ভদ্র মহিলার দুই মেয়ে এক ছেলে। স্বামী থাকেন দেশের বাইরে, দুবাই-এ। অভাব অনটনের সংসার, লেখাপড়া জানেন না মোটেও। স্বামী দুবাইতে যাওয়ার পর সংসারের কিছুটা স্বচ্ছলতা আসে।
ছেলেটির বয়স এখন দশ। শারিরীক বিকলাঙ্গতা নিয়েই জন্ম। জন্মের সময় মলদ্বার ছিল না। অপারেশন করে মলদ্বার বের করা হয়েছে। সেই থেকে আজ অব্দি নানা জটিলতা নিয়ে বেড়ে উঠছে ছেলেটি।
জন্মের পর থেকে ছেলেকে নিয়ে মা বহু জায়গা ঘুরেছেন। স্বামী নেই, পিতামাতা- উভয়ের দায়িত্বই পালন করতে হয়েছে তাঁকে। হাসপাতালগুলি থেকে পেয়েছেন শুধু বঞ্চনা আর অবহেলা। আজ নয় কাল এভাবে দিনের পর দিন তাকে ছেলেকে নিয়ে নিঃসঙ্গ জীবন পার করতে হয়েছে। অন্যরা বেশিদিন থাকতে পারেনি, শুধু পাশে টিকে থেকেছেন মমতাময়ী মা। একটা দিন দুইটি দিন নয়, এভাবে দশটি বছর। আরো কতদিন থাকতে হবে কে জানে।
ভদ্র মহিলা আমার ফুফু হন। আমার আব্বার চাচাতো বোন। সর্বশেষ তাঁকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ঢাকার কিডনি হাসপাতালে। এখানে তার পেট থেকে পাথর সরানো হয়েছে, দুইটা কিডনীতে দুইবারে আলাদাভাবে অপারেশন করা হয়েছে। ঢাকাতে আমার উপরেই দায়িত্ব পড়েছিল- তার দেখাশুনার। এত লেনদি সময় তাদের পিছনে দেয়ার সময় কই! ভীষণ কাজের চাপ! তাই আমি চাপিয়ে দিলাম আমার ফুফাতো ভাইয়ের উপর, যথেষ্ট দায়িত্ববান লোক।
গতকাল তার অপারেশন হয়েছে। আল্লাহর মেহেরবানীতে সে সুস্থ আছে। মা আশা করছেন ছেলে এবার ভাল হয়ে যাবে।
নিঃসন্দেহে, ছেলের পিছনে মা যেভাবে কষ্ট করে আসছেন, সেই কষ্ট অন্য কারো পক্ষে স্বীকার করা সম্ভব নয়। নয় মাস পেটে ধারণ করার পর প্রসব বেদনার যে কষ্ট তা এই কষ্টের তুলনায় কিছুই নয়। পেটের মধ্যে প্রায় সময়ই একটা দুইট নল ঢুকানো থাকে। এ অবস্থায়ই ছেলের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণে এগিয়ে আসতে হয়।
এই ছেলে মাকে ভবিষ্যতে কি দেবে? মাকে দেওয়ার মত কিছু আছে তার? এই সব প্রশ্ন কিন্তু কখনও মায়ের সামনে আসে না। একেবারেই অশিক্ষিত, গ্রামের খুবই সাধারণ একটা মেয়ে। এটা করলে সেটা হবে-- এই সব জ্ঞান বুদ্ধি কিন্তু তার নেই। তবুও ছেলের জন্য মা কেন অবলম্বন হিসাবে টিকে আছেন এতদিন, হাসিমুখে বরণ করছেন সব দুঃখ কষ্ট?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

