এতে ক্ষতিগ্রস্ত কেবল ব্যক্তিবিশেষই হচ্ছেন তা নয়। বরং সামগ্রিকভাবে মিডিয়াতেই এর প্রভাব পড়ছে। চ্যানেলগুলোতে কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মীদের বেতনভাতা বকেয়াসহ প্রডিউসারদের লগ্নিকৃত অর্থ আটকে যাচ্ছে।
কমবেশি সব চ্যানেলের কাছেই অনুষ্ঠান নির্মাতা ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ বকেয়া রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বৈশাখী, চ্যানেল ওয়ান ও ইটিভির কাছে এই পাওনা সবচেয়ে বেশি। ফলে আটকে থাকা অর্থের ছাড় করাতে না পেরে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রোগ্রাম নির্মাণ করতে পারছে না। ফলে নতুন ও পুরনো শিল্পীদের কাজ কমে যাচ্ছে।
আবার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে তাদের চ্যানেলে লগ্নি করার মতো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান না থাকায় চ্যানেলগুলো নাটক বা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক মূল্যমান বাড়াতে পারছে না। শিল্পী বা কলাকুশলীরাও আগে যে হারে সম্মানী পেতেন তাই পাচ্ছেন। অথচ বাজারের ঊর্ধ্বগতি সত্ত্বেও মিডিয়াকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সব ক্ষেত্রেই আর্থিক বিষয়ের সমন্বয় প্রয়োজন। কিন্তু তা করা হচ্ছে না বলে মিডিয়ায় কাজের ক্ষেত্রে এক ধরনের শূন্যতা ও অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন কোনো মিডিয়ারও আত্মপ্রকাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এতে মিডিয়া কর্মীদের কাজের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হওয়া একভাবে বললে প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে। অনেক সময় মালিক পক্ষ তাদের ইচ্ছামতো সবকিছু পরিচালনার জন্য সৃষ্টি হয় অস্থিরতা। এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে একুশে টেলিভিশনের সংবাদ বিভাগে মালিক পক্ষ ও নিউজ ডিপার্টমেন্টের মধ্যকার তিক্ত ঘটনাকে উল্লেখ করা যেতে পারে। সেখানে বেশকিছু সংবাদ কর্মীকে চাকরিচ্যুত ও সাসপেন্ড করা হয়। এ অস্থিরতার প্রভাব অন্যান্য মিডিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়ে।
অথচ রাজনৈতিক এ পরিপ্রেক্ষিতে মিডিয়ায় অস্থিরতা মোটেই কোনো সুসংবাদ বয়ে আনবে না। উদাহরণস্বরূপ সিএসবি নিউজ চ্যানেল বন্ধ হওয়ায় নতুন ধারার টিভি রিপোর্টিং বড় একটি ধাক্কা খায় এবং প্রচুর ক্রিয়েটিভ মিডিয়া ও সংবাদকর্মীকে বেকার হতে হয়। যা কারোরই আকাক্সিক্ষত ছিল না।
সুতরাং মিডিয়ায় যে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি যাতে না হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মালিক-কর্মী সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
# দৈনিক যায়যায়দিন ২য় বর্ষপূর্তি সংখ্যায় ০৬/০৬/২০০৮ প্রকাশিত #
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



