somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... তুমি আছো বলে [কবিতা] -----------------


এখন আমি তোমার জন্য বাঁচিনা
তোমাকে নিয়ে কোন স্বপ্নও এখন আমি দেখিনা

আমি লিখিনা কোন কাব্য আজ তোমার জন্য
আমি ডাকিনা তোমায়, তুমি যতই হও অনন্য৷

আমি বাঁধিনা সুর কোন সন্ধ্যাবেলায় তোমাকে ভেবে
আমার রঙতুলিতে তোমার ছবি আমি যাইনা এঁকে৷

তোমার জন্য এই হৃদয়ে আজ নেই কোন হাহাকার
তোমাকে ছাড়া এখন আমি দেখিনা অন্ধকার৷

আমি মাখিনা দু'হাতে ভরে কখনো আর, ভোরের শিশির
তোমাকে ভেবে আর কখনো আমি মাখিনা আবির৷

ঘুম ভাঙা কোন রাতে তোমার ছোঁয়া আমি পাইনা মনে
হারাইনা কোথাও অজানা অচেনা কোন সন্ধিক্ষনে৷

তোমার জন্য আজ ফোটেনা কোথাও কোন কৃষ্ণচূড়া
তোমার জন্য মন ঘুড়িটার আর হয় না ওড়া৷

তোমার জন্য আজ জাগেনা মনে কোন কামনা
জাগেনা কখনো তোমাকে জড়াবার কোন বাসনা৷

তোমার কপালে আমিতো এখন আর পড়াইনা টিপ
দেখিনা তোমার চোখে এখন কোন দৃষ্টি প্রদীপ৷

ইশারায় শিস দিয়ে তোমাকে আমি আর যাইনা ডেকে
কাঁদিনা তোমার জন্য অবাক জোছনা গায়ে মেখে৷

দিইনা তোমাকে আর বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল
করিনা তোমার জন্য বহুবার করা সেই একই ভুল৷

তুমি চলে গেছো তাতে কি আর এমন এলো গেলো
তোমার জন্য এ' মন কখনো হয় না এলোমেলো৷

যেন আজ আমি আর তোমার জন্য বাঁচিনা
তবু তুমি আছো বলেই
বেঁচে থাকাটা কখনো অসহ্য হয়ে ওঠে না৷

-----------------------
© মাহবুবুর শাহরিয়ার
৩ সেপ্টেম্বর ২০০৮

উৎসর্গঃ রাশেদের ক্যাচাক্যাচির জন্যঃ রাশেদ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28868128 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28868128 2008-11-12 14:23:49
মধ্যরাতের প্রলাপ
হুম, মেজাজ খিচে যাওয়ার কারন আছে৷ স্যাঁতস্যাঁতে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে কোন কাজ করতে ভালো লাগে না৷ অথচ ঐ স্যাঁতস্যাঁতে বৃষ্টিতে ভিজে অফিসে যেতে হবে৷ এজন্যই মেজাজ খিচে খিয়েছিলো৷

আসলে বৃষ্টি ভালো লাগে মাত্র দু'টো সময়৷ কোন কাজ হাতে না থাকলে নিরাপদ আশ্রয়ে বৃষ্টির ঝাঁপটার হাত থেকে নিরাপদ দূরত্বে বসে বৃষ্টি দেখতে ভালো লাগে৷ ভালো লাগে ঘরের মধ্যে বসে রিমঝিম রিমঝিম বৃষ্টির শব্দ শোনা৷ আর ভালো লাগে যদি বৃষ্টিতে পুরোপুরি ভিজতে৷ এছাড়া বৃষ্টির মধ্যে বাইরে বের হতে কারোরই ভালো লাগে না৷

আমার বক্তব্য হচ্ছে, রাত বারোটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত্য যত খুশি বৃষ্টি হ না বাপ, তাও আমি যদি ঘরের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকি৷ হুম৷

কিন্তু তাহলে আসমানীদের কি হবে? আসমানীদের যে কোন নিরাপদ আশ্রয় নেই! তাদের ভাঙা ঘরের ফুটো চাল দিয়ে যে বৃষ্টি হলেই তাদের পৃথিবী ভেসে যায়৷ রাত বারোটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত্য প্রতিদিন বৃষ্টি হলে যে ওদের পানিতেই বসবাস করতে হবে! তারা নিশ্চয় চায় একেবারেই কোন বৃষ্টি না হোক!

হুম৷

মানুষের চাওয়া পাওয়ার উপর স্রষ্টা বা প্রকৃতির নিয়ম কানুন নির্ভর করে না৷ হয়তো তাই এখনো চলছে পৃথিবী!

রাত গভীর হচ্ছে৷ আমার ঘরের মধ্যে দেয়াল ঘড়িটার টিকটিক করে চলা ছাড়া আর কোন শব্দ নেই৷ বাইরে একটানা বৃষ্টির রিমঝিম রিমঝিম শব্দ৷ একটানা বয়ে যাচ্ছে বৃষ্টি৷ মাঝে মাঝে বাতাসের ঝাপটা এসে আছড়ে পড়ছে জানালার কাঁচে৷ বিছানায় উপুর হয়ে প্রুফ রিডিং করছিলাম৷ প্রুফ রিডিং বাদ ল্যাপটপটা টেনে বসে সা'ইন খুললাম৷ গত দু'দিন ধরে সা'ইন ব্লগ মেতে আছে প্রথম আলো ব্লগ নিয়ে৷ কত হাজারে বিজারে পোষ্ট যে আসলো ওটা নিয়ে! কে কত ভাবে বিশ্লেষন করতে পারে নতুন ব্লগের আগমন৷ কার নিক কোথায় কিভাবে চুরি হলো তা নিয়েও পোষ্টের অভাব নেই৷ মানুষের খেলনার বড় অভাব৷ একটা কিছু পাইলেই সেটা নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে সবাই৷

কখনো গ্রামে থাকিনি৷ শুনেছি গ্রামের নিস্তরঙ্গ শান্ত জীবনে ছোট্ট কোন একটা ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন তোলে৷ সমস্ত গ্রামে হৈ চৈ শুরু হয়ে যায় সেটা নিয়ে৷ প্রবল উৎসাথে কয়েকদিন মানুষ মেতে থাকে সেটা নিয়ে৷ গ্রামের সেই আলোড়ন এখানে বসেও টের পাচ্ছি৷ একটা দৈনিক পত্রিকার একটা ব্লগ খোলা নিয়ে যেমন হৈ চৈ দেখছি, তাতে মনে হচ্ছে এই শহুরে জীবনেও ঘটনার বড় অভাব৷ এটা কি তাহলে শহুরে গ্রাম্যতা?

কিন্তু ঘটনার অভাব তাই বা বলি কি করে? এই শহরেতো বিচিত্র অদ্ভুৎ ঘটনার অভাব নেই! পরশু দিনের পত্রিকায় দেখলাম এক ব্যক্তি এক মেয়ের মাথা গলা থেকে কেটে নিয়ে কাঁটা মাথা হাতে রাস্তা দিয়ে ছুটতে ছুটতে যাচ্ছে৷ কি অদ্ভুৎ ঘটনা! শিবরাম চক্রবর্তীর হর্ষবর্ধনের মত বলতে ইচ্ছে করছে- আছি কোথায়?

হ রে বিধাতা, আছি কোথায়? বড় অদ্ভুৎ তোমার পৃথিবী, ততোধিক অদ্ভুৎ তোমার এই মনূষ্য জাতি!

বাইরে বৃষ্টিটা মনে হয় বেড়ে গেছে৷ একটানা শব্দেরা গুনগুন করে যাচ্ছে৷ বৃষ্টি নিয়ে কি কি কবিতা আছে তার একটা লিস্ট করতে হবে৷ এই মূহুর্তে শুধু একটা লাইনই মনে আসছে- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এলো বান৷

নাহ, মাথাটা কাজ করছে না৷ এলোমেলো লাগছে৷ এককাপ চা বানাতে হবে৷

নাহ, চা না, বিয়ার পাওয়া গেলে বেশ হতো৷ এই টাপুর টুপুর বৃষ্টির শব্দের ভেজা ভেজা আবহাওয়ায় বরফ ঠান্ডা বিয়ার আর খুব ঝাল মাখানো চানাচুরের কথা মনে পড়ছে৷ মনে পড়ছে ওমর খৈয়ামের রুবাই-

ভ্যূলোক আর দ্যুলোকের ঐ মন্দ ভালোর ভাবনাতে
বেপরোয়া ঘুরে বেড়াই ভাটি খানার আড্ডাতে
গোলক হয়ে পড়তো যদি মোর ঘরে ঐ যুগল লোক
মদের নেশায় বিকিয়ে দিতাম ওদের একটা আধলাতে!

হা বিধাতা! তোমার এই অদ্ভুৎ পৃথিবীর এত অনিয়ম, এত অর্থহীনতা, এত না পাওয়ার বেদনার মধ্যেও বেঁচে থাকাটা এত ভালো লাগে কেন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28860317 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28860317 2008-10-27 01:52:16
ক্ষনে ক্ষনে হারাই [কবিতা] মন সাগরে ঢেউ জেগেছে
আমি কেমন করে বোঝাই
আমি যে ক্ষনে ক্ষনে হারাই৷৷

দেখেছি তোমায় অবাক ভোর বেলা
ভাঙলো যখন সকল ধুলো খেলা
চোখে চোখ মিশলো যখন, আমার সকল হলো হারা
একি মানবী নাকি দেবী! আমি ভেবে হলাম সারা!!
কোন সাগরে ভাসালে তুমি আমায়
আমি কেমন করে বোঝাই
আমি যে কূল খুঁজে না পাই৷৷

ঠোঁটের কোনে হাসলে যখন তুমি
ফুলে ফুলে ভরলো মরুভূমি
থামলো যত অর্থহীন প্রলাপ
উঠলো জেগে লক্ষ রক্ত গোলাপ
মাতলো ধরা এ কোন নতুন রঙে!
ভাসলো মন অবাক প্রেমের টানে
আমি কেমন করে দেখাই
আমি যে দৃষ্টি নাহি পাই৷৷

তোমার মনের নিভৃত কোনে একটু দিও ঠাঁই
এতটুকু দাবি জানাই!
আমি কেমন করে বোঝাই
আমি যে ক্ষনে ক্ষনে হারাই৷৷

-------------------
২৪ অগাস্ট ২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28834681 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28834681 2008-08-25 11:41:18
একটু ভেবো [কবিতা] মাঝরাতে ঘুম ভেঙে হঠাৎ মনে হলো
ভুলেছো কি আমারে, একেবারে?
পেরেছো কি ভুলিতে তারে
ফিরায়ে দিয়েছো যারে, অবহেলে?

কখনো কি মনে পড়েনা তোমার
ফেলে আসা স্মৃতিগুলো?
স্বপ্ন দেখার দিন গুলি ভেবে
কখনো কি, হও না এলোমেলো?

পেরেছো কি ভুলিতে তারে, একেবারে
অবহেলে ফিরায়ে দিয়েছো যারে?

ভোলনি জানি
জানি সবকিছু এত সহজে যায় না ভোলা৷
জানি এলোমেলো বিকেল গুলো এখনো কাঁদায়
এখনো ভাবায় তোমাকে স্মৃতির মেঘ মালা৷

নাকি সত্যি গিয়েছো ভুলে
সেই দুঃস্বপ্ন কি আজ হয়েছে সত্যি?
অন্য কারো বুকে মাথা রেখে আজ
ভুলেছো কি আমার স্মৃতি?

হয়তো এখন তুমি অন্য কারো
অন্য কারো স্বপ্নে স্বপ্ন মেলাও৷
হয়তো এখন তুমি আমায় ভুলে
অন্য কারো চোখে সুখ খুঁজে পাও৷

হয়তো এখন অন্য সময়
অন্য রকম রঙে রাঙায় তোমায়৷
হয়তো এখন অন্য কেউ
অন্য আবেগে ভাসায় হৃদয়৷৷

তবু ভুলেছো কি সবটুকু
এতটুকু কি নেই বাকি?
ছোট্ট এই জীবনে আমাদের
সবটাই কি হলো ফাঁকি?

জানি কোন অধিকার আর নেই আমার
কোন অধিকার কোন দাবি দাওয়ার৷
তবু করি শুধু একটি অনুরোধ
কোন একাকী উদাস দুপুরে
অথবা কোন ভুল করা রাতে
মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে গেলে
ভেবো নাহয় একটু অবহেলে৷
একবার ফিরে তাকিও
একবার, একটু, আমাকে ভেবো৷

----------------
© রোডায়া
৬ এপ্রিল ২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28830043 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28830043 2008-08-12 12:30:10
কাল শুধু কাল

কাল শুধু কাল
এইভাবে সময়ের অনন্ত অন্তীমে
এবং গতকাল চমৎকার মুখোশে নির্বোধ
নিরক্ত মৃত্যুর দিকে
যাও নিভে যাও, নিভু নিভু দ্বীপ৷
জীবন চলন্ত ছায়া, যেন এক নবীশ নায়ক!
তার অঙ্কে অধিরাজ বিষ্মৃত তখনি
এ এক কাহিনী
বেকুব কবির কাব্য৷
অহংকারে অনুপ্রাসে ঠাসা কিন্তু অর্থহীন
শূন্য এই জীবন কাহিনী৷]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28828433 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28828433 2008-08-07 17:32:42
জিজ্ঞাসা [পদ্য] বহুদিন রাখিনা হাত তোমার হাতেতে
বহুদিন আসিনা কাছাকাছি
প্রিয়.....
তুমি ভালো আছো কি?

বহুদিন একসাথে বৃষ্টিতে হয়নি ভেজা
বহুদিন জড়াইনা চুল আমার আঙুলে
বহুদিন বলিনা- ভালোবাসি
প্রিয়.....
তুমি ভালো আছো কি?

লাল কৃষ্ণচূড়ার নীচে এখন হয়না দাঁড়ানো
চোখে চোখ রেখে আর হয়না হাসা
বহুদিন হাঁটিনা পাশাপাশি
প্রিয়.....
তুমি ভালো আছো কি?

নিস্তব্ধ সন্ধ্যায় একা থাকি দাঁড়িয়ে
অস্তমিত সূর্য্য বয়স যায় বাঁড়িয়ে
তালপাতার বাঁশি আজো বাজে কি?
প্রিয়.....
তুমি ভালো আছো কি?

অনেক কথা তবু হয়নি বলা
অনেক পথ আজো হয়নি চলা
বিকেলের রোদে আজো বিষাদের মাখামাখি
প্রিয়.....
তুমি ভালো আছো কি?

সন্ধ্যায় ছায়াতে দেখি তোমাকে
মনের গহীন কোনে খুঁজি তোমাকে
চোখ বুঁজে দেখি তোমার সোনা মুখখানি
প্রিয়.....
তুমি ভালো আছো কি?

রঙধনু সাতরঙে করে যায় খেলা
কালের প্রবাহে বড় বেশি অবহেলা
সাধ হয় হাত ধরে আবার হাঁটি
প্রিয়.....
তুমি ভালো আছো কি?

গোঁধুলীর আলোতে হাঁটে অচেনা পথিক
অথবা তারার আলোয় হয় দিকবিদিক
শেষ বিকেলের ছায়ারা করে নাচানাচি
প্রিয়.....
তুমি ভালো আছো কি?

সকালের সোনা রোদে ঝড়ের আভাস
অথবা কাঞ্চনজঙ্ঘায় সোনালী প্রভাস
কান পেতে আজো শুনি তোমার হাসি
প্রিয়.....
তুমি ভালো আছো কি?

কত দূরে আছো তুমি কোন অজানায়?
অন্য দীপান্তরে, নাকি ভুল ঠিকানায়?
ভুল করে ভাবি আছো খুব কাছাকাছি
প্রিয়.....
তুমি ভালো আছো কি?

ছোট সুখ ছোট আশা, ছোট ছোট কষ্ট গাঁধা
বয়ে যায় কত সোনালী দিন
একলা রাতের কোলে তোমাকে ভাবি
প্রিয়.....
তুমি ভালো আছি কি?

দুপুরের রোদ এসে যায় পুড়িয়ে
তোমার পথের ধুলি যায় উড়িয়ে
তেপান্তরের মাঠে আজো একা বসে থাকি
প্রিয়.....
তুমি ভালো আছো কি?

গল্পের বইয়ের পাতা হয়ে আসে শেষ
রয়ে যায় শুধু ভালোলাগার রেশ
সব কবিতায় শুধু তোমাকে পড়ি
প্রিয়.....
তুমি ভালো আছো কি?

জীবনের পাতাগুলি আসে ফুরিয়ে
বুড়ো পৃথিবী যায় আরো বুড়িয়ে
তবু আজো বড় ভালোবাসি
প্রিয়.....
তুমি ভালো আছো কি?

ভালো আছো কি?
তুমি ভালো আছো কি?

-----------
২৬ জুলাই ২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28825089 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28825089 2008-07-28 22:30:57
তুই কেমন করে যাবি [পদ্য] যত দূরেই যাস না তুই আমায় দেখতে পাবি৷
তবে তুই কেমন করে যাবি?

হাত দিয়ে যে ছুঁই না তোকে
মন দিয়ে যে ছুঁই
তাইতো রে তুই মন হারালি
তোর মনে আমি রই৷

তবে তুই কেমন করে যাবি
আমায় মনে পড়বে রে তোর
সকাল সন্ধ্যা রবি৷
লাল শাড়িটা পড়বি যখন
তুই আমায় জড়াবি
তুই কেমন করে যাবি?

আমায় দেখতে পাবি তুই সন্ধ্যা বাতায়নে
আমার কথা শুনবি তুই সকল আবাহনে
ঐ চোখেতে পড়বি কাজল যখন
তুই আমার কথা ভাববি
তবে তুই কেমন করে যাবি?

আমার কথা ভাববি তুই স্বপ্ন জাগরনে
আমি আছি মিশে যে তোর ঘুমের আবরণে
ঐ কপালে পড়বি যখন টিপ
তুই আমার ছোঁয়া পাবি
তবে তুই কেমন করে যাবি?

দেখতে পাবি আমায় তুই মনের গহীন কোনে
শুনতে পাবি আমার কথা নীরব উচ্চারণে
তোর বুকের সুগন্ধীতে আমায় খুঁজে পাবি
তবে তুই কেমন করে যাবি?

তবু তুই বলিস যদি, যাই
দেখবি তোর সম্মুখে পথ নাই৷
সব পথের প্রান্তে তুই আমায় দেখতে পাবি
তবে তুই কেমন করে যাবি?


(অনেক দিন ধরে কবিতা লেখা হয় না৷ কালকে নির্মলেন্দু গুনের একটা কবিতা পড়ার পর থেকে এই লাইন গুলা মাথায় ঘুর ঘুর করতে লাগলো৷ আজকে সেগুলো ধরেই ফেললাম৷ কেউ এটাকে গুনের কবিতার নকল বলতে চাইলেও বলতে পারেন, কারন এটার ভাব সম্পূর্নই ঐ কবিতা থেকে নেয়া৷)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28824147 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28824147 2008-07-25 20:54:30
তাহলে এভাবেই
এই এক লেখা যে কতবার লিখছি৷ কতবার ভাঙছি, কতবার গড়ছি৷ কিন্তু কিছুতেই যে পুরোপুরি মনের মত হয় না ছাই! দিনের পর দিন যায়, রাতের পর রাত৷ আমি ভাঙি, আমি গড়ি৷ তবু মনে হয়, ওখানে দুর্বলতা রয়ে গেছে, ঐ জায়গাটা ঠিকমতো হয়নি৷

নাহ, এবারে থামতে হবে৷ এমনিতেই আমার অনেক বদনাম৷ আমি নাকি কোন কিছুতেই সন্তুষ্ট হই না৷ ওরা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করে৷ বলে আমি বিয়ে করলেও পরের দিন শশুর বাড়ি গিয়ে বলব, বউ পছন্দ হয়নি, পাল্টায় দেন!!!

তা আমি কি করব? আমি তোমাদের মত সন্তুষ্ট হতে পারিনা৷ অল্পে তুষ্ট হতে পারিনা৷ কিন্তু কে বলে আমি সন্তুষ্ট হতে পারিনা? কোন কিছুই পছন্দ করিনা? করি ঠিকই, যদি সেটা সত্যিই ভালো হয়৷ আমি তোমাদের মত গড়পড়তা জিনিস ভালোবাসিনা৷ তোমাদের মত গতানুগতায় সন্তুষ্ট হতে পারি না৷ আমি ভালোটা চাই৷ আমি সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চাই৷ সেটাতে দোষ কি? তোমরা দুই নম্বরী করবে, তোমরা রদ্দি জিনিস দিবে আর আমাকে সেটা ভালো বলে লাফালাফি করতে হবে?

না, আমি তোমাদের এই তত্বে বিশ্বাস করিনা৷ আমি তাই বলব যা আমার অনুভুতি বলে৷ আমি তোমাদের সন্তুষ্ট করার জন্য কিছু বলব না৷ আমি তোমাদের কাছ ভালোটাই আশা করব৷ যদি না পারো, তোমাদের খুশি করার জন্য আমি সেটাকে ভালো বলতে যাব না৷

দূর, এসব কি হাবিজাবি ভাবছি৷ ভাবছিলাম লেখাটার কথা৷ এবার সেটা সত্যিই শেষ হয়েছে৷ দীর্ঘদিন ধরে আমি এটার পিছনে লেগে আছি৷ দীর্ঘ অনেকগুলো মাস৷ শেষ না হওয়ায় শান্তি পাচ্ছি না৷ আমি অন্য সব বাদ দিয়ে এটার পিছনে লেগে থেকেছি৷ আমি ক্লান্ত হয়েছি, বিধ্বস্ত হয়েছি৷ তবু আমাকে এটা শেষ করতেই হবে৷

হ্যাঁ, এবারে সেটা শেষ হয়েছে! এবারে সত্যিই ওটা ছেড়ে দিতে হবে৷ হয়তো এখনো ওটা নিয়ে অনেক কিছু করার রয়ে গেছে৷ মনের মধ্যে এখনো রয়ে গেছে অতৃপ্তি৷ জানি, আরো অনেক কিছু করার ছিলো৷ কিন্তু থামতে হবে৷ কোথাও না কোথাও থামতে হয়৷ শুধু চলতে জানলে কোথাও পৌছানো যায় না৷ চলতে জানাটা যেমন জরুরী, থামতে জানাটাও ঠিক তেমনই জরুরী৷ হ্যাঁ, ঠিক, পল ভ্যালোরীর সেই কথাটাই ঠিক, শিল্পের কোন কাজ কখনো সম্পূর্ন হয়ে যায় না৷ কাজটা এক সময় 'তাহলে এভাবেই' বলে ছেড়ে দিতে হয় মাত্র৷

এবারে সত্যিই 'তাহলে এভাবেই' বলার সময় এসেছে৷]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28820522 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28820522 2008-07-15 13:58:24
আমার ঘরে এক হাঁটু জল পানিতে থৈ থৈ!
কাল রাতে যখন তোমার সাথে কথা বলছিলাম, তুমি বললে তোমার ওখানে মুষল ধারে বৃষ্টি হচ্ছে৷ তুমি বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে আমার সাথে কথা বলছ৷ জানতে চাইলে আমার এখানে বৃষ্টি হচ্ছে কিনা৷

আমার এখানে বৃষ্টি হচ্ছিলো না৷ সারাদিন বৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু রাত্রে বন্ধ হয়ে গেছে৷ রাত্রে ঘুমাতে যাবার সময় বৃষ্টির শব্দটা ভালো লাগে৷ আমি জানালার ধারে বসে ছিলাম বৃষ্টির আশায়৷

তোমাকে বললাম, বৃষ্টি হচ্ছে না৷ কিন্তু সকালে অফিসে যাবার ঠিকই বৃষ্টি নামবে৷ ভিজতে ভিজতে অফিসে যেতে হবে৷

তুমি আমার কথা শুনে খিল খিল করে হাসলে৷ বললাম, জীবনটা এরকমই, যখন যেটা চাওয়া চায় সেটা পাওয়া যায় না৷ পাওয়া যায় অন্য সময়ে, ভুল সময়ে৷ তখন হয়তো সেটা আর চাওয়া হয় না৷

একবারের কথা মনে পড়ে৷ সেবারও এরকম বর্ষাকাল ছিলো৷ সারারাত বৃষ্টির কোন নাম গন্ধ নেই৷ সকালে অফিসে যাবার জন্য বের হতেই বৃষ্টি৷ রিক্সায় ভিজতে ভিজতে বাস স্ট্যান্ডে পৌছাই৷ বাসে উঠে বসতেই বৃষ্টি নেই৷

তখনকার অফিসে যেতে দুইবার বাস পাল্টাতে হতো৷ মজার ব্যাপার হলো, সেইদিন যতবার এক বাস থেকে নেমে আরেক বাসের জন্য দাঁড়িয়েছি, সাথে সাথে বৃষ্টি নেমেছে৷ বাসে ওঠার সাথে সাথে বৃষ্টি নেই৷ মজা লেগেছিলো তখন, যখন বাসে বসে থাকার গোটা সময়টায় কোন বৃষ্টি নেই, কিন্তু বাস থেকে নামার জন্য এক পা বাইরে দেয়ার সাথে সাথে বৃষ্টি নামলো৷

তোমার সাথে কথা বলে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম৷ রাতে ঘুমের মধ্যে বৃষ্টি হয়েছে কিনা বুঝিনি৷ ঘুম থেকে উঠে দেখি ঝলমলে রোদ৷ মনটা ভালো হয়ে গেলো৷ ভাবলাম আজ না ভিজেই অফিস পৌছতে পারব৷

নাস্তা খেয়ে তৈরি হয়ে নিতেই দেখি ঝুম বৃষ্টি৷ এমন উথাল পাতাল বৃষ্টি বহুদিন দেখিনি৷ কুকুর বিড়াল, হাতি ঘোড়া, বাঘ ভালুক সব রকম বৃষ্টিরা একসাথে নেমেছে৷ আমি রেইন কোটটা গায়ে চাপিয়ে বেরিয়ে পড়ি৷

গলি পেড়িয়ে রাস্তায় আসতেই বেশ অবাক হয়ে যাই৷ কি অবাক! একরাতের মধ্যে রাস্তা এমন শান্ত পুকুরের মত মসৃন হলো কি করে? পরক্ষনেই ঘোর ভাঙে৷ রাস্তা কই? রাস্তাতো ডুবে আছে হাঁটু পানিতে৷ সেটা এখন আসলেই শান্ত পুকুর, বা খাল৷

মানুষ জন কম৷ রিক্সা নেই একটাও৷ আমি পানির মধ্যে আস্তে পা ফেলি৷ ঝপ করে শব্দ হয়৷ পানি গোড়ালি ছাড়িয়ে হাঁটুর কাছে উঠে আসতে চায়৷ আমি হাঁটু পানি পেরিয়ে হাঁটতে থাকি৷ অন্যরকম একটা অনুভুতি জাগে মনে৷ মাথার ভেতরে শব্দেরা দানা বাঁধে৷ একটা গান মনে পড়ে৷ কে যেন দূরাগত গলায় মাথার ভীতরে গাইতে থাকে-

আসমান ভাইঙ্গা জোৎস্না পড়ে
আমার ঘরে জোৎস্না কই
আমার ঘরে এক হাঁটু জল
পানিতে থৈ থৈ!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28816104 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28816104 2008-07-02 16:15:14
কাঁচের মানুষ [গল্প]
আমার চারিদিকে নিকষ কালো অন্ধকার৷ তারাদের আলো ছাড়া আর কোন আলো নেই৷ ছাদের উপর আমি একা৷ এরকম একটা নিস্তব্ধ রাতে একলা দাঁড়িয়ে জীবনের অনিশ্চয়তার কথা বড় বেশি মনে পড়ে৷ মানুষের জীবনটা বড় বিচিত্র, বড় বেশি অনিশ্চয়তায় ভরা!

আজ খুব অদ্ভুৎ একটা কাহিনী শুনেছি প্রিন্সেস৷ তোমাকে বলি শোন৷

মৌচাক মার্কেটের পিছনে আনারকলি নামে আরেকটা মার্কেট আছে জানতো? নাও জানতে পারো৷ মৌচাক বেশ বিখ্যাত হলেও আনারকলি ততটা বিখ্যাত না৷ যাই হোক, আনারকলির পিছনে সিঁড়ির নীচে একটা চায়ের দোকান৷ আসলে তার আশেপাশে আরো অনেকগুলা খাবারের দোকান আছে৷ কিন্তু এই দোকানের চা আমার বেশ ভালো লাগে কারন এটার চা হয় আগুন গরম৷ মুখে দিলে জিভ পুড়ে যায়৷ আমার জীবনটা পানসে বলেই বোধহয় আগুন গরম চা আমি খুব পছন্দ করি৷ জিভ পুড়িয়ে সে চা যখন নীচে নেমে যায়, তখন একটা উত্তেজনা বোধ করি৷ মনে হয়, যত যাই হোক, বেঁচে থাকাটা একেবারে খারাপ না৷
সন্ধ্যার পর জায়গাটা বেশ সরগরম হয়ে ওঠে৷ চায়ের দোকানটার সামনে বেশ ভীর জমে যায়৷ সামনে ভীর জমে কারন দোকানটায় বসার জায়গা নেই৷ খেতে হয় দোকানের সামনে দিয়ে ফাঁকা জায়গাটায় দাঁড়িয়ে৷ সন্ধ্যার পর জায়গাটা যখন সরগরম হয়ে ওঠে, তখন বেশ ভালো লাগে৷ জীবনের একটা উত্তাপ টের পাওয়া যায়৷ আমি মাঝে মাঝেই সন্ধ্যার পর সেখানে যাই চা খেতে৷
তুমি বোধহয় রাস্তায় দাঁড়িয়ে কখনো চা খাওনি প্রিন্সেস৷ কিভাবে খাবে, তোমার বন্দী জীবনই যে তোমার বেশি ভালো লাগে! তবু, রাস্তায় দাঁড়িয়ে চায়ে চুমুক দিয়ে তোমার কথা ভাবতে বড় বেশি ভালো লাগে৷ মনে হয় তুমি বুঝি পাশেই আছো৷

আজকেও সন্ধ্যার পর আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম আনারকলির পিছনে চায়ের দোকানটার সামনে৷ চারদিকে রঙ বেরঙের মানুষের মেলা বসেছে৷ ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মানুষগুলো চা, পিঁয়াজু, বেগুনি খাচ্ছে৷ আমি একহাতে চা আরেক হাতে একটা সিগারেট নিয়ে ভীরের মানুষগুলো দেখছিলাম৷ হঠাৎ কোথা থেকে এক বৃদ্ধ এসে আমার সামনে দাঁড়ালেন৷ খুব মৃদু গলায় ধীরে ধীরে বললেন,
বাবা, আমি খুব দরিদ্র একজন মানুষ, আমার কয়েকটা ওষুধ কিনতে হবে৷ আমাকে একটু সাহায্য করবেন?

আমি বৃদ্ধের দিকে তাকালাম৷ তাকে দেখে ভিক্ষুক বলে মনে হয় না৷ টকটকে ফর্সা গায়ের রং, মুখ ভর্তি সাদা দাঁড়ি৷ চেহারায় সম্ভ্রমের ছাঁপ স্পষ্ট৷ এক হাতে একটা লাঠিতে ভর দিয়ে খুব ক্লান্ত ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন৷

তুমিতো জানো প্রিন্সেস, আমি ভিক্ষা দেই না, বা সাহায্য করিনা৷ চারিদিকে প্রতিনিয়ত এত এত ভিক্ষুক দেখলে কারো ভালো লাগে না৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভিক্ষুক বা সাহায্য প্রার্থিকে আমি রূঢ়ভাবে প্রত্যাখান করি৷ কিন্তু এই বৃদ্ধকে দেখে আমার কেমন যেন লাগলো৷ আমার নিজের বাবার কথা মনে পড়ে গেলো৷

আমার বাবার বয়সও এই বৃদ্ধের মতই হবে৷ তারও মুখভর্তি এরকম সাদা দাঁড়ি৷ আমি কল্পনা করলাম একটা লাঠি হাতে আমার বাবা ভিক্ষা করতে বের হয়েছেন৷ কাঁপা কাঁপা পায়ে রাস্তায় হাঁটছেন৷ আমার বুকটা হাহাকারে ভরে গেলো৷

আমি পকেট থেক বিশটা টাকা বের করে বৃদ্ধের হাতে দিলাম৷ বৃদ্ধ টাকাটা হাতে নিয়ে সাধারন ভিক্ষুকদের মত দোয়া দরুদ কিছু পড়লেন না৷ আমি যেখানটায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, তার পাশেই একটা দোকানের চাতাল রাস্তা থেকে আধা ফুট উঁচু করা৷ খুব দুর্বল ভাবে তিনি সেই চাতালের উপর বসলেন৷

বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে আমি আবার বাবার কথা ভাবলাম৷ আমি কোন মহৎ মানুষ না৷ মানুষের দুঃখ কষ্ট আমাকে খুব পোড়ায় এরকম দাবি আমি করতে পারিনা৷ কিন্তু এই বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে আমার কেমন যেন কষ্ট হতে লাগলো৷ এই কষ্টের উদ্ভব কোথা থেকে হয় আমি জানিনা৷ কিন্তু এই বৃদ্ধের কত টাকার ওষুধ লাগবে? যে কয়টাকারই লাগুক আমি সহজেই সেটা কিনে দিতে পারি৷ আর সেই কয় টাকার জন্য এই বয়সে তাকে রাস্তায় সাহায্য চেয়ে বেড়াতে হচ্ছে৷ আমার ভীতরটা আবার হাহাকারে ভরে গেলো৷
আমি তার দিকে ঝুঁকে বললাম,
আপনার সাথে কি প্রেসক্রিপসন আছে? থাকলে আমাকে দেন, আমি আপনার ওষুধ কিনে দিচ্ছি৷

বৃদ্ধ অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালেন৷ বিড়বিড় করে কি যেন বললেন ভালো বুঝলাম না৷ আমি আবার বললাম,
প্রেসক্রিপশনটা আমাকে দেন আমি ওষুধ কিনে দিচ্ছি৷

তিনি কাঁপা কাঁপা হাতে প্রেসক্রিপশন বের করে আমার হাতে দিলেন৷ তার কাছে থেকে বুঝে নিলাম কি কি ওষুধ লাগবে, ক্য়টা লাগবে৷ তারপর বসার জায়গা আছে এরকম একটা খাবারের দোকানে নিয়ে তাকে বসালাম৷ বললাম,
খাবেন কিছু?
উনি মাথা নেড়ে অসম্মতি জানালেন৷ আমি একটা চা তাকে দিতে বলে বের হয়ে গেলাম৷

ওষুধ কিনে ফিরে এসে দেখি উনি সেভাবেই বসে আছেন৷ তাকে যে চা দেয়া হয়েছে সেটা তিনি স্পর্ষও করেননি৷ চা ঠান্ডা হয়ে পড়ে আছে৷
আমি ওষুধগুলো ওনার হাতে দিলাম৷ উনি ধীরে ধীরে প্রশ্ন করলেন,
আপনি কি করেন বাবা?
আমি জানালাম৷
আপনার বাবা বেঁচে আছেন? বৃদ্ধ আবার প্রশ্ন করলেন৷
আমি বৃদ্ধের সামনে সামনে বসতে বসতে বললাম, হ্যাঁ৷
বৃদ্ধ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিড়বিড় করলেন,
আজ যদি আমার ছেলেরা থাকতো তাহলে আপনার মতই হতো৷
আমি ব্যাপারটা ভালো বুঝলাম না৷ একটু অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম,
কি হয়েছে আপনার ছেলেদের?
নেই নেই, একজনও বেঁচে নেই৷ বৃদ্ধ হাহাকারের মত করে বললেন৷

আমি তাকিয়ে রইলাম তার দিকে৷ বৃদ্ধ অনেক্ষন চুপ করে বসে রইলেন৷ তার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছিলো৷ এরপর একটা কাহিনী শুনলাম তার কাছ থেকে৷ বড় অদ্ভুৎ, বড় বিচিত্র সে কাহিনী৷ তোমাকে বলি প্রিন্সেস৷

আমি সরকারী চাকরি করতাম৷ বৃদ্ধ বলতে শুরু করলেন৷ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ছিলাম৷ তিন ছেলে, এক মেয়ে ছিলো আমার৷ মেয়েটা বড়, ক্লাস নাইনে পড়তো৷ এরপর তিন ছেলে৷ সবাই পিঠাপিঠি ছিলো৷ সবাই পড়াশুনায় ভালো ছিলো৷ মোটামুটি সুখের সংসার ছিলো আমাদের৷

সেবার একটা কাজে চট্টগ্রাম গেলাম৷ কাজ শেষ হওয়ার পর ভাবলাম, এসেছি যখন হযরত বায়েজিদ বোস্তামী আর বারো আউলিয়ার মাজার দেখে যাই৷

মাজারে পৌছালাম বেলা বারোটার দিকে৷ অনেক লোক মাজারে আসছে, যাচ্ছে৷ মাজারে ঢোকার মুখে একটা বড় দান বাক্স৷ একটা বড় বড় চুলের নোংরা লোক ধ্যানের ভঙ্গিতে বাক্সটার পাশে বসা৷ আমি বাক্সটার কাছাকাছি পৌছতেই সে বলল,
কিছু দিয়ে যা এই বাক্সে৷

লোকটার দিকে তাকিয়ে আমার মনে কোন শ্রদ্ধ্বাভাব এলো না৷ গায়ে নোংরা একটা দরবেশী আলখেল্লা, মাথায় বড় বড় জটপাকানো চুল৷ গোটা লোকটা যেন নোংরামির একটা প্রতিমূর্তি৷ আমি বিরক্ত হয়ে লোকটার দিকে থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলাম৷
লোকটা হুংকার দিয়ে আমাকে আবার বলল,
কিছু দান করে যা এই বাক্সে, নাহলে তোর সর্বনাশ হবে৷
আমি দাঁড়িয়ে পড়লাম৷ এই সব লোকগুলার ভন্ডামী দেখলে আমার সব সময়ই রাগ হয়৷ তখনও হলো৷ সে আমাকে বলছে তুই করে, তাই আমিও বললাম তুই করে,
তোর বাক্সে দান না করলে আমার সর্বনাশ হবে কেন?
লোকটি আমার দিকে চোখ ছোট করে তাকিয়ে রইলো৷ একটুপর আবার বলল,
অবিশ্বাস! অবিশ্বাসই তোকে খাবে৷ কিছু দিয়ে যা এই বাক্সে, নাহলে তুই শেষ হয়ে যাবি৷
আমার প্রচন্ড হাসি পেলো৷ হেসে মনে মনে বললাম, শকুনের বদদোয়ায় কি আর গরু মরেরে রে বেটা! তাহলেতো পৃথিবীতে গরুর আকাল পরে যেত৷
লোকটাকে বললাম,
দিব না তোর বাক্সে কিছু৷ জাহান্নামে যা তুই৷
সর্বনাশ হবে তোর! লোকটি হুংকার দিয়ে বলল৷ তোর বংশ ধ্বংস হয়ে যাবে, নির্বংশ হবি তুই!
আমি মুচকি হেসে বললাম,
যাহ!

বৃদ্ধ থামলেন৷ মুখ নীচু করে কিছুক্ষন দম নিতে লাগলেন৷ যদিও আমার খুব কৌতুহল হচ্ছিলো, তবু বললাম,
আপনার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? কষ্ট হলে থাক, বলতে হবে না৷
কিছুদিন পরের কথা, বৃদ্ধ আবার বলতে শুরু করলেন৷ মাজারের সেই ভন্ড লোকটার কথা আমি ভুলে গেছি৷ দিনগুলো আগের মতই সুখে কেঁটে যাচ্ছিলো৷ কোথাও কোন গড়মিল ছিলো না৷ একদিন সকালে মাত্র অফিসে গিয়ে পৌছেছি, হঠাৎ হাসপাতাল থেকে ফোন করে বলল আমার বড় ছেলে স্কুলে যাবার সময় রাস্তায় গাড়ি চাপা পড়েছে৷ আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো৷ পাগলের মত দৌড়ে হাসপাতালে গেলাম৷ গিয়ে যা দেখলাম সে না দেখাই ভালো ছিলো৷ গাড়িটা ছেলেটার মাথার উপর দিয়ে চলে গেছে, ছেলেটা মারা গেছে সাথে সাথেই৷ থেতলানো মাথা, ঘিলু সব বের হয়ে গেছে! ওহ খোদা! আমি পাগলের মত হয়ে গেলাম৷ জানেনতো, পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বোঝা পিতার কাঁধে পুত্রের লাশ৷ সেই পুত্রের মৃত্যু যদি এভাবে হয় তখন?

ছেলেটাকে কবর দিয়ে বাসায় ফিরলাম৷ আমার স্ত্রী অপ্রকৃতিস্থীতের মত হয়ে গেলেন৷ রাত দিন ছেলের জন্য বিলাপ করেন৷ আমি তাকে স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করি৷ কিন্তু কি স্বান্তনা দিব, যখন নিজেই স্বান্তনা পাই না? তখনো মাজারের সেই লোকটার কথা আমার মনে আসেনি৷ কিন্তু প্রথম পুত্রের মৃত্যু শোক কাঁটিয়ে উঠবার আগেই ছয়মাসের মাথায় আমার ছোট ছেলে অসুখে পড়লো৷ মাত্র দুই দিনের জ্বরে সে আমাদের ছেড়ে চলে গেলো৷

বৃদ্ধ চোখ থেকে তার ভারী চশমা খুলে চোখ মুছলেন৷ আমি স্তব্ধ বিষ্ময়ে তাকিয়ে রইলাম৷ একটুপর তিনি আবার বলতে শুরু করলেন,
দ্বিতীয় পুত্রের মৃত্যুর পর আমি চাকরী ছেড়ে দিলাম৷ চট্টগ্রামে মাজারে গিয়ে সেই লোকটার খোঁজ করলাম৷ সেখানে তাকে খুঁজে পেলাম না৷ আমি মাজার থেকে মাজারে তাকে খুঁজে বেড়াতে লাগলাম৷ অবশেষে বাগেরহাটে খান জাহান আলীর মাজারে তাকে খুঁজে পেলাম৷ সে আমাকে চিনতে পারেনি, কিন্তু আমি তাকে চিনেছি সাথে সাথেই৷ সে একই ভাবে বাক্স নিয়ে মাজারের পাশে বসে৷

তার অভিশাপের সাথে আমার ছেলেদের মৃত্যুর যোগ আছে কিনা আমি জানি না৷ কিন্তু পুত্রশোক বড় শোক৷ আমি তার কাছে গিয়েছিলাম মাফ চাইবার জন্য৷ কিন্তু তাকে দেখে আমার মনে আবার সেই অবিশ্বাস ফিরে এলো৷ আমার মনের সেই অবস্থায়ও আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারলাম না এরকম একটা মানুষের অভিশাপের জন্যই আমার জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে৷ তবু আমি তার পা জড়িয়ে ধরে কেঁদে বললাম,
বাবা, আমাকে ক্ষমা করো৷
সে আমাকে লাথি মেরে ফেলে দিলো৷ কিন্তু আমি তার পাশে পাশে থাকতে শুরু করলাম৷ কিছুদিন যেতেই আমি বুঝতে পারলাম সে একজন সত্যিকার ভন্ড৷ টাকা পয়সা ছাড়া এই ভন্ডটা আর কিছু বোঝেনা৷ সেই টাকা দিয়ে সে নেশা করে৷ এরকম একজন ভন্ডের অভিশাপে কারো কিছু হতে পারে না৷ যদি হতো, তাহলে পৃথিবী বিরান হয়ে যেত৷ তাহলে কিসের অভিশাপ আমার উপর? কেন আমার পরিবার বিরান হয়ে যাচ্ছে? আমি জানি না, জানি না৷ আমি সারারাত দরগায় বসে কাঁদতাম৷ আল্লার কাছে আকুলভাবে কেঁদে বলতাম আমাকে অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে৷ এ মাজার থেকে ও মাজারে ঘুরে বেড়াতে শুরু করলাম৷ প্রতিটা মাজারেই আল্লার কাছে কান্নাকাঁটি করতাম৷ কিন্তু মন যেন কিছুতেই শান্ত হতো না৷

আমি চাকরী ছেড়ে দিবার পর আমার স্ত্রী আর দুই ছেলে মেয়েকে রেখে এসেছিলাম আমার বড় ভাইয়ের পরিবারে৷ বড় ভাইকে আমি মাজারের ঘটনা খুলে বলেছিলাম৷ আমি যখন মাজারে মাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছি, আমার বড় ভাই তখন তাড়াহুড়ো করে আমার মেয়ের বিয়ে দেন৷ আমার মাজারে মাজারে ঘোড়াঘুড়ি শুরু করার পর প্রায় এক বছর চলে গেছে৷ একদিন মাজারে বসেই খবর পেলাম আমার তৃতীয় ছেলে পানিতে ডুবে মারা গেছে৷ আমি আল্লার কাছে কান্নাকাটি করা বন্ধ করে ফিরে এলাম৷
বৃদ্ধ থামলেন৷ এতক্ষন আমি অবিশাস্য এক কাহিনী শুনছিলাম৷ এ যেন অন্য ভুবনের কথা, পৃথিবীতে এরকম হয় আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না৷ বৃদ্ধ থামতেই প্রায় চীৎকার করে বললাম,
আর আপনার মেয়ে?
বৃদ্ধ শূন্য চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
পরের বছর প্রথম বাচ্চার জন্ম দিতে গিয়ে সে মারা যায়৷

আমি বৃদ্ধকে দোকানে বসিয়ে রেখে বের হয়ে এলাম৷ আমার আর কিইবা করার ছিলো প্রিন্সেস? সৃষ্টির রহস্য বড় বিচিত্র৷ সেই রহস্যের কতটুকুই বা আমি জানি?


© রোডায়া
২৮ জুন ২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28814452 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28814452 2008-06-28 01:59:55
মুখোমুখি! তোমার সৌন্দর্য্য আমাকে বিমোহিত করে দেয়
আমি কথা বলতে ভুলে যাই৷

আনন্দিত, পরিতৃপ্ত, সুখী মানুষেরা
কলরবে মেতে ওঠে, হাসির রোল তোলে
তুমিও তাদের হাসিতে হাসি মেলাও৷

আমি নিনিমেষ চেয়ে থাকি৷৷

আমাদের চোখাচোখি হয় কি হয় না
আমাদের নীরবতা ভাঙে কি ভাঙে না
আমাদের ভালোলাগা জাগে কি জাগে না
আমাদের প্রেম ভাসে কি ভাসে না
আমাদের পথ চলা শুরু হয় কি হয় না
আমাদের কথা বলা হয় কি হয় না
আমাদের অধিকার আসে কি আসে না
আমাদের অভিমান জেগে ওঠে কি ওঠে না
বিধাতা জানে, জানে মহাকাল
শুধু আমি জানি না৷৷

তুমি কি জানো?

-----------
© রোডায়া
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28811297 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28811297 2008-06-19 13:26:10
আগুন পৃথিবী [গল্প] - শেষ পর্ব পর্ব ১
পর্ব 2


এবারে বাসটায় একটা গুন্জন পাকিয়ে উঠলো৷ অনেকেই মেয়েটিকে বোঝানোর চেষ্টা করতে লাগলো৷ মেয়েটি অবশ্য শীতল মুখে তর্ক করে যাচ্ছিলো৷ শফিক তিক্ত মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকলো৷ একটু আগের রোমান্টিক কল্পনার জন্য এখন প্রচন্ড লজ্জা লাগতে লাগলো৷ শালার পৃথিবী!

বাংলাদেশে একটি মেয়ে বড় হয় অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে, অনেক সামাজিক অনুশাসনের মধ্য দিয়ে৷ এই সব অনুশাসনের মধ্যে থেকে থেকে অনেক মেয়েরই পুরুষদের প্রতি মনোভাব এই মেয়েটির মত হয়ে ওঠে৷ সে জন্য তাদেরকে দোষ দেয়া যায় না৷ কিন্তু যুক্তির বিচারে দোষ দেয়া না গেলেও শফিকের রাগ কমছিলো না৷ রাগে তার মাথা জ্বলে যাচ্ছিলো৷

শাহবাগের কাছাকাছি আসতেই একটা উত্তেজনার অস্তিত্ব টের পাওয়া গেলো৷ একটা আধলা ইট ছুটে এসে আছড়ে পড়ে বাসের সামনের উইন্ডশিল্ডের উপর৷ যে জায়গাটায় ইটটা আছড়ে পড়ে, সে জায়গাটাকে কেন্দ্র করে নিখুঁত একটা জালের সৃষ্টি হয় উইন্ডশিল্ডের উপর৷ বাসটা দুম করে দাঁড়িয়ে পড়ে৷ আরো কয়েকটা ইট চারদিক থেকে ছুটে এসে আঘাত করে বাসটার গায়ে৷ বাসের ভীতর হুড়োহুড়ি পরে যায়, সবাই যে যার মত দৌড়ে বের হয়ে যাবার চেষ্টা করে বাস থেকে৷ কয়েকজন জানালা গলে লাফ দিয়ে পরে৷ বাকিরা জটলা পাকায় দরজায়, প্রানপন চেষ্টা করতে থাকে বাস থেকে বের হয়ে যাবার৷

অনেক কষ্টে বাস থেকে বের হয় শফিক৷ রাস্তায় একদল ছেলেকে দেখা যায় লাঠিসোটা হাতে গাড়ি ভাঙতে ব্যস্ত৷ ঘটনা কি হয়েছে ঠিক বোঝা যায় না৷ ইউনিভার্সিটিতে কোন গন্ডগোল হয়েছে নাকি? কোন নেত্রী কি গণতান্ত্রিক হরতালের ডাক দিয়েছেন? সরকারের কোন কাজ নিয়ে তারা কি অসন্তুষ্ট? নাকি আল্লা মালুম কি হয়েছে! শফিক খুব একটা কৌতুহল বোধ করে না৷ এই দেশে প্রিয় দল ফুটবল খেলায় হেরে গেলেও রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর হয়৷

একদল ছেলে দৌড়ে এসে তাদের বাসটায় আগুন দিতে ব্যস্ত৷ একটু পরেই একটু আগে যে বাসটায় তারা এসেছিলো, সেটা দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে৷ 'সেই মেয়েটা গেলো কই? সে কি নামতে পেড়েছিলো ঠিক মত?' ভাবে শফিক৷ ভাবতেই মনের তিক্ত ভাবটা আবার জেগে ওঠে৷ 'ধুত্তোর যাগগে যেখানে খুশি, আমার কি?'

শফিক আর দাঁড়ায় না সেখানে৷ একপাশ ধরে রাস্তা পার হয়ে বারডেমের পাশ দিয়ে শিশু পার্ক ডাইনে রেখে রমনা পার্কের দিকে হাঁটতে থাকে সে৷ গরমে টপ টপ করে ঘাম ঝরতে থাকে৷ ধুত্তোর ভাল্লাগে না আর এই জীবন! প্রতিদিন সেই একঘেয়ে কাজ করে যাওয়া৷ সকালে দীর্ঘক্ষন বাসের লাইনে দাঁড়িয়ে অফিসে যাওয়া, অফিস শেষ করে আবার দীর্ঘ লাইনের পর বাস ধরে বাসায় ফেরা৷ সেই একই রুটিন৷ বড় বেশি একঘেয়ে জীবন৷ হাঁটতে হাঁটতে শফিক অনুভব করে, বেঁচে থাকাটা বড় বেশি অর্থহীন৷ কোন অর্থ নেই এই বেঁচে থাকার৷ হয়তো ছোট বা বড় সাফল্যের পিছনে ইঁদুর দৌড়, যৌনতা, বিয়ে, সংসার, বাচ্চা কাচ্চা ক্যাওভ্যাও, সব বড় বেশি একই রকম ছকে বাঁধা৷ বড় বেশি অর্থহীন!
রমনা পার্কের গেটে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরায় সে৷ রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকে৷ সব গাড়ি অন্য পথ ধরে যেতে শুরু করায় রাস্তা ফাঁকা৷ উত্তপ্ত রোদে ফাঁকা পিচঢালা পথ, ঢাকা শহরের বুকে এরকম খুব কম দেখা যায়৷ ধোঁয়া ছেড়ে সেই অন্যরকম দৃশ্যটা দেখতে থাকে সে৷

পার্কের ভীতরে লেকের পাড়ে একটা বেন্চে বসলো শফিক৷ শাহবাগের উত্তেজনার চিহ্নমাত্র এখানে নেই৷ চারদিক শান্ত, নীরব৷ বসে বসে আবার ঝিমুনি আসে তার৷ হঠাৎ খিলখিল হাসির শব্দে চটকা ভেঙে পাশে তাকায়৷
পাশের বেন্চটায় একজোড়া কপোত কপোতী বসে৷ মেয়েটি হাসছে খিলখিল করে৷ তার মুখ শফিকের দিকে ফেরানো৷ মেয়েটিকে দেখে বুকের ভীতর চিনচিন একটা ব্যাথা টের পায় শফিক৷ এত সুন্দর? এইসব মেয়েরা থাকে কোথায়?

মেয়েটি বোধহয় তার কপোতকে কিছু বলে, সে মুখ ঘুরিয়ে শফিকের দিকে তাকায়৷ শফিকের মুখটা আবার তিক্ততায় ভরে যায়৷ আহ, কান্ড দেখো শালার! এই মেয়ে এই খাটাশটার সাথে কি করছে? এই ছেলের আছে কি? চেহারা দেখলে ডারউইনের থিওড়ি সত্যি বলে মনে হয়৷ তা সেটা নাহয় বাদ দেয়া গেলো, কিন্তু রুচির কি ছিড়ি, দেখলেই মনে হয় মালোশিয়ায় হাড়ি ঠেলে৷ অথচ মেয়েটাকে দেখো, দেখলে মনে হয় স্বর্গের অপ্সরা৷ জামা কাপড় বা মুখ দেখে তার রুচির সাথে এই ছেলের রুচিরতো কোন মিল পাওয়া যায় না, তবে সে এই ছেলের সাথে ভেড়ে কি করে? শালা দুনিয়াটা বড়ই গোলমেলে জায়গা!

তিক্ত মুখে তাকিয়ে থাকে শফিক৷ কেমন পাগল পাগল লাগে৷ অস্থীর লাগতে থাকে ভীতরটায়৷ কাউকে খুন করতে ইচ্ছে করে খুব!

মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সামনে তাকায় সে৷ সামনে লেকের পাড়টা ঢালু হয়ে নেমে গেছে, সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ ঘাসের মধ্যে একটা ছুরি পরে থাকতে দেখে৷ চমকে ওঠে সে৷ লম্বা, চকচকে, ধারালো একটা ছুরি, যেন তার দিকেই তাকিয়ে আছে৷ শফিকের দু'চোখ চকচক করতে থাকে উত্তেজনায়৷

(সমাপ্ত)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28808855 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28808855 2008-06-12 15:09:34
মিছে স্বপ্ন! কখনো লয়, কখনো সৃষ্টি
কখনো আলো, কখনো আঁধার
কখনো নিশ্চুপ চারিধার!
একা ঘরে মিছে স্বপ্নের জাল বোনা!
দিতে পারো বেঁচে থাকার একটু উম্মাদনা?

(এটা আমার লেখা না, একটু আগে একজন আমাকে এসএমএস করে পাঠিয়েছে৷ এটা তার লেখা৷ আমার এত ভালো লেগে গেলো যে এখানে তুলে দিলাম৷)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28808205 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28808205 2008-06-10 17:56:47
আগুন পৃথিবী [গল্প] - পর্ব ২ হঠাৎ করে এই বাসটাতেই উঠে পড়ার সিদ্ধান্ত নিলো সে৷ দরজার কাছে গিয়ে ছোটখাটো একটা মারামারি করে পাঁদানিতে পা রাখতেই অন্যরা পিছন থেকে ঠেলে তাকে উপরে তুলে দিলো৷
গাঁদাগাঁদি ভীর৷ স্বাভাবিকভাবে পা রাখার জায়গা নেই৷ ঘামের গন্ধে ভারি হয়ে আছে বাতাস৷
মাথার উপরে হাতল ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শফিক আবিষ্কার করলো তার ঠিক সামনে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ ছেড়ে দেয়া চুল পিঠ পর্যন্ত্য ঝুলে আছে৷ পরনে একটা আকাশী নীল রঙের সালোয়ার কামিজ৷ মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে শফিকের দিকে পিছন ফিরে৷ তার মুখটা কিভাবে দেখা যায় চিন্তা করছিলো শফিক৷ বেশিক্ষন ভাবতে হলো না, অন্য একজন মেয়েটিকে ঠেলে আরো ভীতরে যাওয়ার চেষ্টা করায় মেয়েটি মুখ ঘুরালো, আর সেই ফাঁকে শফিকের সাথে তার চোখাচোখি হয়ে গেলো৷
'বাহ, বেশতো!' ভাবলো শফিক৷ 'সুন্দর একটা মেয়ে৷ কি সুন্দর কোমল চেহারা! টানা টানা চোখ দু'টায় বোধহয় কাজল দিয়েছে৷ কপালে ছোট্ট একটা কালো টিপ৷ এরকম একটা মুখ দেখলেই মনটা ভালো হয়ে যায়৷ এই মেয়েটি আমার বউ হলে কেমন হয়?'
মুখ টিপে হাসলো হাসলো সে৷ এই এক সমস্যা, কোন মেয়েকে পছন্দ হলেই খালি মনে হয়, 'এই মেয়েটি আমার বউ হলে কেমন হয়?'
মেয়েটি মুখ ফিরিয়ে আবার শফিকের দিকে পিছন ফিরেছে৷ সে আবার তাকাবে এই আশায় তার দিকে তাকিয়ে থাকলো শফিক, কিন্তু মেয়েটির মধ্যে তাকানোর কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছে না৷ এদিকে বাসটা চলতে শুরু করেই জ্যামে পড়েছে৷ রাইফেলস স্কয়ার পার হতেই বিশাল জ্যাম৷ ইহজনমে এই জ্যাম ছাড়বে বলে মনে হচ্ছে না৷ গত দশ মিনিটে বাসটা দশ পা এগিয়েছে৷ দূর! এর চেয়ে হেঁটে গেলেই ভালো হতো৷
আহ, গরমে খালি ঘুম পায়৷ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঝিমুনি ধরে গেলো তার৷ দু'হাতে বাসের হাতল ধরে ঢুলতে লাগলো সে৷ ঝিমুনির মধ্যে চারপাশের মানুষের কথা কানে আসছিলো৷ নানা বিষয়ে কথা বলছে সবাই৷ এই দেশের মানুষ সব সময় দেশ উদ্ধারে ব্যস্ত থাকে৷ কেউ ক্রিকেট মাঠে দুনিয়া কাঁপিয়ে দেশ উদ্ধার করে ফেলে, কেউ রাজনীতি নিয়ে প্যাঁচাল পাড়তে পাড়তে দেশ উদ্ধার করে৷ আসলে দেখা যায় কাজের বেলায় এই মানুষগুলা নিজেদের কাজই ঠিকমতো করে না৷ আজিব দুনিয়া!

বাস থেকে নেমে বসুন্ধরা সিটিতে ঢুকলো সে৷ এস্কালেটরে দাঁড়িয়ে উপরে উঠতে গিয়ে সামনের মেয়েটির দিকে চোখ পড়ে গেলো তার৷ মেয়েটি মুখটা একপাশে ঘুরিয়ে রাখায় সে শুধু পাশটা দেখতে পাচ্ছে৷ যেটুকু দেখলো তাতেই মেয়েটিকে ভালো লেগে গেলো তার৷ 'বাহ, কি সুন্দর একটা মেয়ে!' ভাবলো শফিক৷
এস্কালেটর থেকে নেমে মেয়েটি গেলো বাম দিকে, শফিক গেলো ডান দিকে৷ ডান দিকে ঘুরে গিয়ে পরের এস্কালেটর ধরবে সে৷ মেয়েটিও যদি পরের এস্কালেটর ধরার জন্য গিয়ে থাকে, তাহলে দু'জনের মুখোমুখি দেখা হবে৷ এজন্যই সে গেলো মেয়েটির উল্টা দিকে৷
ঘটলোও তাই৷ এস্কালেটরে ওঠার আগ মূহুর্তে দু'জনের চোখাচোখি হয়ে গেলো৷ এবার তাকে সামনে থেকে দেখতে পেলো শফিক৷ সেই ভালোলাগাটা আবার জেগে উঠলো মনের মধ্যে৷ হঠাৎ তার মেয়েটিকে চেনা চেনা মনে হলো৷ কোথায় দেখেছি? ভ্রু কুঁচকে ভাবতে লাগলো সে৷
মনে করতে পারলো না৷ মেয়েটি তার এক সিঁড়ি উপরে দাঁড়িয়ে আছে৷ এর মধ্যে মেয়েটি বার দুয়েক মুখ ফিরিয়ে শফিককে দেখেছে৷ শফিক এক সিঁড়ি উপরে উঠে মেয়েটির পাশে দাঁড়িয়ে গলাটা পরিষ্কার করে নিয়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলল, কিছু মনে করবেন না, আপনাকে খুব চেনা চেনা মনে হচ্ছে৷
মেয়েটি শফিকের দিকে তাকালো৷ একটু হেসে বলল, হ্যাঁ আমারও তাই মনে হচ্ছে৷ সেদিন ধানমন্ডিতে বাসে আপনার সাথে দেখা হয়েছিলো, তাই না?
এতক্ষনে শফিক মেয়েটিকে চিনতে পারলো৷ উজ্জ্বল হয়ে উঠে বলল, ঠিক বলেছেন৷ কি আশ্চর্য, আমি এতক্ষন ধরে মনেই করতে পারছিলাম না! আপনি সেদিন আকাশী নীল রঙের একটা সালোয়ার কামিজ পড়েছিলেন, তাই না?
মেয়েটি হাসতে হাসতে বলল, সেদিন কি পড়েছিলাম সেটা বলা কঠিন, আমার মনে নেই৷
শফিক হেসে বলল, আমার মনে আছে৷ আপনি সেদিন আকাশী নীল সালোয়ার কামিজ পড়েছিলেন, চোখে কাজল দিয়েছিলেন, কপালে ছিলো একটা কালো টিপ৷
বাব্বা! এতও মনে রেখেছেন? মেয়েটি মুখ টিপে হেসে বলল৷ তার দু'চোখে স্পষ্ট ভালোলাগা৷
মনে থাকবে না? শফিক হাসিমুখে বলল৷ আপনাকে খুব সুন্দর লাগছিলো৷
মেয়েটি এ কথার উত্তরে কিছু বলল না৷ মুখ নীচু করে হাসলো৷ শফিক আবার বলতে লাগলো, আপনি খুব সুন্দর, আপনাকে আজকেও খুব সুন্দর লাগছে৷ আমি শফিক, আপনি?
আমি নিলা৷ মেয়েটি মুখ তুলে হাসিমুখে বলল৷
খুব সুন্দর নাম৷ আর খুব জনপ্রিয়ও৷
জনপ্রিয় কেন? নিলা অবাক হয়ে জানতে চাইলো৷
জনপ্রিয় কারন সম্ভবত আপনার নামটা নিয়েই সবচেয়ে বেশি গান লেখা হয়েছে৷ নিলাকে নিয়ে অনেক গান আছে৷
নিলা মুখ নীচু করে হেসে ফেললো৷ মুখ তুলে বলল...

বাসটা সামান্য একটু স্পীড নিয়েছিলো৷ হঠাৎ সামনে কোথা থেকে একটা রিক্সা উদয় হওয়ায় প্রানপন ব্রেক করলো সেটা৷ ঢুলুনি থেকে চটকা মেরে উঠে পড়লো শফিক৷ হুড়মুড় করে গিয়ে পড়লো সামনে দাঁড়ানো সেই নীল জামা পড়া মেয়েটির উপর, যার নাম এতক্ষনের কল্পনায় সে দিয়েছে নিলা৷
শফিক খুব বিব্রত হয়ে পড়েছিলো৷ তার সাথে ধাক্কায় মেয়েটির প্রায় পরে যাবার অবস্থা হয়েছিলো৷ সে তাড়াতাড়ি মেয়েটির হাত কনুইয়ের কাছে চেপে ধরলো৷ মেয়েটি পতনের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে শফিকের দিকে ঘুরলো৷ শফিক বিব্রত মুখে তাড়াতাড়ি বলল, স্যরি স্যরি, আমি ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলেছিলাম৷
মেয়েটি খুব শীতল চোখে তাকিয়ে রইলো শফিকের দিকে৷ তারপর শান্ত ভাবে বলল, মেয়ে দেখলেই হামলে পড়তে ইচ্ছে করে, না? যত অসভ্যের দল!
শফিকের কান পুরাপুরি লাল হয়ে গেলো৷ মাথা ঝিমঝিম করতে লাগলো৷ লজ্জায় থরথর করে কাঁপতে শুরু করলো সে৷ কিন্তু মেয়েটিকে সে কিছু বলল না৷ পুরা ঘটনাটা অনিচ্ছাকৃত, এটা যদি মেয়েটি না বুঝে থাকে তাহলে তাকে বোঝাতে যাওয়ার কোন মানেই হয়না৷
শফিকের পাশেই দাঁড়িয়েছিলো ওর কাছাকাছি বয়সের একটা ছেলে৷ সে ছেড়ে দিলো না৷ মেয়েটির দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বলল, এর মধ্যে অসভ্যতার কি দেখলেন? বাসটা কেমন ব্রেক করেছে আপনি জানেন না? এই রকম কড়া ব্রেক করলে এরকম হতেই পারে৷ আপনার যদি সহ্য না হয় তাহলে এরকম ভীর বাসে ওঠেন কেন?
চুপ করেন আপনি! মেয়েটি ছেলেটির দিকে তাকিয়ে ধমক দিলো৷ আপনিতো সাপোর্ট দেবেনই, আপনারা সব পুরুষই এক রকম৷ মেয়ে দেখলেই আপনারা নোংরামি শুরু করেন৷ অসভ্য কোথাকার!

(চলবে...)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28807715 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28807715 2008-06-09 11:13:33
আগুন পৃথিবী [গল্প]
অফিসের এসি নষ্ট হয়েছে আজকে৷ এই পাগল করা গরমকে ঠান্ডা করার প্রচেষ্টা করতে করতে বেচারা ক্লান্ত৷ ওরা কয়েকজন বসে এক ঘরে৷ ঘরের কোন জানালা খোলার ব্যবস্থা নেই৷ এদিকে কোন ফ্যানও নেই৷ বসে বসে গরমে সিদ্ধ হচ্ছিলো শফিক৷ তিনটার সময় ওদের বস ওদেরকে সেদিনের জন্য ছুটি দিয়ে দিলেন৷

অফিসে থেকে বের হয়ে বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ালো শফিক৷ অফিস থেক বাসস্ট্যান্ড হেঁটে আসতে মিনিট তিন চারেক লাগে৷ এইটুকু পথ আসতে ঘেমে গোসল হয়ে গেলো৷ চারদিকে যেন আগুনের হলকা বয়ে যাচ্ছে৷ মাথার উপরে নিষ্ঠুরভাবে জ্বালিয়ে যাচ্ছে গ্রীষ্মের সূর্য্য৷ পৃথিবীর তাপমাত্রা নাকি বেড়ে যাচ্ছে৷ উত্তর মেরুর বরফ গলছে৷ ডুবে যাচ্ছে পৃথিবী৷ গ্রীন হাউজ ইফেক্ট৷

বাসস্ট্যান্ডে লম্বা লাইন৷ এই এক আজব দেশ৷ যেখানে যে কাজেই যাও লম্বা লাইন৷ লাইনের কোন শেষ নেই৷ এত মানুষ কোথা থেকে আসে আর কোথায় যায় আল্লা মালুম!

কাউন্টার থেকে শাহবাগের টিকেট কাটলো সে৷ আসলে সে যাবে মালিবাগ৷ কিন্তু সবসময়ই সে শাহবাগের টিকেট কাটে৷ তার ভাষায় এটা হচ্ছে চোরের উপর বাটপাড়ি৷ এই দেশের সব শালা হচ্ছে চোর৷ ধানমন্ডি থেকে মালিবাগ সরকারের বেঁধে দেয়া হিসেবে ভাড়া কখনো আট টাকার বেশি হয় না৷ কিন্তু বাসঅলারা রাখে ষোল টাকা৷ তাও এটা হচ্ছে ডিজেলের হিসেবে৷ বাস কোম্পানীগুলো একটা দুইটা বাস রাখে ডিজেল চালিত, বাকি সবগুলা হয় গ্যাস চালিত৷ ঐ একটা দুইটা ডিজেল গাড়ি দেখিয়ে হারামজাদারা ডবল ভাড়া আদায় করে৷ যাকে বলে গাছেরও খায় তলারও কুড়ায়৷ সব শালা বেজন্মা৷ এই শালাদের সাথে এর চেয়ে ভদ্র ব্যবহার করাই উচিৎ না৷ উচিৎ হলো এদের আচ্ছা করে প্যাঁদানি দিয়ে কোন ভাড়াই না দেয়া৷

এক একটা নতুন কোম্পানী নতুন বাস সার্ভিস চালু করে৷ প্রথম কয়েকদিন খুব গরমের সাথে সার্ভিস দেয়৷ সিটের বেশি একটাও লোক নেয়না৷ সিটিং সার্ভিস দেখিয়ে বেশি ভাড়া আদায় করাটা তারা হালাল করতে চায় আরকি৷ কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই যে লাউ সেই কদু৷ তখন বাসের দিকে তাকালে বাসটা দেখা যায় না৷ বাসের চারদিকে খালি মানুষ দেখা যায়৷

অবশ্য এরকমই হবার কথা৷ এর চেয়ে বেশি কিইবা আশা করা যায় এদেশে বসে৷ এদেশের মানুষ শুধু নিজের ভালো থাকাটা বোঝে, সমষ্টিগত ভালো থাকার বিষয়টা এই মানুষগুলার মস্তিষ্কে ঢোকেনি এখনও৷

টিকেট হাতে নিয়ে লাইনের পাশে দাঁড়ালো শফিক৷ পাশে দাঁড়ালো কারন লাইনে দাঁড়ানোর কোন মানেই হয়না৷ দেখতেই আসলে এগুলো লাইন৷ বাস আসলে হুটোপুটি শুরু হয়ে যাবে৷ তখন কোথায় লাইন আর কোথায় কি!

গরমে টপটপ করে ঘাম পড়ছে৷ অসহ্য গরম! মাথাটা এলোমেলো লাগছে৷

অফিসে বসে একটা কাজ করতে গিয়ে ছোট্ট একটা ভুল করে ফেলছিলো সে৷ ভুলটা কোথায় হচ্ছে ধরতে পারছিলো না৷ ফলে যে কাজটা আধা ঘন্টায় হয়ে যাওয়ার কথা সেটা করতে সারাটা সময় চলে গেছে৷ মেজাজটা খিচে আছে সেই থেকে৷

যে বাসটা এসে দাঁড়ালো সেটায় ওঠা প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার৷ ওঠা যায় অবশ্য, তবে সেটাকে বাসে ওঠা না বলে ঝোলা বলাই ভালো৷ কোনমতে দরজার ভীরটা গলিয়ে হাতটা বাড়িয়ে দরজার হ্যান্ডেলটা যদি সে থরে ফেলতে পারে, তবে দরজার বাইরে শূন্যে ঝুলতে ঝুলতে যাওয়া যায় বটে৷

শফিক তিক্ত মুখ করে বাসটা দেখলো৷ এইভাবে ঝুলে যাওয়া সম্ভব না৷ তার মানে পরের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, যদি সেটা একটু ফাঁকা থাকে৷ কোন কোন দিন কপাল ভালো থাকলে প্রথম বাসটাই মোটামুটি ফাঁকা পাওয়া যায়৷ তবে সেরকম হয় খুব কম৷ বেশিরভাগ দিনই দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অনেক্ষন৷ গোটা কয়েক বাস ছেড়ে দেয়ার পর একটায় কোনমতে ওঠা যায়৷

বিরক্তিতে ধুতু ফেললো সে৷ আহ, কি গরম! কি গরম!! মাথার চাঁদি যেন ফেঁটে যাচ্ছে৷ কাউকে খুন করতে ইচ্ছে করছে৷ হঠাৎ তার মনে পড়লো আজকের রাশিফলের কথা৷ ইদানিং মোবাইল কোম্পানীগুলো নানারকম সার্ভিস দিচ্ছে৷ এর একটা হচ্ছে ভাগ্য বলে দেয়া৷ কয়েকদিন হলো এই সার্ভিসটায় সাবস্ক্রাইব করেছে সে৷ ব্যাপারটা মজাই লাগে৷ প্রতিদিন সকালে সে একটা মেসেজ পায় দিনটা কেমন যাবে তাই নিয়ে৷

তার মনে পড়লো আজকের মেসেজে লেখা ছিলো আজকে তার মধ্যে খুনের প্রবৃত্তি জেগে উঠতে পারে, কাউকে খুন করেও ফেলতে পারে৷ মনে পড়তে একটু হাসলো সে৷ বেশ হয় আজকে কাউকে খুন করলে৷ ঐ ব্যাটা গনকের একটা ভবিষ্যতবানী তাহলে সত্যি হয়৷ বেশ রহস্যময় একটা ব্যাপার হয় তাহলে৷ পৃথিবীতে একটু রহস্য থাকা ভালো৷ রহস্য থাকলে বেঁচে থাকাটা অত পানসে হয়ে ওঠে না৷

(চলবে...)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28805758 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28805758 2008-06-03 12:02:32
আমাদের ঠিকানা [পদ্য] পেছনে ফেলেছি অনেক সময়
আমরা হারিয়েছি অনেক কিছু
হারাতে আমাদের করেনিকো কভু ভয়৷

আমরা কখনো মেতেছি জয়োল্লাশে
কখনো হয়েছি ভীত
পরাজয়, কখনো আমাদের করেছে ব্যথিত৷

দূঃখেরা বারবার আমাদের আঘাত করেছে
কষ্টেরা আমাদের নিয়ে করেছে খেলা
কখনো আমরা ভেঙে পড়তে চেয়েছি
সময়, বারবার আমাদের করেছে অবহেলা৷

আমাদের নষ্ট হয়েছে অনেক সময়
ব্যর্থতা আমাদের খেয়েছে কুরে কুরে
তবু আমরা মানিনি পরাজয়
আমরা আবার দাঁড়িয়েছি ঘুরে৷

আমাদের স্বপ্ন দেখা তবু হয়নিকো শেষ
রয়ে গেছে বুকে এখনো, আমাদের অভিমানের রেশ৷
চোখ মেলে আজো দেখি সেই চাঁদের পাহাড়
কান পেতে শুনি তার হাতছানি
পাড়ি দিতে হবে অনেক অথৈ আঁধার৷

আমাদের বহুপথ দিতে হবে পাড়ি
কিছু প্রয়োজন, কিছু দরকারি
রয়ে গেছে না বলা কথায় বুকভারী
যেতে হবে বহুদূর, দিতে হবে বহুপথ পাড়ি
আমাদের সকল সীমাবদ্ধতা ছাড়ি৷

© রোডায়া]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28804785 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28804785 2008-05-31 13:55:44
নিঃশব্দ বেদনা পাতায় পাতায় তার শিহরণ
বয়ে যায় ৷

বুঝতে কি পাও- দূর পৃথিবী
ডাক দিয়ে যায়, নিরবধি
নিরালায় ৷

শুনতে কি পাও- সন্ধ্যার সুর
যেন মহাকালের বেদনা বিধূর
বেজে যায় ৷

দেখতে কি পাও- অবাক জোছনা
কুয়াশার চাঁদরে বাড়িয়ে ডানা
ডেকে যায় ৷

শুনতে কি পাও- উদাসী দুপুর
ফিরিয়ে আনে সেই হারানো সুর
বারে বার ৷

দেখতে কি পাও- রামধনু রঙে
সাজে পৃথিবী আপন মনে
একেলা ৷

শুনতে কি পাও- পৃথিবীর গান
তারায় তারায় তার অভিমান
মিশে রয় ৷
বলা না বলা তার কত কথা
আঁধারে হারিয়ে যায় নীরবতায়
শূন্যতায় ৷৷

------------
© রোডায়া]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28802070 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28802070 2008-05-24 10:54:51
সমর্পন তোমাকে রাঙাতে যেখানে জ্বলে হাজার তারার বাতি৷
সাতটি অমরাবতী৷

তোমাকে দিলাম শেষ বিকেলের আলো
যে আলোয় আমরা দু'জন প্রথম বেসেছি ভালো
শেষ বিকেলের আলো৷

তোমাকে দিলাম সাত সাগর তেরো নদী
স্বর্ণ শিখরে বয়ে যাওয়া ঝর্ণা নিরবধি
সাত সাগর তেরো নদী৷

তোমাকে দিলাম লক্ষ রক্ত গোলাপ
বলা না বলা যত অর্থহীন প্রলাপ
লক্ষ রক্ত গোলাপ৷

তোমাকে দিলাম কৃষ্ণচূড়ার লাল আগুন
প্রজাপতির ডানায় ভেসে আসা সাতটি রঙিন ফাগুন
কৃষ্ণচূড়ার লাল আগুন৷

তোমাকে দিলাম সাতটি তারার তিমীর
এলোচুলে বয়ে যাওয়া প্রথম ভোরের সমীর
সাতটি তারার তিমীর৷

তোমাকে দিলাম আকাশের যত নীল
উদাসীন বাতাসে ভেসে যাওয়া স্বপ্ন বর্নীল
আকাশের যত নীল৷

তোমাকে দিলাম হতাশার নীল বেদনা
কষ্টের আগুনে পোড়া আমাদের চেতনা
হতাশার নীল বেদনা৷

তোমাকে দিলাম প্রথম যৌবনের গান
প্রথম প্রেমের প্রথম রং, প্রথম অভিমান
প্রথম যৌবনের গান৷

তোমাকে দিলাম প্রথম কদম ফুল
বাদল দিনের ভরা বর্ষায় উদাসী মনের ভুল
প্রথম কদম ফুল৷

তোমাকে দিলাম ঈস্রাফিলের শিঙ্গা
তোমাকে রাঙাতে আজ, সাজলো সপ্তডিঙ্গা
দিলাম ঈস্রাফিলের শিঙ্গা৷

তোমাকে দিলাম শেষ সন্ধ্যার মেঘমালা
হাসান হোসেনের রক্তে যেখানে আগুন হয়েছে জ্বালা
শেষ সন্ধ্যার মেঘমালা৷

তোমাকে দিলাম একটি প্রেমের চিঠি
কাঁপা কাঁপা হাতে লিখে যাওয়া শেষ বিরহের দিঠি
একটি প্রেমের চিঠি৷

তোমাকে দিলাম প্রিয় যত কবিতা
তোমার চোখেতে হারিয়ে যাওয়া অবাক মুগ্ধতা
প্রিয় যত কবিতা৷

তোমাকে দিলাম নকশী কাঁথার মাঠ
কোন শৈশবে হারিয়ে যাওয়া সুজন বাদিয়ার ঘাট
নকশী কাঁথার মাঠ৷

তোমাকে দিলাম প্রথম লাল টিপ
প্রথম দিনের প্রথম আলোয় প্রথম দৃষ্টিপ্রদীপ
প্রথম লাল টিপ৷

তোমাকে দিলাম রামধনুর সাত রং
বৈশাখী রোদে হারিয়ে যাওয়া উড়নচন্ডী মন
রামধনুর সাত রং৷

তোমাকে দিলাম আমার সবটুকু ভালোবাসা
সবটুকু চাওয়া, সবটুকু পাওয়া, সবটুকু আশা-
দিলাম সবটুকু ভালোবাসা৷


--------
© রোডায়া

সিরিজঃ
হয়তো এখনো
মন আমার
কামনা
প্রথম সবকিছু


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28800910 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28800910 2008-05-21 15:27:52
এমন দিনে তারে বলা যায়!
এবার বৈশাখে বৃষ্টিগুলা ঠিক জমেনি৷ বৃষ্টি হয়েছে কয়েক পশলা, তাতে না ভরেছে মন, না ভরেছে প্রকৃতি৷ কিন্তু আজ বৃষ্টি নেমেছে ঝাপিয়ে, বৃষ্টি নেমেছে দু'কুল ছাপিয়ে৷ বৃষ্টি নেমেছে ভাসিয়ে মন, বৃষ্টি নেমেছে উড়ায়ে পবন৷ ঝরঝর শব্দে ভেসে যায় মন, তারি সাথে মনে পড়ে ছেলেবেলার গান, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এলো বান! নদেয় এলো বান আহা নদেয় এলো বান, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এলো বান!

লিখছিলাম দাঁড়িয়ে৷ ল্যাপটপটা রাখা ছিলো বইয়ের র‍্যাকের উপর৷ বৃষ্টি নেমেছে বেশ কিছুক্ষন, কিন্তু লেখায় ডুবে থাকায় তেমন ভাবে টের পাইনি৷ হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলো৷ চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার৷ ল্যাপট্প অবশ্য চলতে লাগলো ব্যাটারীতে, কিন্তু বাইরের বৃষ্টির শব্দ জোরালো হয়ে উঠলো৷ এসে দাঁড়ালাম জানালার সামনে৷

বাইরে নিকষ কালো অন্ধকার৷ অন্ধকারের মধ্যে একটানা ঝমঝম শব্দ৷ বৃষ্টি নেমেছে ভাসিয়ে মন, বৃষ্টি নেমেছে উড়ায়ে পবন! আহ, কতদিন পর সেই মধুর শব্দ৷ ঝরঝর শব্দের একটানা বয়ে যাওয়া! মাঝে মাঝে অন্ধকার আকাশ চিরে বিদ্যুতের জ্বলে যাওয়া, আর মেঘেদের গুরুগম্ভীর গুরু গুরু শব্দ৷ এ যেন এক অন্য পৃথিবীতে বসবাস! ভ্যাপসা গরমের গুমোট ছাপিয়ে উড়ে যাওয়া না দেখা অচেনা এক চাঁদের পাহাড়ের দেশে!

অপার্থিব সেই পরিবেশের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মনে পড়লো একটি মুখ৷ খুব সুন্দর, প্রিয় একটি মুখ৷ চোখের পাতায় ভালোলাগা মুখটা খেলা করে যাচ্ছিলো৷ দেখতে পাচ্ছিলাম তার হাসি, তার কালো চোখের তারায় খেলা করে যাওয়া ভালোলাগা৷ দেখতে পাচ্ছিলাম তার কপালের ছোট্ট লাল টিপ, এলোচুলে ভেসে যাওয়া মন৷ শুনতে পাচ্ছিলাম তার অপার্থিব সুন্দর রিনিঝিনি হাসির শব্দ, তার হেঁটে যাওয়ার সুন্দর ছন্দ৷ আহ, কি ভীষন সুন্দর সে!

সেদিন আমার সামনে দাঁড়িয়ে দু'চোখে একরাশ ভালোলাগা ছড়িয়ে সে প্রশ্ন করেছিলো, “আচ্ছা আপনি এতো এলোমেলো কেন?”

খোদা! খোদা!! খোদা!!! তোমার পৃথিবী এত ভালোলাগে কেন? কেন ছোট্ট একটা প্রশ্ন সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়? কেন সব আরো এলোমেলো হয়ে যায়? কেন অচেনা অপার্থিব এক ভালোলাগা মাথার ভীতরে গুনগুন করে গান গেয়ে যায়, “আপনি এতো এলোমেলো কেন? কেন আপনি এত এলোমেলো?”

সেও কি এখন বৃষ্টি দেখছে আমারি মত? সে বুঝি এখন ভাবছে আমারি কথা? জানালায় দাঁড়িয়ে, কার্নিশে জমে যাওয়া পানিতে সে কি দেখছে আমার মুখখানি? প্রতিবিম্বের সেই চোখ দু'টিতে তাকিয়ে সে কি হাসছে আপন মনে? সেই চোখে চোখ রেখে বুঝিবা বলছে সে ফিসফিসিয়ে, “কেন তুমি এরকম এলোমেলো?”

আমি কি তাকে বলব? বলব আমার ভালোলাগার কথা? আজকেই কি বলবার দিন? সে কি আসবে? আমি শিহরনে শিউরে উঠি! নিজের অজান্তেই একলা আপন মনে হাসি৷ বুকের গভীরে অজানা এক ভালোলাগা খেলা করে যায়৷ বুঝিবা এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরষায়!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28799763 http://www.somewhereinblog.net/blog/rodayaablog/28799763 2008-05-19 11:05:22
দহন [গল্প]
বৈশাখের গরম উদাসী দুপুর৷ প্রখর রোদ্দুরে পুড়ে যাচ্ছে চারদিক৷ অনেক দিন পর শহুরে রাস্তা ছেড়ে একটা গ্রাম্য পথ ধরে আসলাম৷ আসতে আসতে চারদিক দেখতে দেখতে মনটা বড় উদাস লাগছিলো৷ মনে পড়ছিলো ছেলেবেলার স্মৃতি৷

তখন কোন ক্লাসে পড়তাম? নাহ, একটা ক্লাস না৷ ক্লাস ফাইভের শেষের দিকে থেকে ক্লাস এইটের শেষের দিক পর্যন্ত্য আমি কুমারখালীতে ছিলাম৷ আমার বাবা তখন কুমারখালীর ইউএনও ছিলেন৷ তার মানে ছেলেবেলার একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় আমি এখানে কাঁটিয়ে দিয়েছি৷ গ্রীষ্মের উদাস দুপুরে গ্রাম্য রাস্তা ধরে আসতে আসতে সেইসব দিনগুলোর কথা মনে পড়ছিলো৷ উদাস থেকে মনটা আরো উদাস হয়ে যাচ্ছিলো৷

শিলাইদহ পৌছে বোকা বনে গেলাম৷ একি অবস্থা? এই কি রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি? এতো মনে হচ্ছে গরুর হাঁট! চারদিকে পিকনিক পার্টির ভীর৷ পিকনিক পার্টির মাইকগুলোতে বাংলা সিনেমার যত কুৎসিত গানগুলো বাজছে৷ কুঠিবাড়ির সামনের বাগানটা জুড়ে বড় বড় হাড়িতে রান্না হচ্ছে৷ চারদিক নোংরা, হৈ চৈ, ক্যাও ভ্যাও! দেখে শুনে মেজাজটা খুব খারাপ হয়ে গেলো৷ নাহ, এই জাতির আসলে কিছু সমস্যা আছে৷

মনে পড়ে ছেলেবেলায় যখন কুঠিবাড়িতে আসতাম তখন সব কিছু কেমন সুন্দর ছিলো৷ কোন হৈ চৈ থাকতো না৷ চারদিক থাকতো শান্ত, নীরব৷ রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি ছিলো রবীন্দ্রনাথের রচনার মতই শান্ত, মর্যাদাবান, ভাবগাম্ভীর্য্য পূর্ণ৷ এখানে আসলে মনটা ভালো হয়ে যেত৷ সুদূর কোন অতীতে চলে যেত মনটা৷ আর এখন? মনে হচ্ছে আমি কোন মাছের বাজারে এসে পড়েছি৷

সরকারী ছুটির দিন উপলক্ষে কুঠিবাড়ি বন্ধ৷ কিন্তু কাছে গিয়ে দেখলাম দারোয়ানেরা ব্যবসা খুলে বসেছে৷ পাঁচ দশ মানে যার কাছে থেকে যেমন পারে দর্শনী নিয়ে কুঠিবাড়ির ভীতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে৷ বাহ, ভালো ব্যবসা৷

ছোটবেলায় আব্বার সাথে যখন এখানে আসতাম তখন আব্বা কুঠিবাড়ির বাগানের মধ্যে একটা জায়গা দেখিয়ে বলতেন, “এই হচ্ছে সেই দুই বিঘা জমি৷ এটাকে নিয়েই রবীন্দ্রনাথ 'দুই বিঘা জমি' কবিতাটা লিখেছিলেন৷” বলে আব্বা বিড়বিড় শুরু করতেন, “শুধু বিঘে দুই ছিলো মোর ভুঁই, আর সবি গেছে ঋনে...”৷ জায়গাটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করলাম৷ ঠিক কোন জায়গাটা মনে করতে পারলাম না৷ মেজাজটা আরো খারাপ হয়ে গেলো৷ এই হাঁটবাজারের মধ্যে ভালো লাগছিলো না৷ কুঠিবাড়ি থেকে বের হয়ে একটা রিক্সা নিয়ে পদ্মার পাড়ের দিকে রওনা হলাম৷

আহ, তাও ভালো, পদ্মার পাড়ে বেশি মানুষজন নাই৷ আমার আজকে ভীরের মধ্যে থাকার মুড নাই৷ ভীর থাকলে মেজাজটা আবার খারাপ হয়ে যেত৷ এক যুবককে দেখলাম ক্যানভাস সাজিয়ে ছবি আঁকছে৷ আমি তার থেকে একটু দূরত্ব রেখে নদীর পাড়ে বসে পড়লাম৷

একবার কুঠিবাড়ির এক দারোয়ান আমাকে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত টর্চ দেখিয়ে বলেছিলো, সেই আমলে এই টর্চের আলো এত শক্তিশালী ছিলো যে নদীর এপাড় থেকে মারলে অন্য পাড়ে কারো চোখে পড়লে সে অন্ধ হয়ে যেত! মানুষ অসম্ভব জিনিস বিশ্বাস করতে পছন্দ করে৷ মনে পড়ে আমি সাথে সাথে তার বিশ্বাস করে নিয়েছিলাম৷ যদিও নিজেও জানতাম পাঁচ ব্যাটারীর একটা টর্চের এত শক্তি হতে পারে না, তবুও আমার মুখে এই গল্প শুনে কেউ যদি প্রতিবাদ করতো তো বলতাম, “তুই কচু জানিস!” হা হা হা৷ মনে পড়তেই একা একা হেসে ফেললাম৷

হঠাৎ দেখি সেই শিল্পি ছবি আঁকা বাদ দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে৷ আমাকে তাকাতে দেখে সে পায়ে পায়ে কাছে এসে বলল, “আপনি, তুই রডি না?”

হায় হায়, তুই করে বলছে! এ কোন ব্যক্তি? চেনার কোন চেষ্টা করলাম না৷ অনেক আগেই আমি বুঝে আমি মানুষের মুখ মনে রাখতে পারি না৷ তাই আজকাল কাউকে চিনতে না পারলে কষ্ট করে চেনার চেষ্টা করি না৷ উদাস মুখে বললাম, “হ্যাঁ, আমিই সেই ব্যক্তি৷”

সে উল্লসিত হয়ে বলল, “আমাকে চিনতে পারছিস? কুমারখালী মথুরানাথ স্কুলে ক্লাস ফাইভে একসাথে পড়তাম! আমার নাম শিমুল, চিনেছিস?”

হোলি শিট! সেই ক্লাস ফাইভে কার সাথে পড়েছে তার নাম সহ চেহারা মনে রেখেছে? আহা, একেই বলে ব্রেন! আফসোস, আমার এইরকম ব্রেন নেই৷ কেমন করে বলি আমার গোটা স্কুল জীবনের একজন সহপাঠির নামও আমার মনে নেই? কত দীর্ঘ রজনী আমি আমার কোন এক স্কুলের অন্তত একজন সহপাঠীর নাম মনে করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছি?

শ্বাস ফেলে বললাম, “সেটা তো হতে পারে না! ক্লাস ফাইভেতো দূরের কথা, গোটা স্কুল জীবনে আমার সাথে এরকম ছ'ফুট মত লম্বা, মুখে আধ হাত দাঁড়িঅলা কেউ পড়েছে বলে মনে পড়ে না৷”

“হা হা হা৷” শিমুল আমার সামন বালিতে বসে বলল৷ “ভালো মজা করে কথা বলিসতো তুই! সত্যি আমাকে চিনতে পারিসনি? সেই সময় আমি তোর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলাম৷ মনে পড়ে স্কুলে টিফিনের সময় আমি তোকে বাদাম খাওয়াতাম, আর তুই আমাকে তোর আনা টিফিন খাওয়াতি? তুই যখন স্কুলে ভর্তি হলি, তখন আমি ছিলাম ক্লাসের ফার্স্ট বয়৷”

এবার আমি চিনতে পারলাম৷ অবশ্যই নাম মনে পড়লো না, তবে ঘটনাগুলো মনে পড়লো৷ ফাইভে আমি মথুরানাথ স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম ফাইনাল পরীক্ষার অল্প কয়েকমাস আগে, আমার আব্বা সেই সময় বদলী হয়ে কুমারখালীতে এসেছিলেন৷ তো সেই সময় একজনের সাথে বেশ বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিলো৷ মনে পড়ে তার পকেটে সবসময় টাকা থাকতো, সে প্রায়ই আমাকে এটা সেটা কিনে খাওয়াতো৷ আর আমার পকেটে কখনই কোন টাকা থাকতো না, আমি বড়জোর তাকে বাসা থেকে আনা টিফিন খাওয়াতাম৷ কিন্তু ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার আগেই সে স্কুল ছেড়ে চলে যায়৷ ফাইনাল পরীক্ষায় আমি হয়ে গেলাম ফার্স্ট৷ স্যারেরা বললেন, “শিমুল থাকলে তুমি ফার্স্ট হতে পারতে না৷” সেকথা মনে পড়তেই মেজাজটা বিগড়ে গেলো৷ ব্যাটা গেলো তো গেলো, গিয়েও আমাকে শান্তি দিলো না৷ আমি অবশ্য ক্লাসে ফার্স্ট সেকেন্ড নিয়ে কখনো মাথা ঘামাই নাই৷ ব্যাপারটা কখনোই আমার মাথায় থাকতো না৷ আমার ম্যাচুরিটি আসছে অনেক পড়ে৷ সেই বয়সে আমি ফার্স্ট সেকেন্ড ব্যাপারটাই ভালো করে বুঝতাম না৷ কিন্তু তারপরওতো ব্যাটার জন্যতো আমাকে কথ