বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে তার সেনানিবাসের বাস ভবন আজ বিকেলে ছাড়তে হয়েছে। খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন যে, তাকে আসলে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আগামীকাল দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহবান করা হয়েছে। তবে হরতালের তোড়জোড় প্রতিবারের হরতালের ন্যায় আজ দিন থেকেই শুরু হয়েছে। বেশ কিছু বাস ভাংচুরসহ অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ফলে বাস মালিকরা আতংকে বিকেলের পর থেকে রাস্তায় তেমন একটা বাস বের করেন নি। আর এর বড় ভুক্তভোগী হতে হয়েছে অফিস ফেরত ও ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া যাত্রী সকলকে।
আজ অফিস শেষে চ্যানেল আইতে নুরুল আলম আতিকের "ডুবসাঁতার" ছবির প্রিমিয়ার থাকার কারণে বাসায় ফেরার জন্য ফার্মগেট যখন পৌঁছালাম তখন ঘড়িতে রাত সাড়ে ৯টা। অন্যদিন এ সময় ডজনখানেক বাস যাত্রী শূণ্যতায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু আজকের চিত্র ছিল একেবারে ভিন্ন। শত শত মানুষ বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু সময় চলে গেলেও বাসের কোন দেখাই নেই। দু-একটি যদিও বা আসছে, সেগুলো থামাথামির ধারও ধারছে না। যদি কোন যাত্রী ফার্মগেট নেমে যায় তো তাকে নামিয়ে আবারো বাসের গেট লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। গাবতলী যাবার জন্য উদগ্রিব কিছু মানুষকে দেখলাম বাসের সঙ্গে দৌড়ে অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে বাসে ওঠার চেষ্টা করতে, বাসের হেলপারকে বাসের দরজা খুলতে কাকুতি মিনতি করতে। অথচ সবই ব্যর্থ হচ্ছিলো। বাস স্বল্পতার সুযোগে রিকশা বা ভাড়ায় চালিত যান্ত্রিক যানগুলো নির্ধারিত ভাড়ার ৩-৫ গুণ ভাড়া চাচ্ছিলো। যারা একেবারেই নিরুপায়, তারা বাধ্য হয়ে সেই ভাড়াতেই গন্তব্যে ফিরছিলেন। বিশেষ করে যাদের সঙ্গে মহিলা রয়েছেন, তাদের করুণ অবস্থা দেখে খুবই খারাপ লাগছিলো। সাভার/নবীনগর বা উত্তরা/টঙ্গীর অনেকেই ঢাকায় চাকুরী করে রাতে বাসায় ফেরেন। এতো দূরের যাত্রীরা আজ যে কি পরিমাণ সংকটে পরেছিলেন তা সহজেই অনুমেয়। টিকেট কাউন্টারের কাউন্টার মাস্টাররা দূরের গন্তব্যের মহিলাদের পরামর্শ দিচ্ছিলেন যে, ঢাকায় কোন আত্মীয় থাকলে তারা যেন সেখানে আজ রাতে থেকে যান। আমার গন্তব্যস্থলের ভাড়া ৩ টাকার স্থলে ১৫ টাকা দিয়ে অবশেষে আসতে পারলেও দূরের গন্তব্যের যাত্রীরা যে কিভাবে বাড়ি ফিরেছেন তা জানি না।
অথচ এতো সব কান্ডকীর্তির পেছনে দোষ কাকে বাদ দিয়ে কাকে দেবো সেটাও তো ভাববার বিষয়। একটি বাড়ির জন্য বিএনপি তাদের প্রেস্টিজ ইস্যু হিসেবে ঈদের আগে যে হরতাল আহবান করেছে সেটি কতটুকু যুক্তিসঙ্গত তা নিয়ে ভাববার অবকাশ থাকতে পারে। হরতাল ছাড়া কি প্রতিবাদের আর কোন ভাষা রাজনীতিতে প্রচলন হতে পারে না? আবার ধরলাম অবৈধ ভাবে বাড়ি দখল করে খালেদা জিয়া ছিলেন। সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরকারের কি তাকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত ঈদের পরে নেয়া যেতো না? হয়তো কট্টর আওয়ামীলীগ সমর্থকরা বলবেন যে, এটা তো আদালতের রায়। কিন্তু আমাদের দেশে আদালত যে সরকারের কথায় ওঠে-বসে তা বোধ করি পুনর্বার না বললেও চলবে।
বিএনপি হয়তো ভেবেছে, এভাবে এতো বড় একটি ইস্যু মিস করাটা বোকামী, তাই তারা হরতাল ডেকেছে, বাসে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে! আর আওয়ামী সরকার হয়তো ভেবেছে, ঈদের আগে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, লোডশেডিং, ট্রাফিক জ্যাম প্রভৃতি থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে ডাইভার্ট করার এর চেয়ে হয়তো ভালো কিছু হতে পারে না! দুটো ক্ষেত্রেই "হয়তো" ব্যবহার করেছি, কারণ আসল কারণ যে কোনটি তা দলীয় কর্তাব্যক্তিরাই ভালো বলতে পারবেন!
কিন্তু আমরা যারা সাধারণ জনতা, তারা কেন উভয় দলের টানা-পোড়নের মাঝে ভিকটিম হবো? আর কতকাল চলবে এই টানা-পোড়ন? সবকিছুরই তো একটা শেষ আছে। এই টানা-পোড়নেরও শেষ কবে, সেটাই দেখার জন্য অপেক্ষায় রইলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



