অক্টোবর মাসের শেষ দিনটাতে ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইউএসএ সহ বিশ্বের অনেক দেশে পালিত হয়ে গেল হ্যালোয়িন। হ্যালোয়িন মুলত আইরিশ ট্র্যাডিশনাল কালচার হলেও পরে তা ছড়িয়ে পড়ে ইউএসএ ,কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপের চারিদিকে। হ্যালোয়িন মানেই বাচ্চাদের ঈদ। তারা সবাই উইশ, শয়তান, স্কেলিটন, পিশাচ, ভুত, ড্রাকুলা ইত্যাতি সাজ সাজে। তাদের ঝুড়ি ভরে যায় চকোলেটে। মানুষ বাসা বাড়িতে চকোলেট এনে ভর্তি করে রাখে বাচ্চাদের দেবার জন্য। সন্ধা হলেই বাচ্চারা ভুতের সাজে বা পিশাচের সাজে মানুষের বাসায় হাজির হয়, তাদের চকোলেট দিয়ে সন্তুষ্ট করতে হয়।
আইরিশ উপকথা মতে হ্যালোয়িনের শুরু নিয়ে নানা গল্প রয়েছে। জ্যাক ও লেনট্রিন এর উপকথার অনেকগুলো গল্প পাওয়া যায়। জ্যাক শয়তানকে আপেল গাছে বন্দী করে তার কাছ থেকে কথা আদায় করেছিল যে জ্যাকের আত্মা কোন সময় শয়তান নিতে পারবে না। পরে জ্যাক নিজেই মরে যায়, শয়তান কে মুক্ত করে দিতে পারে না। ওদিকে সে পাপী ছিল বলে স্বর্গেও যেতে পারে না। আবার নরকেরও পারে না শয়তান বন্দী বলে। একসময় তার আত্মা পৃথিবীতে এসে ঘুরতে থাকে। এরকম নানা গল্প।
তবে শয়তান বোধহয় সত্যি সত্যি মুক্ত হয়ে যায় হ্যালোয়িনের দিনে। অন্তত আয়ারল্যান্ডের হ্যালোয়িন পালন দেখে এটি মনে হওয়াই স্বাভাবিক।
জনপ্রিয় আইরিশ পত্রিকা হেডলাইন করেছে, হেল-ওয়িন। তারা হ্যালোয়িনের দিনটিকে হেল এর সাথে তুলনা দিয়েছে। না দিয়েই বা কি করবে। কি হয় নি এবারে হ্যালোয়িন এ।
হ্যালোয়িনে বাচ্চাদের নির্দোষ মজার পাশাপাশি গ্যাংরা আর উঠতি বয়সী বখাটে ছেলেপেলেরা আগুন জ্বালিয়ে মজা করে। আতশবাজি, আগুন, বোমা ইত্যাদি চলতে থাকে। কোন কোন সময় তা চরম আকার ধারন করে। যদিও আইরিশ সরকার এ ব্যাপারে সবাইকে নিয়ন্ত্রনের ভেতরে থাকার কথা বলে, এবং আগুন না জ্বালাবার পরামর্শ দেয়, কিন্তু কে শোনে কার কথা! প্রত্যেক পাড়ায় পাড়ায় বখাটেরা আগুন জ্বালায়। আর এগুলো পরিস্কার করতে পরদিন বিপুল অংকের পয়সা ব্যয় হয় কাউন্টি কাউন্সিলের।
এবারের হ্যালোয়িনে হ্যালোয়িন আবর্জনা পরিস্কার করতে শুধুমাত্র ডাবলিন সিটি কাউন্সিলের ব্যয় করতে হয়েছে এক মিলিয়ন ইউরো। সাড়া দেশে এর পরিমান দুই মিলিয়ন ইউরো।
ডাবলিনে তিনচারটি ভ্যান, গাড়িতে আগুল দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে হ্যালোয়িনকে হেল-ওয়িন বানানো লোকেরা। পাড়ায় পাড়ায় পাড়লে মানুষের বাড়ি থেকে আসবাবপত্র বের করে এনে আগুন লাগায় বখাটেরা। অনেকেরই গার্ডেনের কাঠের বেড়া চলে গেছে এই কাজে।
সবচেয়ে অদ্ভুত কান্ড ঘটেছে ডরসেট স্ট্রীটএ। দুই গারদা (পুলিশ) গিয়েছিল আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করতে। সেখানে ৪০ জনের মত লোক আগুল জ্বালিয়ে আনন্দ করছিল। গারদা দুইজন সেটা থামাতে গিয়ে এমন মার খেয়েছে যে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে এখন। একই ঘটনা ঘটেছে ডাবলিনে দুইজন ফায়ারম্যানের বেলায়। সারা রাত ফায়ারম্যানেরা সতর্ক ছিল সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে। তাতে তাদের কপালে মারও জুটেছে।
সারা রাতজুড়ে উঠতি টিনেজারদের সাথে মৃদু সংঘর্ষ ছিল গারদার।
ক্লোনমেল নামের এক শহরে কিছু ছেলেপেলে হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই ছুড়ে মেরে মারধোর করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে আরও ৪ গারদা(আইরিশ পুলিশকে গারদা বলা হয়)।
এসব দেখে শুনে ডেইলি সান এর মত আমিও বলা শুরু করেছি, হ্যালোয়িন তো নয়, যেন হেল-ওয়িন।
ডট ডটঃ উপরের ছবিটা হ্যালোয়িনের দিনে তোলা আমার নিজের ছবি। বাচ্চা কাচ্চাদের ভয় দেখাতে পড়েছিলাম। চকোলেট নিতে এসে বেচারারা বড্ড ভয় পেয়েছে। মাঝে মাঝেই আমাকে আসল চেহারা দেখিয়ে প্রমান দিতে হয়েছে যে আমি ভুত না, মানুষ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

