর তার হোমপেজে ঢুকতে পারবেন না। আর হুটহাট করে যে কেউ আপনাকে ফ্রেন্ড হিসেবে অ্যাড করতে চাইলেই কনফার্ম করবেন না। তার সাইটে যান। দেখুন, বুঝুন, তারপর কনফার্ম করুন। এতে আপনার ফ্রেন্ডদের সবার সম্পর্কেই আপনার ধারণা থাকবে। অপরিচিত অনেককেই হুটহাট করে ফ্রেন্ড হিসেবে অ্যাড করে কেউ কেউ তার ফ্রেন্ডের লিস্ট কয়েক শতাধিক করে ফেলেছেন, যাদের অধিকাংশকেই সে চেনে না।
এমন ফ্রেন্ড লিস্টের চেয়ে পরিচিত ২০ জন ফ্রেন্ডই থাক না আপনার লিস্টে, সমস্যা তো নেই। আর কাউকে ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে ছেটে ফেলতে চাইলে রিমুভ ফ্রেন্ডে কিক করুন, মামলা খতম।
শেষ হয়েও হলো না শেষ
ফেসবুকে এতো বেশি টাইম পাস করার অপশন রয়েছে যা এ সীমিত পরিসরে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। কেবল প্রাথমিক আইডিয়া শেয়ার করা হলো মাত্র। নিয়মিত ফেসবুকে লগইন করে গ্রো করুন আপনার নেটওয়ার্ক আর নিজেই অবাক হয়ে যাবেন ফেসবুকের এতো আইটেম দেখে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

