somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... এডবি প্রিমিয়ার প্রয়োজন (সাময়িক পোষ্ট) এডবি প্রিমিয়ার প্রো সিএসথ্রি বা কাছাকাছি ভার্সন এর লিংক চাচ্ছি যা কাজ করে। টরেন্ট থেকে কয়েকটা নামিয়ে দেখলাম, ইনষ্টল হয় না, অথবা সিরিয়ালগুলো কাজ করছে না। কারও কাছে ভাল কোন লিংক থাকলে দিলে উপকৃত হতাম।

পাইরেটের সফটের জন্যে পোষ্ট বলে দু:খিত। তবে কিছু করার নেই। ১৮০০ ইউরো দিয়ে সফটওয়ার কেনার মত বিলাসিতা করার মত পয়সা হাতে নেই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/29531293 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/29531293 2012-01-29 12:11:57
দেশে আসছি! আহ!!
এবার দীর্ঘদিনের বিরতীর পর দেশে আসা হচ্ছে আমার। চৌদ্দমাস পরে। এর দিন ধরে একটানা দেশে না এসে থাকিনি। সাত আট মাসে একবার আসা হয়েছে তাই এক প্রকার সহজ স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গিয়েছিল, অনুভুতিগুলো পরিচিত ছিল। এবার একটুখানি অচেনা ঠেকছে।

যাই হোক। অনেক ত্যানা পেচানোর পরের কথা হল আর মাত্র আট ঘন্টা পরে ফ্লাইট। এইজন্যে আন্ডা বাচ্চাদের মত হাবিজাবি লিখে ফ্লাডিং করছি। নিয়ম করে এটা আমি করি, মানে দেশে আসা উপলক্ষে ফ্লাডিং আর কি! প্রত্যেকবারই করি। লোকজন নিশ্চই বিরক্ত হয়। কিন্তু কিছুই করার নেই। করতে ভাল লাগে হাহ হা।


এর আগের দেশে আসার এলোমেলো ফ্লাডিং পোষ্টগুলো দেখে নিতে পারেন। একজন আনন্দিত মানুষের এলোমেলো মনের ভাবগুলো পাওয়া যায় ওগুলোতে।

Click This Link

Click This Link
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/29404788 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/29404788 2011-06-30 08:46:07
কমিকবুকের লিংক চাই।
টিনটিনের লিংক থাকলে সেটাও চাই।

ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/29231071 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/29231071 2010-08-28 08:07:28
বাংলাদেশের চলচিত্র শিল্পের কবর খুড়ে ফেলা হল। Click This Link

খবরের সারমর্ম হচ্ছে, চারদশক পরে বাংলাদেশে ভারতীয় ফিল্ম প্রদর্শনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
দেশীয় চলচিত্র বাচাতে ৭২ সালে ইংরেজী ভাষা ব্যাতিত অন্য ভাষার মুভি, তথা ভারতীয় মুভি এ দেশে প্রদর্শন নিষিদ্ধ ছিল (শর্তসাপেক্ষে বিদেশী ভাষার মুভি প্রদর্শন বৈধ ছিল, কিন্তু উপমহাদেশের মুভি নিষিদ্ধ ছিল) মাঝে মধ্যে চলচিত্র উতসবের সময় হিন্দী চলচিত্র এদেশে প্রদর্শিত হয়েছে। কিন্তু বানিজ্যিক ভাবে নয়। এবার বানিজ্যিক ভাবে করা যাবে।

যার ফলে দেশীয় চলচিত্র মনে হয় ভ্যানিস হয়ে যাবে।
এদেশে হিন্দী চলচিত্রের প্রচুর প্রচুর দর্শক। দেশীয় চলচিত্রের মৃতপ্রায় দশা। তবু্ও ইদানিং কিছুসংখ্যক মেধাবী নির্মাতা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন চলচিত্র শিল্প নিয়ে। এখণ থেকে মনে হয় আর সেই স্বপ্ন দেখে লাভ নেই।


মেজাজ মর্জি অনেক খারাপ হল খবরটা পড়ে ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/29142343 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/29142343 2010-04-26 04:27:30
দেশে আসছি..আহা! আহা!! " style="border:0;" />
একটু খুশি খুশি ভাব থাকে তো, বাচ্চা বাচ্চা ভাব চলে আসে, তাই দেশে আসছি তাতে কি ধরনের অনুভুতি হচ্ছে মনের ভেতরে সেই নিয়ে পোষ্ট করে দিই। জানি এইটা এক ধরনের ফ্লাডিং ই বটে! কিন্তু কিছু করার নেই, দিতেই হবে এটা <img src=" style="border:0;" /> তাই এবার ও দিচ্ছি।
মনে পড়ে প্রথমবার যখন দেশে গিয়েছিলাম অনেকদিন দেশের বাইরে থাকার পর, মনে হয়েছিল জেল থেকে ফিরছি, তখন বাংলায় এত সুন্দর একটা ব্লগ নেটে পেয়ে একেবারে মুগ্ধ ছিলাম। দিনের অনেকটা সময় এখানে কাটত। তাই তখন দেশে আসার জেলমুক্তির অনুভুতি এখানে বলতে পেরে অনেক ভাল লেগেছিল।

তিন ঘন্টা পরে ফ্লাইট। আসছি। দেখা হবে।

সবাই ভাল থাকুন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/29065006 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/29065006 2009-12-24 22:41:18
স্ক্রীপ্ট রাইটিং পর্ব-দুই : ফরম্যাট, হেডিং, ডিরেকশন, ক্যামেরা শট




{ক্রিয়েটিভ রাইটিং নিয়ে কিছু লিখতে চাচ্ছি। ক্রিয়েটিভ রাইটিং কোর্স এ আসলে লেখালেখির সবকিছু সম্পর্কেই ধারনা দেয়া হয়। সেটা হতে পারে ছোটগল্প, বা উপন্যাস কিবা নিছক ফিচার কিবা স্ক্রীপ্ট রাইটিং। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি লেখালেখির গুন আসলে ট্রেনিং এর মাধ্যমে পাওয়া যায় না। কিন্তু তবুও ক্রিয়েটিভ রাইটিং এর কোন কোর্স এ অংশ নিলে যেটা হয় তা হলে লেখালেখিটা এসাইনমেন্ট হিসেবে করতে হয় এবং তাতে করে অনেক উপকার হয়। আর যে লেখাগুলোতে কিছুটা কাঠামোগত জ্ঞান থাকা প্রয়োজন যেমন স্ক্রীপ্ট রাইটিং, সেগুলোর ক্ষেত্রে কোন ট্রেনিং কোর্স বা গাইড আর্টিকেল কিছুটা কাজে লাগে। আমাদের দেশে তো এখন মনে হয় ছোটগল্প বা উপন্যাস লেখার চেয়ে নাটক লেখার দিকে লিখিয়েদের ঝোক বেশী থাকার কথা। কেননা সেইটার বাজারই ভাল। (আমি নিজে কোন জাতের লেখক নই, শুধু যা পড়েছি বা শিখেছি তা কপি পেষ্ট করব। দয়াকরে ভূল ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি নিয়ে দেখবেন আশা করি।)}


স্ক্রীপ্ট রাইটিং প্রথম পর্ব এখানে দেখুন


ফরম্যাট এবং হেডিং:

যেকোন একটা স্ক্রীপ্ট, ধরা যাক একটি টেলিফিল্মের স্ক্রীপ্ট যখন আমরা লিখব তখন আসলে আমাদের উদ্দেশ্য কি থাকবে? অবশ্যই যাকে তা পড়তে দেব যাতে তার পছন্দ হয় সেদিকেই আমাদের নজর থাকবে। সেই জন্যে স্ক্রীপ্টটি যাতে সত্যিকার স্ক্রীপ্টের বেসিক ফরম্যাটে যায় সেই ব্যাপারে আমাদের নজর দিতে হবে প্রথমে। তা না হলে স্ক্রীপ্ট পড়তে পাঠক উতসাহ হারাবে, নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জন্ম নেবে এবং স্ক্রীপ্টটি আস্তাকুড়ে চলে যাবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে যদিও বা তার্ মান খুব ভাল হউক। আবার আপনি যদি ফরমায়েসী স্ক্রীপ্ট রাইটারও বা হোন, মানে, আপনি যদি কোন একজন ডিরেক্টররের জন্য স্কীপ্ট লিখেন যিনি কিনা আপনি যাই লিখুন না কেন তাই নিয়ে ফিল্ম বানাবেন, তবুও ডিরেক্টররের নূন্যতম চাহিদা পুরনের জন্যেও আপনার স্ক্রীপ্টটিকে হতে হবে নিয়ম অনুযায়ী।
অন্যান্য যেকোন লেখার মতই স্ক্রীপ্টকে হতে হবে টাইপড। হাতের লেখা নয়। হাতের লেখা পড়া একটা ঝামেলা ও ঝক্কি।
এ ফোর সাইজের পৃষ্ঠায় বাম পাশে নুণ্যতম এক ইঞ্চি মার্জিন রেখে স্ক্রীপ্ট টাইপ করতে হবে। সম্পাদনার স্বার্থে কাগজের দুই পাশেই মার্জিন রাখলে আরও ভাল। টাইপ করার সময় নির্দিষ্ট একটি পয়েন্টের ফন্ট ব্যবহার করা উচিত। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে ১২ পয়েন্টের ফন্ট ব্যবহার। এটিই স্ট্যান্ডার্ড। এটি খুব ছোটও নয় খুব বড়ও নয় তাই সহজে পড়া যায়।
এবং একই ফন্ট ব্যবহার করলে দৃশ্য সম্পর্কেও ধারনা করা যায়। প্রতিটা পেইজে ঠিক কত সময় দৃশ্যায়ন সময়। তাতে করে পেইজ গুনে দৈর্ঘ্য সম্পর্কে একটা অনুমেয় ধারনা করা যায়।

স্ক্রীপ্ট ফরম্যাট কি?

স্ক্রীপ্ট এর ফরম্যাট আহামরি কিছু নয়। স্ক্রীপ্ট ডায়লগ নির্ভর, কে কোন ডায়লগ বলছে সেটি নির্দিষ্ট করে দিতে হয়, চাহিদা অনুযায়ী দৃশ্যটি কোথায় কিভাবে হচ্ছে সেটি সংক্ষেপে বলে দিতে হয়, যদি নির্দিষ্ট কোন সাউন্ডের ব্যবহার করতে হয় তা বলে দিতে হয়, নির্দিষ্ট কোন ক্যামেরা এঙ্গেল যদি চান তাহলে তা বলে দিতে হয়।
একটি দৃশ্যের প্রথমেই যা বলে দিতে হয় তা হচ্ছে দৃশ্যটি কোথায়, কথন কিভাবে ঘটছে। যাকে বলা যায় হেডিং।
তারমানে হচ্ছে দৃশ্যটি ঠিক কোন জায়গায় হচ্ছে ইনডোরে নাকি আউটডোরে, কোন বাসায় নাকি মার্কেটে নাকি পার্কে। কখন হচ্ছে দিনে নাকি রাতে, পাত্রপাত্রী কি অবস্থায় আছে। তার পর চরিত্রগুলোর ডায়লগ বলে দেয়া যায়। একটি উদাহরন দেখুন টাইটানিক মুভি থেকে

23 INT. ROSE'S STATEROOM / KELDYSH - DAY

Lizzy is unpacking Rose's things in the small utilitarian room. Rose is
placing a number of FRAMED PHOTOS on the bureau, arranging them carefully
next to the fishbowl. Brock and Bodine are in the doorway.
LOVETT
Is your stateroom alright?
ROSE
Yes. Very nice. Have you met my granddaughter, Lizzy? She takes care of me.
LIZZY
Yes. We met just a few minutes ago, grandma. Remember, up on deck?
ROSE
Oh, yes.

Brock glances at Bodine... oh oh. Bodine rolls his eyes. Rose finishes
arranging her photographs. We get a general glimpse of them: the usual
snapshots... children and grandchildren, her late husband.

ROSE
There, that's nice. I have to have my pictures when I travel. And Freddy of
course.
(to the Pomeranian)
Isn't that right, sweetie.
LOVETT
Would you like anything?
ROSE
I should like to see my drawing.
CUT TO:

উপরের স্ক্রীপ্টের অংশটি দেখে সহজেই বোঝায় যাচ্ছে কিভাবে হেডিং দিতে হবে।
INT. ROSE'S STATEROOM / KELDYSH - DAY
প্রথমেই আছে দৃশ্য নাম্বার ২৩। তারপর ইন্টেরিয়র, মানে ইনডোর, ছাদের নিচের দৃশ্য। রোজের স্টাটাররুম, সময় হচ্ছে দিন।
এই হেডিং দেখেই ডিরেক্টর কিভাবে দৃশ্য চিত্রায়ন করবেন তার স্পষ্ঠ ধারনা পেয়ে যাচ্ছেন।
তো বাইরে আউটডোরে কোন দৃশ্য হলেই তা এক্সটেরিয়র।

এখন ধরা যাক দৃশ্যটি হচ্ছে রাস্তায় কোন গাড়ির ভেতরে তখন কি হবে?
সেই ক্ষেত্রে দৃশ্যটি হবে ইন্টেরিয়র।
আবার ক্যমেরার পয়েন্ট অভ ভিউ নির্ভর করে দৃশ্যের হেডিং আরও একটু জটিল হতে পারে। ধরা যাক বাড়ির ভেতরে পাত্রপাত্রী কথা বলার দৃশ্য বাড়ির বাইরের ক্যামেরা থেকে ধরা হবে সেক্ষেত্রে এটি ইন্টেরিয়র/এক্সটেরিয়র দুইটাই। দুইটাই উল্লেখ করতে হবে।

সময় দেখিয়ে দেবার ক্ষেত্রে দিন বা রাতই সাধারনত উল্লেখ করা হয়। কিন্তু প্রয়োজন পড়লে আরও ডিটেইল দেয়া যায়, যেমন ভোর, বিকেল, সন্ধা ইত্যাদি।

ক্যামেরা ডিরেকশন :

স্ক্রীপ্টে প্রয়োজন পড়লে কিছু টেকনিকাল ডিরেকশন দিতে হয়। যদিও এর ব্যবহার খুবই সীমিত। কেননা সবসময় মনে রাখতে হবে যে আপনি একজন স্ক্রীপ্ট রাইটার, ডিরেক্টর নন। তবুও কিছু ক্ষেত্রে স্ক্রীপ্টেও কিছু নির্দেশনা দেবার প্রয়োজন পড়ে।
সাধারনত যেসব টেকনিকাল ডিরেকশন স্ক্রীপ্টে আসে সেগুলো হচ্ছে-
ভি.ও বা ভয়েসওভার: সৃত্রধর বা এই জাতীয়। পর্দায় কিছু দেখানো হচ্ছে আর একটি কন্ঠ এর বর্ননা দিচ্ছে এমন।

ও.এস বা অফস্ক্রীন: একটি দৃশ্যে একজনের কথা শোনা যাচ্ছে কিন্তু তাকে দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু দৃশ্যের অন্য চরিত্ররা তার কথা শুনছে।

পি.ও.ভি. বা পয়েন্ট অফ ভিউ : ক্যামেরা একটি চরিত্রের চোখ দিয়ে দেখছে। ধরা যাক একটি দৃশ্যে দুই জন কথা বলছে আরেকজন লুকিয়ে তা দেখছে, এটি তার চোখ দিয়ে দেখানো, এরকম হলে সেটি পিওবি দিয়ে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়।

এম.ও.এস বা উইথআউট সাউন্ড : দৃশ্যে চরিত্রগুলো কথা বলছে, তাদের ঠোট নড়ছে কিন্তু দর্শক কিছু শুনতে পাবে না।


নানা রকম ক্যামেরা শট :

স্ক্রীপ্টে ক্যামরা এঙ্গেল বিষয়ে বলে দেয়াটা খুব ভাল চোখে দেখা হয় না। বলে দেয়া উচিত ও না। এটি ডিরেক্টরের বিষয়। তবু এটি জেনে রাখা ভাল। কেননা স্ক্রীপ্টরাইটারের সেক্ষেত্রে কল্পনা করতে সহজ হয়। কোন কোন বিশেষ ক্ষেত্র অবশ্য ক্যামেরা শট স্ক্রীপ্টে বলে দেয়া যায়। তবে খুবই সীমিত সেক্ষেত্রে।

কিছু কিছু ক্যামেরা শট হল -

লঙ শট ( এল এস) : ক্যামেরা দুর থেকে ধরা হয়।

মিডিয়াম শট ( মিডশট বা এমএস) : সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত শট। দৃশ্যে দুই তিনজন কথা বলছে এটি নির্দিষ্ট দুরত্ব থেকে ধরা হচ্ছে যাতে সবাইকে দেখা যাবে।

ক্লোজশট (সিএস) : কাছ থেকে নেয়া।

ক্লোজআপ শট ( সি/ইউ) : চরিত্রের মুখ কাছ থেকে ধরা।

এছাড়াও আছে টাইট সি/ইউ বা চরিত্রের কান নাক গলা বা চোখ ধরা।
টু শট মানে দুইটা চরিত্রের এমএস, থ্রি শট মানে তিনটা চরিত্রের এমএস।


এইতো গেল নানা রকমের শট। মনে রাখতে হবে, কিভাবে শট নেয়া হবে তা দেখিয়ে দেয়া আপনার কাজ না। স্ক্রীপ্ট রাইটারের দায়িত্ব কাহিনী সাজানো চরিত্র নির্মান, ডায়লগ তৈরি। ক্যামেরার কাজ ডিরেক্টরের।
তাই সেসব ক্ষেত্রে একান্তই ক্যামেরার কাজ বলে দেয়া দরকার। যেমন আপনি বলতে চান দুর থেকে দেখা যাচ্ছে অমুক আসছে। তাহলে লঙ শট উল্লেক না করে একদম সরাসরি বলতে পারেন দুর থেকে দেখা যাচ্ছে। তাতে ডিরেক্টরের সাথে ইগোর দ্বন্দে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম <img src=" style="border:0;" />






(ক্রমশ)


ডিসক্লেইমার: প্রথম পর্বের পাচমাস পড়ে দ্বিতীয় পর্ব পোষ্ট করায় আন্তরিক দু:খিত। কিন্তু তৃতীয়পর্ব তাড়াতাড়ি আসবে <img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/29056992 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/29056992 2009-12-11 10:59:55
এইসব ভাল হচ্ছে না একদমই। প্রফেশনাল তো মোটেই নয়।
চোখের সামনে ব্লগটাতে অনেক কিছু হয়ে গেল।
আজকে দেখলাম বিষাক্ত মানুষের ব্লগ বাতিল। যদিও ব্লগে অনেক দিন আসি না। তবু খোজ খবর থেকে জানি যে বিষাক্ত মানুষের সাথে ব্লগ কতৃপক্ষের সম্পর্কটা ভাল যাচ্ছে না। কিন্তু তা বলে ব্লগ স্থগিত করাটাকে মানতে গিয়ে সবকিছু হাস্যকর রকম অসহ্য মনে হচ্ছে। বিষাক্ত মানুষের মত ব্লগাররাই এ ব্লগের প্রান ছিল একদিন। আজকে তার ব্লগ স্থগিত? তার যে সব লেখাগুলোতে আমাদের অনেক নির্ঘুম রাতের স্মৃতি জড়িয়ে আছে সব মুছে যাবে?

ব্লগকে আমি তেমন কোন ব্যাপার মনে করি না। ব্লগে না আসলে বা আসলে, কোন কিছূই আমার কাছে তেমন পার্থক্য করে না। আমি অসামাজিক লোক। কিন্তু তারপরেও আজকে এইসব কথা বলতে ইচ্ছে করছে।

এভাবে ব্লগের একজন ব্লগারের সব লেখা মুছে দেবার অধিকার ব্লগ কতৃপক্ষ রাখেন কিভাবে? তাহলে আজকে অন্য যারা এই ব্লগে লিখছেন, যারা পড়ছেন সবাইকে কি এমন অভিজ্গতার স্বীকার হতে হবে?

না, আমি ব্লগ কতৃপক্ষকে কিছু বলছি না, কৈফিয়তও চাচ্ছি না। কেননা সামহোয়ার ব্লগ নিয়ে আমার আর কোন আবেগ নেই। আগে অন্য সব ব্লগ থেকে একে আলাদা করে দেখলাম। সচলায়তন নামে একটা ব্লগের কড়া সমালোচনা করতাম তারা সংকীর্ণমনা বলে, মালিকপক্ষের বিপক্ষে ওখানে কিছু বলা যায় না। এখন দেখছি সামহোয়ারও তাই। বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় ব্লগটিও প্রফেশনাল না, ঠুনকো ক্ষমতার অপব্যবহার তারাও করেন যেকোন সময় এটা কষ্ট্ দিল।

বিডি আইডল নামের অনেকের প্রিয় ব্লগার ও দেখলাম ব্যান। তার কোন লেখা নেই। অথচ এই সময়ে ব্লগে না আসা দিনেও তার ব্লগে যেতাম অফলাইনে হলেও। কেননা তার ব্লগটি ছিল অনেক উপকারী। অনেক তথ্য পাওয়া যেত।

এভাবে একটা সাইট চালানো যায় না। আসলেই।
ভাবুন। এভাবে হয় না। ব্লগটি শেষ হয়ে যাবে। এভাবে মানুষজন হতাশ হয়ে যাবে। প্রিয় ব্লগের এমন পরিনতি দেখে খারাপ লাগছে। আমার নিজের হয়ত আবেগ নেই ব্লগ নিয়ে আর বাকী। কিন্তু নতুন যারা ব্লগার তাদের অনেকেই আমি বা আমার মত আরও অনেকে আগে যেমন স্বপ্নাতুর থাকত তেমন রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে তাদেরও স্বপ্নমৃত্যু ঘটবে, আবেগ নি:শেষ হবে। তাতে ব্লগ বাচবে না।

ধন্যবাদ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/29045314 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/29045314 2009-11-18 09:15:43
সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।
বাংলাদেশে এখনও ঈদ হয় নি। হয়ত বা সোমবারে ঈদ হবে। আমি যেখানে আছি, সেখানে আজকে ঈদ, এখন বাজে রাত ১ টা ৩২। ব্লগে এখনও কেউ ঈদের পোষ্ট দেয় নি, তাই আমি আগে আগে দিয়ে দিলাম। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/29013396 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/29013396 2009-09-20 07:35:35
আমায় ক্ষমা করে দিও, বঙ্গবন্ধু।


সেই রাতটা আর দশটা রাতের মতই তো ছিল। শান্ত, নিস্তব্ধ। আর সব রাতের মতই, আর দশটা সাধারন বাঙালী পরিবারের মতই ঘুমিয়ে ছিল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসায় একটি বাঙালী পরিবার। ঘুমিয়ে ছিলেন একজন কাজে অসাধারন অথচ চলনে সাধারন একজন মহামানুষ। আর দশদিনের মতই রাতের খাবার খেয়ে, পারিবারিক বৈঠকে হাসি ঠাট্টা করে, ছেলে, বউ, বাবা,মা নাতি মিলে সময় কাটিয়ে শান্তির ঘুমে ঘুমিয়েছিলেন ওই বাড়ির বাসিন্দারা।

সেই রাতে হয়ত ঘুমুবার আগে শিশু রাসেলকে রাক্ষস দানবের গল্প শুনিয়েছিলেন তার মা, ভয়ে হয়ত আতঁকে কেপেঁ কেপেঁ উঠেছিল রাসেল। জানতও না একটু পরেই তার জীবনে দানবেরা হানা দিচ্ছে।

দানবেরা এল।

এই দেশটা দানবেদের দখলেই ছিল। মানুষের দুঃখদুর্দশার সীমাপরিসীমা ছিল না। পরাধীনতা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল জনপদটাকে। একটি মানুষ অদম্য সাহসিকতায়, বিপুল মহত্বতায়, পরম মায়ায় দেশের মানুষগুলোকে আগলে রেখে দেশটাকে নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতা এনে দিলেন। প্রতিদানে কি পেলেন? সেই রাতটা। হায়! এই কষ্ট কোথায় রাখি। কোথায় রাখি।

নিচের তলার ঘরে যখন দানবেদের ক্রুর শব্দ, তখন উপরে ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের অস্থির পায়চারি। বঙ্গবন্ধু হয়ত তখন তাকে সান্তনা দিচ্ছেন, 'কিচ্ছু হবে না। এটা আমার দেশ। আমাদের দেশ। এ দেশের মানুষ আমার মানুষ।'
ছেলে গেল নিচে। কুৎসিত দানবেরা তাকে গুলি করল। হতভম্ভ ছেলে বলতে চাইল, আপনারা ভুল করছেন। আমি আপনাদের প্রিয় নেতার ছেলে। দানবেরা তার বুকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করল। উপর থেকে সেই শব্দ শুনে তখন কি ভেবেছিলেন বঙ্গবন্ধু? এ দেশটায় তার সাথে এমন হবে! কেন?

একটা সময় উপরে উঠে এল এরা। বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে ধরল। তার মনে তখন কি ছিল- এরা কি চায়? কথা বলতে নিচের দিকে যেতেই সিড়ির মাঝে তাকে গুলি করল ঘাতকেরা। ফজিলুতান্নেসাকে আনা হল, তিনি তার স্বামীর লাশ দেখলেন। সেই স্বামী, যার দেখাই তিনি পেতেন না তার স্বামী দেশের জন্য ছুটতেন বলে, দেশের কথা বলে মামলা, জেল হয়রানীতে থাকবেন বলে, দেশটাকে স্বাধীন করতে কত কিছু করেছেন লোকটা আর তার স্ত্রী হিসেবে সেই সব হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন তিনি, আজ নিজ দেশে স্বামীর লাশ।
তাকেও মারল ঘাতকেরা। তারপর একে একে সবাই। শিশু রাসেলের গল্পের দানব বাস্তবে এসে গেল। ভয়ে কাতর শিশুর কম্পমান কন্ঠ' আমায় মারবে না তো!' অবোধ শিশুও নিস্তার পেল না হানাদারের নিষ্ঠুরতা থেকে। সবাই শেষ। একটা দেশের মুক্তিদাতা ও তার পরিবার।

কতটা দুর্ভাগ্য আমাদের। কতটা অভাগা জাতি আমরা যে ১৫ আগষ্ট আমাদের চোখের সামনে ঘটে গেল। আমরা কিছুই করলাম না। কতটা অকৃতজ্ঞ আমরা, হত্যাকান্ডের ২১ বছর পরে এ হত্যার মামলা দায়ের হয়। একটা গরুকে কেউ মারলেও দেশে মামলা হয়। অথচ জাতির স্থপতির পুরো পরিবারকে হত্যা করে ফেলল কতিপয় জারজ, সেই মামলা হয় না। ২১ বছর পরে হলেও, এখনও হত্যাকারীরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়ায়। বিদেশেই হোক, বেচে থাকে মানুষের মত। যা তাদের প্রাপ‌্য নয়।

ওই সব জারজদের। তাদের জারজ ছাড়া কিছু বলব না, এই দেশে এরা জারজই, এদের খুজে বের করে ...

মানুষকে আমি ঘৃনা করতে পারি না। অনেক খুজে দেখেছি, আমি আসলে ঘৃরা করতে জানি না। তবু শুধু একটা রঙের পোষাক পড়া প্রায় সকল মানষের প্রতি আমার জন্মের ঘৃনা। এরা তো মানুষও নয়। জলপাই রঙাদের আমি মানুষও বলি না। জানি সবাই সমান নয়। জলপাইদের মাঝেও সবাই দানব নয়। কিন্তু ওই রাতের জন্য আমার মনে জলপাইদের প্রতি আজন্ম ঘৃনা জন্মে গেছে। এখন তাদের কাউকে দেখলেই থুথু দিতে ইচ্ছে করে।

মাথাটা ভীষন এলোমেলো। কিছু চিন্তা করতে পারছি না। চোখটা বাড়ে বাড়ে ঝাপসা হয়ে আসে। জানি না কি লিখছি। এই লেখাটা শুধুই ঘৃনার আর ক্ষোভের। শোকের না মোটেও। ঘৃনা ওইসব জারজদের জন্য। ঘৃনা। যতটা ঘৃনা একজন মানুষের পক্ষে করা সম্ভব। যতটা ঘৃনা করলে কেউ ধ্বংশ হয়ে যায়।

এরা ধ্বংশ হোক।



এই লেখাটি গতবছর একই দিনে পোষ্ট করা একটি লেখা। রিপোষ্ট করতে ইচ্ছে হল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28993892 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28993892 2009-08-15 00:48:34
সাকিব হাসান: প্রতিভা আর পারফর্মেন্স যেন পতন না হয় অসময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নবতম এক বিষ্ময় এর নাম।
বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমে প্রায়ই ক্রিকেট প্রতিভার দেখা পাই আমরা। তাদের প্রতিভার ঝলকানীতে স্বপ্ন দেখতে অভ্যস্থ হয়ে পড়ে দলের সমর্থকরা, পড়ে সেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনা বড় তেতো লাগে। কোন কোন সময় সেই তেতো স্বাদের তোপটা যায় খেলোয়ারের উপর কোন সময় কোচের উপর আবার কোন সময় ম্যানেজমেন্ট বা বোর্ডের উপর কিবা বলা যেতে পারে নির্বাচকের উপর।
চিহ্ণিত প্রতিভাধর খেলোয়ার মাঝে মাঝে পারফর্ম করতে পারেন না লাগাতার। কখনও বা নির্বাচকদের উদাসীনতায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুযোগই পান না। এই চক্রে দেশে প্রতিভার ঝলকানীর সরুপ দেশবাসীর ভাগ্যে খুব বেশী সময় জোটে নি।
সেই বুলবুল আকরামদের যুগে প্রতিভাধর ছিলেন আতহার আলী খান। তার ঝলাকানী বয়সের ভাড়ে ক্রিকেট মাঠে অনুদিত হবার সময় পায়নি। পরবর্তী দেশের ক্রিকেট জাগরন যুগে আল শাহরিয়ার রোকনকে ধরা হত ততকালীন সবচাইতে প্রতিভাধর ক্রিকেটার। তার ব্যাটিং এর স্ট্রোক এর বাহারী রুপ দেশের বাকী ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে খুব বেশী পাওয়া যেত না। সেই রোকন খুব বেশী দুর যেতে পারলেন না। জাতীয় দলের হয়ে তার পারফরমেন্স প্রতিভার যোগ্য সাক্ষর রাখল না। নির্বাচকরাও তাকে ডানা মেলার তেমন সুযোগ দিলেন না। দেশের নির্বাচকদের উপর সবসময়ই অভিযোগ, তারা খামখেয়ালী, দলের প্লেয়ারদের নিয়ে তাদের পরিক্ল্পনা অস্থিরতায় ভুগে সবসময়।
পরবর্তী সময়ে আরও কিছু প্রতিভাধর খেলোয়ার নামে পরিচিত খেলোয়ার আমরা পেয়েছি। মেহরাব হোসেন অপি স্ট্রোক মাঠে দর্শক টেনে আনত, সেই অপি ব্যাক্তিগত জীবনে এতই মশগুল হলেন যে ক্রিকেট দর্শক তাকে পেলেন না। এরপর অলক কাপালী, তার কথা তো আমাদের মনে এখনও আছে, দলে থাকার দৌড়ে তিনি এখনও আছেন। কিন্তু প্রতিভার যোগ্য পারফরমেন্স আমরা দেখলাম কই। তার প্রতি সহানুভুতি দেখানো যায় যে তিনি ওত সুযোগ পান নি। দলে তার জায়গা নিয়ে নির্বাচকরা রীতিমত ছেলেখেলা করেছেন।
বোলার হিসেবে দেশের সর্বকালের সবচেয়ে প্রতিভাবান মাশরাফি মাঠেও তার সাক্ষর নিয়মিতই রাখেন, কিন্তু ইনজুরি তাকে প্রায়ই বাইরে রাখে। প্রতিভাধরদের মধ্যে তিনিই পারফর্ম করেন নিয়মিত এবং নির্বাচকদের খামখেয়ালীতে পড়েননি।
হালের আশরাফুলকে দেখেন। জাতীয় দলের হয়ে প্রথম ইনিংস খেলার পরই অতি অপরিচীত আশরাফুল হয়ে গেলেন সবার আশা আকাংখার প্রতীক। এবং সবার মতে দেশের ইতিহাসের সব চাইতে প্রতিভাধর ব্যাটসম্যানদের অন্যতম। কিন্তু তার কাহিনীটাও হতাশার। তার উপর ভরসা করার ভুল এখন দর্শকরা আর করতে যান না। তবে নিতি নির্বাচকদের থেকে ভালই সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু তবুও তার এই পরিনতি কেন?
অনেকেই ধারনা করেন, খুবই অল্প বয়সে আশরাফুলের উপর বেশী আশা করে তাকে প্রচন্ড চাপে ফেলে দেয়া হয়েছিল। এরপর তাকে হুট করে অধিনায়ক করে করা হয়েছে তার সর্বশেষ চুড়ান্ত সর্বনাস।
তার পারফর্মেন্স এর গ্রাফ দেখলেই এটা পরিস্কার। তাকে অধিনায়ক করার পর তার স্বাভাবিক ব্যাটিং কোথায় যে হারিয়েছিল। অধিনায়কত্ব হারানোর পর গত দুই সিরিজে অসাধারন ব্যাটিং করে যাচ্ছেন তিনি।
শুধু দেশের আশরাফুল কেন, বিদেশেও যদি চোখ দেয়া যায়, দলের প্রতিভাধর আর সেরা ব্যাটসম্যানদের অধিনায়ক করার পর পরিনতির দিকে তাকালে আমাদের সামনে সহজ উদাহরন আসে টেন্ডুলকার এর। বর্তমান বিশ্বের সন্দেহাতীতভাবে সেরা এই ব্যাটসম্যানকে অধিনায়ক করে তার ব্যাটিং এর চুড়ান্ত সর্বনাস প্রায় করেই ফেলা হয়েছিল। শেষে তিনি নিজেই এই চাপের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেবার পর তার ব্যাটিং আবার ঝলসিয়ে উঠে।


বাংলাদেশ দলে আমরা এখন পেয়েছি সাকিব আল হাসান কে। যাকে প্রথম দেখায় কেউ রোকন, অলক বা আশরাফুলদের দলে ফেলেনি। কিন্তু মাঠে পারফর্মমেন্স করে তিনি তার জাত চিনিয়েছেন। এখন তার ব্যাটিং দেখলে তাকে দেশের অন্যতম প্রতিভাধর ব্যাটসম্যান মনে হতেই পারে। তার পরিমিত কিন্তু বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখে মনে হয় তিনি যেন অনেক বছর ধরে আন্তর্জতিক ক্রিকেট খেলছেন। বাংলাদেশ দলে এক্সট্রা অর্ডিনারী ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে যা হয়, নিয়মিত পারফর্মেন্স করতে না পারা, সাকিব এর ক্ষেত্রে সেটির কোন দেখাই নেই। নিয়মিতই তিনি ভাল খেলে যাচ্ছেন। ক্রিকেট র‌্যাংকিং এ বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার তো আগেই হয়েছেন, এখন তার পয়েন্টকে এতদুর নিয়ে যাচ্ছেন যে তাকে ধরা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দির পক্ষে কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যাচ্ছে। কি টেষ্ট কি ওয়ানডে বড় বড় ইনিংস খেলছেন সাবলীল ভাবে। আর তার বোলিং দলের আশার প্রতীক। একই সাথে একটি দলের প্রধান ভরসার ব্যাটসম্যান আর প্রধান ভরসার বোলার হয়ে গেছেন সাকিব আল হাসান। এমন জেনুইন অলরাউন্ডার বিশ্বে বিরল। বিশ্বের আর কোন দলে কাউকে একই সাথে দলের সেরা ব্যাটসম্যান আর অন্যতম সেরা বোলার বলা যায় কিনা খুজলে পাওয়া যাবে না সাকিব ছাড়া। আমরা মনে করতে পারি অনেককাল আগে নেইল জনসন নামে জিম্বাবুয়ের একজন খেলোয়ার এরকম ছিলেন।

আশরাফুলকে পদচ্যুত করার পরে মাশরাফি দলের ক্যাপ্টেন। কিন্তু তার দীর্ঘমেয়াদী ইনজুরির কারনে দলের সেরা প্রতিভাধর ও পারফরর্মার সাকিবের হাতে উঠেছে অধিনায়কত্ব। তিনি তার কাজও করে যাচ্ছেন সাবলীল ভাবে। দলের সবচেয়ে ভাল খেলে যাচ্ছেন তিনি ম্যাচের পর ম্যাচ। তাই স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের কারো কারো মনে স্বপ্ন জাগছে তিনিই কেন নিয়মিত অধিনায়ক হচ্ছেন না।

ঠিক এখানেই আমরা বড় একটা ভুল চিন্তার দোড়গড়ায়। সাকিব হাসান, আমাদের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ও অন্যতম সেরা বোলার, তাকে অধিনায়ক করে তার উপর অতিরিক্ত প্রেসার দিয়ে আমরা যদি তার পারফর্মেন্স এর উপর প্রভাব ফেলে দিই তা দলের জন্য আত্মঘাতী হয়ে যাবে। আমাদের সামনে আশরাফুলের উদাহরন থেকে গেছে।
তাই আমাদের উচিত সাকিবকে ক্যাপ্টেন করার চিন্তা থেকে সরে এসে তাকে তার মত খেলতে দেয়া স্বাধীন চাপমুক্ত ভাবে। তাহলেই তাতে দলের ভাল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28992413 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28992413 2009-08-12 00:08:33
স্ক্রীপ্ট রাইটিং পর্ব-এক

ক্রিয়েটিভ রাইটিং নিয়ে কিছু লিখতে চাচ্ছি। ক্রিয়েটিভ রাইটিং কোর্স এ আসলে লেখালেখির সবকিছু সম্পর্কেই ধারনা দেয়া হয়। সেটা হতে পারে ছোটগল্প, বা উপন্যাস কিবা নিছক ফিচার কিবা স্ক্রীপ্ট রাইটিং। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি লেখালেখির গুন আসলে ট্রেনিং এর মাধ্যমে পাওয়া যায় না। কিন্তু তবুও ক্রিয়েটিভ রাইটিং এর কোন কোর্স এ অংশ নিলে যেটা হয় তা হলে লেখালেখিটা এসাইনমেন্ট হিসেবে করতে হয় এবং তাতে করে অনেক উপকার হয়। আর যে লেখাগুলোতে কিছুটা কাঠামোগত জ্ঞান থাকা প্রয়োজন যেমন স্ক্রীপ্ট রাইটিং, সেগুলোর ক্ষেত্রে কোন ট্রেনিং কোর্স বা গাইড আর্টিকেল কিছুটা কাজে লাগে। আমাদের দেশে তো এখন মনে হয় ছোটগল্প বা উপন্যাস লেখার চেয়ে নাটক লেখার দিকে লিখিয়েদের ঝোক বেশী থাকার কথা। কেননা সেইটার বাজারই ভাল। যাহোক, আমার পড়াশোনা বিষয়ের মাঝে ক্রিয়েটিভ রাইটিং বিশেষ করে স্ক্রীন রাইটিং (স্ক্রীপ্ট রাইটিং) টা বেশ গুরুত্বপুর্ন। আমারও ওইটার উপরে বিশেষ আগ্রহ, তাই নিয়মিত সিলেবাসের বাইরে আলাদা করে ক্রিয়েটিভ রাইটিং এ নজর দিয়েছি। ব্লগে চেষ্টা করব সেই সম্পর্কে কিছু লিখতে, গুছিয়ে যদি লিখতে পারি তাতে আমার নিজেরও সুবিধে, একসাথে পুরো ব্যাপারটা চোখের সামনে পাওয়া যাবে। (আমি নিজে কোন জাতের লেখক নই, শুধু যা পড়েছি বা শিখেছি তা কপি পেষ্ট করব। দয়াকরে ভূল ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি নিয়ে দেখবেন আশা করি।)

তো, নিচে যে লেখাটি শুরু হচ্ছে সেটি প্রধানত স্ক্রীপ্ট রাইটিং নিয়ে, কিন্তু তাতে গল্প বা উপন্যাসের ব্যাপারেও ধারনা পাবার কথা। লেখাটি প্রধানত ইউকে বা ইউএসএ'র টেলিভিশন বা ফিল্ম স্ক্রীপ্টিং এর উপরে বেইজড করে তৈরি তাই উদাহরন ও সেই প্রেক্ষাপটেই হবে, তবে আমাদের দেশের টেলিভিশন বা ফিল্মের সাথে খুব বেশী তফাত থাকার কথা না।

শুরু করা যাক তাহলে।
কোন স্ক্রীনপ্লে লেখার আগে যা প্রথমেই মনে রাখা উচিত :

ডিরেক্টর, প্রডিউসার বা প্রডাকশন হাউজের কাছে স্ক্রীপ্ট দেবার আগে কয়েকটা কথা ভেবে নেয়া দরকার। নামী প্রডাকশন হাউজ সাধারন নামী স্ক্রীপ্ট রাইটারদের স্ক্রীপ্ট নিয়েই কাজ করেন, তারা নতুনদের নিয়ে কোন ঝুকিতে সচরাচর যেতে চান না। তাই নতুনদের সুযোগ পেতে হলে অনেক বেশী ভাল হতে হয়। কেননা পান থেকে চুল খসা ধরনের দুর্বলতা পেলেই বেশীরভাগ স্ক্রীপ্ট ডাস্টবিনে চলে যায়। কথাগুলো খারাপ শোনালেও সত্য হলিউডে বিভিন্ন ডিরেক্টর, প্রডাকশন হাউজে বা ইউকের টেলিভিশন বা ইউএসএ'র টেলিপ্লে'র জন্য জমা দেয়া নতুনদের স্ক্রীপ্টের মাধে ৯০ ভাগই অখ্যাদ্য হিসেবে গন্য করা হয় না পড়েই। শতকরা মোটে টেনেটুনে ১০ ভাগ স্ক্রীপ্ট শেষপর্যন্ত পড়া হয়, তাদের থেকে ২ ভাগের লেখককে কথা বলার জন্য ডাকা হয়, তার থেকে ১ ভাগকে নিয়ে ফিল্ম বানানো হয়। স্ক্রীপ্ট লেখার সময় আমাদের লক্ষ্য থাকা উচিত সেই ২ শতাংশের মধ্যে পড়া। আর সে জন্যে যেটা নিশ্চিত করা দরকার যাতে আমাদের স্ক্রীপ্ট যথেষ্ট আঠসাঠ হয়। ঝুলে পড়া স্ক্রীপ্ট বা ছোট্ট কাহিনী অতি বিশাল করে বলা গল্প তেমন কারও নজর কারে না। আপনার স্ক্রীপ্টের সামারী পড়ে কাহিনী সম্পর্কে ধারনা নিয়ে যদি দেখা যায় আপনার স্ক্রীপ্ট ১২ ফন্টে ১৪০ পৃষ্ঠারও বেশী তাহলে সে স্ক্রীপ্টের স্থান হবে বিন, এতে কোন সন্দেহ নেই। তাই স্ক্রীপ্ট লেখার সময় জানা থাকতে হবে কি লিখছি। নিয়ন্ত্রন থাকতে হবে। কাহিনী বিস্তারে স্যাকরিফাইস করা যাবে না আকার বাড়ানোর স্বার্থে।
দ্যা নাইটমেয়ার বিফোর ক্রিসমাস , দ্যা সিক্রেট গার্ডেন , সিটি অফ এম্বার সহ বিখ্যাত কিছু মুভির স্ক্রীনপ্লে রাইটার ক্যারোলিন থমসন স্ক্রীপ্টকে সনেট কবিতার সাথে তুলনা করেন। তার মতে স্ক্রীপ্টেরও সনেটের মত নির্দিষ্ট সীমারেখা আর কাঠামো আছে যার বাইরে গেলে তা অসফল হবার সম্ভাবনাই বেশী।

সেজন্যে এই জিনিসটা মাথায় রেখে স্ক্রীপ্ট লেখার কাজ শুরু করা উচিত।
স্ক্রীপ্ট লেখা আর গল্প উপন্যাস লেখার মধ্যে একটা পার্থক্য আছে, এই ব্যাপারটাও এখানে মনে করিয়ে দিতে চাই। গল্প বা উপন্যাস লেখায় লেখক হন স্বাধীন, তিনি তার কল্পনার রঙ দিয়ে সবকিছু রাঙিয়ে দিতে পারেন। স্ক্রীনপ্লে'র ক্ষেত্রে সেটি একটি কমপ্লিট টিমওয়ার্ক। আপনাকে স্ক্রীপ্টের নমনীয়তার ব্যাপারে মাথায় রাখতে হবে। ডিরেক্টরের সাথে কথা বলে স্ক্রীপ্টে চাহিদা মত পরিবর্তনও আনতে হতে পারে তা মাথায় রাখতে বেহবে এবং স্ক্রীপ্ট লেখার সময় সে সুযোগ রাখতে হবে। যদিও স্ক্রীপ্ট লেখকের কিন্তু সেটা দিয়ে যা তৈরি হবে তা কিন্তু ডিরেক্টরের। তাই আসলে এটি একটি টিমওয়ার্ক। এই ব্যাপারটা লেখকদের জন্য বিরক্তিকর এবং অস্বস্তিকর। কিন্তু এটি এড়ানোর উপায় নেই।
সঠিক দৃশ্য ও আকার একটা বড় ব্যাপার:

একটা নাটক বা ফিল্মে আসলে ঠিক কত সময়ের হয়? এক ঘন্টা বা দুই বা বড়জোর তিনঘন্টা? কিন্তু সেখানে যে কাহিনীটা দেখানো হয় সেটি কি সবসময় দুই ঘন্টার হয়?
একটা ফিল্মে আপনি কাহিনী বলতে পারেন সাতদিন বা সাতমাসের, কিন্তু তা আপনাকে বলতে হবে দুই ঘন্টায়। সাতমাসের কাহিনী দুই ঘন্টায় দেখিয়ে ফেলা সহজ কাজ নয় নিশ্চই? এটা যে শুধু স্ক্রীপ্ট লেখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তাই নয় গল্প বা উপন্যাসের ক্ষেত্রেও। সবখানেই নির্বাচন করতে হয় যে কোন বিষয়টা বলা হবে, কি বলা হবে না, কিভাবে দৃশ্য সাজানো হবে। দৃশ্য সাজানোর মধ্যে কুশলতা দেখাত হবে। সফলতার সাথে দৃশ্য সাজাতে পারলে পারফেক্ট আকারের স্ক্রীপ্ট পাওয়া যায়।

কিন্তু কিভাবে নির্বাচন করবেন আপনি কিভাবে একটি দৃশ্য সাজাবেন?
ধরা যাক, আকবর নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তার দোকানে দুপুরে বলল ক্ষুধার্ত এবং সে এখন সিঙ্গারা আর চা খেতে যাবে। এই দৃশ্যটি আসলে কেমন হতে পারে স্ক্রীপ্ট এ?
১. দোকানের ভেতর, আকবর তার কর্মচারীকে বলল সে ক্ষুধার্ত তাই সিঙ্গারা, চা থেকে বাইরে যাচ্ছে।
২. দোকানের ভেতর, আকবর চেয়ার থেকে উঠে দাড়াল এবং যাবার উপক্রম হল।
৩. দোকানের বাইরে, আকবর দোকান ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে রাস্তা ক্রস করছে।
৪. রেস্টুরেন্টের সামনে, আকবর রেস্টুরেন্ট এ ঢুকে সিঙ্গারার তাক এর দিকে তাকাল
৫. রেষ্টুরেন্ট এর ভেতর, আকবর একটি টেবিলের সামনে চেয়ারে বসল।
৬. রেস্টুরেন্ট, আকবর ওয়েটারকে ডেকে সিঙ্গারা আর চা অর্ডার দিল।
৭. রেস্টুরেন্ট, আকবর টেবিলের সামনে বসা, ওয়েটার সিঙ্গারা আর চা এনে রাখল।
৮. রেস্টুরেন্ট, আকবর সামনে রাখা সিঙ্গারা মুখে দিল, তার মুখে পরিতৃপ্তির ছায়া
৯. রেস্টুরেন্ট, আকবর খেতে খেতে পত্রিকা পড়ছে
১০. রেস্টুরেন্ট, আকবর খেয়ে কাউন্টারে বিল পরিশোধ করছে।

এখন আমাদের ভাবতে হবে আমরা দৃশ্যটিকে কিভাবে দেখাব। উপরের দশরকম থেকে একরকম হতে পারে, আবার এরচেয়েও ভাল করে ভিন্নরকম হতে পারে। আবার দৃশ্যটি রাখব কিনা, এটা ওত জরুরী কিনা সেটাও ভেবে দেখতে হবে।

লেখা শুরু করা কিন্তু অনেক কঠিন :

যারা জীবনে কিছু হলেও লেখালেখি করেছেন তারা নিশ্চই জানেন একটা লেখা শুরু করা কতটা কঠিন। আপনার মাথায় হয়ত পুরোটা কাহিনী এসে বসে আছে, অথচ প্রথম লাইনটা কলমের আগায় আসছেই না। এবং এতে করে দেখা যায়, সময় যায়, দিন মাস যায় ওটা আর লেখাই হয় না।
আসলে লিখতে শুরু না করে লিখব, লিখব চিন্তা করে বা বলে বলে সময় কাটানো অনেক সহজ। লিখার উদ্দ্যেশ নিয়ে লেখার খাতা বা ল্যাপটপ সামনে নিয়েও লিখা না শুরু করার হাজারটা কারন আছে, যেমন এক কাপ চা খেয়ে লিখি, ব্লগে একটু ঢু মেরে দেখি কি চলছে তারপর মন ফ্রেস করে লিখব, ফেইসবুকে একটু দেখি কোন নোটিফিকেশন আসল কিনা, ভাল একটু মুভি ডাউনলোড করা আছে ওটার কিছুটা অংশ দেখে নেই অন্তত, খেলার খবরটা অন্তত দেখে নেই ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব কোনটাই খারাপ কিছু না, কিন্তু তাতে করে অন্তত লেখাটা হবে না। তাই এই কথাটা মনে রাখতে হবে
WRITE/ Or Be Written Off
এটা ছাড়া উপায় নেই। ঠাটবাটে চলার জন্যে মাসলম্যান হতে গেলে যেমন প্রতিদিন অন্তত আধা ঘন্টা হলেও ব্যায়াম করতে হয়, কটা বুকডন দিতে হয়, পুশব্যাক, পুশআপ করতে হয়, লেখালেখির ব্যাপারটাকেও তেমনি ভাবতে হবে। শরীরকে সুন্দর শেপে নিয়ে আসার জন্যে যেমন দরকার নিয়মিত ব্যায়াম, দশপনের দিন পর পর একবার নয়, তেমনি লেখাকে সাবলীল করতেও দরকার নিয়মিত লেখা, তা সে যত ছাইপাশই হোক।

প্রতিদিন অন্তত পাচশ শব্দও লিখতে চেষ্টা করতে হবে। সেগুলো হতে পারে অখাদ্য কুখাদ্য। লিখলেই যে সব নোবেল প্রাইজ উইনিং বা অস্কার উইনিং লেখা আসবে সে চিন্তা বাদ দিতে হবে। লিখতে হবে অবিরত। কোন কাহিনী মাথায় না থাকলে যা খুশি লিখা যেতে পারে, পাশের বাসার মেয়েটা সম্পর্কে, শহরের নতুন শপিং মলটা নিয়ে কিবা মাথার উপরে ঘুরতে থাকা ফ্যানটা নিয়েও। রাবিশ লিখতে লিখতে একসময় লেখার হাত ভাল হয়ে যাবে। তৈরি হবে নিজস্ব সতন্ত্রতা। এসময়ে পড়তেও হবে অনেকের লেখা। লিখার সময় হয়ত তাদের ছাপ আসবে, কিন্তু তাতে কোন চিন্তা নেই, লিখতে লিখতে একসময় নিজস্বতা আসবেই।

মোটকথা প্রতিদিন নিয়ম করে লিখতে হবে। এবং সেটা যেমন মানেরই হোক। কথা হচ্ছে
Don't Get it Right - Get it Written


স্ক্রীপ্ট লিখার সময় দৃশ্যকে তুলে আনতে হবে। তাই একজন লেখকে সবসময় সাধারন মানুষের চেয়ে অন্যরকম ভাবে দৃষ্টিশক্তি ব্যবহার করতে হবে। যখন চলাফেরা করবেন তখন আশপাশ দেখবেন সেগুলোকে চিত্রায়ন করলে কিভাবে করা হবে, কিভাবে বর্ননা করা হবে, স্ক্রীপ্ট কিভাবে লিখা হবে। তাই চিন্তা করুন সবসময় একটি ভিডিও ক্যামেরার মত। যখন কাহিনী বা দৃশ্য নিয়ে ভাববেন তখন ক্যামেরা মত চিন্তা করবেন এবং সেটাকে কাগজে তুলে আনবেন। এবং সেটা এমন ভাবে আনতে হবে যাতে কেউ পড়লে যন্ত্রনা না হয়ে সহজে ওই দৃশ্যগুলো রিডারের চোখে ভাসে। মনে রাখতে হবে আপনার স্ক্রীপ্টে ফিল্ম বা নাটক তৈরি হয়ে দর্শক দেখার আগেই কিন্তু এটি পরিচালক বা প্রযোজক পড়বেন, তাই স্ক্রীপ্টরিডার, সে যেই হোক আপনার স্ক্রীপ্ট তার মনে ইমেইজ তৈরি করতে পারছে কিনা সেটা জরুরী। সেটা যত সহজ হবে, স্ক্রীপ্টকে ফিল্মিং করাও ততই সহজ হবে।





(ক্রমশ)


আজকে আর টাইপ করতে পারছি না। আগামী কোন দিন আরও অংশ আসবে। লেখার মাঝে ইংরেজী শব্দ (যেমন ডিরেক্টর, সামারি, প্রডিউসার) ইত্যাদি বিরক্তিকর ভাবে ব্যবহারের জন্য দু:খিত।



এই লিখায় সাহায্য নেয়া হয়েছে ও হবে ইনডিপেন্ডেন্ট কলেজ ডাবলিন এর ক্রিয়েটিভ রাইটিং কোর্স এর লেকচার শীট ও এনএমটিসি ডাবলিন এর বি এ ইন ফিল্ম প্রডাকশন কোর্স এর স্ক্রীপ্টরাইটিং হ্যান্ডবুক এবং টিচ ইউরসেলফ এর স্ক্রীনরাইটিং বই থেকে।[/si]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28981789 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28981789 2009-07-22 02:10:18
বাজেটে যদি সিগারেটের দাম বেড়ে থাকে তাহলে স্মোকার ভাইয়েরা যা করতে পারেন (মাইনাস সাদরে গ্রহনযোগ্য) <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" />






পোষ্টখানা প্রিয় ব্লগার শয়তানের স্মৃতি (!)(নিকটা বাইচা থাকলে স্মৃতি শব্দটা স্কিপ করে যেতে হবে) উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হইল, এবং সেই সাথে সামু ব্লগের প্রিয় চেইন স্মোকারদেরকেও। আরেক প্রিয় ব্লগার লুলুপাগলার উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা, কেননা পোষ্টের আইডিয়া লুলুপাগলার পুরনো একটা পোষ্ট থেকেই মেরে দেয়া, কপিপেষ্ট।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28963564 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28963564 2009-06-12 09:12:56
ইট হ্যাপেন্ড ওয়ান নাইট : (সিনেমাখোর পোষ্ট)

(ব্লগে মাসুম ভাইকে দেখতাম মুভি নিয়ে পোষ্ট দেন। তার ব্লগ খেয়াল করলে ভাল ভাল মুভির সন্ধান পাওয়া যায়, তারপর দেখলাম আরও অনেকেই আসলে ব্লগে মুভি নিয়ে পোষ্ট দেন, হাসান বিপুল , দারাশিকো , ফাহমিদুল হক , দুরন্ত , মেহরাব, শুন্য আরণ্যক আরও অনেকে। সিনেমাখোর নামে চমৎকার একটা গ্রুপও হয়েছে। সেখানে ভীষন ভাল ভাল পোষ্ট। ভয়ংকর ভাল লাগছে আসলে এসব দেখে। আমি নিজে ওতটা সিনেমাখোর নই। সিনেমা দেখার সময় করে উঠতে পারি না তেমন একটা ছাইপাশ নানা হাবিজাবি করে। তবুও মাঝে মাঝে একটা দুটা সপ্তাহান্তে দেখার চেষ্টা করি, মাঝে মাঝে অনেক ভাল মুভি দেখা হয়ে যায়, মাথাটা কিছুক্ষন ঝিম ঝিম করে। মনে হয় দুনিয়ায় কতকিছুই না হয়ে যাচ্ছে তার কটা খবরই বারাখছি, দেখছি। মানুষ কেমনে বানায় এসব! সে যাই হোক, চিন্তা করছি মাঝে মাঝে নিজের দেখা কিছু মুভি নিয়ে একটু গপশপ করব ব্লগে পোষ্ট দিয়ে। কারনটা সহজ, ব্লগই এমন একমাত্র জায়গা, যেখানে আমি আজাইরা কিছু বলতে গেলেও কেউ মানা করবে না। তাই বলতে যাচ্ছি ছাইপাশ।)



ইট হ্যাপেন্ড ওয়ান নাইট ইটালিয়ান আমেরিকার ফিল্ম ডিরেক্টর ফ্রাংক ক্যাপরার প্রথমদিককার মুভি। এটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৩৪ সালে, যখন পৃথিবীর ইতিহাসে নির্বাক মুভি সবাক মুভির দিকে তার সাবলীল যাত্রা সবে মাত্র শুরু করেছে। মুভি নির্মাতা তখন নানা রকম আইডিয়া থেকে মুভি তৈরি শুরু করেছেন। ক্যাপরার এই মুভিটি স্যামুয়েলস হপকিন্স এডামস নামের এক আমেরিকার সাংবাদিক লেখকের 'নাইট বাস' নামের একটি গল্পের উপর ভিত্তি করে তৈরি।

খুব সহজ সরল একটা কাহিনী মুভিটার। বিশাল ধনী এক লোকের মেয়ে এলি তার পছন্দের মানুস কিং ওয়েষ্টলীকি বিয়ে করতে চায়। তার বাপ তাকে এই বিয়ে থেকে বিরত থাকতে বোঝানোর চেষ্টা করলে এলি বাপের জাহাজ থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। এর পর তার ধনী বাপ প্রভাব খাটিয়ে চারিদিকে এলির খুজে হুলিয়া জারি করেন। এদিকে এলি নিউইয়র্ক গামী বাসে চড়ে বসে। সেই বাসের যাত্রী ছিল নিউইয়র্কের এক পত্রিকার সাংবাদিক পিটার ওয়ার্ন। সে এলিকে চিনতে পারে সহজেই, কেননা ততক্ষনে এলির ছবি প্রত্যেক পত্রিকার হেডলাইন হয়ে গিয়েছিল। চতুর পিটারের ক্যারিয়ারে তখন মন্দা, এক্সক্লুসিভ কোন নিউজের অভাবে বেচারা অনেক চাপের মধ্যে। সে এলিকে প্রস্তাব দেয়, এলি যদি তাকে সাথে রেখে এলির এই স্টোরি কাভার করতে দেয় তাহলে সে এলিকে সাহায্য করবে ওয়েসলির সাথে দেখা করিয়ে দেবার, তানা হলে এলির বাপকে বলে ধরিয়ে দেবে। উপায় না দেখে এলি নিমরাজী হয়। এরপরে শুরু হয় তাদের রোমান্টিক যাত্রাপথের। পথে যাত্রাবিরতীতে এলি এক জায়গায় গিয়ে আসতে দেরী করলে বাস তাকে রেখেই চলে যায়, পিটার ইচ্ছে করে তখন থেকে যায় এলির জন্যে। তারা শহরে ঘুরে বেড়ায়, রাতে স্বামীস্ত্রী হিসেবে মোটেলে থাকে, দুজনের বেডের মাঝখানে পিটার কম্বল দিয়ে দেয়াল দিয়ে রাখে। পিটারের ব্যবহারে অবাক হয় এলি, পিটারের ব্যবহার একটু রুক্ষ, পেশাদার, কিন্তু দায়িত্বশীল।

পরে আবার বাসে চড়ে তারা, বাসে এলিকে এক লোক চিনতে পারায় তাকে জানের ভয় দেখিয়ে তাড়ায় পিটার, কিন্তু বাসে আর চড়ে না। এদিকে পথে বাপ মরা এক ছেলেকে মায়ের চিকিৎসার জন্য পিটার তার পকেটের সব টাকা দিয়ে দেয়ায় তাদের হাতে টাকা ছিল না, তাই বাস ছেড়ে দেয়ায় তাদেরকে রাত কাটাতে হয় গোয়াল ঘরের মত জায়গায়। পরদিন রাস্তায় এলি তার পা দেখিয়ে এক গাড়িতে লিফট নেয়, পরে ওই গাড়ির মালিক তাদের মালামাল চুরি করতে চাইলে পিটার গালিওয়ালাকে মেরে গালি নিয়ে নেয়। এরমধ্যে এলির বাপ ঘোষনা করে এলি ফিরে আসলে এলির সাথে ওয়েসলির বিয়ে মেনে নেবে। সেদিন আরেক রাত কাটায় এলি আর পিটার একটা মোটেলে কম্বল দিয়ে দেয়াল তৈরি করে দু বেডের মাঝে। এলি পিটারকে প্রোপোজ করে, বলে তাকে ছেড়ে সে থাকতে পারবে না, কিন্তু পিটারের ব্যবহার তখন থাকে প্রায় নির্লিপ্ত। সেদিন ভোররাতে পিটার তার সম্পাদকের কাছ থেকে তার প্রেমকাহিনীর বিনিময়ে ১০০০ ডলার নিয়েআসতে যায় যাতে সে এলিকে বিয়ে করতে পারে, কিন্তু ওদিকে মোটেল মালিক ভেবে বসে এলিকে ছেড়ে পিটার চলে গেছে আর এলি ভাড়া দিতে পারবে না, তাই তারা এলিকে তাড়িয়ে দেয়। পিটার টাকা নিয়ে মোটেলের পথে আসতে থাকে, কিন্তু এলি পিটার তাকে ফেলে চলে গেছে ভেবে বাবাকে ফোন করে দেয়। পিটার শেষপর্যন্ত দেখতে পায় এলি বাবার কাছে চলে গেছে, সেও ভুল বোঝে যে এলি ওয়েসলিকে বিয়ে করতেই গেছে।
এলির সাথে ওয়েসলির বিয়ের আয়োজন শুরু হয়। এলির বাপ এলির মাঝে পরিবর্তন দেখতে পেয়ে তাকে জিগ্গেস করে সে কাউকে ভালবাসে কিনা। এলি পিটারের কথা বলে। এলিব বাপ পিটারের নাম শুনে চমকে যায়, কেননা পিটার এলির বাপকে টেলিগ্রাম করেছে তার মেয়ের ব্যাপারে টাকা পয়সা বিষয়ক আলাপ করার জন্যে। এলি সেই টেলিগ্রাম বাপের পকেট থেকে কেড়ে নিয়ে পড়ে ফেলে। সে ভাবে পিটার তার বাপের ঘোষনা করা মেয়ের খবর দিতে পারলে ১০,০০০ ডলার পাবার লোভেই এমন করেছে। সে দুখী হয়। এদিকে পিটার যখন এলির বাবার সাথে দেখা করতে আসে তখন সে এলির বাবার কাছে শুধুই তার ৩৯ ডলার ৬০ সেন্টস ফেরত চায় যা সে এলির জন্যে পেট্রোল কিনতে খরচ করেছে। এলির বাবা অবাক হয় আর বুঝতে পারে পিটারই এলির জন্য বেশী ভাল। এলির বাপ বিয়ের সময়ের আগে এলিকে সব বলে, ওয়েসলীর চেয়ে পিটার ভাল সেটা বলে।

বিয়ের ঠিক আগে যখন কনে কবুল বলবে তখন এলি বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে গিয়ে ড্রাইভওয়েতে আগে থেকে রাখা গাড়িতে করে চলে যায়।
এলির বাবা ওয়েসলিকে বিশাল অংকের টাকা দিয়ে দেয় এলি যেহেতু তাকে বিয়ে করেনি, কিন্তু সে খুব খুশি হয়। এলি পিটারে বিয়ে করে ফেলে।



মুভিটি দেখা না থাকলেও কাহিনী পরিচিত মনে হচ্ছে? সেটা হওয়াই স্বাভাবিক, কেননা এই মুভিটি দিয়ে পরে হলিউডে, বলিউলে, কলকাতায়, বাংলাদেশে কত যে মুভি তৈরি হয়েছে তার শেষ নেই প্রায়। পুরো মুভিটিই কপি করে বানানো হয়েছে হিন্দীতে রাজকাপুরের 'চোরিচোরি', আমিরখান পুজা ভাটের বিখ্যাত জনপ্রিয় মুভি ' দিলহ্যায় কি মানতা নেহি', বাংলায় উত্তম কুমারের 'চাওয়া পাওয়া'
এছাড়া এই মুভির কিছু দৃশ্য তো হিন্দী বাংলা মুভির এককালের কমন দৃশ্য। যেমন গরুর খড়ের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে নায়ক নায়িকার রাত কাটানো। এমন দৃশ্য এই মুভিতেই সেই ৩৪ সালে প্রথম দেখানো হয়েছিল, পরে এটি তো যেকোন মুভির অবশ্যযুক্ত দৃশ্য হয়ে যায়।

এই মুভির আরেকটি জনপ্রিয় ও সমালোচকদের আলোচনার দৃশ্য হল , যখন রাস্তায় পিটার আর এলি লিফট নেবার জন্যে গাড়ি থামাতে যায়। পিটার নানা কৌশন করেও পারে না, সেক্ষেত্রে এলি প্রথমবারেই তার স্কার্টটা উরুর উপর তুলে ধরে সহজেই গাড়ি থামিয়ে ফেলে। এই দৃশ্যটিও বেশ কমন দৃশ্য হয় পরে মুভি ইতিহাসে। কতবার কত মুভিতে এই দৃশ্য দেখেছেন মনে পড়ে?

মুভি দেখতে দেখতে মজা পাওয়া যায় ওই সময়কার আমেরিকা দেখে। নিউইয়র্কগামী দুরপাল্লার বাস দেখে। আজকের গ্রেহাউন্ডের পুর্বসুরীকে দেখতে খারাপ লাগে না।

মুভিটি দেখার সময় এটির মেকিং কেমন সেদিকে তাকালে অন্যায় হবে, কেননা ভাবতে হবে এটি কখন তৈরি। তখন প্রযুক্তির অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। অনেক দৃশ্যও নেয়া হত খুব সাধারন ভাবে। যেমন এলিপিটার যখন গাড়িতে করে যাচ্ছে তখন তাদের পেছনের ফেলে আসা রাস্তার দৃশ্য একেবারেই এম্যাচার লাগে। কেননা তখন সরাসরি গাড়ি চালানোর দৃশ্য শ্যুট করা হত না। স্থীর গাড়িতে চরিত্র স্টিয়ারিং নাড়াত, গাড়িকে একটু নাড়াচাড়া করা হত, পেছনে পর্দায় আগে থেকে শ্যুট করা চলন্ত রাস্তার দৃশ্য জুড়ে দেয়া হত। হিন্দী মুভি 'ওম শান্তি ওম' দেখে থাকলে একটি গানের দৃশ্যে দেখেছেন নিশ্চই ব্যাপারটা কেমন।

সেকালে এই মুভিটি ছিল অনেক উন্নতমানের ছবি। এখনও মানুষের পছন্দের তালিকায় এ মুভিটার অবস্থান অনেক উপরে। মুভিটি ৫ টা অস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে ৫ টিই জিতেছিল। ফ্র্যাংক ক্যাপরা পেয়েছিলেন, অস্কার পেয়েছিলেন পিটার চরিত্রে অভিণয় করা ক্লার্ক গ্যাবল, এলি চরিত্রে অভিনয় করা ক্লডিয়া কোলবার্ট।

একটা মিষ্টি সহজ সরল রোমান্টিক মুভি দেখতে হলে ইট হ্যাপেন্ড ওয়ান নাইট আসলেই ভাল লাগার মত একটা মুভি, দেখতে দেখতে মনে হবে কাহিনী জানা, কিন্তু তবুও ভাল লাগবে। পুরনো মুভিগুলোর মজাই মনে হয় এমন।

মুভিটি দেখতে চাইলে এখানে লিংক দিয়ে দিলাম।
Click This Link
লিংকটা ইউকো'র। অত বেশী ভাল প্রিন্ট না। ওত আগের মুভি কতই বা ভাল হবে। তবে টরেন্ট থেকে আমি খুবই ভাল একটা প্রিন্ট ডাউনলোড করেছিলাম। কিন্তু কোন টরেন্ট লিংক এখন খুজে পাচ্ছি না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28960843 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28960843 2009-06-06 03:58:55
র‌্যাব।
আজ সকালে জানা গেল, এরা দুজনই ছিল ঢাকা পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট এর ছাত্র, যারা কিনা গতরাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়েছে।
Click This Link

র‌্যাব এ ঘটনাকে কি বলবে জানি না, এই দুজনকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বলা হবে, নাকি গার্মেন্টসে হুমকিপ্রদানকারী বলা হবে, রাতারাতি তাদের নামে দশটা করে মামলা আবিস্কার করা হবে কিনা, তাদের নামের সাথে ওরফে কাল্লু অথবা বিলাই যোগ করে ভয়ংকর রুপ দেয়া হবে কিনা, ঠিক কি ভাবে আমাদের কাছে এদের ভয়ংকর রুপ দেয়া হবে এখনও জানি না।

তবে, ভাবতে চেষ্টা করছি ছেলেদুটোর পরিবারের সদস্যদের কথা। তাদের মায়েদের কথা। তাদের চোখের জলের কথা।
ছেলেদুটো যদি সাধারন ছাত্রই হয়, তাহলে আমরা সাধারন জনগনরা কি নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারি?

র‌্যাব নামের একটি মানুষ হত্যাকান্ডের লাইসেন্সপ্রাপ্ত কিলার বাহিনীকে কি এখন বন্ধ করে দেবার সময় এসেছে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28956953 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28956953 2009-05-28 13:23:41
রন্টির দেশে যাওয়া বা শ্বাসগ্রহনের স্বাধীনতা লাভ ১৬ তারিখ সক্কালবেলা ফ্লাইট।
১৭ তারিখ সকালবেলা নামবে ঢাকা। সাথে সাথেই বাতাস ভারী, ফোস্কা পড়া গরম, লোকজনের চেচামেচি, রাস্তার জ্যামজট, পো পো..তবুও বহুদিন ধরে আটকে রাখা শ্বাস, যেটি সে এতদিন ধরে ফুসফুসের ভেতরেই রেখে দিতে বাধ্য হয়েছিল, নিজের দেশে ছিল না বলে, নিজের দেশের স্বাধীন মুক্ত বাতাসে শ্বাসটুকু ছেড়ে নতুন ভারী, ধুলোময়লাযুক্ত বাতাস নিতে এতগুলো দিনের অপেক্ষা...

আসলে দেশপ্রেমট্রেম কিছু না..বাংলাদেশে সে ফেলে গেছে তার পরিবার, তার বন্ধুবান্ধব, পরিচিত পরিবেশ, তার ছোট্ট ছিমছাম শহর আর তার ছেলেবেলা থেকে দেখা অগনিত ছোট্ট ছোট্ট নির্বোধ স্বপ্ন। বিদেশে বসে তো সে তা পায় না, হয়ত পায় আরও অনেক কিছুই..কিন্তু এসবই কি পুরন করতে পারে তার সেইসব অভাববোধ? কারও কি পারে?

পারে না বলেই তার এমন ব্যকুলতা, এইরকম ছেলেমানুষী আবেগাক্রান্ত অগোছাল, ভীষন স্বার্থপর লেখার কাসুন্দি।

দেখা হবে বন্ধু কারনে বা অকারনে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28911783 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28911783 2009-02-15 23:12:55
দ্যা ৪০০ ব্লোজ : (সিনেমাখোর পোষ্ট) মাসুম ভাইকে দেখতাম মুভি নিয়ে পোষ্ট দেন। তার ব্লগ খেয়াল করলে ভাল ভাল মুভির সন্ধান পাওয়া যায়, তারপর দেখলাম আরও অনেকেই আসলে ব্লগে মুভি নিয়ে পোষ্ট দেন, হাসান বিপুল , দারাশিকো , ফাহমিদুল হক , দুরন্ত , মেহরাব আরও অনেকে। সিনেমাখোর নামে চমৎকার একটা গ্রুপও হয়েছে। সেখানে ভীষন ভাল ভাল পোষ্ট। ভয়ংকর ভাল লাগছে আসলে এসব দেখে। আমি নিজে ওতটা সিনেমাখোর নই। সিনেমা দেখার সময় করে উঠতে পারি না তেমন একটা ছাইপাশ নানা হাবিজাবি করে। তবুও মাঝে মাঝে একটা দুটা সপ্তাহান্তে দেখার চেষ্টা করি, মাঝে মাঝে অনেক ভাল মুভি দেখা হয়ে যায়, মাথাটা কিছুক্ষন ঝিম ঝিম করে। মনে হয় দুনিয়ায় কতকিছুই না হয়ে যাচ্ছে তার কটা খবরই বা রাখছি, দেখছি। মানুষ কেমনে বানায় এসব!
সে যাই হোক, চিন্তা করছি মাঝে মাঝে নিজের দেখা কিছু মুভি নিয়ে একটু গপশপ করব ব্লগে পোষ্ট দিয়ে। কারনটা সহজ, ব্লগই এমন একমাত্র জায়গা, যেখানে আমি আজাইরা কিছু বলতে গেলেও কেউ মানা করবে না। তাই বলতে যাচ্ছি ছাইপাশ।



এই সেদিন দেখলাম ফ্রান্সিস ট্রুফোর দ্যা ৪০০ ব্লোজ। এটি ফ্রেন্চ এই চিত্রপরিচালকের ফরাসী মুভির ইংরেজি নাম। আসল নামটা এত খটমটে যে বলতে গিয়ে দাত ভেঙে যাবে। ট্রুফোর প্রথম ছবি যা সমালোচকদের দৃষ্টি দারুন ভাবে কেড়েছিল। আধুনিক চলচিত্রে এ মুভি বেশ আলোরনই তুলেছিল। এই মুভিতেই ট্রুফো তৈরি করেন তার বিখ্যাত সিনেমাটিক চরিত্র এনটইন ডনিয়েল। এই চরিত্র নিয়ে ট্রুফো ২০ বছর ধরে মুভি বানিয়েছেন। সিনেমার ইতিহাসে বন্ড, স্পাইডারম্যান এ জাতীয় সুপারহিরো ছাড়া এমন সিরিয়াল মুভি বিরল।



৪০০ ব্লোজ মুভিতে এনটন ডনিয়েল একজন ১২/১৩ বছর বয়সের কিশোর, যে কিনা প‌্যারিসের একটা ছোট্ট জীর্নশীর্ণ এপার্টমেন্টে মা আর সৎবাবার সাথে বসবাস করে, যে কিনা তার মায়ের বিয়ের আগে অবিবাহিত মায়ের গর্ভে জন্মেছিল যে কারনে তার মা তাকে ওতটা পছন্দ করে না, তার মা চায় নি সে জন্মাক। তার সৎবাবা তার সাথে ভাল ব্যবহার করলেও অভাবের সংসারে তার প্রতি আসলে স্বাভাবিক কিশোরদের মত আচরন হয় না। তাকে শুতে হয় তাদের এপার্টমেন্টের বারান্দায় স্লিপিংব্যাগের ভেতরে।
স্কুলেও তার একই দশা। তার ক্লাসটিচার তাকে কোন কারন ছাড়াই গালমন্দ করে, তার দোষ ধরে এবং হাস্যকর বানিয়ে ফেলে। এইসমস্ত কারনে ডনিয়েল তার বন্ধু রেনের সাথে স্কুল পালিয়ে ঘুরে বেড়ায়, সিনেমা দেখে রাইডে চড়ে, স্কুল ফাকি দিয়ে ডনিয়েল একদিন দেখতে পায় তার মা অফিস কলিগের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সবকিছু তার মনকে পরিবার সমাজের প্রতি বিতশ্রদ্ধ করে তোলে। একদিন ডনিয়েল ও তার বন্ধু রেনে ডনিয়েলের সৎবাবার অফিস থেকে টাইপরাইটার চুরি করে, পরে তা বিক্রি করতে না পেরে ফেরত রাখতে গিয়ে ধরা পড়ে। তার সৎবাবা তাকে পুলিশ স্টেশনে দিয়ে আসে। সেখান থেকে তাকে সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। তার বাবা তাকে আর পরিবারে নিতে অস্বীকার করে। তার মা কতৃপক্ষের কাছে একটিই অনুরোধ করে তাকে যেন সমুদ্রের কাছের কোন ওয়ার্ক ক্যাম্পে দেয়া হয়, কেননা ডনিয়েল কখনও সমুদ্র দেখেনি।

পুরো মুভিটি দেখতে দেখতে ডনিয়েলের প্রতি সবার মায়া জন্মাবেই। একটি কিশোরের ভাগ্যে যা ঘটা উচিত ছিল না তাই ঘটে তার জীবনে। মুভিটির শেষ হয়ে গেলেও দর্শকের মনে এর পরবর্তী সিকুয়েল গুলো দেখার ইচ্ছে জাগবেই। ট্রুফো পরবর্তী বিশ বছরে এনটন ডনিয়েল সিরিজের আরও চারটি ফিল্ম তৈরি করেছেন। এগুলো হল এনটইন এন্ড কলেইট, স্টোলেন কিসেস, বেড এন্ড বোরড এবং লাভ অন দ্যা রান।

প্রত্যেকটি মুভিরই ফ্রেন্চ নাম আছে এত কটমটে গুলো উল্লেখ করলাম না। সাবটাইটেল সহ দেখতে মুভিগুলোর স্বাদ এতটুকুও কমে না। যারা ৪০০ ব্লোজ বা স্টোলেন কিসেস দেখবেন তারা টুফ্রোর আর সব মুভি গুলো দেখার জন্য উদগ্রীব হবেন তাতে কোন সন্দেহ নাই। তবে আমার মনে হয় ৪০০ ব্লোজ থেকেই ট্রুফো দেখা শুরু করা উচিত।

মুভিটি দেখতে পারেন এখান থেকে

অথবা টরেন্ট লিংক
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28908879 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28908879 2009-02-09 21:54:52
শান্তকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাঃ বিরক্তিকর কাসুন্দিসহ
আলী আরাফাত শান্ত এই ছেলেটিকে আমার কত পছন্দ তা বলা খুবই মুশকিল। আমি নিজে কোন তালেবর নই। বরং পাগল ছাগল টাইপ। তবু, শান্তর সহজসরল পাগলামী দেখে স্বস্তি আর শান্তি পাই। ভীষন ভাল্লাগে। ওর চিন্তাধারা দেখে নিজের দেশে থাকাকালীন সময়ের কথা মনে পড়ে। আমার আবার একবার ''শান্ত'' হয়ে যেতে ইচ্ছে করে।

আজকে শান্তর জন্মদিন ছিল। ২০ জানুয়ারী। শান্তকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28900128 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28900128 2009-01-20 22:53:20
এটি একটি ফ্লাডিং মার্কা পোষ্ট। লাষ্ট অনেক দিন তো পোষ্টই দেয়া হয় না <img src=" style="border:0;" />
তাই একটা ফ্লাডিং মার্কা আজাইরা পোষ্ট দিলাম।
ইহার কারনে হয়ত ভাল পোষ্টগুলো পিছিয়ে যাবে একধাপ। প্রথম পাতার একটা ভাল পোষ্ট দ্বিতীয় পাতায় চলে যাবে।

কিন্তু...এত কিছু চিন্তা করলে হইবে না। মাঝে মাঝে উল্টাপাল্টা হইতে হয়....নাকি? এত বয়স তো এখনও হয় নাই যে ফাইজলামীও করা যাবে না।

হইছে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28899781 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28899781 2009-01-20 05:47:49
দেশী টিভি সিরিয়ালে ভারতীয় উপন্যাসের ব্যবহার নিয়ে অলৌকিক হাসানে র একটি লেখা পড়ে
নুশেরা র একটি পোষ্টের পর আশরাফে র পোষ্টটি পড়ে এ ব্যাপারে কিছু বলতে ইচ্ছে হচ্ছে। নাটক নিয়ে বলতে চাচ্ছি কিছু।

ইদানিংকালে আমাদের মেগাসিরিয়ালগুলো ভারতীয় বাংলা উপন্যাস নির্ভর করে বানানোর হিড়িক পড়ছে। এটি আসলে ডিরেক্টররা বাধ্য হয়েই করা শুরু করেছেন। কেননা আমাদের দেশে মেগাসিরিয়াল লেখার মত নির্ভর করা যায় এমন নাট্যকার কই?

আপনি একটি নাটক বানাবেন, চোখ বন্ধ করে ভাবুন, কোন নাট্যকার এর কাছ থেকে স্ক্রিপ্ট নিবেন? আছেন হাতে গোনা কজন। ৪/৫ জন নাট্যকার আমাদের পুরো নাটকের জগৎটা সামলাচ্ছেন।

এটাই সমস্যা। এদেশের নাটকের জগৎে নতুন নাট্যকার আসছন না। গত কবছরে আমরা অনেক স্টার ডিরেক্টর পেয়েছি, স্টার অভিনেত্রী, অভিনেতার সরবরাহ তো সবসময়ই খুব ভাল, কিন্তু নাট্যকার? নেই নেই নেই।

আর আমাদের দেশে মেগাসিরিয়াল বানাতে গেলে চ্যানেল গুলোর সাথে ভাল খাতির থাকতে হয়। নতুন করে কোন প্রজেক্ট নিতে গেলে হয় নামী নাট্যকার এর স্ক্রিপ্ট লাগে, অথবা পুর্ন স্ক্রীপ্ট থাকলে ধারনা দেয়া যায়। তো দেশে নাট্যকারের অভাব। একেকজন নামী নাট্যকার একই সময়ে দুতিনটা মেগাসিরিয়াল লিখছেন, তো আমি যদি এখন আরেকটা নতুন মেগা শুরু করি স্ক্রিপ্ট কোথায় পাব?
সেজন্যেই আমাদের ডিরেক্টররা সহজ পথ খোজেন। ভারতীয় বাংলা ভাল উপন্যাস গুলি পছন্দ করেন। তারপর সেই লেখকের সাথে দেখা করে অনুমতি নেন। তাতে একটা অগ্রিম পাবলিসিটিও হয়। পরে দেশের তরুন কোন স্ক্রীপ্টরাইটার দিয়ে ওইটা স্ক্রীপ্ট আকারে রিরাইট করে ফেলা হয়। তাতে দুটি সুবিধা, এক দেশের নামী নাট্যকার এত ব্যস্ত যে তারা আরেকটি মেগা লিখলে কোয়ালিটি গড়পড়তা হবার সম্ভাবনা থেকে বাচা গেল, দুই, কাহিনী সম্পর্কে সম্যক ধারনা থাকল।
আপনি গড়পড়তা একটা দেশীয় স্ক্রিপ্ট দিয়ে নাটক তৈরি করলে তা নিচু মানের হবে। কিন্তু ভারতীয় একটি উপন্যাস নিয়ে নাটক করলে তার স্ক্রীপ্ট কোয়ালিটি নিয়ে অন্তত কোন সন্দেহ থাকে না।

এজন্যেই পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে যাচ্ছে ভারতীয় সাহিত্য আমাদের নাটকে।

কিন্তু কথা হচ্ছে এই কাজটা কি ঠিক হচ্ছে?
আমার মত হচ্ছে ''না''।
যদি পরীক্ষামুলক ভাবে একটি দুটি সেরা উপন্যাস নিয়ে সেটি করা হয় তাহলে সেটি আমাদের নাট্য সাহিত্যে কোন প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু ঢালাও ভাবে করা হলে সেটি আমাদের নবীন সম্ভাবনাময় নাট্যকারদের এ জগৎে আসার পথ রুদ্ধ করে দিবে।

তাহলে আমাদের কি করা উচিত?

আমাদের ডিরেক্টরদের আরও একটু পরিশ্রমী হওয়া উচিত। তারা যে ভারতীয় উপন্যাস নিয়ে কাজ করছেন তাতে কিন্তু স্ক্রীপ্ট বিষয়ক চমক থেকে বন্চিত হচ্ছেন। দর্শক আগে থেকেই জেনে যাচ্ছেন কাহিনী কি। একটা উপন্যাশ্রয়ী নাটকের প্রচন্ড জনপ্রিয় হওয়া অনেক কঠিন।

আমাদের প্রডিউসার এবং ডিরেক্টরদের নাট্যকার তৈরিতে মনোযোগ দেয়া উচিত। তরুন প্রজন্মের মধ্যে একটা জাগরন তৈরি করা উচিত। দেশের অনেক তরুনই অত্যন্ত ভাল লিখার সম্ভাবনা নিয়ে বসে আছে। কিন্তু আমাদের নাটকের লোকেদের সে সম্পর্কে মনে হয় সে সম্পর্কে ধারনাই নেই। সমকালীন লিখিয়ে তরুনরা, যারা কিনা নাটক লিখার চেয়ে গল্প বা উপন্যাসকে বেশী গুরুত্ব দেন , তাদের সম্পর্কে কোন জানা শোনাও নেই আমাদের দেশের নাটকের মানুষদের, আমার সে রকমই মনে হয়।
যা করা উচিত সেই সব তরুন দের নাটক লেখার দিকে উৎসাহ দেয়া উচিত। তাদের উপর ভরসা করে স্ক্রীপ্ট লিখানো উচিত। তাতে করে একটি ট্রেন্ড তৈরি হতে পারে। একসময় আমরা ভাল ভাল তরুন স্ক্রীপ্ট রাইটার পেয়ে যেতে পারি। যারা সংখ্যায় অনেক হবেন। সুন্দর সুন্দর মানসম্পন্য স্ক্রীপ্ট লিখবেন। ডিরেক্টররা তাদের চাহিদা মত একটি বড় ধারাবাহিকের পুরো স্ক্রীপ্ট একসাথেই হাতে পেতে পারেন।

দরকার উদ্যোগের।
তা না হলে আমাদের একসময় আরও পরাশ্রয়ী হয়ে যেতে হবে।
ভারতীয় বাংলা সাহিত্য অবশ্যই আমরা পছন্দ করি। এবং পড়ি, চর্চা করি। কিন্তু নিজেদের বাদ দিয়ে সেগুলো নিয়ে পড়ে থাকলে একসময় নিজেদের কিছুই থাকবে না।
আজকেই আমরা মনে হয় অনেক খারাপ অবস্থায় এসে গেছি। তা হলে কেন আশরাফ তার পোষ্টে লিখবেন

''এপার বাংলায় ভাল লেখার কতটুকু মূল্য দেয়া হয়? নবীন একজন লেখকের কতটুকু স্বাধীনতা আছে? প্রতিভার বিকাশকে আমরা রুদ্ধ করে রাখছি। তাদের "দেশ", "আনন্দবাজার" ইত্যাদির মতন শক্তিশালী প্রচার মাধ্যম আছে। আমাদের শুধু সাহিত্য নির্ভর কোন পত্রিকা বা ম্যাগাজিন আছে কি? বুদ্ধদেব বসু'র "কবিতা" কিংবা সুনীলের "কৃত্তিবাস" এর মতন কোন শক্তিশালী কবিতা প্রকাশের মাধ্যম এপার বাংলায় কোনকালে গড়ে উঠেনি। আমাদের বই প্রকাশকাল হল বিশেষ বিশেষ দিবস মুখী, সেখানে কলকাতায় সারাবছরই কিছু না কিছু প্রকাশ হচ্ছে। সাহিত্যনির্ভর পত্রিকা কিংবা ম্যাগাজিন সাজসাজ রব তুলে বাজারে এসে হারিয়ে যায় মাস ছয়েক, বছর পরে; বড়জোর বছর দুয়েক থাকে স্থায়িত্বকাল।''?

আমাদের ভাল লেখা খুজে বের করতে হবে। সেরকম পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এবং ভাল লেখার মুল্য দিতে হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28891938 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28891938 2009-01-02 04:07:05
কেমন চাই নতুন সরকারের মন্ত্রীসভা? এখন পালা সুন্দর একটি মন্ত্রীসভা গঠন করার। যদিও সে দায়িত্ব বিজয়ী দলের। তবু আমরা জনগনরাই তো তাদের নির্বাচিত করেছি, তাই মন্ত্রীসভার বিষয়েও তো আমাদের মতামত থাকতে পারে।
=============================================
সেসকল নাম পাওয়া গেছে আপাতত

শেখ হাসিনা >>> প্রধানমন্ত্রী .....(বিকল্প পাওয়া গেলে স্বাগত<img src=" style="border:0;" />)
আবুল মাল আব্দুল মুহিত >>> অর্থমন্ত্রী
আব্দুল মতিন খসরু >>> আইনমন্ত্রী
মতিয়া চোধুরী >>> কৃষি
সাবের হোসেন চৌধুরী >>> ুব ও ক্রীড়া
আসাদুজ্জামান নুর >>> তথ্য
কবরী >>> সংস্কৃতি
মুহাম্মদ জাফর ইকবাল >>> শিক্ষা (যদি সম্ভব হয়)
মেজর(অব) রফিকুল ইসলাম >>> স্বরাষ্ট্
নুরুল ইসলাম বিএসসি >>> শিল্প
সাহারা খাতুন >>>সমাজকল্যান
মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন >>>স্বাস্থ্য
শামসুল হক টুকু >>>ধর্ম
এ কে খন্দকার >>> মুক্তিযুদ্ধা মন্ত্রনালয়
একে খন্দকার >>> যোগাযোগ
=============================================

কারও কি কোন প্রস্তাব আছে মন্ত্রীসভার ব্যাপারে? ধরে নিন মন্ত্রীসভা গঠনের দায়িত্ব যদি আমাদের উপরে পড়ত তাহলে আমরা কি করতাম?

আমার এ ব্যাপারে সামান্য পরিমানে কিছু মতামত আছে।

শেখ হাসিনা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি অন্তত আর কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। যদিও বা বিকল্প খোজা দরকার। কিন্তু তেমন লোক কই? চিন্তা করে দেখ ১/১১ এর পরে যদি শেখ হাসিনার পরিবর্তে অন্য কেউ তখন আলীগের নেতৃত্বে থাকত তবে কি হত?
জলিল সেক্রেটারি ছিল, ওটাও তো শেখ হাসিনার একটি ভাল কাজের একটি ছিল। কিন্তু সেই সেক্রেটারি কি করল?

তাই আসলে অন্য কারও উপরে ভরসা করি না। কিন্তু বিকল্প আসলেই দরকার। শেখ হাসিনার বয়স হয়েছে, এই টার্মেই তার উচিত বিকল্প খুজে বের করা। তিনি সবকিছুর নেতৃত্বে থেকে যদি অন্য কাউকে প্র.ম বানিয়ে গাইডলাইন দেন তাহলে খুবই ভাল। কিন্তু আবারও সেই একই প্রশ্ন কে হবে সেই লোক?




মন্ত্রীসভা নিয়ে এবার জোড় শোরগোল হবে, এত আসন, এত এমপি। মন্ত্রীসভা করা নিয়ে হাসিনা সমস্যায় পড়বেন। টেকনোক্রেট কাউকে আনার সুযোগ নেই মনে হয়।

মাল মুহিত অর্থমন্ত্রী হবেন তাতে কোন সন্দেহই নেই। তার চেয়ে যোগ্য অর্থমন্ত্রী প্রার্থী আমি আর দেখি না।

সরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কাকে দেয়া হবে জানি না...আল্লাহ না করুন নাসিম টাইপ কাউকে যাতে না দেয়া হয়।


যুব ক্রীড়াতে সাবের হোসেনকে চাই ই চাই।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের বেহাল দশায় সাবের হোসেনই জ্বালাতে পারেন আরোকবার্তা। ভুলতে পারি না ৯৭ এর আইসিসি ট্রফিতে কেনিয়ার মাঠে তার তোয়ালে দিয়ে পানি তোলার দৃশ্য। যদিও বা তিনি তার এলাকায় বিতর্কিত, কিন্তু তার চেয়ে ভাল যুব ক্রীড়া মন্ত্রী হয় না।

মতিয়াকে আবার কৃষি মন্ত্রী বানানো হোক প্রচুর স্বাধীনতা দিয়ে। এই মহিলা আমাদের আবার খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ন করবেন।


সরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, বানিজ্য, স্থানীয় সরকার এসব মন্ত্রনালয়ের জন্য মন্ত্রী খুজে পাচ্ছি না। আপনাদের মাথায় কারও নাম থাকলে প্রস্তাব করতে পারেন।

চলেন আমরা একটা মন্ত্রীসভা বানাই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28890770 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28890770 2008-12-31 03:51:52
বাংলাদেশকে জামায়াত মুক্ত করন প্রক্রিয়ার এই শুরু..
পৃথিবীর অনেক দেশই নবীনদের নিয়ে সমস্যায় আছে। নবীনরা যেমন সম্ভাবনা নিয়ে আসে তেমনি তারা ঝামেলা পাকাতেও প্রস্তুত থাকে। বাংলাদেশে একটা সময় অনেকে ধারনা করা শুরু করেছিলেন এ দেশের নবীন তরুনরা হয়ত ৩৭ বছর আগেকার পুরনো মুক্তিযুদ্ধ আর এ নিয়ে কপচানো আলাপ পছন্দ করবে না, দেশে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক চলচিত্র এসবও বানাতে সাহস করতেন না অনেক পরিচালক, কেননা নতুন প্রজন্ম তো এসব পুরনো জিনিসে ওত বেশী ইন্টারেষ্ট রাখে না।


কিন্তু না, এ দেশের তরুনরা এসবই ভুল প্রমান করে দিয়েছেন। তারা দেখিয়েছেন এ দেশের উজ্জল ভবিষৎের আলোকবার্তা। তারা কিছূই ভুলেন নি তারা দেখিয়েছেন। কিভাবে জবাব দিতে হয় তাও।

জামায়াত নামের বিষফোড়াকে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো খুব ভাল ভাবে ট্রিট করতে পারে নি এর আগে। এবার নতুন প্রজন্মের চরম ক্ষোভ ছিল যুদ্ধপরাধী এই দলটির উপর। নতুন প্রজন্ম নিজের দেশে শকুনদের গাড়িতে পতাকা উড়তে দেখা সহ্য করেনি। এজন্য জামায়াত...যে দলটি নিয়ে অনেক গাল ভরা কথা শোনা যায়....এরা অর্গানাইজড, হ্যান ত্যান, ব্রেইনটেইন ওয়াশ করতে সক্ষম, ধর্মাশ্রয়ী, কোরআন শপথ করিয়ে ভোট নেবারও চেষ্টা করেছে, টাকা ঢেলেছে, ধানের শীষের ভোট ধার করেছে।

কিন্তু কিছূতেই কিছু হল না। জামায়াতের পতনের শুরু হয়ে গেল এই নির্বাচনের মাধ্যমে।

এখন আমাদের সময় এসেছে আরেকটি অলআউট প্ল্যান করা জামায়াতকে নিশ্চিন্হ করার জন্যে। অনেক কাল আমরা তাকিয়ে থেকেছি আমাদের রাজনৈতিক হর্তাকর্তাদের দিকে। এখন সময় নিজেরা এগিয়ে আসার। জামায়াত তাদের রাজনৈতিক বেইজ হারিয়েছে। এখন আমাদের উচিত তারা যাতে আমাদের তরুনদের কোন ভাবে আর ব্রেইন ওয়াশ না করতে পারে সেদিকে নজর দেয়া।
জামায়াতের যুদ্ধপরাধী রাজাকারদের একটি জোরগলা তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা নেই। আমাদের তাদের মামলা উপহার দেয়া উচিত। আমার বিশ্বাস আমরা এ উদ্যোগ নিলে সরকার এতে প্রভাব বিস্তার করবে না। প্রতি জেলায় জেলায় জামাতী সন্ত্রাসীদের রুখা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে জামাতের প্রবল প্রতাপ, এইবার নির্বাচনে এই জবাবের পর আমার মনে হয় ওইসব বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে শিবিরীয় সন্ত্রাসীদের ঝেটিয়ে সোজা করা উচিত।

জামাতের গাছের গোড়া নড়বড়ে হয়ে গেছে। এখন একে কাটতে হবে। দলে দলে কুড়াল নিয়ে তৈরি হোন বন্ধূরা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28890229 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28890229 2008-12-30 06:16:32
নির্বাচন নিয়ে রন্টি মিয়ার টুকটাক অগোছালো কথাবার্তা (নির্বাচন কদিন পর। বিভিন্ন পোষ্ট দেখছি ব্লগে। নানা জায়গায় মন্তব্যও করছি। তেমনি একটি পোষ্টে করা মন্তব্য এখানে পোষ্ট আকারে দিয়ে দিলাম। একটু অগোছালো লাগবে। তবুও দিয়ে দিলাম। পোষ্ট করতে তো আর পয়সা লাগছে না। তাহলে বাধা কোথায়?)

বিএনপির আমলে অর্থনীতি একটু গতিপায়, সেটা ঠিকই আছে।
গত টার্মের পাচ বছরেও বিএনপির আমলে ভালই কাজ হয়েছে। সে অনুপাতে হয়েছে দুর্নিতীও। হাওয়া ভবন কিন্তু একটি চৌকষ রাজনৈতিক কেন্দ্রস্থল ছিল। তারেক যখন রাজনীতিতে আসেন তখন সে দেখিয়েছে আধুনিক রাজনীতি কাকে বলে। ২০০১ সালের নির্বাচনে তারেক চমৎকার কাজ দেখিয়েছে। সবকিছু ঠিক ছিল। তারেককে যুগ্ন মহাসচিব করে লাইমলাইটে এত তাড়াতাড়ি আনাটাই ঠিক হয়নি। এরপরই শুরু হল হাওয়া ভবন ব্যবহার করে যতসব বদনামী কাজ। তার সবটুকু তারেক নিজেও জানে বলে ধারনা করি না। এমনভাবেই বেড়েগিয়েছিল বিষবৃক্ষ। বিএনপির বদনামে এটি একটি বড় দিক।

তবে সবচেয়ে বড় যে ভুলটি বিএনপিকে দুর্বল করছে, তার নাম জামায়াত। সাধারন মানুষ এটি কে সমর্থন করছে না। বিএনপির সাথে আর কোন দল নেই। আর এখনকার রাজনৈতিক অবস্থাও এমন যে নিজের দলের বাইরেও ছোটখাট দলকে সাথে রাখতেই হবে। তাই অন্য সবার বিমুখতায় বিএনপির জামাতকে সাথে রাখতেই হচ্ছে। বিএনপির তৃনমুল পর্যায়ে ছাত্রদল, প্রায় ছাত্রলীগের মতই সমানহারে শিবির ঘৃনা করে। সিনিয়ার পর্যায়েও জামায়াতকে ভাল চোখে দেখে না কেউ। কিন্তু কৌশলগত কারনে রাখতেই হচ্ছে। কিন্তু সেটা বিএনপির জন্য দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির কারন হয়ে যে দাড়াবে না, তার গ্যারান্টি কিন্তু দেয়া যাচ্ছে না।

সামনের নির্বাচনে সবাই ধরে বসে আছে আলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটই সরকারে আসছে। কেননা সবকিছুই তাদের পক্ষে। পালাবদলের কিউতে এবার তারা। সেনাসমর্থিত সরকার বিএনপির পেছনে কাটা হয়ে লাগাতে তারা এত বড় ঝুকি নেবে না যে বিএনপি ক্ষমতায় আসুক। কেননা বিএনপি আসলে তাদের কি হাল হবে বলাই্ বাহুল্য। দুর্নিতী, জামায়াত আর সরকারের অত্যাচারে বিএনপির প্রায় ক্রাশ হয়ে যাবার ভয় ছিল। কিন্তু গত ২০ বছরে বিএনপি বোধহয় দল হিসেবে গঠন হয়ে গেছে। তৃনমুল পর্যায়ে অসংখ্য নেতাকর্মী এসবে তাই বিভ্রান্ত হয় নি। আর খালেদা জিয়ার ক্যারিশমেটিক সিদ্ধান্ত এবং ইমেজ জাদুমন্ত্রের মত বিএনপিকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতায় নিয়ে এসেছে। তা না হলে মাস দেড়েক আগেও সবাই ভেবেছে বিএনপি ৪০ সিট পায় কিনা সন্দেহ, আজকে সবাই বলতে পারছে ১০০ আসন পেতে পারে।

সাম্প্রতিক কোকোর সিঙ্গাপুরের ঘটনা সেটা যতই সরকারের ছুড়ে দেয়া তীরই হোক না কেন, সেটা বিএনপিকে ভোটের মাঠে আঘাত করেছে। এরই সাথে সিমেন্স কেলেংকারী যদিও এতটা প্রচার পায় নি, তবুও সেটিও ভোটের মাঠে বিএনপিকে পিছিয়ে দেবে।

সবকিছু বিবেচনায় আনলে আলীগ জোটই এবারের নির্বাচনে জয়ী হবে সেটা এখনই বলে দেয়া যায়। তবে সেই জয় ২০০১ এ বিএনপির জয়ের মত হবে না মোটেও।

তবে বিএনপির আসন সংখ্যা এবারও চমক দেখাতে পারে ৯৬ এর মত।

বিরোধী দলে গিয়ে বিএনপির দলীয় পুর্নগঠন প্রক্রিয়া চুড়ান্ত হবে, এরই সাথে রাজনৈতিক কৌশলও নতুন করে ভাবা হবে। বিরোধী দল অবস্থায় আন্দোলেন বিএনপি জামায়াতকে পাশে পাবে বলে মনে হয় না। এবং বিএনপি সেটা পাবার আশাও করে না বলে অনেকের ধারনা। তখন চারদলীয় জোট ভেঙে যাবার সুস্পষ্ট সম্ভাবনা। ভেঙে যাবার সম্ভাবনা মহাজোটের। সরকার গঠনে ছোটছোট দলগুলো নাখোষ হয়ে নিস্ক্রিয় হওয়া ছাড়া গতান্তর নেই। এরশাদের গতি নির্ভর করে তার দলের প্রাপ্ত সিটের উপর। ২৫ টির উপর আসন পেলে তখন আলীগকে এরশাদের অনেক বিরক্তিকর আবদারের সম্মুখীন হতে হবে যা আপাতপক্ষে পুরন করলে আলীগের জন্য মস্ত ক্ষতির কারন হবে। আর ১০/১২টি সিট পেলে এরশাদ মিনমিনে গলাতেই কথা বলবে, এবং আলীগের থেকে প্রচন্ড লাথি খাবার সম্ভাবনা।

বাংলাদেশের রাজনীতির গুরুত্বপুর্ন সময় আসছে সামনের নির্বাচনের পর। অপেক্ষা সেসময়ের।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28887449 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28887449 2008-12-24 22:12:31
বারাক হুসেইন ওবামা : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট


ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে এই পোষ্ট দিলাম।

বারাক হুসেইন ওবামা। পৃথিবীর ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের নায়ক।
সাড়া পৃথিবীতে যখন এখনও কালোরা পিছিয়ে আছে, অবহেলার পাত্র হয়ে আছে, তখন ওবামা একজন কালো মানুষ হয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দেশ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। আজ ৪টা নভেম্বর ২০০৮ নতুন ইতিহাসের সুচনা হল।

বারাক হুসেইন ওবামা ১৯৬১ সালের ৪ টা আগষ্ট জন্মগ্রহন করেছিলেন। তিনি একজন আফ্রিকান-আমেরিকান হিসেবে সর্বপ্রথম আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ছিলেন এবং প্রথম একজন কালো মানুষ হয়েও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। বারাক ওবামার বাবা মুসলমান
ছিলেন মা ক্রিশ্চিয়ান।






ওবামার ছেলেবেলার ছবি, মায়ের সাথে




ওবামা কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি এবং হাভার্ড ল স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েট।
তিনি ইলিনিয়স অঙ্গরাজ্যে সিনেটর ছিলেন।
তিনি প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এর পরে ২০০৯ সালের ২০ জানুয়ারী থেকে হোয়াইট হাউজে অফিস করবেন। পৃথিবীতে রচিত হবে নতুন ইতিহাস।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28864901 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28864901 2008-11-05 10:52:08
হেল-ওয়িন...হ্যালোয়িন।


অক্টোবর মাসের শেষ দিনটাতে ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইউএসএ সহ বিশ্বের অনেক দেশে পালিত হয়ে গেল হ্যালোয়িন। হ্যালোয়িন মুলত আইরিশ ট্র্যাডিশনাল কালচার হলেও পরে তা ছড়িয়ে পড়ে ইউএসএ ,কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপের চারিদিকে। হ্যালোয়িন মানেই বাচ্চাদের ঈদ। তারা সবাই উইশ, শয়তান, স্কেলিটন, পিশাচ, ভুত, ড্রাকুলা ইত্যাতি সাজ সাজে। তাদের ঝুড়ি ভরে যায় চকোলেটে। মানুষ বাসা বাড়িতে চকোলেট এনে ভর্তি করে রাখে বাচ্চাদের দেবার জন্য। সন্ধা হলেই বাচ্চারা ভুতের সাজে বা পিশাচের সাজে মানুষের বাসায় হাজির হয়, তাদের চকোলেট দিয়ে সন্তুষ্ট করতে হয়।

আইরিশ উপকথা মতে হ্যালোয়িনের শুরু নিয়ে নানা গল্প রয়েছে। জ্যাক ও লেনট্রিন এর উপকথার অনেকগুলো গল্প পাওয়া যায়। জ্যাক শয়তানকে আপেল গাছে বন্দী করে তার কাছ থেকে কথা আদায় করেছিল যে জ্যাকের আত্মা কোন সময় শয়তান নিতে পারবে না। পরে জ্যাক নিজেই মরে যায়, শয়তান কে মুক্ত করে দিতে পারে না। ওদিকে সে পাপী ছিল বলে স্বর্গেও যেতে পারে না। আবার নরকেরও পারে না শয়তান বন্দী বলে। একসময় তার আত্মা পৃথিবীতে এসে ঘুরতে থাকে। এরকম নানা গল্প।

তবে শয়তান বোধহয় সত্যি সত্যি মুক্ত হয়ে যায় হ্যালোয়িনের দিনে। অন্তত আয়ারল্যান্ডের হ্যালোয়িন পালন দেখে এটি মনে হওয়াই স্বাভাবিক।
জনপ্রিয় আইরিশ পত্রিকা হেডলাইন করেছে, হেল-ওয়িন। তারা হ্যালোয়িনের দিনটিকে হেল এর সাথে তুলনা দিয়েছে। না দিয়েই বা কি করবে। কি হয় নি এবারে হ্যালোয়িন এ।

হ্যালোয়িনে বাচ্চাদের নির্দোষ মজার পাশাপাশি গ্যাংরা আর উঠতি বয়সী বখাটে ছেলেপেলেরা আগুন জ্বালিয়ে মজা করে। আতশবাজি, আগুন, বোমা ইত্যাদি চলতে থাকে। কোন কোন সময় তা চরম আকার ধারন করে। যদিও আইরিশ সরকার এ ব্যাপারে সবাইকে নিয়ন্ত্রনের ভেতরে থাকার কথা বলে, এবং আগুন না জ্বালাবার পরামর্শ দেয়, কিন্তু কে শোনে কার কথা! প্রত্যেক পাড়ায় পাড়ায় বখাটেরা আগুন জ্বালায়। আর এগুলো পরিস্কার করতে পরদিন বিপুল অংকের পয়সা ব্যয় হয় কাউন্টি কাউন্সিলের।

এবারের হ্যালোয়িনে হ্যালোয়িন আবর্জনা পরিস্কার করতে শুধুমাত্র ডাবলিন সিটি কাউন্সিলের ব্যয় করতে হয়েছে এক মিলিয়ন ইউরো। সাড়া দেশে এর পরিমান দুই মিলিয়ন ইউরো।
ডাবলিনে তিনচারটি ভ্যান, গাড়িতে আগুল দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে হ্যালোয়িনকে হেল-ওয়িন বানানো লোকেরা। পাড়ায় পাড়ায় পাড়লে মানুষের বাড়ি থেকে আসবাবপত্র বের করে এনে আগুন লাগায় বখাটেরা। অনেকেরই গার্ডেনের কাঠের বেড়া চলে গেছে এই কাজে।

সবচেয়ে অদ্ভুত কান্ড ঘটেছে ডরসেট স্ট্রীটএ। দুই গারদা (পুলিশ) গিয়েছিল আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করতে। সেখানে ৪০ জনের মত লোক আগুল জ্বালিয়ে আনন্দ করছিল। গারদা দুইজন সেটা থামাতে গিয়ে এমন মার খেয়েছে যে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে এখন। একই ঘটনা ঘটেছে ডাবলিনে দুইজন ফায়ারম্যানের বেলায়। সারা রাত ফায়ারম্যানেরা সতর্ক ছিল সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে। তাতে তাদের কপালে মারও জুটেছে।
সারা রাতজুড়ে উঠতি টিনেজারদের সাথে মৃদু সংঘর্ষ ছিল গারদার।
ক্লোনমেল নামের এক শহরে কিছু ছেলেপেলে হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই ছুড়ে মেরে মারধোর করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে আরও ৪ গারদা(আইরিশ পুলিশকে গারদা বলা হয়)।

এসব দেখে শুনে ডেইলি সান এর মত আমিও বলা শুরু করেছি, হ্যালোয়িন তো নয়, যেন হেল-ওয়িন।



ডট ডটঃ উপরের ছবিটা হ্যালোয়িনের দিনে তোলা আমার নিজের ছবি। বাচ্চা কাচ্চাদের ভয় দেখাতে পড়েছিলাম। চকোলেট নিতে এসে বেচারারা বড্ড ভয় পেয়েছে। মাঝে মাঝেই আমাকে আসল চেহারা দেখিয়ে প্রমান দিতে হয়েছে যে আমি ভুত না, মানুষ ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28864411 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28864411 2008-11-04 10:46:06
আমাদের সাথে এমন অকারন রসিকতা না করলে কি হয় না একেবারেই?
দেশজুড়ে তখন যুদ্ধপরাধী বিচার নিয়ে বেশ সাজ সাজ রব। সবাই সোচ্ছার। সেক্টর কমান্ডার ফোরাম বেশ সক্রিয় হয়ে নেমেছিলেন। সাধারন মানুষেরাও কন্ঠ মিলিয়েছিল। তাতে করে সরকারের কোন এক জোকারের করা রসিকতা '' ৩৭ বছর পর এই যুদ্ধপরাধী ইস্যু নিয়ে বেশী কথা না বলাই ভাল'' ''এই সরকারের কাজ যুদ্ধপরাধী বিচার নয়...আমাদের কাজ নির্বাচন করে দেয়া'' গুলো তখন বুমেরাং হয়ে গিয়েছিল প্রায়। ঠিক তখনই সুচারুভাবে একটি কমেডি ড্রামা করা হল মতি নিজামীকে কদিন কারাগারের ভেতর ভিআইপি সম্মানে রেখে। দেশের অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতা সহ বাকী সবাইকে ধরে জেলে নিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে পিঠ বাকা করে দেয়া হয়েছে...আর একই অভিযোগে মতি নিজামীকে একমাসের জন্য আতিথেয়তা দিয়ে আইওয়াস নামের একটি সরস রসিকতা করা হয়েছিল বাংলাদেশ নামের আজব একটি রঙমন্চের মানুষদের সাথে। ওই কমেডি ড্রামার হাততালিতে যুদ্ধপরাধী বিচার ইস্যুযে কোথায় হাওয়া হয়ে গেল।
বাঙালী আবার নাটক পাগল কিনা!!! তাই তাদের একটু হাসির নাটক দেখালেই হল...সব খেয়ে বসে থাকে।

কিন্তু এবারের রসিকতাটুকু কি একটু বেশী হয়ে যাচ্ছে না? আর এর দরকারই বা কি? এখন তো আর ওইরকম কোন ইস্যু উঠছে না যাতে করে সাকার্স সরকারের ঘনিষ্টজনদের বিপদে পড়তে হয়। তবে কেন এমর কান্ড?

আলী আহসান মুজাহীদের নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হল। পুলিশ গিয়ে খুজে এসে বলল পায় নি বাসায় তাই এরেষ্ট করতে পারে নি। তারপর সেই মুজাহিদই স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টার সাথে সংলাপে বসে। আজকে আবার দেখি পুলিশ আবার একবার মুজাহিদকে গ্রেফতার করতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে এসেছে। তাকে পায় নি বলে তাদের কি আফসোস!!!!! দীপ্ত কন্ঠে তারা বলছে...তাকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই আটক করা হবে !!!!
উত্তরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম চৌধুরী বিপুল বিক্রমে যা বললেন এ ব্যাপারে তা হল-- "শনিবার বিকাল চারটা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মুজাহিদের উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের বাড়িতে প্রায় ১৫জন পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালায়। সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। খবর পেলে দেশের যে কোন স্থানে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালাবে।"

এমন রসিকতায় কি করা উচিত বুঝে উঠতে পারছি না। লাইনটা পড়ে দেখুন না। খবর পেলে(!!) দেশের যেকোন স্খানে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালাবে?????


মামলা দেয়া, গ্রেফতার আদেশ জারি, তারপর আবার প্রধান উপদেষ্টার সাথে সংলাপে বসা, তারপর আবার অভিযান..খবর পেলে অভিযান এসব সস্তাটাইপ ফালতু রসিকতা করে সরকার কেন তার যোগ্যতার প্রমান দিচ্ছে বুঝতে পারছি না। এসব না করলে হয় না?

আর কেনই বা মুজাহিদ সাহেবকে এমন হয়রানি? দেশে যদি একজন ফেরেশতা টাইপ লোক থেকে থাকেন তাহলে তা তো ওই মুজাহিদ সাহেবই। তাকে জড়িয়ে রসিকতা না করলেই কি নয়? ৭১ এ তিনি দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছিলেন। সেকথা ভুলে গিয়ে তাকে নিয়ে এহেন রসিকতা বন্ধ করা ভাল।

তারচেয়ে সার্কাস সরকার নামের টিভি চ্যনেলের মাধ্যমে বস্তাপচা কমেডি সিরিজ দেখানো বন্ধ করে দিয়ে সরাসরি চামচামিতে লেগে গেলেই হয়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28856650 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28856650 2008-10-19 00:58:06
ঈদের শুভেচ্ছা সবাইকে। আমাদের এখানে আয়ারল্যান্ডে আগামীকালকে ঈদ। বাংলাদেশে বৃহঃবার। ইংল্যান্ডে আজকেই পালন করা হয়ে গেছে ঈদ। আয়ারল্যান্ডের সাথে মেইনল্যান্ডের দুরত্ব ১০০ কিলোমিটারেরও কম। সময়েরও কোন পার্থক্য নেই। তবু কেন ঈদে একদিন পার্থক্য হয়ে গেল বুঝে উঠতে পারছি না। গত দুবছর এমন হল। তার আগে সবসময় একসাথেই দুজায়গায় ঈদ পালন হয়েছে।

ইদানীং কালের ঈদে বড়বেশী নির্লিপ্ত হতে শিখে গেছি। হয়ত বয়স হয়ে গেছে তাই। এটি হয়ত স্বাভাবিক। তবু মনে হয় দেশে থাকলে হয়ত মানুষের আনন্দ দেখেও আনন্দিত হবার একটা সুযোগ থাকত। দেশ থেকে দুরে থেকে শুধু নির্লিপ্ততাটুকুই শিখেছি। তাই আমার এবারকার ঈদটার মানেও শুধুই দু্ঃখবিলাস। মঙ্গল, বুধ, বৃহঃপতি- এই তিনটা দিন ঈদের জন্য তুলে রেখেছি। দেশীল ঈদের জাবরও যদি কাটি তবুও তো এটাও একরকম ঈদ পালন <img src=" style="border:0;" />, ঘুমিয়েই যদি কাটাই, তাও। টিভি দেখেও কাটানো যায়। ঘুরে বেড়িয়ে, ঈদের জামাত পড়ে, পরিচিতদের বাসায় গিয়ে বেড়িয়ে, কোন সুন্দর জায়গায় বেড়িয়ে আসা যায়।

ব্লগ মানে নাকি ওয়েব লগ। ওয়েবীয় দিনলিপি। তাই এখানেই নিজের আজাইরা প‌্যাচালের সবিস্তর কথাবার্তা বলা যায়। ঈদে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে একটু আগেই একটা স্যাড লেখা লিখে শেষ করে ফেলেছিলাম। সেটা পোষ্ট করতে গিয়ে কোন এক কারন উধাও হয়ে গেল। আবার লিখতে গিয়ে দেখি স্যাডনেসটা এখন আর ওত প্রবল ভাবে নেই। ওয়েব লগ তাহলে আসলেই কাজ দেয় <img src=" style="border:0;" />

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ভাল থাকুন। আনন্দে ঈদের সময়টুকু কাটান। দেশে থাকুন কিবা দুরে। অন্তত নির্লিপ্ত হয়ে থাকবেন না।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28849935 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28849935 2008-10-01 02:45:41
চুরি করা সময়ের বিবর্তন http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28844387 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28844387 2008-09-17 15:52:22 আমায় ক্ষমা করে দিও, বঙ্গবন্ধু।
সেই রাতটা আর দশটা রাতের মতই তো ছিল। শান্ত, নিস্তব্ধ। আর সব রাতের মতই, আর দশটা সাধারন বাঙালী পরিবারের মতই ঘুমিয়ে ছিল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসায় একটি বাঙালী পরিবার। ঘুমিয়ে ছিলেন একজন কাজে অসাধারন অথচ চলনে সাধারন একজন মহামানুষ। আর দশদিনের মতই রাতের খাবার খেয়ে, পারিবারিক বৈঠকে হাসি ঠাট্টা করে, ছেলে, বউ, বাবা,মা নাতি মিলে সময় কাটিয়ে শান্তির ঘুমে ঘুমিয়েছিলেন ওই বাড়ির বাসিন্দারা।

সেই রাতে হয়ত ঘুমুবার আগে শিশু রাসেলকে রাক্ষস দানবের গল্প শুনিয়েছিলেন তার মা, ভয়ে হয়ত আতঁকে কেপেঁ কেপেঁ উঠেছিল রাসেল। জানতও না একটু পরেই তার জীবনে দানবেরা হানা দিচ্ছে।

দানবেরা এল।

এই দেশটা দানবেদের দখলেই ছিল। মানুষের দুঃখদুর্দশার সীমাপরিসীমা ছিল না। পরাধীনতা কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল জনপদটাকে। একটি মানুষ অদম্য সাহসিকতায়, বিপুল মহত্বতায়, পরম মায়ায় দেশের মানুষগুলোকে আগলে রেখে দেশটাকে নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতা এনে দিলেন। প্রতিদানে কি পেলেন? সেই রাতটা। হায়! এই কষ্ট কোথায় রাখি। কোথায় রাখি।

নিচের তলার ঘরে যখন দানবেদের ক্রুর শব্দ, তখন উপরে ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের অস্থির পায়চারি। বঙ্গবন্ধু হয়ত তখন তাকে সান্তনা দিচ্ছেন, 'কিচ্ছু হবে না। এটা আমার দেশ। আমাদের দেশ। এ দেশের মানুষ আমার মানুষ।'
ছেলে গেল নিচে। কুৎসিত দানবেরা তাকে গুলি করল। হতভম্ভ ছেলে বলতে চাইল, আপনারা ভুল করছেন। আমি আপনাদের প্রিয় নেতার ছেলে। দানবেরা তার বুকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করল। উপর থেকে সেই শব্দ শুনে তখন কি ভেবেছিলেন বঙ্গবন্ধু? এ দেশটায় তার সাথে এমন হবে! কেন?

একটা সময় উপরে উঠে এল এরা। বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে ধরল। তার মনে তখন কি ছিল- এরা কি চায়? কথা বলতে নিচের দিকে যেতেই সিড়ির মাঝে তাকে গুলি করল ঘাতকেরা। ফজিলুতান্নেসাকে আনা হল, তিনি তার স্বামীর লাশ দেখলেন। সেই স্বামী, যার দেখাই তিনি পেতেন না তার স্বামী দেশের জন্য ছুটতেন বলে, দেশের কথা বলে মামলা, জেল হয়রানীতে থাকবেন বলে, দেশটাকে স্বাধীন করতে কত কিছু করেছেন লোকটা আর তার স্ত্রী হিসেবে সেই সব হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন তিনি, আজ নিজ দেশে স্বামীর লাশ।
তাকেও মারল ঘাতকেরা। তারপর একে একে সবাই। শিশু রাসেলের গল্পের দানব বাস্তবে এসে গেল। ভয়ে কাতর শিশুর কম্পমান কন্ঠ' আমায় মারবে না তো!' অবোধ শিশুও নিস্তার পেল না হানাদারের নিষ্ঠুরতা থেকে। সবাই শেষ। একটা দেশের মুক্তিদাতা ও তার পরিবার।

কতটা দুর্ভাগ্য আমাদের। কতটা অভাগা জাতি আমরা যে ১৫ আগষ্ট আমাদের চোখের সামনে ঘটে গেল। আমরা কিছুই করলাম না। কতটা অকৃতজ্ঞ আমরা, হত্যাকান্ডের ২১ বছর পরে এ হত্যার মামলা দায়ের হয়। একটা গরুকে কেউ মারলেও দেশে মামলা হয়। অথচ জাতির স্থপতির পুরো পরিবারকে হত্যা করে ফেলল কতিপয় জারজ, সেই মামলা হয় না। ২১ বছর পরে হলেও, এখনও হত্যাকারীরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়ায়। বিদেশেই হোক, বেচে থাকে মানুষের মত। যা তাদের প্রাপ‌্য নয়।

ওই সব জারজদের। তাদের জারজ ছাড়া কিছু বলব না, এই দেশে এরা জারজই, এদের খুজে বের করে ...

মানুষকে আমি ঘৃনা করতে পারি না। অনেক খুজে দেখেছি, আমি আসলে ঘৃরা করতে জানি না। তবু শুধু একটা রঙের পোষাক পড়া প্রায় সকল মানষের প্রতি আমার জন্মের ঘৃনা। এরা তো মানুষও নয়। জলপাই রঙাদের আমি মানুষও বলি না। জানি সবাই সমান নয়। জলপাইদের মাঝেও সবাই দানব নয়। কিন্তু ওই রাতের জন্য আমার মনে জলপাইদের প্রতি আজন্ম ঘৃনা জন্মে গেছে। এখন তাদের কাউকে দেখলেই থুথু দিতে ইচ্ছে করে।

মাথাটা ভীষন এলোমেলো। কিছু চিন্তা করতে পারছি না। চোখটা বাড়ে বাড়ে ঝাপসা হয়ে আসে। জানি না কি লিখছি। এই লেখাটা শুধুই ঘৃনার আর ক্ষোভের। শোকের না মোটেও। ঘৃনা ওইসব জারজদের জন্য। ঘৃনা। যতটা ঘৃনা একজন মানুষের পক্ষে করা সম্ভব। যতটা ঘৃনা করলে কেউ ধ্বংশ হয়ে যায়।

এরা ধ্বংশ হোক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28831082 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28831082 2008-08-15 05:49:22
''কুউউ..'' ................(গল্প)
কুউউ...!

তীক্ষ হইসেল বাজিয়ে সবেগে ছুটে চলে সবুজ ট্রেন। বাকঁ খেয়ে ছুটে চলা ট্রেনের কোচগুলোর মৃদু ঝাকি খাওয়া ধীর করে দেয় যাত্রীদের মস্তিস্কের নিউরন সেলের ছুটে চলার গতি, বিদ্যুৎতরঙ্গ।
রাতটা বড় বেশী নিঝুম। তাই আশেপাশে ট্রেনের শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ স্পষ্ট হয়ে ওঠে না। জানালা দিয়ে চারিদিকে তাকালে ঘুটঘুটে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখার সাধ্য নেই কারও। তবু পুর্নিমার দিনে চাঁদ সঙ্গী হয়। আজ তাও নেই। আজ তাই আলো জ্বালানো ট্রেনটার একমাত্র পথের সঙ্গী অন্ধকার। অন্ধকারের সাথে কারও সখ্যতা নেই, তাই ট্রেনের যাত্রীরা প্রায় সবাই ডুবে গেছে ঘুমের অতলে। কেউ কেউ রিডিং লাইটে বইয়ের পাতায় চোখ রাখার ব্যর্থ চেষ্টা শেষে খোলাবই সামনে রেখেই ঝিমুচ্ছে কারও কানে দুর্বলভাবে গান শোনাচ্ছে ক্ষয়ে যাওয়া ওয়াকম্যান, মিউজিকপ্লেয়ার। আবার কেউ কেউ পাশের ভদ্রলোকের নাকডাকার বিকট শব্দকে বাধ্য হয়েই সঙ্গীত ভেবে নিয়ে সেই সুরে ঘুমুচ্ছে। সবাই ঘুমে, ট্রেনের এটেনডেন্টরা তাদের নির্দিষ্ট বিছানায় হাতপা লম্বা করে, বুটপালিশওয়ালা আর হকাররা ট্রেনের টয়লেটের দরোজায় হেলান দিয়ে, র্ফাষ্টক্লাস বার্থে যাত্রীরা স্লিপিংগাউন গায়ে জড়িয়ে সটান ঘুমুচ্ছে। কেবল ট্রেনের ড্রাইভার জেগে। তার জেগে থাকাই নিশ্চিত করে অন্য সবার আরামপ্রদ ঘুম।
ট্রেনটা হয়ত এসে গেছে কোন ষ্টেশনের আশেপাশে। কমে গেল এর গতি। ঘটঘট ঘটাং শব্দটা এখন বিরক্তিকর। তবু ঘুম ভাঙল না কারও। তীক্ষ আরেকটা অপ্রয়োজনীয় হুইসেল দিল ড্রাইভার। এই ষ্টেশনে ট্রেনটা থামে না।তাই কারও মাঝে জেগে ওঠার তাড়নাও দেখা দেয় না। শুধুমাত্র একজন জেড়ে ওঠে সবদিন। এই ট্রেনের প্রায় নিয়মিত যাত্রী ভদ্রলোক। প্রত্যেক মাসেই দুতিনবার অফিস ট্যুরে এদিকে যান তিনি।রাতে। তার প্রতিনিয়তের অভ্যাস এ ষ্টেশনের সামনে এসে জেগে ওঠা। আজও উঠলেন। নেই, এই মুহুর্তে তার চোখে কোন ঘুম নেই। শোভন চেয়ারের আরামদায়ক গদি থেকে পিঠ উঠিয়ে সবেগে জানালা খুলতে চান তিনি। দেখতে চান এটাই কি সেই জায়গা, যেখানে প্রতিবার তার ঘুম ভাঙ্গে। শব্দ করে জানালা খুলে ফেলেন তিনি। পাশের যাত্রীর ঘুমন্ত চোখ আর ভুরু কুঁচকে যায় বিরক্তীতে। ঠান্ডা হাওয়াই কুঁচকে যায় ত্বক। জানালা খুলে ফেলা ভদ্রলোক গলা বাড়িয়ে দেন জানালার বাইরে, দেখতে চান কিছু একটা, যা তিনি দেখেন প্রতিবার। খুজঁতে থাকেন। খুজঁতে থাকেন। সহসা চোখে পড়ে ষ্টেশনের নাম লেখা ইট পাথরের স্তম্ভটাকে।

ষ্টেশনটার নাম এখন আর পড়া যায় না দিনের আলোতেও। দিনের আলোতে দেখলেও ষ্টেশনটার অস্তিত্বপ্রমান করাই কষ্টকর বেশ। এটি এখন পরিত্যক্ত। কিন্তু একটা সময় লোকে গমগম করত এর আশপাশ। ষ্টেশনটাকে ঘিরে জমে উঠত বাজার। মানুষের কোলাহল। আনন্দবেদনার উপাখ্যান। কত মানুষের স্মৃতিজড়ানো ষ্টেশনটাতে। প্রতিটা ট্রেন এখানে থামত কোলাহলের সঙ্গী হতে। ষ্টেশনটা মিশে যেত যেন ষ্টেশনের মানুষে। মানুষরা মিশে যেত ট্রেনে। চলে যেত দুরে, দুরান্তে। আসতও। অথচ এখন এর দীনহীন অবস্থা। কেউ ভুলেও মাড়ায় না এ পথ।
একবার এক বড়কর্তা যাচ্ছিলেন এ পথ ধরে। ষ্টেশনে থামল ট্রেন। কিভাবে জানি ঘটে গেল একটা অঘটন। দাদীনানীর মুখে শোনে আজকের বাচ্চারা, দুতিনজন লোক নিজেদের ভেতরকার মারামারি ছড়িয়ে দিয়েছিল ট্রেনেও। খুনোখুনি হয়ে যায়। এমনকি ওই বড়কর্তার উপরেও ওঠে হাত। ব্যস, ট্রেন থামা বন্ধ ষ্টেশনটাতে। ধীরে ধীরে একটা উজ্জল ষ্টেশনের মৃত্যু। তার সাথে বিলুপ্তি কোলাহলেরও। আজকাল এই অন্ধকার কোন হাতরায় না কেউ। এর ঝোপঝাড়ে সাপখোপের আস্তানা। পলেস্তারা খসা লালঘরে মানুষের পা পড়ে না। নাহ্, পড়ে। এক অদ্ভুত বুড়ি অনেকদিন ধরে আছে এখানে, নিভৃতে।

ট্রেন ছাড়িয়ে যায় ষ্টেশন। ভদ্রলোকের ভাবনা জুড়ে আসতে চায় অনেক কিছু অথচ আসে ঘুম। আবার ঘুমে তলিয়ে যান ভদ্রলোক। ঘুমায় পুরো ট্রেন। ছুটে চলে লাইন ধরে, সমান্তরাল। ছুটে চলে আরেকজন ট্রেনের পিছু পিছু। লালঘরে বাস করা লালচোখের, এলোচুলের জটপাকানো বুড়ি, এখনও কি শক্তি তার গায়ে প্রানপনে ছুটে চলে ট্রেনের পিছু পিছু। পাথরে লেগে আঘাতপ্রাপ্ত হয় তার মলিন পা'জোড়া। ওদিক খেয়াল নেই বুড়ির। প্রতিদিনই ট্রেনের পিছু দৌড়ায় বুড়ি। ট্রেনের গতি বেড়ে যায়। দ্রুত অগ্রসরমান সাপের মত কিলবিল করতে করতে চোখের আড়াল হতে যায় ট্রেন। মুখ থুবরে পড়ে বুড়ি। গতদিনের অল্প শুকিয়ে আসা ক্ষতে আবারও আঘাত লেগে ছিলকে বেরোয় রক্ত। মুখটাও হয়ে যায় চোখের মত রঙীন। লাইনে পড়ে থাকে বুড়ি। পড়ে ঘুমায়। সে ঘুম আর ভাঙে না, সকাল হবার আগে।


দুই,

ভোরের সুর্য চোখে মুখে লাগতেই ঘুম টুটে যায় ছোট্টছেলের। এটা তার নিত্যদিনকার অভ্যাস। বিছানার পাশের জানালাটা ঘুম থেকে জেগেই খুলে দেন মা। ছেলের ঘুম ভাঙাতে এটাই যথেষ্ট। আজ ঘুম ছেড়ে ব্যস্ত দিন কাটবে তার। ছেলে যাবে বাবাকে খুজঁতে। নিজের স্বামীর প্রতি মহা বিরক্ত তিনি। আর বিরক্ত ঘরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা সবুজ ট্রেনগুলোর প্রতি। সেইযে মাস আগে তার স্বামী এই ট্রেনের বুকে চড়ে শহরে গেলেন আর তার ফেরার নাম নেই কেন? শহরে কি এতই চাকচিক্য, মোহ! যে তার নির্লোভ স্বচ্ছ ভালবাসা, ঘাসের কচিপাতার উপর শিশু শিশিরকনার আলোর খেলার মত তার ছোট্টছেলের হাসিও এর কাছে নিঃস্ব?
অগত্যা তাই সিদ্ধান্ত বাপতে খুজঁতে ছেলেকে যেতেই হবে শহরে। সাত থেকে আটে পড়েছে ছেলে। নিজের নামটা, ওর জন্মদাতা বাপের নামটা, ওর মাতৃভুমি গ্রামের নামটা বলতে পারে সাবলীলভাবেই। শহরে ওর বাপ যে ঠিকানায় গেছে সে ঠিকানাটা গুটগুটে হাতে লিখতেও জানে। আর শহর কি এতই জটিল যে স্পষ্ট ঠিকানা খুজে পাবে না। আর ওর সাথে তো পাশের গায়ের মন্টুর বাপ থাকবেই। মায়ের আর চিন্তা কিসের?
ওদের যাত্রার সময় হয়ে এল বলে। আকাশপাতাল চিন্তা করে আর সময় নষ্ট করেন না তিনি। তাগাদা ছেলেকে , 'ওঠ অন্তু....।'

কাপাঁ কাপাঁ পায়ে ট্রেনে চেপে বসে অন্তু। ডানহাত দিয়ে চেপে ধরে রাখে পাশের গায়ের কেরামত চাচার হাত। সেই ছাড়ে না শহরে প‌ৌছেও। শহর কি বিপুল চাকচিক্যের । ষ্টেশনে নেমেই হতবাক ছোট্ট অন্তু! এত বিশাল জংশন, এত মানুষজন, এত ব্যস্ততা, ছোটাছুটি, হারিয়ে যেতে পারে যে কেউ। এই কথাটা যখন মনে আসে তখন অন্তু তার ডানহাতের শেষপ্রান্তে কেরামত চাচাকে আর পেল না। অন্তুর উজ্জল মুখে অসহায়ত্বের ছায়া আসতে সময় লাগে না একটুও। চোখ দিয়ে জল বেড়িয়ে আসার আগেই বুঝতে পারে শহরের অসহ্য ভীরে মিশে গেছে সেও। এই জনারণ্য ভীর তাকে কোথায় নিয়ে যাবে তা ও জানে না।

জীবনের অনেক দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে সেদিনের সেই ছোট্ট অন্তু এখনও জানে না সে কোথায় চলেছে। বড় চাকরি এখন তার। মাসশেষে মোটা বেতন। ছিমছাম ঘরে একটা মিষ্টি বউ আর ফুটফুটে ছেলে। ছেলেটার দিকে তাকালেই হিংসে হয় তার, বাপ হয়েও। ওর তো কি সুখ! বাবামা সারাক্ষন তার পাশে পাশে থাকে। কিন্তু ওর বাবাযে নিজের বাবামাকে সেই শৈশবেই হারিয়ে বসেছে সে তো আর তার জানার কথা নয়। বাবা মা না থাকার কষ্টটা এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় জুয়েলকে। তার এখনকার জীবনটা এত সুখ আর স্বাচ্ছন্দের। তবু মনে হয় ছোট্টবেলায় তার সেই উচ্ছল জীবন, মিষ্টি নাম অন্তু, সেসবই ভাল। বাবা মার চেহারাটা আর মনে আসে না। কেরামত চাচার মুখটা চোখে ভাসে। আর চোখে ভাসে সেই দিনের কথা। সেদিন ষ্টেশনে ভীরের মাঝে কিভাবে যে ছুটে গেল হাতটা। স্পষ্ট চোখে ভাসে সেসব দৃশ্য। চোখে ভাসে সবুজ গ্রামের দিগন্তবিস্তুত মাঠে নিজেরও ছুটন্ত পাজোড়ার ছবি। একটা লালঘর। তার সামনের রেললাইনে দৈত্যগাড়ির ছুটে চলা অবিরত। নিজেদের ছোট্টঘরে নির্জনে, নিঃশব্দে ঘুম। স্নিগ্ধ সকালে চোখে আলোলাগা মায়ের ডাক।
'ওঠ অন্তু...'
জোর করে মায়ের দিকে তাকতে চায় সবকটা অর্ন্তচক্ষু। কিন্তু মায়ের ছবিটা যে মনে ভাসে না। অব্যক্ত এক যন্ত্রনা ঝাপটা দিয়ে আসে মনে। কিলবিল করে বাড়ে দুঃখবোধ। উফ! গ্রামের নামটাও যদি মনে হত। সেই ষ্টেশনের ধারের ছোট্টগ্রাম। ষ্টেশনটার নাম ফলকে লেখা থাকত। কী যেন নামটা।
কি নাম? কি নাম?...কি নাম...??
চিৎকার করে ওঠে জুয়েল। ধরফর করে উঠে বসে। পাশে শোয়া স্ত্রী ও ওঠে বসে। ঘেমে একাকার বড়অন্তু। বিছানার পাশের টেবিলের উপর রাখা প্লেটেঢাকা গ্লাস থেকে একঢোকে সবটুকু পানি গটগট করে খেয়েও হাপায় অসুস্থ রোগীর মত। অসহায় চোখে তাকায় স্ত্রীর সিকে।
-'আবার দেখলে স্বপ্নটা?'কেন নিজের অতীত নিয়ে এতটা ভাব? আমি, আমরাই কি তোমার সব না?' নরম কন্ঠে বলে ওর অস্থির সময়ের বন্ধু।
নিজের স্ত্রীর কোমল কন্ঠ হৃদয়ে দাগ কেটে যায়। চোখ জল আসে, আটকে রাখতে পারে না। গভীর রাতে এই ভেসে আসা জলে বাধা দেয় তারই সন্তানের মা।
'ছি: কাদোঁ কেন? এখন যদি খোকন ওটে পড়ে?' পাশে শোয়া ছোট্ট ছেলেকে দেখিয়ে বলে জুয়েলের স্ত্রী।' তবে কি লজ্জার কান্ডই না হবে। ও জিজ্ঞেস করবে, বাবা কাদেঁ কেন? বাবা কি লজেন্স খাবে?' হেসে হালকা করতে চায় স্বামীর মন।' ঘুমাও তো এখন, কাল সকালে না ট্যুর আবার।'




তিন,


অনেকদিন আগে এক বিকেলে নাম ভুলে যাওয়া গ্রামে স্নেহময়ী মায়ের কাছে হাজির হয় পাশের গাঁয়ের মন্টুর বাপ কেরামত আলী। জানায় করুন কাহিনী। কি ভাবে জানি ষ্টেশনে ভীরের মধ্যে হারিয়ে গেছে অন্তু।
ভালবাসার স্বামীর সাথে সাথে এখন সোনার টুকরাো ছেলেও হারিয়ে গেছে? মাথায় আক্ষরিক অর্থেই আকাশ ভেঙে পড়ে তার উপর। চিৎকার দিয়ে ছুটতে থাকেন তিনি। ছুটতেই থাকেন বাড়ির পাশে ষ্টেশনের বারান্দা ছুয়ে রেললাইন ধরে। তার এই ছোটা আজও থামেনি। সেই ষ্টেশনে আগে ট্রেন থামলেই যাত্রীরা পাগলীর অত্যাচার সইত। ট্রেনে ওঠে ছেলেকে, স্বামীকে খুজঁত পাগলী। এখন ট্রেন থামে না। পাগলী এখন থ্থুরে বুড়ি।তবু শেষ বয়সে এসেও ছুটে চলা ট্রেনের পিছনে সমস্ত শক্তি এক করে ছুটতে থাকে বুড়ি। মুখ থুবড়ে পড়ে একসময়। পাথরে ঘসা লেগে উঠে যায় হাত পা মুখের চামড়া। তবু ক্ষান্ত দেয়না পাগলী বুড়ি। তবুও ছুটে।
এই ষ্টেশনের মৃত্যুর সাথে গ্রামের ও মৃত্যু হয়েছে। এখন এখানে কেউ থাকেনা। মৃত গাঁয়ের পাশের গাঁয়ের লোকেরা বেশ কবার এখান থেকে বুড়িকে সরিয়ে নিতে চেয়েছিল। বুড়ি যায় নি।
বুড়ি অপেক্ষা করে আছে তার স্বামীর জন্য, ছেলের জন্য।



চার,

গভীর রাত। ট্রেনের সবাই ঘুমে নিমজ্জিত। মুল ষ্টেশন থেকে ছাড়ার পর একবারও থামেনি ট্রেন। ঘন্টা তিনেকের পথ পেরিয়ে এসেছে। চারিদিকে শুনশান পরিবেশ। শুধুই ট্রেনের ঝিকঝিকঝিক শব্দ।

এসে পড়েছে ট্রেনটা নামফলক মুছে যাওয়া মৃত ষ্টেশনের কাছাকাছি। চোখ উজ্জল হয়ে ওঠে পাগলী বুড়ির সেই শব্দ শুনে। তার স্বামী এসেছে। তার ছেলে এসেছে ট্রেনে চেপে। উঠে দাড়ায় সে। প্রতিবার ট্রেনটা চলে যায় তাকে ফেলে, ফাঁকি দিয়ে। এবার নিশ্চই থামবে। ট্রেন থামে না। ছুটে পেরিয়ে যায়। দৌড়াতে থাকেন বৃদ্ধা, সজল চোখে।

কুউউ....।

ট্রেনের হুইসেল অন্তর ভেদ করে যায় অস্থির ভদ্রলোকের। এই কি সেই জায়গা? এই্ কি সেই জায়গা...? ফিসফিস করে বলে মাত্র জেগে ওঠা বড়অন্তু জুয়েল রহমান। অস্থির হয়ে জানালা খুলে বাইরে মুখ বাড়িয়ে দেখতে চায় কিছু একটা।

বাইরে শুধুই নিকষ কালো অন্ধকার। আর কিছুই চোখে পড়ে না।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28828948 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28828948 2008-08-09 09:10:12
জন্মদিনের আবোলতাবোল
এখন বাজে রাত ২ টা ৭, বাংলাদেশে ৭ টা ৭। সে হিসেবে দেশে ৩ আগষ্ট দিন শুরু হয়ে গেছে। ভালই লাগছে। আজকে আমার জন্মদিন বলে। অনেকগুলো বছর আগে আজকের এই দিনে আমি জন্মেছিলাম। অদ্ভুত।
দেশে থাকতেও কোনকালে আমার জন্মদিন নিয়ে আমি বেশী মাতামাতি করিনি, আড়ালেই থেকে যেত তা, বিদেশে এসে তবু কেন জানি দেশকে মিস করছি। মনে হচ্ছে দেশে থাকলে অন্তত দেশের বাতাস, মাটি, রিক্সার টুংটাং, রাস্তায় কিশোরীর কলকাকলি, মানুষের হাক, ফেরীওয়ালার ডাক, ধুলো আমাকে ছুয়ে যেতে পারত পরম মমতায়। এখানেএই ভীনদেশে আমাকে কে দেবে সেই অকৃত্রিম ছোয়া?

তাও একটু পেলাম ব্লগে এসে। মিল্টন ভাইয়ের এর পোষ্টটার জন্য আবারও কৃতজ্ঞতা ।
সত্যি অনেক ভাল লাগছে, কেক কাটতে ইচ্ছে হচ্ছে রীতিমত। যেটা অনেকবছর হয় করা হয় নি। ভুলেই গেছি কোনসময় করা হয়েছিল কিনা! হাহ হা।
লেখা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। চোখে সামান্য ঘুম আর মনে একুট আধটু চঞ্চল্য মিলে এ অবস্থা।

যা হোক। সবাই ভাল থাকুন।
বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28826799 http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28826799 2008-08-03 07:19:49