somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হ্যালো ডক্টর

১৬ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"হ্যালো এটা কি ফায়ার ব্রিগেডের অফিস?"
"জ্বিনা এটা ফায়ার ব্রিগেডের অফিস না৷"
"ও আচ্ছা৷ আচ্ছা শুনুন আপনি কি ডক্টর সামিয়া বলছেন?"
"জ্বি আমি সামিয়া বলছি৷"
"আচ্ছা ডক্টর আপনি কি পাগলের চিকিৎসা করেন?"
"জ্বিনা আমি পাগলের চিকিৎসা করিনা৷"
"ও আচ্ছা তাহলে আমি বোধহয় ভুল জায়গায় ফোন করেছি৷"
"জ্বি ঠিক ধরেছেন৷” দুম..
কুং কুং কুং......
"হ্যালো, আবার কি চাই?"
"আচ্ছা ডাক্তার আপনার ওখানে কি কোন বোমা ফুটলো? কেমন যেন দুম করে একটা শব্দ পেলাম৷"
"কি আশ্চর্য্য আমার এখানে বোমা ফুটতে যাবে কেন?"
"না ভাবলাম মৌলবাদী জঙ্গীরা যদি কোন বোমা ফাটায়?"
"মৌলবাদী জঙ্গীরা কেন আমার এখানে বোমা ফাটাবে?"
"ওরা কোথায় কখন বোমা ফাটাবে তার কি কোন ঠিক আছে ম্যাডাম? ইচ্ছে হলেই দুম৷ এই যেমন আমি আপনাকে ফোন করে নিজের অস্তীত্ব জানান দেই, তেমনি ওরা বোমা ফাটিয়ে নিজেদের অস্তীত্ব জানায়, ভুলি নাই ভুলি নাই ভুলি নাই প্রিয়া... থুক্কু এখানে প্রিয়া হবে না, কি হবে ওরাই জানে !"
"আচ্ছা আপনি কি জানেন আপনার সত্যি সত্যি পাবনা যাওয়ার সময় হয়েছে?"
"হুঁ আমারও তাই ধারণা৷"
"তাহলে যাচ্ছেন না কেন?"
"কি হবে গিয়ে? আপনিতো সেখানে চিকিৎসা করেন না, করলে দৌড়ে যেতাম৷"
"তবু আপনার যাওয়া উচিৎ"
"আচ্ছা ভেবে দেখব৷ আচ্ছা ডক্টর আজকে আপনি কি টিপ পরেছেন?"
"কেন আপনার তা দিয়ে কি দরকার?"
"না এমনি জানতে চাইছিলাম৷"
"আচ্ছা আপনি কি চান বলেনতো?"
"আমি আপনাকে দেখতে চাই৷"
"কিন্তু আমিতো পাগলের চিকিৎসা করিনা৷"
"আপনি কি জানেন আপনাকে শুধু দেখলেই অনেক পাগলামী সেরে যায়?"
"সারে নাকি? আমারতো মনে হয় শুধু বেড়ে যায়৷"
"হা হা হা৷”
"হাসছেন? আচ্ছা হাসুন, আমি ফোন রাখছি৷"
"ডাক্তার শোন আমি তোমাকে দেখতে চাই৷"
"উহ, তোমাকে নিয়ে আর পারি না, আচ্ছা আমি বিকেলে বসুন্ধরায় থাকবো৷"
"থ্যাংকু ম্যাডাম৷ আচ্ছা ডাক্তার তুমি আজকে কি পরেছ? শাড়ি না সালোয়ার?"
"বাবা গেলেই তো দেখতে পাবে৷"
"তবু বলো৷"
"না এখন বলব না৷ আমার অনেক কাজ আছে, এখন ফোন রাখো৷"
"না রাখব না ৷"
"বাবা বলছিতো আমার অনেক কাজ আছে!”
"তাহলে তুমি রাখছো না কেন?"
"তুমি ফোন করেছো তুমি রাখো৷”
"আগের বার তো দুম করে রেখে দিলে৷"
"মোবাইল রাখলে দুম করে শব্দ হয়না৷"
“তবুতো তুমি রেখেছিলে৷”
“রেখেছি বেশ করেছি, এবার তুমি রাখো৷”
"উঁহু রাখবো না৷"
"এই রাখো বলছি, নাহলে কিন্তু আমি বিকেলে আসব না৷"
“না আসলে নাই৷ আমি তেরো তলায় রচিব আমার স্বপন বাসর, নাইবা থাকিলো দোসর৷ আমার একলা বাসর৷”
“একলা বাসর কেন?”
“তাছাড়া কি করব? তুমিতো আর রাজি হলে না৷”
“আর কেউ নেই?”
“চিনিনে চিনিনে আর কারোকে আমি চিনিনে, আমি শুধু তোমারেই চিনি, হে প্রিয়তমে!”
“আহা কি ঢঙের কথা! কিন্তু তেরো তলায় কেন?”
“আমার কপালটাইতো গ্যাড়াকল, সেখানে সৌভাগ্য বলেতো কিছু নেই৷ তাই আনলাকি থার্টিনের সাথেই আমার সখ্যতা৷”
“হুম বুঝেছি৷ আচ্ছা আমি ফোন রাখছি৷”
“আচ্ছা আমি কি তোমাকে আমার একটা স্বপ্নের কথা বলেছি?”
“না এখন কোন স্বপ্নের কথা বলতে হবে না৷”
“হবে৷ শোনই না৷”
“আচ্ছা বলো৷”
“হ্যাঁ শোন- কোন এক পাতাঝরা বিকেলের বিষন্ন রোদে,
গোঁধুলীর ছায়াতে, পৃথিবীর সব আলো যখন আসছে মরে,
আমরা দু'জন চলে যাব দূরে কোথাও
আগুন লাগা কোন কৃষ্ণচূড়ার নীচে
দু'জনে মুখোমুখি, অবাক চোখাচোখি
ফিসফিস করে উচ্চাড়িব- ভালোবাসি৷”
“কৃষ্ণচূড়া ফোটে বৈশাখে, সেসময় পাতা ঝরে না৷ আর গোঁধুলীর ছায়াতে বিকেলের রোদ থাকে না৷ কাজেই তোমার স্বপ্ন কখনো সফল হবে না৷ আর তুমিইতো বলো কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য্য কাঠফাঁটা রোদের মধ্যে৷”
“তুমি এত ভুল ধর কেন ডাক্তার?”
“কারন তুমি যে পৃথিবীতে বাস করো বাস্তবে সেই পৃথিবীর অস্তীত্ব নেই৷ বাস্তবে সে পৃথিবী সম্ভব না৷”
“তাই বুঝি তুমি বলো আমি শুধুই এক ঘোরের মধ্যে থাকি? তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা শুধুই এক ঘোরের ফসল, আর কিছু নয়?”
“হ্যাঁ৷”
“আচ্ছা ঠিক আছে আমি রাখছি৷”
“না এই শোন তুমি ফোন রাখবে না৷”
“কেন এক ঘোর লাগা মানুষের কথা শুনে কি হবে?”
“শোন, আমি তোমার এসব উল্টা পাল্টা শুনতে চাই না৷ আমি জানিনা তুমি কিভাবে কি করবে, কোথায় তুমি এখন কৃষ্ণচূড়া পাবে, কিন্তু এসব আমি শুনতে চাই না৷ আমি আসছি, আমি সেখানে যাব৷”
“সত্যি? সত্যি যাবে?”
“হ্যাঁ সত্যি৷”
“থ্যাংকু, থ্যাংকু ম্যাডাম৷”
“এই তোমাকে না বলেছি আমাকে ম্যাডাম বলবে না?”
“স্যরিইই! থ্যাংকু, সোনা৷”
“উহ, আমি পাগল হয়ে যাব!”
“হা হা হা, বেশ হবে৷ আমরা দু'জন একসাথে পাবনা চলে যেতে পারব৷”
”হ্যাঁ তাহলেই তো তুমি খুশি হও৷ ফোন রাখো, আমি আসছি৷”
“ওকে ম্যাডাম৷”
“আবার?”
“স্যরি সোনা৷ আমি অপেক্ষা করছি৷”
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১১:৫১
২১টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×