তিন পদ্ধতিতে ইসলামী আন্দোলন পুনরুজ্জীবন আনতে সক্ষম।
প্রথম উপায় হচ্ছে, ইসলামী আন্দোলনের একটি অগ্রণী দল গঠন করতে হবে। সংহতি ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে গড়ে ওঠা এ অগ্রণী দল দক্ষতার সাথে সমকালীন সমাজকে ইসলামের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। আর এটি করতে গিয়ে তারা না বিচ্ছিন্ন হবে, না ঔদাসীন্যকে প্রশ্রয় দিবে। কেবল ইসলাম নির্ধারিত নির্দেশাবলীর দ্বারাই তারা মুসলিম সমাজের জরাগ্রস্ততার প্রতিবিধানে সক্ষম হবে। এ অগ্রবর্তী দল এমন ব্যক্তিদের নিয়েই গঠন করতে হবে যারা দৃঢ় বিশ্বাস, গভীর জ্ঞান ও সমঝদার এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিত্তিতে হৃদয়ের বন্ধনে আবদ্ধ।
দ্বিতীয় উপায় হচ্ছে, মুসলমানদের মধ্যে জনমত সৃষ্টি করতে হবে। যেখানে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মতের প্রতিফলন ঘটবে, যে জনমত ইসলামী আন্দোলনের সার্বিক উদ্দেশ্য জেনে শুনে আন্দোলনকারীদের ঈমান ও দক্ষতার প্রতি আস্থাশীল হয়ে তাদেরকে ভালোবাসবে ও সমর্থন দিয়ে যাবে। একই সাথে, এ জনগোষ্ঠী ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ও তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের কুপ্রভাব থেকেও নিজেদের মুক্ত রাখবে।
তৃতীয় উপায় হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী এমন একটা আবহ সৃষ্টি করা, যাতে বিশ্বের মানুষ ইসলামের মর্মবাণী ও সভ্যতা-সংস্কৃতির প্রকৃত রুপ অনুধাবন করে মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব স্বীকার করে নেবে। সেই সাথে তারা মধ্যযুগের উদ্গত ধর্মান্ধতা এবং ইসলাম বিরোধী মহলের মিথ্যাচার ও বানোয়াট বিকৃত অপপ্রচারের অপপ্রভাব থেকেও মুক্ত থাকবে। এ জনমত অন্যান্য বিশ্বশক্তির পাশাপাশি মুসলিম শক্তির অভ্যুদয়ের প্রতি সহনশীল হবে। কারণ তারা উপলব্ধি করতে পারবে, মুসলমানরা যেহেতু নিজ নিজ দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ তাই তাদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী স্বীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের অধিকার তাদের রয়েছে। এটি বহুল প্রশংসিত ও প্রচারিত গণতান্ত্রিক রীতিরই দাবী এবং রীতি মোতাবেক বিশ্বের অন্যতম মহৎ আদর্শ হিসেবে ইসলামের বিশ্বজনীন, মানবতাবাদী আদর্শ প্রচারের অধিকারও তাদের রয়েছে। এ আদর্শের একটা অতীত আছে, বর্তমান আছে ও ভবিষ্যৎ আছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার হচ্ছে বর্তমান বিশ্বে এ আদর্শের একশ কোটিরও বেশী অনুসারী রয়েছে।
......................................................
লেখাটি লেখকের 'আধুনিক যুগ ইসলাম কৌশল ও কর্মসূচী' বই থেকে নেয়া। বইটি অনুবাদ করেছেন সানাউল্লাহ আখুঞ্জী। প্রকাশ করেছে নতুন সফর প্রকাশনী।
লেখককে জানতে এখানে ক্লিক করুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

