উহ, অসহ্য গরম পড়েছে!
অফিসের এসি নষ্ট হয়েছে আজকে৷ এই পাগল করা গরমকে ঠান্ডা করার প্রচেষ্টা করতে করতে বেচারা ক্লান্ত৷ ওরা কয়েকজন বসে এক ঘরে৷ ঘরের কোন জানালা খোলার ব্যবস্থা নেই৷ এদিকে কোন ফ্যানও নেই৷ বসে বসে গরমে সিদ্ধ হচ্ছিলো শফিক৷ তিনটার সময় ওদের বস ওদেরকে সেদিনের জন্য ছুটি দিয়ে দিলেন৷
অফিসে থেকে বের হয়ে বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ালো শফিক৷ অফিস থেক বাসস্ট্যান্ড হেঁটে আসতে মিনিট তিন চারেক লাগে৷ এইটুকু পথ আসতে ঘেমে গোসল হয়ে গেলো৷ চারদিকে যেন আগুনের হলকা বয়ে যাচ্ছে৷ মাথার উপরে নিষ্ঠুরভাবে জ্বালিয়ে যাচ্ছে গ্রীষ্মের সূর্য্য৷ পৃথিবীর তাপমাত্রা নাকি বেড়ে যাচ্ছে৷ উত্তর মেরুর বরফ গলছে৷ ডুবে যাচ্ছে পৃথিবী৷ গ্রীন হাউজ ইফেক্ট৷
বাসস্ট্যান্ডে লম্বা লাইন৷ এই এক আজব দেশ৷ যেখানে যে কাজেই যাও লম্বা লাইন৷ লাইনের কোন শেষ নেই৷ এত মানুষ কোথা থেকে আসে আর কোথায় যায় আল্লা মালুম!
কাউন্টার থেকে শাহবাগের টিকেট কাটলো সে৷ আসলে সে যাবে মালিবাগ৷ কিন্তু সবসময়ই সে শাহবাগের টিকেট কাটে৷ তার ভাষায় এটা হচ্ছে চোরের উপর বাটপাড়ি৷ এই দেশের সব শালা হচ্ছে চোর৷ ধানমন্ডি থেকে মালিবাগ সরকারের বেঁধে দেয়া হিসেবে ভাড়া কখনো আট টাকার বেশি হয় না৷ কিন্তু বাসঅলারা রাখে ষোল টাকা৷ তাও এটা হচ্ছে ডিজেলের হিসেবে৷ বাস কোম্পানীগুলো একটা দুইটা বাস রাখে ডিজেল চালিত, বাকি সবগুলা হয় গ্যাস চালিত৷ ঐ একটা দুইটা ডিজেল গাড়ি দেখিয়ে হারামজাদারা ডবল ভাড়া আদায় করে৷ যাকে বলে গাছেরও খায় তলারও কুড়ায়৷ সব শালা বেজন্মা৷ এই শালাদের সাথে এর চেয়ে ভদ্র ব্যবহার করাই উচিৎ না৷ উচিৎ হলো এদের আচ্ছা করে প্যাঁদানি দিয়ে কোন ভাড়াই না দেয়া৷
এক একটা নতুন কোম্পানী নতুন বাস সার্ভিস চালু করে৷ প্রথম কয়েকদিন খুব গরমের সাথে সার্ভিস দেয়৷ সিটের বেশি একটাও লোক নেয়না৷ সিটিং সার্ভিস দেখিয়ে বেশি ভাড়া আদায় করাটা তারা হালাল করতে চায় আরকি৷ কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই যে লাউ সেই কদু৷ তখন বাসের দিকে তাকালে বাসটা দেখা যায় না৷ বাসের চারদিকে খালি মানুষ দেখা যায়৷
অবশ্য এরকমই হবার কথা৷ এর চেয়ে বেশি কিইবা আশা করা যায় এদেশে বসে৷ এদেশের মানুষ শুধু নিজের ভালো থাকাটা বোঝে, সমষ্টিগত ভালো থাকার বিষয়টা এই মানুষগুলার মস্তিষ্কে ঢোকেনি এখনও৷
টিকেট হাতে নিয়ে লাইনের পাশে দাঁড়ালো শফিক৷ পাশে দাঁড়ালো কারন লাইনে দাঁড়ানোর কোন মানেই হয়না৷ দেখতেই আসলে এগুলো লাইন৷ বাস আসলে হুটোপুটি শুরু হয়ে যাবে৷ তখন কোথায় লাইন আর কোথায় কি!
গরমে টপটপ করে ঘাম পড়ছে৷ অসহ্য গরম! মাথাটা এলোমেলো লাগছে৷
অফিসে বসে একটা কাজ করতে গিয়ে ছোট্ট একটা ভুল করে ফেলছিলো সে৷ ভুলটা কোথায় হচ্ছে ধরতে পারছিলো না৷ ফলে যে কাজটা আধা ঘন্টায় হয়ে যাওয়ার কথা সেটা করতে সারাটা সময় চলে গেছে৷ মেজাজটা খিচে আছে সেই থেকে৷
যে বাসটা এসে দাঁড়ালো সেটায় ওঠা প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার৷ ওঠা যায় অবশ্য, তবে সেটাকে বাসে ওঠা না বলে ঝোলা বলাই ভালো৷ কোনমতে দরজার ভীরটা গলিয়ে হাতটা বাড়িয়ে দরজার হ্যান্ডেলটা যদি সে থরে ফেলতে পারে, তবে দরজার বাইরে শূন্যে ঝুলতে ঝুলতে যাওয়া যায় বটে৷
শফিক তিক্ত মুখ করে বাসটা দেখলো৷ এইভাবে ঝুলে যাওয়া সম্ভব না৷ তার মানে পরের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, যদি সেটা একটু ফাঁকা থাকে৷ কোন কোন দিন কপাল ভালো থাকলে প্রথম বাসটাই মোটামুটি ফাঁকা পাওয়া যায়৷ তবে সেরকম হয় খুব কম৷ বেশিরভাগ দিনই দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অনেক্ষন৷ গোটা কয়েক বাস ছেড়ে দেয়ার পর একটায় কোনমতে ওঠা যায়৷
বিরক্তিতে ধুতু ফেললো সে৷ আহ, কি গরম! কি গরম!! মাথার চাঁদি যেন ফেঁটে যাচ্ছে৷ কাউকে খুন করতে ইচ্ছে করছে৷ হঠাৎ তার মনে পড়লো আজকের রাশিফলের কথা৷ ইদানিং মোবাইল কোম্পানীগুলো নানারকম সার্ভিস দিচ্ছে৷ এর একটা হচ্ছে ভাগ্য বলে দেয়া৷ কয়েকদিন হলো এই সার্ভিসটায় সাবস্ক্রাইব করেছে সে৷ ব্যাপারটা মজাই লাগে৷ প্রতিদিন সকালে সে একটা মেসেজ পায় দিনটা কেমন যাবে তাই নিয়ে৷
তার মনে পড়লো আজকের মেসেজে লেখা ছিলো আজকে তার মধ্যে খুনের প্রবৃত্তি জেগে উঠতে পারে, কাউকে খুন করেও ফেলতে পারে৷ মনে পড়তে একটু হাসলো সে৷ বেশ হয় আজকে কাউকে খুন করলে৷ ঐ ব্যাটা গনকের একটা ভবিষ্যতবানী তাহলে সত্যি হয়৷ বেশ রহস্যময় একটা ব্যাপার হয় তাহলে৷ পৃথিবীতে একটু রহস্য থাকা ভালো৷ রহস্য থাকলে বেঁচে থাকাটা অত পানসে হয়ে ওঠে না৷
(চলবে...)
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


