জাবির ছাত্র ছিলাম। বের হয়েছি বছর দুয়েক আগে। ক্যাম্পাসের অবস্থা এখন আরো হয়তো পরিবর্তনের দিকে। নৃবিজ্ঞান বিভাগে মানস নামে একজন স্যার আছেন। উনি ১ম দিন ক্লাসে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছিলেন ," আমি অবিবাহিত কিন্তু একটা রাতও একা থাকিনি। কোন এক বা একাধিক মেয়ে বা ছেলে আমার শয্যাসঙ্গী থাকেই।" উনাকে দেখে মনে হয় টোটাল শুকনাখোর। কখনো গোসল করেছে কিংবা দাঁত ব্রাশ করেছে বলে মনে হয়নি। মানস স্যারকে দেখার পর ভেবেছিলাম জাবি ছেড়ে চলে যাব। কিন্তু জাবি আর ছাড়া হয়নি। তবে জাবিতে থাকার কারনে অনেক অদ্ভুত কিছু জানার সুযোগ হয়েছে। তা পর্যায়ক্রমে লিখব ইনশাল্লাহ।
Click This Link
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে একটি আবাসিক হলে অবস্থান করছিলাম। ১ম দিনই রাত ১১টার দিকে ওই কক্ষে ঢোকে হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী। জিজ্ঞেস করে, ‘কিরে মুরগি, ভর্তি পরীক্ষা দিবি।’ এরপর তাঁর শার্টের ভেতরে বালিশ দিয়ে গর্ভবতী মহিলার মতো বানিয়ে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে বাধ্য করা হয়। এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় প্রায় ২ ঘণ্টা। চোখে জল না আসা পর্যন্ত চলে এ ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। এরপর আমাকে অন্য একটি রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে দেখি আমার মত আরেকজন ভর্তিচ্ছু খুবই ভীতুসন্ত্রস্ত অবস্থায় বসে আছে। তখনো আমার চোখে জল। ২ বেডে রুমটিতে আমরা ২জন ভর্তি পরীক্ষার্থী ছাড়াও উনারা ৭/৮ জন। এদের অনেকেই খালি গায়ে হাফপ্যান্ট কিংবা লুঙ্গির সাথে স্যান্ডো গেন্জি পরা। সবাই রুমটিতে ঢোকার পরে দরজার সিটক্যানী লাগিয়ে দেয়া হলো। ভয়ে আমার হার্টবিট আরো বেড়ে গেল।
এবার বেডের নিচ থেকে ছোট সাইজের একটা নগ্ন মোলাটের বই বের করা হলো। (পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জেনেছিলাম ওটাকে চটি বই বলা হয়)। বইটি রুমে থাকা আরেকজন ভর্তি পরীক্ষার্থী শিহাবের (যার নাম পরে জেনেছিলাম) হাতে দিয়ে বইটির প্রচ্ছদের বর্ণনা করতে বলা হলো মা তুলে একটা বকা দিয়ে।একবার প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু প্রচন্ড ভয়ে মুখ খুলতে পারিনি। অত্যন্ত নগ্ন সেই বর্ণনা শিহাব না করে বলেছিল আমাকে মেরে ফেললেও আমি পারব না । আমি ভয় পেলেও মনে মনে স্থির করেছিলাম জীবন গেলেও কোন খারাপ কাজ করবনা। আমাকে বলা হলে আমিও রাজী না হওয়ার ফলে শিহাব ও আমার উপর যে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। পরে চটি বইটি অনেক নির্যাতন করেও আমাদের দিয়ে পড়াতে না পেরে ওদের মধ্য থেকে পদার্থ বিজ্ঞানের ২৬ ব্যাচের মিঠু দা (যার নাম পরে জেনেছিলাম - যে খালি গায়ে হাফপ্যান্ট ও টুপি পরা ছিল) নিজেই পড়তে শুরু করল।এটা না শুনলে কোনো খারাপ বইয়ের বিবরন এতটা খারাপ হতে পারে তা কল্পনাও করতে পারতাম না। দমটা বের হয়ে যাচ্ছিল কিন্তু ভয়ে দুহাত দিয়ে কানদুটো বন্ধ করতে ভয় পাচ্ছিলাম। এক পর্যায়ে আমাদের ২জনকে পরিধেয় পোশাক খুলে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হলে আমি হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলে শিহাবও কান্না শুরু করে দেয়। তোদের ২ জনকে আমাদের সামনে নগ্ন হয়ে সেক্স করতে হবে , একথা বলে তারা জোর করে আমাদের দু'জনের পোশাক খোলা শুরে করে। তারপরে কি হয়েছিল আমি জানিনা। তবে যখন জ্ঞান ফিরে তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিত্সাকেন্দ্র শায়িত। ঘড়িতে তখন রাত সাড়ে ৩টা। মনে হল সকালে আমার ভর্তি পরীক্ষা। কিন্তু আমি এখানে কেন একথা মনে ভাবতেই মনে হলো রাতের সেই ভীতবত্স স্মৃতি। পরে শুনেছি অন্যান্য ভর্তিচ্ছুদের র্্যাগিং নামক পাশবিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কথা যা আমার প্রতি যে অত্যাচার করা হয়েছে তার চেয়েও অনেক ভয়াবহ। আর পরবর্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরে নিজে অনেক কাহিনী দেখেছি ও শুনেছি, সেগুলো ধারাবাহিকভাবে লেখা চেষ্টা করব। (চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

