বলিল অশ্বত্থ সেই ( শেষ কিস্তি )
রবিউল করিম
মানুষ কি তার চিবুকের কাছেও একা
ছোটবেলায় বাবা-মাদের যে স্বপ্ন বানিয়ে দেবার দায়িত্ব থাকে তার সন্তানদের মঙ্গলার্থে তা থেকে আমিও পেয়েছিলাম কিছু স্বপ্ন। সেগুলো কোনোদিনই আমার হয়নি। মায়ের মৃদু শাসন আর বাবার ভবিষ্যৎ দর্শনের মাঝখানে আমি নিজস্ব স্বপ্নহীন এক যুবক ক্রমশ বেড়ে উঠি অপরের ব্যর্থতার গ্লানি ঘোচাবার জন্য। সেই স্বপ্নকুহকে কখনও দুলেছি, ঘুরেছি, উঠেছি, পড়েছি। জীবনের প্রতি পদে পদে সাফল্যের দেখা পাওয়ার সে কী প্রাণপন সংগ্রাম। কিন্তু যে স্বপ্নগুলো একান্ত আপনারÑ দোলনায় দুলতে দুলতে হঠাৎ রশি ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা সেই স্বপ্ন-পরী যার সাথে উড়তে উড়তে হঠাৎ করেই তার হাত থেকে খসে পড়ে। সেইসব খসে পড়া স্বপ্নের মর্মার্থ তখন কেনইবা জানতো যে এর অর্থ আগামী স্বপ্নহীন হয়ে যাওয়া।
শৈশবের বন্ধু কুদ্দুস যে তিন ক্রোশ হেঁটে স্কুলে এসে আমার পাশে বসতো আর শোনাতো ইকরিবিকরি গ্রামের মেঠো পথের বর্ণনা। সেই ইকরিবিকরি গ্রামটি কীভাবে কীভাবে যেন সেই থেকে মগজে। এখনও গ্রাম, একটু নিসর্গ, খোলা দিগন্ত ভাবলেই ইকরিবিকরি। কুদ্দুস কতদিন চেয়েছিল নিতে, কিন্তু পথের কষ্টে আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি। ইকরিবিকরি কি এখনও সেইরকম আছে? কিংবা আছে সেই অশ্বত্থ গাছ? যার ছায়া পার হবার জন্য অপেক্ষা করতে হতো বয়স্ক কারো সঙ্গ। এতটা বিশালতা, এতটা সমীহ, ভীতি ছড়িয়ে আজো ঠিকঠিক সে পথের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এমন ভাবতেই মনটা রোমাঞ্চিত হয়ে উঠতে চায়। মনে হয় এখন তা পারব হেঁট যেতে, ধুলো উড়িয়ে, লাফিয়ে, কুদিয়ে। বেড়ানোর স্বপ্ন আমাকে কুরে কুরে খায়। কিন্তু সেই যে দিবাস্বপ্ন, এতটা খণ্ড, এতটা ভঙ্গুর যে ইকরিবিকরি ভাবতেই ছোঁ মেরে বসে বাস্তবের শকুন। কোথায় সে উড়িয়ে নিয়ে যায়। তখন ইকরিবিকরির জায়গা জুড়ে বসে রাক্ষসসম সিমেন্ট, পাথর আরো কত কী!
তখন সেইসব রাক্ষসকদের হাত থেকে পালিয়ে বাঁচতে বৃক্ষের আশ্রয়Ñ সোনার কাঠি রুপোর কাঠির রাজকুমার। সে মায়ামতী, স্নেহশীল মাতৃসম বৃক্ষ তোমার কোঠরে, না হয় পদতলে একটু আশ্রয় দাও। আর ঠিকই সেই আশ্রয়ের কথা ভেবে কোথাও না কোথাও প্রাচীন এক বৃক্ষ ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে। তখন তার কোল ঘেঁসে বসে পড়লে স্বপ্নহীন আমারই মতো একদা মানুষ ছিল এমন কারো মনে সে এক টুকরো স্বপ্নজাগানিয়া স্মৃতি স্ফটিকস্বচ্ছ মগজপ্রিজমে ঢুকিয়ে দেয়। আর তখনি বিচ্ছুরণের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে দশদিক আলোকিত হয়ে ওঠে। আর সেসব দেখে বৃক্ষ হাসে পাতা দুলিয়ে। স্নেহের বাতাস বুলিয়ে দেয় শরীরে। দুচোখের পাতায় ভর করে স্বপ্ন। তারা খেলা করে। পুনরায় আমরা মানুষ হয়ে উঠি। ভালোবাসি, সম্ভোগ করি, হাসি, মদ খাই, গালি দেই, আর জীবন মহাশয়কে ডেকে বলি: বেঁচে থাকাটা একেবারে
আলোচিত ব্লগ
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।