somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা " style="border:0;" />


নির্বাচনের পূর্নাঙ্গ সংবাদ:

ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল (ডিএসইসি) নির্বাচনে দৈনিক ইত্তেফাক’র মো. আল-মামুন সভাপতি পদে এবং দৈনিক সমকালের আবুল কালাম আজাদ সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। রোববার রাত তিনটায় জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ভোট গণনা শেষ হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফরিদ হোসেন ভোট গণনা শেষে এ ঘোষণা দেন। সভাপতি পদে মো. আল-মামুন পেয়েছেন ৩৭৮ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দৈনিক নিউজ টুডের এনায়েত ফেরদৌস পেয়েছেন ৩২০ ভোট। দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার মো. শহিদুল ইসলাম ৩০৬ ভোট পেয়ে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দৈনিক ডেসটিনির দীপক ভৌমিক। তিনি পেয়েছেন ২৯১ ভোট। দৈনিক সমকালের আবুল কালাম আজাদ ৩৪৮ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একই পত্রিকার খায়রুল আলম তার চেয়ে ৮ ভোট কম পেয়েছেন। যুগ্মসম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক সমকালের মো. শাহজাহান মিয়া। তিনি পেয়েছেন ৫০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এটিএন নিউজের প্রদীপ কুমার ঘোষ পেয়েছেন ১৮৫ ভোট। কোষাধ্যক্ষ পদে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার যুবায়ের আহমেদ নবীন ৩৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) শারমীন জাহান অজন্তা পেয়েছেন ২৩২ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বৈশাখী টেলিভিশনের মো. মেহেদী হাসান ২৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার আমির হামজা চৌধুরী পেয়েছেন ২১০ ভোট। দফতর সম্পাদক পদে দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার এটিএম আতিকুর রহমান ৩২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার রাসেল আহমেদ পেয়েছেন ১৮৭ ভোট। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে বিনা প্রতিন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক কালের কণ্ঠের মাসুদ রুমী। দৈনিক জনকণ্ঠের রেজাউর রহমান রিজভী ৩৯৯ ভোট পেয়ে প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আরটিভির মো. সাইখুল ইসলাম উজ্জল পেয়েছেন ২৪৯ ভোট ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমের মো. ওবায়দুল্লাহ খান সনি। তিনি পেয়েছেন ৩৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দৈনিক যুগান্তরের একরামুল ইসলাম বিপ্লব পেয়েছেন ২৫১ ভোট। নির্বাচিত সদস্যরা হচ্ছেন: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’র নাজনীন সুলতানা (৪৩৯), চ্যানেল একাত্তরের সুরাইয়া ইয়াসমিন অনু (৪৩৮), নয়া দিগন্তের ইদ্রিজ মাদ্রাজি (৪৩০), জনকণ্ঠের মো. মামুনুর রশীদ-মামুন ফরাজী (৪২৭), ইত্তেফাকের অলক বিশ্বাস (৩৭৭), বাংলাবাজারের শাহ মতিন টিপু (৩৭৫), কালের কণ্ঠের তানজিমুল নয়ন (৩৪৯), ইনকিলাবের নজরুল ইসলাম বশির (৩২৮), এমএ মান্নান মিয়া (৩১৪), ডেসটিনির মো. ফকরুদ্দীন মুন্না (২৯২), সমকালের জাহাঙ্গীর আলম (২৮২)। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৯০১ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৭১১ জন। জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে রোববার দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29527776 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29527776 2012-01-23 14:41:32
ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল নির্বাচন-২০১১ ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল নির্বাচন-২০১১ এ "প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক" পদে নির্বাচন করছি। ভোট গ্রহণ হবে প্রেসক্লাবে আগামী ২২ জানুয়ারি রবিবার দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এজন্য সকল সাংবাদিক বন্ধুদের সহযোগীতা কামনা করছি ...]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29524863 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29524863 2012-01-19 02:51:52 টেলিভিশন, সঙ্গীত ও মঞ্চ নাটকের সালতামামি ২০১১ একাধিক নতুন চ্যানেল
বর্তমানে দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন ছাড়াও দেড় ডজনের বেশি স্যাটেলাইট চ্যানেল চলছে। ২০১১-এর ডিসেম্বরেও দুটি স্যাটেলাইট চ্যানেল বিজয় টিভি ও চ্যানেল সিক্সটিন পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচারে এসেছে। এর আগে ৩০ জুলাই শুরু হয় বেসরকারী টিভি চ্যানেল মাছরাঙার আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার। এছাড়াও সম্প্রচারে আসে সংবাদভিত্তিক সময় ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি। বর্তমানে পরীক্ষামূলক সম্প্রচারে রয়েছে চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর, চ্যানেল নাইন ও জিটিভি। শীঘ্রই এগুলো ছাড়াও আরও কিছু চ্যানেল পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচারে আসবে।

চ্যানেলের আধিক্য নিয়ে প্রশ্ন
১৬-১৭ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে চ্যানেলের সংখ্যা দুই ডজন ছাড়িয়ে যাবে, যার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আদৌও আছে কিনা সেটি নিয়ে সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। কারণ অতিরিক্ত চ্যানেলের ফলে প্রচুর অনুষ্ঠানের নির্মাণ জরুরী হয়। ফলে অনুষ্ঠানের বাজেট কমে যায় ও মানহীন অনেক অনুষ্ঠান নির্মিত হয়। এতে করে দর্শকরা দেশীয় চ্যানেল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এবং বিদেশী অন্য চ্যানেলগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। এর সামগ্রিক প্রভাব পড়ে পুরো মিডিয়াতে।
উপরন্তু আমাদের দেশের বিজ্ঞাপন বাজার খুবই ছোট। নতুন নতুন চ্যানেল তৈরি হলেও সেই অনুপাতে বিজ্ঞাপনের বাজার তৈরি হচ্ছে না। এতে করে প্রতিটি চ্যানেলের মধ্যে সীমিত বিজ্ঞাপনই ভাগ হয়ে যাচ্ছে। এতে করে বিজ্ঞাপন যেমন কমে যাচ্ছে, তেমনি বিজ্ঞাপনের দরও কমে যাচ্ছে। ফলে অভিনেতা-অভিনেত্রী, লাইট, ক্যামেরাসহ যাবতীয় কিছুর মূল্য বৃদ্ধি হলেও নাটক বা অনুষ্ঠানের মূল্য বৃদ্ধি না হয়ে বরং কমেছে। এক পর্বের যে নাটকটির পূর্বে বিক্রয়মূল্য ছিল আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা, সেটিই এখন দুই লাখ টাকাতেও অনেক সময় প্রযোজকরা চ্যানেলগুলোর কাছে বিক্রি করছেন। ফলে নতুন চ্যানেলের আধিক্য ঘটলেও সেটি মিডিয়ার জন্য কতটুকু লাভজনক তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।



দর্শক টেনেছে ধারাবাহিক নাটক
সম্প্রতি ভারতীয় বাংলা চ্যানেলগুলোর দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটকগুলোর কাছে আমাদের দেশের নাটকগুলো রীতিমতো দর্শক খরায় ভুগতে শুরু করেছে। মাত্রাতিরিক্ত বিজ্ঞাপন বিরতিই এটির প্রধান কারণ বলে অধিকাংশ দর্শকদের মত। তবে এর পরও গেল বছর আমাদের দেশের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত বেশ কিছু ধারাবাহিক নাটক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে এনটিভিতে গ্র্যাজুয়েট, সবুজ নক্ষত্র, আরটিভিতে ‘অলসপুর’, শেয়াল প-িত, বাঘপুতুল, বয়রা পরিবার, এটিএন বাংলায় মতিঝিল কমার্শিয়াল এরিয়া, লীলাবতী, অচেনা মানুষ, কামিং সুন, পৌষ ফাগুনের পালা, পুতুল খেলা, হাওয়াই মিঠাই, দেশ টিভিতে সাতকাহন, নিকামালের বাইস্কোপ, গহীনে, চ্যানেল আইতে চৈতা পাগল, বাংলাভিশনে জামাইমেলা, ফিটটি ফিটটি, ডাইরেক্টর, লংমার্চ, নো প্রবলেম, একুশে টিভিতে ললিতা, গুনীন, জহুর আলী জহুরী, বৈশাখী টিভিতে রসামিয়া, ইকারুসের ডানা, পাথরের কান্না ও দিগন্ত টিভিতে ছায়াঘাতক।

একক নাটক প্রচারের পরিমাণ বেড়েছে
বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২০১১ সালে টিভি চ্যানেলগুলোতে এক পর্বের নাটক প্রচারের পরিমাণ বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা যায়, এক পর্বের নাটক নির্মাণের যে খরচ হয়, তাতে চ্যানেলে সেটি বিক্রয় করলে খুব বেশি লাভবান হওয়া যায় না। এ কারণে এক পর্বের নাটকের চেয়ে ধারাবাহিক নাটকে বাণিজ্যিকভাবে একজন প্রযোজক লাভবান বেশি হন। ফলে এক পর্বের নাটকগুলো প্রচারের জন্য ঈদ বা বিশেষ দিন ছাড়া বছরের অন্যান্য দিনগুলো রুদ্ধ থাকত। তবে গত বছর এ অবস্থার অনেকটাই পরিবর্তন ঘটেছে। মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোসহ বিভিন্ন স্পন্সর এক পর্বের নাটক প্রচারের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। ফলে দর্শকরা এখন প্রায় প্রতিটি চ্যানেলই সপ্তাহের এক বা একাধিক দিন এক পর্বের নাটক দেখতে পারছেন।



সঙ্গীতের ক্রান্তিকাল
পাইরেসির ভয়াল থাবায় ২০১১ সালও অডিও অঙ্গনের জন্য খুব বেশি সুসংবাদ বয়ে আনতে পারেনি। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর নতুন এ্যালবামের সংখ্যা ছিল অনেক কম। জনপ্রিয় শিল্পীদের অনেকেরই এ্যালবাম এ বছর দেখা যায়নি। অনেকে আবার মোবাইলে এ্যালবাম রিলিজ দিয়েছেন। ‘আহ্বান’ একক এ্যালবাম দিয়ে মোবাইলে এ্যালবাম প্রকাশের শুরুটা করেন হাবিব। এই ধারাবাহিকতায় প্রকাশ হয়েছে মিক্সড অ্যালবাম ‘সমর্পণ’, সোলসের ‘জ্যাম’, কুমার বিশ্বজিতের ‘মঘের পালকি’, ‘একটা আকাশ’, ‘স্বপ্নের আনাগোনা’ ও ‘প্রেমের আবাস’, অর্থহীনের ‘অসমাপ্ত-২’, তৌসিফের ‘অনিদ্রা’ ও মাইলসের ‘প্রতিচ্ছায়া’।

দেশীয় অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন পাইরেসীর ভয়াল থাবায় নতুন অডিও প্রকাশ থেকে অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলো তখন অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডেডলাইন মিউজিক বেশ কিছু এ্যালবাম প্রকাশ করে যেগুলোর অধিকাংশই শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে।

এছাড়া গত বছরের আলোচিত এ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে পুলকের প্রথম একক ‘যাবাবর পুলক’, লুৎফর হাসানের ‘ঘুড়ি তুমি কার আকাশে উড়ো’, আরেফিন রুমির ‘ভালোবাসি তোমায়’ ও ‘নীলাঞ্জানা’, বারি সিদ্দিকীর ‘দুঃখ দিলে দুঃখ পাবি’, শহীদের ‘নীলাম্বরী’, সোলসের ‘জ্যাম’, অর্থহীনের ‘অসমাপ্ত-২’, ব্ল্যাকের ‘ব্ল্যাক’, শূন্যর ‘গড়বো বাংলাদেশ’, পার্থিবের ‘উৎসর্গ নিজেকে’, হৃদয় খানের ‘ছোঁয়া’, কনার ‘সিম্পলি কনা’, প্রিন্স মাহমুদের মিক্সড এ্যালবাম ‘নির্বাচিতা’, মাহমুদ সানীর ‘হৃদয়ের গল্প’ ও তানভীর তারেকের মিক্সড এ্যালবাম ‘কাহাতক’, অকালপ্রায়ত ক্লোজআপ ওয়ান তারকা আবিদ শাহরিয়ারের রবীন্দ্রসঙ্গীতের এ্যালবাম ‘নব আনন্দে জাগো’ প্রভৃতি। এছাড়া চলচ্চিত্রের গানের বেশ কিছু অডিও এ্যালবামও ২০১১-তে শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছ। এগুলোর মধ্যে অন্যতম মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘প্রজাপতি’ চলচ্চিত্রের গানগুলো।

তবে সঙ্গীত অঙ্গনের সবচেয়ে সুখকর একটি সংবাদ হলো দেশে রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহশালা ‘শ্রুতি গীতবিতান’ তৈরি হয়েছে গত বছরের ডিসেম্বরে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতিবিতানের ২ হাজার ২২২টি গানের স্বরলিপি সংগ্রহ করা, দেশের প্রয়াত শিল্পীদের গাওয়া গানগুলো খুঁজে বের করা এবং অবশিষ্ট গানগুলো রেকর্ডিংয়ের দীর্ঘ কর্মপরিকল্পনা অতিক্রম করে এর কাজ সম্পন্ন হয়। কাজটি তত্ত্বাবধান করেছে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার রবীন্দ্রসঙ্গীতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুরের ধারা। ২৯ ডিসেম্বর এক হাজার শিল্পীর সম্মেলক গানের মাধ্যমে শ্রুতি গীতবিতানের মোড়ক খোলা হয়।

নতুন মঞ্চ নাটক
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী থাকায় ২০১১ সাল জুড়ে মঞ্চে রবীন্দ্র নাটকের আধিপত্য ছিল। কবিগুরু রচিত নাটক ও তার আলোচিত সাহিত্যকর্মের নাট্য রূপায়ণে নির্মিত হয়েছে ১৪টি নতুন নাট্য প্রযোজনা। এর মধ্যে মহাকাল নাট্যসম্প্রদায়ের ‘নিশি মন বিসর্জন’, প্রাঙ্গণে মোরের ‘শেষের কবিতা’, থিয়েটার বেইলী রোডের ‘মুক্তধারা’, লোক নাট্যদলের ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’, মণিপুরি থিয়েটারের ‘দেবতার গ্রাস’, দ্যাশবাংলা থিয়েটার প্রযোজিত ‘চ-ালিকা’, চট্টগ্রামের তির্যক নাট্যদলের ‘রাজা’, পালাকারের ‘রথের রশি’, চট্টগ্রামের গণায়ন প্রযোজিত ‘মুক্তধারা’, পদাতিক নাট্য সংসদ টিএসসির ‘কালের যাত্রা’, ঢাকা থিয়েটারের ‘নষ্টনীড়’, স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ ও নাগরিক নাট্যাঙ্গন প্রযোজিত ‘মুক্তির উপায়’। অনুদানের বাইরেও বেশকিছু নতুন নাটক মঞ্চে এসেছে। বছরের প্রথমদিন অবয়ব নাট্যদল ‘ভূমধ্যসাগর’ নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন করে। ৪ এপ্রিল এই দলটি ‘ফেরিওয়ালা’ নামের আরেকটি নতুন নাটক মঞ্চে আনে। এছাড়াও রয়েছে নাগরিক নাট্যাঙ্গন আনসাম্বলের ‘রাজা রানী’, ঢাকা ড্রামা মঞ্চের ‘ছায়াবৃক্ষ’। ফেব্রুয়ারি মাসে উদীচী নাটক বিভাগ ‘রাজনৈতিক হত্যা’ মঞ্চে আনে। ২৩ মার্চ চন্দ্রকলা থিয়েটার ‘তন্ত্রমন্ত্র’ নাটকের প্রথম প্রদর্শনী করে। ১১ এপ্রিল নাটকের দল নাটুকে ফরাসী নাট্যোৎসবে ‘ইটকেলটি মারলে পাটকেলটি’র উদ্বোধনী প্রদর্শনী করে। একই উৎসবে ফেইম ইশকুল স্যামুয়েল বেকেটের তিনটি নাটকের সমন্বয়ে ‘ত্রয়ী’ মঞ্চে আনে। দেশ নাটক ১৪ এপ্রিল মঞ্চে এনেছে ‘মঙ্গল মুখ’ নাটক। ২১ এপ্রিল উন্মোচন থিয়েটার মঞ্চে আনে ‘প্রস্তাব’ নাটক। ২২ এপ্রিল নরশ্বন্ধ থিয়েটার মঞ্চে আনে ‘পাবলিক টয়লেট’। নাট্যচক্র মঞ্চে আনে ‘পালাকারের নক্সা’। ২০ মে শূন্যন থিয়েটার মঞ্চে আনে মান্নান হীরার রচনায় ‘লাল জমিন’ নাটক। মান্নান হীরার রচনার ‘রাজারবাগ ৭১’ নাটকটি রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পুলিশ সদস্যরা মঞ্চে আনেন। বুনন থিয়েটার ৩০ জুন মঞ্চে আনে সেলিম আল দীনের ‘চাকা’ নাটক। ২৩ জুন হঠাৎ নাট্যসম্প্রদায় উদ্বোধনী প্রদর্শনী করে ‘পাদুকা বর্জন’ নাটক। প্রাচ্যনাট এই বছর মঞ্চে এনেছে নতুন নাটক ‘মায়ের মুখ’। ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস অব বাংলাদেশ [ইউল্যাব] নতুন নাটক মঞ্চে আনে ‘লীলা আকাক্সক্ষা’। নতুন নাটক ‘টিউমার’ মঞ্চে এনেছে অঙ্গীকার নাট্যদল। নতুন দল থিয়েটার পুণ্যভূমি ৬ জুন ‘মাকড়সা’-এর উদ্বোধনী মঞ্চায়ন করে। আরেক নবাগত দল তীরন্দাজ ৮ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রদর্শনী করে ‘অনৈতিহাসিক’ নাটক। ঢাকা মঞ্চ এনেছে ‘গারদখানা’ নাটক। নতুন দল ড্রামা ডটকম প্রথম প্রযোজনা হিসেবে ২৮ নভেম্বর মঞ্চে এনেছে ‘জানালায়’ নাটক। ঢাকা থিয়েটার মঞ্চ ‘আমলার মামলা’ নাটক মঞ্চে আনে অক্টোবর মাসে। রঙ্গনা নাট্যগোষ্ঠী এ বছর মঞ্চে আনে ‘হায় দেবদাস’ নাটক। বাংলা থিয়েটার মঞ্চে আনে একক অভিনয়ের নাটক ‘দি ডিস্টেন্ট নিয়ার’। একক অভিনয়ের আরেক নাটক রবীন্দ্রনাথের ‘স্ত্রীর পত্র’ মঞ্চে আনে জিয়নকাঠি। শব্দ নাট্য চর্চাকেন্দ্র এ বছর মঞ্চে আনে ‘রাজা সাহিত্য কারখানা’ ও ‘রাইফেল’। শিল্পকলা একাডেমী রেপার্টরি থিয়েটার ১৫ ডিসেম্বর মঞ্চে এনেছে ‘মুক্তি মুক্তি’ নাটক। পদাতিক নাট্য সংসদ সম্প্রতি মঞ্চে এনেছে নতুন নাটক ‘সে’। সবশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর থিয়েটার আর্ট ইউনিট মঞ্চে আনে কবিগুরুর ‘শেষের কবিতা’ নাটক।

বছরজুড়ে নাট্যোৎসব
গেল বছরজুড়েই ছিল নাট্যোৎসব। ঢাকায় ভাঙাগড়া উৎসব ছাড়া বাকি সব উৎসবের আয়োজন হয় শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে। ৮-১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভাঙাগড়া উৎসবটি চলে মহিলা সমিতি মঞ্চে। ঢাকায় ২০১১ সালের প্রথম নাট্যোৎসবটিরও আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে এ নাট্যোৎসব চলে ২৫-৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। একই মিলনায়তনে সেলিম আল দীন নাট্যোৎসব চলে ১৪-১৭ জানুয়ারি পর্যনত। নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে মনোড্রামা উৎসব চলে ২৩-৩০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে ৩০ মার্চ-২ এপ্রিল পর্যন্ত চার দিনব্যাপী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নাট্যোৎসব চলে নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে। ৩১ মার্চ-৬ এপ্রিল পর্যন্ত নাট্যশালায় মহানগর নাট্যোৎসবের আয়োজন করে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। মে মাসে ব্যাপক আকারে উৎসবের আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট [আইটিআই]। ৪-১২ মে পর্যন্ত নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে উৎসবের আয়োজন করে নাটকবিষয়ক পত্রিকা থিয়েটারওয়ালা। জুনে নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে দুই বাংলার নাট্যমেলার আয়োজন করে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। ১৩ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত আবদুল্লাহ আল মামুনের জন্মোৎসবের আয়োজন করে থিয়েটার বেইলি রোড। ১৯-২৫ নভেম্বর পর্যন্ত নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে লোকনাট্য দল তিন দশকপূর্তি নাট্যোৎসবের আয়োজন করে। ২৬ নবেম্বর থেকে মূল মিলনায়তনে উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ থিয়েটার রজতজয়ন্তী নাট্যোৎসব। ২ ডিসেম্বর থেকে উৎসবের আয়োজন করে মহাকাল নাট্যসম্প্রদায়। শিল্পকলা একাডেমী ১০-১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত উৎসবের আয়োজন করে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29513535 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29513535 2011-12-31 19:49:31
টিআরপি ॥ বিব্রত চ্যানেল, বিভ্রান্ত বিজ্ঞাপনদাতা
আমাদের দেশে টিআরপির ধারণাটি একেবারে নতুন হলেও ইতোমধ্যে এটি বিভিন্ন চ্যানেল ও চ্যানেল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিজ্ঞাপনদাতাদের দৃষ্টিতে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। তবে পাশাপাশি টিআরপির ফলে বিজ্ঞাপনদাতা ও চ্যানেল কর্তৃপক্ষ স্রেফ বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলেও অনেক চ্যানেলের হর্তা-কর্তারা অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশে সিরিয়াস নামের একটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি চ্যানেলগুলোর টিআরপি জরিপ নিয়মিত প্রকাশ করে থাকে। তারা ঢাকা শহরের ১৪৬টি বাড়ির টেলিভিশন সেটের সঙ্গে বিশেষ যন্ত্র সংযোজন করে এই টিআরপি জরিপটি করে থাকে। এখন টিআরপির এই পদ্ধতির বিরুদ্ধে মূল যে অভিযোগ সেটি হলো, মাত্র ১৪৬টি টেলিভিশন সেটের মাধ্যমে যে জরিপটি করা হচ্ছে সেটি কতটুকু যৌক্তিক বা গ্রহণযোগ্য? কারণ সারা দেশের লাখ লাখ টেলিভিশন সেট ও দর্শকদের বদলে মাত্র ১৪৬টি টেলিভিশন সেটের দর্শকদের তথ্য গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সেটিই টিআরপি জরিপ হিসেবে প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন ওঠাটা খুবই স্বাভাবিক যে, এই জরিপটি কি আদৌ বাংলাদেশের সব ধরন ও শ্রেণী-পেশার দর্শকদের প্রতিনিধিত্ব করে কিনা?

রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ জরিপ প্রতিষ্ঠান সিরিয়াসের মিডিয়া রিসার্চ এক্সিকিউটিভ প্রণব জানান, তাঁরা কেবল ঢাকা মেট্রোতেই তাদের জরিপ চালিয়ে থাকে। ১৪৬টি বাড়ির টেলিভিশন সেটে তাদের জরিপ ডিভাইসটি বসানো আছে। সেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত নিয়েই তারা প্রতি সপ্তাহের জরিপ ফলাফলটি প্রকাশ করে থাকে।

কিভাবে তাদের জরিপটি হাতে পাওয়া যাবে জানতে চাইলে তিনি জানান, বার্ষিক গ্রাহক হবার ভিত্তিতে নিয়মিত জরিপ তালিকাটি পাওয়া যাবে। বার্ষিক গ্রাহক ফি ভ্যাট ব্যতীত ৬ লাখ টাকা বলে তিনি জানান।

এ প্রসঙ্গে আরটিভির রিসার্চ এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিংয়ের প্রোগ্রাম ম্যানেজার রবিশঙ্কর মৈত্রী বলেন, আরটিভিতে প্রচারের উদ্দেশ্যে ধাক্কা নামের একটি এক পর্বের নাটক জমা পড়ে। নাটকটির মান ও কাহিনীতে অসঙ্গতি থাকায় তা প্রচারের অনুপযোগী হিসেবে ফেরত দেয়া হয়। পরে আরটিভির মার্কেটিং শাখা থেকে ক্রয়কৃত চাঙ্কে প্রচারের জন্য সেই নাটকটি আমাদের কাছে দেয়া হয়। আমরা নাটকটি প্রচার করতে বাধ্য হই। পরে আমরা আরেকটি ধাক্কা খাই, যখন দেখলাম পরবর্তী সপ্তাহের টিআরপি তালিকায় সেই নাটকটি শীর্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে আমাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে যে, যাদের ওপর টিআরপি করা হচ্ছে তারা আসলে কোন শ্রেণী-পেশার মানুষ?

একই চ্যানেলের হেড অব প্রোগ্রাম মিনহাজুর রহমান বলেন, আরটিভির রাতের সঙ্গীতানুষ্ঠানগুলোতে দর্শকরা প্রচুর ফোন ও ই-মেইল করেন। এছাড়া পরিচিত অনেকেই যে অনুষ্ঠানটি নিয়মিত দেখেন সেটি আমরা তাদের কাছ থেকেই শুনতে পাই। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, টিআরটির জরিপে লাইভ সঙ্গীতানুষ্ঠান তেমন জোড়ালো অবস্থানে থাকে না বললেই চলে। আবার বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে আমরা যে পরিমাণ টিআরপি পাই সেটি আমাদের মোট টিআরপির ৩৫-৪০ শতাংশ।

মিনহাজুর রহমান আরও বলেন, আমাদের বিজ্ঞাপনদাতারাও বোঝেন যে এই টিআরপির মূলত কোন মূল্য নেই। তবুও তারা এটি সামনে নিয়েই চ্যানেলগুলোর বিজ্ঞাপনের মূল্য ও পরিমাণ ভাগ করেন। আর এর জন্য আমাদের অনুষ্ঠান যেন এই ১৪৬টি সীমিত টেলিভিশন সেটের মাধ্যমেই টিআরপিতে অবশ্যই আসে সেই চেষ্টাই করতে হয়।

সিরিয়াস নামক প্রতিষ্ঠানে টিআরপি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করতেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন একজন কর্মী জানান, মূলত ঢাকার নিম্ন মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত শ্রেণীর টেলিভিশন সেটের মাধ্যমেই তারা টিআরপি জরিপটি সংগ্রহ করেন। কারণ টিআরপির জন্য টেলিভিশন সেটে যে যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয়, সেটি লাগাতে দিতে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর তেমন কেউই রাজি হন না। ফলে তাদের বেছে নিতে হয় নিম্নবিত্ত শ্রেণী তথা অপেক্ষকৃত অসচ্ছল শ্রেণী ও পেশাজীবীদের।

অনুষ্ঠান নির্মাতা ও প্রযোজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, তাদের কাছে টিআরপি হলো বিভীষিকারূপী দৈত্য বিশেষ। কারণ এই টিআরপির উত্থান বা পতনই তাদের অনুষ্ঠানের দীর্ঘায়ু অথবা মৃত্যু ঘটাতে পারে। এ কারণে অনেক সময় দেখা যায়, খুব জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠানও টিআরপির অভাবে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।

জানা গেছে, সিরিয়াস নামের প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরবরাহকৃত টিআরপিটি কোন পত্রিকা বা চ্যানেল প্রচার বা প্রসার করে না। কেবল একটি অনলাইন নিউজ সাইট-ই তাদের মিডিয়া রিলেটেড নিউজে সিরিয়াসের টিআরপি জরিপের সোর্স দিয়ে নিউজ পরিবেশন করে থাকে।

বৈশাখী টিভির এসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) ফারহানা নিশো বলেন, ১৬ কোটি মানুষের এ দেশে মাত্র ১৪৬টি টেলিভিশন সেটের মাধ্যমে টিআরপি করে সেই ফলাফল প্রকাশ করাটা কতটুকু প্রাসঙ্গিক সেটি নিয়ে ভাবা যেতে পারে। বিশেষত যখন দেখি আমার বা আশপাশের পরিচিত কারোরই টিভি সেটে এই জরিপ করার ডিভাইসটি স্থাপন করা হয়নি, তখন স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, তাহলে কাদের টিভি সেটের মাধ্যমে এই জরিপ করা হচ্ছে? চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভিন্নতা থাকে। এজন্য একই প্রক্রিয়ায় সেরা চ্যানেল নির্ধারণ করার মানদ- নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে জরিপ করা উচিত বলেই আমি মনে করি।

শেষ চার সপ্তাহ ধরে টিআরপি জরিপের শীর্ষে থাকা বাংলাভিশনের হেড অব প্রোগ্রাম শামীম শাহেদ এ সম্পর্কে বলেন, যে কোন পদক্ষেপের আগে জরিপ করাটা জরুরী। এজন্য সিরিয়াস যে জরিপটি করছে সেটিকে অবশ্যই গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

একই ধরনের বক্তব্য দেন একই চ্যানেলের প্রোগ্রাম ম্যানেজার দেওয়ান শামসুর রকিব। তিনি বলেন, টিআরপি জরিপে যে চ্যানেল শীর্ষ থেকে নিচে নেমে যায় তখন সেটি এই ধরণের জরিপের ওপর ক্ষুব্ধ হয়, অথচ শীর্ষে থাকা অবস্থায় সে এই জরিপটি গ্রহণ করে। জরিপ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক ধরনের কথাই থাকে। তবু আমার কাছে মনে হয়, যেহেতু আমাদের দেশের অনেক ফার্মগুলোর মধ্যে এই একটি ফার্মই চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান নিয়ে জরিপ করছে, সুতরাং তাদের অবশ্যই সাধুবাদ জানানো উচিত। আর এ কারণে এই জরিপের ফলাফলকে গ্রহণ করা উচিত।

অন্যদিকে একুশে টেলিভিশনের এ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার অঞ্জন রায় এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেন নি।

***********************************************

[ বিঃ দ্রঃ আমার লেখা এই রিপোর্টটি গত সপ্তাহেই পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে প্রয়োজন মনে করছি বলে ব্লগে শেয়ার করলাম।]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29463105 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29463105 2011-10-10 00:52:41
ভাল লাগা থেকে স্বপ্নের অপমৃত্যুতে একজন অরুণ চৌধুরী ...
মূলত "কিশোর তারকালোক" কে বিনোদনমূলক ম্যাগাজিনের কিশোর সংস্করণ বললেও অতুক্তি হবে না। অন্যদিকে "কিশোর পত্রিকা" ক্ষুদে পাঠকদের অভিজ্ঞতা লেখা আহবানের মাধ্যমে বেশ কিছু লেখকও তৈরি করেছিল। ফলে দুটি পত্রিকা দুটি ভিন্ন ছাঁচে বা আদলে গড়ে ওঠে। "কিশোর তারকালোক" বর্তমানে প্রকাশিত হলেও "কিশোর পত্রিকা"-র প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায় বেশ আগেই।

দুটি পত্রিকার মধ্যে সুস্পষ্ট একটি পার্থক্য ছিল বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ নিয়ে। "কিশোর তারকালোক" বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করলেও "কিশোর পত্রিকা" তা করতো না। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল "কিশোর তারকালোক"-এর বিশেষ ঈদ সংখ্যা, ভূত সংখ্যা, সায়েন্টিফিক সংখ্যা, রহস্য সংখ্যা প্রভৃতি। বর্ধিত কলেবরে প্রকাশিত এসব সংখ্যার মধ্যে ঈদ সংখ্যায় বিভিন্ন লেখকরা ছাড়াও দেশের প্রথিত যশা ব্যক্তিরা লিখতেন। এদের মধ্যে অরুণ চৌধুরী প্রতি বছর কেবল "কিশোর তারকালোক"-এর ঈদ সংখ্যায় একটি ধারাবাহিক সায়েন্টিফিক উপন্যাস লিখতেন। তখন বাংলাদেশে সায়েন্টিক লেখা পাওয়া যেত কেবল সেবার বই পড়ে। অরুন চৌধুরীর সেই ধারাবাহিক উপন্যাসটি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করে। আমার এখনও মনে পড়ে, কেবল সেই উপন্যাসটি পড়ার লোভেই পরবর্র্তীতে বেশ কয়েক বছর "কিশোর তারকালোক" কিনতাম। কিন্তু তখনও জানতাম না তিনি কে, কি করেন?

পরবর্তীতে ২০০০ সালে যখন "আজকের কাগজে" কাজ শুরু করলাম তখন জানতে শুরু করলাম অরুণ চৌধুরী সম্পর্কে। তার লেখা উপন্যাস পড়তাম বা নাটক দেখতাম আগ্রহ নিয়ে। একটা ভাল লাগা ছিল তার লেখক সত্ত্বাকে ঘিরে। পরবর্তীতে যখন মিডিয়া জগত নিয়ে আরও জানলাম তখন অরুণ চৌধুরীর ব্যক্তিক পরিচয় নিয়েও বেশ অনেক ধরণের খবর শুনতাম। স্ত্রী চয়নিকা চৌধুরীর সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক ভাল নয় বা চয়নিকার ব্যক্তিক ইমেজও খুব সুবিধের নয় বলে মিডিয়া মহল থেকে মাঝে-সাঝেই শুনতাম। কিন্তু অরুণ চৌধুরীর স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে হাস্যজ্জ্বোল গ্রুপ ছবিটি দেখে অধিকাংশ খবরকেই ভিত্তিহীন মনে করতাম।

অবশেষে ৩.১ মেগাবাইটের ছোট একটি ভিডিও ক্লিপিংস্ অরুণ চৌধুরী সম্পর্কে জানা-অজানা সব তথ্যের ভিত্তিহীনকে ভিত্তির মূলে দাঁড় করিয়ে দিলো। নিজের ব্যক্তি ইমেজ ও অবস্থানকে ব্যবহার করে তিনি যেভাবে মিডিয়ার নতুন মেয়েদেরকে ব্যবহার করেছেন সেটি যে তার অত্যন্ত দুর্বল ও নিম্ন মানসিকতারই পরিচায়ক সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ট্রান্সকম গ্রুপের মালিকানাধীন আনন্দধারা পত্রিকার সম্পাদক ছাড়াও নাট্যাঙ্গনে নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে নিজের যে ব্যক্তিক ইমেজটি তিনি গড়ে তুলেছিলেন সেটির নিঃসন্দেহে অপব্যবহার করেছেন। সাম্প্রতিক মিডিয়ায় স্ক্যাণ্ডালের অস্থিরতার ভীড়ে অরুণ চৌধুরীর এই ভিডিওটি নিয়ে ব্লগ ও ফেসবুকে রীতিমত আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে।

আনন্দধারার একটি সোর্স থেকে আজ খবর পেলাম যে, অরুণ চৌধুরী আনন্দধারার সম্পাদক হিসেবে আর থাকছেন না। তাকে সম্পাদক পদ থেকে ইতিমধ্যে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে তিনি যেমন নিজের ক্যারিয়ারের সর্বনাশ ডেকে এনেছেন তেমনি অসংখ্য পাঠককে করেছেন হতাশ। ঠিক এমনি আরেকটি হতাশ হয়েছিলাম হুমায়ূন আহমেদের কীর্তি দেখে!

একজন লেখক, সাহিত্যিক বা মিডিয়াকর্মী শুধু নিজের সত্ত্বারই পরিচায়ক হন না, বরং তিনি অন্যদের জন্যও আইডল হিসেবে চিহ্নিত হন। অথচ আমরা যাদেরকে আইডল হিসেবে নেব তারাই আজ ইমেজ সংকটে ভুগছেন। এক একটি স্বপ্নের অপমৃত্যৃ হচ্ছে প্রিয় মানুষটিকে নিজের ব্যক্তিগত লালসার কাছে পরাজয় হতে দেখে।
অথচ এমনটা কখনোই কাম্য ছিল না।
অথচ এমনটিই ঘটছে।
আর মানতে কষ্ট হচ্ছে, কারণ এটাই যে বাস্তবতা!

**********************************************
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29415633 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29415633 2011-07-19 01:34:21
মিডিয়া তারকাদের স্ক্যাণ্ডাল : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ
অথচ সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মিডিয়া তারকাদের স্ক্যাণ্ডাল তৈরি হচ্ছে। এই তালিকায় অভিনেতা-অভিনেত্রী-উপস্থাপক-পরিচালকসহ অনেক ক্যাটেগরির মিডিয়া তারকারাই রয়েছেন। এতে করে মিডিয়ার যেমন ইমেজ সংকট হচ্ছে তেমনি সাধারণ মানুষজনও মিডিয়া সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণ করছেন। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু স্যাটেলাইট চ্যানেলের প্রসারের ফলে মেধাবী ছেলে-মেয়ের মধ্যে মিডিয়াতে কাজ করবার মানুষিকতা তৈরি হচ্ছে। এক্ষেত্রে তাদের অভিভাবকরাও তাদেরকে অনেক ক্ষেত্রেও উৎসাহিত করছেন। কিন্তু একের পর এক মিডিয়া তারকাদের স্ক্যাণ্ডাল প্রকাশ হওয়ার ফলে মিডিয়াতে কাজের ক্ষেত্রটি নতুনদের কাছে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষত মেয়েদের ক্ষেত্রে তাদের অভিভাবকরা সিদ্ধান্তহীনতায় পড়ে যাচ্ছেন।

মিডিয়াতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর্মরতরা ভাল করেই মিডিয়ার হালচাল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন। ফলে কোন ব্যক্তির নীতি নৈতিকতার কোন সমস্যা থাকলে তা সকলের জানতে বা সকলের মধ্যে প্রচার হতে সময় লাগে না। কিন্তু সমস্যা হয় নতুনদের ক্ষেত্রে। নতুন একটি ছেলে বা মেয়ে যখন সেই ব্যক্তিটির নৈতিক ভাবে দুর্বল ভিত্তিটি আবিষ্কার করতে পারে তখন স্বাভাবিক ভাবেই মিডিয়াতে কাজের প্রসঙ্গটি তার কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাতে শুরু করে। ফলে অন্যান্য কর্মক্ষেত্রের মত সেটি আর বিবেচিত না হয়ে বরং ব্যক্তির নোংরামির স্থান হিসেবে আরোপিত হয়। যা নতুনদেরকে মিডিয়াতে আসতে পরোক্ষভাবে বাঁধা দেয়। এই পরোক্ষ হিসেবটিকে মিডিয়ার প্রকাশ্য স্ক্যাণ্ডাল বহির্ভূত ক্ষতি হিসেবে ধরা যেতে পারে।

অন্যদিকে প্রকাশ্য স্ক্যাণ্ডাল বলতে বোঝানো হচ্ছে নৈতিকভাবে অবক্ষয় হয়েছে এমন মিডিয়া তারকাদের আমাদের দেশে একসেপটেবল নয় এমন ফটো, ভিডিও, অডিও ক্লিপিংস্ প্রভৃতিকে।
বিশ্বায়নের যুগে ইন্টারনেটের প্রসারের ফলে মানুষজনের কাছে তথ্যের অবাধ প্রবাহ খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। ফলে মিডিয়া তারকাদের স্ক্যাণ্ডাল ফটো, ভিডিও বা অডিও ক্লিপিংস্ সাধারণের হাতে চলে যাচ্ছে খুবই সহজে।

মিডিয়া তারকাদের প্রতি মানুষজনের আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। ফলে এসব স্ক্যাণ্ডালের বিষয়ও প্রচার হতে খুব বেশি সময় লাগে না। আর এতে করে প্রতিক্রিয়াটা হয় অত্যন্ত বেশি। যদিও অধিকাংশ তারকাই প্রকাশ পাওয়া স্ক্যাণ্ডাল অস্বীকার করেন। তবে মানুষ এখন অনেক বেশি সজাগ। অন্যভাবে বললে, ঠিক-বেঠিক ধরতে তারা এখন আর বিশেষজ্ঞদের মতামতের অপেক্ষা করেন না। ফলে যে তারকার স্ক্যাণ্ডাল রটে যায় সেই তারকার ইমেজের ক্ষতি ছাড়াও মানুষজনের কাছে পুরো মিডিয়ারই ইমেজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এতে অন্যসব যারা স্ক্যাণ্ডালের বাইরে রয়েছেন তাদের উপরও এক ধরণের দোষ চলে আসে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কিছু সুযোগ-সন্ধানী মানুষের জন্য মিডিয়ার বদনাম হয়। এরা মিডিয়ায় ক্যারিয়ার গড়ার জন্য নিজেকে ‘উৎসর্গ’ করে। তবে এর বিনিময়ে অর্থ আর খ্যাতি ছাড়াও যে বদনাম সে অর্জন করছে, সেটির ভাগীদার কিন্তু সকলেই হচ্ছে! এ কারণেই অল্প কিছু মানুষের বদনামের খতিয়াত দিতে হচ্ছে অন্য সকল মিডিয়া তারকা ও কর্মীদেরকে।

তাহলে অল্প কিছু মানুষের জন্য অন্যরা কেন ভিকটিম হবে?

মিডিয়ায় সুস্থ কাজের অন্তরায় সৃষ্টিকারী এই দৈত্যের বিনাশ কবে হবে?

বিষয়টি অবশ্যই সকলকে ভেবে দেখতে হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29412478 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29412478 2011-07-13 22:57:49
পপসম্রাট ও মুক্তিযোদ্ধা আজম খানের কথা

জন্ম ও শৈশব
আজম খানের জন্ম ফেব্রুয়ারি ২৮, ১৯৫০। তাঁর পুরো নাম মাহবুবুল হক খান । বাবার নাম আফতাব উদ্দিন আহমেদ ও মা জোবেদা খাতুন। শৈশবে তাঁর পাঁচটি বছর কাটে আজিমপুর কলোনিতে। তাঁর বাবা ছিলেন বাইনাগাছির আজীবন চেয়ারম্যান। সম্রাট সিরাজউদ্দৌলার দরবারের মূল গায়েনের বংশধর ছিলেন তাঁরা। মা ছিলেন সঙ্গীত প্রতিভাধর। দেশীয় এবং ইন্ডিয়ান বাংলা গান অনুশীলন করতেন তিনি। তবে সংসারজীবনে আবদ্ধ থেকে সম্ভব হয়নি গানের ভুবনে তেমন একটা পাড়ি জমাবার। নিজ সন্তানদের গেয়ে শোনাতেন ‘ইন্ডি বিন্ডি সিন্ডি তিনজনে’-এর মতো মনকাড়া মজার গান। বাবা আফতাব উদ্দিন খানও একই বংশধরের। তিনি ব্যক্তিগতভাবে হোমিওপ্যাথির চর্চা করতেন এবং গরিব অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতেন। মূলত তিনি ছিলেন সরকারী চাকরিজীবী। তিনি ছিলেন সেক্রেটারিয়েট হোম ডিপার্টমেন্টের এডমিনিসট্রেটিভ অফিসার। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন কলকাতা ইউনিভার্সিটির বাংলা বিভাগে গোল্ড মেডেলপ্রাপ্ত মেধাবী ছাত্র। ১৯৫৬ সালে আজিমপুর কলোনি ছেড়ে কমলাপুর জসিমউদ্দিন রোডে নিজস্ব দোতলা ভবনে বসতি স্থাপন করেন। ১৯৫৬ সালের ভাষা আন্দলনের প্রাথমিক পর্যায় প্রত্যক্ষ করেন নিজ চোখে। সে সময় শিশু আজম খান ভীষণ আগ্রহ নিয়ে জানালার শিক ধরে দাঁড়িয়ে দেখতেন লতিফ ভাই গান গাইছেন হার্মোনিয়াম বাজিয়ে ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়।’

যৌবন
উঠতি বয়সে বড় ভাইদের গানের চর্চা দেখেশুনে উদ্বুদ্ধ হতেন গান করতে। বিভিন্ন এলাকার বন্ধুদের বাড়ির ছাদে বসে জমে উঠত গানের আসর। হেমন্ত, শ্যামল মিত্র, মুখেশ, মহাম্মদ রফিক, কিশোর কুমারসহ দেশ-বিদেশের নানান শিল্পীর গানে মাতিয়ে রাখতেন আসর। বন্ধুরা উৎসাহ দিত ভীষণ আর বলত মূল শিল্পীর চেয়েও ভাল গাইতেন তিনি। প্রেম, রোমান্স, বিনোদনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং দৃঢ়। তাই যৌবনের প্রেমহারা বেদনায় দীর্ঘকাল মনোকষ্টে ভুগেছেন তিনি। জীবনের সকল দিকের প্রকাশই রয়েছে তার গানের মধ্যে নানা সুরে।



মুক্তিযুদ্ধ
আজম খান যখন নবম শ্রেণীতে পড়েন তখন দেশের পরিস্থিতিতে বুঝতে পারলেন যে পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানকে ঠকাচ্ছে। সে সময় ক্রান্তি গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলিত হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় গান করলেন। সে সময় শুরু থেকেই প্রচ- মানসিক আতঙ্ক ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত হচ্ছিল, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই জীবন হারাবার ভয় আর কোণঠাসা হয়ে থাকা আত্মিক দশায় রেহাই পাবার তাগিদে ঘরে ঘরে মানুষের মনে জেগে ওঠে বিদ্রোহ। বাবার কাছে যখন যুদ্ধে যাবার ইচ্ছার কথা বলেন। তখন তিনি আদেশ করেন যে যুদ্ধে জয় লাভ করেই যেন তিনি ঘরে ফেরেন। বাবার উক্তিটুকু মনে নিয়ে জীবনকে বাজি রেখে অংশ নিলেন মুক্তিযুদ্ধে। তাঁর সঙ্গী ছিলেন ফোয়াদ, সাবু, জিন্না, শফি, কচি প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। প্রশিক্ষণ নেবার জন্য হাঁটা পথে এবং নৌকায় চড়ে পৌঁছেন ইন্ডিয়ার ত্রিপুরা রাজ্যের, আগরতলার মেলাঘরে। দু’টি প্লাটুনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রশিক্ষণ দিতেন ওস্তাদ মিতা। দুপুরে ও রাতে খাবার দেয়া হতো অধিকাংশ সময়ই রুটি, সবজি আর ডাল-ভাতসহ কখনও কখনও খাশির মাংস। ট্রেনিং শেষে দেশে ফিরে গেরিলাযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। অংশগ্রহণ করেন একের পর এক মিশনে। সবার প্রথমে অংশ নেন কুমিল্লার সালদাহে। এরপর ঢাকার ডেমরা, যাত্রাবাড়ী হয়ে লক্ষ্মানদী, বালুনদী, গুলশান, ইসাপুর ও ক্যান্টনমেন্টের পাশ পর্যন্ত নানা স্থানে। গেরিলা যুদ্ধের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল মিশন শেষ হবার পরই সে স্থান ছেড়ে যত দ্রুত সম্ভব অন্যত্র চলে যাওয়া। পাকিস্তানী মিলিটারিরা ছিল যানবাহন, অস্ত্র সামগ্রীর আয়োজন ও যোগাযোগে শক্তিশালী আর বাঙালীরা ছিল জনবলে অধিক শক্তিশালী। অথচ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাব, যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বাঙালীরা ছিল সঙ্কটাপন্ন যদিও অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিলেও নানা প্রকার দ্রব্যসামগ্রী দিয়ে অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময় ডেমরার তিতাস মিশনের পর নদীপথে অন্যত্র যাবার পথে নৌকাডুবিতে অসহায় অবস্থায় পরেন তিনি। নদীর তলদেশের লতায় পা বেধে যাবার ফলে সাঁতার কাটা দুরূহ হয়ে পড়ে। অস্ত্র টানার নৌকা জড়িয়ে ধরে আত্মরক্ষা করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবার পর অবসর মূহূর্তেও মানসিক স্পৃহা যোগাতে মুক্তিযুদ্ধ ক্যাম্পে বসে গান ধরতেন তিনি। তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে ঘটি, বাটিতে চামচ বাজিয়ে গান ধরতেন ক্যাম্পের অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারাও। উচ্চ রবে গাইত সবাই ‘হে মহামানব একবার এস ফিরে, এ গ্রাম বাংলার ভিড়ে’, ‘মানবো না মানবো না বন্ধনে, মানবো না মানবো না শৃঙ্খলে’, ‘ধনে ধান্য পুষ্পে ভরা, আমাদের এ বসুন্ধরা’ প্রভৃতি গান।



মিডিয়া ভুবনে আজম খান
সঙ্গীত প্রেমিক হিসেবে আজম খান একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। জীবনের নির্মম পরিহাসে অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত অবস্থায়ও আঁকড়ে ধরেছিলেন গান। মুক্তিযুদ্ধের কারণে শিক্ষাগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়েন ফলে উপার্জনের জন্য একমাত্র অবলম্বন হয়ে উঠে তাঁর অর্জিত প্রতিভা পপসঙ্গীত। ১৯৭২ সালে নটরডেম কলেজের প্রাঙ্গনে নিজস্ব আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো দর্শকের সামনে গান করেন তিনি। ১৯৭৩ সালের ১ এপ্রিল এদেশে প্রথম কনসার্ট হয় ওয়াপদা মিলনায়তনে হারুন নামের জনৈক ব্যক্তির অবদানে। সেখানে গান করেছিলেন আজম খান, ফিরোজ সাঁই, ফেরদৌস ওয়াহিদ, ফকির আলমগির ও পিলু মোমতাজ। সেখানে তিনি পরিবেশন করেন ‘হে আল্লাহ্ হে আল্লাহরে’, ‘চার কলেমা সাক্ষি দিবে’, ‘হাই কোর্টের মাঝারে’ ও ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’ গান ৪টি। সেই কনসার্টে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এর পর ইন্দিরা রোডের ঢাকা রেকর্ড থেকে ১৯৭৩ সালের শেষের দিকে তাঁর প্রথম রেকর্ড বের করেন সালাউদ্দিন নামের জনৈক ব্যক্তি আলম খানের পরিচালনায়। ১৯৮২ সালে ‘এক যুগ’ নামে তাঁর প্রথম ক্যাসেট বের হয়। এরপর তার বেশ কিছু ক্যাসেট এবং সিডি বাজারজাত হয়। তাঁর প্রথম সিডি বের হয় ১৯৯৯ সালের ৩ মে ডিস্কো রেকর্ডিং-এর প্রযোজনায়। ১৯৭৩ সালে প্রথমবারের মতো বিটিভিতে ২টি গান করেন- এত সুন্দর দুনিয়া ও চার কলেমা সাক্ষী দেবে। ১৯৮৬ সালে ‘কালা বাউল’ নামক হিরামনে কালা বাউলের চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৩ সালে ‘গড ফাদার’ নামক বাংলা সিনেমায় ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করেন। প্রথম এডভার্টাইজমেন্ট করেন ২০০৩ সালে ক্রাউন এনার্জি ড্রিঙ্কের। এর পর বাংলালিংকের বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন ২০০৫ সালে। পুনরায় ২০০৮ সালে বাংলালিংকের বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন। ২০১০ সালে কোবড়া ড্রিঙ্কের বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন। বাংলাভিশনে ২০০৮ সালে টক শো ‘গুরুর কথা’ অনুষ্ঠানটি করেন। মানুষের ভাল লাগা, সমর্থন আর তাঁর স্বচেষ্ট সাধনের ফলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আজকের বাংলা পপসঙ্গীত। এ পর্যন্ত তাঁর ১৭টি গানের এ্যালবামসহ বেশ কিছু মিক্সড এ্যালবাম বের হয়েছে।

বিদেশ ভ্রমণ
বিদেশে গেছেন খুব অল্প পরিসরে-১৯৯৩ সালে আমেরিকায় ডিস্কো রেকর্ডিংয়ের প্রযোজনায় ১টি কনসার্টে, ৩ বার ইংল্যান্ডে বাংলাদেশীদের উদ্যোগে ১৯৯৮ সালে ২ বার এবং ১৯৯৯ সালে একবার মোট ৬টি কনসার্টে গান করেন, ১৯৮৬ সালে শেফালী ঘোষের অবদানে বাহরাইনে দু’টি কনসার্টে, দুবাইতে ২০০৮ সালে চ্যানেল আই-এর উদ্যোগে লাক্স সুপার স্টার পারফরমেন্স এ্যাওয়ার্ড, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ট্রেনিং নিতে এবং ১৯৭২ সালে বেড়াতে ইন্ডিয়ায় ২ বার, ২০১০ সালের ১৪ জুলাই ক্যান্সার ট্রিটমেন্টের জন্য সিঙ্গাপুর ইত্যাদি।

সংবর্ধনা-পুরস্কার
তাঁর প্রাপ্ত নানা প্রকারের সংবর্ধনা-পুরস্কার প্রায় ১০০টি। এর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- হলিউড থেকে প্রাপ্ত ডিস্কো রেকর্ডিং-এর সৌজন্যে ১৯৯৩ সালে বেস্ট পপ্ সিংগার আজম খান এ্যাওয়ার্ড, টেলিভিশন দর্শক ফোরাম হতে সার্টিফিকেটসহ প্রথম টেলিভিশন দর্শক পুরস্কার ২০০২, কোকাকোলা গোল্ড বোটলসহ লাইফ টাইম এচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড, কাউন্সিল অব আরবান গেরিলা ঢাকা’৭১ হতে বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা, ধানমণ্ডির আইডিয়াল কলেজ হতে প্রাপ্ত গোল্ড ক্রেস্ট সম্মাননা, আজীবন সম্মাননায় ডিসিআরইউ শোবিজ এ্যাওয়ার্ড ২০০৬, লাইফ টাইম এচিভমেন্ট এ্যাওয়ার্ড ২০০৬ সিজেএফবি পার্ফর্মেন্স এ্যাওয়ার্ড। ২০০৮ সালে রেডিও টুডের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা এ্যাওয়ার্ড, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট পুরস্কার, ফুটবল টুর্নামেন্ট পরস্কার প্রভৃতি।

ক্যান্সার
২০১০ সালের জুন মাসের মাঝামাঝি সময় তিনি পরিবারের মানুষদের জিভের নিচে বেড়ে ওঠা টিউমার প্রদর্শন করেন। ২৭ জুন রাত ৯টায় বায়প্সি রিপোর্টে ধরা পড়ে তিনি স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা নামক ক্যান্সারে প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত। বাংলাদেশের তিন জন গণ্যমান্য ডাক্তার তাঁকে অতি সত্বর বাইরে গিয়ে অপারেশন করার পরামর্শ দেন কারণ তার পিইটি স্কেন করার দরকার ছিল, যার ব্যবস্থা বাংলাদেশে নেই। তাঁর জিভের নিচে যে অপারেশন করা হবে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল অপারেশন। ১৪ জুলাই তিনি দ্রুত পদক্ষেপে সিঙ্গাপুর গমন করেন সেখানে তাঁকে পুনরায় সকল টেস্ট করানো হয় এবং ক্যান্সার তেমন একটা ছড়ায়নি বলে ডাক্তার আশ্বস্ত করে বলেন অপারেশন এবং রেডিও থেরাপি দিয়ে সম্পূর্ণভাবে তাঁর ক্যান্সার রোগ সারানো সম্ভব হবে। এরপর চলতি বছরের এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে আজম খান তাঁর ডান হাতে হঠাৎ ব্যথা অনুভব করলেন। ব্যথা সারানোর জন্য ১০ এপ্রিল গেলেন আল বারাকা হাসপাতালে। এরপর ১৩ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে যান। সেখানে তাঁকে ফিজিওথেরাপি দেয়া হয়। তাতেও কাজ হচ্ছিল না। থেরাপি শেষে বাসায় ফেরার সময় ২০ এপ্রিল আঘাত পেলেন শরীরে। বাসার কাছাকাছি এসে সিগন্যাল পার হওয়ার সময় পড়ে যান রিকশা থেকে। ব্যথা পান সারা শরীরে। হাতের ব্যথার সঙ্গে নতুন জখম, দুই মিলিয়ে শরীরটা বড্ড ক্লান্ত তখন আজম খানের। ১ মে গেলেন ল্যাবএইড হাসপাতালে। সেখানেও কোন লাভ হলো না। উপায় না দেখে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় স্কয়ার হাসপাতালে। মুখ-গহ্বরে ক্যান্সার ধরার আগে এই হাসপাতালেই ভর্তি করানো হয়েছিল তাঁকে। ২৬ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন তিনি। পরের দিন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বেশ। সকাল থেকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। প্রায় ১৬ ঘণ্টা যেতেই চোখ মেলে তাকালেন তিনি। ১ জুন স্কয়ার হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান। সেখানে দু’জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে রেখে চিকিৎসা করা হলেও গত ৪ জুন রাতে আজম খানের শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি হয়। আর ৫ জুন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আজম খান শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

**************************************************

আজম খানের সেরা সঙ্গীতগুলো
সালেকা মালেকা, বাংলাদেশ, হাইকোর্টের মাজারে, হে আল্লারে, জীবনে কিছু পাব না, চার কলেমা সাক্ষি দিবে, আলাল ও দুলাল, অভিমানী, সাঁইজি, ইচ্ছে হলেই, টাকা, ঢাকা কত দূর, বিদায় বেলায়, জীবনে মরণ কেন, এক্সিডেন্ট, সব মানুষই সাদা কালো, পুড়ে যাচ্ছে, মানুষ নামে খেলনা, এমনি চলে যাব, ইন্ডি বিন্ডি সিন্ডি প্রভৃতি।

**************************************************

আজম খানের পারিবারিক ভুবন

নাম- আজম খান।
সার্টিফিকেটের নাম- মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান।
জন্মতারিখ- ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫০।
জন্মস্থান- ১০ নং, সরকারী কোয়ার্টার, আজিমপুর কলোনি, ঢাকা।
শিক্ষা- স্কুল : ১৯৫৫ সালে প্রথমে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী স্কুলে বেবীতে ভর্তি হন। এরপর ১৯৫৬ সালে কমলাপুরের প্রভেনশিয়াল স্কুলে প্রাইমারিতে ভর্তি হন। তারপর ১৯৬৫ সালে সিদ্ধেশ্বরী হাই স্কুলে কমার্স বিভাগে ভর্তি হন। কলেজ : ১৯৬৮ সালে টিএনটি মহাবিদ্যালয়ে, কমার্স বিভাগ হতে ২য় বিভাগে উত্তীর্ণ হন ১৯৭০ সালে। ইউনিভার্সিটি : যুদ্ধের কারণে পড়ালেখায় আর অগ্রসর হতে পারেননি। সার্টিফিকেট হারিয়ে গিয়েছিল।
পেশা- সঙ্গীতশিল্পী।
উপাধি- পপ সম্রাট আজম খান, কিংবদন্তি আজম খান, গুরু নামে খ্যাত।
মায়ের নাম- জোবেদা খানম।
জন্মস্থান- সিরাজগঞ্জ, বাইনাগাছি।
জীবনকাল- ৮৫ বছর।
মায়ের শিক্ষা- প্রাইমারী স্কুল পর্যন্ত।
বিশেষত্ব- সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন।
শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন- ১৫ নবেম্বর ২০০৯।
বাবার নাম- মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন খান (সরকারী চাকরিজীবী)।
জন্ম স্থান- টাঙ্গাইল বড় বাশাইল।
পেশা- এডমিনিসট্রেটিভ অফিসার সেক্রেটারিয়েট হোম ডিপার্টমেন্ট।
জীবনকাল- ৬৫ বছর।
বাবার বিশেষত্ব- ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটির গোল্ড মেডেলিস্ট। ব্যক্তিগতভাবে হোমিওপ্যাথির চিকিৎসক ছিলেন।
বাবার শিক্ষা- ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটির বাংলা বিভাগের ছাত্র ছিলেন। মাস্টার্স পাস করেছিলেন। শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন- ১০ এপ্রিল ১৯৭২। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে।
বিয়ে- ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকার মাদারটেকে তিনি বিয়ে করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৩১ বছর।
স্ত্রীর নাম- সাহেদা বেগম
প্রথম কন্যা সন্তান- ইমা খান।
মেয়ের স্বামী- কামরুল হাসান সাগর।
নাতনি- কায়নাত ফাইরুজ বিনতে হাসান। ফোয়ারা।
দ্বিতীয় পুত্র সন্তান- হৃদয় খান।
তৃতীয় কন্যা সন্তান- অরনী খান।
বড় ভাই- সাঈদ খান। মোহন
পেশা- সরকারী চাকরিজীবী।
মেজ ভাই- মোরশেদ আলম খান।
পেশা- গীতিকার এবং সুরকার।
ছোট ভাই- লিয়াকত আলী খান। মুক্তিযোদ্ধা।
পেশা- ব্যবসায়ী
ছোট বোন- শামীমা আক্তার খানম।
বড় বোন- সালমা আক্তার খানম।

*************************************************
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29392055 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29392055 2011-06-05 20:50:05
নাটক ও ছবির সার্থক সমাপ্তির প্রতি দৃষ্টি রাখা জরুরী
হলিউড কিংবা বলিউডের বেশিরভাগ ছবি বা নাটকের ক্ষেত্রে কিন্তু সমাপ্তির দিকে নির্মাতাদের মূল দৃষ্টি থাকে। এতে করে দর্শকদের মতে নাটক বা ছবি দেখার শেষেও এক ধরনের তৃপ্তির পরশ বিরাজ করে।

আর সেই তৃপ্তির খোঁজে কিন্তু আবার সেই ছবি বা নাটকটি দেখেন, যদিও কাহিনীর পুরোটাই তাদের জানা। এতে করে সেখানকার ছবি ও নাটক ইন্ডাস্ট্রিগুলো যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, তাদের নির্মাতারাও আরও নতুন নতুন নাটক ও ছবি নির্মাণে উৎসাহিত হচ্ছেন। অথচ আমাদের দেশে আবার নাটক বা ছবি দেখার মতো কাহিনী নির্মাণ একেবারেই হাতে গোনা।

সমাপ্তি ও কাহিনীর গতিই যে মুখ্য তার প্রমাণ বাংলাদেশ টেলিভিশনে আর্কাইভ থেকে যখন পুরনো নাটক বা ছবি দেখানো হয়। তখন সব শ্রেণীর দর্শকই অন্য চ্যানেল বাদ দিয়ে পুরনো অনুষ্ঠান দেখতেই কিন্তু বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। মিলনাত্মক বা বিয়োগাত্মক যে ধরনের দৃশ্যকেই কাহিনীর সমাপ্তি হিসেবে দেখানো হোক না কেন, তা অবশ্যই যত্নসহকারে এবং শৈল্পিক মানের দিক থেকে ভাল হতে হবে। তবেই দর্শকরা বার বার একই নাটক বা ছবি দেখলেও বিরক্ত হবে না।।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29375321 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29375321 2011-05-04 23:05:00
ব্যর্থতা : (আমার প্রকাশিত নির্বাচিত কবিতা-১২) বড় করে দেখি না,
কারণ হিসেব করে যদি দেখতে চাও
তবে দেখতে পাবে
বলতে না পারার ব্যর্থতাকেও ছাপিয়ে গেছে
তোমার শুনতে না চাওয়ার ব্যর্থতা;

আর তাই ব্যর্থতার সব দায়ভার
নিজের ভাগে না রেখে পুরোটাই তুমি
চাপিয়ে দাও,
হয়তো হেরে যাবার কোন অজানা ভয়ে।।


দৈনিক জনকন্ঠে ২২ এপ্রিল, ২০১১ প্রকাশিত ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29367473 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29367473 2011-04-22 22:55:41
পেশা হিসেবে মডেলিং ... (গ্লামার ওয়ার্ল্ড নিয়ে যাদের এলার্জি আছে, তারা এই পোস্টটি এড়িয়ে চলুন) <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" />

সাম্প্রতিককালে আমাদের দেশে মডেলিংয়ের ব্যাপ্তি ঘটেছে ব্যাপকহারে। বিশ্বায়নের প্রভাবে মডেলিংয়ের ব্যাপ্তি সৃষ্টি করেছে সম্ভাবনার উজ্জল ক্ষেত্র। ফলে শখকে অতিক্রম করে মডেলিং এখন পেশা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। তবে মডেলিংকে পেশা হিসেবে নেবার আগে এ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জানা-শোনার অভাবেই অনেক প্রতিভা থাকা সত্বেও মডেলিং ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে অনেকেই ব্যর্থ হন।

প্রথমেই জানাটা খুবই জরুরী যে আমাদের দেশে মডেলিং ইন্ডাস্ট্রি কিভাবে ক্ষেত্র প্রসারিত করছে। একজন সফল মডেলকে এটিও জ্ঞাতার্থে রাখা উচিত যে, মডেলিংয়ের কোন শাখায় তিনি বিচরণ করতে চান।

আমাদের দেশের মডেলিং ইন্ডাস্ট্রিকে সাধারণ মূল তিনটি ধরণে বিভক্ত করা যেতে পারে। টিভি মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেলিং, ফ্যাশন হাউসের জন্য মডেলিং ও র‌্যাম্প মডেলিং। এই তিনটি ধরণকে এক করে দেখলেও ক্ষতি নেই। কারণ এই ৩টি ক্ষেত্রেই বিচরণ করেছেন এমন মডেলের সংখ্যাও নগন্য নয়।


বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেলিং

বিশ্বজুড়েই পণ্যের প্রচারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে বিজ্ঞাপনচিত্র। একটি পণ্য কত সহজ ও সফল উপায়ে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো যায়, তা নিয়েই এখন চলছে জোর প্রতিযোগিতা। ফলে নতুন নতুন ধারণা ও কাঠামোর সংযোজন ঘটছে এ মাধ্যমটিতে। তবে ধারণা বা কাঠামোতে যতই সৃজনশীলতার খোরাক থাকুক না কেন, আসল কথা হলো সৃজনশীল মোড়কে একটি পণ্যকে নির্দিষ্ট ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেয়া। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পণ্য বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে মার্কেটিং-এর বিভিন্ন থিওরির সঠিক বাস্তবায়ন করতে পারার মধ্যেই ঐ বিজ্ঞাপনটির সাফল্য নিহিত। বিজ্ঞাপনের কার্যকারিতার কয়েকটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পণ্যের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে পণ্যের প্রতি ক্রেতার এক ধরনের আগ্রহ সৃষ্টি করা হয়। তৃতীয় ধাপে ঐ পণ্যটি কেনার প্রতি আকাঙ্খা পোষণ করেন ক্রেতা। আর চতুর্থ ও শেষ ধাপে পণ্যটি ক্রয় করেন। অর্থাৎ মনোযোগ, আকর্ষণ, আকাঙ্খা- এ বিষয়গুলোই প্রাধান্য পায় একটি বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে। বিজ্ঞাপনের এ তত্ত্বটিকে ভোক্তাদের কাছে সহজে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার গুরুদায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন একজন মডেল। বিজ্ঞাপনের গভীর অর্থটি নিজের ভেতর ধারণ করে অভিব্যক্তির মাধ্যমে পণ্যটি তুলে ধরাই একজন মডেলের মূল লক্ষ্য। আর এ কাজটি যিনি অল্প সময়ের মধ্যে সাবলীলভাবে করতে পারেন এবং নিজের উজ্জ্বল উপস্থিতির মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করতে সক্ষম হন, তিনিই হয়ে ওঠেন তারকা।

একটা সময় ছিল যখন বিজ্ঞাপনচিত্রের জন্য মডেল বলে কেউ ছিলেন না। যারা অভিনয়শিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাদেরই কেউ কেউ বিজ্ঞাপনচিত্রে অংশ নিতেন। পরবর্তী সময়ে ৯০’র দশকের শেষ থেকে শুধু মডেলিং-এর খাতায় নাম লেখান মৌ, নোবেল, মৌসুমী, তানিয়া, সুইটি, মনির খান শিমুল, পল্লব, ফয়সাল, জয়া আহসান, রোমানা প্রমুখ। পরবর্তীতে এ ধারাবাহিকতাতেই মোনালিসা, তিশা, তিন্নি, চঞ্চল চৌধুরী, অপূর্ব, নাদিয়া নিজেদের সফল অবস্থান গড়ে তোলেন। আর বর্তমানের বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেলদের মধ্যে রয়েছেন নিরব, প্রভা, ইমন, সারিকা, শখ, নিশো, ববি, ইমি, শোয়েব, চৈতী, সীমানা, নোভা প্রমুখ।

আজ থেকে তিন-চার বছর আগেও আমাদের দেশে সাধারণত জিঙ্গেলনির্ভর বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মিত হতো। বিগত কয়েক বছর ধরে থিমনির্ভর বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মিত হচ্ছে। এ কারণে বিগত কয়েক বছরে মোবাইল কোম্পানিগুলোর থিমনির্ভর বিজ্ঞাপনচিত্রগুলো একদিকে যেমন দর্শকদের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পেরেছে, তেমনি এসব বিজ্ঞাপনচিত্রে পারফর্ম করে রাতারাতি তারকাও হয়েছেন অনেকে। উদাহরণস্বরূপ, সাম্প্রতিক সময়ে রবির নতুন একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজের মাধ্যমে আলোচিত হয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী মিথিলা। এছাড়া গ্রামীণফোনের নতুন বিজ্ঞাপনচিত্র ‘রঙ্গিলা রে’ তে কাজ করে রাতারাতি তারকা বনে গেছেন নবাগত বীথি সরকার।


ফ্যাশন হাউসের জন্য মডেলিং

বর্তমানে ফ্যাশন হাউজের জন্য বছরের বিভিন্ন উৎসব-পার্বনে প্রচুর মডেল প্রয়োজন হয়। ঈদ, পূজা, নববর্ষ ও বিভিন্ন দিবসের পোশাকের প্রদর্শনীর জন্য মডেলদের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশী। প্রসিদ্ধ ফ্যাশন হাউজগুলো প্রমিন্যান্ট মডেলদের দিয়ে পোশাকের প্রদর্শনীর ফটো তুললেও অনেক নতুন ফ্যাশন হাউজদেরকেই নির্ভর করতে হয় নতুন মডেলদের উপর। এর কারণ হিসেবে বলা যায়, প্রমিন্যান্ট মডেলরা যে কোন হাউজের ফটোসেশনে বেশ মোটা অংকের অর্থ দাবি করেন যেটি নতুন ফ্যাশন হাউজগুলোর জন্য অনেক সময় বাজেটের অধিক হয়ে দাঁড়ায়। অপরদিকে নতুন মডেলরা প্রচারের তাগিদে এক্ষেত্রে অনেক কম অর্থের বিনিময়েই এসব নতুন ফ্যাশন হাউজের ফটোসেশন করে থাকেন। এজন্য সামগ্রিকভাবে বলা যায়, নতুন মডেলদের ক্ষেত্র হিসেবে ফ্যাশন হাউসের জন্য মডেলিং নতুন দিগন্ত হিসেবে উঠে এসেছে।


র‌্যাম্প মডেলিং

র‌্যাম্প ওয়ার্ল্ড তরুণ-তরুণীদের কাছে আকর্ষণীয় এক জগতের নাম। তবে এ জগতে নাম লেখাতে হলে একজন মডেলকে কিছু যোগ্যতার অধিকারী হতে হয়। এক্ষেত্রে প্রথমেই আসবে উচ্চতার প্রসঙ্গটি। পৃথিবীব্যপী র‌্যাম্প মডেলিংয়ের জন্য আদর্শ উচ্চতা ধরা হয় ছেলেদের ক্ষেত্রে ৬ ফুট এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে ছেলেদের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতা থাকাটা জরুরী। উপরন্তু শারীরিক ফিটনেসও র‌্যাম্পে কাজ করার জন্য জরুরী। এরপরই আসবে গ্রুপে রিহার্সেলের বিষয়টি। র‌্যাম্প মডেলিং একক কোন বিষয় নয়। বরং একটি গ্রুপের মাঝে থেকে নিজেকে সতন্ত্র উপস্থাপনার মাঝেই একজন র‌্যাম্প মডেল পরিচিতি পান। এজন্য নিয়মিত রিহার্সেলের কোন বিকল্প নেই। ইদানিংকালে রাজধানীর কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান র‌্যাম্প মডেলদের গ্রুমিং করিয়ে থাকেন। নিজের শারীরিক উচ্চতা ও ফিটনেস যদি ঠিক থাকে তবে এসব প্রতিণ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে র‌্যাম্প মডেল হিসেবে নিজের অবস্থানকে পোক্ত করা সম্ভবপর হবে। ২০০৮ সালের বলিউডের ব্লকবাস্টার হিট ‘ফ্যাশন’ ছবিতেও র‌্যাম্প ওয়ার্ল্ড সম্পর্কে অনেক অজানা বিষয় জানা যায়।


মডেলিং সম্পর্কে বিজ্ঞাপন নির্মাতারা যা বললেন-

অমিতাভ রেজা : এখন তরুণদের মধ্যে মডেলিং-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। প্রথম কারণ হচ্ছে, এ মাধ্যমে কাজ করার ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা। আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে ফেইম। অর্থাৎ, বিজ্ঞাপনে কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি গড়ে উঠছে।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী : বর্তমানে তরুণরা মডেলিং-এ ভালো করছে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ক্ষেত্রটির মাধ্যমে দ্রুত পরিচিতি পাওয়া সম্ভব। পরিচিতি তো এমন একটি বিষয়, যা সবাই কম-বেশি চান। এছাড়া আর্থিক বিষয়টিও তো রয়েছেই। ফলে তরুণরা নিজের প্রতিভা বিকাশের জন্য মডেলিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন।

আফজাল হোসেন : মডেল হচ্ছে একটি দৃষ্টান্ত। একটি পণ্যকে একজন মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে একজন মডেল ভূমিকা রাখেন। তাই যে কেউ মডেল হতে পারবে, এটা ঠিক নয়। মডেল হতে হলে সৌন্দর্য থাকতে হবে এবং সেই সঙ্গে তাকে হতে হবে বুদ্ধিদীপ্ত।

আপন আহসান : মডেলিং এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে তরুণদের জয়-জয়কারই সব সময়। তবে এখন তরুণ মুখগুলো খুব সহজেই বিজ্ঞাপনের কল্যাণে লাইমলাইটে চলে আসছে। আগে বছরে ১০/১২টি বিজ্ঞাপন নির্মিত হতো আর এখন মাসে ১০/১২টি বিজ্ঞাপন নির্মিত হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন ছেলে-মেয়েদের চাহিদা বাড়ছে।


কিভাবে মডেল হবেন

মডেল হতে পারেন যেকোন বয়সী মানুষ। হোন না কেন তিনি একজন বৃদ্ধ অথবা শিশু। তবে যে কোনো পণ্যের মডেল হিসেবে তরুণ-তরুণীদেরকেই বেশির ভাগ সময় পছন্দ করেন পণ্যের মালিকেরা। এখানে সৌন্দর্য প্রাধান্য পায়। সুন্দর তরুণীদের গ্রহণযোগ্যতা থাকে বেশি। তবে তাঁকে অবশ্যই বুদ্ধিমতী হতে হবে। মডেল হতে হলে প্রথমত যোগাযোগ করতে হবে যাঁরা মডেল ফটোগ্রাফিতে ভালো কাজ করছেন তাঁদের সঙ্গে। তাঁদের কাছে ছবি তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে যাঁর চেহারা ফটোজেনিক তিনি নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিতে পারেন। ছবি তুলে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে পারেন। অথবা সরাসরি বিজ্ঞাপন নির্মাতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।


প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মডেল

পেশাদার আলোকচিত্রী ও বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর বাইরেও এখন নানা রকম প্রতিভা খোঁজার আয়োজন চলছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে লাক্স-চ্যানেল আই সুন্দরী প্রতিযোগিতা। সারা দেশ থেকে তরুণীদের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অংশ নিতে হয়। তারপর তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে আবার চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়। এর বাইরে বিনোদন বিচিত্রা ফটো-সুন্দরীর আয়োজন করে থাকে। এখানেও ছবি জমা দিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হয়। এছাড়া প্রতিবছরই অনুষ্ঠিত হয় ‘ইউ গট দ্য লুক’। এটি আয়োজন করে বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান গ্রে এবং প্রক্টর এন্ড গ্যাম্বল।


সাবধানতা

পত্রপত্রিকায় চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে এমন কোথাও যোগাযোগ করবেন না, যেখানে আপনি প্রতারিত হতে পারেন। পত্রিকায় প্রকাশিত ‘মডেল হোন’ বিজ্ঞাপন দ্বারা বিভ্রান্ত না হওয়াই ভালো। এছাড়া অনেকেরই ধারণা, বিজ্ঞাপন নির্মাতার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে মডেল হওয়া যায়। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। যদি আপনি ফটোজেনিক হন, তবে আপনাকে কোনো নির্মাতার সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগ করতে হবে না। বরং আপনার ছবি পছন্দ হলে পণ্যের মালিকের চাহিদা অনুযায়ী বিজ্ঞাপন নির্মাতা বা তার প্রতিষ্ঠানই আপনাকে খুঁজে নেবে।


মডেল হওয়ার ৫টি টিপস :

১. এটা গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড। তাই পায়ের নখ থেকে চুল পর্যন্ত থাকতে হবে ফিট। সফল মডেল হতে হলে অবশ্যই নিজের একটা স্টাইল ও ইমেজ দাঁড় করাতে হবে। নিজের মতো করে নিজের সৌন্দর্য প্রকাশ করতে হবে। আর সবসময় শরীরটাকে ফিট রাখতে হবে। ২. মডেলিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বেশভূষা, চুলের স্টাইল, হাঁটাচলা, দাঁড়ানোর ভঙ্গি, চোখের চাহনি ও ভুবন ভোলানো হাসি। আর যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে তা হলো শুদ্ধ উচ্চারণ। মডেল হতে হলে অবশ্যই বাংলা ও ইংরেজি দুটো ভাষাকেই শুদ্ধভাবে আয়ত্ত করতে হবে। ৩. সব সময় কাজ নিয়ে ভাবতে হবে। বিভিন্ন ক্যাটালগ ও ম্যাগাজিন মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে। এক্সপ্রেশনগুলো দেখে চর্চা করতে হবে। বিজ্ঞাপন দেখে অনুশীলন করতে হবে। সফল মডেলদের জীবনকথা ও টিপসগুলো মনোযোগ দিয়ে নিজের মধ্যে স্থাপন করতে হবে। ৪. একজন মডেল হতে প্রয়োজন একটি পরিপূর্ণ পোর্টফোলিও। এক্ষেত্রে একজন পেশাদার ফটোগ্রাফারকে দিয়ে একটি পোর্টফোলিও বানাতে হবে। সাধারণ একটি পোর্টফোলিওতে থাকে মডেলের নানা এ্যাঙ্গেল থেকে তোলা ছবি। ৫. সুন্দর ছবি তুলে পরিপূর্ণ পোর্টফলিও তৈরি হয়ে গেলে বিভিন্ন এজেন্সিতে ছবি পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। নামকরা বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোতে পোর্টফলিও পাঠান। আরও পাঠাতে পারেন বিভিন্ন বুটিক হাউসে এবং পত্রিকা অফিসগুলোতে। প্রয়োজনে বিভিন্ন জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। যেমন, মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত এমন ফটোগ্রাফার, মেকাপ, আর্টস, ফ্যাশন হাউস অর্গানাইজার এমন কারও সঙ্গে। পোর্টফোলিওর সঙ্গে একটি সুন্দর পরিপূর্ণ সিভি জমা দিতে ভুলবেন না।




সাদিয়া ইসলাম মৌ
সাদিয়া ইসলাম মৌ বাংলাদেশের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী। তার মা রাশা ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের স্টিল এড মডেলিং এর একজন পথিকৃৎ। ১৯৯১ সালে বাউন্স শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপন দিয়ে মৌ টিভি বিজ্ঞাপনে পা রাখেন। তার জনপ্রিয়তা পাওয়া অসংখ্য বিজ্ঞাপনচিত্রের তালিকায় আছে কেয়ার একাধিক বিজ্ঞাপনচিত্র, আপন জুয়েলার্স, বার্জার পেইন্টস, লাক্স, রোমানা পেইন্টস, পাকিজা প্রিন্ট শাড়ি, গোয়ালিনি কনডেন্সড মিল্ক, সিলভার ক্রস কনডেন্সড মিল্ক, আরসি কোলা, মৌচাক জুয়েলার্স, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ, ডেকো গুড়া মশলা প্রভৃতি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মার্ক্স গুড়োদুধের একটি বিজ্ঞাপন দিয়েও ছোটপর্দার দর্শকদের নজর কেড়েছেন মৌ। অন্যদিকে সংক্ষিপ্ত অভিনয় ক্যারিয়ারে মৌ নজর কেড়েছেন তার অভিনীত একাধিক নাটকের চরিত্র দিয়েও। তিনি জনপ্রিয় নাট্যাভিনেতা জাহিদ হোসেনের স্ত্রী।




নোবেল
বাবার চাকরির সুবাদে নোবেল ঢাকায় আসেন ’৮৯ সালের দিকে। ঢাকায় আসার পর তার এক কাজিনের সুবাদে প্রথম অফার আসে ফ্যাশন শো করার। নির্মাতা আফজাল হোসেনের স্ত্রী ছিলেন ওই ফ্যাশন শোর সঙ্গে জড়িত। প্রথম তিনি কাজ করেন স্প্রাইটের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে। এরপর আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় কাজ করেন আজাদ বলপেনের বিজ্ঞাপনে। ‘লোনলি ডে লোনলি নাইট’ শিরোনামের সেই বিজ্ঞাপনটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তার জনপ্রিয়তা পাওয়া অসংখ্য বিজ্ঞাপনচিত্রের তালিকায় আছে লাইফগার্ড সাবান, কেয়া, পাকিজা শাড়ি, আরসি কোলা, আমিন জুয়েলার্স, আরসি ওয়ার্ল্ড, কুল সেভিং ক্রিম ইত্যাদি। বিজ্ঞাপনের বাইরেও নোবেলের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে নাটক নির্মিত হয়েছে অনেক। নোবেল অভিনীত প্রথম নাটক ‘প্রাচীর পেরিয়ে’। টিভি নাটকের ইতিহাসে প্রথম প্যাকেজ নাটক ছিল এটি।




সারিকা জাহান
সারিকার মডেলিংয়ে যাত্রা শুরু ২০০৬ সালে। তিনি তখন ক্লাস টেন-এ পড়েন। প্রথমে সিঙ্গারের একটা বিজ্ঞাপনের জন্য অডিশন দেন। এরপর অনেকগুলো বিজ্ঞাপন করেন সিঙ্গারের হয়ে। তবে প্রফেশনালি কাজ শুরু করেন অমিতাভ রেজার নির্দেশনায় ‘অ্যারোমেটিক বিউটি সোপের’ বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে। একে একে কাজ করেছেন নোকিয়া, বাংলালিংক দেশ এর বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রে। নাটকেও নিয়মিত অভিনয় করে চলেছেন তিনি। এছাড়া কয়েকটি টিভি অনুষ্ঠানের উপস্থাপনাও করেছেন তিনি।

*********************************************
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29365197 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29365197 2011-04-18 22:45:27
বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে মঞ্চের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে
ফলে মঞ্চ অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীরা নাট্যোৎসবের এই একটি মাস বাদে বাকি এগার মাসেই ঘুরেফিরে কিছু পরিচিত মুখই তাদের নাটক উপভোগ করতে দেখেন। আর এই নাট্যপ্রেমীদের সংখ্যাও যে খুব বেশি এমন নয়। বরং বলা যায়, খুবই অল্প কিছু মানুষ যারা মঞ্চকে ভালবাসেন, তারাই মূলত মঞ্চ নাটককে টিকিয়ে রাখছেন। অথচ বিষয়টা কিন্তু এমন হওয়ার কথা ছিল না।

আমাদের দেশে বিনোদনের মাধ্যম বা উপকরণ খুবই কম। বন্ধু বা বান্ধবী নিয়ে অল্প কিছু স্থান কিংবা ফাস্ট ফুডে যাওয়া ছাড়া অন্য কোথাও অবসরে যাওয়ার জায়গা খুঁজে পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে মঞ্চ নাটক বিনোদনের ভাল মুহূর্ত কাটাতে টনিকের মতো কাজ করতে পারে। সিনেমা হলে গিয়ে দেশীয় ছবি দেখা থেকে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী অনেক আগেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সমাজের নির্দিষ্ট একটি শ্রেণী ছাড়া বর্তমানে দেশীয় ছবি দেখতে অন্য আর কেউ সিনেমা হলমুখী হন না। এ কারণে মঞ্চ নাটক দেশীয় ছবির পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে।

একঘেয়ে টেলিভিশন নাটক থেকে রিলাক্স পেতেও মঞ্চ নাটক দেখা যেতে পারে। বিভিন্ন গ্রুপ থিয়েটারের কাজের মধ্যে ভিন্নতা থাকে অনেক বেশি। এ কারণে মঞ্চ নাটক নিয়মিত দেখলেও বিরক্তি আসার কোন কারণ নেই। বরং সরাসরি নাটকের কুশীলবদের অভিনয় দেখার দারুণ সুযোগের কারণে মঞ্চ নাটক বিনোদনের অন্যতম ক্ষেত্র হতে পারে। তাই অবসর সময়টুকু কাটাতে প্রিয় মানুষের পাশাপাশি বসে মঞ্চ নাটক দেখার মুহূর্তগুলো অবশ্যই মিস করা উচিত নয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29356437 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29356437 2011-04-03 22:12:49
টিভি অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিজ্ঞাপনের সময় নির্ধারণ প্রয়োজন
তবে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য অনুষ্ঠানের কোন অংশটি নির্বাচন করা হবে তা প্রায় সময় ঠিক থাকে না। এ কারণে দেখা যায়, নাটকের ক্লাইমেক্স যখন তুঙ্গে থাকে তখনই হয়তো শুরু হলো বিজ্ঞাপন। স্বাভাবিকভাবেই দর্শকের মনোযোগে ও আকর্ষণ দুটোর প্রতিই এটি একটি বিরূপ প্রভাব ফেলে। ফলে দর্শকরা হন ক্ষুব্ধ, বিরক্ত।

অথবা প্রচারিত কোনো ছবির গান হয়তো শুরু হলো বা অর্ধেক হয়েছে, হঠাৎ দেখা যাবে বিজ্ঞাপনের জোয়ার। অনেক সময় নাটকের ছোট একটি ফিনিশিংয়ের আগেও এক গাদা বিজ্ঞাপন প্রচার করে দর্শকদের বসিয়ে রাখা হয়। বিজ্ঞাপন প্রচারের কমনসেন্সহীন এসব টাইম লাইন স্বাভাবিকভাবেই দর্শকদের অতিষ্ঠ করে তোলে।

এজন্য বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য অনুষ্ঠান নির্মাতার সাজেশন নেয়াই মনে হয় এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত। কারণ তিনিই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন, তার অনুষ্ঠানের ঠিক কোন কোন স্থানে বিজ্ঞাপন প্রচার করলে অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে না। সুতরাং টিভি অনুষ্ঠান প্রচারের মধ্যে বিজ্ঞাপনের সময় নির্ধারণ করাটা জরুরি। আর এ জন্য অনুষ্ঠান প্রচারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29355815 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29355815 2011-04-02 22:26:34
চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজে প্রতিযোগী সেন্সলেস হওয়ার পর্বটি প্রচারিত হবে আজ ক্ষুদে গানরাজে প্রতিযোগী সেন্সলেস হওয়ার পর্বটি প্রচারিত হবে চ্যানেল আইতে আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ৭টা ৫০ মিনিটে।

সবাইকে দেখবার আমন্ত্রণ রইলো।

পুনশ্চঃ আজকের পর্বে আমি ২য় বারের মতো অতিথি সাংবাদিক হিসেবে উপস্থিত রয়েছি। ... <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29354696 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29354696 2011-04-01 02:07:51
ফলাফল ঘোষণার আগেই প্রতিযোগী সেন্সলেস! রেজাউর রহমান রিজভী ও দৈনিক দিনকালের বিনোদন ইনচার্জ আবদুল্লাহ জেয়াদ। প্রতিযোগীতার এই পর্বটি প্রচারিত হবে আগামী ১ এপ্রিল, শুক্রবার রাত ৭টা ৫০ মিনিটে চ্যানেল আইতে।

জানা যায়, চ্যানেল আইতে নিয়মিত প্রচারিত ক্ষুদে গানরাজ প্রতিযোগীতায় বর্তমানে মিউজিক্যাল রাইন্ড অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতি পর্বে ১০ জনের মধ্যে থেকে ৬ জন প্রতিযোগী বিচারকদের রায়ে পরবর্তী রাউন্ডে যাবার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে ক্ষুদে প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রতিযোগীতা থেকে বাদ পড়ার আতঙ্ক সব সময়ই বিরাজ করছে। আর সেই আতঙ্ক অবস্থাটিই ফুটে উঠলো ফলাফল ঘোষণার আগে মঞ্চে একজন ক্ষুদে প্রতিযোগীর সেন্সলেস অবস্থার মধ্য দিয়ে। তবে প্রতিযোগীতার বিচারক ও আয়োজকদের সম্মিলিত প্রয়াসে কিছু সময় পরেই প্রতিযোগী তার জ্ঞান ফিরে পায়। পরবর্তীতে আয়োজক ও বিচারকরা সিদ্ধান্ত নেন যে, অনাকাঙ্খিত আরও কোন ঘটনা এড়াতে এ পর্বের ফলাফল পরবর্তী পর্বে ঘোষণা করা হবে।

মেরিডিয়ান-চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজ প্রতিযোগীতার অন্যতম বিচারক ফেরদৌস আরা এ সম্পর্কে বলেন, ‘প্রতিযোগীতার অতিরিক্ত টেনশন ক্ষুদে প্রতিযোগীরা নিতে পারছে না। তাদের মধ্যে সব সময়ই বাদ পড়ার আতঙ্ক বিরাজ করছে। আর এ কারণেই এমন ঘটনাটি ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।’

মেরিডিয়ান-চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজ প্রতিযোগিতাটি পরিচালনা করছেন ইজাজ খান স্বপন। ৭৫ জন প্রতিযোগিকে নিয়ে শুরু হওয়া মিউজিক্যাল রাইন্ড থেকে পরবর্তী ৪০ জনকে নিয়ে শুরু হবে প্রতিযোগিতার এসএমএস রাউন্ড।


অনুষ্ঠান সম্পর্কে আমার মতামত জানাচ্ছি


আমার সঙ্গে আমন্ত্রিত সাংবাদিক হিসেবে ছিলেন দৈনিক দিনকালের বিনোদন ইনচার্জ আবদুল্লাহ জেয়াদ


প্রতিযোগীতার তিন বিচারক ফেরদৌস আরা, সামিনা চৌধুরী ও এস আই টুটুল


উপস্থাপিকা তানিশা ও ক্ষুদে প্রতিযোগীরা


ক্ষুদে প্রতিযোগীদের অভিভাবকগণ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29353606 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29353606 2011-03-30 10:10:29
রিভিউ : আরিফ মঈনুদ্দীনের ‘এখানে জিন্দাবাদ ভাড়া পাওয়া যায়’
কবিতাগুলিতে আজকের বাংলাদেশের বিরাজমান ব্যাপক দুর্নীতি, মিথ্যাচার, মূল্যবোধের অবক্ষয়, লাম্পট্য, ধর্মেও নামে ভন্ডামি, নষ্ট রাজনীতি প্রভৃতি বিষয় লেখকের তীব্র আক্রমণের শিকার হয়েছে। কেন্দ্রীয় মোটিভ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ‘জিন্দাবাদ’ ধ্বনি, যা দুর্নীতিবাজ মানুষ, চরিত্রহীন মানুষ, স্বৈরাচারী মানুষ, ভন্ড ধার্মিক সহজেই পেয়ে যায় নানা কৌশলের মাধ্যমে, অর্থেও বিনিময়ে। কবি সমকালীন সমাজ ও সমাজ দেহের দুষ্ট ক্ষতগুলোকে সনাক্ত করেছেন, ব্যবচ্ছেদ করেছেন এবং অকুতোভয়ে তার দ্রোহ ও ঘৃণা প্রকাশ করেছেন।

তেমনই একটি কবিতা থেকে দেখা যায় কবি বলেছেন- ‘আমি একজন কাস্টমসের লোককে চিনি/ যিনি সামান্য পরিদর্শক হয়ে/ শহরের অভিজাত এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে/ একটি প্রাসাদোপম বাড়ি বানিয়েছেন, এখন/ দিব্যি চাকুরিতে বহাল থেকেই/ তাবলিগের সদস্য হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশময়।’ (কবিতা : সুখানুন্ধানে, পৃষ্ঠা : ৭৮)।

আবার শিক্ষাক্ষেত্রের অনিয়মকেও এভাবে কবি দেখিয়েছেন- ‘আপনি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যালয়ের/ একজন শিক্ষর্থী? প্রথম শ্রেণী/ পাওয়ার সব যোগ্যদা অর্জন করেও পেছনে পড়বেন/ যদি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী’র তৈলের বাটিটা/ সঙ্গে না রাখেন।’ (কবিতা : জাতির মেরুদণ্ডের জীর্ণ দশা, পৃষ্ঠা : ৬৬)। এভাবেই বিভিন্ন কবিতার মাধ্যমে কবি সমাজের ঘুণে ধরা অসঙ্গতিগুলোকে তুলে ধরবার প্রয়াস চালিয়েছেন। এই প্রয়াসে কবি যে সার্থক হয়েছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। উল্লেখ্য, কবিতা, উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থসহ আরিফ মঈনুদ্দীনের এ পর্যন্ত ১৪টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29343843 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29343843 2011-03-13 21:05:35
বাংলা গানের বরেন্য শিল্পী নিলুফার ইয়াসমিন
আজ ১০ মার্চ, বাংলা গানের বরেন্য শিল্পী নিলুফার ইয়াসমিনের মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৩ সালের এই দিনে মাত্র ৫৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে বাংলা গান হারিয়েছে তাঁর একজন একনিষ্ঠ সাধককে। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর ব্যক্তি ও সঙ্গীত জীবনকে এই লেখার মাধ্যমে তুলে ধরে তাঁর প্রতি সম্মান জানানো হলো।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়
নিলুফার ইয়াসমিনের জন্ম ১৯৪৮ সনের ১৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতায়। পাঁচ বোনদের মধ্যে তিনি চতুর্থ৷ বড় বোন ফরিদা ইয়াসমীন ও মেজো বোন ফওজিয়া খান প্রতিষ্ঠিত সংগীত শিল্পী৷ সেজো বোন শিক্ষা বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী নাজমা ইয়াসমীন হক। তিনি ধানমন্ডি রেডিয়েন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজ (ইংলিশ মিডিয়াম)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক৷ ছোট বোন সাবিনা ইয়াসমীন প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী৷ নিলুফার ইয়াসমিনের পিতা ছিলেন অবিভক্ত বাংলার একজন সিভিল সার্ভিস অফিসার৷ সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও সংগীতের প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল প্রবল৷ পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি গান গাইতেন৷ আর নিলুফার ইয়াসমিনের মা হারমোনিয়াম বাজাতেন৷ তাঁর পিতার বাড়ি সাতক্ষীরার মুকুন্দপুর গ্রামে৷ মুকুন্দপুরের'পন্ডিত বাড়ি' বললে ঐতিহ্যবাহী এ পরিবারটিকে সবাই চেনেন৷ বহু আগে থেকেই এবাড়ির লোকজন শিক্ষা-দীক্ষায় ছিল অগ্রগামী৷ নিলুফার ইয়াসমিনের মা মুর্শিদাবাদের স্বনামধন্য ওস্তাদ কাদের বখশের ছাত্রী ছিলেন৷ তিনি ভালো গান গাওয়া ছাড়াও ভালো হারমোনিয়াম বাজাতে পারতেন৷

শৈশবকাল
নিলুফার ইয়াসমিনের শৈশব কেটেছে মুর্শিদাবাদ, রাজশাহী এবং ঢাকায়। মায়ের কাছে নিলুফার ইয়াসমিনের সংগীতে হাতেখড়ি৷ বাসায় গ্রামোফোন রেকর্ডপ্লেয়ার ছিল৷ পিতা নতুন নতুন রেকর্ড কিনে আনতেন আর বোনেরা সবাই মিলে সেসব রেকর্ডের গান বারবার বাজিয়ে শুনে শিখে ফেলতেন৷ আঙ্গুরবালা, ইন্দুবালা, কমলাঝরিয়া, হরিমতী, কে মল্লিক, জ্ঞান গোস্বামী, শচীনদেব বর্মণ, মৃণালকান্তি ঘোষ, কমল দাশগুপ্ত, আব্বাসউদ্দীনসহ আরো বিখ্যাত সব শিল্পীদের গাওয়া রেকর্ড থেকে তাঁর মা গান তুলে গাইতেন এবং তাঁর গাওয়া থেকেই নিলুফার ইয়াসমিন গান শিখে ফেলতেন৷ তাঁর মা-ই তাঁকে বলতেন যে এ-সব গানগুলির রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম৷ তখন থেকেই নজরুল সংগীতের প্রতি তাঁর আকর্ষণ জন্মে।

শিক্ষাজীবন
সংগীত শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষায়ও তাঁর ছিলো সমান মনোযোগ৷ তিনি আদমজী কটন মিলস্ স্কুল, বাংলাবাজার গার্লস স্কুল, সিদ্ধেশ্বরী কলেজ ও সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন৷ তিনি ১৯৬৩ সালে ম্যাট্রিক, ১৯৬৫ সালে ইন্টারমিডিয়েট, ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৭০ সালে ২য় শ্রেনীতে প্রথম হয়ে এমএ পাশ করেন৷


ক্যাপশন : নিলুফার ইয়াসমিনের একমাত্র সন্তান আগুন এবং দুই নাতি মশাল ও মিছিল

বিয়ে ও সন্তান
প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার, শিল্পী ও অভিনেতা খান আতাউর রহমানের সঙ্গে ১৯৬৯ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন৷ পরের বছর তাঁর একমাত্র পুত্র কন্ঠশিল্পী আগুনের জন্ম হয়।

সঙ্গীতের তালিম
নিলুফার ইয়াসমিনের উচ্চাঙ্গ সংগীত শেখা শুরু হয় ওস্তাদ পি সি গোমেজ এর কাছে ১৯৬৪ সালে৷ একাধারে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শেখেন৷ তারপর উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁ-র সুযোগ্যা ছাত্রী মীরা ব্যানার্জীর কাছে তালিম নেন৷ এরপর প্রখ্যাত সারেঙ্গী বাদক ওস্তাদ সগীরউদ্দীন খাঁ ওমুরশিদাবাদের স্বনামধন্য ওস্তাদ এ দাউদ সাহেব ও প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দীর্ঘকাল তালিম গ্রহণ করেন৷ তিনি নজরুল-সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছেন স্বরলিপিগ্রন্থ থেকে৷ স্বরলিপি অনুসরণ করেই প্রথম দিকে বেতার-টেলিভিশনে নজরুল-সংগীত গেয়েছেন৷ তিনি প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী, নজরুল-সংগীতস্বরলিপিকার ও বিশেষজ্ঞ শেখ লুত্ফর রহমান ও সুধীন দাশ-এর কাছে নজরুল-সংগীত শিখেছেন৷

কর্মক্ষেত্র
নিলুফার ইয়াসমিন বাংলাদেশ বেতারের ছোটদের অনুষ্ঠান খেলাঘরের মাধ্যমে শিল্পী জীবন শুরু করেন৷ পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের শুরু থেকে আর্মত্যু একজন নিয়মিত শিল্পী হিসেবে গান গেয়েছেন৷ নিলুফার ইয়াসমিন উচ্চাঙ্গ, নজরুল, অতুলপ্রসাদ, দ্বিজেন্দ্রলাল, রজনীকান্ত, টপ্পা, ঠুমরি, কীর্তন, রাগপ্রধান, আধুনিক গানসহ গানের ভুবনের প্রায় সবগুলো শাখাতেই অবাধ বিচরণ করেছেন৷ রাগ প্রধান গানে অসাধারণ দখল থাকলেও তিনি নজরুল-সংগীতশিল্পী হিসেবেই বেশি পরিচিত৷ নিলুফার ইয়াসমিন বেশ কয়েকটি ছায়াছবিতে কন্ঠ দিয়েছেন৷ যেমন- শুভদা, অরুণ-বরুন-কিরণমালা, জোয়ার ভাটা, আবার তোরা মানুষ হ, সুজন সখী , যে আগুনে পুড়ি, জীবন-তৃষ্ণা , জলছবি ইত্যাদি৷ ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের নজরুল সংগীত বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত নিয়োজিত ছিলেন৷


ক্যাপশন : নিলুফার ইয়াসমিনের পাওয়া একুশে পদক ও অন্যান্য পুরস্কারের একাংশ

সন্মাননা,স্বীকৃতি ও সংবর্ধনা
শিল্পী হিসেবে নীলুফার ইয়াসমীনের জনপ্রিয়তা শুধু দেশের গন্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বিদেশেও ছিল ব্যাপক। ১৯৮৪ সালে কলকাতার 'অগ্নিবীণা'-র আমন্ত্রণে ঢাকাস্থ নজরুল একাডেমীর সাংস্কৃতিক দলের সংগে কলকাতা গমন করেন৷ বঙ্গ সংস্কৃতি সম্মেলনের আমন্ত্রণে দিল্লি ও কলকাতায় সংগীত পরিবেশন করেন৷ এ-ছাড়াও তিনি পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ফ্রান্স, পাকিস্তান ভ্রমণ করেন এবং সংগীত পরিবেশন করে প্রচুর প্রশংসা অর্জন করেন৷ 'সুজন সুখী'' চলচ্চিত্রে কন্ঠপ্রদানের জন্য ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সংস্থার পুরস্কার, 'শুভদা' চলচ্চিত্রে কন্ঠপ্রদানের জন্য ১৯৮৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সংস্থার পুরস্কার, সংগীত বিষয়ে অনন্য অবদানের জন্য ২০০৪ সালে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় "একুশে পদক'' এবং নজরুল সংগীতে তাঁর অবদানের জন্য ১৪১০ বাংলা সালে "নজরুল পদক'' সহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন নিলুফার ইয়াসমিন৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগে নজরুল সংগীতে তাঁর অবদানের কথা চিরস্বরণীয় করে রাখতে তাঁর নামে নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগে পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে৷

প্রকাশনা
নিলুফার ইয়াসমিন শ্রোতার আসর প্রযোজিত ও খান আতাউর রহমান পরিচালিত 'বেলা শেষের রাগিনী'-তে 'আবার ভালবাসার সাধ জাগে' শিরোনামের নজরুল-সংগীতটি রেকর্ড করেন৷ বাংলাদেশ বেতারের বহির্বিশ্ব কার্যক্রম থেকে 'এ কোন সোনার গাঁয়' রেকর্ডে একটি ও নজরুল ইন্সটিটিউট প্রকাশিত 'পাষাণের ভাঙালে ঘুম' ও 'বাজলো কি রে ভোরের সানাই' রেকর্ড দুটিতে দু'টি নজরুল-সংগীত গেয়েছেন৷ এছাড়াও তাঁর কন্ঠে নজরুল-সংগীত, কীর্তন ও পুরনো দিনের গানের বেশ কয়েকটি অডিও ক্যাসেট ও সিডি বেরিয়েছে৷ পুরনো দিনের গানের গীতিকাররা হলেন চন্ডীদাস, জ্ঞানদাস, অতুলপ্রসাদ, রজনীকান্ত, দ্বিজেন্দ্রলাল ও কাজী নজরুল ইসলাম৷ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এই গুণী শিল্পীর কন্ঠে ধারণকৃত ৫টি সিডি ও ক্যাসেট প্রকাশ করেছে৷ এর মধ্যে ৩ টি নজরুল সংগীতের, ১টি পুরনো দিনের গানের এবং অতুলপ্রসাদ, রজনীকান্ত ও দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গান নিয়ে ১টি সিডি৷ এছাড়া ইমপ্রেসের ব্যানারে তাঁর একটি একক অডিও এ্যালবাম ‘পথের শেষে’ প্রকাশিত হয়েছে। এই এ্যালবামে তাঁর একমাত্র পুত্র আগুন তাঁর পুরো জীবনী নিজ কন্ঠে উপস্থাপন করেছেন।

নিলুফার ইয়াসমিনের জনপ্রিয় কিছু গান
আগুন জ্বলেরে, জীবন সেতো পদ্ম পাতার শিশির বিন্দু, তোমাকে পাবার আগে, এক বরষার বৃষ্টিতে ভিজে, এতো সুখ সইবো কেমন করে, পথের শেষে অবশেষে বন্ধু তুমি, যদি আপনার লয়ে এ মাধুরী, এতো কান্নাই লিখা ছিলো ভাগ্যে আমার, যে মায়েরে মা বলে কেউ ডাকে না, প্রতিদিন সন্ধ্যায়, মাগো আমার যে ভাই, নীল পাখিওরে, এখনো কেন কাঁদিস ও পাখি, ফুলে মধূ থাকবেই, দিওনা দিওনা ফেলে দিওনা প্রভৃতি।

মৃত্যু
২০০১ সালের মাঝামাঝি সময়ে নিলুফার ইয়াসমিনের টিউমার ধরা পড়ে৷ অপারেশনের পর তিনি আবার ফিরে এসেছিলেন সংগীত ভূবনে৷ কিন্তু ২০০৩ সালের ১০ই মার্চ বারডেম হাসপাতালে তিনি সকলকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। #
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29341504 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29341504 2011-03-10 00:20:03
আমার যত প্রিয় পোস্ট (আপডেটিং ...) প্রিয় পোস্টের তালিকা দিনকে দিন এতো লম্বা হয়ে উঠছে যে, নিজের ব্লগ পেজ আপলোড হতেই অনেক সময় লাগে। ব্লগার আকাশদেখি'র অনুকরণে তাই আমার সবগুলো প্রিয় পোস্ট এখানে একত্রিত করলাম। অন্যান্য ব্লগাররাও এই পদ্ধতিটি ফলো করতে পারেন।


কম্পিউটার টিপস সম্পর্কিত পোস্ট

পিসির পারফরমেন্স কিভাবে বাড়াবেন

CTRL + C

Anti হ্যাকার - পাসওয়ার্ড সেভার

লিনাক্স :: একটি বিশ্বস্ত, শক্তিশালী এবং স্বপ্নের অপারেটিং সিস্টেম (ইতিহাস, ইন্সটল, ব্যবহার)

উইন্ডোজ এক্সপির ডিফল্ট আইকনের ১২টা বাজছে? নো চিন্তা!!

কম্পিউটারে আজ উইন্ডোজ 7 Install করলাম....

আগামীবার যখন উইন্ডোজ নতুন করে সেটআপ দেবেন...

ফটোশপ টিউটোরিয়াল: ফটোশপ সিএস এ পানির ইফেক্ট

এক্স পি সেটাপ? ৪/৫ মিনিটে কমপ্লিট!

উইনএক্সপি তে করাপটেড ফাইল যেভাবে ঠিক করবেন

উইন্ডোজ এর শম্বুক গতি -১

কম্পিউটারের গতি কমার কারন ও গতি বৃদ্ধির কিছু কৌশল

এ্যাডমিনিস্ট্রেটরের পাসওয়ার্ড খোলা

আসুন XPতে ফাইল Copy/Cut করি আরো একটু সহজে

উইন্ডোজ এক্সপির কাস্টমাইজ সিডি তৈরী করুন

সফটওয়্যার ছাড়াই সিডি রাইটিং করুন

প্রয়োজনীয় ১০০+ Run Command

উইন্ডোজ এক্সপিতে ভার্চুয়াল মেমরী সমস্যার সমাধান

Show Hidden Files and Folders অপশন কাজ করে না ? সমাধান দেখুন….

ব্লগার টেমপ্লেটঃ Modified Ads Theme

পুরনো পাসওয়ার্ড না জেনেই নিমেষের মধ্যে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলুন!!

আমার সাড়ে ৩ বছরের দাম্পত্য জীবন, পরকীয়া ও একটি অনন্যোপায় সিদ্ধান্ত

গানের Lyrics দেখাবে Windows Media Player !!

পিডিএফ(Pdf)তৈরী-ওয়ার্ডে রূপান্তর,ইউটিউব ভিডিও ডাউনলোড-আপলোড,ওয়েব পেজের স্ক্রিনশর্ট,ইউনিকোড কনভার্ট,হট কী,আইকন পরিবর্তন

Transcend পেন ড্রাইভ মেরামতের সফটঅয়ার

রেকর্ড করুন স্পিকারের সাউন্ড

CD /Local Drive হারিয়ে গেছে !!!!!!!

কোন ড্রাইভ যদি সরাসরি ক্লিকে না খুলে, তখন কি করবেন আপনি?

এক্সপি জেনুইন করার একটি সহজ উপায়

পিসির সাউন্ড (বিপস) শুনে কিভাবে বুঝবেন কী (এরর) ঘটলো


ইন্টারনেট সম্পর্কিত পোস্ট

মাঝপথে নেট কানেকশন ডিসকানেক্ট হয়? সমাধান জানুন

Yahoo! Messenger এ বাংলায় Chat করুন...

কিভাবে পোস্টে ইউটিউব ভিডিও যোগ করবেন?

২০০৭ সালের জনপ্রিয় শীর্ষ ১০ টি ওয়েবসাইট

ওয়েব টিপস: নেট স্পিড বাড়িয়ে নিন

ফ্রীতে নিজের একটা সাইট করুন ডমেইন সহ সবেই ফ্রী..

টেকি পোস্ট ঃ কমেন্টে ফটো দিবেন কিভাবে ??

টেকি পোস্টঃ ভোট দিন বারবার বাংলাদেশকে অটো সিস্টেমে কোন খাটুনি ছাড়া

নবীনদের জন্য

আইপি বের করুন ই-মেইল সেন্ডারের....!

সামহয়ারইন দেখুন আপনার মোবাইল থেকেই!

যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম!

একসাথে একাধিক ইয়াহু মেসেন্জারে লগ ইন করুন!!

ইউটিউব থেকে ভিডিও ডাউনলোড করুন সফটওয়্যার ছাড়াই

ইন্টারনেটের বিশাল তথ্যভান্ডার থেকে আপনার কাঙ্খিত তথ্যটি খুঁজে পাওয়ার কয়েকটি সহজ এবং ইউসফুল ট্রিক্স

ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের জগতে আপনাকে স্বাগতম (অনেকগুলো সফটওয়্যারের বর্ননাসহ ডাউনলোড লিংক)

কিছু প্রয়োজনীয় Google Seacrh টিপস n' টার্মস

আসুন আমরা সামহোয়্যারে ৫০০ কিলোবাইট পর্যন্ত সাইজের যে কোন ফাইল আপলোড ও শেয়ার করি (টাউটোরিয়াল)

ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের টাইটেলবারে নিজের নাম যোগ করা

অতি প্রয়োজনীয় কিছু সফটওয়ার

রিজিউম করুন আপনার ডাউনলোড

ওয়েবসাইটে ট্রাফিক পেতে keyword মজবুত করুন

কিভাবে ইন্টারনেট থেকে সব কিছু ডাউনলোড করবেন

"GMail Drive"- আপনার Gmail account -কে হার্ডডিস্ক হিসেবে ব্যাবহার করুন!!! (খুব দারুন একটা ফ্রীওয়্যার)

কলিগ খালি এডাল্ট সাইট ভিজিট করে

আপনি যে সফটওয়ারের ক্র্যাক বা কিজেন খুজছেন..

সহজে ব্লকড সাইটগুলো ভিজিট করুন (প্রক্সি সাইট ব্যবহার না করে)

জেনে নিন আপনার পাঠানো মেইলটা প্রাপক পড়েছে কিনা

প্রক্সি সাইটের ওপর ভর্সা রাখতে পার্তাছেন্না তাইলে কি আর কর্পেন নিজেই বানায়লান এক্কান প্রক্সি সাইট

How to use Use DEMO or TRIAL SOFTWARE for All LIFE

ফ্রী সিডি! ফ্রী সিডি!! ফ্রী সিডি!!! কত সিডি দরকার আপনার?

বাংলাদেশী ওয়েবসাইটের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা

কিভাবে পোষ্টে কিংবা কমেন্টে বিভিন্ন ছবি, ইউটিউবের ভিডিও এবং ইমোটিকন দিতে হয়?? (একটি সাহায্যমূলক ছোটখাট টেকি পোষ্ট)

বিশ্বের সেরা দুইটি ডাউনলোড ম্যানেজার (IDM & DAP) - লেটেষ্ট ফুল ভার্সন উইথ প্যাচ

অজানা গানের বিস্তারিত খুজে বের করুন অণলাইনে ,খুজে বের করুন গানের গায়ক,অ্যালবাম আর টাইটেল

ইনষ্টল করা সফটওয়ারের সিরিয়াল বের করুন সহজেই


ফায়ারফক্স সম্পর্কিত পোস্ট

আপনার ফায়ারফক্সের স্পিড বাড়িয়ে তুলুন ১০ গুনঃ টিপস

ফায়ারফক্সকে আরও ব্যাবহার উপযোগী করা

ফায়ারফক্সের কিছু জসিলা এডন

মজিলা ফায়ারফক্স ব্রাউসার দিয়েই টরেন্ট ফাইল ডাউনলোড

ফায়ারফক্সের ১০০ টিপস

আমার সেরা ৩৬ ফায়ারফক্স অ্যাড-অন (ডাউনলোড+রিভিউ+আপডেট)

Firefox এর কিছু আগুন ঝালানো (add-ons) এডন


মোবাইল সম্পর্কিত টেকি পোস্ট

মিসড কল অ্যালার্ট সার্ভিসের মাধ্যমে রিয়েল টাইম কলের এসএমএস আপডেট পেতে হলে যা করবেন (ইন্জ্ঞিনিয়ারস টেকনিক )

মোবাইলের আসল-নকল চেনার সহজ উপায়

দেশে বিদেশে কল করুন ফ্রিতে (সীমিত ইউ.এস.এ. ৫মিনিট, বাঙলাদেশে ৪ মিনিট)। তবে, আপনি সিম সংগ্রাহক হয়ে থাকলে আনলিমিটেড

কিভাবে পাঠাবেন ফ্রি SMS...??(আপডেটেড)


ভ্রমণ

মনোরম অবকাশ কেন্দ্র ফয়'স লেক

ট্রাভেল গাইড::বান্দরবান:: কি ভাবে যাবেন,কি দেখবেন? কত খরচ?


গেমস

একসময়কার সবার প্রিয় একটি গেমস পানিসসর {PUNISHER} ডাউনলোড করুন

একসময়কার সবার প্রিয় একটি গেমস মোস্তফা (Cadillacs and Dinosaurs) ডাউনলোড করুন,


জোকস ১৮+

এটা শেয়ার না করে পারলাম নাঃ ১০০% হাসির গ্যারান্টি

১৮+ কৌতুক প্লিজ ব্যান করবেন না, অথবা করার ইচ্ছা থাকলে ,একটা কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠাবেন।এক্সট্রিমলি ম্যাচিউরডদের জন্য।

মধ্যরাতের অশ্লীলতা (বৃহ্বসপতিবার), কড়াকড়ি ১৮+

আরো কিছু সোভিয়েত্স্কি কৌতুকভ।(প্রায় সবই পলিটিক্যাল)

যাদের বয়স কম তাদের প্রবেশ নিষেদ (+২০)


ফেসবুক

খুব সহজেই ফেইসবুকের ভিডিও সংরক্ষন করুন আপনার হার্ডডিস্কে !

ফেসবুকে বাংলা অক্ষর ছোট দেখার সমস্যা দূর করে নিন সহজেই....

পাল্টে ফেলুন ফেসবুকের থিম!

আসুন হাইজ্যাক করি ফেসবুকের গ্রুপ

যদি ফেসবুক সহ আরো সাইট ব্যান হয়, তাহলে কী করবেন?

ফেইসবুকের ভিডিও যেভাবে আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে যুক্ত (Embed) করবেন.....


নাটক/মুভি

বাংলা নাটক, গান ডাওনলোডের ভাল সাইটগুলো

ফ্রি মুভি ডাউনলোড

৭০০মেগাবাইটের যেকোন মুভি ডাওনলোড করুন মাত্র ৩০০ মেগাবাইটে। একই মান অত্যাধিক সুবিধা সহ

ইংলিশ মুভির সাবটাইটেল সমস্যার অসাধারণ সমাধান(পড়বেন অবশ্যই)

বড়দের পোস্ট: সেরা গরম ছবির তালিকা

ব্লগ ঘাইটা মুভি-লিস্ট বানাইলাম ;মুভি কিনবো বহুত দিন পর -


টুইটার

টুইট, টুইট, টুইটার (কি করে টুইটার ব্যবহার করবেন)


ইন্টারনেটে টিভি

মাত্র 14.5 KBPS হতে সর্বচ্চো 256 KBPS এর মধ্যে ক্যাবল টিভির মতই উপভোগ করুন ৭৭ টি দেশ, ৮০০ এর অধিক সম্পূর্ণ ফ্রি লাইভ অনলাইন টেলিভিশন চ্যানেলস!

বিনা মুল্যে দেখুন ৩৯ টিভি চ্যানেল

সরাসরি বিশ্বকাপ ক্রিকেট দেখতে পাবেন যে সব সাইটে-


অনলাইনে রেডিও

রেডিও শুনবেন নাকি ভাই সকল---এফ এম রেডিও


প্রিমিয়াম একাউন্ট

100% কাজের রেপিডশেয়ার মেগাআপলোড প্রিমিয়াম লিঙ্ক জেনারেটর সাইট লিষ্ট

Rapidshare প্রিমিয়াম একাউন্ট

২টি অতি খাঁটি প্রিমিয়াম লিংক জেনারেটর - একটি দ্বিমুখী এবং অপরটি বহুমুখী!!

রেপিড শেয়ার থেকে ফাইল ডাউনলোড করুন বিকল্প/পেইনলেস উপায়ে: as smooth as silk (প্রিমিয়াম ইউজারদের জন্য নয়)


টরেন্ট

অপারেশন : টরেন্ট - এইবার কই যাইবি। আমার মতো যারা টরেন্ট বুজেন না, কিন্তু ব্যবহারের করতে চান তারা আসেন

টরেন্ট কি এবং কিভাবে টরেন্ট দিয়ে ডাওনলোড করা হয়


এ্যান্টিভাইরাস

এবারে হ্যাক করুন ESET NOD32 Antivirus 4 এবং আজীবনের জন্য ব্যবহার করুন!! এখন থেকে আপডেট করতে আর কোনদিন Username/Password লাগবে না!! (এ বছরের সেরা উপহার!!!)

পরীক্ষা করে দেখুন আপনার এন্টিভাইরাসটি ঠিকমত কাজ করছে কি-না......

আপনার পিসিকে ভাইরাস মুক্ত রাখতে চান?

New Folder ভাইরাস হতে মুক্তি পান

স্পাইওয়্যার থেকে কিভাবে আপনার পিসি নিরাপদে রাখবেন


ইন্টারনেটে আয়

সকল ব্লগারের ব্লগের লিংক (বিষয় :ইন্টারনেটে আয় )

ফাইল শেয়ার করে পয়সা কামাই

আয়ের উপায় হতে পারে ওয়েব কনটেন্ট রাইটিং

আয় করুন Google Adsense এর মাধ্যমে

ক্লিক করেই কি শুধু পয়সা পাওয়া যায়?

বিড ছাড়াই ফ্রীল্যান্সিং জব পাওয়ার একটি চমৎকার সাইট

ডলার আয় করুন ঘরে বসেই

ফোরামে লেখালেখি করে ডলার আয় করতে চাইলে আলজবস ফোরামে ঢুঁ মারুন।


শেয়ার ব্যবসা

মাত্র ২০ হাজার টাকায় শুরু করুন শেয়ার ব্যাবসা।


ই-বুক

যারা অনুবাদকৃত কোরআন এবং অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের ভালো WebSite Link চান, তাদের জন্য

ব্যোমকেশ সমগ্র- (৩০টি রহস্যগল্পের ডাউনলোড লিঙ্ক / রহস্য প্রেমিদের অবশ্য পাঠ্য)

কেন কিনবেন বই যখন ফ্রী পাচ্ছেন?

ই-বুক কালেকশনঃ পর্ব-৬; ১৮+


ব্লগার বিষয়ক

সাময়িক পোষ্ট: আপনার জন্মদিন কবে?? (সবাইকে অংশগ্রহন করার বিনীত অনুরোধ)

১৮৯ জন ব্লগার এবং তাদের জন্মতারিখ

ব্লগারস ব্লাড ব্যাংকঃ ১২৯ ব্লগারের তথ্য (আপডেট পোস্ট)

সকল ব্লগারের নামের লিস্ট ও লিংক এক জায়গায় জড়ো করা হচ্ছে, আপনারা সহযোগীতা করুন


ব্লগীয় সংকলন

আমার শোকেজে সাজানো ব্লগ গুলো..

সামহয়ারইন ব্লগ সংকলনঃ টপ টেকি পোষ্ট!

প্রিয় পোষ্টগুলোর লিংক সব এক যায়গাতে


অন্যান্য

নাস্তানাবুদ নাস্তিকতা : নাস্তিকতার অসারতা প্রমাণকারী ব্লগ পোষ্ট সঙ্কলন

AVATAR movie কিভাবে সূটিং করা হয়েছে- সচিত্র

নপুংসকদের (হিজড়া) সম্বন্ধে জানুন আরো কিছু ১৮+ পোষ্ট

এ্যানথ্রাক্সঃ সতর্ক হওয়ার এখনি সময়

জামায়াতের ধর্ম ব্যবসার কিছু নমুনা এবং জামায়াত থেকে যে কারণে দূরে থাকতে হবে।

ঈশ্বরের পঞ্চেন্দ্রিয় এবং অস্তিত্ব-অনস্তিত্বের প্রশ্ন!

ফিরে দেখা ২০০৯ : সেরা ১০ বৈজ্ঞানিক অর্জন

এপার্টমেন্ট কিনতে চান? কয়েকটি ফ্রি উপদেশ: বুকিং-এর পুর্বে একটু সচেতন হোন

শেয়ার করার মত কিছু চমৎকার ছবি :: সব পর্ব একসাথে , পোষ্টটি নিয়মিত আপডেট হবে

আপনি কি বাংলাদেশের সবগুলা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম জানেন...?? বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা ওয়েবসাইট লিংক ও ক্যাম্পাসের ছবি সহ..।

বাংলাদেশের সকল ব্যাংকসমূহ / All Banks in Bangladesh

যারা ইয়ে করে বিয়ে করতে যাচ্ছেন, পালিয়ে (আইনী পরামর্শমূলক)

আসুন নিজের ঘরের জন্য একটা ছোট আইপিএস বানাই (টেকিদের জন্য)

ভড়কে যান ভড়কে দিন(নোটপ্যাড এর কারিশমা)

যারা আইবিএ-তে ভর্তি পরীক্ষা দিবেন তাদের জন্য উপদেশনামা!!

স্মৃতি তুমি বেদনা - পর্ব বিটিভির দিন গুলো

দলছুট সঞ্জীব — স্মৃতি রোমন্থনে

বিভিন্ন কোম্পানির লোগোতে গোপন বার্তা

বিনা ভিসাতে বিদেশ ভ্রমন

ইন্টারভিউতে কিভাবে ভাল করবেন

রোমান্টিকতায় মেতে ওঠার ৬০ টিপস

না বলতে সমস্যা?

আজ রিজভীর জন্মদিন

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান : যার নিরেট দেশপ্রেমের স্বাক্ষী দেয় সিআইএ'র সিক্রেট টেলিগ্রাম ০৩২৫/০৯৫০Z.....এবং অনেক অজানা কথকতা

কতোটা আত্মবিশ্বাসী আপনি ?

যৌথ পোষ্ট (যেমন করে কাটলো ভালবাসা দিবসের রাত!)

কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই

ঘুরে এলাম যাযাদি, দেখে এলাম রিজভী ভাইকে..

ব্লগারদের মিলন মেলার কিছু ছবি !

ব্লগার আড্ডার কয়েকটি ছবি..

২০০৮ : আপনার চোখে ব্লগের বর্ষসেরা লেখা কোনটি?

অথ: সেরা পোস্ট এ্যান্ড/অর নির্বাচিত পোস্ট সমাচার

পোস্ট না পড়ে কিংবা অল্প পড়ে কিভাবে সুন্দর মন্তব্য করবেন? (নতুন ও কর্মজীবী ব্লগারদের জন্য পরামর্শ)

"চলচ্চিত্র সমাজ পরিবর্তন করতে পারে না, কখনো করেও নি" -- সত্যজিৎ রায়ের সাক্ষাৎকার

সেই ইত্যাদি!

পর্বঃ২ মেমোরি প্রশিক্ষন - যেভাবে সব কিছু মনে রাখবেন
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29340213 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29340213 2011-03-08 01:39:26
রিভিউ : কবি হাসান মাহমুদ ও চঞ্চলা চঞ্চুর দুটি কবিতার বই
কবি হাসান মাহমুদের ‘চোখের মতো চিহ্নগুলো’
আদর্শ প্রকাশনী থেকে একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে কবি ও সাংবাদিক হাসান মাহমুদের কবিতার বই ‘চোখের মতো চিহ্নগুলো’। কাব্য গ্রন্থে ৪০টি কবিতা রয়েছে। বইটির প্রতিটি কবিতাই জীবনের কথা বলে। কবি চলমান সমাজের বাস্তবতার নানা প্রতিরুপকে তার কবিতায় তুলে এনেছেন। তার কবিতায় খুঁজে পাওয়া যায় নানা সময়ের নানা ঘটনার কাব্যিক রুপ। কবির কাব্যে একদিকে যেমন আছে হতাশার সুর, অন্যদিকে তাতে পাওয়া যায় আশার আলো। ‘সকালবেলার পাখি’ কবিতার শেষ পক্ততিতে কবি তেমনি ভাবে বলেছেন- “নিসর্গের উদার পাঠশালায় এখনো শিক্ষার্থীরা বয়স ভুলে/মেঝেতে গড়াগড়ি খায়, বাবরী-বসনে স্থির দুখু মিয়ার/চোখে চোখ রেখে কোরাস তোলে তারা-/‘আমি হব সকালবেলার পাখি.../আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে’...?” (পৃষ্ঠা- ৩৫)। প্রবাসী বন্ধুদের উদ্দেশ্যে ‘যৌথ যাব’, কবি রহমান হেনরীকে ‘একটি বাক্য শ্রবণের পর যা যা মনে হয়...’, শিল্পী অমল বোসকে ‘জীবনের বীজ’ এবং অভিনেত্রী-উপস্থাপিকা ফারজানা ব্রাউনিয়াকে ‘মূল্য-অভিসার’ কবিতাগুলো উৎসর্গ করেছেন কবি তার এই গ্রন্থে। ভারতীয় বিএসএফ’র গুলিতে নিহত বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানীকে নিয়ে কবি তার গ্রন্থের শেষ কবিতা ‘ফেলানী’-তে দেখিয়েছেন মানবতার জন্যও কবিতার আবেদন চিরন্তন।


চঞ্চলা চঞ্চুর ‘গোপন রামধনু’
আগামী প্রকাশনী থেকে একুশে বইমেলার শেষ সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে চঞ্চলা চঞ্চুর ১৫তম কবিতার বই ‘গোপন রামধনু’। কাব্য গ্রন্থে ১৯৩টি কবিতা রয়েছে। প্রতিটি কবিতা তার নিজ নিজ কাঠামো ও ভাব-বিন্যাসে সতন্ত্র। কবিতাগুলোর গাঁথুনিতে ছান্দিকতার পাশাপাশি কবির মনন ও ব্যঞ্জনার প্রতিফল দেখা যায়। কবিতার ভেতর যেমন প্রেম-ভালবাসার নিখাদ রূপ পাওয়া যায়, তেমনি না পাওয়ার হাহাকার ও বেদনার চিত্রও পরিলক্ষিত হয়। জীবনের নানা চিত্র-বিচিত্র দিকের সমাহার খুঁজে পাওয়া যায় কবিতাগুলোতে। মানব-মানবীর পারস্পরিক মনতাস্তিক বিশ্লেষণের চিত্রও কবি তার কাব্যে ফুটিয়ে তুলবার প্রয়াস চালিয়েছেন। তার কবিতার ছত্র থেকেই যেমনটি দেখতে পাই- “পৃথিবী চাই তুমি থাকলে/পেছনে যাই তুমি ডাকলে।” (কবিতা- তুমি থাকলে, পৃষ্ঠা-১৪০)। আবার প্রচলিত সমাজ কাঠামোর বিরুদ্ধেও কবির লেখনি দেখা যায়- “হাত চেও না/হাত কাঁপছে শোকে/আমার সব ইচ্ছেগুলো/শাসন করে লোকে/হাত চেও না, হাত অন্য হাতে/ওটা সমাজ, ওটা আমার/ জাবর কাটি দাঁতে।” (কবিতা- সমাজ, পৃষ্ঠা-৯১) ছান্দনিক কবিতাগুলো কাব্যপ্রেমীদের পঠনের পাশাপাশি চিন্তার খোড়াক জোগাবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29338998 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29338998 2011-03-06 01:44:42
বাংলাভিশনে থাকছি কাল .... সবাইকে দেখবার আমন্ত্রণ রইলো
বাংলাভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান "দিন প্রতিদিন" -এ আগামীকাল (১৫ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার) থাকছি আমি। অনুষ্ঠানে আমার কবিতা, নাটক ও অভিনয় নিয়ে আলাপ হবে। এছাড়া সাংবাদিকতায় আমার ক্যারিয়ার নিয়েও বিস্তারিত থাকবে। অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে। সবাইকে অনুষ্ঠানটি দেখবার আমন্ত্রণ রইলো।

........................................................................................ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29326787 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29326787 2011-02-14 21:56:16
'ভালবাসার সফল জুটি' আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভালবাসা দিবস। দেশ-কাল-পাত্র ভেদে ভালবাসার কোন বিভেদ নেই। ভালবাসা কোন বাঁধা মানে না। আমাদের দেশের মিডিয়া অঙ্গনের তারকারাও ভালবাসার জালে নিজেদের জড়িয়েছেন। কেউ কেউ হয়েছেন সফল, কেউ বা ব্যর্থ। ভালবাসার বন্ধুর পথ পেরিয়ে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যেসব তারকার উভয়ই মিডিয়াতে কাজ করছন, আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালবাসা দিবসে এমন ১৪ জুটিকে নির্বাচন করা হলো "ভালবাসার সফল জুটি হিসেবে"-

********************************************



১. আলী যাকের ও সারা যাকের : দু'জনেই মঞ্চ ও টিভিতে অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে।



২. আলমগীর ও রুনা লায়লা : এক সময়ের সিনেমার পর্দা কাঁপানো শক্তিমান অভিনেতা আলমগীরকে এখন সিনেমাতে তেমন দেখা না গেলেও সুকন্ঠি গায়িকা রুনা লায়লা বর্তমানে গানের পাশাপাশি বিভিন্ন সঙ্গীত প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে কাজ করছেন।



৩. বদরুল আনাম সৌদ ও সুবর্ণা মুস্তাফা : একজন নাট্য নিদের্শক হিসেবে বদরুল আনাম সৌদের মিডিয়া অঙ্গনে ভাল পরিচিতি রয়েছে। অন্যদিকে অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা এখনও দৌর্দন্ডপ্রতাপে টিভি পর্দায় অভিনয় করে চলেছেন।



৪. শহীদুজ্জামান সেলিম ও রোজী সিদ্দিকী : শহীদুজ্জামান সেলিম ও রোজী সিদ্দিকী দু'জনেই নাটকের মানুষ হলেও বর্তমানে শহীদুজ্জামান সেলিম অভিনয়ের চেয়ে নাট্য পরিচালক হিসেবেই বেশি কাজ করছেন।



৫. শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম ও তনিমা হামিদ : শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম সংবাদ পাঠক হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করলেও বর্তমানে পুরোদস্তুর একজন সাংবাদিক। অপরদিকে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবেই তনিমা হামিদ পরিচিত।



৬. শওকত আলী ইমন ও বিজরী বরকতউল্লাহ : শওকত আলী ইমন পুরোপুরি সঙ্গীতাঙ্গনের মানুষ। অপরদিকে বিজরী বরকতউল্লাহ অভিনেয়ের পাশাপাশি নাচেও সমান পারদর্শী।



৭. তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াত : অভিনয় দিয়ে তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াতের মিডিয়াতে যাত্রা শুরু হলেও তৌকীর আহমেদ পরবর্তীতে নাটক ও সিনেমা পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। আর বিপাশা হায়াত বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি নাট্যকার হিসেবে কাজ করছেন।



৮. জাহিদ হাসান ও মৌ : অভিনয় দিয়ে জাহিদ হাসানের শুরু হলেও মৌ-এর শুরু মডেলিং দিয়ে। এছাড়া নির্মাতা হিসেবে জাহিদ হাসান ও মডেলিং-এর পাশাপাশি নাচের শিল্পী হিসেবে মৌ-এর আলাদা পরিচিতি রয়েছে।



৯. মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তিশা : নাটক ও সিনেমা নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দেশের নাটক ও সিনেমার ক্ষেত্রে এক ধরনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। অপরদিকে তিশা পুরোদস্তুর অভিনেত্রী হিসেবে নাটক কাজ করছেন। এর পাশাপাশি 'থার্ড পারর্সন সিঙ্গুলার নাম্বার' ছবিতে তিনি অনবদ্য অভিনয় করেছেন।



১০. শিমুল ও নাদিয়া : শিমুল ও নাদিয়া দু'জনেরই শুরুটা ছিল মডেলিং থেকে। পরবর্তীতে তাঁরা দু'জনেই অভিনয়ে এসেছেন।



১১. রিয়াজ ও তিনা : রিয়াজ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ছোট পর্দায় নাটক ও উপস্থাপনা করছেন। তাঁর সহধর্মিণী তিনাও উপস্থাপনা করছেন।



১২. হিল্লোল ও তিন্নি : হিল্লোল ও তিন্নি দু'জনেই নাটক ও মডেলিংয়ের দু'ক্ষেত্রেই প্রশংসা কুড়িয়েছেন।



১৩. বাপ্পা ও চাঁদনী : বাপ্পা সঙ্গীতের মানুষ হলেও চাঁদনী নাচ ও অভিনয় করছেন।



১৪. তাহসান ও মিথিলা : সঙ্গীত দিয়ে তাহসান ও মিথিলার মিডিয়ায় যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে তাদের দু'জনকেই বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করতে দেখা যায়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29326388 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29326388 2011-02-14 11:36:09
মেহেরজান : ইতিহাস পুনঃনির্মাণের ডিসকোর্স
মেহেরজান ছবির উপজীব্য : তরুণ চিত্র নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘মেহেরজান’ চলচ্চিত্রটি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কালের প্রেক্ষিতে নির্মিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটির মূল উপজীব্য যুদ্ধ ও ভালোবাসা। একজন পাকিস্তানি বেলুচ সেনার সঙ্গে বাংলাদেশী কিশোরী মেহেরের যুদ্ধকালীন সময়ে গড়ে ওঠা প্রেমের বিভিন্ন দৃশ্যপট ও ঘটনাপ্রবাহ আমরা এই চলচ্চিত্রে দেখতে পাই। এছাড়া চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে ১৯৭১ সালে মুসলিম লিগ, ছাত্র ইউনিয়ন, মুক্তিবাহিনী, শান্তি কমিটি প্রভৃতির কয়েকটি নমুনায়ন। নির্মাতা তার চলচ্চিত্রকে বাস্তবতার সঙ্গে ফোক-ফ্যান্টাসির সংমিশ্রণ বলে আখ্যায়িত করেছেন। (দৈনিক প্রথম আলো:২৬ জানুয়ারি, ২০১১; পৃষ্ঠা-১৩) তবে পরিচালকের ভাষ্য ছাপিয়ে চলচ্চিত্রটির বির্তকের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের যে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিকতা পরিচালক তার চলচ্চিত্রে তুলে এনেছেন, সেগুলোর অধিকাংশই পরিচালক নিজের মতো করে রিপ্রেজেন্ট করেছেন। (দৈনিক প্রথম আলো:২৬ জানুয়ারি, ২০১১; পৃষ্ঠা-১২)।

মেহেরজান ছবির কাহিনী : প্রথমেই মেহেরজান ছবির কাহিনী সংক্ষেপে বলে নেয়া যাক, এতে করে পাঠকদের মনে চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে সম্যক ধারণা জন্ম নেবে। মেহেরজান ছবিটিতে দুটি ভিন্ন ভিন্ন সময়, দুটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট, দুটি ভিন্ন সামাজিক অবস্থান উপস্থাপিত হয়েছে। পরিণত বয়সের ভাস্কর নিভৃতে শহরে বসে শিল্প চর্চা করছেন। আবার তিনি পুরনো ডায়েরির পাতা খুললেই পুরনো সময়ে ফিরে যান। ফিরে যান ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময়ে। সারাহ নামের এক যুদ্ধশিশু মায়ের সন্ধানে এসে আবিষ্কার করে অতীতকে। মেহেরকে সে দাঁড় করিয়ে দেয় অতীতের সামনে। মেহেরের খালাতো বোন নীলার গর্ভে জন্ম নেওয়া যুদ্ধশিশু সারাহকে অতীতের ঘটনা খুলে বলে মেহের। এই বয়ানের মধ্য দিয়ে মেহের তার অতীতকে আবার দেখে। ৭১ এর উত্তাল সময়ে বাবা-মার সঙ্গে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে নানার বাড়িতে আশ্রয় নেয় মেহের। বিছানায় শুয়ে শুয়ে কিংবা কাত হয়ে সে ডায়েরি লেখে। ডায়েরির পাতায় তুলে রাখে যুদ্ধাকালীন সময়ের স্মৃতি। একসময় পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে নির্যাতিত খালাতো বোন নীলা উপস্থিত হয়। নীলা আত্মগ্লানিতে না ভুগে প্রতিশোধের উপায় খোঁজে। যুদ্ধের উত্তাল সময়ে মেহের গ্রামময় ঘুরে বেড়ায়। পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কা থেকে তাকে বাঁচায় পলাতক এক পাকিস্তানী বেলুচ সেনা। আহত সৈন্যটির প্রতি মেহের দূর্বল হয়ে পড়ে। শত্রুপক্ষের সেনা হওয়া সত্ত্বেও ওয়াসিমকে শুশ্রুষা করে ভালো করে তোলে মেহের। ওয়াসিমের প্রেমে পড়ে যায় মেহের। কিন্তু শত্রুপক্ষের একজন সেনাকে ভালোবাসার অপরাধে পারিবারিক বাধার সম্মুখীন হয় সে। ওয়াসিমকে মুক্তিযোদ্ধারা আটক করে রাখে। এক রাতের আঁধারে ওয়াসিমকে নৌকায় উঠিয়ে বিদায় জানায় মেহের। কিন্তু ওয়াসিমকে সে কখনোই ভুলতে পারে না। তবে মেহেরের মনে পাকিস্তানি সেনাকে ভালোবাসার যে হিনমন্যতা ছিল তা যুদ্ধশিশু সারাহ কাটিয়ে দেয় এবং মেহের তার ভালোবাসার প্রতি আস্থার প্রকাশ ঘটায় ভাস্কর্য নির্মাণের মাধ্রমে যেটি ছবির শেষ দৃশ্যে দেখানো হয়। গৎবাঁধা ব্যাখ্যায় এটিই হলো মেহেরজান ছবির কাহিনীর সারসংক্ষেপ।

মেহেরজান ছবিতে যেভাবে ইতিহাসকে পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে : মোটাদাগে মেহেরজান ছবিতে ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে পুনঃনির্মাণের বিষয়টিকে ৩টি প্রাসঙ্গিকতায় বিভক্ত করে আলোচনা করা হলো।

১. মুক্তিযোদ্ধাদের সংসারী হিসেবে নির্মাণের ডিসকোর্স : মেহেরজান ছবিতে ৩ ধরণের মুক্তিযাদ্ধাকে পরিচালক নির্মাণ করেছেন। প্রথমজন, মেহেরের খালাত ভাই। সে মেহেরকে ভালোবাসে। ছবিতে দেখানো হয়, সে সবাইকে জানিয়ে যুদ্ধে গেলেও কিছুদিন পরই যুদ্ধ থেকে ফিরে আসে। কারণ হিসেবে তিনি তার মাকে বলেন, ‘মা আমি মরতে চাই না। আমি বিয়া করতে চাই!’ দ্বিতীয়জন, মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার। সে খাজাসাবের এলাকায় তার দলবল নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। খাজাসাবের কাছে সে এ্যাকশনের অনুমতি চায়। কিন্তু খাজাসাহেব তাকে অনুমতি দেন না। আর তৃতীয়জন হিসেবে আরেক মুক্তিযোদ্ধাকে দেখানো হয়েছে, যে খাজাসাহেবের মেয়েরে মানসিক বিকারগ্রস্থ মেয়েকে বিয়ে করে সংসারি হতে চায়। ছবিতে তার সংলাপ ছিল এরকম যে- ‘যুদ্ধে যুদ্ধে আমি ক্লান্ত!’ অর্থাৎ, এই ৩ ধরণের মুক্তিযোদ্ধার মাধ্যমে পরিচালক তুলে ধরতে চেয়েছেন যে, মুক্তিযুদ্ধের সময় এই ৩ ধরণের মুক্তিযোদ্ধা ব্যতিত অন্য কোন ধরণ খোঁজাটা অমূলক! তবে বাস্তব হলো বিভিন্ন দলিল-দস্তাবেজ ঘেঁটে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকাংশই পরিবার-পরিজন ও সংসারের মায়া ফেলে যুদ্ধে গিয়েছেন। অথচ মেহেরজান ছবিতে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ‘সংসারী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

২. যুদ্ধের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশের ডিসকোর্স : মেহেরজান ছবিতে পাকিস্তানী সেনার সঙ্গে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে মেহেরের ঘুরে-বেড়ানো ও প্রেমের দৃশ্য দর্শকদের মনে এই উপলব্ধিই জাগ্রত করে যে, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজমান ছিল! অথচ যুদ্ধের বিভীষণ অবস্থার বিভিন্ন দৃশ্যপট আমরা শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলো’ ও জহির রায়হানের ‌'স্টপ জেনোসাইড'-এ দেখতে পাই। সেখানে দেখা যায়, শুধু শহরাঞ্চলেই নয়, বরং প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষদেরকেও দিন-রাত সবসময়ই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের জন্য সতন্ত্র থাকতে হয়েছে। এক কথায় বললে, বাংলাদেশের এমন কোন শান্তিপূর্ণ স্থানের অস্তিত্ব আদৌ ছিল না, যেমন মেহেরজান ছবিতে দেখানো হয়েছে।

৩. পাকিস্তানী সেনাকে হিরো ও মুক্তিযোদ্ধাকে ভিলেন নির্মাণের ডিসকোর্স : মেহেরজান ছবির কাহিনীতে দেখানো হয়, মেহেরকে ভালোবেসে বিয়ে করতে চায় তার খালাতো ভাই। অন্যদিকে কিশোরী মেহের ও পাকিস্তানি সেনা ওয়াসিম একে অন্যকে ভালোবাসে। তাদের ভালোবাসার বাধা হয়ে দাঁড়ায় মেহেরের খালাতো ভাই। সে ওয়াসিমকে বন্দী করে নিয়ে আসে ও হত্যা করতে চায়। তখন মেহের তার নানা ও বাবার কাছে কাকুতি-মিনতি করে ওয়াসিমের প্রাণ ভিক্ষা চায়। মেহেরের নানা ওয়াসিমের হত্যা রোধ করেন। এর পরের দৃশ্যেই দেখানো হয় খালাত ভাই মেহেরকে বলছে, ‘আমি জেনুইনলি তোমাকে ভালোবাসি।’ এমন সময় মেহের তার গালে একটি চড় দেয়। এই দৃশ্যের মাধ্যমে হিরো হিসেবে ওয়াসিমকে প্রতিষ্ঠা ও ভিলেন রূপে মেহেরের খালাতো ভাইকে চিত্রিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধাদের বিপরীতে পাকিস্তানী সেনাকে ধনাত্মক হিসেবে পরিচালক তার ছবিতে নির্মাণ করেছেন। অথচ মুক্তিযুদ্ধের মূল ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকাংশই স্ত্রী ও প্রেমিকাকে ফেলে যুদ্ধে গিয়েছেন, যেটি মেহেরজান ছবিতে অনুপস্থিত।

মেহেরজান ছবিতে ইতিহাসের পুনঃনির্মাণ ছাড়াও সংলাপ ও পোষাক নির্বাচনের অসংগতি চোখে পড়ার মতো। এছাড়া কাহিনীর বিন্যাসের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়নি। অপ্রাসঙ্গিকভাবে সমকামিতার বিষয়টি টেনে আনার চেষ্টা করেছেন পরিচালক। তবে এই আলোচনাটিতে সে সকল বিষয়গুলোর দিকে না গিয়ে ইতিহাসের পুনঃনির্মাণের ক্ষেত্রে মেহেরজান কিভাবে ডিসকোর্স হয়ে উঠেছে কেবল সেটি নিয়েই আলোকপাত করা হয়েছে।


[ দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার উপ-সম্পাদকীয়তে আজ (১ ফেব্রুয়ারি, ২০১১) প্রকাশিত ]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29318626 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29318626 2011-02-01 22:53:29
সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা ...
অ-প্রাপ্তিগুলো পাবার আনন্দে পূর্ণ হোক নতুন বছরটি।

হ্যাপি নিউ ইয়ার ২০১১ ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29299885 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29299885 2011-01-01 01:58:55
প্রথম ব্লগার আড্ডার স্মৃতিগুলো আজ থেকে ঠিক ৩ বছর আগে ২০০৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই দিনে সামহোয়ারইন ব্লগের ২য় বর্ষপূর্তিতে আয়োজন করা হয়েছিলো সামহোয়ারইন ব্লগের ব্লগারদের অংশগ্রহণে "প্রথম ব্লগার আড্ডা"। আজ পঞ্চম বর্ষপূর্তির দিনটি পার করে সেই দিনটির কথা মনে পড়ছে। সামহোয়ারইন ব্লগে এই ৩ বছরে অনেক নতুন নতুন ব্লগার এসেছেন। ফেসবুক থেকে আমাদের সেই "প্রথম ব্লগার আড্ডা"-র বিভিন্ন মুহূর্তগুলোর ছবি শেয়ার করার ইচ্ছে থেকে এই পোস্টটি দিলাম।

ব্লগার আড্ডার যত ছবি
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29291152 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29291152 2010-12-17 02:54:36
একুশের দুপুরে থাকছি কাল .... সবাইকে দেখবার আমন্ত্রণ রইলো
একুশে টিভির নিয়মিত লাইভ প্রোগ্রাম একুশের দুপুরে আগামীকাল (৩০ নভেম্বর, মঙ্গলবার) থাকছি আমি।

অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে দুপুর ১২টা ২ মিনিটে।

সবাইকে প্রোগ্রামটি দেখবার আমন্ত্রণ রইলো।

........................................................................................]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29280441 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29280441 2010-11-30 00:01:47
বাঙ্গালীর নৈতিকতা ... (পর্ব-৬)
যা হোক, এতগুলো কথা বলার প্রধান কারণ হলো এবারের ঈদে অন্যরা মঙ্গলবার থেকে শুক্র বা শনিবার পর্যন্ত ছুটি কাটাতে পারলেও আমরা যারা পত্রিকাই কাজ করি, তাদের ছুটি ছিলো মঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। মাত্র ৩ দিনের ছুটিতে ঈদ করতে ঢাকার বাইরে যাবার কথা সচরাচর তাই ভাবাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তারপরও এবারের ঈদটি করতে হয়েছে কুষ্টিয়ায়।

ঈদের আগের দিন খুব ভোরেই রওনা দিলাম কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে। কাউন্টার বাসের সকালের টিকিট না পাওয়ায় সিদ্ধান্ত নিলাম ভেঙ্গে ভেঙ্গেই যাবো। কিন্তু সিদ্ধান্তটা যে বাস্তবিকই কঠিন ছিলো তা টের পেলাম গাবতলি গিয়ে। শত শত মানুষ ঢাকা ছাড়ার উদ্দেশ্যে গাবতলি এসেছে। ফলে একবারে এতো মানুষের ভীড়ে বাঙ্গালীর চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী বাসের ভাড়া ৫/৬ গুণ বেড়ে গেলো। দূর পাল্লার ও নিয়মিত আরিচাগামী বাসের বদলে নিয়ম ভেঙ্গে ঢাকার মিরপুর, গুলিস্তান, সদরঘাট রুটের লোকাল বাসগুলো আরিচা পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করছিলো। এমনকি ট্রাকে দাঁড়িয়েও যাত্রী নেয়া হচ্ছিলো। আরিচা পর্যন্ত বাসের ভাড়া চাওয়া হচ্ছিলো ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত, সেটি বাসের সিটে বসেই হোক কিংবা দাঁড়িয়ে! আর বাসের ছাদে কিংবা ট্রাকে গেলে ভাড়া ১০০ টাকা নেয়া হচ্ছিলো। অথচ অন্য সময় বাসে এই ভাড়া ৪০-৬০ টাকা নেয়া হয়। কখনো বা আরো কমেও যাওয়া যায়। আর বাসের ছাদে কিংবা ট্রাকে করে যাত্রী পরিবহন তো একেবারেই নিষিদ্ধ। কেবল ঈদ উপলক্ষে মানুষজন ২০০-৩০০ টাকা দিয়ে বাসে উঠতে বাধ্য হচ্ছে।

প্রচুর ট্রাফিক সার্জেন্ট ডিউটিতে থাকলেও তারা ছিলেন পুরোপুরি নির্বিকার। আবার এমনও নয় যে গাবতলিতে বাসের সংকট ছিলো। কেবল হুজুগের কারণে সবাই যে কোন বাস আসা মাত্র এমনভাবে হুড়োহুড়ি করে বাসে উঠছিল যে, বাসের ভাড়া নিমিষেই আরো বেড়ে যাচ্ছিলো।

এখন জানার আগ্রহটা এখানেই যে, ঈদ উপলক্ষে প্রতি বছর বাস ভাড়া না বাড়ার যে ঘোষণা যোগাযোগ মন্ত্রনালয় থেকে শুনি তার কতটুকু বাস্তবায়ন হয় সেটি কি আদৌ তারা যাচাই করে দেখেন?

আরেকটি জরুরী বিষয় হলো, কাউন্টার বাস সার্ভিসগুলো ঈদের আগে থেকে যে বর্ধিত ভাড়া আদায় শুরু করে তা তারা ঈদের পরেও সপ্তাহখানেকের বেশিও অব্যাহত রাখে। এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি হলো ফেরার সময় যাত্রী তেমন থাকে না। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে দেখা যাচ্ছে যে, যানজট এড়াতে ঈদের পরেও বিপুল সংখক মানুষ গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যান। ঈদের পরে টিকিট যারা কাটতে গিয়েছেন তারা এটি ভালো অনুধাবন করতে পেরেছেন। তাহলে বাস মালিকদের এসব খোঁড়া যুক্তি আর কতকাল?

....... সেই দিনের অপেক্ষায় থাকলাম!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29275584 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29275584 2010-11-21 22:56:46
সবাইকে ঈদ মোবারক ...
সবাইকে ঈদ মোবারক।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29273022 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29273022 2010-11-16 05:29:42
বাঙ্গালীর নৈতিকতা ... (পর্ব-৫) ভয়াবহ নানা কাহিনীর তুলনায় তো এই হরতাল তেমন কিছুই না।

যা হোক, যতটা না ভেবেছিলাম সে তুলনায় বরং অনেকটা নির্বিঘ্নেই অফিস পৌঁছালাম। শ্যামলীতে গিয়ে ২২নং রুটের (পূর্বের ৮নং) বাসে অন্য দিনের চেয়ে অর্ধেক সময়েই অফিস পৌঁছালাম। তবে বিড়ম্বনায় পড়তে হলো অফিস থেকে ফেরার সময়। ভেবেছিলাম, সন্ধ্যা পর্যন্ত যেহেতু হরতাল, তাই সন্ধ্যার পর এভেলেবল ট্রান্সপোর্ট পাওয়া যাবে। কিন্তু রাস্তায় বেরিয়ে দেখি গতকাল রাতের মতো অবস্থা! খুবই কম বাস চলাচল করছে।

অবশেষে ফার্মগেট থেকে মিরপুর (২নং) রুটের একটি বাসে বহু কষ্টে উঠলাম। কিন্তু বাসে উঠেই দেখলাম গেটে হট্টগোল। কারণ, বাসে ড্রাইভারের পাশে মহিলাদের জন্য নির্ধারিত সিটে ৩ জন মহিলার পাশে ৩০-৩২ বছর বয়সী একজন পুরুষ বসে আছেন। আর তার ঠিক সামনেই একজন চল্লিশোর্ধ মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন। বাসের লোকজন সবাই সেই ব্যক্তিকে অনুরোধ করছে মহিলা সিটটি ছেড়ে দিতে। কিন্তু মহিলা সিটে উপবিষ্ট ব্যক্তির একই কথা, সে যখন বাসে উঠেছে তখন কোন মহিলা ছিলো না। তাই সে এই সিটে বসেছে। ফলে মহিলা সিট খালি না থাকা সত্বেও কেন হেলপার-কন্ট্রাক্টর এই মহিলাকে বাসে উঠিয়েছে, এই নিয়েই তার যত আপত্তি!

যখন দেখলাম কারো কথাকেই সে লোক পাত্তা দিচ্ছে তখন নিজেই উদ্যোগী হয়ে তাকে কড়া স্বরে বললাম, মহিলা সিট ছেড়ে দিতে। এরপর দেখলাম আরো কিছু ব্যক্তি আমার সঙ্গে সমস্বরে তাকে মহিলা সিট ছেড়ে দিতে ধমকা-ধামকি শুরু করলো। তখন সে বাধ্য হয়ে সিট ছেড়ে দাঁড়ালো।

এরই মধ্যে বাস চলা শুরু হয়েছে। বাস যখন শ্যামলীর কাছাকাছি এসেছে বাস থেকে মাত্র নেমে সামনে এগিয়েছি, তখন সেই ব্যক্তিও দেখলাম বাস থেকে নেমে আমাকে ডাকলো। আমার পাশে পাশে হাঁটতে হাটতে জিজ্ঞেস করলো, "কোথায় থাকেন?"
৬ষ্ঠ ইন্দ্রিয় সিগনাল দিলো যে, কিছু একটা ঘাপলা হতে পারে। তাই সেই লোককে চার্জ করার ইচ্ছে শত-কষ্টে দমন করে প্রত্যুত্তর দিলাম।
- সে তখন আরো উৎসাহের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলো, "কি করেন?"
তবে এবার জানানোর পরে দেখলাম সে খানিকটা দমে গেলো।
- এবার আমি সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনার পরিচয়?"
সে তখন বললো, আমার পরিচয় একটু পরেই পাবেন। তারপর তেজের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলো, "কোন পত্রিকার?"
- এবারও তাকে জানালাম।
খানিকক্ষণ থেমে এবার সে আমার নাম জিজ্ঞেস করলো।
- এটাও জানালাম।

তবে উল্লেখ করাটা জরুরী যে, সেই লোকের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলাম আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। কারণ আমি বেশ ভালো করেই বুঝতে পেরেছিলাম যে, সে কেন আমাকে বাস থেকে নেমে চার্জ করেছে। এক্ষেত্রে সামান্য আত্মবিশ্বাসহীনতাও বিপদের কারণ হতে পারে। আর এই বিশ্বাসও ছিলো যে, যেহেতু কোন অন্যায় করি নি, তাই এই টাইপের লোকদের প্রতিহিংসা থেকে আসা করি বেরিয়ে আসতে পারবো।

যা হোক, আমার পরিচয় নেওয়া হলে সেই ব্যক্তি চুপ মেরে গেলো। একটু পরে সে কৈফিয়ত দেবার ভঙ্গিতে বললো, "আপনি একজন সাংবাদিক হয়েও আমার সঙ্গে যেভাবে রূঢ় স্বরে কথা বললেন তা কি ঠিক করেছেন?"
আমিও পাল্টা তেজে জবাব দিলাম, "বে-ঠিক কোনটা করেছি? আপনি মহিলা সিট থেকে উঠতে চাচ্ছিলেন না বলেই তো এভাবে বলেছি। আমি কি ভুল কিছু বলেছি?"
সে তখন বললো, "না ভুল বলেন নি। তবে এভাবে না বলে ভালো ভাবে বললেও তো পারতেন?"
সঙ্গে সঙ্গেই তাকে বললাম, "বাসের সবাই-ই তো ভালো ভাবেই আপনাকে সিট ছেড়ে দিতে রিকোয়েস্ট করছিলো। কিন্তু আপনি কি তা শুনেছেন? তাই বাধ্য হয়েই আপনাকে এমন রূঢ় ভাবে বলেছি।"
তখন সে বললো, "আপনাকে কি আর বলবো, আপনি একজন সাংবাদিক। তাই আপনাকে আর কিছু বললাম না। আমিও এই এলাকাতেই হক সাহেবের গ্যারেজের কাছেই থাকি। আমার বন্ধুরা সবাই চলে এসেছে, আপনি যদি এখানে না নামতেন তবে বাস আটকে দিতাম।"
ভালোই বুঝতে পারলাম যে আমাকে পরিস্কার হুমকি দেয়া হলো। <img src=(" style="border:0;" />

এরপর দেখলাম কাকে যেন সে ফোনে তার লোকেশন জানালো। এরপর সেখানে লম্বা-সুদর্শন এক যুবক আসলো। নবাগত যুবক সবিস্তারে পুরো ঘটনা শুনে আমার পরিচয় নিলো। এরপর ঐ দুজনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রিকশা ঠিক করলাম। রিকশায় উঠে যাবার সময় মাঝ পথে খেয়াল করলাম সেই দুজন অন্য একটি রিকশাতে যাচ্ছে। দুজনেই একেবারে নিরব, থমথমে। বোধহয় হাত থেকে এমন একটি "শিকার" হাতছাড়া হয়ে যাওয়াতেই তাদের এমন বিধ্বস্ত অবস্থা!

তবে আসার পথে ভাবলাম যে, আমার জায়গায় অন্য একজনকে এরা পেলে কি করতো? সেই একজন যদি সাধারণ যুবক হতো, তবে একটি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেও হয়তো এইসব ক্ষমতার খেলা দেখানোর ক্রীড়ানকদের হাতে তাকে নাজেহাল-হেনস্তা হতে হতো। ফলে পরবর্তীতে কি আর কখনো সেই প্রতিবাদী কন্ঠ সোচ্চার হতো? <img src=" style="border:0;" />

সেই উত্তরের ভার আমি ব্লগারদের উপরই ছেড়ে দিলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29272311 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29272311 2010-11-14 22:58:09
খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ-> হরতাল-> আতংক-> জনদুর্ভোগ ও কিছু কথা...
আজ অফিস শেষে চ্যানেল আইতে নুরুল আলম আতিকের "ডুবসাঁতার" ছবির প্রিমিয়ার থাকার কারণে বাসায় ফেরার জন্য ফার্মগেট যখন পৌঁছালাম তখন ঘড়িতে রাত সাড়ে ৯টা। অন্যদিন এ সময় ডজনখানেক বাস যাত্রী শূণ্যতায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু আজকের চিত্র ছিল একেবারে ভিন্ন। শত শত মানুষ বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু সময় চলে গেলেও বাসের কোন দেখাই নেই। দু-একটি যদিও বা আসছে, সেগুলো থামাথামির ধারও ধারছে না। যদি কোন যাত্রী ফার্মগেট নেমে যায় তো তাকে নামিয়ে আবারো বাসের গেট লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। গাবতলী যাবার জন্য উদগ্রিব কিছু মানুষকে দেখলাম বাসের সঙ্গে দৌড়ে অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে বাসে ওঠার চেষ্টা করতে, বাসের হেলপারকে বাসের দরজা খুলতে কাকুতি মিনতি করতে। অথচ সবই ব্যর্থ হচ্ছিলো। বাস স্বল্পতার সুযোগে রিকশা বা ভাড়ায় চালিত যান্ত্রিক যানগুলো নির্ধারিত ভাড়ার ৩-৫ গুণ ভাড়া চাচ্ছিলো। যারা একেবারেই নিরুপায়, তারা বাধ্য হয়ে সেই ভাড়াতেই গন্তব্যে ফিরছিলেন। বিশেষ করে যাদের সঙ্গে মহিলা রয়েছেন, তাদের করুণ অবস্থা দেখে খুবই খারাপ লাগছিলো। সাভার/নবীনগর বা উত্তরা/টঙ্গীর অনেকেই ঢাকায় চাকুরী করে রাতে বাসায় ফেরেন। এতো দূরের যাত্রীরা আজ যে কি পরিমাণ সংকটে পরেছিলেন তা সহজেই অনুমেয়। টিকেট কাউন্টারের কাউন্টার মাস্টাররা দূরের গন্তব্যের মহিলাদের পরামর্শ দিচ্ছিলেন যে, ঢাকায় কোন আত্মীয় থাকলে তারা যেন সেখানে আজ রাতে থেকে যান। আমার গন্তব্যস্থলের ভাড়া ৩ টাকার স্থলে ১৫ টাকা দিয়ে অবশেষে আসতে পারলেও দূরের গন্তব্যের যাত্রীরা যে কিভাবে বাড়ি ফিরেছেন তা জানি না।

অথচ এতো সব কান্ডকীর্তির পেছনে দোষ কাকে বাদ দিয়ে কাকে দেবো সেটাও তো ভাববার বিষয়। একটি বাড়ির জন্য বিএনপি তাদের প্রেস্টিজ ইস্যু হিসেবে ঈদের আগে যে হরতাল আহবান করেছে সেটি কতটুকু যুক্তিসঙ্গত তা নিয়ে ভাববার অবকাশ থাকতে পারে। হরতাল ছাড়া কি প্রতিবাদের আর কোন ভাষা রাজনীতিতে প্রচলন হতে পারে না? আবার ধরলাম অবৈধ ভাবে বাড়ি দখল করে খালেদা জিয়া ছিলেন। সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরকারের কি তাকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত ঈদের পরে নেয়া যেতো না? হয়তো কট্টর আওয়ামীলীগ সমর্থকরা বলবেন যে, এটা তো আদালতের রায়। কিন্তু আমাদের দেশে আদালত যে সরকারের কথায় ওঠে-বসে তা বোধ করি পুনর্বার না বললেও চলবে।

বিএনপি হয়তো ভেবেছে, এভাবে এতো বড় একটি ইস্যু মিস করাটা বোকামী, তাই তারা হরতাল ডেকেছে, বাসে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে! আর আওয়ামী সরকার হয়তো ভেবেছে, ঈদের আগে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, লোডশেডিং, ট্রাফিক জ্যাম প্রভৃতি থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে ডাইভার্ট করার এর চেয়ে হয়তো ভালো কিছু হতে পারে না! দুটো ক্ষেত্রেই "হয়তো" ব্যবহার করেছি, কারণ আসল কারণ যে কোনটি তা দলীয় কর্তাব্যক্তিরাই ভালো বলতে পারবেন!

কিন্তু আমরা যারা সাধারণ জনতা, তারা কেন উভয় দলের টানা-পোড়নের মাঝে ভিকটিম হবো? আর কতকাল চলবে এই টানা-পোড়ন? সবকিছুরই তো একটা শেষ আছে। এই টানা-পোড়নেরও শেষ কবে, সেটাই দেখার জন্য অপেক্ষায় রইলাম
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29271722 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29271722 2010-11-14 01:58:33
অভিনেতা চ্যালেঞ্জার আর নেই অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা দেশটিভিকে এই খবরটি দিয়েছেন তিনি জানিয়েছেন।
অভিনেতা চ্যালেঞ্জার দীর্ঘদিন থেকে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ছিলেন। তার সুচিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তার প্রতি সাহায্যেও হাত বাড়িয়ে দেয়। চ্যানেল আই গত বছর তাদের বর্ষপূর্তিতে বিশেষ সাহায্য ফান্ড গঠন করে তাকে সাহায্য করেছিলো। এরপর তিনি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাতপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। সেখানে তার ব্রেনে অপারেশন করা হয়। পরবর্তীতে তিনি দেশে ফিরে এলেও তার চিকিৎসা অব্যাহত থাকে। এমনি এক অবস্থায় তিনি আজ মারা গেলেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29253812 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29253812 2010-10-12 22:16:15
বাঙ্গালীর নৈতিকতা ... (পর্ব-৪)
আগে বাজার থেকে সাধারণত বড় মাছ কিনলে বিক্রেতারা দড়ি দিয়ে মাছটিকে এমনভাবে বেঁধে দিতেন, যেন ক্রেতারা মাছটি হাতে ঝুলিয়ে নিতে পারে। ফলে মাছ নিয়ে রাস্তা দিয়ে যাবার সময় পরিচিত-অপরিচিত সবাই-ই মাছের দাম জিজ্ঞেস করতেন। রাজ-দরবারে একদিন এই বিষয়টি নিয়েই সবাই আলোচনা করছিলেন। রাজ-দরবারের উজির-নাজিরসহ সবাই-ই মন্তব্য করছিলেন যে, মাছ কিনে বাড়ি ফিরবে কিন্তু কেউ সেই মাছের দাম জিজ্ঞেস করবে না, এমনটা অসম্ভব। গোপাল ভাঁড় এসময় বলে উঠলেন যে, তিনি মাছ কিনে অন্যদের মতই দড়ি দিয়ে বেঁধে হাতে ঝুলিয়ে নিয়ে আসবেন, কিন্তু কেউ-ই তাকে মাছের দাম জিজ্ঞেস করবে না। রাজা একথা শুনে বললেন, গোপাল ভাঁড় যদি সত্যিই এমনটি পারে, তবে তাকে পুরষ্কৃত করা হবে। গোপাল ভাঁড় কথা মোতাবেক বাজার থেকে বেশ বড় সাইজের একটি ইলিশ মাছ কিনলো। বিক্রেতা তার মাছটি দড়ি দিয়ে বেঁধে হাতে ঝুলিয়ে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করে দিলো। মাছ নিয়ে রওনা হওয়ার আগে গোপাল ভাঁড় তার পরনের ধুতিটি খুলে মাথার সঙ্গে বেঁধে দিগম্বর হয়ে রাজ-দরবারের দিকে রওনা হলো। রাস্তার লোকেরা গোপাল ভাঁড়ের এমন অবস্থা দেখে মাছের দাম জিজ্ঞেস করবে কি, তারা তো হেসেই খুন। কেউ-ই আর গোপাল ভাঁড়কে মাছের দাম জিজ্ঞেস করলো না। রাজ-দরবারে ঢোকার আগে গোপাল ভাঁড় পরনের কাপড় আবার ঠিক করে রাজ-দরবারে ঢুকলো। রাজাসহ অন্যরা তাকে জিজ্ঞেস করলে সে সবিস্তারে তা বর্ণনা করলো। রাজাও তখন গোপাল ভাঁড়ের উপস্থিত বুদ্ধিতে মুগ্ধ হয়ে তাকে পুরষ্কৃত করলেন।

উপরোক্ত কাহিনীটি বর্ণনা করার কারণ হলো, সাম্প্রতিক সময়ের একটি বিষয়কে তুলে ধরা। আমরা যারা কোন ধরণের যন্ত্রচালিত বাহনের অধিকারী নই, তাদের জন্য অপরিহার্য বাহন হলো রিকশা। অথচ ইদানিংকালে যে হারে রিকশা ভাড়া বাড়ছে তাতে মনে হয় সিএনজি বা ট্যাক্সিক্যাবগুলোর সঙ্গে রিকশা ভাড়ার খুব বেশি তফাৎ বোধ হয় আর ক'দিন পরে থাকবে না। রিকশায় উঠলেই নাকি ১০/২০ টাকার কমে ভাড়া হয় না, এমন ডায়লগ এখন প্রায় সব রিকশাওয়ালারই মুখে মুখে। আর দুরত্ব যদি একটু বেশি হয় তবে তো আর কথাই নেই, অনায়াসে ৪০-৫০ টাকা চেয়ে বসবে তারা। তাদের রিকশা ভাড়া বাড়ানোর কারণ দেখায় দুটি। এক. মহাজন রিকশার জমা বাড়াইছে এবং দুই. জিনিসপত্রের এতো দাম ..

অথচ বাস্তবতা হলো, রিকশার মহাজনরা প্রতিটি রিকশার জমা পূর্বে যা নিতেন তার চেয়ে খুব বেশি বাড়ান নি। কয়েকজন রিকশা মহাজনের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি যে, তারা পূর্বে হয়তো জমা রাখতেন প্রতিদিন ৩০-৫০ টাকা। আর এখন রাখছেন ৫০-৮০ টাকা। অথচ এই জমা বাড়ার অজুহাতে রিকশায়ালারা ভাড়া বাড়াচ্ছে ৩-৪ গুণ! /<img src=" style="border:0;" />

অন্যদিকে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে-কমবে এটা অর্থনীতির শিক্ষার্থীরা ভালো বুঝলেও আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে বোধ হয় এই তত্ত্ব অচল! এই দেশে কোন কিছুর দাম একবার বাড়লে তা আর কখনোই কমে না। তবে মাঝে-মধ্যে কোন কোন পণ্যের আকাশছোঁয়া মূল্য মাঝে মাঝে মাটির কাছাকাছি নেমে আসে। কিন্তু এই অজুহাতে (বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য মূল্য বৃদ্ধিকে এই আলোচনায় অনুল্লেখ্য রেখে) রিকশাভাড়া একবার বাড়লে তা যে আর কমে না তা আমরা যেন ইতিমধ্যে সহ্যও করে নিয়েছি। <img src=" style="border:0;" />

আবার আরেকটি যে সমস্যা ইদানিংকালে প্রকোটভাবে লক্ষ্য করছি তা হলো, রিকশায়ালারা ভাড়া চাইবার আগে যাত্রীর পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে তার স্টান্ডার্ড বোঝার চেষ্টা করে। খুব ফিটফাট হলে তার কাছ থেকে নায্য ভাড়ার ৩-৪ গুণ ভাড়া অবশ্যই চাইবে। আর যদি যাত্রীকে দেখে স্টুডেন্ট বা কম স্টান্ডার্ডের (!) বলে তার কাছে মনে হয় তবে রিকশা ভাড়া ১.৫ থেকে ২ গুণ চাইবে। তখন গোপাল ভাঁড়ের গল্পটার কথা খুব বেশি মনে পড়ে। <img src=" style="border:0;" />

আর সঙ্গে যদি একজন মেয়ে থাকে তবে তো আর কথাই নেই। মেয়েটির সঙ্গে যাত্রীর সম্পর্ক কি সেটি তখন মুখ্য নয়, বরং পুরুষ যাত্রীর সঙ্গে একজন মেয়ে আছে এটিই তখন রিকশায়ালাদের কাছে মুখ্য হয়ে ওঠে। কারণ তারা তখন এতে বেশি অনায্য ভাড়া চাইবে যে তখন নিজের কাছে নিজেই কনফিউজ হয়ে যাই যে, আমি কি কোন সিএনজি বা ট্যাক্সিক্যাব ভাড়া করছি নাকি? <img src=(" style="border:0;" />


১১ অক্টোবর রাত ১২-২০ মিনিট মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29252746 http://www.somewhereinblog.net/blog/rizvirahmanblog/29252746 2010-10-11 00:23:16