আমার প্রিয় পোস্ট

দুঃখটাকে দিলাম ছুটি, আসবে না ফিরে

মায়ের জন্য ভালোবাসা, করো তোমরা অনুভব

১৩ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৪:৩৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

একজন মা তাঁর সন্তানকে নিয়ে যে রকম ভাবে, স্বপ্ন দেখে, ভালবাসে, স্নেহ করে, তিল তিল করে বড় করে তোলে; পৃথিবীর কোন সন্তানই এরকমটি করতে পারে না। সম্ভবও নয়।

এই যে সন্তানের প্রতি মায়ের এত ভালবাসা এত আবেগ এত মহব্বত- এসব কিছুই কিন্তু চর্চা করে আনা সম্ভব নয়। অন্য রকম এক চিরন্তন সম্পর্কের সাথে আবদ্ধ থাকে সন্তান তার মায়ের সাথে। তাইতো দেখা যায় কোন অপরাধীরও পাশে এসে দাঁড়ানোর কেউ না থাকলেও মা ঠিকই এসে দাঁড়ান পাশে। তাঁর কাছে অপরাধের যৌক্তিক কারণগুলোর চেয়েও সন্তানের প্রতি ভালোবাসাই থাকে প্রগাঢ়, এটাকে তিনি ছিঁড়তে পারেন না। সত্যিই, এ এক অতুলনীয় দান সৃষ্টিকর্তার, অদ্ভুত রকমের সুন্দর নেয়ামত।

এস এস সির পাঠ শেষ করার পর মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হই। বিচ্ছিন্নতা এ অর্থে, একসাথে একই ছাদের নিচে বহুদিনের জন্য আর থাকা সম্ভব নয়। যেদিন বিদায় নিলাম মা ছিলেন স্বাভাবিক। বাসা থেকে বের হয়ে গেছি, জামা থেকে সূতা বেরিয়ে ছিল দেখে ফিরে গেলাম মায়ের কাছে। মা কাঁচি দিয়ে সূতা কাটছেন, কিন্তু সূতা খুঁজে পাচ্ছেন না, বাইরে দিয়ে প্যাঁচ দিচ্ছেন। খেয়াল করলাম মায়ের চোখে পানি। তাইতো চোখে ঝাপসা দেখছেন। আমারও হঠাত মনটা ভেঙ্গে গেল, ডুকরে কেঁদে উঠলাম। মাকে বুঝতে দেইনি।

বাস্তবে মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারিনি। মা আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। যত ভাল ভাল রসিকতা আছে, সবই করি মায়ের সাথে। মায়ের হাসি দেখতে আমার খুব ভাল লাগে। মোবাইলে মায়ের সাথেই সবচেয়ে বেশি কথা হয়, এক্ষেত্রে পিক আওয়ার অফ পিক আওয়ার মূখ্য বিষয় নয়। বিপদে পড়লে মাকেই আগে জানাই।

বাসায় যখন যাই, সবভাই বোন আব্বা আম্মা মিলে একসাথে খেতে বসি। সময়টুকুকে টেনেটুনে লম্বা করি। সে সময়টুকু সত্যিই কতই না মধুর। সকালে সাধারণত আমরা খিঁচুড়ী খাই। কিছুটা অংশ রয়ে যায়। মা বেঁচে যাওয়া অংশটা অর্ধ দুপুরে পেঁয়াজ মরিচ দিয়ে মাখিয়ে নিজ হাতে আমাদের খাওয়ান। বড়ই মজাদার এসব দৃশ্য।

আম্মাজী পেশায় একজন গৃহিনী, তবে প্রচুর সোস্যাল ওয়ার্ক করেন। যেখানেই যান, সেখানকার মধ্যমনি হয়ে যান খুব অল্প সময়ের মধ্যে। নানা বাড়ী ও দাদা বাড়ীতে মায়ের অ্যাপ্রোভাল ছাড়া কোন কাজই হয়না। নানা বাড়ীতে মা যেমন বড় মেয়ে, দাদা বাড়ীতে তেমনি বড় বউ। বহু মানুষ 'মানুষ' হল আমার মায়ের স্নেহ ভালবাসায়।

সন্তান দিবসের কথা কখনও শুনিনি, মা দিবসের কথা জানি। কিন্তু কেন? কারনটা বোধহয় এটাই, সন্তানের প্রতি মায়ের ভালবাসা যতটা ন্যাচারাল, তেমনটি মায়ের প্রতি সন্তানের নয়। তাইতো সচেতনতার প্রশ্ন, মায়ের প্রতি ভালবাসা বাড়াতে হবে আর সেখান থেকেই দিবস- 'মা দিবস'। আমাদের রাসূল সা. তো আর এমনি সাধে মাকে পিতার চেয়ে তিনগুণ উপরে স্থান দেন নি। এরকমও কখনও হয় নাকি ..... প্রথম তিনটি স্থানই একজনের দখলে। বিচারটা অদ্ভুত বটে!

আর এই অদ্ভুত এবং সুন্দর বিচারকেই শ্রদ্ধা জানাই।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: মা  বিভাগে ।

 

  • ১৪ টি মন্তব্য
  • ৩৬৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ২ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৩ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৪০
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: বেশ ভাল লাগল লেখাটা। সবচেয়ে ভাল লেগেছে সকালের বেঁচে যাওয়া খিচুরী দুপুরে সবাই মিলে মায়ের হাতে খাওয়ার অংশটুকু...

এই লেখাটার একটা প্রিন্ট নিয়ে আপনার মাকে পড়াবেন। দারুন খুশি হবেন তিনি। মা-দিবসের চমৎকার উপহার হয়ে যাবে!
২. ১৩ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৮
comment by: মাহমুদ রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ সন্ধ্যাবাতি। খুব ভাল একটা আইডিয়া দিয়েছেন। এর থেকে ভাল উপহার বোধহয় হবে না।
৩. ১৫ ই মে, ২০০৭ রাত ১:২৮
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন: বেশ ভাল লেগেছে......

সন্ধ্যাবাতি ঠিক বলেছে... প্রিন্ট করে মা'কে দেখিয়েছেন?... :)
৪. ১৫ ই মে, ২০০৭ সকাল ৮:৪৪
comment by: মাহমুদ রহমান বলেছেন: সন্ধ্যাবাতি, আপনার কমেন্টসহ পাঠিয়ে দিলাম। কিছুটা ভয়ের মধ্যে আছি। লেখাটাতে কেমন একটু আবেগ চলে এসেছে। আমি কিন্তু আবার সেরকম আবেগী ছেলে না।

ধন্যবাদ ত্রিভুজ ভাই। জ্বী দেখতে পাবে দু একদিনের মধ্যেই।
৫. ১৫ ই মে, ২০০৭ দুপুর ২:৩৫
comment by: সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গ বলেছেন: মাহমুদ ভাই, সুন্দর লিখার জন্য ধন্যবাদ।

আমরা আসলেই স্বার্থপর আমরা মায়ের ঋণ কখনও শোধ করতে পারব না। আর ছেলেরা তো মায়ের কষ্ট কখনও বুঝতে পারবে না। মায়ের কষ্টের কথা চিন্তা করতে গেলে পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি শদ্ধায় মন ভরে যায়।
৬. ১৫ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪৭
comment by: মাহমুদ রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ সমুদ্র।

মা কষ্ট করেন কে বলল? আপনি যেটাকে কষ্ট মনে করছেন সেটাতেই তো উনার আনন্দ। তাঁরা আমাদের জন্য কষ্ট করেন আর এটাতেই সুখ খুঁজে পান। তবে সন্তান হারানোর বেদনা নিঃসন্দেহে কষ্টের।
৭. ২৮ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১:০১
comment by: ৈজয় বলেছেন: ওই িময়া েতামার েলখা েতা েগ্রট। কাইন্দা ফালাইিছ।
৮. ২৮ শে অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৫:৪৫
comment by: মাহমুদ রহমান বলেছেন: সত্যিই! তোমার কমেন্ট আমাকে অনুপ্রাণিত করবে, ধন্যবাদ জয়।
৯. ১১ ই মে, ২০০৮ সকাল ১১:২২
comment by: মাহমুদ রহমান বলেছেন: শর্তহীন ভালোবাসা কেবল মায়ের কাছ থেকেই পাওয়া যায়।

আজকের এই মা দিবসে সকল মাকে এবং যাঁরা এক সময় মা হবেন তাদের সকলকে সশ্রদ্ধ সালাম।
১০. ১১ ই মে, ২০০৮ সকাল ১১:২৯
comment by: নবজন্ম বলেছেন: "মা আমি তোমাকে ভালবাসি"

এই পৃথিবীতে সকল মায়ের প্রতি রইল আমার গভীর শ্রদ্ধ্যা।
১১ ই মে, ২০০৮ সকাল ১১:৩৫

লেখক বলেছেন: আপনি মাকে ভালবাসেন কিনা সেটা আপনে ভাল করে জানলেও মা যে আপনাকে প্রচন্ড ভালোবাসে সেটা কিন্তু মাও জানে না, তাঁকে জানিয়ে দিয়েন।

১১. ১১ ই মে, ২০০৮ দুপুর ২:২৯
comment by: নবজন্ম বলেছেন: মায়ের ভালোবাসা মাপার সাধ্য আছে কার? মা আপনাকে ভালোবাসে বলেই -তো আজ আপনি। সেটা শুধু উপলব্ধি করে নেওয়ার প্রয়োজন।
১৪ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:০৪

লেখক বলেছেন: সুন্দর বলেছেন।

১২. ১৪ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৩:০৯
comment by: ওবায়েদ বলেছেন: মা আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

 



 


আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৪৪০৪৭