আমার প্রিয় পোস্ট

দুঃখটাকে দিলাম ছুটি, আসবে না ফিরে

গ্রিটিং অব অল গ্রিটিংসঃ আসসালামু আলাইকুম

২৪ শে মার্চ, ২০০৭ ভোর ৫:৫৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

মাত্র দুটি শব্দের সম্ভাষণ। অথচ এর মধ্যে বড়ই সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে।

শব্দ দুটির অর্থ হচ্ছে 'আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক'। যে কারও সাথে সাক্ষাত হওয়ার পর এই শব্দ দুটি দিয়ে কথা শুরু করার এই চমৎকার সিস্টেম যিনি চালু করলেন তিনি সকল আদর্শের আদর্শ মুহাম্মদ (সা.)।

ইসলাম শান্তির ধর্ম। এটা শুধু একটা বাহ্যিক আবরণ নয়, ইসলাম তার অনুসারীদের মাঝে এর সার্বক্ষণিক প্র্যাকটিসও করে থাকে। আপনি যখন কাউকে সালাম দিচ্ছেন, তখন এর অর্থ দাঁড়ায় আপনি তার জন্য শান্তি কামনা করছেন। আপনি নিজেই যেহেতু তার শান্তি কামনা করছেন, সেহেতু আপনার তরফ থেকে ঐ ব্যক্তি সম্পূর্ণ নিরাপদ। আপনি যেহেতু তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছেন সেহেতু তাঁর দায়িত্ব এসে যায় আপনাকেও তার তরফ থেকে নিরাপত্তা দেয়া। আর একারণেই আপনার 'আসসালামু আলাইকুম' এর জবাবে ঐ ব্যক্তি বলেন 'ওয়া আলাইকুম আসসালাম'। কী চমৎকার ব্যবস্থাপনা, তাই না?

সালাম ঈমানের অংগ। হাদীসে এ ব্যাপারে প্রচুর বক্তব্য পাওয়া যায়। আল্লাহর রাসুল (সা.) সব বয়সের মানুষকেই সালাম দিতেন, পরিচিত-অপরিচিত বাছতেন না। অথচ আমরা এ ব্যাপারে ভীষণ কার্পণ্য করি। আমি বহু মানুষকে দেখেছি ব্যক্তি জীবনে ইসলামের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও খুব কাছের লোকদের সালাম দেন না শুধুমাত্র লজ্জা বা জড়তার কারণে।

সালাম বিষয়টি শুধুমাত্র সম্মানের সাথেই জড়িত নয়, এখানে নিরাপত্তার বিষয়টিও অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। যিনি যত বড় দায়িত্বশীল, সালাম দেয়ার ক্ষেত্রেও তার দায়িত্ব তত বেশি। এই সালামের মাধ্যমে এমন সুন্দর ও দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি হয় যা আমার মতে অন্য কোনভাবে সম্ভব নয়।

শুদ্ধ উচ্চারণে সালাম দেয়ার অভ্যাস করা উচিত। কারণ প্রথম ইম্প্রেসনটাই সুন্দর হওয়া চাই। সুন্দরভাবে দেয়া সালাম সুন্দর ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে।

সালাম দেয়া ছাড়াও অনেকে সম্ভাষণের সময় অনেক ধরনের শব্দ ব্যবহার করেন। শুভ সকাল, শুভ সন্ধ্যা, গুড বাই, থ্যাঙ্কু ইত্যাদি। আমি এই সব শব্দ ব্যবহারকে অন্যায় বলছিনা, তবে কোন অবস্থাতেই তা সালামের মত তাৎপর্য বহন করে না। কাজেই এসব সম্ভাষণের পরও সালামের আবেদন থেকেই যায়। কেউ যদি সালাম দেয়ার পরে এই সম্ভাষণ ব্যবহার করে তাতে অবশ্যই আমি দোষের কিছু দেখি না।

আমার এ লেখাটি ব্ল্লগের সেই সমস্ত ভাইদের প্রতি যারা সালাম দেয়া নেয়ার এই প্রথাকে মন থেকে পছন্দ করেন, কিন্তু বিষয়টাকে এখনও যথেষ্ট সচেতনতার সাথে নেন নি। কাজেই আমি তাদেরকে অনুরোধ করব আপনারা ব্যপকভাবে সালামের প্রচলন করুন এবং ছোটছোট বাচ্চদেরকেও সুন্দরভাবে সালাম দেয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

 

 

  • ২২ টি মন্তব্য
  • ৪৪৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৪ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৪ শে মার্চ, ২০০৭ সকাল ১১:৩৪
comment by: বিকেল বলেছেন: স্বাগতম আমাদের এই ব্লগ পরিবারে । হাত খুলে লিখে যান . . .

খুব খেয়াল কইরা মাহমুদ ভাই আপনার শিরোনামে চতুর্ভুজ কেনো বুঝলাম না ।
২. ২৫ শে মার্চ, ২০০৭ ভোর ৫:৩৪
comment by: মাহমুদ রহমান বলেছেন: সাদিক ভাই,
ওয়ালাইকুম আসসালাম। ধন্যবাদ আপনাকে, সেই সাথে একটা সুন্দর লেখা উপহার দেয়ার জন্য অভিনন্দন। আসলে তিনি উদ্ভাবন না করে চালু করেছেন এজন্যই বলেছি যে, অন্য সামাজিক রীতির (যেমন মাথায় টুপি পরা) ক্ষেত্রে তিনি এরকম কোন জোরালো তাগিদ দেননি, যেটা সালামের ক্ষেত্রে দিয়েছেন।

বিকেল,
আসলে আমি অনেক দিন আগে রেজিস্ট্রেশন করেছি, যদিও লিখতাম না। শিরোনামের নামের ব্যাপারে কোন গূঢ় রহস্য নেই, (যেটা ত্রিভুজ ভাইয়ের আছে) । পরিচিতির জন্য ভিন্ন ভিন্ন নাম দরকার তাই এই নাম দেয়া।
৩. ২৫ শে মার্চ, ২০০৭ ভোর ৫:৪৮
comment by: অতিথি বলেছেন: থ্যাংকস ব্রাদার @ মাহমুদ। মন্তব্যে সহমত।
৪. ২৬ শে মার্চ, ২০০৭ সকাল ১১:৫৭
comment by: অতিথি বলেছেন: ধন্যবাদ মাহমুদ। চমৎকার একটি পোস্টের জন্যে। আরও লিখছেন না কেন?

বিখ্যাত হাদীস সংকলন "মুসলিম শরীফ" এর 26 নম্বর অধ্যায়ে (বুক) সালাম নিয়ে অনেকগুলো হাদিস সংকলিত হয়েছে।

[link|http://www.usc.edu/dept/MSA/fundamentals/hadithsunnah/muslim/026.smt.html|wjsKUv GLv
৫. ২৬ শে মার্চ, ২০০৭ দুপুর ১২:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: হাদিস মতে মিরাজের সময়ে মুহম্মদ(সঃ) কে আল্লাহ স্বয়ং সালাম দিয়েছেন এভাবে "আস সালাম আলাইকা ইয়া আইয়্যুহান নাবিউ ওয়া রহমাতুল্লাহে ওয়া বা রাকাতুহ"। আর এ অংশটুকু আমরা প্রতিদিন 17 রাকাত ফরজ নামাজে 9 বার স্মরন করি।

আপনি আবার মনে করিয়ে দিলেন।

ধন্যবাদ।
৬. ২৬ শে মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৬
comment by: অতিথি বলেছেন: গুড পোষ্ট... শেষের দিকের একটি প্যারার ব্যাপারে একটু দ্্বিমত ছিলো... 'সালামের মত তাৎপর্য বহন করে না' ব্যাপারটা অনেকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে দেখে সমালোচা করে বসতে পারে.. যার ফলে আপনার এই উপস্থাপনাটা আরেকটু পরিষ্কার করলে ভাল হতো...

আপনাকে সালাম ও স্বাগতম আমাদের ব্লগে... পরিক্ষা শেষ করেই আসুন... ব্লগের জন্য পড়ালেখার ক্ষতি করবেন না.... আপনার কাছ থেকে আরো ভাল পোষ্ট আশা করছি....।
৭. ২৬ শে মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৩:৫৮
comment by: মাহমুদ রহমান বলেছেন: ত্রিভুজ ভাই,
দেখুন, সালামের তাৎপর্যটা কি সেটা কিন্তু আমি তৃতীয় প্যারায় বলেছি। আমি বিষয়টাকে শুধু ধর্মীয় রুপ না দিয়ে সালামের সার্বজনীনতাকেই তুলে ধরতে চেয়েছি। ইসলামকে আমার কোন অবস্থাতেই ধর্ম বলে মনে হয় না। এটা মানুষের জন্য সৃষ্টিকর্তার একটা চমৎকার গাইড লাইন।
৮. ২৬ শে মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৪:০৬
comment by: অতিথি বলেছেন: আপনার শেষ মন্তব্যটা চমৎকার লাগলো... আপনার কাছ থেকে আরো সুন্দর লেখা আশা করছি....

ভাল থাকুন।
৯. ২৬ শে মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৪:২১
comment by: তাহসিন সাঈদা মুন বলেছেন: আসসালামুআলাইকুম
সুন্দর
ফী আমানিল্লাহ
১০. ২৬ শে মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৪:৫২
comment by: শাওন বলেছেন: বিকেলের হয়ে আমিই উত্তর দেই মাহমুদ ভাই ,
লিখে যান । লেখার হাত ভালই । তবে ঐ যে বিকেল বললো ; খেয়াল করে। সেটা করতে হবে ।
সাদিক ভাই প্রতি পোস্ট যেটা দিয়েছে সেটাও ভালো ।

১১. ২৭ শে মার্চ, ২০০৭ ভোর ৫:২২
comment by: অতিথি বলেছেন: জাযাকাল্লাহ্ মাহমুদ রহমান।
আপনার প্রচেষ্টার জন্য দো'আ।
১২. ২৭ শে মার্চ, ২০০৭ দুপুর ২:১০
comment by: অতিথি বলেছেন: সেইরকম লিখা!
আচ্ছা বস, 'সালাম ঈমানের অংগ' কথাটা কই পাইলেন?
আল্লাহ কি বলে দিয়েছেন, সালাম না দিলে ঈমান খতম?
১৩. ২৭ শে মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৪:০৯
comment by: মাহমুদ রহমান বলেছেন: একথা ঠিক কুরআনে যে পাঁচটি বিষয়ের উপর (আল্লাহ, শেষদিন, ফিরিশতাগণ, কিতাবসমূহ ও নবীগণঃবাকারা-110) ঈমান আনার কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে সালাম নেই। এই পাঁচটি হচ্ছে বেসিক।

ঈমানের বিষয়টা আসলে ব্যপক। ঈমান যেমন অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সালাম ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর এটি বুঝানো হয়েছে উপরোক্ত হাদীস থেকে। দেশপ্রেম যেমন ঈমানের অংগ, ঐ টাইপের।

মনে করুন, আপনি একটি বাড়ী বানাবেন। তার জন্য কিছু বেসিক বিষয় লাগবে, যেগুলো ছাড়া কোন অবস্থাতেই বাড়ী সম্ভব নয়। এই বেসিক বিষয়গুলো ছাড়াও আরও কিছু জিনিস লাগে যেটা ছাড়া বাড়ী হয় না বা হলেও তা হয় ভঙ্গুর। জানি না বোঝাতে পারলাম কিনা।

আর আপনি যদি হাদীস না মানেন তাহলে তো আমার কিছুই করার নেই। আমি রাসুলের কথাকে মানি, কারণ তার উপর বিশ্বাস যে ঈমানের পূর্বশর্ত
১৪. ২৭ শে মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৪:২১
comment by: অতিথি বলেছেন: আপনার উত্তরের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

আমিও রাসূল (সাঃ) এর কথাকে মানি। কারণ, কুরআনে নির্দেশ আছে তাঁকে রাসূল হিসেবে ঈমান আনার :)

সমস্যা হলো, হাদিস আর রাসূল(সাঃ) এর কথা এক না। হাদিসের মধ্যে আমার-আপনার মত মানুষের কথা যে নেই, তার কোনো গ্যারান্টি নেই। এনিওয়ে, হাদিস মানা বা না-মানা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। আমি যেহেতু কুরআন থেকে 'হাদিস' সম্পর্কে কোনো নির্দেশ পাই না, নবী (সাঃ) নিজে যেখানে তাঁর কথাকে লিপিবদ্ধ করতে নিষেধ করেছেন, সেখানে হাদিস জিনিসটাকে আমার কাছে 'ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি' মনে হয়।

ভালো থাকবেন।
১৫. ২৭ শে মার্চ, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪৫
comment by: মাহমুদ রহমান বলেছেন: বাকারাঃ 110 নয় বাকারাঃ 177 হবে।
১৬. ২১ শে আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১০:১৭
comment by: বিবেক সত্যি বলেছেন: শুরুতেই হিট..
১৭. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:১৫
comment by: বইপাগল বলেছেন: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ
১৮. ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:৩৫
comment by: নতুন পৃথিবী বলেছেন: আসসালামু আলাইকুম মাহমুদ রহমান!
এমন পোস্টে ৫ না দিয়ে পারা যায় কি?
১৯. ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:৩২
comment by: লতিফ হোসাইন বলেছেন: খুবই ভালো। একদম ৫। বাংলায় বল্লে অনেক মুসল্লি ক্ষেপে যান। কারনকি? ধর্মীয় বাধা আছেকি? আল্লাহ্ না বলে খোদা বল্লেও একই অবস্থা। এ ব্যাপারে কিছু শোনার অপেক্ষায় রইলাম।
২০. ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৩:৪২
comment by: মাহমুদ রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ নতুন পৃথিবী এবং লতিফ ভাইকে.....

লতিফ ভাই, আসসালামু আলাইকুম কি ভিনদেশি ভাষা? এটাতো এখন বাংলায় :) সব শব্দের খাঁটি বাংলা রুপ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তবে সালামের বাংলা রুপ বললে ক্ষেপে যাওয়ার কোন কারণ দেখি না। তবে আল্লাহকে সেই সমস্ত নামেই ডাকা উচিত, যে নাম তিনি নিজেই নিজের জন্য রেখেছেন। নামের আবার অনুবাদ হয় নাকি?
২১. ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৯:১১
comment by: েজবীন বলেছেন: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ
ভালো লেখা।
২২. ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৮:৫২
comment by: মাহমুদ রহমান বলেছেন: ওয়ালাইকুম আসসালাম, জেবীন।

 



 


আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৪৪০৪০