রাত গভীর৷ আকাশে আজ কত তারা উঠেছে দেখেছ প্রিন্সেস? পরিষ্কার ঝকঝকে আকাশ, কোথাও এক টুকরো মেঘ নেই৷ চাঁদ ডুবে গেছে অনেক্ষন হলো৷ পুরো আকাশ জুড়ে এখন তারাদের রাজত্ব৷ আমার ছাদে দাঁড়িয়ে আমি তারা দেখছি৷ মৃদুমন্দ ঠান্ডা বাতাস শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দিয়ে যাচ্ছে৷ তোমার কথা বড় বেশি মনে পড়ছে প্রিন্সেস৷ তুমি কেমন আছ?
আমার চারিদিকে নিকষ কালো অন্ধকার৷ তারাদের আলো ছাড়া আর কোন আলো নেই৷ ছাদের উপর আমি একা৷ এরকম একটা নিস্তব্ধ রাতে একলা দাঁড়িয়ে জীবনের অনিশ্চয়তার কথা বড় বেশি মনে পড়ে৷ মানুষের জীবনটা বড় বিচিত্র, বড় বেশি অনিশ্চয়তায় ভরা!
আজ খুব অদ্ভুৎ একটা কাহিনী শুনেছি প্রিন্সেস৷ তোমাকে বলি শোন৷
মৌচাক মার্কেটের পিছনে আনারকলি নামে আরেকটা মার্কেট আছে জানতো? নাও জানতে পারো৷ মৌচাক বেশ বিখ্যাত হলেও আনারকলি ততটা বিখ্যাত না৷ যাই হোক, আনারকলির পিছনে সিঁড়ির নীচে একটা চায়ের দোকান৷ আসলে তার আশেপাশে আরো অনেকগুলা খাবারের দোকান আছে৷ কিন্তু এই দোকানের চা আমার বেশ ভালো লাগে কারন এটার চা হয় আগুন গরম৷ মুখে দিলে জিভ পুড়ে যায়৷ আমার জীবনটা পানসে বলেই বোধহয় আগুন গরম চা আমি খুব পছন্দ করি৷ জিভ পুড়িয়ে সে চা যখন নীচে নেমে যায়, তখন একটা উত্তেজনা বোধ করি৷ মনে হয়, যত যাই হোক, বেঁচে থাকাটা একেবারে খারাপ না৷
সন্ধ্যার পর জায়গাটা বেশ সরগরম হয়ে ওঠে৷ চায়ের দোকানটার সামনে বেশ ভীর জমে যায়৷ সামনে ভীর জমে কারন দোকানটায় বসার জায়গা নেই৷ খেতে হয় দোকানের সামনে দিয়ে ফাঁকা জায়গাটায় দাঁড়িয়ে৷ সন্ধ্যার পর জায়গাটা যখন সরগরম হয়ে ওঠে, তখন বেশ ভালো লাগে৷ জীবনের একটা উত্তাপ টের পাওয়া যায়৷ আমি মাঝে মাঝেই সন্ধ্যার পর সেখানে যাই চা খেতে৷
তুমি বোধহয় রাস্তায় দাঁড়িয়ে কখনো চা খাওনি প্রিন্সেস৷ কিভাবে খাবে, তোমার বন্দী জীবনই যে তোমার বেশি ভালো লাগে! তবু, রাস্তায় দাঁড়িয়ে চায়ে চুমুক দিয়ে তোমার কথা ভাবতে বড় বেশি ভালো লাগে৷ মনে হয় তুমি বুঝি পাশেই আছো৷
আজকেও সন্ধ্যার পর আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম আনারকলির পিছনে চায়ের দোকানটার সামনে৷ চারদিকে রঙ বেরঙের মানুষের মেলা বসেছে৷ ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মানুষগুলো চা, পিঁয়াজু, বেগুনি খাচ্ছে৷ আমি একহাতে চা আরেক হাতে একটা সিগারেট নিয়ে ভীরের মানুষগুলো দেখছিলাম৷ হঠাৎ কোথা থেকে এক বৃদ্ধ এসে আমার সামনে দাঁড়ালেন৷ খুব মৃদু গলায় ধীরে ধীরে বললেন,
বাবা, আমি খুব দরিদ্র একজন মানুষ, আমার কয়েকটা ওষুধ কিনতে হবে৷ আমাকে একটু সাহায্য করবেন?
আমি বৃদ্ধের দিকে তাকালাম৷ তাকে দেখে ভিক্ষুক বলে মনে হয় না৷ টকটকে ফর্সা গায়ের রং, মুখ ভর্তি সাদা দাঁড়ি৷ চেহারায় সম্ভ্রমের ছাঁপ স্পষ্ট৷ এক হাতে একটা লাঠিতে ভর দিয়ে খুব ক্লান্ত ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন৷
তুমিতো জানো প্রিন্সেস, আমি ভিক্ষা দেই না, বা সাহায্য করিনা৷ চারিদিকে প্রতিনিয়ত এত এত ভিক্ষুক দেখলে কারো ভালো লাগে না৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভিক্ষুক বা সাহায্য প্রার্থিকে আমি রূঢ়ভাবে প্রত্যাখান করি৷ কিন্তু এই বৃদ্ধকে দেখে আমার কেমন যেন লাগলো৷ আমার নিজের বাবার কথা মনে পড়ে গেলো৷
আমার বাবার বয়সও এই বৃদ্ধের মতই হবে৷ তারও মুখভর্তি এরকম সাদা দাঁড়ি৷ আমি কল্পনা করলাম একটা লাঠি হাতে আমার বাবা ভিক্ষা করতে বের হয়েছেন৷ কাঁপা কাঁপা পায়ে রাস্তায় হাঁটছেন৷ আমার বুকটা হাহাকারে ভরে গেলো৷
আমি পকেট থেক বিশটা টাকা বের করে বৃদ্ধের হাতে দিলাম৷ বৃদ্ধ টাকাটা হাতে নিয়ে সাধারন ভিক্ষুকদের মত দোয়া দরুদ কিছু পড়লেন না৷ আমি যেখানটায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, তার পাশেই একটা দোকানের চাতাল রাস্তা থেকে আধা ফুট উঁচু করা৷ খুব দুর্বল ভাবে তিনি সেই চাতালের উপর বসলেন৷
বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে আমি আবার বাবার কথা ভাবলাম৷ আমি কোন মহৎ মানুষ না৷ মানুষের দুঃখ কষ্ট আমাকে খুব পোড়ায় এরকম দাবি আমি করতে পারিনা৷ কিন্তু এই বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে আমার কেমন যেন কষ্ট হতে লাগলো৷ এই কষ্টের উদ্ভব কোথা থেকে হয় আমি জানিনা৷ কিন্তু এই বৃদ্ধের কত টাকার ওষুধ লাগবে? যে কয়টাকারই লাগুক আমি সহজেই সেটা কিনে দিতে পারি৷ আর সেই কয় টাকার জন্য এই বয়সে তাকে রাস্তায় সাহায্য চেয়ে বেড়াতে হচ্ছে৷ আমার ভীতরটা আবার হাহাকারে ভরে গেলো৷
আমি তার দিকে ঝুঁকে বললাম,
আপনার সাথে কি প্রেসক্রিপসন আছে? থাকলে আমাকে দেন, আমি আপনার ওষুধ কিনে দিচ্ছি৷
বৃদ্ধ অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালেন৷ বিড়বিড় করে কি যেন বললেন ভালো বুঝলাম না৷ আমি আবার বললাম,
প্রেসক্রিপশনটা আমাকে দেন আমি ওষুধ কিনে দিচ্ছি৷
তিনি কাঁপা কাঁপা হাতে প্রেসক্রিপশন বের করে আমার হাতে দিলেন৷ তার কাছে থেকে বুঝে নিলাম কি কি ওষুধ লাগবে, ক্য়টা লাগবে৷ তারপর বসার জায়গা আছে এরকম একটা খাবারের দোকানে নিয়ে তাকে বসালাম৷ বললাম,
খাবেন কিছু?
উনি মাথা নেড়ে অসম্মতি জানালেন৷ আমি একটা চা তাকে দিতে বলে বের হয়ে গেলাম৷
ওষুধ কিনে ফিরে এসে দেখি উনি সেভাবেই বসে আছেন৷ তাকে যে চা দেয়া হয়েছে সেটা তিনি স্পর্ষও করেননি৷ চা ঠান্ডা হয়ে পড়ে আছে৷
আমি ওষুধগুলো ওনার হাতে দিলাম৷ উনি ধীরে ধীরে প্রশ্ন করলেন,
আপনি কি করেন বাবা?
আমি জানালাম৷
আপনার বাবা বেঁচে আছেন? বৃদ্ধ আবার প্রশ্ন করলেন৷
আমি বৃদ্ধের সামনে সামনে বসতে বসতে বললাম, হ্যাঁ৷
বৃদ্ধ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিড়বিড় করলেন,
আজ যদি আমার ছেলেরা থাকতো তাহলে আপনার মতই হতো৷
আমি ব্যাপারটা ভালো বুঝলাম না৷ একটু অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম,
কি হয়েছে আপনার ছেলেদের?
নেই নেই, একজনও বেঁচে নেই৷ বৃদ্ধ হাহাকারের মত করে বললেন৷
আমি তাকিয়ে রইলাম তার দিকে৷ বৃদ্ধ অনেক্ষন চুপ করে বসে রইলেন৷ তার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছিলো৷ এরপর একটা কাহিনী শুনলাম তার কাছ থেকে৷ বড় অদ্ভুৎ, বড় বিচিত্র সে কাহিনী৷ তোমাকে বলি প্রিন্সেস৷
আমি সরকারী চাকরি করতাম৷ বৃদ্ধ বলতে শুরু করলেন৷ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ছিলাম৷ তিন ছেলে, এক মেয়ে ছিলো আমার৷ মেয়েটা বড়, ক্লাস নাইনে পড়তো৷ এরপর তিন ছেলে৷ সবাই পিঠাপিঠি ছিলো৷ সবাই পড়াশুনায় ভালো ছিলো৷ মোটামুটি সুখের সংসার ছিলো আমাদের৷
সেবার একটা কাজে চট্টগ্রাম গেলাম৷ কাজ শেষ হওয়ার পর ভাবলাম, এসেছি যখন হযরত বায়েজিদ বোস্তামী আর বারো আউলিয়ার মাজার দেখে যাই৷
মাজারে পৌছালাম বেলা বারোটার দিকে৷ অনেক লোক মাজারে আসছে, যাচ্ছে৷ মাজারে ঢোকার মুখে একটা বড় দান বাক্স৷ একটা বড় বড় চুলের নোংরা লোক ধ্যানের ভঙ্গিতে বাক্সটার পাশে বসা৷ আমি বাক্সটার কাছাকাছি পৌছতেই সে বলল,
কিছু দিয়ে যা এই বাক্সে৷
লোকটার দিকে তাকিয়ে আমার মনে কোন শ্রদ্ধ্বাভাব এলো না৷ গায়ে নোংরা একটা দরবেশী আলখেল্লা, মাথায় বড় বড় জটপাকানো চুল৷ গোটা লোকটা যেন নোংরামির একটা প্রতিমূর্তি৷ আমি বিরক্ত হয়ে লোকটার দিকে থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলাম৷
লোকটা হুংকার দিয়ে আমাকে আবার বলল,
কিছু দান করে যা এই বাক্সে, নাহলে তোর সর্বনাশ হবে৷
আমি দাঁড়িয়ে পড়লাম৷ এই সব লোকগুলার ভন্ডামী দেখলে আমার সব সময়ই রাগ হয়৷ তখনও হলো৷ সে আমাকে বলছে তুই করে, তাই আমিও বললাম তুই করে,
তোর বাক্সে দান না করলে আমার সর্বনাশ হবে কেন?
লোকটি আমার দিকে চোখ ছোট করে তাকিয়ে রইলো৷ একটুপর আবার বলল,
অবিশ্বাস! অবিশ্বাসই তোকে খাবে৷ কিছু দিয়ে যা এই বাক্সে, নাহলে তুই শেষ হয়ে যাবি৷
আমার প্রচন্ড হাসি পেলো৷ হেসে মনে মনে বললাম, শকুনের বদদোয়ায় কি আর গরু মরেরে রে বেটা! তাহলেতো পৃথিবীতে গরুর আকাল পরে যেত৷
লোকটাকে বললাম,
দিব না তোর বাক্সে কিছু৷ জাহান্নামে যা তুই৷
সর্বনাশ হবে তোর! লোকটি হুংকার দিয়ে বলল৷ তোর বংশ ধ্বংস হয়ে যাবে, নির্বংশ হবি তুই!
আমি মুচকি হেসে বললাম,
যাহ!
বৃদ্ধ থামলেন৷ মুখ নীচু করে কিছুক্ষন দম নিতে লাগলেন৷ যদিও আমার খুব কৌতুহল হচ্ছিলো, তবু বললাম,
আপনার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? কষ্ট হলে থাক, বলতে হবে না৷
কিছুদিন পরের কথা, বৃদ্ধ আবার বলতে শুরু করলেন৷ মাজারের সেই ভন্ড লোকটার কথা আমি ভুলে গেছি৷ দিনগুলো আগের মতই সুখে কেঁটে যাচ্ছিলো৷ কোথাও কোন গড়মিল ছিলো না৷ একদিন সকালে মাত্র অফিসে গিয়ে পৌছেছি, হঠাৎ হাসপাতাল থেকে ফোন করে বলল আমার বড় ছেলে স্কুলে যাবার সময় রাস্তায় গাড়ি চাপা পড়েছে৷ আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো৷ পাগলের মত দৌড়ে হাসপাতালে গেলাম৷ গিয়ে যা দেখলাম সে না দেখাই ভালো ছিলো৷ গাড়িটা ছেলেটার মাথার উপর দিয়ে চলে গেছে, ছেলেটা মারা গেছে সাথে সাথেই৷ থেতলানো মাথা, ঘিলু সব বের হয়ে গেছে! ওহ খোদা! আমি পাগলের মত হয়ে গেলাম৷ জানেনতো, পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বোঝা পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ৷ সেই পুত্রের মৃত্যু যদি এভাবে হয় তখন?
ছেলেটাকে কবর দিয়ে বাসায় ফিরলাম৷ আমার স্ত্রী অপ্রকৃতিস্থীতের মত হয়ে গেলেন৷ রাত দিন ছেলের জন্য বিলাপ করেন৷ আমি তাকে স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করি৷ কিন্তু কি স্বান্তনা দিব, যখন নিজেই স্বান্তনা পাই না? তখনো মাজারের সেই লোকটার কথা আমার মনে আসেনি৷ কিন্তু প্রথম পুত্রের মৃত্যু শোক কাঁটিয়ে উঠবার আগেই ছয়মাসের মাথায় আমার ছোট ছেলে অসুখে পড়লো৷ মাত্র দুই দিনের জ্বরে সে আমাদের ছেড়ে চলে গেলো৷
বৃদ্ধ চোখ থেকে তার ভারী চশমা খুলে চোখ মুছলেন৷ আমি স্তব্ধ বিষ্ময়ে তাকিয়ে রইলাম৷ একটুপর তিনি আবার বলতে শুরু করলেন,
দ্বিতীয় পুত্রের মৃত্যুর পর আমি চাকরী ছেড়ে দিলাম৷ চট্টগ্রামে মাজারে গিয়ে সেই লোকটার খোঁজ করলাম৷ সেখানে তাকে খুঁজে পেলাম না৷ আমি মাজার থেকে মাজারে তাকে খুঁজে বেড়াতে লাগলাম৷ অবশেষে বাগেরহাটে খান জাহান আলীর মাজারে তাকে খুঁজে পেলাম৷ সে আমাকে চিনতে পারেনি, কিন্তু আমি তাকে চিনেছি সাথে সাথেই৷ সে একই ভাবে বাক্স নিয়ে মাজারের পাশে বসে৷
তার অভিশাপের সাথে আমার ছেলেদের মৃত্যুর যোগ আছে কিনা আমি জানি না৷ কিন্তু পুত্রশোক বড় শোক৷ আমি তার কাছে গিয়েছিলাম মাফ চাইবার জন্য৷ কিন্তু তাকে দেখে আমার মনে আবার সেই অবিশ্বাস ফিরে এলো৷ আমার মনের সেই অবস্থায়ও আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারলাম না এরকম একটা মানুষের অভিশাপের জন্যই আমার জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে৷ তবু আমি তার পা জড়িয়ে ধরে কেঁদে বললাম,
বাবা, আমাকে ক্ষমা করো৷
সে আমাকে লাথি মেরে ফেলে দিলো৷ কিন্তু আমি তার পাশে পাশে থাকতে শুরু করলাম৷ কিছুদিন যেতেই আমি বুঝতে পারলাম সে একজন সত্যিকার ভন্ড৷ টাকা পয়সা ছাড়া এই ভন্ডটা আর কিছু বোঝেনা৷ সেই টাকা দিয়ে সে নেশা করে৷ এরকম একজন ভন্ডের অভিশাপে কারো কিছু হতে পারে না৷ যদি হতো, তাহলে পৃথিবী বিরান হয়ে যেত৷ তাহলে কিসের অভিশাপ আমার উপর? কেন আমার পরিবার বিরান হয়ে যাচ্ছে? আমি জানি না, জানি না৷ আমি সারারাত দরগায় বসে কাঁদতাম৷ আল্লার কাছে আকুলভাবে কেঁদে বলতাম আমাকে অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে৷ এ মাজার থেকে ও মাজারে ঘুরে বেড়াতে শুরু করলাম৷ প্রতিটা মাজারেই আল্লার কাছে কান্নাকাঁটি করতাম৷ কিন্তু মন যেন কিছুতেই শান্ত হতো না৷
আমি চাকরী ছেড়ে দিবার পর আমার স্ত্রী আর দুই ছেলে মেয়েকে রেখে এসেছিলাম আমার বড় ভাইয়ের পরিবারে৷ বড় ভাইকে আমি মাজারের ঘটনা খুলে বলেছিলাম৷ আমি যখন মাজারে মাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছি, আমার বড় ভাই তখন তাড়াহুড়ো করে আমার মেয়ের বিয়ে দেন৷ আমার মাজারে মাজারে ঘোড়াঘুড়ি শুরু করার পর প্রায় এক বছর চলে গেছে৷ একদিন মাজারে বসেই খবর পেলাম আমার তৃতীয় ছেলে পানিতে ডুবে মারা গেছে৷ আমি আল্লার কাছে কান্নাকাটি করা বন্ধ করে ফিরে এলাম৷
বৃদ্ধ থামলেন৷ এতক্ষন আমি অবিশাস্য এক কাহিনী শুনছিলাম৷ এ যেন অন্য ভুবনের কথা, পৃথিবীতে এরকম হয় আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না৷ বৃদ্ধ থামতেই প্রায় চীৎকার করে বললাম,
আর আপনার মেয়ে?
বৃদ্ধ শূন্য চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
পরের বছর প্রথম বাচ্চার জন্ম দিতে গিয়ে সে মারা যায়৷
আমি বৃদ্ধকে দোকানে বসিয়ে রেখে বের হয়ে এলাম৷ আমার আর কিইবা করার ছিলো প্রিন্সেস? সৃষ্টির রহস্য বড় বিচিত্র৷ সেই রহস্যের কতটুকুই বা আমি জানি?
© রোডায়া
২৮ জুন ২০০৮
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০০৮ রাত ২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


