এস্কিমো, রাশেদ ব্যান হবার পর দুদিন কেটে গেল। দুদিনমান এই ব্লগে কত আন্দোলন হয়ে গেল। অনেক ব্লগার তাদের প্রোফাইল ছবি তাদের ব্যানমুক্তি শ্লোগান সমৃদ্ধ ছবিতে বদলে দিলেন, অনেকেই পোষ্ট দিলেন। সারাদিনধরে দাবি করা হতে লাগল তাদের ব্যান মুক্তি দেয়া হোক।
কেন? কেন এমন করা হল? কেন ব্লগারেরা এমন আচরন শুরু করলেন? (এখানে সমষ্টিগত অর্থে আমি ব্লগাররা শব্দটাই উল্লেখ করছি কেননা, তাদের ব্যান মুক্তির বিপক্ষে তেমন কাউকে দেখা যায় নি, কতৃপক্ষ যেখানে নিরব সেখানে এমন কেউ যুক্তি দেখায়নি তাদের ব্যান করার যৌক্তিকতা।) কি কারনে তারা তাদের ফিরিয়ে আনতে এত উদগ্রীব হয়ে পড়লেন? এত স্বতস্ফুর্তভাবে কথা বলতে লাগলেন?
এ কথাগুলো চিন্তা করতে গিয়ে আমি উত্তর পেলাম, তারা তাদেরকে ভালবাসের। ভালবাসের কারন ব্যান হওয়া ব্লগারদ্বয় এই ব্লগটাকে মাতিয়ে রাখতেন। ব্লগার রাশেদের কথা গত দুদিনএ বারবার উঠে এসেছে, তার জনপ্রিয়তার গ্রায় এই ব্লগে অনেক উচুতে। তাকে নিয়ে বিতর্ক নেই। এ ব্লগে মুক্তিযুদ্ধ পক্ষ ও তাদের বিরোধীপক্ষের যে বাকযুদ্ধ সে যুদ্ধে রাশেদ কখনও নোংরামীতে যাননি বলেই তার জনপ্রিয়তায় কালিমা আসেনি। এই ব্লগারটি ছিলেন প্রত্যেক নতুন ব্লগারকে উৎসাহপ্রদানকারী একজন। এই ব্লগে তার উপস্থিতি তার পুরোটা অবসর জুরেই। তাকে দিনের বেশীরভাগ সময়েই এ ব্লগে পদচারনা করতে দেখা যেত। এই ব্লগকে ঠিক কতটা ভালবাসলে এমনটা হতে পারে? এ দিকটি কেউ ভেবে দেখেছেন কি? এই লোকটি এই ব্লগটি ভালবেসেছে, এই ব্লগে তার মুল্যবান অনেক সময় বিনামুল্যে দিয়েছে, অন্যকে উৎসাহ দিয়েছে। আজকে তার এই ব্যানের কারনে তাই সবার মনখারাপ হয়েছে। সবার মনে এসেছে, সে এভাবে প্রতিদান পেলে আমরা কি পাব?
ব্লগার রাশেদ মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপুর্ন তথ্য সম্বলিত দুদুটি অসাধারন পোষ্ট করেছিলেন, কতৃপক্ষ প্রশংশনীয়ভাবে এগুলো স্টিকি করেছিলেন, এরপর উইকএন্ডে মডারেটররা যখন ছুটি কাটাচ্ছিলেন তখন এই ব্লগে কয়েকটা বিতর্কিত পোষ্ট আসল যেগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মর্যাদা হানিকারক আর সে কারনে কতৃপক্ষের নতুন তৈরি করা ৩ নং ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এইসব পোষ্টের বিরুদ্ধে আপত্তি বাটন টিপেও কোন কাজ হল না। নীতিমালা ভঙ্গের পরেও ওইসব পোষ্ট দুইদিন টিকে থাকল মডারেটরদের ছুটির সুযোগ নিয়ে। এসব দেখে প্রতিবাদ হিসেবে এস্কিমো ও রাশেদ তাদের স্টিকি পোষ্টের কনটেন্ট পরিবর্তন করে ফেললেন। রাশেদের অসাধারন তথ্যনির্ভর পোষ্টটি হয়ে গেল ওইসব বিতর্কিত পোষ্টের লিংকের পোষ্ট।
কেন রাশেদ এমন করলেন? তিনি তো জানতেন এমন করা ঠিক না, কেননা তিনি তার পরিবর্তন করা পোষ্টে পাঠকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। কেন করলেন তবে এমন? আমরা সহজেই বুঝতে পারি, প্রচন্ড এক অভিমান থেকে তার এ পদক্ষেপ। একজন ব্লগার তার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও স্টিকি হওয়া একটি পোষ্ট যখন পরিবর্তন বা মুছে দেয় তখন তার মনে কতটা অভিমান জমা হয়ছে তা আমাদের বুঝতে হবে।
রাশেদের দোষ ছিল, এ দোষ সে পরিস্থিতির কারনে করেছে। এর পেছনে মডারেটরদের ও দায় আছে। তারা ছুটিতে না থাকলে ওই পোষ্টগুলো ৩ নং নীতিমালায় ডিলিট হয়ে যেতে পারত তখন রাশেদকে আর অভিমান করতে হত না।
এক একটি পোষ্ট এক একটি সন্তানের মত হয়...এই ব্লগেরই কোন এক ব্লগারের পোষ্টে পড়েছিলাম। একজন ব্লগার যখন তার প্রিয়তম, জনপ্রিয়তম সন্তানতম পোষ্ট উৎসর্গ করে দেয়, তখন আমাদের তা অনুভব করা উচিত। প্রিয় কতৃপক্ষ, আমাদের তা সম্মান করা উচিত।
খ.
গতদুদিনে এই ব্লগে অসংখ্য ব্লগারদের রাশেদের প্রতি ভালবাসার প্রকাশ দেখে আমি ইর্ষান্বিত বোধ করেছি। এমন ভালবাসা পেলে কারুরই ব্যান হকে আপত্তি থাকার কথা না। রাশেদ তার কাজ করে ফেলেছেন। মানুষের মনে ঠাই করে নিয়েছেন। এখন তিনি আনব্যান যখনই হোন না কেন তাতে তার সম্মানহানী হবে না। বরং আমরা লজ্জিত বোধ করব তাকে আমরা ভালবাসার এই প্রতিদান দিলাম ভেবে।
আপাতত রাশেদের জন্য অপেক্ষা রইল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



