অলৌকিক হাসানে র একটি লেখা পড়ে
নুশেরা র একটি পোষ্টের পর আশরাফে র পোষ্টটি পড়ে এ ব্যাপারে কিছু বলতে ইচ্ছে হচ্ছে। নাটক নিয়ে বলতে চাচ্ছি কিছু।
ইদানিংকালে আমাদের মেগাসিরিয়ালগুলো ভারতীয় বাংলা উপন্যাস নির্ভর করে বানানোর হিড়িক পড়ছে। এটি আসলে ডিরেক্টররা বাধ্য হয়েই করা শুরু করেছেন। কেননা আমাদের দেশে মেগাসিরিয়াল লেখার মত নির্ভর করা যায় এমন নাট্যকার কই?
আপনি একটি নাটক বানাবেন, চোখ বন্ধ করে ভাবুন, কোন নাট্যকার এর কাছ থেকে স্ক্রিপ্ট নিবেন? আছেন হাতে গোনা কজন। ৪/৫ জন নাট্যকার আমাদের পুরো নাটকের জগৎটা সামলাচ্ছেন।
এটাই সমস্যা। এদেশের নাটকের জগৎে নতুন নাট্যকার আসছন না। গত কবছরে আমরা অনেক স্টার ডিরেক্টর পেয়েছি, স্টার অভিনেত্রী, অভিনেতার সরবরাহ তো সবসময়ই খুব ভাল, কিন্তু নাট্যকার? নেই নেই নেই।
আর আমাদের দেশে মেগাসিরিয়াল বানাতে গেলে চ্যানেল গুলোর সাথে ভাল খাতির থাকতে হয়। নতুন করে কোন প্রজেক্ট নিতে গেলে হয় নামী নাট্যকার এর স্ক্রিপ্ট লাগে, অথবা পুর্ন স্ক্রীপ্ট থাকলে ধারনা দেয়া যায়। তো দেশে নাট্যকারের অভাব। একেকজন নামী নাট্যকার একই সময়ে দুতিনটা মেগাসিরিয়াল লিখছেন, তো আমি যদি এখন আরেকটা নতুন মেগা শুরু করি স্ক্রিপ্ট কোথায় পাব?
সেজন্যেই আমাদের ডিরেক্টররা সহজ পথ খোজেন। ভারতীয় বাংলা ভাল উপন্যাস গুলি পছন্দ করেন। তারপর সেই লেখকের সাথে দেখা করে অনুমতি নেন। তাতে একটা অগ্রিম পাবলিসিটিও হয়। পরে দেশের তরুন কোন স্ক্রীপ্টরাইটার দিয়ে ওইটা স্ক্রীপ্ট আকারে রিরাইট করে ফেলা হয়। তাতে দুটি সুবিধা, এক দেশের নামী নাট্যকার এত ব্যস্ত যে তারা আরেকটি মেগা লিখলে কোয়ালিটি গড়পড়তা হবার সম্ভাবনা থেকে বাচা গেল, দুই, কাহিনী সম্পর্কে সম্যক ধারনা থাকল।
আপনি গড়পড়তা একটা দেশীয় স্ক্রিপ্ট দিয়ে নাটক তৈরি করলে তা নিচু মানের হবে। কিন্তু ভারতীয় একটি উপন্যাস নিয়ে নাটক করলে তার স্ক্রীপ্ট কোয়ালিটি নিয়ে অন্তত কোন সন্দেহ থাকে না।
এজন্যেই পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে যাচ্ছে ভারতীয় সাহিত্য আমাদের নাটকে।
কিন্তু কথা হচ্ছে এই কাজটা কি ঠিক হচ্ছে?
আমার মত হচ্ছে ''না''।
যদি পরীক্ষামুলক ভাবে একটি দুটি সেরা উপন্যাস নিয়ে সেটি করা হয় তাহলে সেটি আমাদের নাট্য সাহিত্যে কোন প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু ঢালাও ভাবে করা হলে সেটি আমাদের নবীন সম্ভাবনাময় নাট্যকারদের এ জগৎে আসার পথ রুদ্ধ করে দিবে।
তাহলে আমাদের কি করা উচিত?
আমাদের ডিরেক্টরদের আরও একটু পরিশ্রমী হওয়া উচিত। তারা যে ভারতীয় উপন্যাস নিয়ে কাজ করছেন তাতে কিন্তু স্ক্রীপ্ট বিষয়ক চমক থেকে বন্চিত হচ্ছেন। দর্শক আগে থেকেই জেনে যাচ্ছেন কাহিনী কি। একটা উপন্যাশ্রয়ী নাটকের প্রচন্ড জনপ্রিয় হওয়া অনেক কঠিন।
আমাদের প্রডিউসার এবং ডিরেক্টরদের নাট্যকার তৈরিতে মনোযোগ দেয়া উচিত। তরুন প্রজন্মের মধ্যে একটা জাগরন তৈরি করা উচিত। দেশের অনেক তরুনই অত্যন্ত ভাল লিখার সম্ভাবনা নিয়ে বসে আছে। কিন্তু আমাদের নাটকের লোকেদের সে সম্পর্কে মনে হয় সে সম্পর্কে ধারনাই নেই। সমকালীন লিখিয়ে তরুনরা, যারা কিনা নাটক লিখার চেয়ে গল্প বা উপন্যাসকে বেশী গুরুত্ব দেন , তাদের সম্পর্কে কোন জানা শোনাও নেই আমাদের দেশের নাটকের মানুষদের, আমার সে রকমই মনে হয়।
যা করা উচিত সেই সব তরুন দের নাটক লেখার দিকে উৎসাহ দেয়া উচিত। তাদের উপর ভরসা করে স্ক্রীপ্ট লিখানো উচিত। তাতে করে একটি ট্রেন্ড তৈরি হতে পারে। একসময় আমরা ভাল ভাল তরুন স্ক্রীপ্ট রাইটার পেয়ে যেতে পারি। যারা সংখ্যায় অনেক হবেন। সুন্দর সুন্দর মানসম্পন্য স্ক্রীপ্ট লিখবেন। ডিরেক্টররা তাদের চাহিদা মত একটি বড় ধারাবাহিকের পুরো স্ক্রীপ্ট একসাথেই হাতে পেতে পারেন।
দরকার উদ্যোগের।
তা না হলে আমাদের একসময় আরও পরাশ্রয়ী হয়ে যেতে হবে।
ভারতীয় বাংলা সাহিত্য অবশ্যই আমরা পছন্দ করি। এবং পড়ি, চর্চা করি। কিন্তু নিজেদের বাদ দিয়ে সেগুলো নিয়ে পড়ে থাকলে একসময় নিজেদের কিছুই থাকবে না।
আজকেই আমরা মনে হয় অনেক খারাপ অবস্থায় এসে গেছি। তা হলে কেন আশরাফ তার পোষ্টে লিখবেন
''এপার বাংলায় ভাল লেখার কতটুকু মূল্য দেয়া হয়? নবীন একজন লেখকের কতটুকু স্বাধীনতা আছে? প্রতিভার বিকাশকে আমরা রুদ্ধ করে রাখছি। তাদের "দেশ", "আনন্দবাজার" ইত্যাদির মতন শক্তিশালী প্রচার মাধ্যম আছে। আমাদের শুধু সাহিত্য নির্ভর কোন পত্রিকা বা ম্যাগাজিন আছে কি? বুদ্ধদেব বসু'র "কবিতা" কিংবা সুনীলের "কৃত্তিবাস" এর মতন কোন শক্তিশালী কবিতা প্রকাশের মাধ্যম এপার বাংলায় কোনকালে গড়ে উঠেনি। আমাদের বই প্রকাশকাল হল বিশেষ বিশেষ দিবস মুখী, সেখানে কলকাতায় সারাবছরই কিছু না কিছু প্রকাশ হচ্ছে। সাহিত্যনির্ভর পত্রিকা কিংবা ম্যাগাজিন সাজসাজ রব তুলে বাজারে এসে হারিয়ে যায় মাস ছয়েক, বছর পরে; বড়জোর বছর দুয়েক থাকে স্থায়িত্বকাল।''?
আমাদের ভাল লেখা খুজে বের করতে হবে। সেরকম পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এবং ভাল লেখার মুল্য দিতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

