somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসমাপ্ত যবনিকা ............... (গল্প)

২৮ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক.
বন্যার খুব খারাপ লাগছে, চারিদিকে এত মানুষ, ব্যস্থতা, কোলাহল! কয়েকটা ষন্ডামার্কা ছেলে কেমন ড্যাবড্যাব করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। শাড়ির আচঁলটা একটু টেনে দিল বন্যা। দিহানের ওপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে। সেই কখন থেকে এই ভারী সুটকেসটা নিয়ে ষ্টেশনে একা দাড়িয়ে আছে। দিহানের বিকেল সাড়ে পাচটায় আসার কথা, এখন বাজে প্রায় সাতটা। অথচ এখন পর্যন্ত কোন খোঁজ নেই। এ সময় ভেঁপু বাজাতে বাজেতে ট্রেন চলে এল। মানুষজন উঠছে নামছে, সবাই কেমন অস্থির, হুড়মুড়িয়ে উঠানামায় ব্যস্থ, কারো দিকে কারও খেয়াল নেই। বন্যার নিজেকে একেবারে অসহায় অনুভব করল। সেকি ট্রেনে উঠবে? উঠে সে কোথায় যাবে? দিহানের যে খালার বাড়িতে যেয়ে উঠার কথা ছিল সে জায়গাটা কোথায় তাও তার জানা নেই। বাড়ি ফেরার পথও তো নেই। সেই দরোজা সে নিজের হাতেই ব্ন্ধ করে এসেছে। অস্বস্তিটা বাড়ছে আরও। ট্রেনটা বেশীক্ষন থাকবে না, দিহান কি আসবেই না? নাকি এসে গেছে তার চোখে পড়েনি, হয়ত ট্রেনে ওঠে গেছে, ভেবেছে বন্যাও উঠেছে, ট্রেন ছাড়লে খুঁজে বের করা যাবে। সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বন্যা।
এমন সময় পেছন থেকে কেউ একজন শিস দিয়ে উঠল-'মাইরি একদম খাসারে!'
নাহ! এখানে এভাবে আর থাকা যাবে না। কেনো কিছু না ভেবেই ট্রেনে উঠে পড়ল বন্যা।

খ.

টাকা যোগার করতে খুবই ঝক্কি ঝামেলা গেছে দিহানের। বাড়ি থেকে ওর খরচের জন্য মাসে মাসে যে দুইহাজার টাকা আসে তার মাত্র পাচশ ছিল। আর ছিল টিউশনির তিনহাজার। সেটাও খরচ হয়ে গেল সজীবের এক্সিডেন্টের ফলে। তখন ভোররাতে হসপিটালের বারান্দায় দিহানের চোখে মুখে সুর্যান্ত সময়। বন্যাকে কথা দেয়া পাচটার সময় এ কথা মনে পড়তেই কুকড়ে যায় তার তথাকথিত সাহসী মন। সজীবের এক্সিডেন্টটাও এমন সময় হল। বন্যায় সাথে সব প্ল্যান করে মেসে ফিরেই দুসংবাদটা শুনতে হল। এ শহরে সজীবের তো আর কেউ নেই দিহান ছাড়া। রাতেই ছুটতে হল তাকে। ভোররাতে ডাক্তার যখন বলল সজীব বিপদমুক্ত তখন ঘাতক লাইটেসের ড্রাইভারে প্রতি সন্ধারাতের সেই ক্রোধ নেই দিহানের। নেই রাতের সেই সাহসী মন ও। সজীবকে ছেড়ে কিভাবে সে যাবে সে বন্যার কাছে? বেচারার এই দুঃসময়ে পাশে দাড়ানোর তো কেউ নেই, মুখচোরা মানুষ সজীব, তার বন্ধুবান্ধব বলতেও ওই এক দিহানই। মুহুমুহু মনে পড়ে সজীবের যন্ত্রনাকাতর করুন মুখ। 'আমাকে বাঁচা দিহান। ভাইরে তুই আমারে বাচা। আমার মার আমি ছাড়া কেউ নাই। আমাকে বেঁচে থাকতে হবে দিহান।'
সজীবের আর্তনাদ নাড়িয়ে দেয় দিহানের হ্রদয়ের ভীত। এই একা ছেলেটা বেঁচেই আছে শুধু তার মায়ের জন্য, নিজের জন্য না, তার চোখের সামনে ও এভাবে মরে যেতে পারে না। আর দিহানের জন্যও তো ও কম করেনি। অনার্স ফার্স্ট পার্ট পরীক্ষার দুদিন আগে পক্স হানা দিল দিহানকে। তখন ওকে সমস্ত অনুপ্রেরনা আর সেবা যত্ন দিয়ে সারিয়ে তুলেছিল ওই সজীবই, যখন ছোয়াছুয়ির ভয়ে আর কেউ কাছেই ভিরছিল না। মেসে থাকা ছাত্রের পরীক্ষার আগে অসুখ হলে কি যে ভোগান্তি তা দিহান মাত্রই জানে।

দুতিন বড়লোক বন্ধুর কাছ থেকে কহাজার টাকা যোগার করতে করতে বিকেল হয়ে আসে। দিহানের অস্থিরতা শুরু হয়। পাঁচটা বাজতে আর ঘন্টা খানিক বাকী। সজীবকে আরেকবার দেখে ভয় পেয়ে যায় দিহান। কেমন জানি প্রানশুন্য মুখ। ডাক্তার সজীবকে দেখে যে ভাবভঙ্গি করলেন তাতে খারাপ আশংকা হল দিহানের। আধঘন্টা পর মারা গেল সজীব। আর হঠাৎ করেই শান্ত হয়ে গেল দিহান। প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে
পাথর হয়ে গেছে ও। ভুলে গেল বন্যার কথা, তার এতদিনের ভালোবাসার কথা যে চীরজীবন তার সাথে চলার জন্য ঘর ছেড়ে চলে এসেছে। সন্ধা সাতটায় বন্যা যখন ট্রেনে উঠল দিহান তখন ছুটোছুটি করছে সজীবের জন্য। সজীবের লাশকে কয়েকটা দিন টিকিয়ে রাখতেই হবে। সজীবের স্নেহময়ী মা তার ছেলের মুখ শেষবারের মত দেখবেন না এটা সে কিছুতেই হেত দেবে না। সজীবের আর্তি মনে হতে চোখ গড়িয়ে জল নামে দিহানের।

ট্রেন ছুটে চলেছে নির্দিষ্ট গন্তব্যে। শুধু বন্যার গন্তব্য অনির্দিষ্ট। কিন্তু কেন জানি নিকট ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুই ভাবছে না বন্যা। ট্রেনের জানালা দিয়ে রাতের প্রকৃতি দেখতে দেখতে ঘুমে তলিয়ে গেল বন্যা।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০০৮ সকাল ৯:০৬
৮৭টি মন্তব্য ৬৭টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×