somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ের আমার অদ্ভুত কিছু স্মৃতি- copy

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জাবির ছাত্র ছিলাম। বের হয়েছি বছর দুয়েক আগে। ক্যাম্পাসের অবস্থা এখন আরো হয়তো পরিবর্তনের দিকে। নৃবিজ্ঞান বিভাগে মানস নামে একজন স্যার আছেন। উনি ১ম দিন ক্লাসে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছিলেন ," আমি অবিবাহিত কিন্তু একটা রাতও একা থাকিনি। কোন এক বা একাধিক মেয়ে বা ছেলে আমার শয্যাসঙ্গী থাকেই।" উনাকে দেখে মনে হয় টোটাল শুকনাখোর। কখনো গোসল করেছে কিংবা দাঁত ব্রাশ করেছে বলে মনে হয়নি। মানস স্যারকে দেখার পর ভেবেছিলাম জাবি ছেড়ে চলে যাব। কিন্তু জাবি আর ছাড়া হয়নি। তবে জাবিতে থাকার কারনে অনেক অদ্ভুত কিছু জানার সুযোগ হয়েছে। তা পর্যায়ক্রমে লিখব ইনশাল্লাহ।
Click This Link
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে একটি আবাসিক হলে অবস্থান করছিলাম। ১ম দিনই রাত ১১টার দিকে ওই কক্ষে ঢোকে হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী। জিজ্ঞেস করে, ‘কিরে মুরগি, ভর্তি পরীক্ষা দিবি।’ এরপর তাঁর শার্টের ভেতরে বালিশ দিয়ে গর্ভবতী মহিলার মতো বানিয়ে বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে বাধ্য করা হয়। এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় প্রায় ২ ঘণ্টা। চোখে জল না আসা পর্যন্ত চলে এ ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। এরপর আমাকে অন্য একটি রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে দেখি আমার মত আরেকজন ভর্তিচ্ছু খুবই ভীতুসন্ত্রস্ত অবস্থায় বসে আছে। তখনো আমার চোখে জল। ২ বেডে রুমটিতে আমরা ২জন ভর্তি পরীক্ষার্থী ছাড়াও উনারা ৭/৮ জন। এদের অনেকেই খালি গায়ে হাফপ্যান্ট কিংবা লুঙ্গির সাথে স্যান্ডো গেন্জি পরা। সবাই রুমটিতে ঢোকার পরে দরজার সিটক্যানী লাগিয়ে দেয়া হলো। ভয়ে আমার হার্টবিট আরো বেড়ে গেল।

এবার বেডের নিচ থেকে ছোট সাইজের একটা নগ্ন মোলাটের বই বের করা হলো। (পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জেনেছিলাম ওটাকে চটি বই বলা হয়)। বইটি রুমে থাকা আরেকজন ভর্তি পরীক্ষার্থী শিহাবের (যার নাম পরে জেনেছিলাম) হাতে দিয়ে বইটির প্রচ্ছদের বর্ণনা করতে বলা হলো মা তুলে একটা বকা দিয়ে।একবার প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু প্রচন্ড ভয়ে মুখ খুলতে পারিনি। অত্যন্ত নগ্ন সেই বর্ণনা শিহাব না করে বলেছিল আমাকে মেরে ফেললেও আমি পারব না । আমি ভয় পেলেও মনে মনে স্থির করেছিলাম জীবন গেলেও কোন খারাপ কাজ করবনা। আমাকে বলা হলে আমিও রাজী না হওয়ার ফলে শিহাব ও আমার উপর যে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। পরে চটি বইটি অনেক নির্যাতন করেও আমাদের দিয়ে পড়াতে না পেরে ওদের মধ্য থেকে পদার্থ বিজ্ঞানের ২৬ ব্যাচের মিঠু দা (যার নাম পরে জেনেছিলাম - যে খালি গায়ে হাফপ্যান্ট ও টুপি পরা ছিল) নিজেই পড়তে শুরু করল।এটা না শুনলে কোনো খারাপ বইয়ের বিবরন এতটা খারাপ হতে পারে তা কল্পনাও করতে পারতাম না। দমটা বের হয়ে যাচ্ছিল কিন্তু ভয়ে দুহাত দিয়ে কানদুটো বন্ধ করতে ভয় পাচ্ছিলাম। এক পর্যায়ে আমাদের ২জনকে পরিধেয় পোশাক খুলে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হলে আমি হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলে শিহাবও কান্না শুরু করে দেয়। তোদের ২ জনকে আমাদের সামনে নগ্ন হয়ে সেক্স করতে হবে , একথা বলে তারা জোর করে আমাদের দু'জনের পোশাক খোলা শুরে করে। তারপরে কি হয়েছিল আমি জানিনা। তবে যখন জ্ঞান ফিরে তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিত্সাকেন্দ্র শায়িত। ঘড়িতে তখন রাত সাড়ে ৩টা। মনে হল সকালে আমার ভর্তি পরীক্ষা। কিন্তু আমি এখানে কেন একথা মনে ভাবতেই মনে হলো রাতের সেই ভীতবত্স স্মৃতি। পরে শুনেছি অন্যান্য ভর্তিচ্ছুদের র্্যাগিং নামক পাশবিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কথা যা আমার প্রতি যে অত্যাচার করা হয়েছে তার চেয়েও অনেক ভয়াবহ। আর পরবর্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরে নিজে অনেক কাহিনী দেখেছি ও শুনেছি, সেগুলো ধারাবাহিকভাবে লেখা চেষ্টা করব। (চলবে)
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×