অনেক দিন থেকেই বাড়ী যাব যাব করে যাওয়া হচ্ছে না। কাজের চাপে বেশ ব্যস্ত। ফুফুর ফোন পাওয়ার সাথে সাথে দাদাকে ফোন দিলাম। বেশ কিছুক্ষণ কথা বললাম। ফোন করে বুঝলাম তার শরীর এখন একটু ভাল। দাদাকে কথা দিলাম কালই বাড়ী যাব। ফোন রাখার পর খুব কান্না পেল। আসলেই খুব নিষ্ঠুর হয়ে গেছি আমি। অন্যরা আমাকে যতটুকু ভালবাসে ততটুকুই অবজ্ঞা করি আমি!
কাকতালীয়ভাবে আমার যাওয়ার দিনই ল'মামার যাওয়ার দিন ঠিক হল। মামা ভাগ্নে দুজন রওনা দিলাম। নানা বাড়ী আর দাদা বাড়ীর দুরত্ব ৮ কিলো। সর্বশেষ বাড়ী গিয়েছি গত কুরবানীর ঈদে। এবার দেখলাম ভিন্ন চিত্র। রাস্তা ঘাট পরিষ্কার, বেশ প্রশস্ত। মামাকে বললাম এ অবস্থা কেন। বললেন, জলপাই বাহিনীর ঝড় বয়ে গেছে এই পথ দিয়ে।
নানা বাড়ী প্রথমে পড়ে। রাতটা ওখানে থেকে পরদিন বাড়ী গেলাম। দাদা খুব খুশি হলেন। দাদার সাথে অনেক্ষণ গল্প করলাম। আমার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিলেন। তাঁকে বেশ সুস্থই মনে হল।
গ্রামে যে ক'দিন ছিলাম, তিনটি বিষয়কে আলাদাভাবে খেয়াল করলাম। বাতাস, পানি আর মোবাইলের নেটওয়ার্ক না থাকা। ঢাকা শহরে বুক ভরে শ্বাস নেয়া যায় না। ফজরের পরে এরকম পরিবেশ হয়ত পাওয়া যায়। তবে ঘুমাতেই যখন রাত একটা দুইটা, তখন সকালের ঘুমটা অবধারিত হয়ে পড়ে।
পানি ছাড়া জীবন চলে না। বাড়িতে যে পানি পাওয়া যায়, ঢাকাতে ঐ স্বাদের পানি পাওয়া যায় না। আহারে! ফ্রি জিনিসগুলারই আজ কি অবস্থা!
আমি যাওয়ার একদিন পর আম্মা এলেন। যথারীতি আম্মা পায়েস রান্না করে আনলেন। ছেলের পছন্দের খাবার মা'র ভালই জানা আছে। আম্মার সাথেও অনেকদিন পর দেখা। সবমিলিয়ে অল্প কয়েকদিনের ট্যুর খুব মজার কাটালাম।
এখন সুযোগ খুঁজছি কবে আব্বার সাথে দেখা করা যায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০০৭ রাত ১১:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


