আমার খুব পছন্দের দুটা কবিতা আছে মন ভাল নেই নিয়ে, একটি এখানে দিলাম, আরেকটি সুনীলের মন ভাল নেই, সেই কবিতাটি আমার এখন পুরোটা আর মনে পড়ে না, স্মৃতিতে কটা লাইনই টিকে আছে, কাগজে লেখা নেই।
আর এই কবিতাটির পুরোটাই স্মৃতিতে থেকে গেছে, একসময় অকারনেই এটি আওরে যেতাম।
এই মুহুর্তেও কবিতাটির কটি লাইন, মনভাল নেই, শুন্য রাস্তা শুন্য বারান্দা, এই শুন্যঘর, এই নির্বাসন, দু্ঃখ ছুয়েছে ঘরবাড়ি, বিষাদ ছুয়েছে বুক, সব নদীপথ বন্ধ হল, সারাদিন বিষাদপর্ব, সারাদিন তুষারপাত---এই লাইনগুলো খুব ভাল লাগছে, মিশে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে বিষাদেরও একটা কোমল সুন্দর রূপ আছে, যা ছুয়ে আনন্দ পাওয়া যায়, বিষাদীয় আনন্দ। বিষাদবোধকে নিয়ন্ত্রিত ভাবে আরও বাড়িয়ে দেবার প্রয়াস এ কবিতা।
আমি বিষাদকে স্বাগত জানাই, ভালবাসি আনন্দের মতই।
আশা করছি কবিতাটি অনেকের ভাল লাগবে।
বিষাদ ছুয়েছে আজ, মন ভাল নেই,
মন ভাল নেই,
ফাঁকা রাস্তা, শুন্য বারান্দা
সারাদিন ডাকি, সাড়া নেই
একবারও ফিরে চায় না কেউ
পথ ভুল করে চলে যায়, এদিকে আসে না
আমি কি সহস্র বর্ষ এভাবে
তাকিয়ে থাকব শুন্যতার দিকে?
এই শুন্যঘরে, এই নির্বাসনে
কতোকাল, আর কতোকাল!
আজ দুঃখ ছুয়েছে ঘরবাড়ি,
উদ্যোনে উঠেছে ক্যাকটাস-
কেউ নেই, কড়া নাড়ার মত কেউ নেই,
শুধু শুন্যতার এই দীর্ঘশ্বাস, এই দীর্ঘ প্রতিধ্বনি,
টেলিফোন ঘোরাতে ঘোরাতে আমি ক্লান্ত
ডাকতে ডাকতে একশেষ,
কেউ ডাক শোনে না, কেউ ফিরে তাকায় না।
আজ বিষাদ ছুয়েছে বুক, বিষাদ ছুয়েছে বুক
মন ভাল নেই, মন ভাল নেই;
তোমার আসার কথা ছিল, তোমার যাওয়ার
কথা ছিল-
আসা যাওয়ার পথের ধারে
ফুল ফুটানোর কথা ছিল
সেসব কিছুই হল না, কিছুই হল না,
আমার ভেতরে শুধু এককোটি বছর ধরে অনুতাপ
শুধু হাহাকার
শুধু শুন্যতা, শুন্যতা।
তোমার শুন্য পথের দিকে তাকাতে তাকাতে
দুই চোখ অন্ধ হয়ে গেলো,
সব নদীপথ বন্ধ হল, তোমার সময় হলো না-
আজ সারাদিন বিষাদপর্ব, সারাদিন তুষারপাত
মন ভাল নেই, মন ভাল নেই...।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

