নরকের পাপীর লিনাক্স :: একটি বিশ্বস্ত, শক্তিশালী এবং স্বপ্নের অপারেটিং সিস্টেম (ইতিহাস, ইন্সটল, ব্যবহার) পোস্টটি পড়েই মূলত উদ্ধুদ্ধ হয়েছিলাম লিনাক্সের প্রতি। ওয়েবসাইটে গিয়ে যে কেউ এড্রেস দিলেই যে সিডি পাওয়া যায় এ বিষয়ে এর আগে কোন ধারণাই ছিলো না। আর তাই টেস্ট কেস হিসেবে
ওয়েবসাইটে গিয়ে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে যায়যায়দিনের ঠিকানা দিয়ে এক কপি ফৃ সিডির অর্ডার দিলাম। পরিচিত কয়েকজনকে এ কথা তখন জানানোর পরে তারাও বেশ এক চোট হেসেছিলো, আমার ফৃ সিডি পাওয়ার স্বপ্ন ও এ বিষয়ে আমার কর্ম তৎপরতার কথা শুনে।

এরপর থেকে প্রতি মুহূর্তে মনে মনে চাইতাম অন্তত এই নিন্দুকদেরকে এক চোট যেন দেখাতে পারি, সেজন্য হলেও যেন উবুন্টুর সিডিটা হাতে পাই।

যা হোক, সেই সাইটেই লেখা ছিলো যে, ৩ সপ্তাহের মতন সময় লাগতে পারে সিডি হাতে আসতে। গত পরশু অফিসে যেয়েই হাতে পেলাম লিনাক্সের লেটেস্ট ভার্সন উবুন্টুর ৮.১০ ডেস্কটপ এডিশনের সিডিটা। সঙ্গে উবুন্টুর ৪টি স্টিকার।
আর তর সইছিলো না। রাতে বাসায় ফিরেই সিডি ঢুকালাম পিসিতে। উইন্ডোজ ইনস্টল ডজন খানেকবার করলেও উবুন্টুর ইনস্টল কিভাবে করে বা এ বিষয়ক কোন লেখা বা ব্লগে পোস্ট এর আগে না পড়ায় আপসোস হলো। (যদিও আজ ব্লগের পুরনো অনেক পোস্ট ঘেঁটে বেশ কিছু লিনাক্স অপারেটিং বিষয়ক পোস্ট পেলাম) যা হোক, উবুন্টুর সিডিতেই লেখা রয়েছে কি করতে হবে। আর সেভাবেই প্রথমে সিডিটা পিসিতে ঢুকিয়ে রিস্টার্ট দিলাম। এর পরে দেখলাম কি যেন কি এলো, আর আমিও কি সিলেক্ট করে যেন এন্টার দিলাম আর লিনাক্স ওপেন হলো। আমি তো তাজ্জব এত তাড়াতাড়ি উবুন্টু ইনস্টল হলো কিভাবে।

(পরে গতকাল অবশ্য ব্লগের পোস্ট পড়ে জানলাম যে, সিডি থেকেও উবুন্টু ট্রাই করা যায়)
এরপর ভাবলাম উবুন্টু তো ইনস্টল হলো এবার সিডিটা বের করে ফেলি। কিন্তু যতই আমি ইজেক্ট দেই না কেন সিডি আর ড্রাইভ থেকে বের হয় না। আমি তো ব্যাপক ভাবনায় পড়ে গেলাম। উবুন্টুর সিডি ঢুকিয়ে আমার সদ্য কেনা ডিভিডি রাইটারটা অচল হয়ে গেল কিনা তা নিয়ে!

যা হোক, ভাবলাম একটু গান বা ভিডিও দেখা যাক। কিন্তু একটাও ওপেন হয় না। কেবলই ইন্টারনেট কানেকশন চায়। কিন্তু আমার বাসার পিসিতে তো ইন্টারনেট কানেকশন নেই। তাই ভাবলাম অল্টারনেট কোন উপায় আছে কিনা। সিডির বাকি ইনস্ট্রাকশনও এরপর পড়তে শুরু করলাম। দেখলাম, উইন্ডোজের পাশাপাশি উবুন্টুও ইনস্টল করার উপায় রয়েছে। উইন্ডোজ চলাকালীন সময়েই উবুন্টুর সিডি চালিয়ে তা করতে হবে জেনে পিসি রিস্টার্ট দিলাম। এ সময় দেখলাম পিসি শাট ডাউন হবার সময়ই ডিভিডি ড্রাইভ ওপেন হলো। তাড়াতাড়ি উবুন্টুর সিডি বের করে নিলাম। যাক বড় বাঁচা গেল!

এরপর উইন্ডোজ ওপেন হলো। এ সময় উবুন্টুর সিডি ঢুকিয়ে ইনস্টল করা শুরু করলাম। সাপোটিং অনেক সফটওয়্যার ইনস্টল লাগতে পারে ভেবে ৮ গিগা ফৃ স্পেস দিলাম উবুন্টুর জন্য। এরপর ইনস্টল কমপ্লিট হলো উইন্ডোজ ইনস্টলের অর্ধেক সময়েই। গ্রাফিক্সটা বেশ ভালোই লাগলো। প্রথমে সমস্যা যেটা হলো তা হলো, উইন্ডোজে একটু পর পরই রিফ্রেস দিতে দিতে অভ্যাসই খারাপ হয়ে গেছে। অথচ এখানে কোন রিফ্রেসের বালাই-ই দেখলাম না।

ভাইরাস গার্ডেরও কোন প্রয়োজন নেই দেখলাম। তবে একটু পর পরই এডমিনিস্ট্রেশন নেম এন্ড পাসওয়ার্ড দিতে হয় কোন কিছু ওপেন করতে গেলেই। আর ইন্টারনেট না থাকার সেই সমস্যা তো আছেই। কোন মিডিয়া ফাইলই ওপেন হয় না। ইন্টারনেট কানেকশন চায়। কিন্তু আমি তো আগে বুঝবার পারি নাই যে, উবুন্টুর জন্য ইন্টারনেট কানেকশন ফরজ।

কোন পোস্টেও তো এই কথাটা চোখে পড়ে নি। আমার মনে হয় পোস্টদাতারা ধরেই নিয়েছেন যে, বাংলার ঘরে ঘরে এখন ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। অথচ আমার মতন এমন কিছু অসহায় রয়েছেন যারা এখনো এলাকায় ব্রডব্যান্ড ফ্যাসিলিটির অভাবে নেট লাইন নিতে পারে নি। উপরন্তু অধিকাংশ সময়ই অফিসেই কাটাতে হয় বলে ঘরের পিসিতে ইন্টারনেটের প্রয়োজনও খুব একটা উপলব্ধি কখনো করিনি।

যা হোক, গত রাতে খেয়াল করলাম যে, পিসি একটু স্লো মনে হচ্ছিলো কেন যেন। সি ড্রাইভ চেক করে দেখলাম এতে উইন্ডোজ আর উবুন্টু ইনস্টল থাকায় ফৃ স্পেস কমে মাত্র ৬ গিগাতে নেমে এসেছিলো। অথচ পিসির পারফরম্যান্স দ্রুত থাকার জন্য সি ড্রাইভে ফৃ স্পেস বেশি থাকাটা জরুরি। আর তাই গত রাতেই ইনস্টল করার এক দিনের মধ্যেই আনস্টল করে ফেললাম উবুন্টু।

তবে ডিসিশন নিলাম যে, এপ্রিলেই বাসা চেঞ্জ করে নেট সংযোগ নিয়ে তবেই ইনস্টল করবো উবুন্টু।
আহারে..... উবুন্টু ইনস্টল করেও ইউজ করতে পালাম না, এ দুঃখ আমি রাখি কোথায়!