somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাঁচের মানুষ [গল্প]

২৮ শে জুন, ২০০৮ রাত ১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত গভীর৷ আকাশে আজ কত তারা উঠেছে দেখেছ প্রিন্সেস? পরিষ্কার ঝকঝকে আকাশ, কোথাও এক টুকরো মেঘ নেই৷ চাঁদ ডুবে গেছে অনেক্ষন হলো৷ পুরো আকাশ জুড়ে এখন তারাদের রাজত্ব৷ আমার ছাদে দাঁড়িয়ে আমি তারা দেখছি৷ মৃদুমন্দ ঠান্ডা বাতাস শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দিয়ে যাচ্ছে৷ তোমার কথা বড় বেশি মনে পড়ছে প্রিন্সেস৷ তুমি কেমন আছ?

আমার চারিদিকে নিকষ কালো অন্ধকার৷ তারাদের আলো ছাড়া আর কোন আলো নেই৷ ছাদের উপর আমি একা৷ এরকম একটা নিস্তব্ধ রাতে একলা দাঁড়িয়ে জীবনের অনিশ্চয়তার কথা বড় বেশি মনে পড়ে৷ মানুষের জীবনটা বড় বিচিত্র, বড় বেশি অনিশ্চয়তায় ভরা!

আজ খুব অদ্ভুৎ একটা কাহিনী শুনেছি প্রিন্সেস৷ তোমাকে বলি শোন৷

মৌচাক মার্কেটের পিছনে আনারকলি নামে আরেকটা মার্কেট আছে জানতো? নাও জানতে পারো৷ মৌচাক বেশ বিখ্যাত হলেও আনারকলি ততটা বিখ্যাত না৷ যাই হোক, আনারকলির পিছনে সিঁড়ির নীচে একটা চায়ের দোকান৷ আসলে তার আশেপাশে আরো অনেকগুলা খাবারের দোকান আছে৷ কিন্তু এই দোকানের চা আমার বেশ ভালো লাগে কারন এটার চা হয় আগুন গরম৷ মুখে দিলে জিভ পুড়ে যায়৷ আমার জীবনটা পানসে বলেই বোধহয় আগুন গরম চা আমি খুব পছন্দ করি৷ জিভ পুড়িয়ে সে চা যখন নীচে নেমে যায়, তখন একটা উত্তেজনা বোধ করি৷ মনে হয়, যত যাই হোক, বেঁচে থাকাটা একেবারে খারাপ না৷
সন্ধ্যার পর জায়গাটা বেশ সরগরম হয়ে ওঠে৷ চায়ের দোকানটার সামনে বেশ ভীর জমে যায়৷ সামনে ভীর জমে কারন দোকানটায় বসার জায়গা নেই৷ খেতে হয় দোকানের সামনে দিয়ে ফাঁকা জায়গাটায় দাঁড়িয়ে৷ সন্ধ্যার পর জায়গাটা যখন সরগরম হয়ে ওঠে, তখন বেশ ভালো লাগে৷ জীবনের একটা উত্তাপ টের পাওয়া যায়৷ আমি মাঝে মাঝেই সন্ধ্যার পর সেখানে যাই চা খেতে৷
তুমি বোধহয় রাস্তায় দাঁড়িয়ে কখনো চা খাওনি প্রিন্সেস৷ কিভাবে খাবে, তোমার বন্দী জীবনই যে তোমার বেশি ভালো লাগে! তবু, রাস্তায় দাঁড়িয়ে চায়ে চুমুক দিয়ে তোমার কথা ভাবতে বড় বেশি ভালো লাগে৷ মনে হয় তুমি বুঝি পাশেই আছো৷

আজকেও সন্ধ্যার পর আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম আনারকলির পিছনে চায়ের দোকানটার সামনে৷ চারদিকে রঙ বেরঙের মানুষের মেলা বসেছে৷ ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মানুষগুলো চা, পিঁয়াজু, বেগুনি খাচ্ছে৷ আমি একহাতে চা আরেক হাতে একটা সিগারেট নিয়ে ভীরের মানুষগুলো দেখছিলাম৷ হঠাৎ কোথা থেকে এক বৃদ্ধ এসে আমার সামনে দাঁড়ালেন৷ খুব মৃদু গলায় ধীরে ধীরে বললেন,
বাবা, আমি খুব দরিদ্র একজন মানুষ, আমার কয়েকটা ওষুধ কিনতে হবে৷ আমাকে একটু সাহায্য করবেন?

আমি বৃদ্ধের দিকে তাকালাম৷ তাকে দেখে ভিক্ষুক বলে মনে হয় না৷ টকটকে ফর্সা গায়ের রং, মুখ ভর্তি সাদা দাঁড়ি৷ চেহারায় সম্ভ্রমের ছাঁপ স্পষ্ট৷ এক হাতে একটা লাঠিতে ভর দিয়ে খুব ক্লান্ত ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন৷

তুমিতো জানো প্রিন্সেস, আমি ভিক্ষা দেই না, বা সাহায্য করিনা৷ চারিদিকে প্রতিনিয়ত এত এত ভিক্ষুক দেখলে কারো ভালো লাগে না৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভিক্ষুক বা সাহায্য প্রার্থিকে আমি রূঢ়ভাবে প্রত্যাখান করি৷ কিন্তু এই বৃদ্ধকে দেখে আমার কেমন যেন লাগলো৷ আমার নিজের বাবার কথা মনে পড়ে গেলো৷

আমার বাবার বয়সও এই বৃদ্ধের মতই হবে৷ তারও মুখভর্তি এরকম সাদা দাঁড়ি৷ আমি কল্পনা করলাম একটা লাঠি হাতে আমার বাবা ভিক্ষা করতে বের হয়েছেন৷ কাঁপা কাঁপা পায়ে রাস্তায় হাঁটছেন৷ আমার বুকটা হাহাকারে ভরে গেলো৷

আমি পকেট থেক বিশটা টাকা বের করে বৃদ্ধের হাতে দিলাম৷ বৃদ্ধ টাকাটা হাতে নিয়ে সাধারন ভিক্ষুকদের মত দোয়া দরুদ কিছু পড়লেন না৷ আমি যেখানটায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, তার পাশেই একটা দোকানের চাতাল রাস্তা থেকে আধা ফুট উঁচু করা৷ খুব দুর্বল ভাবে তিনি সেই চাতালের উপর বসলেন৷

বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে আমি আবার বাবার কথা ভাবলাম৷ আমি কোন মহৎ মানুষ না৷ মানুষের দুঃখ কষ্ট আমাকে খুব পোড়ায় এরকম দাবি আমি করতে পারিনা৷ কিন্তু এই বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে আমার কেমন যেন কষ্ট হতে লাগলো৷ এই কষ্টের উদ্ভব কোথা থেকে হয় আমি জানিনা৷ কিন্তু এই বৃদ্ধের কত টাকার ওষুধ লাগবে? যে কয়টাকারই লাগুক আমি সহজেই সেটা কিনে দিতে পারি৷ আর সেই কয় টাকার জন্য এই বয়সে তাকে রাস্তায় সাহায্য চেয়ে বেড়াতে হচ্ছে৷ আমার ভীতরটা আবার হাহাকারে ভরে গেলো৷
আমি তার দিকে ঝুঁকে বললাম,
আপনার সাথে কি প্রেসক্রিপসন আছে? থাকলে আমাকে দেন, আমি আপনার ওষুধ কিনে দিচ্ছি৷

বৃদ্ধ অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালেন৷ বিড়বিড় করে কি যেন বললেন ভালো বুঝলাম না৷ আমি আবার বললাম,
প্রেসক্রিপশনটা আমাকে দেন আমি ওষুধ কিনে দিচ্ছি৷

তিনি কাঁপা কাঁপা হাতে প্রেসক্রিপশন বের করে আমার হাতে দিলেন৷ তার কাছে থেকে বুঝে নিলাম কি কি ওষুধ লাগবে, ক্য়টা লাগবে৷ তারপর বসার জায়গা আছে এরকম একটা খাবারের দোকানে নিয়ে তাকে বসালাম৷ বললাম,
খাবেন কিছু?
উনি মাথা নেড়ে অসম্মতি জানালেন৷ আমি একটা চা তাকে দিতে বলে বের হয়ে গেলাম৷

ওষুধ কিনে ফিরে এসে দেখি উনি সেভাবেই বসে আছেন৷ তাকে যে চা দেয়া হয়েছে সেটা তিনি স্পর্ষও করেননি৷ চা ঠান্ডা হয়ে পড়ে আছে৷
আমি ওষুধগুলো ওনার হাতে দিলাম৷ উনি ধীরে ধীরে প্রশ্ন করলেন,
আপনি কি করেন বাবা?
আমি জানালাম৷
আপনার বাবা বেঁচে আছেন? বৃদ্ধ আবার প্রশ্ন করলেন৷
আমি বৃদ্ধের সামনে সামনে বসতে বসতে বললাম, হ্যাঁ৷
বৃদ্ধ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিড়বিড় করলেন,
আজ যদি আমার ছেলেরা থাকতো তাহলে আপনার মতই হতো৷
আমি ব্যাপারটা ভালো বুঝলাম না৷ একটু অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম,
কি হয়েছে আপনার ছেলেদের?
নেই নেই, একজনও বেঁচে নেই৷ বৃদ্ধ হাহাকারের মত করে বললেন৷

আমি তাকিয়ে রইলাম তার দিকে৷ বৃদ্ধ অনেক্ষন চুপ করে বসে রইলেন৷ তার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছিলো৷ এরপর একটা কাহিনী শুনলাম তার কাছ থেকে৷ বড় অদ্ভুৎ, বড় বিচিত্র সে কাহিনী৷ তোমাকে বলি প্রিন্সেস৷

আমি সরকারী চাকরি করতাম৷ বৃদ্ধ বলতে শুরু করলেন৷ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ছিলাম৷ তিন ছেলে, এক মেয়ে ছিলো আমার৷ মেয়েটা বড়, ক্লাস নাইনে পড়তো৷ এরপর তিন ছেলে৷ সবাই পিঠাপিঠি ছিলো৷ সবাই পড়াশুনায় ভালো ছিলো৷ মোটামুটি সুখের সংসার ছিলো আমাদের৷

সেবার একটা কাজে চট্টগ্রাম গেলাম৷ কাজ শেষ হওয়ার পর ভাবলাম, এসেছি যখন হযরত বায়েজিদ বোস্তামী আর বারো আউলিয়ার মাজার দেখে যাই৷

মাজারে পৌছালাম বেলা বারোটার দিকে৷ অনেক লোক মাজারে আসছে, যাচ্ছে৷ মাজারে ঢোকার মুখে একটা বড় দান বাক্স৷ একটা বড় বড় চুলের নোংরা লোক ধ্যানের ভঙ্গিতে বাক্সটার পাশে বসা৷ আমি বাক্সটার কাছাকাছি পৌছতেই সে বলল,
কিছু দিয়ে যা এই বাক্সে৷

লোকটার দিকে তাকিয়ে আমার মনে কোন শ্রদ্ধ্বাভাব এলো না৷ গায়ে নোংরা একটা দরবেশী আলখেল্লা, মাথায় বড় বড় জটপাকানো চুল৷ গোটা লোকটা যেন নোংরামির একটা প্রতিমূর্তি৷ আমি বিরক্ত হয়ে লোকটার দিকে থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলাম৷
লোকটা হুংকার দিয়ে আমাকে আবার বলল,
কিছু দান করে যা এই বাক্সে, নাহলে তোর সর্বনাশ হবে৷
আমি দাঁড়িয়ে পড়লাম৷ এই সব লোকগুলার ভন্ডামী দেখলে আমার সব সময়ই রাগ হয়৷ তখনও হলো৷ সে আমাকে বলছে তুই করে, তাই আমিও বললাম তুই করে,
তোর বাক্সে দান না করলে আমার সর্বনাশ হবে কেন?
লোকটি আমার দিকে চোখ ছোট করে তাকিয়ে রইলো৷ একটুপর আবার বলল,
অবিশ্বাস! অবিশ্বাসই তোকে খাবে৷ কিছু দিয়ে যা এই বাক্সে, নাহলে তুই শেষ হয়ে যাবি৷
আমার প্রচন্ড হাসি পেলো৷ হেসে মনে মনে বললাম, শকুনের বদদোয়ায় কি আর গরু মরেরে রে বেটা! তাহলেতো পৃথিবীতে গরুর আকাল পরে যেত৷
লোকটাকে বললাম,
দিব না তোর বাক্সে কিছু৷ জাহান্নামে যা তুই৷
সর্বনাশ হবে তোর! লোকটি হুংকার দিয়ে বলল৷ তোর বংশ ধ্বংস হয়ে যাবে, নির্বংশ হবি তুই!
আমি মুচকি হেসে বললাম,
যাহ!

বৃদ্ধ থামলেন৷ মুখ নীচু করে কিছুক্ষন দম নিতে লাগলেন৷ যদিও আমার খুব কৌতুহল হচ্ছিলো, তবু বললাম,
আপনার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? কষ্ট হলে থাক, বলতে হবে না৷
কিছুদিন পরের কথা, বৃদ্ধ আবার বলতে শুরু করলেন৷ মাজারের সেই ভন্ড লোকটার কথা আমি ভুলে গেছি৷ দিনগুলো আগের মতই সুখে কেঁটে যাচ্ছিলো৷ কোথাও কোন গড়মিল ছিলো না৷ একদিন সকালে মাত্র অফিসে গিয়ে পৌছেছি, হঠাৎ হাসপাতাল থেকে ফোন করে বলল আমার বড় ছেলে স্কুলে যাবার সময় রাস্তায় গাড়ি চাপা পড়েছে৷ আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো৷ পাগলের মত দৌড়ে হাসপাতালে গেলাম৷ গিয়ে যা দেখলাম সে না দেখাই ভালো ছিলো৷ গাড়িটা ছেলেটার মাথার উপর দিয়ে চলে গেছে, ছেলেটা মারা গেছে সাথে সাথেই৷ থেতলানো মাথা, ঘিলু সব বের হয়ে গেছে! ওহ খোদা! আমি পাগলের মত হয়ে গেলাম৷ জানেনতো, পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বোঝা পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ৷ সেই পুত্রের মৃত্যু যদি এভাবে হয় তখন?

ছেলেটাকে কবর দিয়ে বাসায় ফিরলাম৷ আমার স্ত্রী অপ্রকৃতিস্থীতের মত হয়ে গেলেন৷ রাত দিন ছেলের জন্য বিলাপ করেন৷ আমি তাকে স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করি৷ কিন্তু কি স্বান্তনা দিব, যখন নিজেই স্বান্তনা পাই না? তখনো মাজারের সেই লোকটার কথা আমার মনে আসেনি৷ কিন্তু প্রথম পুত্রের মৃত্যু শোক কাঁটিয়ে উঠবার আগেই ছয়মাসের মাথায় আমার ছোট ছেলে অসুখে পড়লো৷ মাত্র দুই দিনের জ্বরে সে আমাদের ছেড়ে চলে গেলো৷

বৃদ্ধ চোখ থেকে তার ভারী চশমা খুলে চোখ মুছলেন৷ আমি স্তব্ধ বিষ্ময়ে তাকিয়ে রইলাম৷ একটুপর তিনি আবার বলতে শুরু করলেন,
দ্বিতীয় পুত্রের মৃত্যুর পর আমি চাকরী ছেড়ে দিলাম৷ চট্টগ্রামে মাজারে গিয়ে সেই লোকটার খোঁজ করলাম৷ সেখানে তাকে খুঁজে পেলাম না৷ আমি মাজার থেকে মাজারে তাকে খুঁজে বেড়াতে লাগলাম৷ অবশেষে বাগেরহাটে খান জাহান আলীর মাজারে তাকে খুঁজে পেলাম৷ সে আমাকে চিনতে পারেনি, কিন্তু আমি তাকে চিনেছি সাথে সাথেই৷ সে একই ভাবে বাক্স নিয়ে মাজারের পাশে বসে৷

তার অভিশাপের সাথে আমার ছেলেদের মৃত্যুর যোগ আছে কিনা আমি জানি না৷ কিন্তু পুত্রশোক বড় শোক৷ আমি তার কাছে গিয়েছিলাম মাফ চাইবার জন্য৷ কিন্তু তাকে দেখে আমার মনে আবার সেই অবিশ্বাস ফিরে এলো৷ আমার মনের সেই অবস্থায়ও আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারলাম না এরকম একটা মানুষের অভিশাপের জন্যই আমার জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে৷ তবু আমি তার পা জড়িয়ে ধরে কেঁদে বললাম,
বাবা, আমাকে ক্ষমা করো৷
সে আমাকে লাথি মেরে ফেলে দিলো৷ কিন্তু আমি তার পাশে পাশে থাকতে শুরু করলাম৷ কিছুদিন যেতেই আমি বুঝতে পারলাম সে একজন সত্যিকার ভন্ড৷ টাকা পয়সা ছাড়া এই ভন্ডটা আর কিছু বোঝেনা৷ সেই টাকা দিয়ে সে নেশা করে৷ এরকম একজন ভন্ডের অভিশাপে কারো কিছু হতে পারে না৷ যদি হতো, তাহলে পৃথিবী বিরান হয়ে যেত৷ তাহলে কিসের অভিশাপ আমার উপর? কেন আমার পরিবার বিরান হয়ে যাচ্ছে? আমি জানি না, জানি না৷ আমি সারারাত দরগায় বসে কাঁদতাম৷ আল্লার কাছে আকুলভাবে কেঁদে বলতাম আমাকে অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে৷ এ মাজার থেকে ও মাজারে ঘুরে বেড়াতে শুরু করলাম৷ প্রতিটা মাজারেই আল্লার কাছে কান্নাকাঁটি করতাম৷ কিন্তু মন যেন কিছুতেই শান্ত হতো না৷

আমি চাকরী ছেড়ে দিবার পর আমার স্ত্রী আর দুই ছেলে মেয়েকে রেখে এসেছিলাম আমার বড় ভাইয়ের পরিবারে৷ বড় ভাইকে আমি মাজারের ঘটনা খুলে বলেছিলাম৷ আমি যখন মাজারে মাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছি, আমার বড় ভাই তখন তাড়াহুড়ো করে আমার মেয়ের বিয়ে দেন৷ আমার মাজারে মাজারে ঘোড়াঘুড়ি শুরু করার পর প্রায় এক বছর চলে গেছে৷ একদিন মাজারে বসেই খবর পেলাম আমার তৃতীয় ছেলে পানিতে ডুবে মারা গেছে৷ আমি আল্লার কাছে কান্নাকাটি করা বন্ধ করে ফিরে এলাম৷
বৃদ্ধ থামলেন৷ এতক্ষন আমি অবিশাস্য এক কাহিনী শুনছিলাম৷ এ যেন অন্য ভুবনের কথা, পৃথিবীতে এরকম হয় আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না৷ বৃদ্ধ থামতেই প্রায় চীৎকার করে বললাম,
আর আপনার মেয়ে?
বৃদ্ধ শূন্য চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
পরের বছর প্রথম বাচ্চার জন্ম দিতে গিয়ে সে মারা যায়৷

আমি বৃদ্ধকে দোকানে বসিয়ে রেখে বের হয়ে এলাম৷ আমার আর কিইবা করার ছিলো প্রিন্সেস? সৃষ্টির রহস্য বড় বিচিত্র৷ সেই রহস্যের কতটুকুই বা আমি জানি?


© রোডায়া
২৮ জুন ২০০৮
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০০৮ রাত ২:০৫
১৭টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×