somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বারাক হুসেইন ওবামা : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট


ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে এই পোষ্ট দিলাম।

বারাক হুসেইন ওবামা। পৃথিবীর ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের নায়ক।
সাড়া পৃথিবীতে যখন এখনও কালোরা পিছিয়ে আছে, অবহেলার পাত্র হয়ে আছে, তখন ওবামা একজন কালো মানুষ হয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দেশ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। আজ ৪টা নভেম্বর ২০০৮ নতুন ইতিহাসের সুচনা হল।

বারাক হুসেইন ওবামা ১৯৬১ সালের ৪ টা আগষ্ট জন্মগ্রহন করেছিলেন। তিনি একজন আফ্রিকান-আমেরিকান হিসেবে সর্বপ্রথম আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ছিলেন এবং প্রথম একজন কালো মানুষ হয়েও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। বারাক ওবামার বাবা মুসলমান
ছিলেন মা ক্রিশ্চিয়ান।






ওবামার ছেলেবেলার ছবি, মায়ের সাথে




ওবামা কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি এবং হাভার্ড ল স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েট।
তিনি ইলিনিয়স অঙ্গরাজ্যে সিনেটর ছিলেন।
তিনি প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এর পরে ২০০৯ সালের ২০ জানুয়ারী থেকে হোয়াইট হাউজে অফিস করবেন। পৃথিবীতে রচিত হবে নতুন ইতিহাস।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28864901 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28864901 2008-11-05 10:52:08
হেল-ওয়িন...হ্যালোয়িন।


অক্টোবর মাসের শেষ দিনটাতে ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইউএসএ সহ বিশ্বের অনেক দেশে পালিত হয়ে গেল হ্যালোয়িন। হ্যালোয়িন মুলত আইরিশ ট্র্যাডিশনাল কালচার হলেও পরে তা ছড়িয়ে পড়ে ইউএসএ ,কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপের চারিদিকে। হ্যালোয়িন মানেই বাচ্চাদের ঈদ। তারা সবাই উইশ, শয়তান, স্কেলিটন, পিশাচ, ভুত, ড্রাকুলা ইত্যাতি সাজ সাজে। তাদের ঝুড়ি ভরে যায় চকোলেটে। মানুষ বাসা বাড়িতে চকোলেট এনে ভর্তি করে রাখে বাচ্চাদের দেবার জন্য। সন্ধা হলেই বাচ্চারা ভুতের সাজে বা পিশাচের সাজে মানুষের বাসায় হাজির হয়, তাদের চকোলেট দিয়ে সন্তুষ্ট করতে হয়।

আইরিশ উপকথা মতে হ্যালোয়িনের শুরু নিয়ে নানা গল্প রয়েছে। জ্যাক ও লেনট্রিন এর উপকথার অনেকগুলো গল্প পাওয়া যায়। জ্যাক শয়তানকে আপেল গাছে বন্দী করে তার কাছ থেকে কথা আদায় করেছিল যে জ্যাকের আত্মা কোন সময় শয়তান নিতে পারবে না। পরে জ্যাক নিজেই মরে যায়, শয়তান কে মুক্ত করে দিতে পারে না। ওদিকে সে পাপী ছিল বলে স্বর্গেও যেতে পারে না। আবার নরকেরও পারে না শয়তান বন্দী বলে। একসময় তার আত্মা পৃথিবীতে এসে ঘুরতে থাকে। এরকম নানা গল্প।

তবে শয়তান বোধহয় সত্যি সত্যি মুক্ত হয়ে যায় হ্যালোয়িনের দিনে। অন্তত আয়ারল্যান্ডের হ্যালোয়িন পালন দেখে এটি মনে হওয়াই স্বাভাবিক।
জনপ্রিয় আইরিশ পত্রিকা হেডলাইন করেছে, হেল-ওয়িন। তারা হ্যালোয়িনের দিনটিকে হেল এর সাথে তুলনা দিয়েছে। না দিয়েই বা কি করবে। কি হয় নি এবারে হ্যালোয়িন এ।

হ্যালোয়িনে বাচ্চাদের নির্দোষ মজার পাশাপাশি গ্যাংরা আর উঠতি বয়সী বখাটে ছেলেপেলেরা আগুন জ্বালিয়ে মজা করে। আতশবাজি, আগুন, বোমা ইত্যাদি চলতে থাকে। কোন কোন সময় তা চরম আকার ধারন করে। যদিও আইরিশ সরকার এ ব্যাপারে সবাইকে নিয়ন্ত্রনের ভেতরে থাকার কথা বলে, এবং আগুন না জ্বালাবার পরামর্শ দেয়, কিন্তু কে শোনে কার কথা! প্রত্যেক পাড়ায় পাড়ায় বখাটেরা আগুন জ্বালায়। আর এগুলো পরিস্কার করতে পরদিন বিপুল অংকের পয়সা ব্যয় হয় কাউন্টি কাউন্সিলের।

এবারের হ্যালোয়িনে হ্যালোয়িন আবর্জনা পরিস্কার করতে শুধুমাত্র ডাবলিন সিটি কাউন্সিলের ব্যয় করতে হয়েছে এক মিলিয়ন ইউরো। সাড়া দেশে এর পরিমান দুই মিলিয়ন ইউরো।
ডাবলিনে তিনচারটি ভ্যান, গাড়িতে আগুল দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে হ্যালোয়িনকে হেল-ওয়িন বানানো লোকেরা। পাড়ায় পাড়ায় পাড়লে মানুষের বাড়ি থেকে আসবাবপত্র বের করে এনে আগুন লাগায় বখাটেরা। অনেকেরই গার্ডেনের কাঠের বেড়া চলে গেছে এই কাজে।

সবচেয়ে অদ্ভুত কান্ড ঘটেছে ডরসেট স্ট্রীটএ। দুই গারদা (পুলিশ) গিয়েছিল আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করতে। সেখানে ৪০ জনের মত লোক আগুল জ্বালিয়ে আনন্দ করছিল। গারদা দুইজন সেটা থামাতে গিয়ে এমন মার খেয়েছে যে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে এখন। একই ঘটনা ঘটেছে ডাবলিনে দুইজন ফায়ারম্যানের বেলায়। সারা রাত ফায়ারম্যানেরা সতর্ক ছিল সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে। তাতে তাদের কপালে মারও জুটেছে।
সারা রাতজুড়ে উঠতি টিনেজারদের সাথে মৃদু সংঘর্ষ ছিল গারদার।
ক্লোনমেল নামের এক শহরে কিছু ছেলেপেলে হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই ছুড়ে মেরে মারধোর করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে আরও ৪ গারদা(আইরিশ পুলিশকে গারদা বলা হয়)।

এসব দেখে শুনে ডেইলি সান এর মত আমিও বলা শুরু করেছি, হ্যালোয়িন তো নয়, যেন হেল-ওয়িন।



ডট ডটঃ উপরের ছবিটা হ্যালোয়িনের দিনে তোলা আমার নিজের ছবি। বাচ্চা কাচ্চাদের ভয় দেখাতে পড়েছিলাম। চকোলেট নিতে এসে বেচারারা বড্ড ভয় পেয়েছে। মাঝে মাঝেই আমাকে আসল চেহারা দেখিয়ে প্রমান দিতে হয়েছে যে আমি ভুত না, মানুষ <img src=" style="border:0;" />।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28864411 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28864411 2008-11-04 10:46:06
আমাদের সাথে এমন অকারন রসিকতা না করলে কি হয় না একেবারেই?
দেশজুড়ে তখন যুদ্ধপরাধী বিচার নিয়ে বেশ সাজ সাজ রব। সবাই সোচ্ছার। সেক্টর কমান্ডার ফোরাম বেশ সক্রিয় হয়ে নেমেছিলেন। সাধারন মানুষেরাও কন্ঠ মিলিয়েছিল। তাতে করে সরকারের কোন এক জোকারের করা রসিকতা '' ৩৭ বছর পর এই যুদ্ধপরাধী ইস্যু নিয়ে বেশী কথা না বলাই ভাল'' ''এই সরকারের কাজ যুদ্ধপরাধী বিচার নয়...আমাদের কাজ নির্বাচন করে দেয়া'' গুলো তখন বুমেরাং হয়ে গিয়েছিল প্রায়। ঠিক তখনই সুচারুভাবে একটি কমেডি ড্রামা করা হল মতি নিজামীকে কদিন কারাগারের ভেতর ভিআইপি সম্মানে রেখে। দেশের অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতা সহ বাকী সবাইকে ধরে জেলে নিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে পিঠ বাকা করে দেয়া হয়েছে...আর একই অভিযোগে মতি নিজামীকে একমাসের জন্য আতিথেয়তা দিয়ে আইওয়াস নামের একটি সরস রসিকতা করা হয়েছিল বাংলাদেশ নামের আজব একটি রঙমন্চের মানুষদের সাথে। ওই কমেডি ড্রামার হাততালিতে যুদ্ধপরাধী বিচার ইস্যুযে কোথায় হাওয়া হয়ে গেল।
বাঙালী আবার নাটক পাগল কিনা!!! তাই তাদের একটু হাসির নাটক দেখালেই হল...সব খেয়ে বসে থাকে।

কিন্তু এবারের রসিকতাটুকু কি একটু বেশী হয়ে যাচ্ছে না? আর এর দরকারই বা কি? এখন তো আর ওইরকম কোন ইস্যু উঠছে না যাতে করে সাকার্স সরকারের ঘনিষ্টজনদের বিপদে পড়তে হয়। তবে কেন এমর কান্ড?

আলী আহসান মুজাহীদের নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হল। পুলিশ গিয়ে খুজে এসে বলল পায় নি বাসায় তাই এরেষ্ট করতে পারে নি। তারপর সেই মুজাহিদই স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টার সাথে সংলাপে বসে। আজকে আবার দেখি পুলিশ আবার একবার মুজাহিদকে গ্রেফতার করতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে এসেছে। তাকে পায় নি বলে তাদের কি আফসোস!!!!! দীপ্ত কন্ঠে তারা বলছে...তাকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই আটক করা হবে !!!!
উত্তরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম চৌধুরী বিপুল বিক্রমে যা বললেন এ ব্যাপারে তা হল-- "শনিবার বিকাল চারটা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মুজাহিদের উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের বাড়িতে প্রায় ১৫জন পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালায়। সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। খবর পেলে দেশের যে কোন স্থানে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালাবে।"

এমন রসিকতায় কি করা উচিত বুঝে উঠতে পারছি না। লাইনটা পড়ে দেখুন না। খবর পেলে(!!) দেশের যেকোন স্খানে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালাবে?????


মামলা দেয়া, গ্রেফতার আদেশ জারি, তারপর আবার প্রধান উপদেষ্টার সাথে সংলাপে বসা, তারপর আবার অভিযান..খবর পেলে অভিযান এসব সস্তাটাইপ ফালতু রসিকতা করে সরকার কেন তার যোগ্যতার প্রমান দিচ্ছে বুঝতে পারছি না। এসব না করলে হয় না?

আর কেনই বা মুজাহিদ সাহেবকে এমন হয়রানি? দেশে যদি একজন ফেরেশতা টাইপ লোক থেকে থাকেন তাহলে তা তো ওই মুজাহিদ সাহেবই। তাকে জড়িয়ে রসিকতা না করলেই কি নয়? ৭১ এ তিনি দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছিলেন। সেকথা ভুলে গিয়ে তাকে নিয়ে এহেন রসিকতা বন্ধ করা ভাল।

তারচেয়ে সার্কাস সরকার নামের টিভি চ্যনেলের মাধ্যমে বস্তাপচা কমেডি সিরিজ দেখানো বন্ধ করে দিয়ে সরাসরি চামচামিতে লেগে গেলেই হয়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28856650 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28856650 2008-10-19 00:58:06
ঈদের শুভেচ্ছা সবাইকে। আমাদের এখানে আয়ারল্যান্ডে আগামীকালকে ঈদ। বাংলাদেশে বৃহঃবার। ইংল্যান্ডে আজকেই পালন করা হয়ে গেছে ঈদ। আয়ারল্যান্ডের সাথে মেইনল্যান্ডের দুরত্ব ১০০ কিলোমিটারেরও কম। সময়েরও কোন পার্থক্য নেই। তবু কেন ঈদে একদিন পার্থক্য হয়ে গেল বুঝে উঠতে পারছি না। গত দুবছর এমন হল। তার আগে সবসময় একসাথেই দুজায়গায় ঈদ পালন হয়েছে।

ইদানীং কালের ঈদে বড়বেশী নির্লিপ্ত হতে শিখে গেছি। হয়ত বয়স হয়ে গেছে তাই। এটি হয়ত স্বাভাবিক। তবু মনে হয় দেশে থাকলে হয়ত মানুষের আনন্দ দেখেও আনন্দিত হবার একটা সুযোগ থাকত। দেশ থেকে দুরে থেকে শুধু নির্লিপ্ততাটুকুই শিখেছি। তাই আমার এবারকার ঈদটার মানেও শুধুই দু্ঃখবিলাস। মঙ্গল, বুধ, বৃহঃপতি- এই তিনটা দিন ঈদের জন্য তুলে রেখেছি। দেশীল ঈদের জাবরও যদি কাটি তবুও তো এটাও একরকম ঈদ পালন <img src=" style="border:0;" />, ঘুমিয়েই যদি কাটাই, তাও। টিভি দেখেও কাটানো যায়। ঘুরে বেড়িয়ে, ঈদের জামাত পড়ে, পরিচিতদের বাসায় গিয়ে বেড়িয়ে, কোন সুন্দর জায়গায় বেড়িয়ে আসা যায়।

ব্লগ মানে নাকি ওয়েব লগ। ওয়েবীয় দিনলিপি। তাই এখানেই নিজের আজাইরা প‌্যাচালের সবিস্তর কথাবার্তা বলা যায়। ঈদে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে একটু আগেই একটা স্যাড লেখা লিখে শেষ করে ফেলেছিলাম। সেটা পোষ্ট করতে গিয়ে কোন এক কারন উধাও হয়ে গেল। আবার লিখতে গিয়ে দেখি স্যাডনেসটা এখন আর ওত প্রবল ভাবে নেই। ওয়েব লগ তাহলে আসলেই কাজ দেয় <img src=" style="border:0;" />

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ভাল থাকুন। আনন্দে ঈদের সময়টুকু কাটান। দেশে থাকুন কিবা দুরে। অন্তত নির্লিপ্ত হয়ে থাকবেন না।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28849935 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28849935 2008-10-01 02:45:41
চুরি করা সময়ের বিবর্তন http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28844387 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28844387 2008-09-17 15:52:22 আমায় ক্ষমা করে দিও, বঙ্গবন্ধু।
সেই রাতটা আর দশটা রাতের মতই তো ছিল। শান্ত, নিস্তব্ধ। আর সব রাতের মতই, আর দশটা সাধারন বাঙালী পরিবারের মতই ঘুমিয়ে ছিল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসায় একটি বাঙালী পরিবার। ঘুমিয়ে ছিলেন একজন কাজে অসাধারন অথচ চলনে সাধারন একজন মহামানুষ। আর দশদিনের মতই রাতের খাবার খেয়ে, পারিবারিক বৈঠকে হাসি ঠাট্টা করে, ছেলে, বউ, বাবা,মা নাতি মিলে সময় কাটিয়ে শান্তির ঘুমে ঘুমিয়েছিলেন ওই বাড়ির বাসিন্দারা।

সেই রাতে হয়ত ঘুমুবার আগে শিশু রাসেলকে রাক্ষস দানবের গল্প শুনিয়েছিলেন তার মা, ভয়ে হয়ত আতঁকে কেপেঁ কেপেঁ উঠেছিল রাসেল। জানতও না একটু পরেই তার জীবনে দানবেরা হানা দিচ্ছে।

দানবেরা এল।

এই দেশটা দানবেদের দখলেই ছিল। মানুষের দুঃখদুর্দশার সীমাপরিসীমা ছিল না। পরাধীনতা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল জনপদটাকে। একটি মানুষ অদম্য সাহসিকতায়, বিপুল মহত্বতায়, পরম মায়ায় দেশের মানুষগুলোকে আগলে রেখে দেশটাকে নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতা এনে দিলেন। প্রতিদানে কি পেলেন? সেই রাতটা। হায়! এই কষ্ট কোথায় রাখি। কোথায় রাখি।

নিচের তলার ঘরে যখন দানবেদের ক্রুর শব্দ, তখন উপরে ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের অস্থির পায়চারি। বঙ্গবন্ধু হয়ত তখন তাকে সান্তনা দিচ্ছেন, 'কিচ্ছু হবে না। এটা আমার দেশ। আমাদের দেশ। এ দেশের মানুষ আমার মানুষ।'
ছেলে গেল নিচে। কুৎসিত দানবেরা তাকে গুলি করল। হতভম্ভ ছেলে বলতে চাইল, আপনারা ভুল করছেন। আমি আপনাদের প্রিয় নেতার ছেলে। দানবেরা তার বুকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করল। উপর থেকে সেই শব্দ শুনে তখন কি ভেবেছিলেন বঙ্গবন্ধু? এ দেশটায় তার সাথে এমন হবে! কেন?

একটা সময় উপরে উঠে এল এরা। বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে ধরল। তার মনে তখন কি ছিল- এরা কি চায়? কথা বলতে নিচের দিকে যেতেই সিড়ির মাঝে তাকে গুলি করল ঘাতকেরা। ফজিলুতান্নেসাকে আনা হল, তিনি তার স্বামীর লাশ দেখলেন। সেই স্বামী, যার দেখাই তিনি পেতেন না তার স্বামী দেশের জন্য ছুটতেন বলে, দেশের কথা বলে মামলা, জেল হয়রানীতে থাকবেন বলে, দেশটাকে স্বাধীন করতে কত কিছু করেছেন লোকটা আর তার স্ত্রী হিসেবে সেই সব হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন তিনি, আজ নিজ দেশে স্বামীর লাশ।
তাকেও মারল ঘাতকেরা। তারপর একে একে সবাই। শিশু রাসেলের গল্পের দানব বাস্তবে এসে গেল। ভয়ে কাতর শিশুর কম্পমান কন্ঠ' আমায় মারবে না তো!' অবোধ শিশুও নিস্তার পেল না হানাদারের নিষ্ঠুরতা থেকে। সবাই শেষ। একটা দেশের মুক্তিদাতা ও তার পরিবার।

কতটা দুর্ভাগ্য আমাদের। কতটা অভাগা জাতি আমরা যে ১৫ আগষ্ট আমাদের চোখের সামনে ঘটে গেল। আমরা কিছুই করলাম না। কতটা অকৃতজ্ঞ আমরা, হত্যাকান্ডের ২১ বছর পরে এ হত্যার মামলা দায়ের হয়। একটা গরুকে কেউ মারলেও দেশে মামলা হয়। অথচ জাতির স্থপতির পুরো পরিবারকে হত্যা করে ফেলল কতিপয় জারজ, সেই মামলা হয় না। ২১ বছর পরে হলেও, এখনও হত্যাকারীরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়ায়। বিদেশেই হোক, বেচে থাকে মানুষের মত। যা তাদের প্রাপ‌্য নয়।

ওই সব জারজদের। তাদের জারজ ছাড়া কিছু বলব না, এই দেশে এরা জারজই, এদের খুজে বের করে ...

মানুষকে আমি ঘৃনা করতে পারি না। অনেক খুজে দেখেছি, আমি আসলে ঘৃরা করতে জানি না। তবু শুধু একটা রঙের পোষাক পড়া প্রায় সকল মানষের প্রতি আমার জন্মের ঘৃনা। এরা তো মানুষও নয়। জলপাই রঙাদের আমি মানুষও বলি না। জানি সবাই সমান নয়। জলপাইদের মাঝেও সবাই দানব নয়। কিন্তু ওই রাতের জন্য আমার মনে জলপাইদের প্রতি আজন্ম ঘৃনা জন্মে গেছে। এখন তাদের কাউকে দেখলেই থুথু দিতে ইচ্ছে করে।

মাথাটা ভীষন এলোমেলো। কিছু চিন্তা করতে পারছি না। চোখটা বাড়ে বাড়ে ঝাপসা হয়ে আসে। জানি না কি লিখছি। এই লেখাটা শুধুই ঘৃনার আর ক্ষোভের। শোকের না মোটেও। ঘৃনা ওইসব জারজদের জন্য। ঘৃনা। যতটা ঘৃনা একজন মানুষের পক্ষে করা সম্ভব। যতটা ঘৃনা করলে কেউ ধ্বংশ হয়ে যায়।

এরা ধ্বংশ হোক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28831082 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28831082 2008-08-15 05:49:22
''কুউউ..'' ................(গল্প)
কুউউ...!

তীক্ষ হইসেল বাজিয়ে সবেগে ছুটে চলে সবুজ ট্রেন। বাকঁ খেয়ে ছুটে চলা ট্রেনের কোচগুলোর মৃদু ঝাকি খাওয়া ধীর করে দেয় যাত্রীদের মস্তিস্কের নিউরন সেলের ছুটে চলার গতি, বিদ্যুৎতরঙ্গ।
রাতটা বড় বেশী নিঝুম। তাই আশেপাশে ট্রেনের শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ স্পষ্ট হয়ে ওঠে না। জানালা দিয়ে চারিদিকে তাকালে ঘুটঘুটে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখার সাধ্য নেই কারও। তবু পুর্নিমার দিনে চাঁদ সঙ্গী হয়। আজ তাও নেই। আজ তাই আলো জ্বালানো ট্রেনটার একমাত্র পথের সঙ্গী অন্ধকার। অন্ধকারের সাথে কারও সখ্যতা নেই, তাই ট্রেনের যাত্রীরা প্রায় সবাই ডুবে গেছে ঘুমের অতলে। কেউ কেউ রিডিং লাইটে বইয়ের পাতায় চোখ রাখার ব্যর্থ চেষ্টা শেষে খোলাবই সামনে রেখেই ঝিমুচ্ছে কারও কানে দুর্বলভাবে গান শোনাচ্ছে ক্ষয়ে যাওয়া ওয়াকম্যান, মিউজিকপ্লেয়ার। আবার কেউ কেউ পাশের ভদ্রলোকের নাকডাকার বিকট শব্দকে বাধ্য হয়েই সঙ্গীত ভেবে নিয়ে সেই সুরে ঘুমুচ্ছে। সবাই ঘুমে, ট্রেনের এটেনডেন্টরা তাদের নির্দিষ্ট বিছানায় হাতপা লম্বা করে, বুটপালিশওয়ালা আর হকাররা ট্রেনের টয়লেটের দরোজায় হেলান দিয়ে, র্ফাষ্টক্লাস বার্থে যাত্রীরা স্লিপিংগাউন গায়ে জড়িয়ে সটান ঘুমুচ্ছে। কেবল ট্রেনের ড্রাইভার জেগে। তার জেগে থাকাই নিশ্চিত করে অন্য সবার আরামপ্রদ ঘুম।
ট্রেনটা হয়ত এসে গেছে কোন ষ্টেশনের আশেপাশে। কমে গেল এর গতি। ঘটঘট ঘটাং শব্দটা এখন বিরক্তিকর। তবু ঘুম ভাঙল না কারও। তীক্ষ আরেকটা অপ্রয়োজনীয় হুইসেল দিল ড্রাইভার। এই ষ্টেশনে ট্রেনটা থামে না।তাই কারও মাঝে জেগে ওঠার তাড়নাও দেখা দেয় না। শুধুমাত্র একজন জেড়ে ওঠে সবদিন। এই ট্রেনের প্রায় নিয়মিত যাত্রী ভদ্রলোক। প্রত্যেক মাসেই দুতিনবার অফিস ট্যুরে এদিকে যান তিনি।রাতে। তার প্রতিনিয়তের অভ্যাস এ ষ্টেশনের সামনে এসে জেগে ওঠা। আজও উঠলেন। নেই, এই মুহুর্তে তার চোখে কোন ঘুম নেই। শোভন চেয়ারের আরামদায়ক গদি থেকে পিঠ উঠিয়ে সবেগে জানালা খুলতে চান তিনি। দেখতে চান এটাই কি সেই জায়গা, যেখানে প্রতিবার তার ঘুম ভাঙ্গে। শব্দ করে জানালা খুলে ফেলেন তিনি। পাশের যাত্রীর ঘুমন্ত চোখ আর ভুরু কুঁচকে যায় বিরক্তীতে। ঠান্ডা হাওয়াই কুঁচকে যায় ত্বক। জানালা খুলে ফেলা ভদ্রলোক গলা বাড়িয়ে দেন জানালার বাইরে, দেখতে চান কিছু একটা, যা তিনি দেখেন প্রতিবার। খুজঁতে থাকেন। খুজঁতে থাকেন। সহসা চোখে পড়ে ষ্টেশনের নাম লেখা ইট পাথরের স্তম্ভটাকে।

ষ্টেশনটার নাম এখন আর পড়া যায় না দিনের আলোতেও। দিনের আলোতে দেখলেও ষ্টেশনটার অস্তিত্বপ্রমান করাই কষ্টকর বেশ। এটি এখন পরিত্যক্ত। কিন্তু একটা সময় লোকে গমগম করত এর আশপাশ। ষ্টেশনটাকে ঘিরে জমে উঠত বাজার। মানুষের কোলাহল। আনন্দবেদনার উপাখ্যান। কত মানুষের স্মৃতিজড়ানো ষ্টেশনটাতে। প্রতিটা ট্রেন এখানে থামত কোলাহলের সঙ্গী হতে। ষ্টেশনটা মিশে যেত যেন ষ্টেশনের মানুষে। মানুষরা মিশে যেত ট্রেনে। চলে যেত দুরে, দুরান্তে। আসতও। অথচ এখন এর দীনহীন অবস্থা। কেউ ভুলেও মাড়ায় না এ পথ।
একবার এক বড়কর্তা যাচ্ছিলেন এ পথ ধরে। ষ্টেশনে থামল ট্রেন। কিভাবে জানি ঘটে গেল একটা অঘটন। দাদীনানীর মুখে শোনে আজকের বাচ্চারা, দুতিনজন লোক নিজেদের ভেতরকার মারামারি ছড়িয়ে দিয়েছিল ট্রেনেও। খুনোখুনি হয়ে যায়। এমনকি ওই বড়কর্তার উপরেও ওঠে হাত। ব্যস, ট্রেন থামা বন্ধ ষ্টেশনটাতে। ধীরে ধীরে একটা উজ্জল ষ্টেশনের মৃত্যু। তার সাথে বিলুপ্তি কোলাহলেরও। আজকাল এই অন্ধকার কোন হাতরায় না কেউ। এর ঝোপঝাড়ে সাপখোপের আস্তানা। পলেস্তারা খসা লালঘরে মানুষের পা পড়ে না। নাহ্, পড়ে। এক অদ্ভুত বুড়ি অনেকদিন ধরে আছে এখানে, নিভৃতে।

ট্রেন ছাড়িয়ে যায় ষ্টেশন। ভদ্রলোকের ভাবনা জুড়ে আসতে চায় অনেক কিছু অথচ আসে ঘুম। আবার ঘুমে তলিয়ে যান ভদ্রলোক। ঘুমায় পুরো ট্রেন। ছুটে চলে লাইন ধরে, সমান্তরাল। ছুটে চলে আরেকজন ট্রেনের পিছু পিছু। লালঘরে বাস করা লালচোখের, এলোচুলের জটপাকানো বুড়ি, এখনও কি শক্তি তার গায়ে প্রানপনে ছুটে চলে ট্রেনের পিছু পিছু। পাথরে লেগে আঘাতপ্রাপ্ত হয় তার মলিন পা'জোড়া। ওদিক খেয়াল নেই বুড়ির। প্রতিদিনই ট্রেনের পিছু দৌড়ায় বুড়ি। ট্রেনের গতি বেড়ে যায়। দ্রুত অগ্রসরমান সাপের মত কিলবিল করতে করতে চোখের আড়াল হতে যায় ট্রেন। মুখ থুবরে পড়ে বুড়ি। গতদিনের অল্প শুকিয়ে আসা ক্ষতে আবারও আঘাত লেগে ছিলকে বেরোয় রক্ত। মুখটাও হয়ে যায় চোখের মত রঙীন। লাইনে পড়ে থাকে বুড়ি। পড়ে ঘুমায়। সে ঘুম আর ভাঙে না, সকাল হবার আগে।


দুই,

ভোরের সুর্য চোখে মুখে লাগতেই ঘুম টুটে যায় ছোট্টছেলের। এটা তার নিত্যদিনকার অভ্যাস। বিছানার পাশের জানালাটা ঘুম থেকে জেগেই খুলে দেন মা। ছেলের ঘুম ভাঙাতে এটাই যথেষ্ট। আজ ঘুম ছেড়ে ব্যস্ত দিন কাটবে তার। ছেলে যাবে বাবাকে খুজঁতে। নিজের স্বামীর প্রতি মহা বিরক্ত তিনি। আর বিরক্ত ঘরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা সবুজ ট্রেনগুলোর প্রতি। সেইযে মাস আগে তার স্বামী এই ট্রেনের বুকে চড়ে শহরে গেলেন আর তার ফেরার নাম নেই কেন? শহরে কি এতই চাকচিক্য, মোহ! যে তার নির্লোভ স্বচ্ছ ভালবাসা, ঘাসের কচিপাতার উপর শিশু শিশিরকনার আলোর খেলার মত তার ছোট্টছেলের হাসিও এর কাছে নিঃস্ব?
অগত্যা তাই সিদ্ধান্ত বাপতে খুজঁতে ছেলেকে যেতেই হবে শহরে। সাত থেকে আটে পড়েছে ছেলে। নিজের নামটা, ওর জন্মদাতা বাপের নামটা, ওর মাতৃভুমি গ্রামের নামটা বলতে পারে সাবলীলভাবেই। শহরে ওর বাপ যে ঠিকানায় গেছে সে ঠিকানাটা গুটগুটে হাতে লিখতেও জানে। আর শহর কি এতই জটিল যে স্পষ্ট ঠিকানা খুজে পাবে না। আর ওর সাথে তো পাশের গায়ের মন্টুর বাপ থাকবেই। মায়ের আর চিন্তা কিসের?
ওদের যাত্রার সময় হয়ে এল বলে। আকাশপাতাল চিন্তা করে আর সময় নষ্ট করেন না তিনি। তাগাদা ছেলেকে , 'ওঠ অন্তু....।'

কাপাঁ কাপাঁ পায়ে ট্রেনে চেপে বসে অন্তু। ডানহাত দিয়ে চেপে ধরে রাখে পাশের গায়ের কেরামত চাচার হাত। সেই ছাড়ে না শহরে প‌ৌছেও। শহর কি বিপুল চাকচিক্যের । ষ্টেশনে নেমেই হতবাক ছোট্ট অন্তু! এত বিশাল জংশন, এত মানুষজন, এত ব্যস্ততা, ছোটাছুটি, হারিয়ে যেতে পারে যে কেউ। এই কথাটা যখন মনে আসে তখন অন্তু তার ডানহাতের শেষপ্রান্তে কেরামত চাচাকে আর পেল না। অন্তুর উজ্জল মুখে অসহায়ত্বের ছায়া আসতে সময় লাগে না একটুও। চোখ দিয়ে জল বেড়িয়ে আসার আগেই বুঝতে পারে শহরের অসহ্য ভীরে মিশে গেছে সেও। এই জনারণ্য ভীর তাকে কোথায় নিয়ে যাবে তা ও জানে না।

জীবনের অনেক দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে সেদিনের সেই ছোট্ট অন্তু এখনও জানে না সে কোথায় চলেছে। বড় চাকরি এখন তার। মাসশেষে মোটা বেতন। ছিমছাম ঘরে একটা মিষ্টি বউ আর ফুটফুটে ছেলে। ছেলেটার দিকে তাকালেই হিংসে হয় তার, বাপ হয়েও। ওর তো কি সুখ! বাবামা সারাক্ষন তার পাশে পাশে থাকে। কিন্তু ওর বাবাযে নিজের বাবামাকে সেই শৈশবেই হারিয়ে বসেছে সে তো আর তার জানার কথা নয়। বাবা মা না থাকার কষ্টটা এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় জুয়েলকে। তার এখনকার জীবনটা এত সুখ আর স্বাচ্ছন্দের। তবু মনে হয় ছোট্টবেলায় তার সেই উচ্ছল জীবন, মিষ্টি নাম অন্তু, সেসবই ভাল। বাবা মার চেহারাটা আর মনে আসে না। কেরামত চাচার মুখটা চোখে ভাসে। আর চোখে ভাসে সেই দিনের কথা। সেদিন ষ্টেশনে ভীরের মাঝে কিভাবে যে ছুটে গেল হাতটা। স্পষ্ট চোখে ভাসে সেসব দৃশ্য। চোখে ভাসে সবুজ গ্রামের দিগন্তবিস্তুত মাঠে নিজেরও ছুটন্ত পাজোড়ার ছবি। একটা লালঘর। তার সামনের রেললাইনে দৈত্যগাড়ির ছুটে চলা অবিরত। নিজেদের ছোট্টঘরে নির্জনে, নিঃশব্দে ঘুম। স্নিগ্ধ সকালে চোখে আলোলাগা মায়ের ডাক।
'ওঠ অন্তু...'
জোর করে মায়ের দিকে তাকতে চায় সবকটা অর্ন্তচক্ষু। কিন্তু মায়ের ছবিটা যে মনে ভাসে না। অব্যক্ত এক যন্ত্রনা ঝাপটা দিয়ে আসে মনে। কিলবিল করে বাড়ে দুঃখবোধ। উফ! গ্রামের নামটাও যদি মনে হত। সেই ষ্টেশনের ধারের ছোট্টগ্রাম। ষ্টেশনটার নাম ফলকে লেখা থাকত। কী যেন নামটা।
কি নাম? কি নাম?...কি নাম...??
চিৎকার করে ওঠে জুয়েল। ধরফর করে উঠে বসে। পাশে শোয়া স্ত্রী ও ওঠে বসে। ঘেমে একাকার বড়অন্তু। বিছানার পাশের টেবিলের উপর রাখা প্লেটেঢাকা গ্লাস থেকে একঢোকে সবটুকু পানি গটগট করে খেয়েও হাপায় অসুস্থ রোগীর মত। অসহায় চোখে তাকায় স্ত্রীর সিকে।
-'আবার দেখলে স্বপ্নটা?'কেন নিজের অতীত নিয়ে এতটা ভাব? আমি, আমরাই কি তোমার সব না?' নরম কন্ঠে বলে ওর অস্থির সময়ের বন্ধু।
নিজের স্ত্রীর কোমল কন্ঠ হৃদয়ে দাগ কেটে যায়। চোখ জল আসে, আটকে রাখতে পারে না। গভীর রাতে এই ভেসে আসা জলে বাধা দেয় তারই সন্তানের মা।
'ছি: কাদোঁ কেন? এখন যদি খোকন ওটে পড়ে?' পাশে শোয়া ছোট্ট ছেলেকে দেখিয়ে বলে জুয়েলের স্ত্রী।' তবে কি লজ্জার কান্ডই না হবে। ও জিজ্ঞেস করবে, বাবা কাদেঁ কেন? বাবা কি লজেন্স খাবে?' হেসে হালকা করতে চায় স্বামীর মন।' ঘুমাও তো এখন, কাল সকালে না ট্যুর আবার।'




তিন,


অনেকদিন আগে এক বিকেলে নাম ভুলে যাওয়া গ্রামে স্নেহময়ী মায়ের কাছে হাজির হয় পাশের গাঁয়ের মন্টুর বাপ কেরামত আলী। জানায় করুন কাহিনী। কি ভাবে জানি ষ্টেশনে ভীরের মধ্যে হারিয়ে গেছে অন্তু।
ভালবাসার স্বামীর সাথে সাথে এখন সোনার টুকরাো ছেলেও হারিয়ে গেছে? মাথায় আক্ষরিক অর্থেই আকাশ ভেঙে পড়ে তার উপর। চিৎকার দিয়ে ছুটতে থাকেন তিনি। ছুটতেই থাকেন বাড়ির পাশে ষ্টেশনের বারান্দা ছুয়ে রেললাইন ধরে। তার এই ছোটা আজও থামেনি। সেই ষ্টেশনে আগে ট্রেন থামলেই যাত্রীরা পাগলীর অত্যাচার সইত। ট্রেনে ওঠে ছেলেকে, স্বামীকে খুজঁত পাগলী। এখন ট্রেন থামে না। পাগলী এখন থ্থুরে বুড়ি।তবু শেষ বয়সে এসেও ছুটে চলা ট্রেনের পিছনে সমস্ত শক্তি এক করে ছুটতে থাকে বুড়ি। মুখ থুবড়ে পড়ে একসময়। পাথরে ঘসা লেগে উঠে যায় হাত পা মুখের চামড়া। তবু ক্ষান্ত দেয়না পাগলী বুড়ি। তবুও ছুটে।
এই ষ্টেশনের মৃত্যুর সাথে গ্রামের ও মৃত্যু হয়েছে। এখন এখানে কেউ থাকেনা। মৃত গাঁয়ের পাশের গাঁয়ের লোকেরা বেশ কবার এখান থেকে বুড়িকে সরিয়ে নিতে চেয়েছিল। বুড়ি যায় নি।
বুড়ি অপেক্ষা করে আছে তার স্বামীর জন্য, ছেলের জন্য।



চার,

গভীর রাত। ট্রেনের সবাই ঘুমে নিমজ্জিত। মুল ষ্টেশন থেকে ছাড়ার পর একবারও থামেনি ট্রেন। ঘন্টা তিনেকের পথ পেরিয়ে এসেছে। চারিদিকে শুনশান পরিবেশ। শুধুই ট্রেনের ঝিকঝিকঝিক শব্দ।

এসে পড়েছে ট্রেনটা নামফলক মুছে যাওয়া মৃত ষ্টেশনের কাছাকাছি। চোখ উজ্জল হয়ে ওঠে পাগলী বুড়ির সেই শব্দ শুনে। তার স্বামী এসেছে। তার ছেলে এসেছে ট্রেনে চেপে। উঠে দাড়ায় সে। প্রতিবার ট্রেনটা চলে যায় তাকে ফেলে, ফাঁকি দিয়ে। এবার নিশ্চই থামবে। ট্রেন থামে না। ছুটে পেরিয়ে যায়। দৌড়াতে থাকেন বৃদ্ধা, সজল চোখে।

কুউউ....।

ট্রেনের হুইসেল অন্তর ভেদ করে যায় অস্থির ভদ্রলোকের। এই কি সেই জায়গা? এই্ কি সেই জায়গা...? ফিসফিস করে বলে মাত্র জেগে ওঠা বড়অন্তু জুয়েল রহমান। অস্থির হয়ে জানালা খুলে বাইরে মুখ বাড়িয়ে দেখতে চায় কিছু একটা।

বাইরে শুধুই নিকষ কালো অন্ধকার। আর কিছুই চোখে পড়ে না।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28828948 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28828948 2008-08-09 09:10:12
নরকে বসবাস
বৃহস্পতিবার অধিকার এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বরিশালে সেন্টুকে 'ক্রসফায়ার' থেকে বাঁচাতে র‌্যাবের এক কর্মকর্তাকে তিন লাখ টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তার মা। মেজর মামুন নামের ওই কর্মকর্তাকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম থেকে তার ০১৭১৪০৯৩৬০৯ নম্বরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

অভিযোগ সম্পর্কে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহা পরিচালক কর্নেল গুলজার আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ওই তিন মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে আমরা আগেই বক্তব্য দিয়েছি। তারা বন্দুকযুদ্ধের সময়েই নিহত হয়। এ সম্পর্কে তাই নতুন করে কিছু বলার নেই।"

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাড়াদি গ্রামে গত ১৮ জুন ভোররাতে গুলিতে নিহত হন চরমপন্থী সংগঠন জনযুদ্ধের শীর্ষ নেতা দাদা তপন (৪৮) ও তার সঙ্গী রিক্তা।

র‌্যাব বিষয়টিকে 'বন্দুকযুদ্ধে' মৃত্যু দাবি করলেও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তপনের ভাই গোলাম হোসেন আকাশ 'অধিকার'কে বলেন, "র‌্যাব সদস্যরা ১৮ জুন ভোররাতে বাড়ির ভিতরে ঢুকে তপনকে কাছ থেকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করে। ওই বাড়িতে থাকা রিক্তাকেও একইভাবে মাথায় ও পায়ের পাতায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।"

কুষ্টিয়ার মুখ্য বিচারবিভাগীয় হাকিম আদালতের হেফাজতে থাকা অবস্থায় আদালতের পুলিশ পরিদর্শক জাফরের মাধ্যমে অধিকারের সঙ্গে কথা বলার কয়েকদিনের মাথায় ২৬ জুন আকাশও র‌্যাবের 'ক্রসফায়ারে' নিহত হন।

আকাশ 'অধিকার'কে জানান, ১৮ জুন রাত ২টার দিকে তিনি নিজের বাসার গেটে কড়া নাড়ার শব্দ পান। গেট খোলার পর র‌্যাব সদস্যরা তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে কোমরে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর বন্দুকের নল দিয়ে পাঁজরে আঘাত করে এবং উপুড় করে ফেলে বুট দিয়ে মাড়িয়ে তার বাম পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়।

পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি-এমএল জনযুদ্ধের প্রতিষ্ঠার পর তপন অস্ত্র, গুলি ও রাজনৈতিক বইপত্র ভাইয়ের বাড়িতে রাখতেন বলে জানান ভাই আকাশ।

ঘটনা সম্পর্কে আকাশের স্ত্রী আজমেরী ফেরদৌসী আঁখি 'অধিকার'কে জানান, গভীর রাতে দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর র‌্যাব সদস্যে বাড়ি ভরে যায়। তারা তার স্বামীকে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে আকাশ ঘরে থাকা দেড় হাজার গুলি, একটি পিস্তল, জনযুদ্ধের প্রায় পাঁচ হাজার মাসিক বুলেটিন ও রাজনৈতিক বইপত্র, একটি কম্পিউটার, ফ্যাক্স মেশিন ও প্রিন্টার বের করে দেন। ভোর ৪টার দিকে একদল র‌্যাব সদস্য আকাশকে নিয়ে তপনকে খুঁজতে বাইরে চলে যায় এবং অন্য একদল বাড়ি ঘেরাও করে রাখে।

তিনি জানান, সকাল ৭টার দিকে র‌্যাব সদস্যরা আবার তার স্বামীকে নিয়ে ফিরে আসে। র‌্যাবের পিটুনিতে আকাশের কপাল, বাহু মারাত্মকভাবে জখম ছিল এবং তার আঙ্গুল থেকে রক্ত ঝরছিল।

আঁখি অভিযোগ করেন, আকাশ প্রস্রাব করতে চাইলে হাতকড়া পরা অবস্থায় তাকে টয়লেটে নেওয়ার পর দেখা যায় তার মুত্রনালী থেকে রক্ত ঝরছে। যন্ত্রণায় তিনি চিৎকার করছিলেন। আকাশ স্ত্রীকে জানান, র‌্যাব তপন ও রিক্তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। ঘরের সব মালামাল জব্দ করে সকাল ১১টার দিকে আকাশকে নিয়ে চলে যায় র‌্যাব।

তপনের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত রিক্তার মা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আলেয়া বেগম (৪৫) জানান, তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট রিক্তা (১৮) দশম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করার পর সংসারের হাল ধরেন। তিনি কুষ্টিয়া থেকে শাড়ি ও থ্রি-পিচ কিনে এনে তাতে হাতের কাজ করে ঝিনাইদহে বিক্রি করতেন।

আলেয়া বেগম জানান, হাতের কাজ ভালভাবে শেখার জন্য মারা যাওয়ার প্রায় এক মাস আগে আরো দুটি মেয়ের সঙ্গে রিক্তা কুষ্টিয়ায় একটি বাড়িতে ওঠে। ১৮ জুন সকালে টেলিভিশনে মেয়ের মৃত্যর খবর পান তিনি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে র‌্যাব ও পুলিশের পাহারায় রিক্তার লাশ বাড়িতে আসে। তার মাথায় ও পায়ে একটি করে গুলির চিহ্ন ছিল।

আলেয় বেগম দাবি করেন, তার মেয়ে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল না। থানায় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জিডিও নেই। এরপরও মেয়ের কোনো অপরাধ থাকলে তার বিচার না করে কেন হত্যা করা হলো?

গোলাগুলির পর ঘটনাস্থলে যাওয়া গ্রাম পুলিশ আনছার আলী জানান, তপনের বুকের বিভিন্ন জায়গায় এবং বাম বাহুতে মোট ছয়টি গুলি লেগেছিল। তার পাশেই পড়ে ছিল রিক্তার লাশ। রিক্তার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল, মৃত্যুর আগে কারো সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। গুলিতে রিক্তার মাথার খুলি এবং মুখের ডান পাশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

রিক্তার মৃত্যু সম্পর্কে কুষ্টিয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাবুল উদ্দিন সরদার 'অধিকার'কে বলেন, "একজন র্দুর্ধষ সন্ত্রাসীকে মারতে গিয়ে ১০ জন ভাল মানুষ নিহত হলেও কিছু করার নেই।"

এ স¤পর্কে র‌্যাব- ১২ এর ক্যাপ্টেন মাহমুদের ভাষ্যও একই রকম। 'অধিকার'কে তিনি বলেন, "তপনকে মারতে গিয়ে আরো ১০ জন ভাল মানুষ মরলেও র‌্যাবের কিছু করার ছিল না।"

তার দাবি, আকাশকে নিয়ে পাশের গ্রাম বাড়াদীতে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব তপনের সন্ধান পায়। র‌্যাব সদস্যরা তপনের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করলে তপন ভেতর থেকে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়ে ভিতরে ঢুকে দেখতে পায় তপন ও রিক্তা নিহত হয়েছে।

এদিকে, বরিশালে ছাত্রদলের নেতা মো. মশিউল আলম সেন্টুকেও (৩৪) 'ক্রসফায়ারের' নামে র‌্যাব হত্যা করেছে বলে 'অধিকারের' কাছে অভিযোগ করেছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

বরিশালের পশ্চিম কাউনিয়া বাগানবাড়ীর সেন্টুকে ১৫ জুলাই ঢাকার নীলক্ষেত এলাকা থেকে আটক করা হয়। সেন্টু বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি ছিলেন।

র‌্যাবের দাবি, আটকের পর সেন্টুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে যাওয়ার পথে ১৬ জুলাই ভোররাতে তার সহযোগী ও র‌্যাবের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের সময় নিহত হন সেন্টু।

সেন্টুর মা 'অধিকারের' কাছে অভিযোগ করেন, জরুরি অবস্থা জারির পর বরিশালে র‌্যাব- ৮ এর মেজর মামুন রূপাতলীর সুলতানের মাধ্যমে তাকে জানান, সেন্টুকে 'ক্রসফায়ারে' হত্যা করা হবে। এটি ঠেকাতে রূপাতলীর সুলতান ও দোলনের মাধ্যমে জুনের ১৯ অথবা ২০ তারিখ মেজর মামুনকে তিনি তিন লাখ টাকা ঘুষ দেন। এরপরও র‌্যাব পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে হত্যা করেছে।

সেন্টুকে গ্রেপ্তারের প্রত্যক্ষদর্শী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ছাত্র সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম মামুন 'অধিকার'কে জানান, খালেদা জিয়া ও ছাত্রদল নেতা হেলালের মুক্তির দাবিতে ১৫ জুলাই ঢাবি ক্যাম্পাসে অনশন কর্মসূচি পালন শেষে সন্ধ্যায় কয়েক নেতাকে নিয়ে তিনটি রিকশায় তারা হাজী মোহাম্মদ মহসীন হল হয়ে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন।

এ এফ রহমান হলের সামনে র‌্যাব- ৩ লেখা একটি সাদা মাইক্রোবাস পেছন থেকে এসে রিকশা থামানোর সংকেত দেয়। রিকশা পাশাপাশি থামলে র‌্যাব সদস্যরা এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

মামুন দাবি করেন, সেন্টু রিকশা থেকে নামলে র‌্যাব সদস্যরা তার বাম পায়ে গুলি করে। তিনি পালানোর চেষ্টা করলে সাত থেকে আট র‌্যাব সদস্য তাকে ধরে রাস্তার ওপর ফেলে অস্ত্রের বাট দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে সেন্টু নিস্তেজ হয়ে পড়লে গামছা দিয়ে চোখ ও হাত বেঁধে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেন্টু নিহত হওয়ার কথিত স্থান বরিশালের কাশিপুরের বিল্ববাড়ী এলকার মর্জিনা বেগম 'অধিকার'কে জানান, ১৬ জুলাই ভোর ৪টার দিকে ঘুম ভেঙে দেখেন বৃষ্টি হচ্ছে। বাইরে কোনো কিছু ভিজছে কিনা দেখতে ঘরের বাইরে বেরিয়ে তিনি লক্ষ করেন, রাস্তায় তিনটি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে এবং র‌্যাবের পোশাক পরা ১০ থেকে ১৫ জন লোক হাঁটাহাটি করছে।

মর্জিনা বেগম মেয়ে রতœাকে ঘুম থেকে ডেকে ঘটনাটি দেখান। ঘরের পাশে দাঁড়িয়ে তারা দেখেন, দুই/তিন জন করে র‌্যাব সদস্য রাস্তার একেক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।

মর্জিনা জানান, র‌্যাব সদস্যরা রাস্তাটি ব্লক করে দুই থেকে তিনটি ফাঁকা গুলি করে। ভোরের হালকা আলোয় দেখা যায়, গাড়ির ভিতর থেকে কী যেন ধরাধরি করে বের করে রাস্তার পাশের ধান ক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর চার থেকে পাঁচজন সেখানে জড়ো হয়ে বেশ কয়েকটি গুলি ছোড়ে।

মর্জিনা জানান, তিনি আর ঘুমাতে পারছিলেন না। র‌্যাব ধান ক্ষেতে কী ফেলে এভাবে ফাঁকা গুলি করল জানার কৌতূহল হয় তার। পানি আনার অজুহাতে কলসি নিয়ে র‌্যাব সদস্যদের মাঝ দিয়ে তিনি কয়েকবার পাশের আফজাল হোসেনের বাড়ি গিয়ে আবার ফিরে আসেন।

মর্জিনা দেখেন, র‌্যাব সদস্যরা 'কিছু একটা' যেখানে ফেলে এসেছিল ধানক্ষেতের সেখানে ছাত্রদল নেতা সেন্টুর লাশ পড়ে আছে। র‌্যাব লাশটি কার তা জানতে চাইলে ঝামেলা এড়ানোর জন্য তিনি চেনেন না বলে জানান।

এরপর র‌্যাবই তাকে জানায়, লাশটি ছাত্রদল নেতা সেন্টুর। গোলাগুলিতে সে নিহত হয়েছে।

মর্জিনা দাবি করেন, "তখন ঘটনাস্থলে কোনো অস্ত্র ছিল না, কিন্তু পরে র‌্যাব সদস্যরা গাড়ি থেকে অস্ত্রশস্ত্র নামিয়ে মাটিতে সাজিয়ে রাখে। এছাড়া সেন্টুর লাশ পড়ে থাকার স্থানে কোনো রক্ত ছিল না, পাশে দু'টি নতুন গামছা পড়ে ছিল।"

একই এলাকার খালেদা বেগম জানান, ওই সময়ে তিনি বাইরে বের হয়ে দেখেন, বেশ কিছু র‌্যাব সদস্য বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে ফাঁকা গুলি ছুড়ছে। তিনি কোনো কথা বা চিৎকার শোনেননি।

ওই এলাকার পাশের পশ্চিম কাউনিয়া বাগান বাড়ির অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মাহতাব (৫২) 'অধিকার'কে জানান, ১৬ জুলাই সকালে তিনি সেন্টুর লাশ দেখতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। ধান ক্ষেতে সেন্টুর লাশ চিৎ হয়ে পড়ে ছিল।

তিনি বলেন, "ধান গাছ যেহেতু নষ্ট হয়নি, তাই লাশটি অন্য জায়গা থেকে এনে সেখানে শুইয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছিল।"

সেনাবাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, "সেন্টুর বুকে আঘাত করা গুলি দুটি সর্বোচ্চ গতি দূরত্ব থেকে এবং পায়ের গুলিটি এক থেকে দেড় ফুট দূরত্ব থেকে করা হয়েছিল বলে ক্ষতচিহ্নের ধরন দেখে মনে হয়েছে। তার ঘাড় থেঁতলানো ছিল এবং বাম হাতটি ভাঙা মনে হচ্ছিল।"

সেন্টুর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করা বরিশাল কোতয়ালি থানার উপ পরিদর্শক স্বপন 'অধিকার'কে জানান, সেন্টুর বুকে দুটি গুলি লেগে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায় এবং বাম উরুতে একটি গুলি লেগে তা ভিতরে থেকে যায়। লাশ পড়ে থাকার স্থানে কোনো রক্ত ছিল না।

এদিকে, বরিশাল শহরের রূপাতলীর মো. সুলতান (৩৯) জানান, সেন্টুকে 'ক্রসফায়ারে' হত্যা করা হবে- এমন আলোচনা তিনি আগেই র‌্যাব সদস্যদের কাছ থেকে শুনেছিলেন। এজন্য তিনি সেন্টুর মাকে মেজর মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। তবে সেন্টুর মা ও মেজর মামুনের মধ্যে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

ওই এলাকার দোলনও (২৫) জানান, ছেলেকে যাতে হত্যা না করা হয় সেজন্য মাস খানেক আগে সেন্টুর মা মেজর মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ যোগাযোগে দোলনও সহায়তা করেন।

এ ব্যাপারে বরিশালে র‌্যাব- ৮ এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইরশাদ জানান, ঢাকার কাঁটাবন এলাকা থেকে সেন্টুকে আটকের পর সে স্বীকার করে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় তার অনেক অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। ১৬ জুলাই ভোররাতে বরিশাল শহরের কাশিপুর বিল্ববাড়ী এলাকায় পৌঁছালে সেন্টুর সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নেতে র‌্যাবের মাইক্রোবাসের উপর আক্রমণ করে এবং গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা চালায়। এ সময় সেন্টু র‌্যাবের মাইক্রোবাস থেকে পালিয়ে যায়। দু'পক্ষের মধ্যে ১০ থেকে ১২ মিনিট গুলি চলার পর র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে সেন্টুর মৃতদেহ দেখতে পায়।



খবর বিডিনিউজের।
যৌক্তিক কারনে কপিপেষ্ট।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28828628 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28828628 2008-08-08 05:25:03
জন্মদিনের আবোলতাবোল
এখন বাজে রাত ২ টা ৭, বাংলাদেশে ৭ টা ৭। সে হিসেবে দেশে ৩ আগষ্ট দিন শুরু হয়ে গেছে। ভালই লাগছে। আজকে আমার জন্মদিন বলে। অনেকগুলো বছর আগে আজকের এই দিনে আমি জন্মেছিলাম। অদ্ভুত।
দেশে থাকতেও কোনকালে আমার জন্মদিন নিয়ে আমি বেশী মাতামাতি করিনি, আড়ালেই থেকে যেত তা, বিদেশে এসে তবু কেন জানি দেশকে মিস করছি। মনে হচ্ছে দেশে থাকলে অন্তত দেশের বাতাস, মাটি, রিক্সার টুংটাং, রাস্তায় কিশোরীর কলকাকলি, মানুষের হাক, ফেরীওয়ালার ডাক, ধুলো আমাকে ছুয়ে যেতে পারত পরম মমতায়। এখানেএই ভীনদেশে আমাকে কে দেবে সেই অকৃত্রিম ছোয়া?

তাও একটু পেলাম ব্লগে এসে। মিল্টন ভাইয়ের এর পোষ্টটার জন্য আবারও কৃতজ্ঞতা ।
সত্যি অনেক ভাল লাগছে, কেক কাটতে ইচ্ছে হচ্ছে রীতিমত। যেটা অনেকবছর হয় করা হয় নি। ভুলেই গেছি কোনসময় করা হয়েছিল কিনা! হাহ হা।
লেখা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। চোখে সামান্য ঘুম আর মনে একুট আধটু চঞ্চল্য মিলে এ অবস্থা।

যা হোক। সবাই ভাল থাকুন।
বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28826799 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28826799 2008-08-03 07:19:49
ইসিসটেম ল্যাপটপের সাউন্ডকার্ড মিসিং সমস্যা আমার পুরনো ফেলে রাখা ইসিসটেম ল্যাপটপটাকে কাজ চালানোর মত করতে ফরম্যাট করেছিলাম, এখন আর সাউন্ড আসছে না। সাউন্ডকার্ড ধরতেই পারছে না। এখন এর উপায় বলেন, প্লীজ।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28826185 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28826185 2008-08-01 03:35:35 কিছু মনে নিয়েন না, একটু জ্যোতিষি হতে ইচ্ছে...
একটা ভবিষ্যৎবানী করতে চাচ্ছি। কিছু মনে করবেন না, বিষয়টা একটু বিরক্তিকর তবে মজার <img src=" style="border:0;" />
খেলাটা একই, শেষপর্যন্ত গোলই হয়, বাংলাদেশের মানুষ এ ধরনের একটা খেলাই দেখেছিল ধরা যাক ফুটবল। ইদানিং তা রাগবি বা গেইলিক হিসেবে আসছে আর কি। যে জাতির জন্য যে ট্রিটমেন্ট।
আচ্ছা ভবিষ্যৎবানীতে আসি।
ফাসির আসামীকে মাফ করতে পারেন যিনি তার ছেলে, পু্ত্রবধু ইত্যাদির নামে ইদানিং বেশ কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে, নানা আকুল আবেদনও প্রায় এসেই গেছে…মহামান্য, আপনি পদ আকড়ে ধরে রাখবেন না, দুর্নিতীর অভিযোগ চলে এসেছে আপনার পরিবারের বিরুদ্ধে, আপনি বিতর্কিত অধ্যাদেশ সাক্ষর করে চলেছেন…হেন তেন।
শীগ্রই আমাদের ফাসির আসামী মাফ করার ক্ষমতা সম্পন্য দেশের একমাত্র লোকটি মনে হয় নানা পারিপার্শিকতায় নানা অভিযোগে লজ্জা পেয়ে আর শারিরিক দুর্বলতায় পদত্যাগ করতে চলেছেল। একেবারে মোক্ষম সময়…১০ এর ২৩ এ আবার দামামা বাজবে ৩৩০ জায়গায়।
পদত্যাগে পদশূন্য হবে, আবারও উদ্ধারকর্তা আসবেন নতুন রূপে…
কদিন পরে বৈধতা দিতে ৩৩৩ তো থাকলই <img src=" style="border:0;" />

একই চক্র।
ব্রেভ ইউ প্ল্যানার। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28823974 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28823974 2008-07-25 07:38:20
এরপর যদি আমি পাগল হই তবে কি তা আমার দোষ? ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28823549 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28823549 2008-07-24 04:52:50 আনন্দমাখা বিষাদ...
আমার খুব পছন্দের দুটা কবিতা আছে মন ভাল নেই নিয়ে, একটি এখানে দিলাম, আরেকটি সুনীলের মন ভাল নেই, সেই কবিতাটি আমার এখন পুরোটা আর মনে পড়ে না, স্মৃতিতে কটা লাইনই টিকে আছে, কাগজে লেখা নেই।
আর এই কবিতাটির পুরোটাই স্মৃতিতে থেকে গেছে, একসময় অকারনেই এটি আওরে যেতাম।
এই মুহুর্তেও কবিতাটির কটি লাইন, মনভাল নেই, শুন্য রাস্তা শুন্য বারান্দা, এই শুন্যঘর, এই নির্বাসন, দু্ঃখ ছুয়েছে ঘরবাড়ি, বিষাদ ছুয়েছে বুক, সব নদীপথ বন্ধ হল, সারাদিন বিষাদপর্ব, সারাদিন তুষারপাত---এই লাইনগুলো খুব ভাল লাগছে, মিশে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে বিষাদেরও একটা কোমল সুন্দর রূপ আছে, যা ছুয়ে আনন্দ পাওয়া যায়, বিষাদীয় আনন্দ। বিষাদবোধকে নিয়ন্ত্রিত ভাবে আরও বাড়িয়ে দেবার প্রয়াস এ কবিতা।
আমি বিষাদকে স্বাগত জানাই, ভালবাসি আনন্দের মতই।

আশা করছি কবিতাটি অনেকের ভাল লাগবে।




বিষাদ ছুয়েছে আজ, মন ভাল নেই,
মন ভাল নেই,
ফাঁকা রাস্তা, শুন্য বারান্দা
সারাদিন ডাকি, সাড়া নেই
একবারও ফিরে চায় না কেউ
পথ ভুল করে চলে যায়, এদিকে আসে না
আমি কি সহস্র বর্ষ এভাবে
তাকিয়ে থাকব শুন্যতার দিকে?
এই শুন্যঘরে, এই নির্বাসনে
কতোকাল, আর কতোকাল!

আজ দুঃখ ছুয়েছে ঘরবাড়ি,
উদ্যোনে উঠেছে ক্যাকটাস-
কেউ নেই, কড়া নাড়ার মত কেউ নেই,
শুধু শুন্যতার এই দীর্ঘশ্বাস, এই দীর্ঘ প্রতিধ্বনি,

টেলিফোন ঘোরাতে ঘোরাতে আমি ক্লান্ত
ডাকতে ডাকতে একশেষ,
কেউ ডাক শোনে না, কেউ ফিরে তাকায় না।

আজ বিষাদ ছুয়েছে বুক, বিষাদ ছুয়েছে বুক
মন ভাল নেই, মন ভাল নেই;
তোমার আসার কথা ছিল, তোমার যাওয়ার
কথা ছিল-
আসা যাওয়ার পথের ধারে
ফুল ফুটানোর কথা ছিল
সেসব কিছুই হল না, কিছুই হল না,
আমার ভেতরে শুধু এককোটি বছর ধরে অনুতাপ
শুধু হাহাকার
শুধু শুন্যতা, শুন্যতা।

তোমার শুন্য পথের দিকে তাকাতে তাকাতে
দুই চোখ অন্ধ হয়ে গেলো,
সব নদীপথ বন্ধ হল, তোমার সময় হলো না-

আজ সারাদিন বিষাদপর্ব, সারাদিন তুষারপাত
মন ভাল নেই, মন ভাল নেই...।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28823222 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28823222 2008-07-23 06:15:34
অন্তর্দ্বন্দ্ব...................(গল্প)
খুব একচোট বৃষ্টি হয়েছিল। কি ভালই না লাগছিল। টিনের চালের বৃষ্টির রিমিঝিমি শব্দ মনকে জুড়িয়ে দেয় শানুর। একবার মনে হয়েছিল তার, বৃষ্টিটা যেন না থামে, কিন্তু যেই ভাবল, ওমনি থেমে গেল বৃষ্টি। কি আর করা।
বৃষ্টি থেমে যেতেই সিগারেট খাওয়ার জন্য প্রানটা আকুলি বিকুলি করতে লাগল শানুর আর এটাও মনে পড়ল, শেষ সিগারেটটাও পুড়িয়ে ফেলেছে সে ঘুমুতে আসার আগেই। তাই , রাত একটার সময় তাকে বেরুতে হল বাইরে। উদ্দেশ্য বারেক মিয়ার দোকান। বারেকমিয়ার দোকানটা অদ্ভুত, দিনরাত চব্বিশ ঘন্টাই খোলা। রাতেও দুজন কর্মচারী আধোজাগা হয়ে থাকে, কাউন্টারের মত একটা ছোট্ট জানালার মত জায়গা খোলা থাকে। ওখান দিয়ে ডাক দিলেই এরা জেগে উঠে। যা ইচ্ছা আনা যায়, দাম একটু বেশী নেয় রাতের বেলা। ভারী মজার কান্ড। তবে পাড়ায় রাতে একটি দোকান খোলা থাকলে বিপদে আপদে সাহায্য পাওয়া যায়।

শানুদের বাসা থেকে বারেক মিয়ার দোকানটা একটু দুরেই। যাবার সময় সিগারেটের নেশায় পথটুকু পেরুতে একটুও বেগ পেতে হল না শানুর। আসার সময় এতটুকু পথ পেরুতে গা ছমছম করতে লাগল তার। চারিদিকে গুমট অন্ধকার, কোথাও একবিন্দু আলো নেই। যেন ব্ল্যাকহোল। স্ট্রিটল্যাম্পগুলোও নেভানো। ভয় পাবারই কথা। কিন্তু সিগারেট থাকতে সমস্যা কি..একটু সিগারেট ধরিয়ে ভয় কাটাতে কিছু একটা চিন্তা করতে গেল শানু। হঠাৎ করেই ঝনঝন করে অনেক কিছু মনে পড়তে লাগল শানুর। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কথা। আহা! কি সুন্দরই ছিল না সে দিনগুলো। এখনও আফসোস হয়। কি আনন্দেরই না ছিল। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় এর সেইদিন গুলোর স্মৃতি হঠাৎ এই অন্ধকার রাতে নির্জন রাস্তায় মনে হল কেন শানুর কে জানে। ক্যাম্পাসে প্রথমদিনই শানুর সাথে পরিচয় হয় বকুলের। বকুল। একটি ফুলের নাম। ফুলের মত একটি মেয়ের নাম। এরপর শুরু তাদের একসাথে পথচলা। কতবিকেল কেটে গেছে ক্যাম্পাস ছেড়ে দুরে এমসি কলেজের পুকুর পাড়ে, কতদিন বন্ধুর গাড়ি ধার করে এয়ারপোর্ট রোড ধরে লংড্রাইভে কেটে গেছে অসাধারন সময়। আলপাইনের বিরিয়ানি খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুড় তুলে কতদিন বকুলের গালমন্দ সইতে হয়েছে ওকে, আলপাইন কোনদিনই বকুলের মনজয় করতে পারেনি, ইষ্টিকুটুম ছিল বকুলের পছন্দের লিষ্টে। আর বকুল যেদিন শানুর মেসে আসল প্রথম দিন। স্পষ্ট মনে আছে সব শানুর।
বাসায় পৌছে গেছে শানু, বিছানায় বসে আরেকটা সিগারেট ধরালো ও। পুরনো স্মৃতি ভাবতে বড় ভাল লাগছে।
তাদের মেসটা ছিল আজব। পুরো বানিজ্যিক। মেসটা চালু করেছিল আম্বরখানার এক বুদ্ধিমান বাড়িওয়ালা, এমনিতে ভাড়া দিলে যা আয় হত এর চেয়ে ঢেরবেশী হত এই মেস থেকে। সিটপ্রতি ভাড়া গুণত মেস ম্যানেজার। অন্ধকার একটা গুহার চেয়ে বেশীকিছু ছিলনা মেসটা। বকুল প্রথম দিন এসেই ঝাড়ি দিল শানুকে। এরপর বেশীদিন ওইখানে থাকা হয় নি শানুর। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে অবশ্য প্রায়ই যাওয়া হত সেখানে পরেও।
কত স্মৃতি সেদিনগুলোর। বকুলের। ...আচ্ছা বকুল এখন কোথায়? কেমন আছে?
হঠাৎ করেই প্রশ্নটা ঝাকিয়ে আসল শানুর মাথায়। কিন্তু উত্তর খুজে পেল না ও। কিছুই মনে করতে পারল না। অনার্স শেষ পরার পর কি হয়েছিল? বিয়ে হয়ে গিয়েছিল বকুলের? কোন কিছুই মেন করতে পারল না শানু। অস্থির হয়ে উঠল ও।
কেন জানি না? কি হয়েছিল বকুলের? কি হয়েছিল? প্রচন্ড এক চিৎকার করে উঠে জ্ঞান হারাল শানু।


দুই,

ঘড়িতে সাতটার এলার্ম বাজতেই ঘুম ঝাড়ল শানু। আড়মোড়া ভেঙে বিছানা ছাড়ল। নটায় অফিস। বাথরুমে গিয়ে আয়নার সামনে দাড়াল অভ্যাসবশত। সেভ করার সময় মনে পড়ে গেল গতরাতের কথা। মনে পড়ে গেল বকুলের কথা। রাতে বারেকমিয়ার দোকান থেকে সিগারেট কিনে ফেরার পথেই তো স্মৃতিরা ঝাপি খুলেছিল।
আস্তে আস্তে মুখটা বিকৃত হয়ে আসে শানুর। কাল রাতে ওসব কি ভেবেছে ও! বকুলের কথা! বকুল কে? বকুল নামের কাউকে তো কোনকালেই সে চেনে না। আর চিনবেই বা কি করে? সে তো শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনকালেই পড়েনি। তার কজন বন্ধু পড়ত, তাদের মুখে ওই বিশ্ববিদ্যালয় এর নানা গল্প শুনত, কিন্তু কোনকালে সিলেট যায়ও নি ও।
অনার্সও করেনি। বিকম করেছি ঢাকা কলেজ থেকে। তাহলে?
দুহাতে মাথাটা শক্ত করে চেপে ধরে শানু। কিন্তু কালরাতের চিন্তাগুলো এতো স্পষ্ট! পাগল হয়ে গেলাম নাকি? অস্থির হয়ে ভাবল ও।
হতে পারে ওটা স্বপ্ন ছিল। এটা ভেবে নিজেকে স্বান্তনা দিল শানু। কিন্তু পরক্ষনেই মনে পড়ল, তাহলে তো পুরোটাই স্বপ্ন। সিগারেট আনাটাও। পকেটে হাত দিল শানু, সাথে সাথে জমে গেল। বুকপকেটে সিগারেটের প‌্যাকেটের অস্তিত্ব অনুভর করছে ও।
গোল্ডলিফের প‌্যাকেটটা পকেট থেকে বের করল শানু। গতরাতে আসার পথে আর বাসায় এসে দুটা খেয়েছিল ও। স্পষ্ট মনে পড়ে। খুলে দেখল। আঠারোটাই আছে।
তারমানে রাতের ঘটনাটা স্বপ্ন নয়। তবে কেন আবোল তাবোল চিন্তা করছিল? নাকি বকুল নামের কারও সাথে সত্যিই পরিচয় ছিল?
পাগল হয়ে গেলাম নাকি? আরেকবার নিজেকে এ কথা শোনাল শানু।


তিন,

'আপনার পুরো কেস স্টাডি করে যা বুঝতে পারছি, আপনার ব্যাপারটা আসলে স্লিপওয়াকিং।' চোখ থেকে চশমা খুলে সামনের বিশাল টেবিলটাতে রাখতে রাখতে কথাটা শানুকে বললেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ আনিস।
গত দশদিন ধরে রাতের ঘটনাটা নিয়ে অস্থির হয়েছিল শানু। কারও সাথে শেয়ারও করতে পারছিল না। আবার শান্তিও পাচ্ছিল না। গ্রহনযোগ্য কোন ব্যাখ্যাই দাড়করাতে পারছিল না। দশদিন পাগলের মত কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত ডঃ আনিসের শরনাপন্ন হয়েছে ও।

-'কিন্তু, সেক্ষেত্রেতো রোগীর কিছুই মনে থাকে না।' বলল শানু।
-'তা ঠিক। আপনার বেলায়ও তাই হয়েছে।'
-'তবে?
-'ভার্সিটির কথা আর সিগারেটের কথা বলছেন?'
-'হু'
-'শাহনুর সাহেব'। একটু ঝুকলেন ডঃ আনিস। আমাদের মস্তিস্ক এক দারুন রহস্যময় বস্তু। সেকি করে না করে তা বড়ই জটিল। আমার ধারনা আপনি স্লিপওয়াকিং করে বারেকমিয়ার দোকান থেকে সিগারেট এনেছিলেন ঠিকই। এবং দুটা খেয়ে ঘুমিয়েও পড়েছিলেন।'
-'কিন্তু?....'
-'হ্যা সবকিছুই ঘটেছে ঘোরের মধ্যে ওসব আপনার মনে নেই। আপনি ঘুমুবার পর আপনার মস্তিস্ক এ নিয়ে একটি পরিপূর্ন স্বপ্ন তৈরি করেছে। স্বপ্ন ওত নিখুত হয় না। আপনার ক্ষেত্রে তা হয়েছে।'
-'একি সম্ভব!' হতবাক শানু।
-'সম্ভব। আপনার তো আগে স্লিপওয়াকিং ছিল না। এখন হয়েছে।'
-'কিন্তু বকুলের কথা?'
-'হাহ হা। হাসলেন ডঃআনিস। আপনি মানুষটা হয়ত খুব রোমান্টিক। তাই আপনার মস্তিস্ক স্বপ্নের মধ্যে বোরিং জায়গাগুলো সিলেটের আনন্দঘন স্মৃতি দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে।'
-'কিন্তু আমি তো কখনও সিলেট যাইও নি। কিন্তু ওসব জায়গা, এত স্পষ্ট...।'
-' আমার বিশ্বাস ওগুলো আপনার সৃষ্টিশীল মস্তিস্কের কল্পনা। আপনি আপনার বন্ধুদের কাছ থেকে জায়গাগুলোর অনেক বর্ননা শুনেছেন। আপনার মস্তিস্ক এগুলোর সফল চিত্রায়ন করেছে। আপনি একবার সিলেট থেকে ঘুরে আসেন তাহলেই আপনার সংশয় দুর হবে।


চার,

দুদিন পর সিলেট গেল শানু। শহর ঘুরে বেড়াল। শাবিপ্রবিতে গেল। মদিনা মার্কেট এলাকা দেখে অবাক হল ও। একেবারে স্বপ্নের মতই দেখতে। ওর অতি পরিচিত। স্বপ্নে বকুলের সাথে ঘুরে বেড়ানো প্রতিটা জায়গায় যাবার চেষ্টা করল ও। চৌহাট্টার আলপাইন, এমসি কলেজ, ইষ্টিকুটুম সবজায়গাই ভীষন চেনা চেনা মনে হল। খুজে খুজে স্বপ্নের মেসটাতে গিয়েও হাজির হল শানু। মেসের ম্যানেজার ওকে দেখা মাত্রই উঠে দাড়িয়ে বলল ' ও কিতাবা শাহেদ ভাই, ওতদিন ফরে আমরারে মনো ওইল নি?'
উত্তরে কোনকিছুই বলতে পারল না শানু। মাথাটা ঘুরে উঠল ওর। সত্যিকারের অজ্ঞান হল এবার। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28818358 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28818358 2008-07-09 06:18:43
ইস্নাইপস, ইউটিউব ডাউনলোডের উপায় রাশেদ একটি সিস্টেমওয়ালা পোষ্ট দিয়েছিল। ওটাও এখন আর কাজ করে না। তাই ইরতেজার ব্লগে দেয়া একটা প্রিয় গান ডাউনলোড করতে গিয়ে ঝামেলায় নতুন সিস্টেম খুজতে হল।

সবার জন্য সিস্টেমটা গুলো ছাড়ছি <img src=" style="border:0;" />

ম্যানুয়াল এবং ঝামেলাযুক্ত পদ্ধতিঃ

ম্যানুয়াল সিস্টেমটা আগেরটার মতই একই। কিন্তু একটা জায়গা বদলাতে হবে, তা না হলে কাজ করে না। তাই পুরো প্রক্রিয়াটা আরেকবার বলি।

যে গান ডাউনলোড করবেন সেটা ওপেন করুন।
গানের লিংকটি ধরা যাক এমন http://www.esnips.com/doc/226a4bf6-bd1f-4dd2-860c-62459e66b3f2/Chole-jodi-jabi-dure-sarthopor!!
বোল্ড করা doc কে nsdoc করে দিন। এবং লিংক এর গানের শিরোনাম অংশ কেটে দিন। এরপর লিংকটি দাড়াবে এমন
http://www.esnips.com/nsdoc/ 226a4bf6-bd1f-4dd2-860c-62459e66b3f2
এখন লিংকের শেষে /ts_id/1214502614063/ns_flash/file88.mp3 এই অংশটুকু লাগিয়ে এন্টার দিন। ডাউনলোড অপশন পাবেন।


এই অংশটুকু আগে ছিল এমন /ts_id/1205795172796/ns_flash/file1.mp3 এইটাতে এখন আর কাজ হয় না।

আর যদি এমন ঝামেলা না চান তাহলেও সমস্যা নেই। আছে সহজ উপায়

নিচে দেখুন।

সকল প্রকার ডাউনলোডের সহজ উপায়ঃ



খুবই সহজ একটা পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ইস্নাইপস, ইউটিউব বা এ জাতীয় অনেক সাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন। এজন্য শুধুমাত্র একটি ফায়ারফক্স এডঅন ইনস্টল করতে হবে।
এটি এখান থেকে ইনস্টল করে নিন। Click This Link
এটি করার পর এড্রেসবারের পাশে ছোট্ট একটি অপশন আসবে এমন

এখন ইস্নাইপস থেকে কোন গান ডাউনলোড করতে হলে, গানটি লিংকটি ওপেন করুন। এরপর ওই জায়গায় ক্লিক করুন। গানের শিরোনামটি দেখতে পাবেন। ওটাতে ক্লিক করলেই সেইভ এজ বক্স আসবে। সেখানে ফাইলের নামের সাথে প্রযোয্যমত এক্সটেনশন দিয়ে সেইভ করে ফেলুন। mp3 হলে .mp3, flv হলে .flv।
ব্যাস। খেল খতম <img src=" style="border:0;" />

লিংক পেষ্টের মহাসোজা পদ্ধতি:


শুধু ইস্নাইপস ডাউনলোডের জন্য নিচের লিংকে গিয়ে গানের লিংক দিয়ে ডাউনলোড করে নিতে পারেন
Click This Link

শেষ হয়ে গেল আমার ওস্তাদী <img src=(" style="border:0;" />


নেট থেকেই মারা <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28815575 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28815575 2008-07-01 06:22:09
দেখিয়া শুনিয়া কি ভাবি; ভাবিয়া পাইতেছি না
এর আগে তার আয়ারল্যান্ডে ফটোশেষন নিয়ে দারুন উৎসাহ ছিল সবার। তার আয়ারল্যান্ড অভিযান নিয়ে ওয়েবসাইট খোলা হয়। ফটোসেশনে অংশনিতে আগ্রহী মানুষদের ইমেইলে ও বাস্তবে আবেদন করতে বলা হয়। মানুষের কাছ থেকে বিপুল সাড়া মেলে, তাতে অনেকের আবেদন গ্রহনই করা হয় নি, আবেদন করার নির্দিষ্ট মেয়াদ পেরিয়ে যাবার পর আবেদন করায়। এর আগে সারা পৃথিবী ঘুরে ন্যুড ফটোগ্রাফী করে বেড়ানো স্পেনসারের কর্কে প্রথম আইরিশ ফটোসেশনে অংশ নেয় এক হাজারেরও বেশী ভলান্টিয়ার। এক হাজারেরও বেশী পুরুষ ও নারী তাদের শরীরের সমস্ত পোষাক এমনকি সমস্ত অর্নামেন্টসও খুলে সম্পুর্ন নগ্ন হয়ে ব্লার্নি ক্যাসলে স্পেনসারের কথা মত পোজ দেন। ব্লার্নি তা নানা ভাবে ক্যামেরা বন্দী করেন।
ডাবলিনের ফটোসেশনে অংশ নেন ২৫০০ মানুষ।
এর আগে স্পেনসান নিউইয়র্ক, মেক্সিকো,আমষ্টার্ডাম,বার্সেলনা, লন্ডন,রোম সহ নানা শহরে ২০ থেকে ১৮০০০ মানুষের অংশগ্রহনে এমন ন্যুড ফটোসেশন সম্পন্য করেন। মেক্সিকোতে তার ফটোসেশনে ১৮০০০ মানুষ অংশ নিয়েছিল।
কর্কের ফটোসেশনে অংশ নেয়া নারীপুরুষরা অংশ নেবার আগে তাদের আবেগ বর্ননায় একে রোমাঞ্চকর বা ব্যতিক্রমি অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন। একজন আবার বলেন- আমরা কেউ কারও দিকে তাকাইনি..শুধু অভিজ্ঞতাটা নিয়ে রোমাঞ্চিত হচ্ছিলাম। বেশীরভাগ সাধারন মানুষ বৈচিত্রের আশায় এতে যোগ দেন। সববয়সীদের অংশগ্রহন ছিল এতে। এরা অনেকেই একই এলাকা থেকে এসেছেন। একে অন্যের সাথে পরিচিত হয়ত। কিন্তু ফটোসেশন একসাথেই করেছেন।

এই ফটোসেশনটিয়ে আপনারা কি ভাবছেন একটু জানাবেন কি। আমি অনেক আগ্রহ নিয়ে সবার মতামত জানার জন্য বসে আছি। কর্ক আমার থেকে অনেকখানি দুরে। কিন্তু ডাবলিন ডকইয়ার্ড বাড়ির কাছেই ছিল। ভেবেছিলাম গিয়ে দেখে আসব ঘটনা দেখতে কেমন লাগে। কিন্তু স্পেনসারের এই ফটোসেশনটিতে অংশগ্রহনকারী ছাড়া অন্য কারও যাওয়া সহজ ছিল না।

কর্ক সেশনের ভিডিও দেখুন নিচের লিংকে
Click This Link
পত্রিকার খবর দেখুন নিচের লিংকে
Click This Link



(অবান্তর মন্তব্যঃ আমি ভাবছি স্পেনসাররের এই ফটোগ্রাফী নিয়ে কি বলব। একে যদি শিল্প বলা হয়, তাহলে ধরে নিচ্ছি শিল্প কি জিনিস তা সম্মন্ধে আমার কোন ধারনা নেই আর আমি শিল্পসম্মত লোক এখনও হতে পারিনি। )]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28812690 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28812690 2008-06-23 05:44:22
ডাবলিনে আঘাত হানতে যাচ্ছে প্রলয়ংকরী হ্যারিকেন.....আয়ারল্যান্ড এ বাংলাদেশ- এ ক্রিকেট দল। কালকে দিনের শেষটা ভাল কাটল। এয়ারপোর্টে যাওয়া হয় নি, কিন্তু যাবার ইচ্ছে ছিল। এদেশে তো বাংলাদেশীই কম...বাংলাদেশকে চেনাতে রেষ্টুরেন্টগুলো দেখাতে হয়। রেষ্টুরেন্ট এর সংখ্যাও কম। সেই দেশ আয়ারল্যান্ডে গতকালকে আসল বাংলাদেশ-এ ক্রিকেট দল। বেশ ভাল লাগছে। আজ কালকে বন্ধুরা আমার জ্বালায় টিকতে পারবে বলে মনে হয় না...আর যদি দল ভাল খেলে তাহলে তো কথাই নেই, তাদের চামড়াই তুলে ফেলব..হাহ হা। মনে পড়ে বিশ্বকাপের কথা। যেদিন বাংলাদেশ হেরে গেল সেদিন কোথায় যেন গিয়েছি ট্যাক্সিতে করে। ট্যাক্সি ড্রাইভার বেশ রসিক লোক। আমাকে দেখেই তার কি মনে হল, একগাল হেসে জিজ্গেস করে বসল, তুমি কি বাংলাদেশের লোক? আমি আর যাই কই, বললাম হ্যা..তারপর শুরু হল ওই বেটার বিশ্বকাপ বিষয়ক কপচানী। এমনিতে আইরিশরা ক্রিকেট নিয়ে কোনরকম মাতামাতি করে বলে দেখিনি। এখানে এই খেলা জনপ্রিয় না। লোকে জানেও না তেমন। কিন্তু ওই ট্যাক্সি ড্রাইভার ভদ্রলোক আমাকে একেবারে ছ্যাড়াবেড়া করে ছাড়ল। হেরে গেছে বাংলাদেশ দল...একটু তো যন্ত্রনা সইতে হবেই।
সেই যন্ত্রনার রেশ প্রায়ই জুটে আমার বন্ধুদের কপালে...<img src=" style="border:0;" /> সেবার আইরিশ দল বাংলাদেশে গিয়ে হেরে এল...আমার ধারে কাছে তখন ভীরতে চাইত না কেউ <img src=" style="border:0;" /> এইবারের আবহাওয়া রিপোর্ট এখনও পায় নি। কালই পেয়ে যাবে। এখন প্রার্থনা বাংলাদেশের ছেলেরা যেন আমাকে সে সুযোগটুকু করে দেয়।
আগামীকাল ২৩ জুন বাংলাদেশ এ দল তিনদিনের ম্যাচ শুরু করবে আইরিশ এ দলের সাথে কলেজ পার্ক এ। এরপর ২৭ তারিখে এগলিংটন এ ২০/২০, ব্যাঙগর ও স্টারমন্ট এ জুন ২৯ ও জুলাই ১ এ ওয়ানডে ম্যাচ।


অনেকদিন পর উত্তেজনা অনুভব করছি। ভাবতেই কেমন জানি লাগছে আমার দেশের ক্রিকেট দল