somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আগুন পৃথিবী [গল্প]

০৩ রা জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উহ, অসহ্য গরম পড়েছে!

অফিসের এসি নষ্ট হয়েছে আজকে৷ এই পাগল করা গরমকে ঠান্ডা করার প্রচেষ্টা করতে করতে বেচারা ক্লান্ত৷ ওরা কয়েকজন বসে এক ঘরে৷ ঘরের কোন জানালা খোলার ব্যবস্থা নেই৷ এদিকে কোন ফ্যানও নেই৷ বসে বসে গরমে সিদ্ধ হচ্ছিলো শফিক৷ তিনটার সময় ওদের বস ওদেরকে সেদিনের জন্য ছুটি দিয়ে দিলেন৷

অফিসে থেকে বের হয়ে বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ালো শফিক৷ অফিস থেক বাসস্ট্যান্ড হেঁটে আসতে মিনিট তিন চারেক লাগে৷ এইটুকু পথ আসতে ঘেমে গোসল হয়ে গেলো৷ চারদিকে যেন আগুনের হলকা বয়ে যাচ্ছে৷ মাথার উপরে নিষ্ঠুরভাবে জ্বালিয়ে যাচ্ছে গ্রীষ্মের সূর্য্য৷ পৃথিবীর তাপমাত্রা নাকি বেড়ে যাচ্ছে৷ উত্তর মেরুর বরফ গলছে৷ ডুবে যাচ্ছে পৃথিবী৷ গ্রীন হাউজ ইফেক্ট৷

বাসস্ট্যান্ডে লম্বা লাইন৷ এই এক আজব দেশ৷ যেখানে যে কাজেই যাও লম্বা লাইন৷ লাইনের কোন শেষ নেই৷ এত মানুষ কোথা থেকে আসে আর কোথায় যায় আল্লা মালুম!

কাউন্টার থেকে শাহবাগের টিকেট কাটলো সে৷ আসলে সে যাবে মালিবাগ৷ কিন্তু সবসময়ই সে শাহবাগের টিকেট কাটে৷ তার ভাষায় এটা হচ্ছে চোরের উপর বাটপাড়ি৷ এই দেশের সব শালা হচ্ছে চোর৷ ধানমন্ডি থেকে মালিবাগ সরকারের বেঁধে দেয়া হিসেবে ভাড়া কখনো আট টাকার বেশি হয় না৷ কিন্তু বাসঅলারা রাখে ষোল টাকা৷ তাও এটা হচ্ছে ডিজেলের হিসেবে৷ বাস কোম্পানীগুলো একটা দুইটা বাস রাখে ডিজেল চালিত, বাকি সবগুলা হয় গ্যাস চালিত৷ ঐ একটা দুইটা ডিজেল গাড়ি দেখিয়ে হারামজাদারা ডবল ভাড়া আদায় করে৷ যাকে বলে গাছেরও খায় তলারও কুড়ায়৷ সব শালা বেজন্মা৷ এই শালাদের সাথে এর চেয়ে ভদ্র ব্যবহার করাই উচিৎ না৷ উচিৎ হলো এদের আচ্ছা করে প্যাঁদানি দিয়ে কোন ভাড়াই না দেয়া৷

এক একটা নতুন কোম্পানী নতুন বাস সার্ভিস চালু করে৷ প্রথম কয়েকদিন খুব গরমের সাথে সার্ভিস দেয়৷ সিটের বেশি একটাও লোক নেয়না৷ সিটিং সার্ভিস দেখিয়ে বেশি ভাড়া আদায় করাটা তারা হালাল করতে চায় আরকি৷ কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই যে লাউ সেই কদু৷ তখন বাসের দিকে তাকালে বাসটা দেখা যায় না৷ বাসের চারদিকে খালি মানুষ দেখা যায়৷

অবশ্য এরকমই হবার কথা৷ এর চেয়ে বেশি কিইবা আশা করা যায় এদেশে বসে৷ এদেশের মানুষ শুধু নিজের ভালো থাকাটা বোঝে, সমষ্টিগত ভালো থাকার বিষয়টা এই মানুষগুলার মস্তিষ্কে ঢোকেনি এখনও৷

টিকেট হাতে নিয়ে লাইনের পাশে দাঁড়ালো শফিক৷ পাশে দাঁড়ালো কারন লাইনে দাঁড়ানোর কোন মানেই হয়না৷ দেখতেই আসলে এগুলো লাইন৷ বাস আসলে হুটোপুটি শুরু হয়ে যাবে৷ তখন কোথায় লাইন আর কোথায় কি!

গরমে টপটপ করে ঘাম পড়ছে৷ অসহ্য গরম! মাথাটা এলোমেলো লাগছে৷

অফিসে বসে একটা কাজ করতে গিয়ে ছোট্ট একটা ভুল করে ফেলছিলো সে৷ ভুলটা কোথায় হচ্ছে ধরতে পারছিলো না৷ ফলে যে কাজটা আধা ঘন্টায় হয়ে যাওয়ার কথা সেটা করতে সারাটা সময় চলে গেছে৷ মেজাজটা খিচে আছে সেই থেকে৷

যে বাসটা এসে দাঁড়ালো সেটায় ওঠা প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার৷ ওঠা যায় অবশ্য, তবে সেটাকে বাসে ওঠা না বলে ঝোলা বলাই ভালো৷ কোনমতে দরজার ভীরটা গলিয়ে হাতটা বাড়িয়ে দরজার হ্যান্ডেলটা যদি সে থরে ফেলতে পারে, তবে দরজার বাইরে শূন্যে ঝুলতে ঝুলতে যাওয়া যায় বটে৷

শফিক তিক্ত মুখ করে বাসটা দেখলো৷ এইভাবে ঝুলে যাওয়া সম্ভব না৷ তার মানে পরের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, যদি সেটা একটু ফাঁকা থাকে৷ কোন কোন দিন কপাল ভালো থাকলে প্রথম বাসটাই মোটামুটি ফাঁকা পাওয়া যায়৷ তবে সেরকম হয় খুব কম৷ বেশিরভাগ দিনই দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অনেক্ষন৷ গোটা কয়েক বাস ছেড়ে দেয়ার পর একটায় কোনমতে ওঠা যায়৷

বিরক্তিতে ধুতু ফেললো সে৷ আহ, কি গরম! কি গরম!! মাথার চাঁদি যেন ফেঁটে যাচ্ছে৷ কাউকে খুন করতে ইচ্ছে করছে৷ হঠাৎ তার মনে পড়লো আজকের রাশিফলের কথা৷ ইদানিং মোবাইল কোম্পানীগুলো নানারকম সার্ভিস দিচ্ছে৷ এর একটা হচ্ছে ভাগ্য বলে দেয়া৷ কয়েকদিন হলো এই সার্ভিসটায় সাবস্ক্রাইব করেছে সে৷ ব্যাপারটা মজাই লাগে৷ প্রতিদিন সকালে সে একটা মেসেজ পায় দিনটা কেমন যাবে তাই নিয়ে৷

তার মনে পড়লো আজকের মেসেজে লেখা ছিলো আজকে তার মধ্যে খুনের প্রবৃত্তি জেগে উঠতে পারে, কাউকে খুন করেও ফেলতে পারে৷ মনে পড়তে একটু হাসলো সে৷ বেশ হয় আজকে কাউকে খুন করলে৷ ঐ ব্যাটা গনকের একটা ভবিষ্যতবানী তাহলে সত্যি হয়৷ বেশ রহস্যময় একটা ব্যাপার হয় তাহলে৷ পৃথিবীতে একটু রহস্য থাকা ভালো৷ রহস্য থাকলে বেঁচে থাকাটা অত পানসে হয়ে ওঠে না৷

(চলবে...)
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:০৫
১৮টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×